২৮ মে’র মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা দেবেন, না হলে গ্রেপ্তার: শ্রম উপদেষ্টা

২৮ মে’র মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা দেবেন, না হলে গ্রেপ্তার: শ্রম উপদেষ্টা আগামী ২৮ মে’র মধ্যে আন্দোলনরত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করার আহ্বান জা‌নি‌য়ে‌ছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। কারখানা মা‌লিক‌দের উ‌দ্দে‌শ্যে তি‌নি ব‌লেন, “ঘরবাড়ি বিক্রি করে হলেও ২৮ মে’র মধ্যে আন্দোলনরত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে হ‌বে, না হ‌লে গ্রেপ্তার হবেন।” আসন্ন ঈদুল আজহার প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার (২১ মে) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে এসব কথা ব‌লেন তিনি। এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “শ্রমিকদের শ্রম মন্ত্রণালয় ও যমুনা ঘেরাও করার কথা ছিল। ফ্যাক্টরির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কিন্তু ঘটনাটা আমার ঘাড়ে এসে চাপছে। আমরা গতকাল (মঙ্গলবার) মালিকদের নিয়ে বসেছিলাম। সিদ্ধান্ত হয়েছে উনাদের ঘরবাড়ি বিক্রি করে হলেও আগামী ২৮ মে’র মধ্যে শ্রমিকদের টাকা-পয়সা দেবেন। সেটা তারা না করলে তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হতে পারে, ওয়ারেন্ট জারি আছে তারা গ্রেপ্তার হবেন।” তিনি ব‌লেন, “ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে, তারা বিদেশে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করা হবে। শ্রমিকদের পয়সা দিতে হবে, সেটা বাড়ি বিক্রি করে দিক, আর গাড়ি বিক্রি দিক। যিনি শ্রমিকদের দুই-তিন মাস বেতন দিতে পারেন না তার তো এই সেক্টরে থাকা উচিত না।” এরই মধ্যে পাঁচজন মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে জা‌নি‌য়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব‌লেন, “আমি মালিকদের অনুরোধ করছি, যেভাবে পারেন আপনারা হয় টাকা শোধ করেন অথবা আপনাদের জেলে যেতে হবে। ওয়ারেন্ট জারি আছে, কিন্তু সেটি আমরা অ্যাক্টিভেট করছি না। কয়েকজনকে বলেছি, আপনারা ঢাকা শহরে থাকতে পারবেন না।” আসন্ন ঈদের প্রস্তু‌তি জা‌নি‌য়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বাল্কহেডগুলো ঈদের তিনদিন আগে থেকে এবং ঈদের পরে সাতদিনসহ মোট ১০ দিন বন্ধ থাকবে। দিনের সঙ্গে রাতেও সেগুলো চলবে না।” আগামী ৫ জুনের পর থেকে লঞ্চে অস্ত্রধারী চারজন করে আনসার থাকবে বলেও জানান তিনি। রৌমারী থেকে চিলমারী রুটে দুইটি ফেরি চালু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন এগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটা চালু হলে জামালপুরকে কানেক্ট করবে। এর ফলে দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার কমে যাবে। সিলেটের জন্য হয়ত তাই হবে। আমি মনে করি, এটা আমাদের জন্য একটা বড় অর্জন। ঈদ উপলক্ষে আগামীকাল থেকে ফেরি সার্ভিস চালু হবে। ড্রেজিং করে এই নৌপথ চালু করা হয়েছে।”

