দেশজুড়ে বৃষ্টি কতদিন, জানালো আবহাওয়া অফিস

দেশজুড়ে বৃষ্টি কতদিন, জানালো আবহাওয়া অফিস সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ১৬ জুন থেকে দেশজুড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টিপাত আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি বেড়েছে। এছাড়া মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, এখন উপকূলে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া দেশের সব জেলায় হালকা থেকে অতিভারী বৃষ্টি হচ্ছে। তাপমাত্রাও এখন অনেক কম। গতকাল দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে। তিনি বলেন, দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত ২৫ তারিখ (জুন) পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর কিছু কিছু বিভাগে কমে আসতে পারে। তবে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত পুরোপুরি বন্ধ হবে না। বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এসময় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে টাঙ্গাইলে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে নোয়াখালীতে।

সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না: ইসি

সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না: ইসি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। তবে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা যাবে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। এসময় ইসি সচিব মো. আখতার আহমেদ ও এনআইডি ডিজি এসএম হুমায়ুন কবীর উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ

সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে টানা পাঁচ দিনের মতো আজও বিক্ষোভ মিছিল ও আন্দোলনে নেমেছেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সচিবালয়ের ৪ নং ভবনের সামনে কর্মচারীরা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। সচিবালয়ের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠন করা বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের নেতৃত্বে এই আন্দোলন হচ্ছে।  বিক্ষোভ সমাবেশে ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. বাদিউল কবির ও মো. নুরুল ইসলাম, কো-মহাসচিব নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত আছেন।  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মচারীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, সচিবালয় জেগেছে’ হুঁশিয়ার সাবধানসহ নানা স্লোগান দেন। উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর সরকারি চাকরি অধ্যাদেশের খসড়া বাতিলের দাবিতে গত ২৪ মে আন্দোলনে নামেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। কর্মচারীদের আন্দোলনের মধ্যেই ২৫ মে রাতে এই অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, চার ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধের জন্য বিভাগীয় মামলা ছাড়াই শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে চাকরিচ্যুত করা যাবে। অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সর্বশেষ ঈদের ছুটির আগে তিন জুন পর্যন্ত সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেছেন কর্মচারীরা। চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সরকারের সাতজন উপদেষ্টাকে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা। ১৫ জুনের মধ্যে চাকরি অধ্যাদেশ বাতিল না করলে ১৬ জুন থেকে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুমকিও দিয়েছিলেন কর্মচারী নেতারা। এর মধ্যে গত ৪ জুন ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটি সোমবার বিকেলে প্রথম বৈঠকে বসে। কমিটির সুপারিশ দেওয়া পর্যন্ত কর্মচারীদের আন্দোলন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা।

তথ্য গোপন করে জুলাই অভ্যুত্থানের সুবিধা নিলে ২ বছরের কারাদণ্ড

তথ্য গোপন করে জুলাই অভ্যুত্থানের সুবিধা নিলে ২ বছরের কারাদণ্ড যদি কোনো ব্যক্তি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও তথ্য গোপন করে বিভ্রান্তিকর কাগজপত্র দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য বা আহত জুলাই যোদ্ধা দাবি ও সুবিধা গ্রহণ করেন তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। নতুন জারি করা অধ্যাদেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্যে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা আর্থিক সহায়তার দ্বিগুণ অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ গতকাল দিবাগত রাতে জারি করেছে সরকার। এই অধ্যাদেশের দ্বিতীয় অধ্যায়ে অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, কার্যাবলী, কর্মচারী,ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠায় বিস্তারিত এখানে উল্লেখ রয়েছে। চতুর্থ অধ্যায়ে অপরাধ ও বিচার বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়, কোনও ব্যক্তি ‘শহীদ’ পরিবারের সদস্য বা যেকোনও শ্রেণির আহত না হওয়া সত্ত্বেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বা জ্ঞাতসারে মিথ্যা, বিকৃত তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন ও বিভ্রান্তিকর কাগজ দাখিল করে নিজেকে ‘শহীদ’ পরিবারের সদস্য বা আহত দাবি করে চিকিৎসা, আর্থিক, পুনর্বাসন সুবিধা দাবি অথবা গ্রহণ করেন তাহলে তিনি এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে।।এতে আরও বলা হয়, কোনও ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত অপরাধ করলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এই আইনের অধীন অপরাধ অ-আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য হবে। এই অধ্যাদেশের অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ দায়ের, অনুসন্ধান, তদন্ত, বিচার, আপিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ (অ্যাক্ট নং ভি অব ১৮৯৮) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া, অধ্যাদেশে নিহত-আহতদের দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ’ এবং আহত ব্যক্তিদের যথাক্রমে ‘জুলাই শহীদ’ এবং ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনটি শ্রেণি রয়েছে। তা হলো, অতি গুরুতর আহত, গুরুতর আহত ও আহত। অধ্যাদেশে জুলাই ‘শহীদ’ পরিবার এবং আহতদের কল্যাণে নেয়া সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের আইনি ভিত্তি দেয়া হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে অধ্যাদেশ জারি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে অধ্যাদেশ জারি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনসহ ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশে অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার। ১৭ জুন এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ না নিয়েও প্রতারণা করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা, জুলাই ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আপামর জনতার দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতার ফলে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এক দুর্দম গণআন্দোলন থেকে ক্রমান্বয়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ লাভ করে ০৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী শাসককে জনগণের কাছে পরাজিত হয়ে দেশ ছেড়ে পলায়নে বাধ্য করেছে। গণঅভ্যুত্থানে ব্যাপক সংখ্যক নারী ও পুরুষ অংশ নেন এবং দেশব্যাপী সহস্রাধিক নিরস্ত্র দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন। অগণিত মানুষ আহত হয়েছেন এবং অধিকাংশরই আঘাত ও নৃশংসতার বিভীষিকায় পর্যুদস্ত এবং তাদের এই আত্মত্যাগকে যথার্থ সম্মান প্রদর্শন অপরিহার্য। এমন ত্যাগের দৃষ্টান্ত জাতির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে সমুন্নত রাখা কর্তব্য। অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত স্বীকৃতি, সম্মান, কল্যাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন ও পুনর্বাসনের উদ্দেশে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়। সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে তা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আশু ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে। সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন। এতে বলা হয়, প্রতারণার মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহতদের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা নিলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ২ লাখ টাকা জরিমানা বা নেওয়া আর্থিক সহায়তার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়।

বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য মানবতার সেবা করা: ড. সালেহ উদ্দিন

বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য মানবতার সেবা করা: ড. সালেহ উদ্দিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য হলো মানবতার সেবা করা। আজ সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স ভবনের অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় বিজ্ঞান মেলা ২৫’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা বলি বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে, নলেজ-বেইজড সোসাইটি গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু আসলে আমরা কতটুকু এটাকে প্র্যাকটিস করি, সেটা একটা বিষয়। এই ধরনের মেলা মানুষকে উৎসাহিত করবে। তিনি আরও বলেন, সব গবেষণাই সরাসরি মানুষের উপকারে আসবে-তা নয়। তবে গবেষণা সহায়ক হবে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এগুলোকে প্রয়োগযোগ্য করে তুলতে হবে। বিজ্ঞানীদের কাজ হলো নতুন কিছু আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করা এবং বিদ্যমান বিষয়কে আরও পরিশীলিত করা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেন, বিজ্ঞানের সঙ্গে দাতা সংস্থার সংযোগ থাকতে হবে। বিজ্ঞানীরা একা কিছুই করতে পারবেন না। আর্থিক সহায়তা ছাড়া তারা এগোতে পারেন না। দুঃখজনকভাবে দেশে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকলেও গবেষণায় তাদের ব্যয় খুবই কম। তারা চায় কেউ আবিষ্কার করুক, তারপর তারা তা কিনে নেবে। বিজ্ঞানীদের প্রণোদনা দেওয়া, আর্থিক সহায়তা করা-এগুলো দেশে ব্যবসায়ীরা করেন না। অথচ বিদেশে ব্যবসায়ীরাই বড় বড় গবেষণায় ফান্ড দেন। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের মহাপরিচালক মিজ মুনিরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোকাব্বির হোসেন।জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ বিজ্ঞান মেলা চলবে বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৮-২০ জুন) পর্যন্ত।উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে উপদেষ্টা ও বিশেষ অতিথিসহ আগত অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে এসএসএফকে কাজ করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে এসএসএফকে কাজ করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীকে (এসএসএফ) দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। আজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এসএসএফ-এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রঘোষিত ভিআইপিদের নিরাপত্তা প্রদানে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি চারিত্রিক দৃঢ়তা, উন্নত শৃঙ্খলা, সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক গুণাবলীর বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। সব ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। এর ফলে নিরাপত্তা হুমকির ধরনও দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এসএসএফ সেই দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আশা করি, এসএসএফ নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করবে এবং তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। সম্প্রতি এসএসএফ যমুনা ভবনের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এসএসএফকে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়, যা অনেক সময় জনভোগান্তি সৃষ্টি করে। আমি বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছি-যতটা সম্ভব জনভোগান্তি এড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিআইপি ফ্লাইটের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা অন্যান্য ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকত, এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি হতো। আমি সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছি। আশা করছি, এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে। জনবিচ্ছিন্ন না হয়ে, বরং জনসংযোগ ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রেখে এসএসএফ তার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবে, বলেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি আরও জানান, এসএসএফ-এর প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও সরঞ্জামাদির আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্ট বাহিনীর কিছু যান ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা দ্রুত সময়ের মধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খুব শিগগিরই এসএসএফ তাদের ১২ বছরের পুরনো VHF রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সর্বাধুনিক UHF সিস্টেম সংযোজন করবে। এতে তাদের অভিযানিক সক্ষমতা আরও বাড়বে।তিনি জানান, বাহিনীর ইনডোর ফায়ারিং রেঞ্জ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী মাস থেকে এটি চালু হবে। এ প্রকল্পের জন্য ভূমি বরাদ্দ ও অন্যান্য সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

আলিফের হাত ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরল বাংলাদেশের আর্চারি

আলিফের হাত ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরল বাংলাদেশের আর্চারি এ বছর আন্তর্জাতিক আর্চারিতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ধরা দেয়নি বাংলাদেশের। একের পর এক আসরে হতাশাই সঙ্গী হয়েছে। তবে সেই হতাশার বৃত্ত ভেঙে আশার আলো দেখালেন আব্দুর রহমান আলিফ। সিঙ্গাপুরে চলমান এশিয়া কাপ আর্চারি (লেগ-২)-এর রিকার্ভ পুরুষ এককে ফাইনালে উঠেছেন এই বাংলাদেশি আর্চার। এর মাধ্যমে একটি পদক নিশ্চিত হয়েছে দেশের। আজ সেমি-ফাইনালে চাইনিজ তাইপের চেন পিন-আনকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন আলিফ। স্বর্ণজয়ের লড়াইয়ে তিনি শুক্রবার মুখোমুখি হবেন জাপানের মিয়াতা গাকুতোর। এশিয়া কাপে আলিফের শুরুটা হয়েছিল ‘বাই’ পেয়ে। এরপর চীনের আথলেট আলিনকে ৬-২ ব্যবধানে হারিয়ে পৌঁছান শেষ ৩২-এ। পরের রাউন্ডে মালয়েশিয়ার মুহাম্মাদ শাফিকের বিপক্ষে জয় আসে ৬-৪ সেটে। কোয়ার্টার ফাইনালে চাইনিজ তাইপের লি কাই-ইয়েনকে ৭-৩ ব্যবধানে হারিয়ে পৌঁছে যান সেমিতে। সেমি-ফাইনালে আলিফের শুরুটা ছিল দারুণ। প্রথম সেটে ২৬-২৫ পয়েন্টে জয় পেলেও পরের দুটি সেটে ২৮-২৭ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন। তবে চতুর্থ সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২৯-২৫ ব্যবধানে জয় এনে সমতায় ফেরান তিনি। নির্ধারক পঞ্চম সেটে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ২৮-২৭ পয়েন্টে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করেন আলিফ। এই সাফল্যের মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত নয়, দেশের আর্চারিতেও নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিলেন তরুণ এই আর্চার।

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ২৬হাজার ১০৯ হাজি 

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ২৬হাজার ১০৯ হাজি  পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত ২৬ হাজার ১০৯ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৯৫ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ২১ হাজার ৫১৪ জন দেশে ফিরেছেন। আজ হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ৮ হাজার ৭১৪, সৌদি পতাকাবাহী সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ১০ হাজার ৬১৫ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ৬ হাজার ৭৮০ জন দেশে ফিরেছেন। মোট ৬৬টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের, ২৭টি সাউদিয়ার এবং ১৭টি ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের। এখন পর্যন্ত ৩২ জন বাংলাদেশি সৌদি আরবে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। এদের মধ্যে ২১ জন মক্কায়, ১০ জন মদিনায় এবং ১ জন আরাফায় মারা গেছেন।সৌদি আরবের সরকারি হাসপাতালগুলো এ পর্যন্ত ২৫৬ জন বাংলাদেশিকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। এদের মধ্যে এখনো ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।গত ২৯ এপ্রিল প্রথম ফ্লাইটের মাধ্যমে এ বছরের হজ কার্যক্রম শুরু হয় এবং ৩১ মে শেষ হয়। সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার কার্যক্রম ১০ জুন শুরু হয়েছে এবং তা ১০ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ২৪৪

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ২৪৪ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৪৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩৮ জনই বরিশাল বিভাগের। যদিও আজ ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি। এর আগের দিন সোমবার ডেঙ্গুতে মৃত্যুশুণ্য দিনে এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৩৪ জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি মাসের ১৭ দিনে মোট মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ১২১ জন। আর সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬ হাজার ৪৬৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। এছাড়া এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩০ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২০৯ জন ডেঙ্গুরোগী। আর এ বছর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৯৮ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং মারা গেছেন ৫৭৫ জন।