২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ: ইসি সচিব

২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ: ইসি সচিব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে বিকেল ৪টার পরপর নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য জানান। ইসি সচিব বলেন, ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। দেশে ৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলেছে। ভোটগ্রহণ শেষে হওয়ার পর এখন শুরু হবে গণনার কার্যক্রম।

১১ লাখ ৪৩ হাজার পোস্টাল ব্যালট পৌঁছেছে : ইসি

১১ লাখ ৪৩ হাজার পোস্টাল ব্যালট পৌঁছেছে : ইসি গণভোট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুপুর পর্যন্ত ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৫টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা পর্যন্ত এ হিসাব জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিভিন্ন দেশে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পৌঁছেছে। প্রবাসীরা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৮টি ব্যালট সংগ্রহ করেছেন এবং এর মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫১ জন। ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৪ জন ভোটার তাদের ভোট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে এবং ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫১টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা হাতে পেয়েছেন। এদিকে দেশের ভেতরে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জনের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। ভোটাররা ৬ লাখ ৮১ হাজার ৮১৯টি ব্যালট সংগ্রহ করেছেন এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭৬ জন। ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫০টি ভোট পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এ পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ২৯৪টি ব্যালট হাতে পেয়েছেন।

ভোটগ্রহণ শেষ, ফলাফলের অপেক্ষা

ভোটগ্রহণ শেষ, ফলাফলের অপেক্ষা সারা দেশের বেশকিছু কেন্দ্রে ছোট ছোট কয়েকটি সহিংসতার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। এবার ফলাফলের অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘণ্টা ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ চলে। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে বাড়তে থাকে ভোটারের উপস্থিতি। দুপুরের পর থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। এদিকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি ১ লাখেরও বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। নির্বাচন উপলক্ষে পুরো দেশকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।  এবার দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ ছিল। এই নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন (দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন)। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। তাদের প্রার্থী সংখ্যা ২৯১ জন। এই নির্বাচনে নিবন্ধিত ১০টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। অন্যদিকে গণভোট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুপুর পর্যন্ত ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৫টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পৌঁছেছে। প্রবাসীরা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৮টি ব্যালট সংগ্রহ করেছেন এবং এর মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫১ জন। ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৪ জন ভোটার তাদের ভোট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে এবং ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫১টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা হাতে পেয়েছেন। ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, ৫টি জেলার ১৭টি আসনে ৫ হাজার নৌসদস্য, ৩ হাজার ৫০০ জন বিমান বাহিনীর সদস্য, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৯ হাজার ৩৪৯ জন র‌্যাব সদস্য, বিএনসিসির ১২৮টি সেকশনের ১ হাজার ৯২২ সদস্য এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে ২৯৯টি আসনে মোট ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। তারা ভোট গ্রহণের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দুই দিন- মোট পাঁচ দিন দায়িত্বে থাকবেন। এ সময়সীমা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলা ও নির্বাচনী থানায় ন্যূনতম দুই জন করে মোট ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করছেন। নির্বাচন কমিশন জানায়, এই নির্বাচনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন। আগতদের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আসছেন প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক এসেছেন।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে ৩২ শতাংশ ভোট পড়েছে : ইসি সচিব

দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে ৩২ শতাংশ ভোট পড়েছে : ইসি সচিব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। ইসি সচিব বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা জেনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ভোটকেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়নি, সবগুলো কেন্দ্রের ভোট চলমান আছে। আশঙ্কাজনক কোনো পরিস্থিতি নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর নেই।’ ভোটের পরিবেশ নিয়ে সচিব সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত দেশের কোনো প্রান্তেই ভোটগ্রহণ স্থগিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সারা দেশে কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়নি। কিছু কিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ইসি সচিব বলেন, বড় কোনো নাশকতার আশঙ্কা নেই এবং ভোটাররা নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেখানেই উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই অতিরিক্ত ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

আজ আমরা সম্পূর্ণরূপে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টির সুযোগ পেলাম : প্রধান উপদেষ্টা

