নিরাপদ ঈদযাত্রায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ নির্দেশনা

নিরাপদ ঈদযাত্রায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ নির্দেশনা আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের টহল বাড়ানোসহ ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. জিয়াউল হক মীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করাসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে নিম্নবর্ণিত নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো- ১. আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের প্রাক্কালে দেশব্যাপী সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। ২. চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন, বিশেষ বিশেষ রাস্তায় ও মোড়ে চেকপোস্ট স্থাপন, জাল টাকার বিস্তার রোধ ও শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৩. রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ দেশের অন্যান্য বড় বড় শহর ও বন্দরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের টহল বাড়াতে হবে। 8. গার্মেন্টস ও অন্যান্য শিল্পের মালিক পক্ষ অর্থাৎ বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং শিল্প পুলিশ একত্রে বসে ঈদের পূর্বেই শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি, বোনাস ইত্যাদি পরিশোধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৫. সাধারণ জনগণের ঈদ উপলক্ষে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি নারী পুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে হবে। মার্কেটগুলোতে বিশেষ রাত্রিকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং সকল মার্কেট সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। ৬. ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ নিশ্চিতকল্পে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা, লঞ্চ/ফেরিঘাটে অনিয়ম ও অবৈধ সিরিয়াল প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় না করা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করা এবং পরিবহনে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ৭. পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৮. যমুনা সেতু, পদ্মা সেতু এবং ফ্লাইওভারসহ টোলপ্লাজাগুলোতে যানজট নিরসনে ইটিসিসহ (Electronic Toll Collection) দ্রুত টোল আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৯. যানজট নিরসনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক চিহ্নিত ১৫৫ স্পটে আইপি/সিসি ক্যামেরা স্থাপনপূর্বক ঈদুল ফিতরের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময় মনিটরিং জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ড্রোনের মাধ্যমে মনিটরিং করা যেতে পারে; ১০. যানজট নিরসনে লক্ষ্যে ঈদের পূর্বের সাত দিন ও পরের সাত দিন সুনির্দিষ্ট পূর্ব তথ্য ব্যতীত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক সড়কের ওপরে মোটরযান তথা যানবাহন থামানো যাবে না; ১১. অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনকারী বা যাত্রীবাহী যানবাহন ব্যতীত স্থলবন্দর ও নৌবন্দরসহ যেকোনো জায়গা থেকে ছেড়ে আসা নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী ও লম্বা যানবাহনসমূহ ঈদের পূর্বের তিন দিন এবং পরের তিন দিন যেন মহাসড়কে চলাচল করতে না পারে বা নৌ-রুটে ফেরি পারাপার করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ১২. ঈদের আগে ও পরে পাঁচ দিন করে নদীতে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ রাখতে হবে; ১৩. বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও নৌ-পথে আকস্মিক দুর্ঘটনায় উদ্ধারকার্য পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম, রেসকিউ বোট, ডুবুরি, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামাদিসহ অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজনে কোস্টগার্ডের সহযোগিতা গ্রহণ করতে হবে; ১৪. দুর্ঘটনা কবলিত অথবা রাস্তা/ব্রিজে কোনো গাড়ি নষ্ট হলে দ্রুত দুর্ঘটনা কবলিত/অকেজো গাড়ি অপসারণ/রেকারিং করে পার্শ্ববর্তী খালি জায়গায় স্থানান্তর করতে হবে। যমুনা ও পদ্মা সেতুসহ যানজট প্রবণ এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেকারের ব্যবস্থা রাখতে হবে; ১৫. ঈদের সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক কন্ট্রোলরুম স্থাপন করতে হবে। সকল কন্ট্রোল রুমকে প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ০১৩২০০০১২২৩-নম্বরে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। এছাড়াও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের সংযোগ স্থাপনপূর্বক সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বয় জোরদার করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় তিনি ভাষণ দেবেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর অন্যদের জন্য বার্তা: পররাষ্ট্র সচিব

প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর অন্যদের জন্য বার্তা: পররাষ্ট্র সচিব প্রধান উপদেষ্টার প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়া অন্যদের জন্য একটি বার্তা উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, “এই সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা সই হবে। যার মধ্যে অন্যতম মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনীতি ও কারিগরি সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া, গণমাধ্যম, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও স্বাস্থ্য খাত। এছাড়া, স্থান পাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তিস্তা প্রকল্প ইস্যু।” মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন ও থাইল্যান্ড সফর সামনে রেখে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে সচিব এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরকালে দেশটির সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বিষয়েও আলোচনা হবে। এছাড়া, দুই দেশের নদী ব্যবস্থাপনার আওতায় তিস্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা উঠতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন বলেন, “চীনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। আমি মনে করি, চীনকে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হিসেবে আমরা ধারণ করি, চীনও আমাদের ধারণ করে।” এক প্রশ্নের উত্তরে সচিব জানান, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কোনো এজেন্ডাভিত্তিক নয়, নদী ব্যবস্থাপনার আওতায় তিস্তা ইস্যু উঠতে পারে। “চীন সফরে রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমার ইস্যুতে চীনের ভিউ আমরা নেবো।” এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “চীনের সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বেড়েছে। কুনমিংয়ে বাংলাদেশিদের জন্য চারটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হয়েছে। বাংলাদেশেও তারা একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করবে।” আগামী বুধবার (২৬ মার্চ) চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা। এটাই হবে প্রধান উপদেষ্টার প্রথম কোনো দেশে দ্বিপক্ষীয় সফর। চীন থেকে ফিরে আসার পর আগামী ৩ এপ্রিল বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি থাইল্যান্ড যাবেন। পররাষ্ট্র সচিব জানান, পরের দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে বলে এই সম্মেলনকেও আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। বিমসটেকে ভারতের সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হবে কি-না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব জানান, বাংলাদেশ বৈঠকের জন্য প্রস্তুত আছে। ভারত থেকে ইতিবাচক সাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আগে আগামী ৩ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেক ইয়াং জেনারেশন ফোরামে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সচিব বলেন, “আসন্ন বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ বিমসটেক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করবেন এবং বিমসটেক অঞ্চলের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ এই অঞ্চলকে আর্থ-সামাজিকভাবে আরও উন্নত, টেকসই ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেবেন। বিমসটেকের আওতায় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, যোগাযোগ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জ্বালানি সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা ও মানব নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানব সম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, সংস্কৃতি, পর্যটনের বিকাশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিমারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি প্রভৃতি বিষয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনাপূর্বক শীর্ষ সম্মেলনে রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানগণ সর্বসম্মতিক্রমে যৌথ ঘোষণা জারি করবেন। ”তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এবারের সম্মেলন বাংলাদেশ এবং অন্যান্য বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় এবং গভীর করবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”প্রধান উপদেষ্টা শীর্ষ সম্মেলন শেষে আগামী ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আব্দুল মোতালেব সরকার, মোহাম্মদ নূরে আলম ও মোহাম্মদ রফিকুল আলম।
ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকার নতুন প্রধানমন্ত্রী নিহত

ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকার নতুন প্রধানমন্ত্রী নিহত ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নতুন প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল বারহুম। এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে উপত্যকাটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। খবর আল জাজিরার। এর আগে, গত ১৮ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইশাম দা-লিসকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ইসমাইল বারহুম। রবিবার (২৩ মার্চ) রাতে গাজার ইউনিসের নাসের হাসপাতালে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই হামলাতেই ইসমাইল বারহুম ও অপর একজন নিহত হন। এ ঘটনায় আরো আটজন আহত হয়েছেন। ইসমাইল বারহুমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হামাস। তারা জানিয়েছে, নাসের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ইসমাইল। সেখানে ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। দখলদার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, “রবিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘সফলভাবে জ্যেষ্ঠ হামাস কর্মকর্তা ইসমাইল বারহুমকে নাসের হাসপাতালে হত্যা করেছে।” তিনি বলেন, “ইসমাইল বারহুম ছিলেন গাজার হামাস সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কয়েক দিন আগে নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইশাম দা-লিসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।” ইসমাইল বারহুমকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলাটি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এবং বিবিসি অ্যারাবিকে ধরা পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আল জাজিরার সাংবাদিক নাসের হাসপাতালের সামনে থেকে লাইভ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঠিক তখন হঠাৎ করে মিসাইল সদৃশ্য কিছু একটা উড়ে এসে হাসপাতালটিতে আঘাত হানে। এরপরই সেখানে আগুন লেগে যায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ব্যাপক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য সুনির্দিষ্ট অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফিরতি ট্রেনযাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফিরতি ট্রেনযাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট আজ সকাল ৮টা থেকে বিক্রি শুরু হয়। অগ্রিম টিকিটের শতভাগই বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। যাত্রীসাধারণের সুবিধার্থে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টায় এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সে অনুযায়ী, এই দুই সময়ে দুই অঞ্চলের টিকিট বিক্রি হবে। ২৪ মার্চ যারা টিকিট কিনবেন তারা আগামী ৩ এপ্রিল ভ্রমণ করতে পারবেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের পরের আন্তঃনগর ট্রেনের ৪ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ২৫ মার্চ, ৫ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ২৬ মার্চ, ৬ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ২৭ মার্চ, ৭ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ২৮ মার্চ, ৮ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ২৯ মার্চ এবং ৯ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৩০ মার্চ। এছাড়া চাঁদ দেখার ওপরে ৩১ মার্চ এবং ১ ও ২ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদ যাত্রার সব টিকিট অনলাইনে কিনতে হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করা সব আন্ত নগর ট্রেনের ডে-অফ (সাপ্তাহিক ছুটি) বাতিল করা হয়েছে। ২৭ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এসব ট্রেনের কোনও ডে-অফ থাকবে না। ঈদের পরে যথারীতি সাপ্তাহিক ডে-অফ কার্যকর থাকবে। ঈদের দিন কোনও আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে না। এছাড়া চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ৩১ মার্চ থেকে ১ ও ২ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হতে পারে। যাত্রী সাধারণের অনুরোধে ২৫ শতাংশ টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে। ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবার কিনতে পারবেন। এক্ষেত্রে চারটি আসন সংগ্রহ করতে পারবেন তিনি। কোনো টিকিট রিফান্ড করা যাবে না। এদিকে গত বছরগুলোতে ঈদযাত্রায় ৮ থেকে ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হলেও এবার সেটি কমিয়ে পাঁচ জোড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এর আগে, গত ৯ মার্চ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অগ্রিম টিকিট বিক্রির তথ্য জানানো হয়।
ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সুখবর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সুখবর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে যেসব ইমাম-মুয়াজ্জিনরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন তাদেরকে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে এই ঋণ দেওয়া হবে। আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা পাচ্ছেন সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে যে সব ইমাম-মুয়াজ্জিনরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন তাদেরকে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে এই ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এই ট্রাস্ট থেকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ইমাম-মুয়াজ্জিনদেরকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারাদেশে ৬০০ জন ইমাম-মুয়াজ্জিনকে এককোটি ৮০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। কোন ইমাম বা মুয়াজ্জিন মারাত্মক দুর্ঘটনা, পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্য ব্যাধি ইত্যাদি কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে, আকস্মিকভাবেই মৃত্যুবরণ করলে তাকে আর্থিক সহায়তা ও ঋণ প্রদান, তাদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ সাধনের জন্য ২০০১ সালে এই ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হয়।
দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জামিলা শবনম স্বাক্ষরিত জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটির গত ২০ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সভার সিদ্ধান্তের চিঠিটি আজ রোববার প্রকাশ করা হয়। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিনিয়র সচিব, সচিব এবং সরকারি দপ্তরের মহাপরিচালক, নির্বাহী পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান এবং বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের গত ২০ মার্চ এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং আওতাধীন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মধ্যে যাদের বিষয়ে জনমনে দুর্নীতিবাজ মর্মে ব্যাপক ধারণা রয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

