ভোলাহাট সীমান্ত দিয়ে ১৩ জনকে পুশইন

ভোলাহাট সীমান্ত দিয়ে ১৩ জনকে পুশইন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ১৩ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে ভারতের ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কাঞ্চান্টার ক্যাম্পের সদস্যরা ভোলাহাট উপজেলার চামুচা বিওপির সীমান্ত পিলার ১৯৬/২-এস এর কাছ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করে। পরে ৫৯ বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়নের চাঁনশিকারী বিওপির টহলদল সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের আটক করে। আটককৃতরা সবাই পুরুষ এবং তারা অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে সেখানে কাজের সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। আটককৃতরা হলেন— যশোর মনিরামপুর থানার হুগলাডাংগা গ্রামের আরশাদ আলী সরদারের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন (৩২), টাঙ্গাইল ঘাটাইল থানার ডাকাতিয়া গ্রামের মৃত কাষ্ণরাম বর্মনের ছেলে বিষ্ণু বর্মণ (৩৪), কুমিল্লার লাকসাম থানার এলাইচ গ্রামের হায়াত উ নবীর ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (৩০), খুলনা সোনাডাংগা থানার গোবরচাকা মোল্লাবাড়ী গ্রামের মো. ইদ্রিস শেখের ছেলে পন্টু শেখ (৩০), রংপুর কাউনিয়া থানার চন্ডিপুর মহেসা গ্রামের মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩৬), লালমনিরহাট আদিতমারী থানার দুর্গাপুর গ্রামের ইসলা হকের ছেলে টিটু প্রামাণিক (৩০), কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানার ভেড়ামারা গ্রামের মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে মো. মেহেদী হাসান মুন্না (২৯), জগশর গ্রামের মো. কামাল হোসেনের ছেলে মো. সেলিম (২৯), দৌলতপুর থানার ছাতারপাড়া গ্রামের মৃত সারোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রুলাস (৩২), রাজশাহীর বাঘা থানার আতারপাড়া গ্রামের মো. জাকির শেখের ছেলে মেহের আলী (৩২), পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানার ময়নাগুড়ি গ্রামের মৃত খলিলের ছেলে মো. রহমত (৪০), ময়মনসিংহ গৌরীপুর থানার তেরশিরা গ্রামের মৃত ইশালি শিকদারের ছেলে মো. তহিল উদ্দিন সিকদার (৪০), ঠাকুরগাঁও হরিপুর থানার মারাধা গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে মো. মোশারফ আলী (২১)। জানা যায়, তারা ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময় কাজের খোঁজে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেন। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদেরকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে এবং বিএসএফ তাদের সীমান্তে এনে বাংলাদেশে পুশইন করে। মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, আটককৃতরা ২০২৩ হতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় কাজের সন্ধানে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং তারা ভারতীয় পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ করে। সাজাভোগ শেষে পুলিশ তাদেরকে ১১৯ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে বিএসএফ কাঞ্চান্টার বিএসএফ ক্যাম্প কর্তৃক তাদেরকে সীমান্ত পিলার ১৯৬/২-এস এর নিকট দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে। আটককৃত ব্যক্তিদেরকে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য স্থানীয় ভোলাহাট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

