জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তার সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র

জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তার সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কারও পক্ষ নেবে না৷ জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে তারা সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমি খুবই আগ্রহী। আমি এই নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি এবং এর ফলাফল দেখার জন্য মুখিয়ে আছি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেয় না। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণের, এবং শুধু বাংলাদেশের জনগণেরই। বাংলাদেশের জনগণ যাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে, আমরা সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত। রাষ্ট্রদূত বলেন, গত সপ্তাহে যখন আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, তিনি আমাকে বলেন যে—তিনি আশা করছেন, নির্বাচন দিবসটি একটি উৎসবমুখর দিন হবে। আমি আশা করি এটি একটি আনন্দময় ও উৎসবপূর্ণ নির্বাচন হবে, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে গিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন এবং আপনারা একটি অত্যন্ত সফল নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে তথ্যগুলো আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন, সেগুলো নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আপনাদের সবার মতো আমিও ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। এর আগে বেলা ১২টার দিকে সিইসির দপ্তরে বৈঠক শুরু হয়। এতে ইসি সচিব আখতার আহমেদও অংশ নিয়েছেন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু ও ফিরোজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

৪ লাখ ৩২ হাজার প্রবাসীর ভোটদান সম্পন্ন

৪ লাখ ৩২ হাজার প্রবাসীর ভোটদান সম্পন্ন আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৯ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। বুধবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট প্রবাসী গন্তব্যের দেশে পৌঁছেছে। ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৩২৮ জন প্রবাসী ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ভোটার কর্তৃক ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৯ প্রবাসী ভোটার। ভোটার কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস/ডাক বাক্সে জমা দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৫৭৯টি ব্যালট। বাংলাদেশে পৌঁছেছে ২৯ হাজার ৭২৮টি পোস্টাল ব্যালট। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে (দেশে এবং প্রবাসী মিলে) মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের ৫ বছরের বেশি চাকরি করা উচিত না : প্রধান উপদেষ্টা

সরকারি কর্মকর্তাদের ৫ বছরের বেশি চাকরি করা উচিত না : প্রধান উপদেষ্টা সরকারি কর্মকর্তাদের ৫ বছরের বেশি সরকারি চাকরি করা উচিত নয় বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচ বছরের বেশি চাকরি করা উচিৎ না। তাহলে তার মাইন্ড সেট হয়ে যায়। সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর পর নতুন করে শুরু করা উচিত। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য পরিবর্তন হলেও মানুষরা সেই প্রতিষ্ঠানে পুরোনো ধ্যান ধারণা নিয়ে বসে রয়েছে।’ আজ বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন করেন। সবাইকে চাকরির দিকে না ঝুঁকে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সবার জন্য চাকরি নিশ্চিতের ধারণা একটি ভুল জিনিস। এটি একটি দাস প্রথার শামিল। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সরকারকে সহায়তা করতে হবে। জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিল, তেমনই ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার উন্মোচন করবে। জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।  আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। পরে প্রধান উপদেষ্টা প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