স্টারলিংক ইন্টারনেটের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু ৯ এপ্রিল আগামী ৭ এপ্রিল থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ৪ দিনব্যাপী বিনিয়োগ সম্মেলন। সম্মেলনে ৫০টিরও বেশি দেশের ৫৫০ জন বিদেশি বিনিয়োগকারী অংশ নেবেন। এর বড় অংশই চীনের বিনিয়োগকারী। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ভারতের বিনিয়োগকারীরা আসবেন। বাংলাদেশ থেকে ২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। তবে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ৯ এপ্রিল। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। এদিন স্টারলিংকের ইন্টারনেটের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হবে। আজ রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। বিডা এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। আশিক মাহমুদ বলেন, বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সরেজমিনে তুলে ধরার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এই আয়োজনের প্রধানতম উদ্দেশ্য। এই আয়োজনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য একটি বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিডার চেয়ারম্যান বলেন, চারদিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দুই দিন অর্থাৎ ৭ ও ৮ এপ্রিল বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঢাকার বাইরে থাকবেন। এর মধ্যে ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন। ৮ এপ্রিল তারা নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন। ৯ এপ্রিল সকালে ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। এদিন স্টারলিংকের ইন্টারনেট পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। এই ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করে ৯ তারিখ থেকে সম্মেলনের সবগুলো ইভেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার হবে। একইদিন বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জানাতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। চৌধুরী আশিক জানান, সম্মেলনে ৫০টিরও বেশি দেশ থেকে ৫৫০জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশ থেকে ২ হাজার প্রতিনিধি থাকবেন। তিনি বলেন, আয়োজনে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ইতোমধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আশিক মাহমুদ বলেন, বিনিয়োগকারীরা স্টার্ট আপ থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগ সব কিছু নিয়ে কথা বলেন। পুরো আয়োজনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তৈরি পোশাক,কৃষিখাত, স্বাস্থ্য এবং হালকা প্রকৌশল খাত প্রাধান্য পাবে। অনুষ্ঠানে বিশ্বের খ্যাতনামা কয়েকটি ব্রান্ডের বিনিয়োগকারীরা আসবেন। এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে বৈঠক হবে আয়োজক দেশের। আশিক মাহমুদ আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ১ বিলিয়ন ডলারের কম। এটি থাকা না থাকার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। অর্থাৎ বিনিয়োগ আরও ১০গুণ হওয়ার কথা। সে কারণে বিনিয়োগ বাড়াতে এই আয়োজন। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করে। ফলে দ্রুতই বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন। তবে আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পাবেন। এ ছাড়াও এবারের সম্মেলনে বেশ কিছু এমওইউ স্বাক্ষর হবে। এক প্রশ্নের জবাবে আশিক মাহমুদ বলেন, আগামী ২৬ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীনে যাবেন তিনি। সেখানে দেশটির বড় বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক হবে। সব মিলিয়ে ২ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক হবে। আশা করা হচ্ছে, এতে বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। আর ৯০দিন পর এটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয়

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয় দেশের সরকারি অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবাগ্রহীতাদের ‘তৃপ্তি’ ও ‘সন্তুষ্টি’কে প্রাধান্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি ‘আচরণ সংহিতা’ বা কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংস্থার প্রধানদের কর্মস্থলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং সেবা প্রদানের পদ্ধতিগুলোকে আইন ও বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমনভাবে ডিজাইন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে, যাতে ওই পরিবেশ সেবাগ্রহীতাদের প্রয়োজনের নিরিখে দ্রুততম সময়ে সাড়া দিতে পারে। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের প্রতি এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যেন তারা সেবা প্রাপ্তির পর তৃপ্তি ও সন্তুষ্টি অনুভব করে এবং তা প্রকাশ করার সুযোগ পায়। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারিকৃত ‘অ-আর্থিক সরকারি সংস্থাসমূহের আচরণ সংহিতা (কোড অব কন্ডাক্ট)’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপনে এসব নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে লৈঙ্গিক সমতা বজায় রাখতে হবে, নারীর প্রতি শালীন আচরণ, তৃতীয় লিঙ্গ কিংবা অন্য কোন সম্প্রদায়ের প্রতি কিংবা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমান সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করতে হবে; কারো প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, ঘৃণা, অবহেলা, অবজ্ঞা ইত্যাদি প্রদর্শন করা যাবে না। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি সকল অ-আর্থিক সংস্থায় পরিষেবা খাতে সকল ধরনের সেবা প্রদানকারীকে সদাচারী হতে হবে এবং তাদের অবশ্যই সততার সাথে অর্থাৎ সৎ, ন্যায়সঙ্গত ও বৈধ উপায়ে কাজ করতে হবে এবং শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংস্থায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে এবং স্বীয় প্রতিষ্ঠানের কল্যাণের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে ও সব ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলতে হবে। তাদের কর্মে সর্বদা অন্যের প্রতি যথাযথ সম্মান ও বিবেচনা প্রদর্শনপূর্বক জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে বলা হয়েছে, এটি পরবর্তীতে ‘আচরণ সংহিতা’ নামে অভিহিত হবে। এ আচরণ সংহিতা অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বোর্ড সদস্যসহ সকল কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং এ আচরণ সংহিতা স্ব স্ব সংস্থার জন্য প্রযোজ্য আইন ও বিধির আলোকে প্রণীত কর্মচারী আচরণ বিধিমালা বা অপরাপর বিধানসমূহের অতিরিক্ত বিধান হিসেবে গণ্য হবে। ‘আচরণ সংহিতা’ প্রণয়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সুসংহতকরণের লক্ষ্যে অ-আর্থিক সরকারি সংস্থাসমূহ বা সংস্থাসমূহের বোর্ড সদস্য বা এর বোর্ড কমিটির সদস্য, সকল কর্মচারী, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং সংস্থাসমূহের সেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারীদের জন্য একটি সাধারণ বিধান প্রয়োজন। অ-আর্থিক সরকারি সংস্থাসমূহের সকল কর্মচারী কর্তৃক তাদের ওপর ন্যস্ত দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পাদনের ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন, নিয়মকানুনের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক সুচর্যা অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়; সেবা প্রদানকারী হিসেবে অ-আর্থিক সরকারি সংস্থাসমূহ কর্তৃক সেবা গ্রহণকারী এবং সব ধরনের অংশীদারদের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি সমাজের বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণ আবশ্যক। এসব কারণে একটি ‘আচরণ সংহিতা’ থাকা প্রয়োজন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনগণের আস্থা, গ্রাহক বা ব্যবহারকারী বা অংশীজনদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য সংস্থাসমূহকে তাদের প্রতিটি কর্মচারী কর্তৃক সর্বোচ্চ সততা এবং আন্তরিকতার সাথে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন ও সর্বোচ্চ পেশাদারী মনোভাব ও দক্ষতা প্রদর্শন করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে অংশীজনেরা সেবা প্রদান বা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি পরিপালনের পাশাপাশি এ আচরণ সংহিতা অনুসরণ করবেন। প্রজ্ঞাপনে নিয়োগকারীর কর্তব্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সংস্থার প্রধানরা নিজ প্রতিষ্ঠানে একটি মনোরম কাজের পরিবেশ বজায় রাখবেন, যেখানে- উপযুক্ত ও সুসংহত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকবে; সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ এবং কর্মক্ষমতাভিত্তিক কাজের বিবরণ থাকবে; কর্মচারীদের পেশাগত ও কর্মজীবনে উন্নতির সুযোগের নিশ্চয়তা থাকবে; কর্মচারীদের বৈচিত্রকে মূল্য দেওয়া হবে এবং সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে শতভাগ অন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করা হবে; হেনস্থা, বৈষম্য বা অন্য কোনো অস্বস্থিকর আচরণ মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হবে; সংস্থায় কর্মরত সকলের মধ্যে অংশীজন কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে; সম্মানজনক আলোচনা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ সমাধানে উৎসাহিত করা হবে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে সস্তায় শিশুশ্রম ব্যবহার (যেমন- চা, নাশতা আনা) করা যাবে না। স্বার্থের সংঘাত প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যখন একজন কর্মচারী তার দাপ্তরিক অবস্থান থেকে ব্যক্তিগত স্বার্থকে বিবেচনায় নেয়, তখন স্বার্থের সংঘাতের পরিস্থিতির তৈরি হয়। কর্মসম্পাদনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ থেকে নিজেকে দূরে রাখার বিষয়টি একটি আইনি এবং নৈতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে এমন কারণ, যেমন- বেতন ও সুবিধা নিয়ে অসন্তুষ্টি, অস্বস্তিকর কাজের পরিবেশ, পদোন্নতির সুযোগের অভাব বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে অবিচার, কর্মক্ষেত্রে অবৈধ প্রভাব বা চাপ, চাকরির নিরাপত্তার অভাব- ইত্যাদি বিষয়ে সংস্থার প্রধান ও বোর্ড সদস্যদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে । প্রজ্ঞাপনে অ-আর্থিক সরকারি সংস্থার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- এর অর্থ দেশের কোনো আইন দ্বারা সৃষ্ট বা পরিচালিত অথবা সরকার কর্তৃক কোনো আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত কোনো স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা অথবা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা অথবা কমিশন বা কাউন্সিল বা বোর্ড অথবা পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশন বা স্বশাসিত কোনো সংস্থা অথবা কোনো সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি (ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত) অথবা অনুরূপ কোনো সরকারি অ-আর্থিক সংস্থা।
ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস গত দুদিন ধরেই ঢাকার আকাশ মেঘলা। কমেছে তাপমাত্রা। আজ সকালেও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আগামীকালও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (২২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বভাসে বলা হয়েছে, আজ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো, বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। রবিবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো, বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। সোমবার সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো, বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া, দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে আগামী ৫ দিনের পূর্বাভাসে বরা হয়েছে, সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে পারে।