এ আর রহমানের বিরুদ্ধে গান চুরির অভিযোগ

এ আর রহমানের বিরুদ্ধে গান চুরির অভিযোগ বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না ভারতীয় সিনেমাকে অনেক স্মরণীয় গান উপহার দেওয়া অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রাহমানের। সম্প্রীতি সাম্প্রদায়িক বৈষম্য নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এবার তার বিরুদ্ধে গান চুরির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলার আবেদন করেছেন ভারতীয় ধ্রুপদী গায়ক ওস্তাদ ফায়াজ ওয়াসিফুদ্দিন সাগর। দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয় মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগের নথি অনুযায়ী, এআর রহমান মণি রত্নমের তামিল ছবি ‘পোন্নিয়িন সেলভান ২’-এর ‘বীর রাজা বীর’ গানটিতে তার পুরানো লেখা গান ‘শিব স্তুতি’র একটি অংশ চুরি করেছেন। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পোন্নিয়িন সেলভান ২’ বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ডাগর বাণীর কোনো পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। সমগ্র বিশ্ব ডাগর পরিবার এবং তাদের ধ্রুপদ সংগীত সম্পর্কে জানে। তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অত্যন্ত সম্মানিত শিল্পী। বিচারপতি বাগচী বলেন, আমরা তদন্ত করতে চাই যে আসল লেখক কে। কেবল একটি গান গাইলেই লেখক হওয়া যায় না। আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে এর আগে অন্য কারো একই সুর ছিল না। আপনি ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছেন যে আসামিরা (রহমানের দল) ডাগর ঐতিহ্যের অংশ। তবে এআর রহমানের আইনজীবী আদালতকে বলেন, আমরা কখনও কারও অধিকার দাবি করি না। কিন্তু যখন আমার মক্কেল (রহমান) কিছু করেন, তখন তিনি তা দাবি করেন।’ প্রথমদিনের শুনানি শেষে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত স্থগিত রেখেছেন। আগামী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আবারও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

স্থগিত শাহরুখ-সালমানের ‘টাইগার ভার্সেস পাঠান’ সিনেমা!

স্থগিত শাহরুখ-সালমানের ‘টাইগার ভার্সেস পাঠান’ সিনেমা! ‘পাঠান’ এবং ‘টাইগার’ সাফল্যের পর স্পাই ইউনিভার্সের দর্শক-অনুরাগীদের ধামাকা দিতে চেয়েছিলেন যশরাজ ফিল্মসের প্রযোজক আদিত্য চোপড়া। ভারতের হিন্দি সিনেমার দুই তারকা শাহরুখ খান ও সালমান খানকে একসঙ্গে নিয়ে ‘টাইগার ভার্সেস পাঠান’ সিনেমায় হাজির করবেন পর্দার ‘করণ-অর্জুন’কে। শাহরুখ-সালমানের দ্বৈরথে সিনেপর্দা কাঁপিয়ে বক্স অফিসেও দারুণ ব্যবসা দিবে, সে কথা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সূত্রের ভাষ্যমতে, ‘টাইগার ভার্সেস পাঠান’ ছবি নির্মাণের বাজেট ‘পাঠান’ এবং ‘টাইগার ৩’ এর বাজেটকেও ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ, দুই ‘খান’ অভিনীত এই ছবিই হতে যাচ্ছে বলিউডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি। কিন্তু আপাতত থমকে গিয়েছে ৩০০ কোটি রূপি সেই স্বপ্নের প্রজেক্ট। যশ রাজ ফিল্মসের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছবিকে সাময়িক বিরতিতে পাঠিয়েছে। সূত্রটি দাবি করেছে, ছবিটি প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই বাজেট নিয়ে বড় জটিলতা দেখা দিয়েছে।মূলত শাহরুখ ও সালমনের মতো দেশের এত বড় দুই তারকার পারিশ্রমিকে ব্যয় করতে হচ্ছে ১০০ কোটি রুপি। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক লোকেশন, স্টান্ট, অ্যাকশন সেট-পিস, ভিএফএক্স বাছাইয়েও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে ছবির সম্ভাব্য বাজেট পৌঁছে যায় এমন এক উচ্চতায়, যা বর্তমান বাজারে বিরাট ঝুঁকির বলেই মনে করছে প্রযোজনা সংস্থা। ইন্ডাস্ট্রিতে ক্রমবর্ধমান প্রোডাকশন খরচ, তারকার পারিশ্রমিক, এবং বক্স অফিসের অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে বলিউডের ফার্স্ট বয়-এর স্টুডিও-ও এখন হিসেবি হতে বাধ্য। ফলে প্রকল্পটি বাতিল নয়, তবে আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলেই শোনা যাচ্ছে। এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, এত বড় দুই তারকা বড় পারিশ্রমিক চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। কেউ আবার মনে করছেন, বলিউডে এখন আর অত বড় বাজেটের ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রযোজকরা। আবার অনেক দর্শকের মতে, শাহরুখ-সলমনকে আবার একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখার সুযোগ হাতছাড়া হলে সেটি সত্যিই ‘ঐতিহাসিক মিস’ হবে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অনিশ্চিত। তবে ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞরা বলছেন, বড় প্রজেক্টের পরিকল্পনা কখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। সঠিক সময়, সঠিক বাজার, আর সঠিক হিসেব মিললেই আবার আলোচনায় ফিরে আসে।

পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন বুলবুল

পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেটে আপাতত ব্যস্ততা নেই। ফাঁকা এই সময়ে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আজ দুপুরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিসিবির একটি সূত্র। সপ্তাহখানেক পরই দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। গতকাল (শনিবার) বিসিবির অন্য পরিচালকদের খুদে বার্তায় বিষয়টি জানিয়েছেন বুলবুল।

সুপার এইটে ওঠার কঠিন সমীকরণে অস্ট্রেলিয়া

সুপার এইটে ওঠার কঠিন সমীকরণে অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারের পর সুপার এইটে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে কঠিন সমীকরণের মুখে অস্ট্রেলিয়া। বাকি ম্যাচগুলোতে শুধু জিতলেই চলবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকেও। আজ কলকাতায় বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ‘সি’ গ্রুপের ইংল্যান্ড-ইতালি ম্যাচ। সুপার এইটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ইতালিকে জিততেই হবে। একই দিনে ‘বি’ গ্রুপের অপর ম্যাচে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামবে অস্ট্রেলিয়া। ইতালিকে আজ হারালে ইংল্যান্ড জিতলে সুপার এইটে উঠবে। হ্যারি ব্রুকের দলের পয়েন্ট হবে ৬। যদি ইতালি অঘটন ঘটায়, তাহলে সুপার এইটে ওঠা ইংল্যান্ডের জন্য একটু কঠিনই হয়ে যাবে। স্কটল্যান্ড-ইতালি দুই দলেরই পয়েন্ট এখন ২। স্কটল্যান্ড ও ইতালির নেট রানরেট ‍+০.৩৫৯ ও -০.৩৫২। ৪ পয়েন্ট পাওয়া ইংল্যান্ডের নেট রানরেট ‍-০.১৪৩। তখন ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটা ইতালির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করা উইন্ডিজকে তখন ইতালির হারাতে হবে নেট রানরেটের কথা হিসেব করে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে স্বস্তির সমীকরণ—শ্রীলঙ্কা যেন জিম্বাবুয়ের কাছে হারে অথবা জিম্বাবুয়ে যেন আয়ারল্যান্ডের কাছে হারে। সে ক্ষেত্রে ছয় পয়েন্ট পেলেই অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিতভাবে অন্তত দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারবে। আজ শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেও অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে না। সে ক্ষেত্রে ওমানকে হারিয়ে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৪। তখন জিম্বাবুয়েকে বাকি দুটি ম্যাচ—আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে—হারতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে এবং অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়বে, যেখানে নেট রান রেট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শ্রীলঙ্কার অবস্থান তুলনামূলক ভালো। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ২ হলেও নেট রান রেট ৩.১২৫। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতলেই তারা সুপার এইট নিশ্চিত করবে। হারলেও সুযোগ থাকবে, যদি তারা জিম্বাবুয়েকে হারায় এবং পরে জিম্বাবুয়ে আয়ারল্যান্ডের কাছে হারে কিংবা অস্ট্রেলিয়া ওমানের কাছে হেরে যায়। অন্যথায় ছয় পয়েন্ট নিয়ে তিন দলের মধ্যে হিসাব-নিকাশ শুরু হবে। শ্রীলঙ্কা যদি দুই ম্যাচই হেরে যায়, তাহলে জিম্বাবুয়ে সরাসরি পরের রাউন্ডে উঠবে। সে ক্ষেত্রে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে অস্ট্রেলিয়াকে ওমানের কাছে হারতে হবে—যা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে। জিম্বাবুয়ের সামনে সবচেয়ে সহজ পথ—শ্রীলঙ্কাকে হারানো। সে জয় তাদের সুপার এইটে তুলে দেবে। তবে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে আয়ারল্যান্ডকে হারালে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তাদেরও নেট রান রেটের লড়াইয়ে নামতে হবে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। জিম্বাবুয়ে যদি দুটি ম্যাচই হারে, তবুও সুযোগ থাকবে—শর্ত একটাই, অস্ট্রেলিয়া যেন বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে একটির বেশি না জেতে। আয়ারল্যান্ডের সমীকরণ সবচেয়ে কঠিন। তিন ম্যাচে ২ পয়েন্ট ও ০.১৫০ নেট রান রেট নিয়ে তাদের শেষ ম্যাচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। জিতলে তারা ৪ পয়েন্টে শেষ করবে। তবে তখন প্রয়োজন হবে—আর মাত্র একটি দল যেন চার পয়েন্টের বেশি পায়। যদি শ্রীলঙ্কা দুই ম্যাচ জিতে ৮ পয়েন্টে শেষ করে, তাহলে অস্ট্রেলিয়া ওমানকে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট পাবে। সে ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে সমান পয়েন্টে লড়বে। কিন্তু জিম্বাবুয়ে যদি শ্রীলঙ্কাকে হারায়, তাহলে তিন দলের সমান পয়েন্টের লড়াই সম্ভব কেবল তখনই, যদি অস্ট্রেলিয়া ওমানের কাছে হারে। অস্ট্রেলিয়া শেষ দুটি ম্যাচ জিতলে আয়ারল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত। সব মিলিয়ে ‘বি’ গ্রুপে শেষ ম্যাচগুলো হয়ে উঠেছে অঘোষিত নকআউট। অস্ট্রেলিয়ার জন্য সমীকরণ পরিষ্কার—নিজেদের কাজ আগে শেষ করতে হবে, এরপর অপেক্ষা অন্যদের ফলের।

