জাতীয় সংসদে একযোগে ১২টি বিল পাস

জাতীয় সংসদে একযোগে ১২টি বিল পাস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে একযোগে ১২টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো অবিকল রেখে ৯টি বিল পাস করা হয়। এছাড়া অধ্যাদেশ রহিত করে আরও দু’টি বিল পাস হয়েছে। পাশাপাশি ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ রহিত করে ২০০৯ সালের ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনঃপ্রচলনের লক্ষ্যে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে এসব বিল পাস হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী বিলগুলো উত্থাপন করেন। সকালের অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ অবিকল রেখে যেসব বিল পাস হয়, সেগুলো হলো-‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল, ২০২৬’। অন্যদিকে, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রহিত করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ এবং একই অধ্যাদেশ রহিত করে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়। এছাড়া ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে।
‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু

‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা আনতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের (ইএমআরডি) আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামক একটি অ্যাপ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। অ্যাপটি প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল মালিক/চালকদের ব্যবহারের জন্য শুধু ঢাকার দুইটি ফিলিং স্টেশনে (ট্রাস্ট, তেজগাঁও; সোনারবাংলা, আসাদগেট) উন্মুক্ত করে পাইলটিং করা হচ্ছে। সফল পাইলটিংয়ের পর পর্যায়ক্রমে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপটি সারা দেশের সকল যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার কারণে বিলম্বসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পর্যাপ্ত জালানি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। আবার একই ব্যক্তি একাধিকবার এসে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফুয়েল সংগ্রহ করছেন যা জ্বালানির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তাবিত এই ডিজিটাল সিস্টেমটি বিতরণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে অটোমেশন এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিংএর আওতায় আনবে। এই সিস্টেমের সাথে বিআরটিএ এর কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সংযোগ থাকবে, ফলে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থা একটি স্বচ্ছ মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। স্মার্টফোন না থাকলেও নাগরিকরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এবং কিউআর কোডটি বিভিন্ন ফরম্যাটে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। এই সিস্টেমের মাধ্যমে ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটাল মাধ্যমে জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিয়ে ভোক্তাদের ফুয়েল বিতরণ করতে পারবেন। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে একজন চালক ফুয়েল গ্রহণ করতে পারবেন এবং একইসাথে নিজের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ দেখতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণের অবস্থা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, অনিয়ম ও অপচয় হ্রাস পাবে এবং সংকটকালীন সময়ে কার্যকরভাবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পহেলা বৈশাখে ১০ জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পহেলা বৈশাখে ১০ জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আগামী পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলসহ দেশের ১০টি জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত কৃষকদের হাতে এই বিশেষ কার্ড তুলে দেবেন।
সারাদেশে অবৈধ মজুতকৃত ৪ লাখ ৬৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার

সারাদেশে অবৈধ মজুতকৃত ৪ লাখ ৬৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার সারাদেশে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সচিবালয়ে জ্বালানি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।তিনি জানান, জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গত ৩ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে এসব জ্বালানি উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মনির হোসেন জানান, উদ্ধারকৃত জ্বালানির মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। যার পরিমাণ ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৭ লিটার। এছাড়া অভিযানে ৩৬ হাজার ৬২১ লিটার অকটেন এবং ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অবৈধ মজুত, পাচার ও সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা রোধে এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৪২ টি অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ৩ হাজার ১১ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পরিচালিত এসব অভিযানে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাজারে জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা আইন’ পাস

সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা আইন’ পাস জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ বিল পাস হয়েছে। আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১তম দিনের কার্যক্রমে কণ্ঠভোটে এ বিল পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিল উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এ বিলে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে বলিয়া গণ্য হবে এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হয়েছে বলে গণ্য হবে। বিলের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এ আইনে— (ক) “গণঅভ্যুত্থানকারী” অর্থ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি; (খ) “কমিশন” অর্থ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন; (গ) “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্রজনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান; (ঘ) “বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার” অর্থ রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড; (ঙ) “রাজনৈতিক প্রতিরোধ” অর্থ ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যাবলি। এ আইনে আরও বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে। মামলা প্রত্যাহার ও নতুন মামলা দায়ের বারিত। — (১) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসরণপূর্বক প্রত্যাহার করা হইবে এবং ধারা ৫ এর বিধান সাপেক্ষে, এতদসম্পর্কিত নূতন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের আইনত বারিত হইবে। এই বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়- বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যাহা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসাবে স্বীকৃতি পায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও নিশ্চিত করিবার নিমিত্ত আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে উক্ত প্রতিরোধকর্ম এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও নিশ্চিত করিবার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে প্রতীয়মান হয়। সুতরাং জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সুরক্ষার জন্য এই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল, ২০২৬’ প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এ প্রেক্ষিতে বর্ণিত অধ্যাদেশটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অনুমোদনের জন্য বিল আকারে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা

সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা দেশের মোট ১০ হাজার ৫৬৮টি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা চালু হবে বলে জানান তিনি। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। ধানমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিকায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ চালু করা হবে। তিনি আরো বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিচাহিদা পূরণে পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে আইসিটি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) আগামী ৬ মাসের মধ্যে অ্যাগ্রিকালচার ইনটেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন ইউজিং ফ্লাটার, পাইথন প্রগ্রামিং এবং ওয়েব-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশব্যাপী হামের টিকাদান শুরু ২০ এপ্রিল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশব্যাপী হামের টিকাদান শুরু ২০ এপ্রিল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৪ দিন এগিয়ে এনে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে হামের টিকার মজুদ স্থিতিশীল আছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ব্যবস্থাপনায় অবহেলার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। সেই সংকট কাটিয়ে উঠছে সরকার। হামের টিকা নিয়ে কোনো সংকট নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশের শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরো বলেন, ‘যারা গত ৯ মাস যাবৎ বেতন পাচ্ছেন না, তাদের বেতন পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা শুরু হয়েছে। অন্য সমস্যাগুলোও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে জানান, ‘২ কোটি ১৯ লাখ হামের টিকা পাওয়া গেছে। মজুদও আরো রয়েছে। দুর্নীতি ও বিলম্ব এড়াতে এবার টেন্ডার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলোতে টিকা কার্যক্রম চালানোর জন্য ৩৪ লাখ ৮৩ ডোজ টিকা বিতরণ করা হয়েছে। এক ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা দেওয়া যায়। হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইনের জন্য সরকার সর্বমোট ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টিকা আমাদের আছে এবং কোল্ড চেন রক্ষা করা হচ্ছে। ’ হাম নিয়ে অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস

নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) ২০২৬ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরের অধিবেশনে এই বিল পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সন্ত্রাসবিরোধী বিল ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়যুক্ত হয়। এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগে থেকেই দেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জনমতের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশে গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়, যার আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।’ এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬ পরিবারকে ঢেউটিন সহায়তা প্রদান

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬ পরিবারকে ঢেউটিন সহায়তা প্রদান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে| আজ সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এসব টিন তুলে দেয়া হয়| সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারের মাঝে এক বাণ্ডিল করে ঢেউটিন হস্তান্তর করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন| এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন| সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা| ঢেউটিন বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঘর মেরামতের জন্য মজুরি বাবদ আরও ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে| শিগগিরই এই বরাদ্দের টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন|
স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান পেছাল

স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান পেছাল ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী ১৬ এপ্রিল পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ তথ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৬ এপ্রিল বিকেল ৪টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনিবার্য কারণবশত ৯ এপ্রিলের পরিবর্তে এই নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতি বছর জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করে থাকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ বছর সর্বোচ্চ এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।