ঈদে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল বিক্রি শুরু কাল

ঈদে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল বিক্রি শুরু কাল ঈদুল আজহা সামনে রেখে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ঈদের ভোগ্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের পাশাপাশি যেকোনো সাধারণ ভোক্তাও বিশেষ ট্রাকসেল থেকে ঈদের ভোগ্যপণ্য কিনতে পারবেন। রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিদিন ৬৯০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতিটি ট্রাকে থাকবে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল। বুধবার (২১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। এতে বলা হয়, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্যাদি বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ওই কার্যক্রমের পাশাপাশি সারাদেশে প্রতিদিন ৬৯০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্যাদি ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রয় করা হবে। যেকোনো ভোক্তা ট্রাকসেল থেকে এসব পণ্য কিনতে পারবেন। ৬৯০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৫০টি, চট্টগ্রামে ২০টি, ৬টি বিভাগীয় শহরে ১০টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলা শহরে থাকবে ১০টি করে। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে বিক্রয় কার্যক্রম ২২ মে শুরু হয়ে ৩ জুন পর্যন্ত (শুক্রবার ও ছুটির দিনসহ) চলমান থাকবে। এসময়ে ভোক্তাপ্রতি ১৩৫ টাকা লিটার দরে সর্বোচ্চ দুই লিটার ভোজ্যতেল, ৮৫ টাকা কেজি দরে এক কেজি চিনি ও ৮০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি মসুর ডাল বিক্রি করবে টিসিবি।

ফের পেছালো ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা

ফের পেছালো ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ আবারও পেছানো হয়েছে। এ নিয়ে দুই দফা এ পরীক্ষার তারিখ পেছানো হলো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (২১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমানও এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগের ঘোষণা অনুযায়ী- আগামী ৮ আগস্ট ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তারও আগে প্রথম দফায় ২৭ জুন এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি টেস্ট নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পিএসসি। ফলে এ নিয়ে দুই দফা ৪৭তম বিসিএসের প্রিলির তারিখ পরিবর্তন করা হলো। পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি টেস্ট পূর্ব-নির্ধারিত ৮ আগস্টের পরিবর্তে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময়সূচি, হলভিত্তিক আসন-ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা কমিশনের ওয়েবসাইটে  ও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পিএসসি। ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে আবেদন ফিসহ কিছু সংশোধনীর কারণে ২৬ ডিসেম্বর পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এরপর ২৯ ডিসেম্বর ৪৭তম বিসিএসের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি এ বিসিএসের আবেন প্রক্রিয়া শেষ হয়। এ সময়ে ৪৭তম বিসিএসে প্রিলিমিনারিতে অংশ নিতে আবেদন করেছেন তিন লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন প্রার্থী আবেদন করেন। ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী-৪৭তম বিসিএসে ক্যাডার পদের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮৭। আর নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা ২০১। ফলে ৪৭তম বিসিএস থেকে মোট ৩ হাজার ৬৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের নতুন শপথবাক্য, যোগ হলো দুর্নীতি না করার প্রত্যয়

