ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নেই : ইসি সানাউল্লাহ

ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নেই : ইসি সানাউল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বেন না। এর আগে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি নির্দেশনা জারি করে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত চিঠি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। ইসির নির্দেশনায় বলা হয়, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কেবল তিন শ্রেণির কর্মকর্তা মোবাইল ফোন বহনের অনুমতি পাবেন। তারা হলেন—সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এবং ‘ইলেকশন সিকিউরিটি ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দুইজন আনসার সদস্য (এম্বডায়েড আনসার/জেনারেল আনসার/ভিডিপি)। চিঠির মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রার্থী ও সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) সোমবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের জন্য মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানায়। আরএফইডি সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করবে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য উপকরণ। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বাস দিয়েছে এবং সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিষয়টি শিগগির প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে বলেও কমিশন আশ্বস্ত করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

১০ ফেব্রুয়ারির ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

১০ ফেব্রুয়ারির ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি ছুটির বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গতকাল এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে দেশব্যাপী সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কর্মচারীদের জন্য চলতি মাসে ১০ তারিখের বিশেষ ছুটি বহাল থাকবে। তবে, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিশেষ ছুটি ভোগের ক্ষেত্রে স্ব স্ব নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ চলতি মাসে ১০ তারিখের পর সুবিধাজনক যেকোনো একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে‌ ‌‘কর্মদিবস’ ঘোষণা করতে পারবে। পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ সিদ্ধান্ত দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজ উপদেষ্টা ও সচিবদের বৈঠক

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজ উপদেষ্টা ও সচিবদের বৈঠক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে উপদেষ্টা ও সচিবদের বৈঠক হবে আজ । রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তাঁর সভাপতিত্বে সকাল সোয়া ১০টায় প্রথমে সচিবদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা সচিদের উদ্দেশ্যে ভাষণও দেবেন। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে মোট ৭৫ জন সচিব দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন চুক্তিভিত্তিক সচিব রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সবাই আজকের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আজ সরকারের শেষ বৈঠক হতে যাচ্ছে। এ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিদায়ী ভাষণে সচিবদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেবেন। পরে উপদেষ্টাদের সঙ্গে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সমাপ্তির ঘোষণা আসতে পারে। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জরুরি প্রয়োজনে কেবল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও জানা গেছে। এদিকে উপদেষ্টারা তাদের সরকারি বাসভবন ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে দুজন উপদেষ্টা সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিয়েছেন এবং বাসা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনজন উপদেষ্টা এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, উপদেষ্টাদের সরকারি বাসা ছাড়ার উদ্যোগ এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের পরপরই দ্রুত নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভা আজ

সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভা আজ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুল কোর্ট সভা আজ অনুষ্ঠিত হবে। আজ বিকেল ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এই সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. মেসবাহ উদ্দিন খান সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলকোর্ট সভায় অধস্তন আদালতের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুমোদনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ফুলকোর্ট সভায় বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে সে নিয়েও ফুলকোর্ট সভায় আলোচনা হয়ে থাকে।

আগামীকাল থেকে ৪ দিন নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা

আগামীকাল থেকে ৪ দিন নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি জানিয়েছে, আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবে না। আজ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত ওই নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। এই বিধিনিষেধ আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি সাড়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার

নির্বাচন ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার নির্বাচন ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। আজ ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ডিএমপির নেয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ২ হাজার ১৩১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশসহ ৭ জন করে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া থাকবে বডি ক্যামেরা। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে ডিএমপির ২৫ হাজার সদস্যের নির্বাচনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন থাকবে ডিএমপির স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড। নির্বাচন ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। এবার ভোটে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অতীতের নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা থেকে বেরিয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে উদাহরণ সৃষ্টি করা হবে। ভোট কারচুপির সুযোগ নেই জানিয়ে ভোটের দিন সাংবাদিকদের নিরাপত্তার নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি–জুন পর্যন্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঘোষিত মুদ্রানীতে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, আগের মতো নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে। তবে বেসরকা‌রি ঋণ প্রবৃ‌দ্ধি বাড়ানো হয়েছে।আজ সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছি‌লেন। মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধসের ঝুঁকি থেকে সরে এসে এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে এবং নতুন প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও তা এখনো তুলনামূলকভাবে উচ্চ। এ অবস্থায় নীতি সুদহার আগে ভাগে কমিয়ে আনা বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়। অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়া‌নো হ‌য়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশ‌মিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ‌্য ঠিক করা হয়েছে।

ভোটের মাঠ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে তিন বাহিনীর ড্রোন

ভোটের মাঠ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে তিন বাহিনীর ড্রোন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বিকভাবে পর্যবেক্ষণে বিমান বাহিনীসহ তিন বাহিনীর ড্রোন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ড্রোনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার মাধ্যমে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা নির্ণয়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি অত্যন্ত সহায়ক হবে। এ প্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিমান বাহিনী, র‍্যাব ও বিজিবি কর্তৃক ড্রোন মোতায়েন করে ড্রোনের লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে সরবরাহের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া বিমান বাহিনীর ড্রোন থেকে প্রাপ্ত লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও প্রদান করতে হবে বলে বিমান বাহিনীর কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করা স্বাধীন সাংবাদিকতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ: ডিআরইউ

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করা স্বাধীন সাংবাদিকতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ: ডিআরইউ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তথ্য সংগ্রহে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। আজ ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মোবাইল ফোননির্ভর এই যুগে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনার যুক্তি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। বরং এতে ভোটের অনিয়ম আড়াল করার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হবে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের সুযোগ দেওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ নয়; বরং এটি নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার একটি অপরিহার্য উপাদান। নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিধি নিষেধ অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ (চারশত) গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কারো মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাস্তব ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা নির্বাচনকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের কার্যত অচল করে দেওয়ার শামিল। ডিআরইউ মনে করে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবিধানস্বীকৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করে। ডিআরইউ’র মতে, মোবাইল ফোন ছাড়া আধুনিক সাংবাদিকতা কল্পনাই করা যায় না। তথ্য সংগ্রহ, তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন, ছবি ও ভিডিও ধারণ, অনিয়ম নথিভুক্ত করা এবং জরুরি যোগাযোগ- সবই মোবাইল ফোননির্ভর।সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনে বাধা দেওয়া মানে নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জনসমক্ষে অস্বচ্ছ করে তোলা। ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ জানান, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করে কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অবিলম্বে নির্বাচনকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই ধরনের বিধিনিষেধকে গণমাধ্যমবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করে ডিআরইউ সারাদেশের সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

ভোটকেন্দ্রে নেওয়া যাবে না মোবাইল

ভোটকেন্দ্রে নেওয়া যাবে না মোবাইল গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সীমিত কর্মকর্তারা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটারসহ কোনো ব্যক্তি মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্য। তারা হলেন— ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ, ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির মধ্যে ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ দুই জন আনসার সদস্য। ইসি জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ব্যালট পেপার পাঠানোর কার্যক্রম প্রায় শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন। ভোটগ্রহণের জন্য মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পালন করবেন মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং কর্মকর্তা । এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। সব মিলিয়ে প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন।