প্রথম ১০ দিনেই ই-রিটার্ন দাখিল প্রায় ১ লাখ করদাতার

প্রথম ১০ দিনেই ই-রিটার্ন দাখিল প্রায় ১ লাখ করদাতার ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। গতকাল পর্যন্ত প্রথম ১০ দিনেই ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন মোট ৯৬ হাজার ৯৪৫ জন করদাতা। আজ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ সালের ই-রিটার্ন জমা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। গত বছর একই সময়ে প্রথম ১০ দিন অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেন মাত্র ২০ হাজার ৫২৩ জন। অর্থাৎ, এ বছর দৈনিক গড় ই-রিটার্ন দাখিলের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বেশি। এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। আরও বলা হয়, গত ৩ আগস্ট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করে। এর মাধ্যমে দেশের সকল ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন করদাতা, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি করদাতা এবং মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধিদের এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে, ১১ আগস্ট এ আদেশ সংশোধন করে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদেরও এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে যারা নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমাতে পারবেন না, তারা আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যথাযথ ও যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনারের কাছে আবেদন করবেন। পরে অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন। করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ যেকোনো মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধ করে ঘরে বসেই রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। সিস্টেম থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিপত্র ও আয়কর সনদও প্রিন্ট নেওয়া যাচ্ছে। ই-রিটার্ন সংক্রান্ত সহায়তার জন্য এনবিআর একটি কল সেন্টার চালু রয়েছে (ফোন: ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১)। সেখানে কল দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ই-রিটার্ন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া www.etaxnbr.gov.bd](http://www.etaxnbr.gov.bd) এর eTax Service অপশনের মাধ্যমে করদাতারা যেকোনো সমস্যা লিখিতভাবে জানাতে পারবেন এবং সমাধান পাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে eTax Service পোর্টাল ব্যবহার করে প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় প্রদর্শন করে আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য সকল করদাতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এনবিআর।

সাদাপাথরে বিছিয়ে দেওয়া হলো জব্দকৃত ১২ হাজার ঘনফুট পাথর

সাদাপাথরে বিছিয়ে দেওয়া হলো জব্দকৃত ১২ হাজার ঘনফুট পাথর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর থেকে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। রাতভর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ১২ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত পাথর নৌকা দিয়ে ফের ধলাই নদীর সাদাপাথর এলাকায় বিছিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও লুট হওয়া পাথর পরিবহনকারী সন্দেহে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়ক থেকে ৭০টি ট্রাক আটকে রেখেছে যৌথবাহিনী। গতকাল দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে সিলেট নগরী ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। পাথর প্রতিস্থাপনের বিষয়টি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহার নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বুধবার রাতে ৬ সদস্যদের একটি দল যৌথবাহিনীর সহায়তায় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করে ফের পর্যটন কেন্দ্র সাদা পাথরসহ ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আজ জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ফের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। লুট হওয়া পাথর উদ্ধার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি সমন্বয় সভায় লুট করা পাথর উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়াও সভায় সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী দায়িত্ব পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের জরুরি বৈঠক শেষে রাত ১২টার পর থেকে অভিযনে নামে জেলা প্রশাসন ও যৌথবাহিনী। সিলেট নগরী ও সাদা পাথর এলাকায় রাতভর অভিযান পরিচালনা করা হয়। জানা গেছে, অভিযানে ধলাই নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে সাদাপাথর থেকে লুট করা স্তুপকৃত পাথর জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো সাদাপাথর এলাকায় নিয়ে ফের প্রতিস্থাপন করা হয়। এছাড়াও গতকাল রাত ১২টার পর থেকে সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কের এয়ারপোর্ট এলাকায় সিলেট ক্লাবের সম্মুখে যৌথবাহিনী চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বেশ কয়েকটি ট্রাক আটকিয়ে পাথর জব্দ করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, সাদাপাথর থেকে চুরি হওয়া পাথর উদ্ধারে আমরা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করছি। লুট করা পাথর উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান চলমান আছে। এর আগে, গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজে জরুরি সমন্বয় সভা আহ্বান করা হয়। সভায় সাদাপাথর রক্ষায় ৫টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো- জাফলং ইসিএ এলাকা ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথ বাহিনী দায়িত্ব পালন করা, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের চেকপোস্ট যৌথবাহিনীসহ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করা, অবৈধ ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা, পাথর চুরির সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা। এর আগে, সাদা পাথর লুটপাটের ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করে জেলা প্রশাসন। আগামী রবিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে লুটপাটের ঘটনা অনুসন্ধানে সাদাপাথর এলাকা পরিদর্শন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সাংবাদিক তুহিন হ*ত্যা*র প্রতিবাদে গোমস্তাপুরে মানববন্ধন

সাংবাদিক তুহিন হ*ত্যা*র প্রতিবাদে গোমস্তাপুরে মানববন্ধন গাজীপুরের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার প্রতিবাদ ও হ*ত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল এর আয়োজনে আধা ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি আসাদুল্লাহ আহমদের সভাপতিতে, বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাকিল রেজা, সহ সভাপতি আব্দুর রহমান মানিক, অর্থ সম্পাদক তাজাম্মুল হক আরাফাত, সদস্য মনিরুল ইসলাম, তসিকুল ইসলাম, সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ, আলাউদ্দিন পারভেজ, আমিনুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা।

জাতীয়করণে শিক্ষকদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি; লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা

জাতীয়করণে শিক্ষকদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি; লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দাবি না মানলে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অর্ধদিবস, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জাতীয়করণসহ ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। আজ বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এ কর্মসূচির কথা বলেন। এর আগে শিক্ষকদের ১২ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরারের সঙ্গে দেখা করে। দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, মন্ত্রণালয় আমাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। তারা বলেছে, সব দাবি একবারে পূর্ণ করা সম্ভব নয়। এই দাবিগুলো পূরণে কী পরিমাণ অর্থ লাগবে তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবে। আজিজী বলেন, আমরা প্রস্তাব রেখেছি আমাদের বাড়ি ভাড়া পার্সেন্টেজ হিসেবে বাড়াতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করে অর্থ মন্ত্রণালয় পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় চিকিৎসা ভাতা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা করার কথা বলেছে, আমরা এই বিষয় নিয়ে বেশি কিছু বলিনি। আমরা বাড়ি ভাড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব আরও বলেন, যদি ডিও লেটার পাঠানো না হয়, তাহলে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে ১৪ সেপ্টেম্বর সারা বাংলাদেশে প্রতিটি এমপিওভুক্ত স্কুল-মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠানে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করব এবং ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। তারপরও যদি দাবি মানা না হয়, তাহলে ১ মাস অপেক্ষা করে ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। আজ সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করে জাতীয়করণ, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা বাড়ানোর পাঁচ দাবিতে সমাবেশ করেন শিক্ষকরা। সমাবেশ শেষে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। পরে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা স্থগিত করে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃ*ত্যু, হাসপাতালে ৩২৫

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃ*ত্যু, হাসপাতালে ৩২৫ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে ৩২৫ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এ নিয়ে ডেঙ্গুতে মোট ১০৪ জনের মৃত্যু হলো। আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৯৭ ডেঙ্গুরোগী। চলতি বছর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ২৩ হাজার ৯৩০ ডেঙ্গুরোগী। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক ১ শতাংশ নারী রয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

চীনা নৌবাহিনীর তাড়া খেয়ে পালাল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

