কমছে পানি, ভাঙছে নদী ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজার কৃষক

কমছে পানি, ভাঙছে নদী ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজার কৃষক চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবারের বন্যায় ১০ হাজার ২১১ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতি হয়েছে রোপা আউশসহ ২ হাজার ২৫২ হেক্টর জমির ফসল। অন্যদিকে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পাঁকা ও নারায়ণপুর ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবারের বন্যায় সদর, শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলসহ জেলায় ২ হাজার ১৯ হেক্টর রোপা আউশ, ২০ হেক্টর ভুট্টা, ৮৭ হেক্টর রোপা আমন, ১০৮ হেক্টর শাকসবজি, কলাবাগান ৫ হেক্টর, ১৩ হেক্টর হলুদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া শূন্য দশমিক ৩৫ হেক্টর পেঁয়াজ বীজ নষ্ট হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী এইসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন— পানি তো নেমে গেছে। আমরা আগামী রবি-সোমবারের মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে সঠিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করব। আশা করা হচ্ছে কিছু ধান হয়ত পাওয়া যাবে। পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, তিন ফুট মতো পানি নদীর পাড়ের নিচে নেমেছে। এর ফলে চরপাঁকা, কদমতলা, লক্ষ্মীপুর, শেয়ালপাড়া এলাকায় পদ্মার ভাঙনে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বন্যার পর স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। পাঁকাবাসী কষ্টে আছে বলে জানান তিনি। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এবারের বন্যায় পাঁকা, উজিরপুর সম্পূর্ণ এবং দুর্লভপুর ও মনাকষার আংশিক মিলিয়ে পানিবন্দি হয় সাড়ে ৭ হাজার পরিবার। তাদের মধ্যে ২০ মেট্রিক টন চাল, শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৩০ পরিবারে ১০ কেজি করে চালসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৪টি পরিবারকে ২ বান্ডিল করে ঢেউটিন, নগদ ৬ হাজার করে টাকা ও চালসহ শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী রবিবার পাঁকা ইউনিয়নে ৬০০ পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান। এদিকে, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনূর আলম জানান, এবার বন্যায় নারায়ণপুর ও আলাতুলি ইউনিয়নে ১ হাজার ২০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ১৫ কেজি করে চাল, শুক্রনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।

আশির দশকের পত্রমিতালী

আশির দশকের পত্রমিতালী আশির দশকে দূরের, অচেনা কারও সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম উপায় ছিলো পত্রমিতালী। এই পত্রমিতালী কেন্দ্র করে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আলাদা একটি শৈল্পিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিলো। সাধারণত পরষ্পর-পরষ্পর সম্পর্কে কারও কাছ থেকে জেনে, একজন আরেকজন সম্পর্কে আগ্রহী হলে চিঠির মাধ্যমে একপক্ষ হয়তো বন্ধুত্বের আহ্বান জানাতো। এখানে একজন ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকতেন। তিনিই প্রথম পক্ষের চিঠি দ্বিতীয় পক্ষের কাছে পৌঁছে দিতেন। চিঠি পাওয়ার পরে ওই মধ্যস্ততাকারীর কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে দ্বিতীয় পক্ষ সিদ্ধান্তে আসতেন পত্রমিতালী করবেন, নাকি করবেন না। এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের মধ্যেও অনেক সময় গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠতো। সে সময় নারী-পুরুষের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা মোটেও সহজ ছিল না। নারী-পুরুষে পত্রমিতালী তৈরি হলে কোনো কোনো সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত প্রেম পর্যন্ত গড়াতো। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো। পত্রমিতালী সাহিত্যনির্ভর একটি বিষয় ছিল। কনভারসেশন, মত বিনিময়, ভাবের আদান-প্রদান, মতের আদান-প্রদান বা মতোবিরোধ হলে সেটা নিয়ে আলোচনা হতো। সেই আলোচনাগুলো খুবই উচ্চমার্গীয় ব্যাপার ছিল। কেন তার মতের সঙ্গে আমি একমত না, সেটার যুক্তি দিতে দিতে অনেক সময় দুই তিন, পৃষ্টার চিঠি লেখা হয়ে যেত। দেখা যেতো যে চিঠি পাঠানোর জন্য অনেক সময় বাড়তি ডাক মাসূলও দিতে হতো। পত্রমিতালী চিন্তা চেতনা বিকাশেও সহায়ক ছিলো। এমন পত্রমিতালীও হয়েছে, দেখা গেছে যে দুই, চার বছর ধরে একজন আরেকজনকে চিঠি লিখেছে কিন্তু কেউ কাউকে দেখেনি। এখন যেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ফেইক আইডি খোলে। নারী পুরুষ সাজে আবার পুরুষ নারী সাজে। এইটা ছিলো না। তখন যে যা, তাই বলতো, লিখতো। তবে হ্যাঁ, কোনো কোনো সম্পর্ক প্রেমের দিকে গেছে। কেউ কেউ বিয়ে করে ঘর বেঁধেছেন। কিন্তু বেশিরভাগই ছিলো বন্ধুত্বের সম্পর্ক। চিঠি লিখে একজন অজানা, অচেনা মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, সেই সম্পর্কের যে আবেদন সেটা এখন এই পর্যায়ে এসে ভাবা যায় না। আমারও একজনের সঙ্গে পত্রমিতালীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। সে অভিজ্ঞতা থেকে জানি, একটা চিঠি লেখার পরে উত্তর পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হতো। তিন, চার, পাঁচ দিন বা তারও বেশিদিন পরে উত্তর আসতো। এই যে সময়টা, এই সময়টাতে একজনের কল্পনা, সম্ভাব্য উত্তর নিয়ে ভাবনা মনের ভেতর ছড়িয়ে পড়তো। একটা সময় ডাকপিয়ন চিঠি নিয়ে আসতো। সেটা একটা অসাধারণ মুহূর্ত। খামটা খোলার পরে সেই চিঠিটা স্পর্শ করার যে অনুভূতি, তা আজকে বলে বোঝানো যাবে না। এটা শুধু তখনই বোঝা যেত। যথারীতি চিঠির তো আর অনুলিপি রাখা হতো না, কিছু কিছু যা মনে পড়তো সেগুলোর উত্তর ঠিকঠাক আছে কিনা পড়ে মেলানো হতো। চিঠি পড়ে যদি কোনো জায়গায় দেখা যেত যে দুইজনের মতের সাথে মিল আছে, তাহলে ভালো বোধ হতো। আবার যদি যুক্তিসঙ্গত দ্বিমতের প্রকাশ দেখা যেত তাহলেও ভালো লাগতো। আবার কোনো কোনো যুক্তিকে যখন অযৌক্তিক মনে হতো, পরবর্তী চিঠির উত্তরে হয়তো আবার সেই লেখার প্রেক্ষিতে নিজের যুক্তি আর জোড়ালোভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা থাকতো। অনেকেই পত্রমিতালী গড়ে তোলার জন্য আগ্রহী হয়ে পত্রপত্রিকায় ছোট আকারে বিজ্ঞাপন দিতো। এটা এক ধরনের বিনোদনও ছিলো। এখন আমরা যেমন কক্সবাজার বেড়াতে যাই, আমরা হ্যাংআউট করি, রিসোর্টে যাই বা বারবিকিউ পার্টি করি, সে সময়তো এই কাজগুলো করার উপায় ছিলো না। কিন্তু মানুষ সব সময় অন্যরকম কিছু করার তাড়না বোধ করে, সেই বোধেরই এক ধরণের বহিঃপ্রকাশ ছিলো পত্রমিতালী।

‘পোস্টনেটাল ডিপ্রেশন’ কাটাতে মাকে কীভাবে সহায়তা করবেন

‘পোস্টনেটাল ডিপ্রেশন’ কাটাতে মাকে কীভাবে সহায়তা করবেন সন্তান প্রসবের পরে মায়ের শরীরে অনেক ধরণের পরিবর্তন আসে। যার প্রভাব পড়ে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। এদিকে শিশুর যত্ন নেওয়ার একটি বাড়তি চাপতো থাকেই। এই সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পারিবারিক এবং সামাজিক সহায়তা না পেলে মায়ের পোস্টনেটাল ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। ‘মিস আয়ারল্যান্ড’ খেতাবপ্রাপ্ত বাংলাদেশি মডেল ও অভিনেত্রী মাকসুদা আখতার সম্প্রতি এই বিষয় নিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘শিশুর মাকে অন্তত প্রথম দুইবছর পর্যাপ্ত সময় দিন, যতটুকু আপনি যথেষ্ট ভাবছেন তার চেয়ে বেশী সহযোগিতা করুন, তখন আর মাকে পোস্টনেটাল ডিপ্রেশনের চেহারা দেখতে হবে না।’’ প্রিয়তীর ওই পোস্টের কমেন্টে অনেক নারী নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। এবং মতামত দিয়েছেন। রুখসানা আফরোজ মিতু নামের একজন লিখেছেন, ‘‘আপু আমাদের সমাজে এরকম কেউ করেনা বাচ্চা হবে শুধু কথা শুনাবে।কথা শুনলে মায়েরা ডিপ্রেশনে চলে যায়।আমার জটিল প্রেগন্যান্সি ছিল।দুটি অপারেশন হয়েছে রিকভারি না হতেই কেন পরিবারের সবার জন্য কেন রান্না করছি না তেড়ে আসে।যৌথ পরিবারে থাকলে তো কথায় নেই।আমার হাজবেন্ড সাহায্য করে কিন্তু পরিবারের লোক জনদের সাথে পারেনা।’’ ফারজানা আলম নামের একজন লিখেছেন, ‘‘এটা কয়জনইবা বুঝে সবাই ভাবে বাচ্চা হলেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায় কিন্তু একটা মার উপর দিয়ে কি যায় সেই একমাত্র জানে।’’ মাকসুদা আক্তার প্রিয়তির যুক্তি হচ্ছে, সবাই তার স্বাভাবিক নিয়মে জীবন যাপন করতে চায়, মায়েরও যে স্বাভাবিক সময়টুকু লাগে এটা কিন্তু কেউ বোঝার কষ্ট করেনা কারন বুঝলেই ওদের বিপদ । একজন মায়ের ‘পোস্টনেটাল ডিপ্রেশন’ দেখা দিয়েছে কিনা যেভাবে বুঝবেন— অতিরিক্ত বিষণ্ণতা বা দুঃখ বোধ হতে পারে অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগতে পারে„ অহেতুক কান্না আসতে পারে মেজাজ খিটখিটে হতে পারে ঘুম অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে অথবা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। খুব বেশি ক্ষুধা লাগতে পারে অথবা খুব কম ক্ষুধা লাগতে পারে শিশুর প্রতি মনোযোগ দিতে সমস্যা হয অন্যান্য মানুষের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে ইচ্ছা করে। উল্লেখ্য, একজন মা যাতে পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারেন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন—তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া সাইকোথেরাপি বা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা করা যেতে পারে।

গোমস্তাপুরে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় শিশুর মৃ*ত্যু

গোমস্তাপুরে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় শিশুর মৃ*ত্যু গোমস্তাপুরে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় ৬ বছর বয়সী রুপাইয়া খাতুন নামে এক শিশুর মৃ*ত্যু হয়েছে। রপাইয়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুর গ্রামের রহমত আলীর মেয়ে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গতকাল বোয়ালিয়া ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামে বাবা-মা’র সাথে নানা শরিফুল ইসলামের বাড়িতে বেড়াতে আসে রুপাইয়া। ওইদিন বিকাল ৩টার দিকে সে নানাবাড়ির পাশে একটি দোকানে জুস কেনার জন্য সড়ক পারাপারের সময় ভ্যানের ধাক্কায় আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গোমস্তাপুর থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) দারেশ আলী বলেন, ঘটনার পর ভ্যানটি পালিয়ে যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হেরোইন মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হেরোইন মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১’শ গ্রাম হেরোইন বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিলন নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। আজ বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়রা জজ মো: মিজানুর রহমান একমাত্র আসামীর অনুপস্থিতিতে (পলাতক) আদেশ প্রদান করেন। দন্ডিত মিলন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার হাটবাকইল গ্রামের মো. আলাউদ্দীনের ছেলে। মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায় এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী(পিপি) আব্দুল ওদুদ বলেন, ২০২৩ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর নাচোলের নেজামপুর ইউনিয়নের দক্ষিন সগিনা মালিকান্দর গ্রামে সড়কের উপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি) অভিযানে ১০০ গ্রাম হেরোইন সহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন মিলন। এ ঘটনায় ওইদিন তাঁকে একমাত্র আসামী করে নাচোল থানায় মামলা করেন ডিবি’র তৎকালীর উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার মন্ডল। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা(আইও) এবং ডিবি’র তৎকালীর উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ চন্দ্র চৌধুরী একমাত্র মিলনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ১০ জনের সাক্ষ্য, প্রমাণ ও শুনানীর পর আদালত  আজ দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিলনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন। আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড. আনোয়ার সাদাত ।

গোমস্তাপুরে যৌথ অভিযানে মাদকসহ আটক ৮

গোমস্তাপুরে যৌথ অভিযানে মাদকসহ আটক ৮ গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর কেডিসিপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ ভোর ৫টার দিকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্টেট সাব্বির হোসেন রুবেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও কাস্টমস সদস্যরা সমন্বিতভাবে অংশ নেয়। অভিযানে জব্দ হয় ৮’শ ৪০পিস ইয়াবা, ১’শ ৪০ গ্রাম ও ৪’শ ৬৯ পুরিয়া হেরোইন, ১ কেজি ৩’শ গ্রাম গাঁজা, ১৯ লিটার চোলাই মদ, হেরোইন পরিমাপক মিটার ৩টি এবং মাদক বিক্রির নগত ৫৬ হাজার ১’শ ৭৫ টাকা। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, অভিযানে আটক ৮ জনের মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীণ এবং অপর ৩ জনকে ভ্রাম্যমান আদালতে ১ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

গোমস্তাপুরে লাইসেন্স ছাড়া সার মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে ১ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

গোমস্তাপুরে লাইসেন্স ছাড়া সার মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে ১ ব্যবসায়ীকে জরিমানা গোমস্তাপুরে অবৈধভাবে সার মজুদ ও লাইসেন্স ছাড়া বিক্রির অভিযোগে এক কীটনাশক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা অর্থদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতরাতে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের দেওপুরা বাজারে উপজেলা কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, রাত ৯টার দিকে মেসার্স শাজাহান ট্রেডার্স নামে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৪১ বস্তা ডিএপি, ৪৫ বস্তা ইউরিয়া ও ৮৮ বস্তা এমওপি সার পাওয়া যায়। এসময় বিনা লাইসেন্সে অবৈধভাবে সার মজুদ রাখার অপরাধে কীটনাশক ব্যবসায়ী শাজাহান আলীকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৮(০২) ধারা অনুযায়ী ২০ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করে ভ্রাম্যমান আদালত। পরে উপজেলা কৃষি অফিসারের মাধ্যমে এসব সার ন্যায্য দামে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পর্যায়ে, গ্রাম আদালত কার্যক্রমের বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক সভা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পর্যায়ে, গ্রাম আদালত কার্যক্রমের বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আয়োজনে আজ সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, গ্রাম আদালত আমাদের দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা, এটি একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানদের সকলকে এক মনে কাজ করতে হবে। কোন দলের হয়ে কাজ করা যাবে না। অনেকেই এ আদালতের রায় মানেনা বা বিচারের দিন উপস্থিত হননা। মনে করেন চেয়ারম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদের কোন ক্ষমতা নেই। গ্রাম আদালতে রায় না মানার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যতদিন রায় মানার সংস্কৃতি না মানতে পারবে ততদিন কোন সমস্যার নিষ্পত্তি হবেনা। তখন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতে হাজির হতে হবে। সভায় ৫ উপজেলার উপজেলা নিবার্হী অফিসার, ৪৫ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ম্যানেজার হাফিজ আল আসাদ। বার্ষিক কার্যক্রমে ভূমিকা পালন করায় ১ম স্থান করেন নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়ন, ২য় স্থান অর্জন করেন নাচোল উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও ৩য় স্থান অর্জন করেন ভোলাহাট উপজেলার দলদলি ইউনিয়ন। হচ্ছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার জনগণ বিশেষত নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠির মানুষের ন্যায়বিচারের সুযোগ বৃদ্ধি করা। তাই স্থানীয় সরকার বিভাগ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে ও সহযোগি সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অরগানাইজেশন ই এস ডিওর মাধ্যমে, জেলার ৫টি উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নে প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

আজ পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা

আজ পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা আজ পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা। হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারটি মুসলিম বিশ্বে স্মরণ করা হয় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রোগমুক্তির দিন হিসেবে। ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ ফারসি শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ- শেষ বুধবার। নবুয়তের ২৩তম বছর তথা ১১ হিজরির সফর মাসে দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর ঠিক এই দিনেই কিছুটা সুস্থতা লাভ করেছিলেন মহানবী (সা.)। তিনি শেষবারের মতো গোসল করে মসজিদে গিয়ে নামাজের ইমামতিও করেন। এ সময় তাঁর সুস্থতার খবরে সাহাবিরা খুশি হয়ে দান-সদকা করেন, পশু কোরবানি দেন এবং দাস মুক্ত করেন। তাদের এই আদর্শ অনুসরণে মুসলমানরা প্রতিবছর এ দিনটিতে দোয়া, ইবাদত-বন্দেগি, দান ও সদকার মাধ্যমে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকেন। যদিও ইসলামী শরিয়তে এ দিনকে ঘিরে কোনো নির্দিষ্ট ইবাদতের বিধান নেই, তবু দিনটির ইতিহাস ও তাৎপর্য স্মরণে অনেকেই নেক আমলে অংশ নেন। আখেরি চাহার শোম্বা উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দিনব্যাপী দোয়া-মাহফিল, কোরআন খতম ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশেও দিনটি বিভিন্নভাবে স্মরণ করা হয়, বিশেষত দোয়া ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে। দিনটির মূল শিক্ষা রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, নেক আমলের প্রতি আগ্রহ এবং নবীজির (সা.) জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৩৫৬

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৩৫৬ গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। একই সময়ে সারাদেশে ৩৫৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭১ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চার জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২০ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) সাত জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় কোন ৩৩৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ যাবত মোট ২৬ হাজার ৬৪ রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক এক শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক নয় শতাংশ নারী রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। চলতি বছরে এ যাবত ডেঙ্গুতে মোট ১০৫ জনের মৃত্যু হয়। মৃত একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।