তিস্তার বুকে চালু স্বপ্নের মওলানা ভাসানী সেতু

তিস্তার বুকে চালু স্বপ্নের মওলানা ভাসানী সেতু দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো বহুল প্রত্যাশিত ‘মওলানা ভাসানী সেতু’। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে কুড়িগ্রামের দূরত্ব কমলো অন্তত ১০০ কিলোমিটার পথ। এতে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন তিস্তা নদীর দুই পারের মানুষ। আজ দুপুর পৌনে ১টায় সৌদি অতিথিদের নিয়ে সেতুটি উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ সময় ফলক উন্মোচন মঞ্চসহ পুরো এলাকায় উচ্ছ্বসিত হাজারো মানুষের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। তিস্তাপাড়ের মানুষ সেতুটি পেয়ে অত্যন্ত খুশি। কারণ এতদিন নৌপথই ছিল তাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রশস্ত সড়কসহ দীর্ঘ নান্দনিক সেতু পাওয়ায় আজ তাদের বাঁধ ভাঙা আনন্দ। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর বাজার-কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা সদর সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত স্বপ্নের সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৪৯০ মিটার। বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড) অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। ১৪৯০ মিটার দৈর্ঘ এবং ৯.৬০ মিটার প্রস্থের সেতুটির লেন সংখ্যা দু’টি এবং মোট স্প্যান সংখ্যা ৩১টি। এটি একটি প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার সেতু। সেতুটির মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে স্বল্প সময় ও খরচে শিল্প ও কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন এবং ছোট ও মাঝারি কলকারখানা প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া নদীর উভয় তীরের সংযোগসহ উন্নত রোড নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার ফলে এ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রসার ঘটবে। এলাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নসহ জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টিসহ একটি নতুন পরিবহন করিডোর গড়ে ওঠায় রাজধানী ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সঙ্গে ভুরুঙ্গামারী স্থলবন্দরসহ কুড়িগ্রাম জেলার যোগাযোগের দূরত্ব ৪০-৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমবে। গাইবান্ধার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী জানান, মওলানা ভাসানী সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে আগে থেকেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। আজ দুপুরে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করেন। এরপরই সবার জন্য এটি খুলে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন হলেও নানা জটিলতা কাটিয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হয়।সেতুর উভয় পাশে ৮৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদী শাসন করা হয়েছে। এ জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে প্রায় ১৩৩ একর জমি। সেতুর উত্তর পাশে আর্চ ব্রিজের সামান্য কিছু কাজ ও সংযোগ সড়ক পাকা করার কাজ বাকি থাকলেও মূল সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
রাতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী

রাতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান আজ রাতে চারদিনের সফরে ঢাকায় আসছেন। পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রীর ঢাকা সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে। ঢাকা সফরে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়াও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী আজ রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা পৌঁছাবেন। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) থেকেই তার ঢাকায় আনুষ্ঠানিক সফর শুরু হবে। সফরের প্রথম দিন তিনি বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। আগামী শুক্রবার ২২ আগস্ট সফরের দ্বিতীয় দিন তিনি চট্টগ্রাম যাবেন। সেখানে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া চট্টগ্রাম স্টিল মিলস পরিদর্শন করবেন। শনিবার ২৩ আগস্ট টাঙ্গাইলে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানা পরিদর্শন করবেন। রোববার (২৪ আগস্ট) বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়াও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, ট্যারিফ কমিশন, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। একই দিনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরের মধ্যেই আগামী ২৩ আগস্ট ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বেশ কয়েকটি সমঝোতা সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পাসপোর্ট না থাকলেও প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার সুযোগ দিল ইসি