নিউজিল্যান্ডের নতুন অধিনায়ক অ্যামেলিয়া

নিউজিল্যান্ডের নতুন অধিনায়ক অ্যামেলিয়া নারী ক্রিকেটের তরুণ অলরাউন্ডার অ্যামেলিয়া কারকে সব সংস্করণের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তিনি সোফি ডিভাইনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ২০২৫ সালের বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন সোফি ডিভাইন। এছাড়া টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্বও ছেড়ে দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই তারকা। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ৮৪ ওয়ানডে ও ৮৮ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন অ্যামেলিয়া। ওয়ানডেতে তার রান ২ হাজার ৩০৪, গড় ৪১.১৪ ও উইকেট নিয়েছেন ১০৬টি। টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার ৪৫৩ রান করেছেন ১০৯.৭৪ স্ট্রাইক রেটে, সঙ্গে ৯৫ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৬.০৯ ইকোনমি রেটে। তিনি ইতিমধ্যেই দেশের তৃতীয় সর্বকালের শীর্ষ উইকেট শিকারী এবং চতুর্থ সর্বকালের শীর্ষ রান সংগ্রাহক। চলতি মাসের শেষের দিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে সিরিজে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে দিয়ে কারে নতুন দায়িত্ব শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অ্যামেলিয়া। দায়িত্ব পাওয়ার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যামেলিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকে নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়োিছ। দেশের অধিনায়কত্বের সুযোগ পাওয়া একটি বিশাল সুযোগ। অধিনায়কত্ব আমাকে বদলে দেবে না। আমি যেমন ছিলাম, তেমনই থাকব। দলকে নেতৃত্ব দিতে এবং দেশের জন্য সাফল্য আনতে সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করব। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার নেতৃত্বের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ মৌসুমের সুপার স্ম্যাশ টুর্নামেন্টে ওয়েলিংটন ব্লেজকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন অ্যামেলিয়া।

এক হারে শেষ সব স্বপ্ন পাকিস্তানের

এক হারে শেষ সব স্বপ্ন পাকিস্তানের ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর সুপার এইটের সমীকরণে জটিল অবস্থায় পড়ে গেছে পাকিস্তান। শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই সালমান আলী আঘাদের দলের সামনে। গ্রুপ এ এর সুপার এইটের সমীকরণ এখন অনেকটাই পরিষ্কার। তবু শেষ ম্যাচের আগে কয়েকটি দলের ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে। ভারত ইতোমধ্যে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তারা নেদারল্যান্ডসের কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও কোনো সমস্যা নেই। তিন ম্যাচ শেষে ভারতের পয়েন্ট ৬। এই গ্রুপ থেকে আর দুটি দলের একসঙ্গে ৬ পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে ভারতের পরের পর্ব নিশ্চিত। শীর্ষস্থান হারানোর সম্ভাবনা থাকলেও এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে সেটার তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। কারণ আগেই সুপার এইটের গ্রুপ নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। পাকিস্তান চাইলে গ্রুপের শীর্ষেও উঠতে পারে, তবে সেটিও বাস্তবে বাড়তি সুবিধা দেবে না। ভারতের কাছে ৬১ রানের হারের পর পাকিস্তানের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। কাজটা