শিক্ষার্থীদের নতুন শপথবাক্য, যোগ হলো দুর্নীতি না করার প্রত্যয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাত্যহিক সমাবেশের শপথবাক্য আগের রূপে ফেরানো হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের শাসনামলে শপথবাক্যে যুক্ত হওয়া ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ ও ‘শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে না দেওয়ার’ প্রত্যয়ের অংশগুলো বাদ পড়েছে। নব্বই দশক ও একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে শপথ নেওয়া হতো, পুনরায় সে শপথ বাক্যটিই পাঠ করতে বলা হয়েছে। তবে তার সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ‘অন্যায় ও দুর্নীতি করবো না’ এবং ‘অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবো না’ অংশ দুটি। সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ করতে এ ‘শপথ’ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাত্যহিক সমাবেশে পাঠ করানোর জন্য অনুরোধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (২১ মে) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ করতে নিম্নোক্ত দিকনির্দেশনামূলক একটি ‘শপথ’ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাত্যহিক সমাবেশে পাঠ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। ‘আমি শপথ করিতেছি যে, মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিবো। দেশের প্রতি অনুগত থাকিবো। দেশের একতা ও সংহতি বজায় রাখিবার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকিবো। অন্যায় ও দুর্নীতি করিবো না এবং অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিবো না।’ ‘হে মহান আল্লাহ/ মহান সৃষ্টিকর্তা আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করিতে পারি এবং বাংলাদেশকে একটি আদর্শ, বৈষম্যহীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়িয়া তুলিতে পারি। আমিন।’ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), সব জেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানকে অনুরোধ করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন  জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনএসি) আজ পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন এনইসি চেয়ারপার্সন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপির মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান হিসেবে আসবে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৭১ কোটি টাকা যুক্ত করলে, আগামী অর্থবছরের জন্য মোট এডিপির আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৭১ কোটি টাকা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অনুমোদিত এডিপি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নতুন বাজেটের অংশ, যা ২ জুন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা করবেন। ড. মাহমুদ বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটের মূল কৌশল হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা, মুল্যস্ফীতি হ্রাস করা, বাজেট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বাজেটকে টেকসই করা। তিনি আরো বলেন, ‘একই সঙ্গে দেশি বা বিদেশি ঋণের ফাঁদে না পড়ে ঋণ পরিশোধে বা উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় মেটাতে যেন অতিরিক্ত চাপ না হয় তা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের লক্ষ্য। আমরা অতিতে যে দুষ্টচক্রে পড়েছিলাম সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করব।’ রাতারাতি রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, তা সত্ত্বেও সরকার বাজেট ঘাটতি জিডিপির চার শতাংশের মধ্যে রেখে ব্যয় সমান রাখার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বিবেচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হঠাৎ করে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমাতে পারবে না। ড. মাহমুদ বলেন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ছাড়াও এই বাজেট ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বাজেট হবে না যেখানে স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য এমন কোনও ব্যয় করা হবে না যা পরবর্তীতে দায় বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, জাপানের অর্থায়নে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প ছাড়া নতুন কোনো মেগা প্রকল্প বা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নতুন এডিপিতে নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, কিছু অসুবিধা সত্ত্বেও সরকার উন্নয়ন অংশীদার এবং বিদেশি পক্ষগুলোর কাছে বছরের পর বছর ধরে বকেয়া পাওনা ধীরে ধীরে পরিশোধ করছে। সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বছর এটি কম হবে কারণ ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে অনেক প্রকল্প যাচাই-বাছাই করেছে, বরাদ্দ কমিয়েছে, তহবিলের অপব্যবহার রোধ করেছে যার ফলে বাস্তবায়নের ধারা কিছুটা ধীর হয়ে গেছে। পায়রা বন্দর, কর্ণফুলী টানেল এবং বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) এর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে প্রকৃত ফলাফল বিবেচনা না করেই পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল। আগামী অর্থবছরের জন্য নতুন এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত হয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। নতুন এডিপি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে প্রণীত হয়েছে। এছাড়াও, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের মতো খাতগুলোকে নতুন এডিপিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নতুন এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত ৫৮ হাজার ৯৭৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৩৯২ দশমিক ২৬ কোটি টাকা (১৪ দশমিক ৮ শতাংশ), শিক্ষা খাত ২৮ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা (১২ দশমিক ৪২ শতাংশ), গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলী খাত ২২ হাজার ৭৭৬ দশমিক ৪০ কোটি টাকা (৯ দশমিক ৯০ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্য খাত ১৮ হাজার ১৪৮ দশমিক ১৪ কোটি টাকা (৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ) বরাদ্দ পেয়েছে। এই পাঁচটি খাতে মোট বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে। শীর্ষ ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে, এরপর রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩২ হাজার ৩২৯ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ ২০ হাজার ২৮৩ দশমিক ৬২ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১৩ হাজার ৬২৫ দশমিক ৩ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ১৫৪ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ১১ হাজার ৬১৭ দশমিক ১৭ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১১ হাজার ৩৯৮ দশমিক ১৬ কোটি টাকা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৬২ কোটি টাকা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৮৬ কোটি টাকা এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ৭ হাজার ৭১৪ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। নতুন এডিপিতে মোট ১ হাজার ১৭১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৯৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৯টি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প, ৯৯টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং ৬০টি সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প রয়েছে। প্রস্তাবিত এডিপিতে ৭৯টি প্রকল্প পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য রাখা হয়েছিল এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় বাস্তবায়নের জন্য ২২৮টি প্রকল্প রাখা হয়েছিল। এছাড়া, নতুন এডিপিতে ২৫৮টি প্রকল্প আবশ্যিকভাবে সমাপ্ত করার লক্ষ্যে রাখা হয়েছিল। যার মধ্যে ২১২টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১১টি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প, ১৮টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং ১৭টি সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আমদানি বন্ধ করায় ভারতই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

আমদানি বন্ধ করায় ভারতই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা ভারতীয় বন্দর ব্যবহার করে পণ্য আমদানি-রফতানি স্থগিতের সিদ্ধান্ত অফিসিয়ালি এখনও জানা যায়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে জানা গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে— এমন মন্তব্য করেছেন বানিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। রোববার (১৮ মে) সচিবালয়ে সমসমায়িক বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, অনেকের মতো আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি সম্পর্কে আলোচনা হতে দেখেছি। রিপোর্টটি এখনও হাতে এসে পৌঁছায়নি। কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেগুলো পেলে এ ব্যাপারে আরও ভালোভাবে জানা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুই দেশের ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা এর সাথে জড়িত। ক্ষতি হলে দুই দেশেরই হবে, তবে নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতই বাংলাদেশে বেশি রফতানি করে থাকে। তিনি আরও বলেন, দেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ সুতা আমদানি বন্ধ করার এক মাসের মাথায় এবার বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক পণ্য, ফলমূলসহ অন্তত সাত ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত। ভারত এখন কেবল কলকাতা ও মুম্বাই সমুদ্রবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি করার সুযোগ দিচ্ছে।

তিন বিভাগে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

তিন বিভাগে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুএক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গতকাল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ঢাকা, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ি, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, বান্দরবান, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর ও ঝিনাইদহ অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবারের (১৭ মে) পূর্বাভাস রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। রোববারের (১৮ মে) পূর্বাভাস রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সোমবার (১৯ মে) ও মঙ্গলবারের (২০ মে) পূর্বাভাস রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। প্রথম দিনে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, দ্বিতীয় দিনে তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে।

২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৫৬৬ জন গ্রেফতার

২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৫৬৬ জন গ্রেফতার সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ৯৯৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া অন্যান্য ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন ৫৭১ জন। আজ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ৯৯৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য ঘটনায় গ্রেফতার ৫৭১ জন। মোট গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫৬৬ জনকে। বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এই কর্মকর্তা।

পুশব্যাক নয়, নিয়ম মেনে ফেরত পাঠানো হবে অবৈধ ভারতীয়দের: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

পুশব্যাক নয়, নিয়ম মেনে ফেরত পাঠানো হবে অবৈধ ভারতীয়দের: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভারত থেকে পুশইনের মাধ্যমে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি থাকলে তাদের পুশব্যাক করার সুযোগ নেই। তবে ভারতীয় নাগরিক ও দেশটির রোহিঙ্গারা থাকলে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ সুন্দরবনে বিজিবির বয়েসিং ভাসমান বিওপি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারতে কোনো অবৈধ বাংলাদেশি থেকে থাকলে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠাতে হবে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভারতের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। বলেছি, পুশইন না করে প্রোপার চ্যানেলে পাঠাতে। ভারতের পুশইনকে উসকানি হিসেবে দেখছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের পুশব্যাকের চিন্তা নেই। প্রোপার চ্যানেলে পাঠাব। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, যেখানেই পুশইনের চেষ্টা হচ্ছে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হচ্ছে। পুশইন রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পুশইনের ফলে জঙ্গি-সন্ত্রাসী দেশে ঢোকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এরা যাতে ঢুকতে না পারে সে প্রত্যাশা করব। সুন্দরবনের জলসীমান্ত সুরক্ষায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী রায়মঙ্গল নদী ও বয়েসিং খালের সংযোগস্থলে বিজিবির এই ভাসমান বিওপিটি উদ্বোধন করা হয়েছে‌। বিজিবির যশোর রিজিয়নের আওতাধীন রিভারাইন বর্ডার গার্ড (আরবিজি) কোম্পানির দায়িত্বপূর্ণ জলসীমান্তের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিতে এটি উদ্বোধন করা হয়।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারতের ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ১৮০ কিলোমিটার নদীঘেরা। এর মধ্যে প্রায় ৭৯ কিলোমিটার এলাকা সুন্দরবনের অন্তর্গত। বিজিবি আরও জানায়, সুন্দরবনের গহীন অরণ্যের দুর্গম এই সুদীর্ঘ জলসীমান্তের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। নানা প্রতিকূলতা ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিজিবির রিভারাইন বর্ডার গার্ড কোম্পানি একটি স্থল বিওপি, ২টি ভাসমান বিওপি, একটি জাহাজ ও কিছু সংখ্যক জলযানের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এর মধ্যে কৈখালী বিওপি ও কাঁচিকাটা ভাসমান বিওপির মধ্যকার দূরত্ব ৩০ কিলোমিটারেরও বেশি। ফলে মধ্যবর্তী বয়েসিং নামক স্থানে আরেকটি ভাসমান বিওপি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বয়েসিং খালে এই ভাসমান বিওপি স্থাপন করা হয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বয়েসিং খালে স্থাপনকৃত বিজিবির তৃতীয় বর্ডার অবজারভেশন পোস্টের (বিওপি) দুজন অফিসারের নেতৃত্বে ৩৫ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মাধ্যমে রায়মঙ্গল নদী ও বয়েসিং খাল দিয়ে নারী ও শিশু পাচার, মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধভাবে বিদেশি জাহাজ চলাচলসহ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে নজরদারি করা হবে।