পাসপোর্ট না থাকলেও প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার সুযোগ দিল ইসি প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা দূর হলো। এখন থেকে কারও পাসপোর্ট না থাকলেও ভোটার করতে পারবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সংশোধন করায় এমন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইসির এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) খান আবি শাহানুর খানের সই করা এসওপি থেকে বিষয়টি জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশে বসবাসকারী এনআইডি-ধারী তিনজন প্রবাসীর কাছ থেকে বাংলাদেশি মর্মে প্রত্যয়নপত্র জমা দিলেই হবে। এছাড়াও যেসব বিষয় লাগবে সেগুলো হলো- • অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র ফরম-২(ক) • নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বিশেষ এলাকা’ হিসেবে ঘোষিত চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৬টি উপজেলা/থানার জন্য অতিরিক্ত তথ্য সম্বলিত ‘বিশেষ তথ্য ফরম’ • মেয়াদসম্বলিত বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি/মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি/বিদেশি পাসপোর্টের কপি • বাংলাদেশি জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি (অনলাইন ভেরিফায়েড) • পাসপোর্ট সাইজের ১ কপি রঙিন ছবি। এছাড়াও আবেদনকারীর পিতামাতার এনআইডির কপি/বাংলাদেশি অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি/বাংলাদেশি মৃত্যু সনদের কপি (মৃত হলে)/পাসপোর্টের কপি/ওয়ারিশ সনদের কপি/বাংলাদেশের বাসিন্দা মর্মে নাগরিক সনদের কপি*/দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)। • শিক্ষা সনদের কপি (SSC / সমমান / JSC / PEC সনদ) (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) • ড্রাইভিং লাইসেন্স / টিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) • নিকাহনামা (বিয়ের সনদ) এবং স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) • আবেদনকারীর নাগরিকত্ব সনদ (কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান/মেয়র/সিইও/প্রশাসক কর্তৃক) (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) • সংশ্লিষ্ট ঠিকানা সংবলিত ইউটিলিটি বিলের কপি/হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) • এক্ষেত্রে আবেদনপত্র, পাসপোর্টের কপি/তিন এনআইডি-ধারীর প্রত্যয়নপত্র, ছবি এবং জন্ম সনদ বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। এসওপিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় অন্যান্য দলিলাদিও নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দেওয়া যাবে। সম্ভব না হলে আবেদনকারীর পক্ষে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রতিনিধির মাধ্যমে উক্ত দলিলাদি তদন্তকারী কর্মকর্তা তথা রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার) কাছে জমা দেওয়া যাবে। বর্তমানে নয়টি দেশের ১৬টি স্টেশনে দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটার কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি। দেশগুলো হলো-সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। এসব দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন এসেছে।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ব্রিটিশ হাইকমিশনারের

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ব্রিটিশ হাইকমিশনারের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। গতকাল বেলা ২টায় সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে তাদের এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। পারস্পরিক কুশলবিনিময়ের পাশাপাশি সৌজন্য সাক্ষাতে বিচার বিভাগের বিভিন্ন দিক নিয়ে তারা আলোচনা করেন বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্ণ করায় সৈয়দ রেফাত আহমেদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা অর্জনে গত এক বছরে প্রধান বিচারপতির বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও কর্মপরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। এ ছাড়া বিচারবিভাগ সংস্কারে প্রধান বিচারপতি ঘোষিত রোডম্যাপ, ১২ দফা নির্দেশনা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন সারাহ কুক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে শক্তিশালী বিচার বিভাগ গড়ে তুলতে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন। এর আগে ১৪ আগস্ট প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
যত চ্যালেঞ্জিংই হোক, সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই হবে: প্রধান উপদেষ্টা

