দেশবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলিমকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এ শুভেচ্ছা জানান। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, সংযম, ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মহান শিক্ষায় সমৃদ্ধ রমজান মানবজাতির জন্য শান্তি, কল্যাণ ও নৈতিকতার বার্তা বয়ে আনে। এই মহিমান্বিত মাসে সিয়াম, দান-সদকা ও ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি সকলের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতিসহ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি, নৈকট্য লাভ ও ক্ষমা লাভের সুযোগ হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পবিত্র মাহে রমজান আমাদের ব্যক্তি ও জাতির জীবনে অন্যায়, দুর্নীতি ও অবিচার পরিহার করে ন্যায় ও কল্যাণভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা দেয়। এই মাস ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সত্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও পারস্পরিক সহমর্মিতা চর্চার মাধ্যমে নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয় এবং দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষদের প্রতি সকলের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। তিনি আরও বলেন, আসুন, আমরা পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভোগ-বিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করি এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে বেশি বেশি ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, তওবা ও সৎকর্মে মনোনিবেশ করি, রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করি। মহান আল্লাহ যেন আমাদের রোজা, নামাজ, দান-সদকা ও সকল নেক আমল কবুল করেন এবং আমাদের জীবনে মাহে রমজানের শিক্ষা কার্যকর করার তাওফিক দান করুন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে ক্ষমা ও হেফাজত করুন এবং দেশ ও জাতিকে শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করুন। আমিন।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আসছেন না। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদ এখনো জানায়নি। এছাড়া ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঢাকায় আসবেন কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। এদিকে, ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ভারতের লোকসভার স্পিকার শ্রী ওম বিড়লা। তিনি অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার আগামী মঙ্গলবার শপথগ্রহণ করতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী দল বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানে এক হাজার অতিথির আমন্ত্রণ

বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানে এক হাজার অতিথির আমন্ত্রণ নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও সময়সূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের নামে গেজেট ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হয়। রবিবার থেকে কর্মদিবস শুরু হওয়ায় ১৫, ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী তিন বা সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। শপথ পরবর্তী ধাপগুলো ব্যাখ্যা করে সচিব বলেন, “সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর বিজয়ী দল তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করবেন। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করবেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তখন তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং পরবর্তীতে একটি সুবিধাজনক সময়ে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর বিষয়টি নিয়ে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। সচিব জানান, এটি সংসদ সচিবালয়ের এখতিয়ার। তবে তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানান, এখানে একাধিক বিকল্প রয়েছে। সাধারণত স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়ান। কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে তারা না থাকলে তাদের মনোনীত কেউ অথবা প্রধান বিচারপতি কিংবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারেন। তবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বরাবরের মতোই সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পাঠ করাবেন। শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনিকভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শেখ আব্দুর রশীদ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা পরিস্থিতির প্রয়োজনে এর পরেও অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন ১ হাজার অতিথি

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন ১ হাজার অতিথি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট ১ হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, গেজেট নোটিফিকেশন হয়ে গেছে। জাতীয় সংসদে ২৯৭টি আসনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী তিন দিন সময়ের মধ্যে তাদের শপথ গ্রহণ হয় সংসদ সদস্য হিসেবে। সেটি এই তিন দিন সময় আগামীকাল থেকে শুরু করে পরশু ১৪, ১৫, ১৬ এবং ১৭ তারিখ পর্যন্ত আমরা ধরতে পারি। কারণ কর্ম দিবস আগামীকাল থেকে। এই ১৭ তারিখের মধ্যে তাদের শপথ গ্রহণ হবে।  তিনি আরও বলেন, শপথ গ্রহণের পরে বিভিন্ন এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল তাদের নিজস্ব সংসদ সদস্যদের নেতা নির্বাচন করবেন। যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হবেন তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থভাজন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের জন্য অফার করবেন বা নিয়োগ দান করবেন। এরপরে একটা সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করে সেই সময়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়ানোর বিষয়ে সচিব জানান, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার বা তাদের মনোনীত কেউ শপথ পড়াতে পারেন। তারা যদি কোনো মনোনয়ন না দিতে পারেন তাহলে সরকার থেকে কাউকে মনোনয়নের ব্যবস্থা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন বা শপথ পাঠ করাতে পারেন।  শপথ অনুষ্ঠানে অতিথি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ কম বেশি এক হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গেজেট প্রকাশ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ৩শ আসনে নির্বাচনের আয়োজন করা হলেও প্রার্থীর মৃত্যুতে একটি আসনে স্থগিত করা হয়। আর দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়ানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এদিকে স্পিকার পদত্যাগ করেছেন, ডেপুটি স্পিকার কারাগারে রয়েছেন। সরকার বলছে, রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি বা সিইসি শপথ পাঠ করাবেন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির মহাসচিব বলছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠন হবে। বিএনপি সব দলকে নিয়ে পার্লামেন্টে যাবে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩শ’টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম–২ ও ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হয়নি। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাদের শরিকরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে নয়টি আসন।

১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সবার শপথ: প্রেস সচিব

১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সবার শপথ: প্রেস সচিব প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, খুব দ্রুত সবার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। দেরি হলেও ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ হবে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, শপথ কে পড়াবেন তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন

তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ শনিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে অভিনন্দন বার্তার বিষয়ে জানানো হয়। অভিনন্দন বার্তায় তারেক রহমানের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমুখী চেতনার আলোকে আপনি দেশকে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি স্মরণ করছি আপনার পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ  ও রাষ্ট্রদর্শন এবং আপনার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা। তাদের আদর্শ ও মহান কর্ম আপনার আগামী দিনের চলার পথকে আলোকিত করবে বলে আমি একান্তভাবে আশা করি।’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এসব ক্ষেত্রে সুসমন্বিত মেধা, মননশীলতা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অপরিহার্য। আশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হবে।’ ড. ইউনূস বলেন, ‘একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার মূল্যবান সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, সহনশীলতা প্রদর্শন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ক্ষেত্রে আপনার ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরিশেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আপনার সব উদ্যোগ সফল হোক—এই কামনা করি। মহান আল্লাহ আপনাকে দেশ ও জাতির সেবায় প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করুন।’

বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন তারেক রহমান

বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এই নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলন হবে। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেবে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল, সরকার গঠনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য জোট রাজনীতি এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসন বিএনপি, ৬৮টি জামায়াত, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামি আন্দোলন ১টি, খেলাফত মজলিস ১টি, গণসংহতি ১টি, বিজেপি ১টি, গণঅধিকার ১টি, স্বতন্ত্র ৭টি আসনে জয় লাভ করেছে। আজ দুপুর আড়াইটার দিকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। এই দুটি আসনের ফলাফল পরে ঘোষণা করা হবে। একটি আসনের ফলাফল আগেই স্থগিত করা হয়। আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচনে মোট ভোট দিয়েছে ৫৯. ৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে ৬০.২৬ শতাংশ প্রদান করেছে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে ‘হ্যা’ ভোট দিয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ এবং ‘না’ ভোট দিয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। তিনি আরও বলেন, গণভোটে ২৯৯টি আসনের গণভোট গণনা করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। আজ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল ভোটে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী শেষ দিকে মৃত্যুবরণ করায় সেই আসনের ভোট স্থগিত রেখেছে কমিশন। এই আসনের এখন নতুন তফসিল দিয়ে ভোট করতে হবে। নির্বাচনে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। শেরপুর-৩ আসনের চার লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ জন ভোটার সঙ্গত কারণে এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে ২৯৯ আসনের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন।