শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার নির্দেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার নির্দেশ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে গণভোট বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ প্রচারণায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গুরুত্বারোপ করতে বলা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা সূত্রে জানা যায়, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মাদরাসা পর্যায়ে গণভোট বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ’ শিরোনামে লিফলেট ও পুস্তিকা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে গণভোটভিত্তিক ডকুমেন্টারি, ভিডিও ক্লিপ ও গান প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ব্যানার, ফেস্টুন ও স্টিকার সাঁটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ বলেন, এবারের গণভোট ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। তিনি আরও বলেন, একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ইউজিসি চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং ইউজিসি সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের ব্যাখ্যা দিল সরকার

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের ব্যাখ্যা দিল সরকার আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে সরকার। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। পোস্টে বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ নিয়ে গণভোটে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানকে কেউ কেউ অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করছেন। তবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার আলোকে এ ধরনের সমালোচনার কোনো ভিত্তি নেই। সংকটকালে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেবল দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতা ও জনঅনাস্থার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। এর মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা। পোস্টে আরও বলা হয়, গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার ভিত্তিতেই বর্তমান সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। যে সরকার সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সেই সংস্কার থেকে নিজেদের দূরে রাখবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার উদাহরণ টেনে সরকার বলেছে, বিশ্বের বহু দেশে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনসংক্রান্ত গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, তুরস্ক, কিরগিজস্তান ও ফ্রান্সের গণভোটের নজির উল্লেখ করে বলা হয়, এসব ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানদের ভূমিকা গণতান্ত্রিক রীতির অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। সরকার আরও জানায়, বাংলাদেশের গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী বা রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত নয়। সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর। ফলে অযথা প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি সীমিত। জেলা পর্যায়ে সরকারি প্রচারণা প্রসঙ্গে বলা হয়, এর উদ্দেশ্য জনগণকে সংস্কারের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং নাগরিকরা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। উপসংহারে সরকার বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সমর্থনে নয়, বরং দ্বিধা ও নীরবতায়। সংস্কারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান কোনো নীতিগত লঙ্ঘন নয়; বরং এটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতারই প্রকাশ। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশের জনগণ—এটাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত  ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বহুল প্রত্যাশিত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হলো। রোববার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পর্যায়ের সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর অধ্যাদেশটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর আগে বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করার আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও স্বচ্ছ ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মতামত গ্রহণ, জনমতের জন্য ওয়েবসাইটে খসড়া প্রকাশ এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের অভিমত নিয়ে একটি সর্বজনগ্রাহ্য কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, খসড়া অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের লক্ষ্য ছিল একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও অংশীজনদের প্রত্যাশা-প্রতিফলিত শিক্ষা কাঠামো তৈরি করা, যাতে বিদ্যমান উদ্বেগ ও প্রশ্নেরও সমাধান থাকে। এদিকে অধ্যাদেশটি বর্তমানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, একটি টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি ধাপ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এ সময় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়—এমন কোনো কর্মসূচি কিংবা আবেগপ্রসূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিনের এই অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

দেশের ৮০ কেন্দ্রে দেওয়া হবে হজযাত্রীদের টিকা

দেশের ৮০ কেন্দ্রে দেওয়া হবে হজযাত্রীদের টিকা হজযাত্রীদের জন্য টিকাদান কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২৬ সালের হজে অংশগ্রহণকারী যাত্রীদের দেশের ৮০টি কেন্দ্র থেকে মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা দেওয়া হবে। শনিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সারা দেশের ৬৪টি সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে হজযাত্রীরা টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিক থেকেও টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। ঢাকার বাইরে গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ও শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল এবং দিনাজপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল থেকেও হজযাত্রীরা টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। টিকা প্রদানের নির্ধারিত তারিখ পরবর্তীতে হজযাত্রীদের মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। টিকা গ্রহণের সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার রিপোর্ট এবং হজ পোর্টাল (www.hajj.gov.bd) থেকে সংগ্রহ করা ই-হেলথ প্রিন্ট সঙ্গে রাখতে হবে। হজ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য হজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হটলাইন নম্বর ১৬১৩৬-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে সিইসিকে চিঠি

দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে সিইসিকে চিঠি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন মামুন হাওলাদার নামে এক নাগরিক। রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে তিনি এ আবেদন জমা দেন। আবেদনে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানানো হয়। চিঠিতে মামুন হাওলাদার উল্লেখ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ এবং ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী কোনো বিদেশি নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে ত্যাগ করার পরই কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাইকোর্ট বিভাগের ১৬৪৬৩/২০২৩ নম্বর রিট পিটিশনের আদেশে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গৃহীত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীকে বিদেশি নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। কেবল আবেদন দাখিল করাই নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এ আদেশ বর্তমানে আপিল বিভাগেও বহাল রয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রার্থীদের কাছ থেকে শুধু একটি ‘অঙ্গীকারনামা’ গ্রহণ করছে। যেখানে প্রার্থীরা উল্লেখ করছেন যে, তারা বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন এবং তা প্রক্রিয়াধীন। এই অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে কমিশন তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করছে, যা সংবিধান ও হাইকোর্টের রায়ের সুস্পষ্ট পরিপন্থী। মামুন হাওলাদার আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে তাদের দেওয়া আপিল আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করছে। অথচ বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী কমিশনের এ ধরনের পুনর্বিবেচনার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। তিনি সংবিধান, প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত প্রমাণ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের জোর দাবি জানান।

জানা গেল শবেবরাতের সম্ভাব্য তারিখ

জানা গেল শবেবরাতের সম্ভাব্য তারিখ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হিজরি ১৪৪৭ সনের শাবান মাসের চাঁদের সন্ধান করা হবে আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি)। বর্তমানে ওই অঞ্চলে রজব মাসের ২৯তম দিন চলছে। শাবান মাসের ১৫তম রাতে মুসলমানদের ধর্মীয় রাত শবেবরাত পালিত হয়। সংবাদমাধ্যম গালফ টুডে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী আজ মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও শাবানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে রজব মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হতে পারে এবং আগামী মঙ্গলবার থেকে শাবান মাস শুরু হতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মেদ শওকত ওদেহ জানান, আজ শাবানের চাঁদের জন্ম হলেও সূর্যাস্তের আগেই তা অস্ত যাবে। এ কারণে আজ খালি চোখে চাঁদ দেখা অসম্ভব। তবে আগামীকাল সোমবার খালি চোখেই চাঁদ দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওমান, জর্ডান, সিরিয়া, লিবিয়া, মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও আলবেনিয়ায় সোমবার টেলিস্কোপের মাধ্যমে শাবানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । এই হিসাবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মধ্যপ্রাচ্যে শবেবরাত পালিত হতে পারে। বাংলাদেশেও যদি সোমবার শাবানের চাঁদ দেখা যায়, তাহলে একই রাতে শবেবরাত পালিত হবে। তবে চাঁদ দেখা না গেলে দেশে শবেবরাত পালিত হতে পারে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি বলেছেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষা অনেকটাই মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সেবা।

পরিবর্তন আসছে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে

পরিবর্তন আসছে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তবে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। আজ বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভেতরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ করে আসনভিত্তিক প্রার্থীদের নাম সংযুক্ত করে পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সেখানে কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট অপরিবর্তিতই থাকছে।

ডিসি-ইউএনও-নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান

ডিসি-ইউএনও-নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান দেশের সামগ্রিক ও ইতিবাচক পরিবর্তনে গণভোটে জনগণকে হ্যাঁ ভোটের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে ডিসি, ইউএনও ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। আজ সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম ভবনে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে যত টাকা লুট হয়েছে তা দিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে স্বনির্ভর করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর থাকতে হবে। তাই গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করা প্রয়োজন।

আজ থেকে ইইউর ৫৬ দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন

আজ থেকে ইইউর ৫৬ দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন আজ থেকে সারা দেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে ইইউ ইওএমের উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইনতা লাসে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। আজ থেকেই এই পর্যবেক্ষকেরা দেশের ৬৪টি জেলায় তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করছেন। ইইউ ইওএমের উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইনতা লাসে অনুষ্ঠানে জানান, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা কেবল বড় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়েও তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।