চীনা নৌবাহিনীর তাড়া খেয়ে পালাল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা নৌবাহিনীর তাড়া খেয়ে পালিয়েছে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দক্ষিণ চীন সাগরের ব্যস্ত জলপথ স্কারবোরো শোলের কাছে ঢুকে পড়ে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার। পরে চীনা নৌবাহিনীর তাড়া খেয়ে সেটি পালিয়ে যায়। আজ চীনের সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, তাদের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। কয়েকদিন আগে একই জলসীমায় ফিলিপাইনের জাহাজ তাড়া করার পর এই ঘটনা ঘটল। গত কয়েক বছর পর দক্ষিণ চীন সাগরে এটিই প্রথমবারের মতো প্রবেশ মার্কিন সামরিক যানের। বেইজিং সবসময়ই সমগ্র দক্ষিণ চীন সাগর নিজেদের সীমানার মধ্যে দাবি করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন দ্বীপ এবং আশেপাশের অঞ্চল মালিকানা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চীনের অমীমাংসিত বিরোধ চলছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে। বার্ষিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি জাহাজ বাণিজ্যের জন্য স্কারবোরো শোল কৌশলগতভাবে উত্তেজনার একটি প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে সোমবার চীনের উপকূলরক্ষী জানায়, তারা জলসীমা থেকে ফিলিপাইনের জাহাজগুলোকে বিতাড়িত করার জন্য ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিয়েছে। অন্যদিকে ম্যানিলা জানিয়েছে, এই সপ্তাহে সমুদ্র উপকূলে চীনা জাহাজের কর্মকাণ্ডের ফলে দুটি জাহাজের সংঘর্ষও ঘটেছে। তাদের দাবি, দুটি চীনা জাহাজের উদ্দেশ্য ছিল স্কারবোরো শোলের কাছে ফিলিপাইনের জাহাজগুলোকে পৌঁছানো থেকে ‘সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ’ করা। এর আগে অঞ্চলটির বিরোধ নিয়ে ২০১৬ সালে একটি আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনাল রায় দেন- চীনের ঐতিহাসিক মানচিত্রের ভিত্তিতে বেইজিংয়ের দাবির আন্তর্জাতিক আইনে কোনও ভিত্তি নেই। তবে, চীন এই সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করেনি।

ভারতীয়দের গণপিটুনিতে বাংলাদেশি যুবক নি*হত, আ*হত ৫

ভারতীয়দের গণপিটুনিতে বাংলাদেশি যুবক নি*হত, আ*হত ৫ অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশে পর আকরাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবককে গণপিটুনিতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এতে আরও অন্তত পাঁচজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। আজ সকালে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এর আগে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসি হিলস জেলার কৈথাকোণা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক আকরাম হোসেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বাঁকাকুড়া গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে। বাঁকাকুড়া এলাকার ইউপি সদস্য মোছা সরদার ও গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকরাম দীর্ঘদিন ধরে বরিশালে থাকতেন। সোমবার বিকেলে আকরামসহ কয়েকজন মিলে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। পরে ভারতের অভ্যন্তরে গণপিটুনিতে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানাজনি হলে বিজিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিজিবির নৌকুচি সীমান্ত ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি জানার পর বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এসময় বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভারতের রোংদাংগাই গ্রামের এক বাসিন্দাকে অপহরণ ও ছিনতাইয়ে চেষ্টা করে কয়েকজন যুবক। পরে ওই গ্রামের বাসিন্দারা তাদের গণপিটুনি দেয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আকরাম হোসেনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভারতের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি দুজন এখনও চিকিৎসাধীন। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমীন বলেন, ভারতীয়দের গণপিটুনিতে বাংলাদেশি এক যুবকের মৃত্যুর খবর শুনেছি। আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণ মামলার একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। বিস্তারিত পরে জানানো সম্ভব হবে।

জাতীয়করণে শিক্ষকদের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম

জাতীয়করণে শিক্ষকদের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা দাবি আদায়ে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সরকারকে। এর মধ্যে দাবি না মানলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণদিবস কর্মবিরতির হুমকিও দিয়েছেন তারা। আজ শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা। জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজী জানান, তাদের দাবি যৌক্তিক, যা আদায়ে ৩২ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দাবি মানা না হলে সর্বাত্মক আন্দোলনে যাবেন তারা। এ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এর আগে দুপুরে শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেননি শিক্ষকরা। পদযাত্রার পরিবর্তে পুলিশের সহায়তায় শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে যান শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ, শতভাগ উৎসব ভাতা, ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং বিনোদন ভাতা। কর্মসূচিতে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষকরা ঢাকায় এসেছেন।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা দেওয়ার সম্ভাবনা

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা দেওয়ার সম্ভাবনা মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটির গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে, যা হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েটকে সমৃদ্ধ অর্থনীতির এই দেশে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ দেবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস কুয়ালালামপুরে ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়ায়, মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি উত্থাপন করেন। ‘মন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। নীতিগতভাবে তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। তবে নীতি কার্যকর হওয়ার আগে উভয় পক্ষকে কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে,’ বলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৈঠকে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। অন্য দেশের শিক্ষার্থীরা যেখানে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পায়, সেখানে এতদিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এর আগে আজ মালয়েশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রী ফাদলিনা বিনতি সিদেক কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বাড়ানোসহ শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। অধ্যাপক ইউনূস শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাংলাদেশের ডিগ্রির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও চেয়েছে। মালয়েশিয়ার মন্ত্রী অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ প্রচারণায় গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন, যার লক্ষ্য বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। ‘আপনি যদি দারিদ্র্যহীন পৃথিবী কল্পনা না করেন, তবে তা হবে না,’ মন্তব্য করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আত্মবিধ্বংসী নয় এমন একটি সভ্যতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অধ্যাপক ইউনূস মালয়েশিয়ার শিক্ষামন্ত্রীকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হয়। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ।

শরীরের রক্তস্বল্পতা দূর করতে প্রয়োজন নিয়মিত কিছু খাবার

শরীরের রক্তস্বল্পতা দূর করতে প্রয়োজন নিয়মিত কিছু খাবার দেশের নারীদের জন্য রক্তস্বল্পতা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। রক্তে লোহিত রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে তাকেই মূলত অ্যানিমিয়া বলা হয়৷ রক্তে হিমোগ্লোবিন কম হলে ক্ষুধামন্দা, শরীর ক্লান্ত বোধ করা, ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, সব সময় অস্বস্তিবোধ করা, অস্বাভাবিক হৃদকম্পন ও মনোযোগের অভাব দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীরের রক্তের চাহিদা পূরণ করতে নিয়মিত কিছু খাবার খেলে উপকার পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে: ভিটামিন সি : ভিটামিন সি-র অভাবে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন সি ছাড়া আয়রন পুরোপুরিভাবে শোষণ হয় না। আমলকী, পেঁপে, বাতাবিলেবু, কমলা, লেবু, স্ট্রবেরি, গোলমরিচ, ব্রোকোলি, আঙুর, টমেটো ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। আয়রন : হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে লোহা গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আয়রন সমৃদ্ধ কিছু খাবার হলো- দেশি সুস্থ মুরগির কলিজা, কচু শাক, লাল মাংস, চিংড়ি, পালংশাক, আমন্ড, বিট, বেদানা, খেজুর। আয়রন, ক্যালসিয়াম, কার্বোহাইড্রেইড এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। এছাড়া মধু আয়রনের একটি ভালো উৎস। আয়রন ছাড়াও মধুতে কপার ও ম্যাঙ্গানিজ আছে। এই উপকরণগুলো শরীরে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে হিমোগ্লোবিন প্রস্তুত করতে সহায়তা করে। নিয়মিত দুধ, ডিমও খেতে হবে। অ্যানিমিয়ার রোগীদের ক্ষেত্রে অক্সিজেন ও পুষ্টিকর উপাদান উৎপাদনের জন্য হৃদপিন্ডের প্রচুর পরিমাণে রক্তের প্রয়োজন হয়৷ এতে হার্ট ফেল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এজন্য অ্যানিমিয়া হলে শুরু থেকেই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ জেনে সে অনুযায়ী খাবার ও ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।