একদিকে সহজ, আবার কঠিনও। নিজেদের শেষ ম্যাচে নামিবিয়াকে হারাতেই হবে। হারলেই বিদায়। জয়ের ব্যবধান কোনো বিষয় নয়। এমনকি ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও পাকিস্তান এগিয়ে যাবে। কাগজে কলমে নামিবিয়া দুর্বল দল হলেও তারা মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। চমক দেখানোর ক্ষমতা আছে তাদের। এই হারের ফলে পাকিস্তান নেমে গেছে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে। কারণ তাদের নেট রান রেট এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে খারাপ। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সব ম্যাচ খেলে ফেলেছে। তাই তাদের নেট রান রেট আর বদলাবে না। পাকিস্তান হারলে তাদের নেট রান রেট আরও খারাপ হবে। ফলে হার মানেই সালমান আলী আঘাদের দলের বিদায়। নেদারল্যান্ডসের পথ সবচেয়ে কঠিন। তাদের আগে ভারতকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। একই সঙ্গে নামিবিয়াকে পাকিস্তানকে হারাতে হবে। এই দুই শর্তই কঠিন। এমনকি সব কিছু পক্ষে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রকে নেট রান রেটে ছাড়িয়ে যেতে হবে, যেটা মোটেও সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। পাকিস্তান যদি নামিবিয়াকে হারায় কিংবা ম্যাচ ভেসে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ছিটকে যাবে। তবে নামিবিয়া জিতলে তাদের আশা থাকবে। তারপরও নেদারল্যান্ডস যদি ভারতকে বড় ব্যবধানে হারায়, তাহলে হিসাব বদলে যেতে পারে। সম্ভাবনা কম, তবে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরোর কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কো। ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) গতকাল এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। গোপনে দেশত্যাগ করার সময় সাবেক ‘মিডাস’ দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারা হেফাজতে আছেন। আইন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে এ ব্যাপারর আরও বিস্তারিত জানানো হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির একজন ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন গালুশচেঙ্কো। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি ডলার অবৈধভাবে উপার্জন ও সেই অর্থ বিদেশে পাচার করার অভিযোগ ওঠে। গালুশচেঙ্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি অর্থের বিনিময়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে ইউক্রেনীয় ব্যবসায়ী তিমরুর মিন্ডিচকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এছাড়া ইউক্রেনের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির সবগুলো পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জোঅ্যাটমের ঠিকাদারদের কাছ থেকে যে কোনো কন্ট্রাক্টের বিনিময়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ ওঠার পর গত নভেম্বরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। তারপর গতকাল দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার করা হলো তাকে। ২০২৫ সালে ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তাইমোশেঙ্কোসহ কয়েক জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গেরমান গালুশচেঙ্কোও তাদের মধ্যে অন্যতম। দুর্নীতি ইউক্রেনের সরকারি প্রশাসনের একটি বড় সমস্যা। মূলত এই কারণেই এখন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের সদস্যপদ প্রাপ্তির ব্যাপারটি এখনও ঝুলে আছে।

পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সমঝোতার আলোচনায় প্রস্তুত ইরান

পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সমঝোতার আলোচনায় প্রস্তুত ইরান ইরানের একজন মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন, আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী হলে পারমাণবিক চুক্তির জন্য সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান প্রস্তুত আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অবশ্য বারবার বলে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরানই আলোচনার প্রক্রিয়া থামিয়ে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তির পক্ষে, কিন্তু ইরানের সাথে এটি করা খুবই কঠিন। তবে তেহরানে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেছেন, “বল এখন আমেরিকার কোর্টে যে, তারা চুক্তি চায় কি-না”। “তারা আন্তরিক হলে আমি নিশ্চিত আমরা সমঝোতার দিকেই এগিয়ে যাবো”। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সময় সারাদেশে বিক্ষোভ সহিংস দমনের পর তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ওই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ফেব্রুয়ারির শুরুতে উপসাগরীয় দেশ ওমানে পরোক্ষভাবে বৈঠক করে। তাখত-রাভানচি নিশ্চিত করেছেন যে, দ্বিতীয় দফার বৈঠক মঙ্গলবার জেনেভায় হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনা কমবেশি ইতিবাচক দিকেই এগিয়েছে, তবে এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। ট্রাম্পও এসব আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেহরান ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা সমঝোতা বিষয়ে তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ। পারমাণবিক অস্ত্র মানের প্রায় কাছাকাছি এই মাত্রার সমৃদ্ধকরণের কারণে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে—এমন সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। যদিও ইরান বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে। তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেন, “তারা যদি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকে, তবে আমরা আমাদের কর্মসূচি–সংক্রান্ত এবং অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত আছি।” তবে তিনি এটি নিশ্চিত করেননি যে, তারা পুরো নিষেধাজ্ঞা নাকি কিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলছেন। ইরান ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মতো এবারও চারশো কেজির বেশি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠাতে রাজি হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তাখত-রাভানচি বলেন, “আলোচনার প্রক্রিয়ায় কী ঘটবে তা বলার সময় আসেনি”। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে ২০১৫ সালের বহুপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ১১,০০০ কেজি ইউরেনিয়াম গ্রহণ করেছিল রাশিয়া। তিন বছর পর সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। এখন রাশিয়া আবারও এই দ্রব্যটি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে। এর বাইরে গণমাধ্যমে খবর এসেছে যে ইরান আপাতত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল আলোচনাটি যেন কেবল পারমাণবিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে। এ প্রসঙ্গে তাখত-রাভাঞ্চি বলেন, “আমাদের ধারণা, তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে যদি চুক্তি করতে চান, তবে পারমাণবিক ইস্যুতেই দৃষ্টি দিতে হবে।” এটি নিশ্চিত হলে ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, ওয়াশিংটনের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’সংক্রান্ত কঠোর দাবি ইরান সবসময়ই চুক্তির পথে বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চাপে ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চাপে ভারত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারত। সমালোচকদের দাবি, এই চুক্তি ওয়াশিংটনের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’। মুম্বাই থেকে এএফপি জানায়, চলতি মাসে ঘোষিত চুক্তিটি বিশেষ করে ভারতের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, সস্তা মার্কিন পণ্য আমদানি হলে দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ভারতে ৭০ কোটির বেশি মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ হয়নি, শুধু একটি যৌথ বিবৃতি ও হোয়াইট হাউসের তথ্যপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, মার্চের শেষ নাগাদ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দাস এএফপিকে বলেন, ‘ট্রাম্পের যুগে নিশ্চিত বলে কিছু নেই।’ তার মতে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা টিকবে কি না, তা নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। সবচেয়ে বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি হলো- সভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার ‘ইচ্ছা’ প্রকাশ করেছে। অথচ গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি ছিল প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার। নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, বছরে আমদানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা ‘অবাস্তব’। তিনি জানান, এ অঙ্গীকারের বড় অংশ বিমান কেনার সঙ্গে যুক্ত। তবে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্তও মোট লক্ষ্যপূরণে যথেষ্ট হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ২০০টি বোয়িং বিমান কিনলেও (প্রতি বিমানের আনুমানিক মূল্য ৩০০ মিলিয়ন ডলার) মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ‘অঙ্গীকার’ নয় বরং ‘ইচ্ছা’ হিসেবে লক্ষ্য নির্ধারণ করায় নয়াদিল্লির ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের শিভান ট্যান্ডন বলেন, লক্ষ্যকে বাধ্যবাধকতা না বানানোয় চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কমেছে। আরেকটি বিতর্কিত বিষয় হলো- ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধে সম্মত হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে। তবে যৌথ বিবৃতিতে এমন কোনো প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই এবং ভারত সরকারও বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। ভারত বলছে, তাদের জ্বালানি নীতি জাতীয় স্বার্থনির্ভর এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি রুশ তেল আমদানি করলেও জানুয়ারিতে তা কমে প্রায় ১১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিগুলো এপ্রিলের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল কেনা শুরু করেছে। তবে রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আংশিকভাবে রাশিয়ার রোজনেফটের মালিকানাধীন মুম্বাইভিত্তিক নায়ারা এনার্জি প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল তেল কেনা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি এখনো ‘ভঙ্গুর ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত। এ কারণে ভারতের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনার মতো স্থিতিশীলতা এখনো তৈরি হয়নি।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের শপথ। ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হচ্ছেন ১ হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি অতিথি। মেগা ইভেন্ট সামনে রেখে দক্ষিণ প্লাজায় চলছে কর্মযজ্ঞ। শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সংসদের প্রবেশপথ ও ভেতরে নেওয়া হয়েছে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। স্ট্যান্ডবাই থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিস্পোজাল ও বিশেষায়িত সব ইউনিট। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় এরইমধ্যে দক্ষিণ প্লাজাজুড়ে সুইপিং করেছে বোম্ব ডিস্পোসাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাদা পোশাকে অবস্থান করছেন গোয়েন্দারা। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের বাসা থেকে সংসদের দক্ষিণ প্লাজার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় থেকেই দেওয়া হবে নিরাপত্তা। প্রোটোকলের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে অর্ধশত গাড়ি। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে রুটকেন্দ্রিক এবং সংসদ ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’ শপথ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় থাকবেন পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। কোনো শঙ্কা না থাকলেও নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।