৫ এপ্রিল ঢাকায় আসছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল

৫ এপ্রিল ঢাকায় আসছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল চলমান ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বাংলাদেশ ২৩৯ কোটি ডলার কিস্তির অর্থ পাবে। অর্থছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পর্যালোচনা করতে আইএমএফের প্রতিনিধিদল চলতি এপ্রিল মাসে ঢাকায় আসবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর আইএমএফের বড় কোনো দলের ঢাকায় এটি দ্বিতীয় সফর হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আইএমএফের একটি দল আগামী ৫ এপ্রিল ঢাকায় আসছে। দলটি ৬ এপ্রিল থেকে টানা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে। এ সফরে আইএমএফের দলটির সঙ্গে অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে ১৭ এপ্রিল প্রেস ব্রিফিং করবে সফররত আইএমএফের দল। দলটি প্রথম দিন ৬ এপ্রিল এবং শেষ দিন ১৭ এপ্রিল বৈঠক করবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর তিনটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। আইএমএফের কাছ থেকে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে পেয়েছে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার পেয়েছে। তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে। ঋণের অর্থছাড় বাকি আছে ২৩৯ কোটি ডলার। বিপত্তি দেখা দেয় চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে। যদিও সরকার আশা করছে আগামী জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যাবে।

মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফায় ত্রাণ পাঠালো বাংলাদেশ

মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফায় ত্রাণ পাঠালো বাংলাদেশ মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ওষুধ ও ত্রাণ সামগ্রীর দ্বিতীয় মিশন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তিনটি পরিবহন বিমানের সাহায্যে ত্রাণ সামগ্রী ও ওষুধ পাঠানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানা যায়। মিশনে তিনটি বাহিনীর উদ্ধার বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধার ও চিকিৎসক দল রয়েছেন। উদ্ধারকারী ও চিকিৎসকের মোট সংখ্যা ৫৫ জন। এছাড়াও, তিনটি বিমানে ৩৭ জন ক্রু সদস্য রয়েছেন। ণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে আট টন শুকনো খাবার, আড়াই টন পানি, চার টন ওষুধ, এক টন স্বাস্থ্যবিধি পণ্য এবং দেড় টন ত্রাণ তাঁবু। এর আগে রোববার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর সাহায্যে মিয়ানমারে ওষুধ, তাঁবু, শুকনো খাবার এবং চিকিৎসা দলসহ জরুরি ত্রাণ সামগ্রীর প্রথম মিশন পাঠানো হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সঙ্গে তথ্য উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সঙ্গে তথ্য উপদেষ্টার সাক্ষাৎ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের পর যাত্রাবাড়ীর দনিয়ায় শহিদ জাহাঙ্গীরের বাসায় যান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে শহিদ জাহাঙ্গীরের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রসঙ্গত, গত বছর ২০ জুলাই ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে জাহাঙ্গীর শহিদ হন। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন।  জাহাঙ্গীরের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উপদেষ্টা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শহিদ সুমাইয়ার বাসায় যান। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।  এ সময় উপদেষ্টা বলেন, ‘‘সুমাইয়ার মতো অসংখ্য মানুষ বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে নির্মমভাবে খুনের শিকার হয়েছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে।’’ উপদেষ্টা সরকারের পক্ষ থেকে শহিদ সুমাইয়ার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।  উল্লেখ্য গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে নিজ বাসায় শহিদ হন সুমাইয়া।

মোঘল আমলের কায়দায় ঢাকায় ঈদ আনন্দ মিছিল

মোঘল আমলের কায়দায় ঢাকায় ঈদ আনন্দ মিছিল ঢাকায় সুলতানি মোঘল আমলের কায়দায় ঈদ আনন্দ মিছিল হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আনন্দ মিছিলে অংশ নেন অসংখ্য মানুষ, যারা একত্রিত হয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে ঈদুল ফিতরের  জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাত শেষে সকাল ৯টায় সেখান থেকেই শুরু হয় বর্ণাঢ্য ঈদ আনন্দ মিছিল।মিছিলটি আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক ধরে খামারবাড়ি মোড় হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের জামাত শেষ হতেই মিছিলের মধ্যে শুরু হয় ব্যান্ডপার্টির বাজনা, এবং বাজতে থাকে জনপ্রিয় ঈদ গান ‘ও মোর রমজানের ওই রোজার শেষে’। এতে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে ঈদের আনন্দে মেতে ওঠেন।  মিছিলে ছিল সুসজ্জিত শাহী ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি মিছিলে ছিল সুসজ্জিত পাঁচটি শাহী ঘোড়া, ১৫টি ঘোড়ার গাড়ি, ব্যান্ড পার্টি ও বাদ্যযন্ত্র। ঘোড়ার গাড়িগুলোর শোভায় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। এছাড়া, সুলতানি-মোঘল আমলের ইতিহাসচিত্র সম্বলিত পাপেট শো আয়োজন করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীদের সেমাই ও মিষ্টি খাওয়ানো হয়। পরে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই আয়োজন শেষ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, এমন আয়োজন যদি প্রতিবছর হয়, তাহলে ঈদের আনন্দ আরো বহুগুণ বেড়ে যাবে। মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী তুষার আহমেদ বলেন, “এমন একটি আয়োজনে অংশ নিতে পেরে সত্যিই দারুণ লাগছে। আমাদের পুরনো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে এমন আয়োজন বারবার হওয়া উচিত।” মিছিলে অংশ নেওয়া ইফতিয়াক আশিক নামের অপর একজন বলেন, “ঢাকায় অনেক বছর পর এভাবে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে, খুবই ভালো লাগছে। আমি পুরো মিছিলজুড়েই ছিলাম।” ঈদের এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো এলাকায় ছিল নিরাপত্তার কড়াকড়ি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন তৎপর। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য ঢাকার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যগুলোও ফিরিয়ে আনা। এই ঈদ আনন্দ মিছিল তারই একটি অংশ। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে এই আয়োজন করা হবে।”

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আগামীকাল

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আগামীকাল হিজরি ১৪৪৬ সনের পবিত্র শাওয়াল মাস মাস গণনা শুরু এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে আগামীকাল সভা করার দিন ঠিক করেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। আজ ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামীকাল বাদ মাগরিব সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে। ওই দিন দেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাতে অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ঢাকার বাতাস আজও অস্বাস্থ্যকর, শীর্ষে চিয়াংমাই

  ঢাকার বাতাস আজও অস্বাস্থ্যকর, শীর্ষে চিয়াংমাই বাংলাদেশের জনবহুল শহর ঢাকার বাতাসের মানে ছুটির দিনেও কোনো উন্নতি নেই। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ঢাকার বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। আজ সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য বলছে, ১৫৮ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। একই সময়ে ১৮৮ স্কোর নিয়ে প্রথম স্থানে আছে থাইল্যান্ডের শহর চিয়াংমাই। এছাড়াও একই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর স্কোর ১৭৬ এবং ১৬১ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে ভারতের রাজধানী দিল্লি।  

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ৯ চুক্তি-এমওইউ স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ৯ চুক্তি-এমওইউ স্বাক্ষর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তি এবং আটটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চার দিনের চীন সফরের তৃতীয় দিন শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুই দেশের মধ্যে এসব চুক্তি ও এমওইউ স্বাক্ষর করা হয়। শুক্রবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে আছে—দুই দেশের কালজয়ী সাহিত্য ও শিল্পকর্মের অনুবাদ ও সৃজন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও খবর আদান-প্রদান এবং গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিময় সহযোগিতা। এর পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি বিষয়ে সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—বিনিয়োগ আলোচনা শুরু করা, চীনের জন্য বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু করা, মোংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ, একটি রোবট ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ এবং একটি কার্ডিয়াক সার্জারি গাড়ি অনুদান।

দেশের ইতিহাসে রেকর্ড রেমিট্যান্স

দেশের ইতিহাসে রেকর্ড রেমিট্যান্স ঈদ সামনে রেখে আরও বেড়েছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। ঈদের আগে চলতি মাসের (মার্চ) প্রথম ২৬ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩ বিলিয়ন (২৯৫ কোটি ডলার) ডলারের রেমিট্যান্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতিদিন আসছে প্রায় ১১.৩৪ কোটি ডলার বা প্রায় ১৩৮৪ কোটি টাকা করে। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ (প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার) রেমিট্যান্স আসে গত ডিসেম্বরে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে গত মাস ফেব্রুয়ারিতে (প্রায় ২৫৩ কোটি ডলার)। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্কর্তা জানান, নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেড়ে যায় প্রবাসী আয়ের গতি। একই সঙ্গে কমেছে হুন্ডি ও অর্থপাচার। আবার খোলাবাজারের মতোই ব্যাংকে রেমিট্যান্সের ডলারের দাম পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর কেন্দ্র করে আরও বেশি বেড়েছে রেমিট্যান্স আসার গতিপ্রবাহ। চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরের আট মাসে রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম আট মাসে এক হাজার ৪৯৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। সে হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসের চেয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৫৫ কোটি ডলার। এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসে দেশে। এ নিয়ে অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্ট থেকে টানা সাত মাস দুই বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে এসেছে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে এসেছে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও গভীর হবে

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও গভীর হবে চীন ও বাংলাদেশ তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেবে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উভয় দেশ বিনিয়োগ, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও জনগণের পারস্পরিক বিনিময় বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) চীনের নির্বাহী উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং বোআও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং আপনার সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। চীন আশা করে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা দেশের ‘এক-চীন নীতির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, বাংলাদেশ গর্বিত যে এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যোগ দিয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণমূলক প্রকল্পে চীনের সহায়তা চায় এবং চীনের দেওয়া ঋণের সুদের হার ৩ শতাংশ থেকে ১ থেকে ২ শতাংশ-এ কমানোর অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি, বাংলাদেশ চীনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর জন্য প্রতিশ্রুতি ফি মওকুফের আহ্বান জানায়। প্রধান উপদেষ্টা চীনা প্রস্তুতকারকদের বাংলাদেশে শিল্প স্থানান্তর সহজ করার জন্য বেইজিংয়ের সহায়তা চান, বিশেষ করে রেডিমেড পোশাক, ইলেকট্রিক যানবাহন, লাইট মেশিনারি, হাই-টেক ইলেকট্রনিক্স, চিপ উৎপাদন ও সৌর প্যানেল শিল্পে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং জানান, চীন ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা দেবে – যা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান পাওয়ার দুই বছর পর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। চীনের নির্বাহী উপ-প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও দাশেরকান্দি পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পে চীন অর্থায়ন করবে। তিনি বলেন, চীন গত বছর বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির জন্য একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করেছে। চীনা কর্মকর্তারা জানান, এই গ্রীষ্মেই বাংলাদেশ থেকে চীনে আম রপ্তানি শুরু হবে। এছাড়া, কাঁঠাল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন জলজ পণ্য আমদানিরও পরিকল্পনা রয়েছে চীনের, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য আনতে সহায়ক হবে। চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রী জানান, চীন সরকার ও তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করবে। বর্তমানে কয়েক হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে অধ্যয়ন করছে। চীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জন্য চারটি মহাসাগরগামী জাহাজ ক্রয়ে অর্থায়ন করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সংলাপকে উৎসাহিত করতে চীন সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

রমজানে দ্রব্যমূল্য আগের তুলনায় কমেছে, জনগণ স্বস্তি পেয়েছে: ড. ইউনূস

রমজানে দ্রব্যমূল্য আগের তুলনায় কমেছে, জনগণ স্বস্তি পেয়েছে: ড. ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রমজান মাসজুড়ে সরবরাহ চেইনের প্রতিবন্ধকতা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। দেশের সকল জায়গা থেকে খবর এসেছে যে, এই রমজানে দ্রব্যমূল্য আগের তুলনায় কমেছে; জনগণ স্বস্তি পেয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে এই প্রচেষ্টা চলমান থাকবে। আজ সন্ধ্যা ৭টায় মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।পবিত্র ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক। এবারের ঈদ স্মরণীয়ভাবে আনন্দদায়ক হোক এই কামনা করছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জোর ব্যবস্থা নিয়েছে। রমজান ও ঈদে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জিনিসপত্রের দামের লাগাম টেনে ধরা, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ রমজানে যাতে কোনো পণ্যের দাম বেড়ে না যায় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ যেন বিঘ্নিত না হয় সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।