১১ হাজার ৭১৩ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ

১১ হাজার ৭১৩ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শূন্যপদ পূরণে ৭ম (বিশেষ) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে মোট ১১ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। বুধবার এনটিআরসিএ’র পরিচালক (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রার্থীদের মেধাক্রম ও প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে এই সুপারিশ করা হয়েছে এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এনটিআরসিএ জানায়, সুপারিশকৃত প্রার্থীদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে ৫ হাজার ৭৪২ জন, মাদ্রাসায় ৪ হাজার ২৫৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩৫৪ জন রয়েছেন। এছাড়া কারিগরি ও মাউশি এবং মাদ্রাসা ও কারিগরির বিভিন্ন সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানে আরও ১ হাজার ৩৬২ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০২৫’-এর আলোকে এই বিশেষ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ১৭তম ও ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ৩৫ বছর বয়সের মধ্যে থাকা প্রার্থীদের কাছ থেকে গত ৪ জানুয়ারি আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল।  এর আগে, গত বছরের ১৯ আগস্ট ৬ষ্ঠ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় ৪১ হাজার ৬২৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। এনটিআরসিএ জানায়, সারাদেশে ১৯ হাজার ২০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৬৭ হাজার ১৩০টি শূন্য পদের চাহিদা পাওয়া যায়। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৬৭ হাজার ৮৭টি পদের বিপরীতে আবেদন আহ্বান করা হয়। ১০ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ৩৯৯টি আবেদন জমা পড়লেও ইনডেক্সধারী হওয়ার কারণে ১ হাজার ২৭ জন প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ১১ হাজার ৭১৩ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীরা এনটিআরসিএ’র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (https://w.ntrca.gov.bd/) এবং টেলিটকের নির্ধারিত লিংক (http://ngi.teletalk.com.bd/ntrca/app/) থেকে ফলাফল জানতে পারবেন। এছাড়া প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ নিজ নিজ ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন। কারিগরি কোনো সমস্যার কারণে কেউ মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা (SMS) না পেলে তাদের ওয়েবসাইটের ‘৭ম নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ)-২০২৬’ সেবা বক্স থেকে ফলাফল দেখে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)’-এর আওতায় পেশাজীবী পরিবহন গাড়িচালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু তার জীবনের সবচেয়ে বড় গ্লানি। তিনি বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু তা কমাতে আমরা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছি না। এর প্রধান অন্তরায় হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, যা জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে এবং মানবিক দায়িত্ববোধকে উপেক্ষা করছে।’ বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতিকে বিশ্বের অন্যতম উদ্ভট নিয়ম আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই পদ্ধতি পরিবর্তন করে নতুন বিধিমালার আওতায় চালকদের জন্য ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের গাড়ি চালানোর দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য চালকদেরই লাইসেন্স প্রদান করা হবে। হর্ন ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হন চালকরা এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার আওতায় পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে ট্রাফিক সার্জেন্টরা সড়কে থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে জরিমানা করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বা শুধু জরিমানা করে মানুষের আচরণ পরিবর্তন করা যায় না। মানুষের কল্যাণে এই উদ্যোগ-এই উপলব্ধি চালকদের অন্তরে ধারণ করতে হবে।’ বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে বায়ুদূষণে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে বিআরটিসির অনেক বাস থেকে কালো ধোঁয়া বের হওয়া অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তিনি বিআরটিএ ও বিআরটিসির প্রতি আহ্বান জানান।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বড় সুখবর