আজ আমরা সম্পূর্ণরূপে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টির সুযোগ পেলাম : প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজকে মহা আনন্দের দিন। আজকে নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। সারা দিনব্যাপী আমরা এই জন্মদিন উৎসব পালন করব। এটার মাধ্যমে আজকে যে প্রক্রিয়া এখান থেকে শুরু হলো, এর মাধ্যমে আমরা অতীতকে বর্জন করলাম। যেসব দুঃস্বপ্নময় অতীত ছিল, সে অংশ থেকে আমরা সম্পূর্ণরূপে আজকে থেকে প্রতিটি পদে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করার সুযোগ পেলাম। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ এর মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ড. ইউনূস বলেন, আজকে জন্মদিন পালন করি আমরা, সারা দিনব্যাপী উৎসব করি। সবাই মিলে জাতি হিসেবে উৎসব করি। এটা নিশ্চিত হবে গণভোটটা দিয়ে… প্রার্থীর জন্য আমরা ভোট দিলাম সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু গণভোটটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা বাংলাদেশ পাল্টে যাবে। জনগণকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি গণভোটে অংশ নেওয়ার জন্য, যাতে করে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খুব ভালো লাগলো। এটা আমার জীবনে মহা আনন্দের দিন। এবং বাংলাদেশের সবার মনে এটা মহা আনন্দের দিন। মুক্তির দিন। আমাদের দুঃস্বপ্নের অবসান, নতুন স্বপ্নের শুরু। সেটাই হলো আমাদের আজকের এই প্রক্রিয়া। অসংখ্য ধন্যবাদ সবাইকে। সবাইকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি।

রাজশাহীতে র‌্যাবের অভিযানে ১২টি পেট্রোলবোমা ও ১৫টি ককটেল উদ্ধার

রাজশাহীতে র‌্যাবের অভিযানে ১২টি পেট্রোলবোমা ও ১৫টি ককটেল উদ্ধার রাজশাহীর চন্দ্রীমা থানা এলাকা হতে ১২টি পেট্রোলবোমা ও ১৫টি ককটেল উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৫। র‌্যাব-৫ এর পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাত পৌনে ১২টার দিকে ছোট বনগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পেট্রোলবোমা ও ককটেল উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত পেট্রোলবোমা ও ককটেল চন্দ্রীমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত এবং গ্রেফতারে র‌্যাব-৫ এর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নওগাঁয় পরিত্যাক্ত অবস্থায় ককটেল ও পেট্রোলবোমা উদ্ধার

নওগাঁয় পরিত্যাক্ত অবস্থায় ককটেল ও পেট্রোলবোমা উদ্ধার নওগাঁর বদলগাছী থানার ঝারঘড়িয়া এলাকা থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ককটেল ও পেট্রোলবোমা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৫। র‌্যাব-৫ এর পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোর ৭টার দিকে ঝারঘড়িয়া গ্রামের কাশাইল মোড়গামী পাঁকা রাস্তার উত্তর পাশ থেকে একটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তার ভিতর থেকে ৬টি ককটেল, ৪টি পেট্রোলবোমা ও ৪০০ গ্রাম বোমা তৈরির কেমিক্যাল পদার্থ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বোম ডিসপোজাল টিমের সহায়তায় উদ্ধারকৃত আলামত পাশের ফাঁকা মাঠে ধ্বংস করা হয়। এঘটনায় বদলগাছী থানায় জিডি করা হয়েছে।

ভোটের মাঠে ৯ লাখ ১৯ হাজার ফোর্স, সেনা ১ লাখ

ভোটের মাঠে ৯ লাখ ১৯ হাজার ফোর্স, সেনা ১ লাখ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র সদস্য রয়েছে সেনাবাহিনীর। এ ছাড়া ভোটের মাঠ পর্যবেক্ষণে সব বাহিনীর ড্রোন ব্যবহৃত হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ভোটে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫শ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি’র ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচনী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে ৩শ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন নির্বাচনী অপরাধে ইতোমধ্যে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ৪৬৮টি ঘটনায় ২৫৯টি মামলায় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মোট ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  এ ছাড়া নির্বাচনী তদন্ত কমিটি সংক্ষিপ্ত বিচারে আরও ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে। ভোট পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক ইতোমধ্যে দেশে এসেছেন। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮০টি সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন মাঠে থাকবেন।

সারা দেশে বৈধ অস্ত্র জমা ২৭ হাজার, জমা পড়েনি ২০ হাজার

সারা দেশে বৈধ অস্ত্র জমা ২৭ হাজার, জমা পড়েনি ২০ হাজার ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ বা লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা পড়ে। জানা গেছে, ব্যক্তির নামে ৪৮ হাজার ২৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র এখনও জমা পড়েনি। আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। এর আগে, গত ১৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। জমা না হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে আওয়ামী লীগের মেয়াদে লাইসেন্স পাওয়া অস্ত্রই বেশি বলে জানা গেছে। এসব অস্ত্রের মালিকদের অনেকেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন। দেশের ভেতরে অনেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে থানা থেকে লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্রের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, যে কোনো অস্ত্র থ্রেট। এর বাইরে বিভিন্নভাবে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করে। সেজন্য মোকাবিলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইসি জানায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রেকর্ড করা হয়েছে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওতে একযোগে তা সম্প্রচার করা হবে। এর আগে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিইসি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, আজকের ভাষণে সিইসি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করবেন এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানাবেন। এছাড়া দেশজুড়ে নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ, ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তিনি বক্তব্য রাখবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরবেন। একইসঙ্গে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবেন।