ভোটের ওপর নির্ভর করছে আপনার আমার সবার ভবিষ্যৎ : প্রধান উপদেষ্টা

ভোটের ওপর নির্ভর করছে আপনার আমার সবার ভবিষ্যৎ : প্রধান উপদেষ্টা দেশের জনগণের উদ্দেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভোটের ওপর নির্ভর করছে আপনার আমার সবার ভবিষ্যৎ। আপনার আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ। যোগ্য লোককে ভোট দিন। জাতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন। আজ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ড. ইউনূস বলেন, ভোট জনগণের ভবিষ্যৎ রচনার অক্ষর। ভোট বাক্সে ভোট জমা দিতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ আর রচনা করা যাবে না। আপনার ভোট আপনি সযত্নে ভোট বাক্সে দিয়ে আসুন। কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তাকে সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিহত করুন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিন।
সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১ হাজার ৪৩৯

সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১ হাজার ৪৩৯ পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ৬১৬ জন এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িত ৮২৩ জন আসামি রয়েছে। আজ পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদত হোসাইন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে পুলিশ একযোগে অভিযান পরিচালনা করে ১ হাজার ৪৩৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় তিনটি এলজি, একটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৩ রাউন্ড কার্তুজ এবং দুইটি বার্মিজ চাকু জব্দ করা হয়েছে।
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আজ সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতার একযোগে সম্প্রচার করছে।
কোন রঙের আঙুর সবচেয়ে পুষ্টিকর?

কোন রঙের আঙুর সবচেয়ে পুষ্টিকর? আঙুর পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলের মধ্যে একটি। শুধু স্বাদেই অনন্য নয়, এই ক্ষুদ্র ফলে আশ্চর্যজনক পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে কোনো একটি রঙের আঙুর অন্যগুলোর চেয়ে স্বাস্থ্যকর কিনা? সবুজ, কালো এবং লাল আঙুর দেখতে একই রকম হতে পারে, তবুও স্বাদ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্য উপকারিতার দিক থেকে এগুলো আলাদা। সবচেয়ে পুষ্টিকর আঙুর পেতে আপনার কোনটি খাওয়া উচিত? চলুন জেনে নেওয়া যাক- সবুজ আঙুরের উপকারিতা ভিটামিনের চমৎকার উৎস: সবুজ আঙুর ভিটামিন সি সরবরাহ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ভিটামিন কে, যা হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। জার্নাল অফ ফুড সায়েন্স অনুসারে, এই পুষ্টি উপাদানগুলো সবুজ আঙুরকে সুষম খাদ্য করে তোলে। হাইড্রেশন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ: এতে থাকা পানি এবং কম ক্যালোরির পরিমাণ হাইড্রেটেড থাকার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য আদর্শ, বিশেষ করে উষ্ণ মাসগুলোতে। হালকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: সবুজ আঙুরে ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, তবে লাল এবং কালো আঙুরের তুলনায় কম পরিমাণে, যা প্রতিদিনের খাবারের জন্য হালকা পুষ্টিকর বৃদ্ধি প্রদান করে। লাল আঙুরের উপকারিতা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী: লাল আঙুর রেসভেরাট্রলের একটি প্রাকৃতিক উৎস, যা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। জার্নাল অফ এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, রেসভেরাট্রল প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা সমর্থন করে। কোষীয় সুরক্ষার জন্য পলিফেনল: এই যৌগগুলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়। ভাস্কুলার স্বাস্থ্য: আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের গবেষণায় দেখা গেছে যে আঙুর পলিফেনল রক্তনালীর নমনীয়তা উন্নত করতে এবং রক্তচাপ কমাতে পারে। কালো আঙুরের উপকারিতা সর্বোচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শক্তি: কালো আঙুর অ্যান্থোসায়ানিন সমৃদ্ধ, যা এই ফলকে গাঢ় রঙ দেয় এবং শক্তিশালী প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য প্রদান করে। জার্নাল অফ নিউট্রিশনাল বায়োকেমিস্ট্রি অন্যান্য জাতের তুলনায় এই আঙুরের উচ্চতর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রোফাইল তুলে ধরে। মস্তিষ্ক এবং হৃদরোগের উপকারিতা: এর ফ্ল্যাভোনয়েড এবং রেসভেরাট্রল জ্ঞানীয় কার্যকারিতা এবং হৃদরোগের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে করে, যা সামগ্রিক সুস্থতার জন্য তাদের একটি পাওয়ার হাউস হিসেবে কাজ করে। স্মৃতিশক্তি এবং জ্ঞান উন্নত করে: ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে কালো আঙুরের পলিফেনল বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি এবং মানসিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কোন আঙুর সবচেয়ে পুষ্টিকর? সবুজ, লাল এবং কালো আঙুর সবই স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে, তবে কালো আঙুরের কিছুটা সুবিধা রয়েছে। উচ্চ মাত্রার অ্যান্থোসায়ানিন, রেসভেরাট্রল এবং ফ্ল্যাভোনয়েডের জন্য এটি সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষা প্রদান করে এবং মস্তিষ্ক এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। লাল আঙুর তাদের হৃদয়-বান্ধব রেসভেরাট্রল এবং পলিফেনলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলিত হয়, যেখানে সবুজ আঙুর হাইড্রেশন এবং প্রতিদিনের খাবারের জন্য একটি সতেজ, ভিটামিন-সমৃদ্ধ বিকল্প হিসেবে কাজ করে। তাই যদি আপনি সর্বাধিক পুষ্টি ও উপকারিতা চান তবে কালো আঙুরই সবচেয়ে ভালো। তবে সম্ভব হলে আপনার খাদ্যতালিকায় সবুজ, লাল এবং কালো আঙুরের রঙিন মিশ্রণ উপভোগ করুন।
৪০ মিনিট বিরতির পর মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক

৪০ মিনিট বিরতির পর মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে প্যারাজাম্পের কারণে ৪০ মিনিটের স্বল্প বিরতির পর মেট্রোরেল এখন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। একইসঙ্গে সরকারি ছুটির দিন হলেও ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সময়সূচি অনুযায়ী, আজ রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উত্তরা উত্তর স্টেশন এবং ১০টা ১০ মিনিট পর্যন্ত মতিঝিল স্টেশনে ট্রেন চলাচল করবে। আজ দুপুরে ডিএমটিসিএলের উপপ্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) মো. আহসান উল্লাহ শরীফি ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় একটি প্যারাজাম্পে অংশ নেওয়া প্যারাট্রুপারদের নিরাপত্তার জন্য বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোট ৪০ মিনিট মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল। এরপর আবার আগের মতোই ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এখন স্বাভাবিকভাবেই নির্ধারিত সময় পরপর ট্রেন চলাচল করছে। আজ সরকারি ছুটির দিন কতক্ষণ মেট্রোরেল চলাচল করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শনিবার ও অন্যান্য সব সরকারি ছুটির দিনের জন্য আমাদের সময়সূচি নির্ধারিত। সে অনুযায়ী আজ উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন ছেড়েছে ৬টা ৩০ মিনিটে৷ সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ৩০ মিনিটে৷ আর মতিঝিল স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন ছেড়েছে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে৷ আর সবশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ১০টা ১০ মিনিটে। উল্লেখ্য, ডিএমটিসিএলের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত দিনে (শুক্রবার ছাড়া) সকাল ৬টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত, এবং শুক্রবার রাত ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত যেকোনো স্টেশন থেকে সিংগেল জার্নি টিকিট কেনা ও এমআরটি বা র্যাপিড পাস টপ-আপ করা যাবে। তবে শুক্রবার শুধু উত্তরা উত্তর স্টেশনে বিকাল ২টা ৪৫ মিনিট থেকে এবং মতিঝিল স্টেশনে বিকাল ৩টা ৫ মিনিট থেকে এই সেবা চালু হয়। আর রাত ৯টা ২০ মিনিটের পর সব টিকিট অফিস ও মেশিন বন্ধ হয়ে যায়।
বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানালো যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-চীন

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানালো যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-চীন বাংলাদেশকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও সুইডেন। আজ পৃথক বার্তায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ঢাকার দূতাবাস বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানায়। মার্কিন দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, এই বিজয় দিবসে, আমরা ১৯৭১ সালের সেই সাহসী বাংলাদেশিদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ও সম্মান জানাচ্ছি, যাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে সুগম করেছে। চীনের বার্তায় উল্লেখ করা হয়, মহান বিজয় দিবসে বাংলাদেশের জনগণকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আসুন বিজয়ের প্রেরণায় একসাথে সবার জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি। ভারতীয় হাইকমিশনের বার্তায় বলা হয়, ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকা বাংলাদেশের জনগণকে জানাচ্ছে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। এ ছাড়া, পৃথক পৃথক বার্তায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও সুইডেন বাংলাদেশকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতার একযোগে ভাষণটি সম্প্রচার করবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা

বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। আজ সকালে ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এ সময় বিজিবির একটি সুসজ্জিত চৌকস দল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এর আগে, দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরসহ সারাদেশে বিজিবির সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও ইউনিটগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিজিবি মহাপরিচালক প্রত্যুষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
মহান বিজয় দিবস আজ

মহান বিজয় দিবস আজ আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। এ বিজয় দিবস বাঙালি জাতির আত্মগৌরবের একটি দিন। এ বছর এ দিনটিতে বাঙালি জাতির বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৭১ সালের এদিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব-মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন ও সার্বভৌম হানাদার মুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও গৌরবগাঁথা গণবীরত্বে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় বাঙালি জাতি। বাঙালি জাতি তার অধিকার আদায়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে উঠে। ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যায় জাতি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও ভ্রান্ত দ্বিজাতির তত্ত্বের ভিত্তিতে যে অসম পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় তার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয় বাঙালি জাতিকে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার নির্যাতন। অর্থনৈতিক, সরকারি চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব দিক থেকে বঞ্চিত হতে থাকে বাঙালি তথা এ ভূখণ্ডের মানুষ। পাকিস্তানের এই শোষণ বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে পাকিস্তানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির এই আন্দোলনকে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার ঘোষণায় সারা দিয়ে সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী ছাত্র, শিক্ষক, যুবক, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে নামে এবং জীবন দেয়। জীবনের নিশ্চিত ঝুঁকি নিয়ে বাংলার দামাল ছেলে, মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পাশে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত। সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ওই সময় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন দিয়ে সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষ নেয়। বিশ্ব জনমতও গড়ে উঠতে থাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির সাহসিকতার কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করেন।
সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ে বাংলাদেশের

সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ে বাংলাদেশের বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা নিয়ে সর্বাধিক প্যারাস্যুটিং করে বিশ্বরেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। এতে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে স্কাই ডাইভিং করেন। আজ বেলা ১২টার দিকে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এই প্যারাস্যুটিং করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনী প্রধান, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ‘টিম বাংলাদেশ’ এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপারের এই পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী। এটি একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। ১২ হাজার উচ্চতা থেকে এই ফ্রি ফল জাম্পে অংশ নেওয়া এই ৫৪ জন হলেন- সেনাবাহিনীর ৪৬, নৌ বাহিনীর ৫, বিমান বাহিনীর ২ জন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ৪৯ থেকে ৫৪ নম্বরধারী ফ্রি ফল জাম্পাররা সুদানে নিহত ৬ জন শান্তিরক্ষীদের নাম বুকে ধারণ করেন। এই ফ্রি ফল জাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন এবং ড্রপ জোন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এম ইমরুল হাসান। এছাড়া তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মহান বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করে। এখানে একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো আয়োজন করা হয়।