২০০৭ সালের ভোটারদের ফরম সার্ভারে যোগ করার নির্দেশ

২০০৭ সালের ভোটারদের ফরম সার্ভারে যোগ করার নির্দেশ ২০০৭ সালের সকল ভোটের আবেদন ফরম সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মাসি সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দেশনাটি দিয়েছে ইসি সচব আখতার আহমেদ। ইসির এনআইডি পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০০৭ সালের ভোটারদের মধ্যে এ পর্যন্ত দুই কোটি ৩৮ লাখ নাগরিকের ২ নম্বর ফরম (ফরম-২) স্ক্যান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ফরমগুলোও দ্রুততার সঙ্গে স্ক্যান সম্পন্ন করা এবং সার্ভারে আপলোড দেওয়া প্রয়োজন। ইসি সচিব তার নির্দেশনায় দ্রুত সিস্টেম ম্যানেজারকে ২ ফরম আপলোড করার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ভোটার হওয়ার বা এনআইডি পাওয়ার জন্য নাগরিকরা যে ফরম পূরণ করেন সেটাকেই ২ নম্বর ফরম বলা হয়। এই ফরমটির ভিত্তিতে এনআইডি সংশোধন আবেদন সম্পন্ন করা হয়। আর অনেকের ফরমটি সার্ভারে না থাকায় তদন্তের সময় জটিলতায় পড়তে হয় মাঠ কর্মকর্তাদের।
সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলন করলে বাধ্যতামূলক অবসর

সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলন করলে বাধ্যতামূলক অবসর সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর দ্বিতীয় সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। গতকাল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর সইয়ে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর অধিকতর সংশোধনে প্রণীত এই অধ্যাদেশ সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হবে। নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোন সরকারি কর্মচারী আন্দোলনে গেলে, অর্থাৎ নিজে নিয়ম লঙ্ঘন করে একজন সরকারি কর্মচারী আরেকজন সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দিলে বা তাকে তার কাজ থেকে বিরত রাখলে, তাকে বাধ্যতামূলক অবসরসহ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে। সাধারণত সরকারি কর্মচারীরা নিজেরা কোনো আন্দোলন করলে নিজেও কাজ থেকে বিরত থাকে এবং অন্যজনকেও কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ দেন। অধ্যাদেশে সরাসরি আন্দোলনের কথা বলা না হলেও যেভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাতে আন্দোলনকে বুঝায় বলে আইনজীবীদের অভিমত। নতুন অধ্যাদেশের ৩৭ এর (গ) তে বলা হয়েছে, যে কোনো সরকারি কর্মচারীকে তাহার কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তা হবে সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ এবং তজ্জন্য তিনি উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত যেকোনো দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। আর উপ-ধারা (২) এ বলা হয়েছে, (২) উপ-ধারায় (১) উল্লিখিত কোনো কর্মের জন্য কোনো সরকারি কর্মচারীকে নিম্নবর্ণিত যেকোনো দণ্ড দেওয়া যাবে, যথা- (ক) নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ; (খ) বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া; এবং (গ) চাকরি থেকে বরখাস্ত। অধ্যাদেশে বলা হয়, যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নম্বর আইন) এর অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজনীয় এবং যেহেতু সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় আছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট তা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আশু ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান আছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন। এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০১৮ সনের ৫৭ নম্বর আইনের ধারা ৩৭ক এর সংশোধন। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সনের ৫৭ নং আইনের এর ধারা ৩৭(ক) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩৭(ক) প্রতিস্থাপিত হবে। ৩৭ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দণ্ড সংক্রান্ত বিশেষ বিধান। (১) এই আইন বা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালায় যা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো সরকারি কর্মচারী (ক) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করেন, আইনসংগত কারণ ছাড়া সরকারের কোনো আদেশ, পরিপত্র এবং নির্দেশ অমান্য করেন বা তা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করেন বা এসব কার্যে অন্য কোনো সরকারি কর্মচারীকে প্ররোচিত করেন, অথবা (খ) ছুটি বা যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ ছাড়া অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গে সমবেতভাবে নিজ কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন, অথবা (গ) যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্মে উপস্থিত হইতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তা হবে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ এবং তজ্জন্য তিনি উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত যেকোনো দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, (৩) যেক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে উপ-ধারা (১)-এ বর্ণিত কোনো অসদাচরণের জন্য কার্যধারা নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অথবা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অভিযোগ গঠন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীকে, অতঃপর অভিযুক্ত ব্যক্তি বলে অভিহিত, কেন এই ধারার অধীন দোষী সাব্যস্তপূর্বক দণ্ড আরোপ করা হবে না এই মর্মে ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে শুনানি করতে ইচ্ছুক কি না, ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাও উক্ত নোটিশে উল্লেখ করবেন। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। তবে এরূপ ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী দণ্ড আরোপের আদেশ প্রাপ্তির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ধারা ৩৬ অনুযায়ী আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারবেন এবং রাষ্ট্রপতি যেরূপ উপযুক্ত মনে করবেন, সেরূপ আদেশ দেবেন। অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যাদেশের (১২) উপ-ধারা (১০) ও (১১) এর অধীন, যথাক্রমে, আপিল ও রিভিউয়ে প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
একাদশে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, নেই জুলাইযোদ্ধা কোটা