পানি স্থির পদ্মায়, বেড়েছে মহানন্দা ও পুনর্ভবায়

পানি স্থির পদ্মায়, বেড়েছে মহানন্দা ও পুনর্ভবায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থির থাকলেও মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পদ্মা নদীর পানি এরই মধ্যে সতর্ক লেভেলে পৌঁছেছে। আজ সকাল ৯টায় পদ্মা নদীর পানি পাঁকা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে পানিবন্দি হয়েছেন হাজার হাজার পরিবার। চরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রামবাসী। এ অবস্থায় আগামীতে পানি বৃদ্ধির কারণে আতঙ্ক বাড়ছে চরাঞ্চলে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব জানান, উজানের ঢলে সপ্তাহ ধরে মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় পানি বাড়েনি। মহানন্দায় বেড়েছে ৫ সেন্টিমিটার ও পুনর্ভবায় পানি বেড়েছে ৮ সেন্টিমিটার। আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানির সমতল বিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পাঁকা পয়েন্টে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল ছিল ২১.৭৩ মিটার; যা গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২১.৭৩ মিটারই রয়েছে। অর্থাৎ পদ্মার পানি স্থির রয়েছে। অন্যদিকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত মহানন্দা নদীর খালঘাট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১৯.৭২ মিটার; যা ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়ে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল দাঁড়িয়েছে ১৯.৭৭ মিটার। অপরদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর পয়েন্টে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত পানির সমতল ছিল ১৯.৮৬ মিটার; যা বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে সমতল দাঁড়িয়েছে ১৯.৯৪ মিটার। পদ্মা নদীর বিপৎসীমা হচ্ছে ২২.০৫, মহানন্দার ২০.৫৫ ও পুনর্ভবার ২১.৫৫ মিটার।

সারাদেশে ডেঙ্গুতে মৃ*ত্যু নেই, হাসপাতালে ভর্তি ২৫২

সারাদেশে ডেঙ্গুতে মৃ*ত্যু নেই, হাসপাতালে ভর্তি ২৫২ গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। একই সময় সারাদেশে ২৫২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫১ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ছয়জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন ও রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) পাঁচজন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭০ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ যাবত ২৪ হাজার ২০০ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২৫ হাজার ৫৭৬ জন। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক নয় শতাংশ পুরুষ ও ৪১ দশমিক এক শতাংশ নারী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। চলতি বছরের এ যাবত ডেঙ্গুতে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৫৭৫ জনের।২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

রূপচর্চায় হলুদের জাদু!

রূপচর্চায় হলুদের জাদু! রান্নায় অপরিহার্য মসলা হলুদ। বাংলাদেশি রান্নায় যেন হলুদ ছাড়া কোনো তরকারি রাঁধাই সম্ভব না। কিন্তু কেবল হলুদ কেবল আপনার রান্নাকেই সুস্বাদু ও সুন্দর করে তোলে না চাইলে আপনার বিউটি রুটিনেও হলুদ বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। কীভাবে? চলুন জেনে দেখে নেওয়া যাক। গায়ের রঙ উজ্জ্বল করে আপনি যদি প্রাকৃতিকভাবেই গায়ের রঙ উজ্জ্বল করতে চান তবে হলুদ ব্যবহার করুন। বিয়ের আগে গায়ে হলুদের আয়োজন কেন করা হয় জানেন তো? বিশেষ দিনটিতে কন্যার গায়ের রঙ যেন খোলাশা হয় সেজন্যেই। হলুদে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং জীবানু-নিরোধক উপাদান যার দরুণ এটি ব্যবহারে গায়ের রঙ উজ্জ্বল, সজীব ও সতেজ হয়ে ওঠে। চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে চোখের নিচে কালো দাগ যার থাকে, সেই বোঝে কত যন্ত্রণার বিষয় এটি! বাজারে অনেক ধরনের সামগ্রী পাওয়া যায় এটি দূর করার জন্যে, কিন্তু সবগুলোই কি নিরাপদ ও কার্যকরী? প্রতিদিন নিয়ম করে হলুদ দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক চোখের আশেপাশে লাগালে কয়েক দিনের মধ্যেই পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারবেন। দাঁত সাদা করে আপনার হয়তো মনে হতে পারে হলুদ আবার কীভাবে দাঁত সাদা করবে? কিন্তু হ্যাঁ, হলুদ দাঁতকে প্রাকৃতিকভাবে মুক্তোর মতন সাদা করে তোলে এবং দাঁত ব্যথা এবং জিঙ্গাইভিটিস দূর করে। আপনি প্রতি সকালে টুথপেস্ট হিসেবে হলুদ ব্যবহার করতে পারেন, ফলাফল কিছুদিনের মধ্যেই দেখতে পাবেন। ব্রণের সঙ্গে যুদ্ধ করে মুখের ব্রণ দূর করতে হলুদ দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে কারণ এতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক থাকে। লালচে ভাব ও ব্যথা কমিয়ে এটি ধীরে ধীরে ব্রণ সারিয়ে তোলে। আপনি যদি অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে টোনার বানিয়ে কিছুদিন ব্যবহার করতে থাকেন, তবে উল্লেখযোগ্য ফলাফল পাবেন। ব্রণের দাগ সারাতেও এটি সমান উপকারী। বয়সের ছাপ কমিয়ে দেয় আপনার ত্বকে উল্লেখযোগ্য হারে বয়সের ছাপ পড়ছে? কিংবা সূর্যের আলোতে অধিক সময়ে অবস্থানের কারণে কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়েছে? চিন্তার কিছু নেই। আধা চা-চামচ হলুদ গুড়োর সঙ্গে এক টেবিল-চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। দশ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ধীরে ধীরে ত্বকে লাবণ্য ফিরে আসবে। দেখলেন তো, রান্নার কাজে অপরিহার্য মসলা হলুদ ত্বকের সুরক্ষায় কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। আজ থেকেই বিউটি রুটিনে হলুদ যোগ করুন এবং ফলাফল নিজের চোখেই দেখুন।

আগামী সপ্তাহে ‘রোডম্যাপ’ প্রকাশ করবে ইসি

আগামী সপ্তাহে ‘রোডম্যাপ’ প্রকাশ করবে ইসি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। আজ নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। ইসি সচিব বলেন, রোড ম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। গণমাধ্যমের সঙ্গেও আগামী সপ্তাহে সংলাপ। নিবন্ধন প্রত্যাশী ২২টি দলের তথ্য মাঠ পর্যায়ে তদন্তে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটদান নিয়ে আরেকটু আলোচনা আছে। তা শেষ করে আপনাদেরকে সময় জানানো হবে।

কানাডার উৎসবে বানভাসি মানুষের গল্পের ‘নয়া মানুষ’

কানাডার উৎসবে বানভাসি মানুষের গল্পের ‘নয়া মানুষ’ বানভাসি মানুষের গল্পের সিনেমা ‘নয়া মানুষ’। চরের মেহনতী মানুষের জীবন ও প্রকৃতির খেয়ালিপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আ. মা. ম. হাসানুজ্জামানের ‘বেদনার বালু চরে’ গল্প অবলম্বনে মাসুম রেজার চিত্রনাট্যে প্রথমবারের মতো সিনেমা নির্মাণ করেছেন তরুণ নির্মাতা সোহেল রানা বয়াতি। গত বছরের শেষের দিকে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। সে সময় দর্শক ও সমালোচকদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়। এবার ‘নয়া মানুষ’ জায়গা করে নিয়েছে টরন্টো ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত ৮ম টরন্টো মাল্টিকালচারাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। ৫ দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা উঠবে আগামী ২৪ আগস্ট, চলবে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। যেখানে ২৮টি দেশের ৪৭টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে ২৫ আগস্ট স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় প্রদর্শিত হবে ‘নয়া মানুষ’। উৎসবে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে নির্মাতা সোহেল রানা বয়াতি বলেন, ‘নয়া মানুষ চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের মানুষের অন্তরের দর্শন তুলে ধরা হয়েছে। প্রান্তিক মানুষ মানবতাবাদের কতটা উচ্চস্থানে বাস করে তা দেখানোর চেষ্টা করেছি। আন্তর্জাতিক এই উৎসবে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হওয়া আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের চলচ্চিত্র ধীরে ধীরে দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের অন্তরে জায়গা করে নেবে। ’ ‘নয়া মানুষ’-এ মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রওনক হাসান ও মৌসুমী হামিদ। বিভিন্ন চরিত্রে আরও আছেন আশিষ খন্দকার, ঝুনা চৌধুরী, বদরুদ্দোজা, মাহিন রহমান, নিলুফার ওয়াহিদসহ অনেকে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, ঘুম হারিয়েছে ‘সাইয়ারা’ নায়িকার!