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বড় সুখবর স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির সংশোধিত নীতিমালা-২০২৬ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ নীতিমালা জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে। মন্ত্রণালয় প্রয়োজনে এই নীতিমালা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও এ নীতিমালার বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক/শিক্ষিকাদের বদলির ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় একটি নীতিমালার আওতায় স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার’-এর মাধ্যমে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বদলি নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়। বদলির সাধারণ শর্তাবলী -মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের চাহিদা/বিবরণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করবে। -প্রকাশিত শূন্য পদের বিপরীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বদলির আবেদন আহ্বান করবে। -সমপদে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বছর সরকার কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। -আবেদনকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা তার চাকরির আবেদনে উল্লেখকৃত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যে কোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও আবেদনকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা যে কোনো জেলায় অথবা স্বামী/স্ত্রীর নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। -প্রথম যোগদানের পর চাকরি দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন। -বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মে নিয়োজিত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। -একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিন বার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন। -একটি শূন্য পদের জন্য একাধিক আবেদন পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে- -নারী, দূরত্ব, স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল (সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) এবং জ্যেষ্ঠতা-এই চার বিষয় বিবেচনা করা হবে। -চাকরির জ্যেষ্ঠতা সর্বশেষ জারিকৃত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী গণনা করা হবে। -একটি পদের জন্য প্রতিযোগী সকল আবেদনকারীর কর্মস্থল একই উপজেলায় হলে তাদের বর্তমান কর্মস্থল যে উপজেলার কেন্দ্র থেকে কাঙ্ক্ষিত উপজেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। -একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারী বিভিন্ন উপজেলার হলে তাদের কর্মস্থল যে জেলায় সে জেলার কেন্দ্র থেকে কাঙ্ক্ষিত জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। -একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারীর কর্মস্থল বিভিন্ন জেলায় হলে তাদের নিজ-নিজ জেলার কেন্দ্র থেকে কাঙ্ক্ষিত জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপ করতে হবে। -দূরত্ব পরিমাপের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুসৃত মডেল অনুসরণ করা হবে। -অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য সম্বলিত আবেদন বিবেচনাযোগ্য হবে না। ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য প্রদান প্রমাণিত হলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। -বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রমের পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। -একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ ০২ (দুই) জন শিক্ষক অগ্রাধিকারভিত্তিতে [নারী ও জ্যেষ্ঠতা] বদলির সুযোগ পাবেন। তবে এক বিষয়ে একজনের অধিক শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না। -আবেদনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা বদলির আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। বদলির কর্তৃপক্ষ মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বদলির আবেদন নিষ্পত্তি হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বদলি কার্যক্রম তদারকি করবে। আবেদন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া -বদলির সমগ্র প্রক্রিয়া নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। -মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুমোদনক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সফটওয়্যার তৈরি ও অনলাইন আবেদনের ফরম্যাট নির্ধারণ করবে। -বদলিকৃত শিক্ষকের ইনডেক্স পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে বদলিকৃত প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ট্রান্সফার হবে। -পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ বদলি/পদায়নের বিষয়টি নিষ্পন্ন করতে পারবেন। -বদলিকৃত শিক্ষকের এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। -বদলির আবেদনের ভিত্তিতে বদলি অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। বদলিকৃত শিক্ষক কোনো ধরনের টিএ/ডিএ ভাতা পাবেন না। -আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বদলিকৃত শিক্ষকের অবমুক্তি নিশ্চিত করবেন। -অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান যোগদানের তথ্য চেয়ারম্যান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ও মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে অনলাইনে অবহিত করবেন। -অবমুক্তি হতে যোগদান পর্যন্ত দিবসগুলো কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে। -কোনো শিক্ষকের বিষয়ে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত ও ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির যোগ্য হবেন না। রহিতকরণ এই নীতিমালা জারি হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর জারিকৃত ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৪’ রহিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশি‌দের জন্য ওয়ার্ক ভিসা চালুর আশ্বাস ওমানের শ্রমমন্ত্রীর

বাংলাদেশি‌দের জন্য ওয়ার্ক ভিসা চালুর আশ্বাস ওমানের শ্রমমন্ত্রীর আগামী দু’মাসের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েছেন ওমানের শ্রমমন্ত্রী ড. মাহাদ বিন সাঈদ বিন আলী বাওয়াইন সালিম আল-বুসাইদি। সৌ‌দি আরবে গ্লোবাল লেবার মার্কেট সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদে‌শিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে এক বৈঠকে ওমানের শ্রমমন্ত্রী এই আশ্বাস দিয়েছেন। আজ রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তিতে এ তথ্য জা‌নিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে, উপদেষ্টা অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের জরিমানা ছাড়া বৈধকরণে ওমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তি‌নি বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী যেমন- প্রকৌশলী, চিকিৎসক, নার্সরাও যাতে করে ওমানের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারে এর জন্যও ওমানের মন্ত্রীর সহযোগিতা চান। পাশাপাশি অদক্ষ, আধা-দক্ষ কর্মী ভিসার উপর স্থগিতাদেশের পর্যালোচনার অনুরোধ জানান। ওমানের শ্রমমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান অনিয়মিত ও আনডকুমেন্টেড প্রবাসী কর্মীদেরকে নিয়মিতকরণের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে ২০২৩ থেকে সাময়িকভাবে অদক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন ওয়ার্ক ভিসা স্থগিত রাখা হয়। তিনি আগামী দু’মাসের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালু করার আশ্বাস দেন। উপদেষ্টা অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, আইনি সংস্কার, কর্মী প্রেরণের আগে দক্ষতা যাচাই, প্রাকবর্হিগমন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাগতিক দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও আইন-কানুন সম্পর্কে অবহিতকরণসহ অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে ওমানের শ্রম মন্ত্রীকে অবহিত করেন। উপদেষ্টা চলতি বছরের প্রথমার্ধে মাস্কাটে যৌথ কারিগরি কমিটির (জেটিসি) পরবর্তী অধিবেশন আহ্বানের প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং শ্ৰম সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য এরইমধ্যে চূড়ান্ত করা সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের জন্য ওমানের শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাষ্ট্রপতি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ান ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এবার প্রবাসী ও দেশের ভেতরে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও কয়েদিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে ইসি। দেশে ও দেশের বাইরে থেকে এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার নাগরিক। পোস্টাল ব্যালটে দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অ্যাপে নিবন্ধন করলে ইসি ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়ে দেয়। ভোট দিয়ে ভোটার নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দিলে তা আবার সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চলে আসে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক, মানতে হবে ইসির নির্দেশ