একাদশে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, নেই জুলাইযোদ্ধা কোটা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বিকেলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এই নীতিমালা প্রকাশিত হয়। যেকোনো শিক্ষাবর্ষে এসএসসি সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের সাল এবং ধারাবাহিক আগের দুই সালে দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নীতিমালার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে কোনো কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে। বিদেশি কোনো বোর্ড বা অনুরূপ কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে তার সনদের মান নির্ধারণের পর উপনীতি ২.১ এর অধীনে ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য কোন বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। কলেজ সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ অথবা সমমানের প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা অথবা কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তাা বা কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশসহ মোট ২ শতাংশ আসন মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নূন্যতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে সংরক্ষিত থাকবে। যদি আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয় সেক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের মাধ্যমে প্রধানের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজস্ব দপ্তরের প্রধান হলে সেক্ষেত্রে তীর একধাপ উপরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যার ভর্তির জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের আসন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র গেজেটের সত্যায়িত কপি আবেদপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা মুক্তিযোদ্ধা সনদ যথাযথভাবে যাচাই করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে উক্ত আসনে ভর্তি করতে হবে। কোন অবস্থায় আসন শূন্য রাখা যাবে না। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য কোনো কোটা রাখা হয়নি।
গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানাতে হবে

গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানাতে হবে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। সংশোধিত আইন কার্যকর হলে কাউকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবার বা বন্ধু বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানাতে হবে। আজ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আইন উপদেষ্টা বলেন, আইনগত একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে। ইতোপূর্বে আমরা সিপিসি বা দেওয়ানি কার্যবিধি পরিবর্তন করেছিলাম বা সংশোধন করেছিলাম। আজকে আমরা সিআরপিসি বা ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধন করেছি। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের দুইটা সিদ্ধান্ত ছিল, গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে যাতে স্বচ্ছতা থাকে, জবাবদিহিতা থাকে। গ্রেপ্তার পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির যেন অধিকার থাকে। এই রায়গুলোর আলোকে আরও বিস্তারিতভাবে আমরা বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট কনসার্ন এক্সপার্ট সবার সঙ্গে বৈঠক করে সংশোধন চূড়ান্ত করেছি। আসিফ নজরুল বলেন, কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের কথা বলি, এখন থেকে এই সংশোধন কার্যকর হওয়ার পর থেকে যে গ্রেপ্তার করবে, যে পুলিশ অফিসার তার ক্লিয়ার আইডেন্টিটি থাকতে হবে, তার নেমপ্লেট থাকতে হবে, তার আইডি কার্ড থাকতে হবে। যে ব্যক্তি গ্রেপ্তার হচ্ছে তিনি চাহিবামাত্র যে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে তাকে আইডেন্টিটি কার্ড দেখাতে হবে, এটা বাধ্যতামূলক। তাকে যখন থানায় নিয়ে আসা হবে যত দ্রুত সম্ভব গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবার বা বন্ধু বা আইনজীবীকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানাতে হবে যে, গ্রেপ্তার করেছি আমরা এই কারণে গ্রেপ্তার করেছি, এই মামলায় গ্রেপ্তার করেছি এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি এখানে আছে। যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই বারো ঘণ্টার বেশি সময় নেওয়া যাবে না, এরমধ্যে জানাতেই হবে। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির শরীরে যদি আঘাতের চিহ্ন থাকে বা গ্রেপ্তার ব্যক্তি যদি বলেন, আমি অসুস্থ বোধ করছি। অবশ্যই সাথে সাথে তাকে নিকটস্থ ডাক্তারের কাছে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা দিতে হবে। আইন উপদেষ্টা বলেন, আমরা বলেছি প্রত্যেকটা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে একটা মেমোরেন্ডাম রাখতে হবে, বিস্তারিত তথ্য থাকতে হবে। কাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কী অভিযোগে কোন আইনে, তার পরিবারের কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, কে গ্রেপ্তার করেছে। ডিটেইল একটা মেমোরেন্ডাম থাকবে প্রত্যেকটা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে। আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যে গ্রেপ্তার করতো, বলতো আমরা জানি না। র্যাব গ্রেপ্তার করে বলতো যে পুলিশ জানে, পুলিশ গ্রেপ্তার করে অন্য এজেন্সির নাম বলতো। আমরা আইনে বলেছি, যে সংস্থাই গ্রেপ্তার করুক তাদের কনসার্ন অফিসে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি কেন গ্রেপ্তার করেছে, কোথায় গ্রেপ্তার করেছে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, সমস্ত তথ্য সেখানে থাকতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না: আসিফ মাহমুদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না: আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আজ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। সেখানে তিনি লিখেছেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক। আজ উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে উত্থাপিত এ সংক্রান্ত চারটি আইনের সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে।” জানা গেছে, স্থানীয় স্তরের প্রশাসনে নিরপেক্ষতা ও জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে দলীয় প্রতীক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে এ-সংক্রান্ত চারটি আলাদা অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করে ১ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপর উপদেষ্টা পরিষদ হয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সম্মতি নিয়ে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করার কথা। আজ উপদেষ্টা পরিষদ সেই খসড়া অনুমোদন করল।
উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: ডিএনএ টেস্টে ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: ডিএনএ টেস্টে ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব তাদের পরিচয় শনাক্ত করেছে। আজ বিকেলে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া শাখা থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানানো হয়। পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৫ জন হলেন- মো. ফারুক হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে ওকিয়া ফেরদৌস নিধি, মো. বাবুল ও মাজেদা দম্পতির মেয়ে লামিয়া আক্তার সোনিয়া, মো. আব্বাস উদ্দিন ও মোসা. মিনু আক্তার দম্পতির মেয়ে আফসানা আক্তার প্রিয়া, মো. শাহাবুল শেখ ও মিসেস মিম দম্পতির মেয়ে রাইসা মনি এবং আব্দুল কাদির ও উম্মে তামিমা আক্তার দম্পতির মেয়ে মারিয়াম উম্মে আফিয়া। গত সোমবার দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতালা ভবনে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ১৬৫ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। পরে এ ঘটনায় আহত আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ খবর অনুযায়ী এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩ জনে।
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ; সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ; সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ এক সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, লঘুচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের পার্থক্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সাগর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
নিলামে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