এনজিওর ধারণা থেকে বেরিয়ে মাইক্রোক্রেডিটকে ব্যাংকিংয়ে আসতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

এনজিওর ধারণা থেকে বেরিয়ে মাইক্রোক্রেডিটকে ব্যাংকিংয়ে আসতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা মাইক্রোক্রেডিটকে এনজিওর ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ব্যাংকিংয়ের ধারণা গ্রহণ করে ঋণগ্রহিতাকে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নতুন ভবন উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ কথা জনানো হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মাইক্রোক্রেডিট এখনও এনজিও। এই এনজিও থেকে উত্তরণ হতে হবে। এনজিও পর্যায়ে থেকে গেলে ব্যাংকিং মেজাজে আসবে না। মেজাজে আসতে হবে, এটাকে ব্যাংক হতে হবে। মাইক্রোক্রেডিটের জন্য আলাদা আইন করতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর সময়কার স্মৃতিচারণ করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, আমরা যখন গ্রামীণ ব্যাংক করলাম, তখন আপত্তি উঠলো এটাকে ব্যাংক বলা যাবে কি না। আমরা বললাম, আমাদেরটাই প্রকৃত ব্যাংক, তোমাদেরটা লোক দেখানো। ব্যাংক যে শব্দ থেকে উৎপন্ন হয়েছে সেটা হলো ট্রাস্ট, তোমরা যেটা করছো সেটা ডিসট্রাস্ট। আমাদের ব্যাংকিং মানুষের ভিত্তিতে হয়েছে। জমানতবিহীন ব্যাংক, বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা টাকা দেই। ‘আজ এমন সময় আমরা আলাপ করছি যখন জামানতওয়ালা ব্যাংক, যারা নিজেদের প্রকৃত ব্যাংক বলে বিচার করতো, তাদের অনেকে আজকে হাওয়া। টাকা নিয়ে লোপাট। ব্যাংক শেষ। আর মাইক্রোক্রেডিটের পরিসংখ্যান দেখেন। কেউ পয়সা নিয়ে পালায় নাই। এই হলো পরিহাস,’ বলেন তিনি। মাইক্রোক্রেডিটই ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ- উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটাই প্রকৃত ব্যাংকিং, আগামী দিনের ব্যাংকিং যেটাতে মানুষ নিজের পরিচয়ে কাজ করবে নিজের বিশ্বাসের ওপরে ব্যাংকিং চলবে, টাকার ওপরে না। মাইক্রোক্রেডিটের জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যের পর প্রত্যেক এনজিও চেষ্টা করলো একইরকম কিছু করতে। ক্রমে ক্রমে প্রসার হতে আরম্ভ করল। নানারকমের নতুন নতুন জিনিস, নানা আইডিয়া নিজেদের সুবিধার জন্য ঢোকাতে আরম্ভ করলো। এটা ভবিষ্যতের জন্য খারাপ হবে মনে করে একটি রেগুলেটরি অথরিটির প্রয়োজন হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তারা বলল ‘আমাদের কাজ না’। অর্থ মন্ত্রণালয় শুরুতে গুরত্ব দিল না, পরে বলল ‘আচ্ছা কী করতে হবে জানাও’। তখন আমরা বললাম, রেগুলেটরি অথরিটি হওয়া দরকার, কারণ যে হারে বাড়ছে বড় রকমের সমস্যা হতে পারে। ‘তৎকালীন গভর্নর ফখরুদ্দীন সাহেব আমাদের সমর্থন করল। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এটা হতে পারবে না। তারা ব্যাখ্যা চাইল। আমি বললাম, এটা বহু দেশে বলেছি, এখনো বলি, গ্রামীণ ব্যাংকও ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংকও ব্যাংক। কিন্তু তফাৎ অনেক। উদাহরণ দেই, আমেরিকান ফুটবলও ফুটবল। ইউরোপিয়ান ফুটবলও ফুটবল। কিন্তু খেলা ভিন্ন। আপনি যদি ইউরোপিয়ান ফুটবলের রেফারিকে দিয়ে আমেরিকান ফুটবল খেলা চালাতে চান, ইট উইল বি অ্য ডিজাস্টার। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে তো ক্ষুদ্র ঋণ জানেই না। সে তো ইউরোপীয় ফুটবলের রেফারি,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কে হবে এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশ না, যে দেশেই মাইক্রোক্রেডিট হয়েছে সে দেশই সমস্যায় পড়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি তাদের বারে বারে বলে এসেছি, তোমাদের এত কিছু চিন্তা করতে হবে না। কারণ বাংলাদেশ এর সমাধান দিয়ে দিয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি শুধু যে বাংলাদেশের জন্য কাজ করেছে তা না, এটা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশের সহায়ক হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রেগুলেটরের ওপর কড়া না হয়ে ইউজার ফ্রেন্ডলি রেগুলেশন যেন হয় সেভাবে আইন করা, যেন কোনোকিছু চাপিয়ে না দেওয়া হয়। এমআরএকে এখন রেগুলশনের পাশাপাশি প্রমোশনাল অ্যাক্টিভিটিও দেখতে হবে। সেভিংসের রিটার্ন, সার্ভিস চার্জ যেন সহজ হয় সেদিকে নজর দিন। উপকারভোগীদের জন্য যেন সহজ হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তার বক্তব্যে বলেন, মাইক্রোক্রেডিট আজকে অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের ১০ শতাংশ স্থান সমপরিমাণ সম্পদ আছে মাইক্রোক্রেডিট সেক্টরে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকিং খাতে যে জায়গাগুলোতে দুর্বলতা আছে, মাইক্রোক্রেডিট সে জায়গায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সদস্যদের সঞ্চয় বেড়েছে ৬৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে, পুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত বেড়ে ৬১ হাজার কোটি টাকার ওপরে হয়েছে। এটা বড় অর্জন। তারা নিজেদের সঞ্চয় ও উদ্বৃত্ত দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলছে। বিদেশি সহায়তা, অনুদান নাই বললেই চলে। দাতা তহবিল তিন হাজার কোটি টাকার মতো। এটা খুবই নগণ্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতি বাড়ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং ছড়িয়ে পড়ছে। মাইক্রোক্রেডিটের শাখা আছে ২৬ হাজারের মতো। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। এখানে একটা হেলদি কম্পিটিশন শুরু হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফরমাল সেক্টরের পদচারণা বাড়ছে, বাড়বে। মাইক্রোফাইন্যান্স ইনস্টিটিউটটে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট আরও ফাংশনাল করতে রেগুলেটরি অথরিটি ও বাংলাদেশ ব্যাংক একসঙ্গে কাজ করবে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি নিয়ে নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে। সরকারের কাছে শিগগিরই নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।