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক, মানতে হবে ইসির নির্দেশ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসিতে নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার পক্ষ থেকে এসব পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করবেন। গ্তকাল ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সুনির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারীরাই কেবল কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের জন্য কমিশন অনুমোদিত ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ রয়েছে, যা যথাযথভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুর জন্য একটি ওয়েব পোর্টাল (https://pr.ecs.gov.bd/) তৈরি করেছে ইসি। অনুমোদিত ৮১টি সংস্থার সকল পর্যবেক্ষককে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই পোর্টালে ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে পর্যবেক্ষকগণ অনলাইন থেকেই তাদের কার্ড ও স্টিকার ডাউনলোড করে মুদ্রণ করতে পারবেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের কার্ড ও স্টিকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের আবেদন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার মনোনীত কর্মকর্তারা অনুমোদন করবেন। রিটার্নিং অফিসারদের ব্যবহারের জন্য পোর্টালে ইতোমধ্যে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি এলাকা ও ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকদের বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। পর্যবেক্ষকগণ কেন্দ্রে অবস্থানকালে তাদের পরিচয়পত্রটি সার্বক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখবেন। পর্যবেক্ষণকালে অবশ্যই ভোটারের ভোট প্রদানের অধিকারের প্রতি সচেতন থাকতে হবে এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাজে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। পর্যবেক্ষকগণ নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শুধু এমন জায়গায় স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করা যাবে, যেখানে থাকলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো বাধার সৃষ্টি হবে না। তবে কোনো অবস্থাতেই কোনো পর্যবেক্ষক ভোট প্রদানের গোপন কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক পর্যবেক্ষক তার কাজে কোনো স্বার্থের সংঘাত তৈরি হলে কিংবা অন্য কোনো পর্যবেক্ষকের অসঙ্গত আচরণ দেখলে তা নিজ সংস্থাকে অবহিত করবেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তার লক্ষ্যে সংবিধান, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান পুরোপুরি অনুসরণ করতে হবে। নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ এবং কোনো প্রকার নির্বাচনি উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া পর্যবেক্ষক যদি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হন, তবে তিনি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হবেন। পর্যবেক্ষণের পুরো সময়জুড়ে সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো চিহ্ন, প্রতীক বা পরিচয় বহনকারী পোশাক বা অন্য কিছু পরিধান বা প্রদর্শন করা যাবে না। কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, এজেন্ট বা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার কাছ থেকে কোনো উপহার গ্রহণ, ক্রয়ের চেষ্টা বা কোনো সুবিধা গ্রহণে উৎসাহিত হওয়া যাবে না। একইসঙ্গে নির্বাচন চলাকালীন মিডিয়ার সামনে এমন কোনো মন্তব্য করা যাবে না, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত বা প্রভাবিত করতে পারে।

১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ ছুটি ঘোষণা

১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ ছুটি ঘোষণা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখ বুধবার ও বৃহস্পতিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান/সংস্থায় কর্মরত-কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে সারাদেশে নির্বাচনকালীন সরকার কর্তৃক নির্বাহী আদেশে ২ (দুই) দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্ণিত কারণে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখ বুধবার ও বৃহস্পতিবার ২ (দুই) দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো। এর আগে, গত ২৫ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। একইসঙ্গে, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।