নিলামে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নিলামের মাধ্যমে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে। ডলারের বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করার ইঙ্গিত দিতে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে এসব ডলার কেনা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নর নিলামে ডলার কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গতকাল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার ক্ষেত্রে ১২১.৯৫ টাকা কাট-অফ রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, এক সপ্তাহের মধ্যে ডলারের দাম প্রায় ৩ টাকা কমে যাওয়ার পর গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনে। সেদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১২১.৫০ টাকা দরে ১৭৩ মিলিয়ন ডলার কেনে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরেকটি নিলামের মাধ্যমে একই দরে আরও ৩১৩ মিলিয়ন ডলার কেনে। পরপর দুটি নিলামে বেশি দামে ডলার কেনার পর মুদ্রাটির দাম বাড়তে শুরু করে। গতকাল রেমিট্যান্স ও আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ১২২ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে ব্যাংকগুলো আমদানি এলসি নিষ্পত্তির জন্য ১২২.৫০ টাকা পর্যন্ত রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘কর্মীদের শালীন পোশাক পরার নির্দেশনা’ স্থগিত

বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘কর্মীদের শালীন পোশাক পরার নির্দেশনা’ স্থগিত বাংলাদেশ ব্যাংকে পেশাদার ও মার্জিত পোশাক পরার বিষয়ে অভ্যন্তরীণভাবে দেওয়া পরামর্শ স্থগিত করা হয়েছে। ব্যাংকটির গভর্নরের নির্দেশনার পরপরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি এবং কোনও অফিসিয়াল সার্কুলারও জারি করা হয়নি। তার ভাষায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু বিভাগীয় সভায় সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পেশাগত পরিবেশ বজায় রাখতে মার্জিত পোশাক পরার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে সেটি শুধু বিভাগীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল। কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের দৃষ্টিতে আসে। তিনি এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার নির্দেশে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে, নারী কর্মীদের জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, অফিসে শাড়ি, সালোয়ার–কামিজ ও ওড়না কিংবা অন্যান্য পেশাদার ও শালীন পোশাক পরিধান করতে হবে। শর্ট স্লিভ ও ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক এবং লেগিংস পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফরমাল স্যান্ডেল বা জুতা, সাদামাটা হেডস্কার্ফ বা হিজাব পরতেও বলা হয়েছে। পুরুষ কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তাদের ফরমাল শার্ট (লম্বা বা হাফ হাতা) ও প্যান্ট পরতে হবে। জিনস ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট পরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা ছিল, নির্ধারিত পোশাকবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হতে পারে। কর্মীদের পোশাক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এমন নির্দেশনার খবরে ব্যাংকিং খাতের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মাইলস্টোনে নিহত দুই শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

মাইলস্টোনে নিহত দুই শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিমানবাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই দুই শিক্ষক হলে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা মাহরীন চৌধুরী এবং মাসুকা বেগম। আজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় ৷ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ৷ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে এবং নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসাসেবায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্কুলের নিহত দুজন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সম্মাননার বিস্তারিত অতিদ্রুত নির্ধারণ করা হবে। এ ছাড়া উপদেষ্টা পরিষদ নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে আগামীকাল সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে বলে জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।