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, ঘুম হারিয়েছে ‘সাইয়ারা’ নায়িকার! মোহিত সুরির পরিচালিত সদ্য বলিউডে মুক্তি পাওয়া মিউজিক্যাল রোমান্টিক সিনেমা ‘সাইয়ারা’। এতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন নবাগত অহন পান্ডে ও অনীত পড্ডা। মুক্তির পর থেকেই দর্শকের প্রশংসা, ভালোবাসা আর বক্স অফিসের সাফল্য- সবই পেয়েছে। তবে এত সাফল্যের পরও অনীত পড্ডার মনে মিশ্র অনুভূতি। ২২ বছরের এই তরুণী প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, ভালোবাসার বন্যা তাকে যেমন কৃতজ্ঞ করেছে, তেমনি ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি করেছে শঙ্কা। মূল নায়িকা হিসেবে অনীতের ‘সাইয়ারা’ প্রথম সিনেমা। সেখানেই করেছেন বাজিমাত। মুক্তির পরপরই রাতারাতি যেন পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন তিনি। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ‘সাইয়ারা’র কয়েকটি স্থিরচিত্র শেয়ার করে এক দীর্ঘ আবেগময় নোট লেখেন অনীত। সেখানে স্বীকার করেছেন, সাফল্যের এ আলো তাকে যতটা আনন্দ দিয়েছে, ততটাই ভীত করেছে। অনীত লেখেন, আমার ঘুম হারিয়ে গেছে। আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, যদিও ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। কিন্তু জানি, আমি আপনাদের জন্য গভীর ভালোবাসা অনুভব করি। এই উজাড় ভালোবাসা যেন আমার মাথায় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুঝে উঠতে পারছি না, কীভাবে তা ফিরিয়ে দেব। সামনে কী হবে ভেবে আমি ভয় পাচ্ছি। ভয় লাগছে, আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব তো? অনীত আরও লেখেন, আমার যা কিছু আছে, এমনকি ক্ষুদ্রতম অংশটুকুও আপনাদের জন্য উৎসর্গ করতে চাই। যদি তা আপনাদের হাসায়, কাঁদায় বা কোনো স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, তাহলেই যথেষ্ট। হয়তো সে কারণেই আমি এখানে আছি। যোগ করে বলিউডের এই তরুণ তুর্কী লেখেন, আমি নিজেকে প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাব। নিখুঁত নই, তবে যা কিছু আছে, তার সবটুকু দিয়েই আপনাদের ভালোবাসব। অনীতের এ খোলামেলা আবেগভরা পোস্ট নেটিজেনদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। কেউ তাকে সাহস জুগিয়েছেন, কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, আপনি যেভাবে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, তা সত্যিই অনন্য। বলিউডে একেবারেই নতুন নন অনীত। একাধিক জনপ্রিয় পণ্যের মডেল হিসেবে নজর কেড়েছেন এই নবীন। কৈশোরে কয়েকটি মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছেন। অভিনেত্রী ছাড়া গায়িকা, সুরকার হিসেবেও বলিউডপাড়ায় পরিচিত অনীত। সামনে অনীতকে ওয়েব সিরিজ ‘ন্যায়’-এ দেখা যাবে। নিত্যা মেহেরা ও করণ কাপাডিয়া পরিচালিত এই সিরিজে তার সহশিল্পী ফাতিমা সানা শেখ।

বিশ্বের সেরা ১০ সুন্দরী অভিনেত্রীর তালিকা প্রকাশ

বিশ্বের সেরা ১০ সুন্দরী অভিনেত্রীর তালিকা প্রকাশ ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ (আইএমডিবি) একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে বিশ্বের ১০ জন সুন্দরী অভিনেত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে তারা যে শুধু সুন্দরী তেমন নন, পাশাপাশি তারা দাপটের সঙ্গে অভিনয়টাও করেন। এই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির ও বলিউড অভিনেত্রীর নাম হল কৃতি শ্যাননের নাম। তালিকার তৃতীয় স্থানে হানিয়া এবং কৃতির অবস্থান চতুর্থ। আইএমডিবি-এর তালিকা অনুসারে ২০২৫ সালের সেরা ১০ জন সুন্দরী অভিনেত্রীরা হলেন: ১. ম্যাককেনা গ্রেস- যুক্তরাষ্ট্র ২. জুলিয়া বাটার্স- যুক্তরাষ্ট্র ৩. হানিয়া আমির -পাকিস্তান ৪. কৃতি শ্যানন – ভারত ৫. ন্যান্সি ম্যাকডোনি- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র/দক্ষিণ কোরিয়া ৬. দিলরাবা দিলমুরাত- চীন ৭. শৈলেন উডলি- যুক্তরাষ্ট্র ৮. মার্গো রবি- অস্ট্রেলিয়া ৯. আনা দে আর্মাস- কিউবা স্পেন ১০. এমা ওয়াটসন- যুক্তরাজ্য

সাদা পাথর লুটের ঘটনায় করা রিটের শুনানি আগামী রবিবার

সাদা পাথর লুটের ঘটনায় করা রিটের শুনানি আগামী রবিবার সিলেটে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আগামী রবিবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর কে এম নুরুন্নবী। রিটে ঘটনার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এতে স্বরাষ্ট্র সচিব ছাড়াও পরিবেশ সচিব, আইজিপি, সিলেটের ডিসি, কোম্পানিগঞ্জের ইউএনও ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদা সোনাখ্যাত দেশের শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর অবাধে লুটপাট চলছে- এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ পাথর লুটের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। পরে এ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল দুদকের একটি টিমও সেখানে অভিযান চালায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একসময় রাতের আঁধারে মাঝেমধ্যে পাথর চুরি হলেও এখন দিনে-দুপুরে কয়েক কোটি টাকার সাদা পাথর চুরি হচ্ছে। যার কারণে বর্তমানে সাদা পাথর বিলীন হওয়ার উপক্রম। প্রশাসনের সামনে দিয়ে বালু-পাথর লুট করে নিয়ে গেলেও কোনো কর্ণপাত নেই তাদের। সাদা পাথর লুটের জন্য ওই এলাকার বাসিন্দারা প্রশাসনকেই দুষছেন। তারা বলছেন, প্রশাসনের ব্যর্থতা আর মদতে সাদা পাথর লুটপাট চলছে। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সাদা পাথর লুটপাট শুরু হয়। পরে প্রশাসনের কারণে তা অনেকটাই বন্ধ হয়। কিন্তু তবুও সুযোগ বুঝে চলে এই লুটপাট। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন ধলাই নদীতে অভিযান চালালেও লুটপাট বন্ধ হয়নি। এক সপ্তাহ লুটপাট হলে অভিযান হয় একদিন, আর ওইদিন বাদে বাকি ছয়দিনই চলে লুটপাট। যেদিকে পাথর কেনা-বেচা হয় এবং গাড়ি বা বড় নৌকা করে পাথর যায়, সেদিকে অভিযান না হওয়ায় এই লুটপাট বন্ধ হচ্ছে না বলেও দাবি করছেন এলাকাবাসী।

রাষ্ট্রপতিকে স্পিকারের শপথ পড়ানো প্রশ্নে রুল শুনানিতে ৭ অ্যামিকাস কিউরি

রাষ্ট্রপতিকে স্পিকারের শপথ পড়ানো প্রশ্নে রুল শুনানিতে ৭ অ্যামিকাস কিউরি প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার শপথ পড়াবেন এমন বিধান নিয়ে জারি করা রুল শুনানিতে মতামত জানাতে সাত আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৬ অক্টোবর দিন রেখেছেন। সাত আইনজীবী হলেন—জয়নুল আবেদীন, প্রবীর নিয়োগী, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, শাহদীন মালিক, আহসানুল করিম, মুস্তাফিজুর রহমান খান ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। এর আগে ১০ মার্চ কবি, গীতিকার, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট শহীদুল্লাহ ফরায়জী এ রিট দায়ের করেন। পরদিন রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্ট প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার শপথ পড়াবেন, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর এমন বিধান কেন ’৭২-এর সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক। রাষ্ট্রপতিকে প্রধান বিচারপতি শপথ পড়ানোর বিধান পরিবর্তন করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে জাতীয় সংসদের স্পিকার শপথ পড়ানোর বিধান অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। রিটে আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে। রিটের পর আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, প্রথম থেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি একজন আরেকজনকে শপথ পড়াতেন। সেটি ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে স্পিকারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ৫ম সংশোধনীতে সেটা বাতিল করে প্রধান বিচারপতির কাছে আনা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতিকে প্রধান বিচারপতি শপথ পড়াতেন। কিন্তু ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীতে আবার স্পিকারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেটি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। রিট আবেদেনে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘রাষ্ট্রপতির শপথে প্রধান বিচারপতির অনিবার্যতা’ শীর্ষক প্রকাশিত একটি কলামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেটি লিখেছেন রিটকারী শহীদুল্লাহ ফরায়জী। ওই কলামের একটি অংশে বলা হয়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে রাষ্ট্রপতি বা প্রেসিডেন্টকে শপথবাক্য পাঠ করান সেই দেশের প্রধান বিচারপতি। সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির দেশেও রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতির নিকট। এটা বিশ্বব্যাপী সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত রেওয়াজ। কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যত্যয় দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার। রাষ্ট্রের প্রধানের শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে উপেক্ষা করা প্রকারান্তরে রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য বিনষ্ট করা। এতে সংবিধানের গভীর দার্শনিক ভিত্তি থেকে রাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই দার্শনিক ভিত্তি হচ্ছে—রাষ্ট্রপতি সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে প্রধান বিচারপতির নিকট শপথ গ্রহণ করে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, এটাই হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সাংবিধানিক নির্দেশনা। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক এবং তিনি সংবিধানের অভিভাবকের কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন। তাই রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠে প্রধান বিচারপতি অনিবার্য। যেহেতু রাষ্ট্রপ্রধান রূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন সেহেতু তাঁর শপথ রাষ্ট্রের অধীনস্থ তিন বিভাগের কোনো প্রধানের নিকট নয়, তিনি শপথ পাঠ করবেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির নিকট। এই অন্তর্নিহিত দর্শনের জন্যই প্রধান বিচারপতিকে ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রধান বিচারপতির নিকট শপথবাক্য পাঠ করার এই বাধ্যবাধকতা এবং মহিমান্বিত সাংবিধানিক মর্যাদা প্রজাতন্ত্রের কেউ বিনষ্ট করতে পারেন না, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তা করেছে। সংবিধানের চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই আইন বলবৎ করা হয়েছে, যা প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। এটা আইন ও বিচারবিভাগের প্রতি ছিল আওয়ামী সরকারের অসম্ভব বিদ্বেষমূলক আচরণ প্রকাশের নজির— যা সাংবিধানিক ন্যায্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। ‘৭২ সালের সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও প্রধান বিচারপতির মর্যাদা সুরক্ষার প্রশ্নে শপথ ও ঘোষণার তৃতীয় তফসিলে বলা হয়েছিল— ‘রাষ্ট্রপতি, স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের শপথ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক পরিচালিত হইবে। ’ এগুলো আইনবিভাগ ও শাসনবিভাগের সাথে বিচারবিভাগের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি, যা সংবিধান প্রণয়নের সময়ই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত। ১৯৭২ সালের সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এবং চরিত্র যতটুকু সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল, আওয়ামী লীগ অতি দ্রুত তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রকে আওয়ামী লীগ নামক দলটি কীভাবে দেখতে চায়— তার প্রতিফলন ঘটেছে তাদের আনীত সংবিধানের চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীতে। রাষ্ট্রপতির শপথ স্পিকারের নিকট; এমন দেশ খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর । বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশসমূহের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং প্রজাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধারে— রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক পরিচালিত হবে, এ বিধান বাংলাদেশে আবার চালু বা পুনর্বহাল করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক ও শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকাশের স্বার্থেই তা করা প্রয়োজন।