যত চ্যালেঞ্জিংই হোক, সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই হবে: প্রধান উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতেই হোক না কেন এবং যত চ্যালেঞ্জিংই হোক না কেন, আমাদের সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই হবে। আজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতা বৃদ্ধির নিমিত্তে ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু নিয়ে আমরা সকলে আজ একত্রিত হয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ বলছি এ কারণে যে, জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ দরকার। দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে না পারলে ব্যক্তিগত জীবন থেকে জাতীয় উন্নয়ন-কোনোটাই যথাযথভাবে করা যাবে না। তাই যে কোনো পরিস্থিতিতেই হোক না কেন এবং যত চ্যালেঞ্জিংই হোক না কেন, আমাদের সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই হবে। এ জন্য সরকারি, বেসরকারি, সুশীল সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা-সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কেবল পারস্পরিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই এটা সম্ভব। আর সে কারণেই আজকের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই অসংক্রামক রোগ দিনদিন বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর ছোট এলাকায় বসবাসের প্রেক্ষাপটে এ পরিস্থিতি আরও সংকটময়। তাই এটি জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের সাথেও নিবিড়ভাবে জড়িত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর শতকরা ৭১ ভাগ ঘটে থাকে অসংক্রামক রোগের কারণে এবং এর মধ্যে শতকরা ৫১ ভাগ মানুষের মৃত্যু হয় ৭০ বছর বয়সের নিচে, যাকে আমরা অকাল মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। আমাদের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় (আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার) ৬৯ শতাংশ, যার বেশিরভাগ অসংক্রামক রোগের জন্য ব্যয় হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অসংক্রামক রোগ হলে মানুষ উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়ের মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়। কোনো ব্যক্তির ক্যান্সার হলে তার পরিবারকে আর্থিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই সহায়হীন-সম্বলহীন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে অতি উচ্চ মূল্যে চিকিৎসা নেওয়ারও প্রয়োজন হয়। আমাদের বিপুল অঙ্কের টাকা চলে যায় বিদেশে এসব রোগের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে। তাই অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা যেমন উন্নত হওয়া জরুরি, তেমনি রোগগুলো যেন কম হয় অথবা না হয়, সেজন্য উপযুক্ত জনসচেতনতা এবং প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা করে তোলা দরকার। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়। এজন্য সব মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা দরকার। খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা, ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত-এমন প্রত্যেকটি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইউনূস বলেন, প্রত্যেক খাত থেকে দরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও নিবিড় উদ্যোগ। তাই এ সকল মন্ত্রণালয় চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবুও আমি ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতে চাই। তিনি বলেন, প্রথমত, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকগুলোর বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ সচেতনতা আছে-এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। অনেকেই সচেতন থাকলেও জীবনযাপনে হয়তো সেভাবে প্রতিফলন নেই। ফলে নানামাত্রিক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অগ্রগতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্বিতীয়ত, ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি দরকার বেসরকারি উদ্যোগ। দরকার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কারিগরি সহযোগিতা। এবং তৃতীয়ত, যে কোনো কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিবিড় মনিটরিং ও মূল্যায়ন আবশ্যক। আবার এগুলো করতে দরকার উপযুক্ত ও দক্ষ জনবল, আর্থিক বরাদ্দ। আমি এ দিকটা বিবেচনায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনারা ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নের কাজটি বিশেষ অগ্রাধিকারে রাখবেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও জনবল নিশ্চিত করবেন, যেন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বিশেষ কোনো সীমাবদ্ধতা বা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি না হয়। তিনি বলেন, আজকের এই ‘যৌথ ঘোষণা’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা একসঙ্গে কাজ করতে নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম। এটি শুধুমাত্র একটি আয়োজনের মধ্যে যেন সীমাবদ্ধ না থাকে। এটি আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস। আমি বিশ্বাস করি, এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এটি হবে অগ্রগতির একটি নতুন মাইলফলক। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও এসডিজি-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডাসমূহ অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে অর্জনে সহায়ক হবে। ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে, বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ অফিসের সত্যিই প্রশংসনীয় ভূমিকা রয়েছে। আমি জেনেছি, আজকের আয়োজনে তারা গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছে। এ জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ডিরেক্টর, প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট ড. থাকসাফন থামারাংসি কষ্ট করে এ আয়োজনে উপস্থিত হয়েছেন। তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।
৭৮ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির সুপারিশ

৭৮ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির সুপারিশ পদোন্নতি বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাগণের আবেদনের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে পদোন্নতি-বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের আবেদন পর্যালোচনা কমিটি। আজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন পদোন্নতি-বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের আবেদন পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে চাকরিতে বঞ্চনার শিকার এবং উল্লিখিত সময়কালের মধ্যে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাগণের আবেদন পর্যালোচনাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের জন্য ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জাকির আহমেদ খানকে আহ্বায়ক করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধির সমন্বয়ে ৫ সদস্যবিশিষ্ট গঠিত কমিটি দুই ধাপে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। কমিটি প্রথম ধাপে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে বঞ্চনার আবেদনসমূহ পর্যালোচনা করে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার নিকট প্রতিবেদন দাখিল করে। দ্বিতীয় ধাপে প্রশাসন ক্যাডার ব্যতিরেকে অন্যান্য যেসব ক্যাডারে ৩য় গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পদ রয়েছে, সেসব ক্যাডারের বঞ্চিত কর্মকর্তাগণের নিকট হতে আবেদন আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩১৮টি আবেদন জমা পড়ে। তন্মধ্যে ৬৮টি আবেদন কমিটির আওতাবহির্ভূত এবং ৪০টি আবেদন তথ্যগতভাবে অসম্পূর্ণ হওয়ায় মোট ১০৮টি আবেদন বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে কমিটি কর্তৃক পর্যালোচনাযোগ্য আবেদন ছিল ২১০টি। এ সকল আবেদন যাচাই-বাছাই করার জন্য কমিটি ১৪টি সভা করেছে। প্রত্যেক ক্যাডারের আবেদন বিবেচনার সময় কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের লিখিত সুপারিশ, বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধির মতামত এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে কমিটি সুপারিশ প্রণয়ন করেছে। গ্রেড-১ পদে ১২ জন, গ্রেড-২ পদে ৩২ জন এবং গ্রেড-৩ পদে ৩৪ জন কর্মকর্তাসহ মোট ৭৮ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রদান করা যেতে পারে মর্মে সুপারিশ করেছে পদোন্নতি-বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের আবেদন পর্যালোচনা কমিটি। পদোন্নতির জন্য সুপারিশকৃত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কমিটি ৬ জন কর্মকর্তাকে ৩ ধাপ, ১৭ জন কর্মকর্তাকে ২ ধাপ এবং ৫৫ জন কর্মকর্তাকে ১ ধাপ পদোন্নতির সুপারিশ করেছে। ১৩২ জন কর্মকর্তাকে কমিটি পদোন্নতির সুপারিশ করেনি। তাদেরকে কেন পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়নি, প্রতিটি ক্ষেত্রে তার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ প্রেক্ষিতে, পদোন্নতি-বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের আবেদন পর্যালোচনা কমিটির ২য় পর্যায়ের প্রতিবেদন ২০২৫ প্রধান উপদেষ্টার সমীপে পেশ করা হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
১০ সেপ্টেম্বর ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে ইসি

১০ সেপ্টেম্বর ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে ইসি ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ ইসির উপসচিব মো. মাহবুব আলম শাহ স্বাক্ষরিত মাঠ পর্যায়ে পাঠানো চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের তালিকা সংরক্ষণ ও চূড়ান্তকরণে ২৫ দিন আগে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করার বিধান রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এলাকা ভিত্তিক ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ, খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকার ওপর দাবি/আপত্তি গ্রহণ ও দাবি/আপত্তিগুলো ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা অনুযায়ী নিষ্পন্ন করে ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করা প্রয়োজন। নির্বাচন উপলক্ষে প্রকাশিত ভোটকেন্দ্র স্থাপনের নীতিমালার আলোকে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ নির্ধারণ করে এলাকা ভিত্তিক ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ, খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকার ওপর দাবি/আপত্তি গ্রহণ ও দাবি/আপত্তিগুলো নীতিমালা অনুযায়ী নিষ্পন্ন করে সম্ভাব্য চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা প্রদান করেছেন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকার ওপর দাবি/আপত্তি গ্রহণের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর এবং প্রাপ্ত দাবি/আপত্তির নিষ্পতির শেষ তারিখ ১২ অক্টোবর। এছাড়া খসড়া ভোটকেন্দ্রের সম্ভাব্য তালিকা চূড়ান্ত করা হবে ২০ অক্টোবর।
ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৭ হাজার ছাড়ালো

ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৭ হাজার ছাড়ালো গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। একই সময় সারাদেশে ৩৫৭ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ২৭ হাজার ১১৫ জন ভর্তি হয়েছেন। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭১ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৬ জন ও সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের এ যাবত ২৫ হাজার ৭৩১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ১১৫ জন। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক এক শতাংশ পুরুষ ও ৪০ দশমিক নয় শতাংশ নারী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। চলতি বছরের এ যাবত ডেঙ্গুতে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৫৭৫ জনের।২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, পেছানোর সুযোগ নেই

ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, পেছানোর সুযোগ নেই আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন নিয় অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষিত সময় থেকে পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেবে। আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইন উপদেষ্টা। আইন উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের, দলের না। নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী

নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী দেশ এখন জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সেনারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, দূরত্ব থাকলে তা দূর করতে হবে। আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন সেনাপ্রধান। সেনা সদস্যদের উদ্দেশে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সেনাবাহিনী একটি পেশাদার সংগঠন। মাঠে দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারি দেখাতে হবে।