অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ: ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাস উগান্ডার

অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ: ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাস উগান্ডার ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে বড় অঘটনের জন্ম দিল আফ্রিকার দেশ উগান্ডা। কাতারে যুবা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ফ্রান্স অনূর্ধ্ব–১৭ দলকে ০-১ গোলে হারাল উগান্ডা অনূর্ধ্ব-১৭ দল। ইউরোপের এই পরাশক্তিকে হারিয়ে ৪৮ দলের বিশ্বকাপে পরের রাউন্ডের টিকিটও কেটেছে তারা। অবশ্য উগান্ডার কাছে হারলেও গ্রুপ পর্বের বাধা উতরাতে পেরেছে ফ্রান্স অনূর্ধ্ব–১৭ দল। গ্রুপ ‘কে’ এর দলগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি এক লড়াই জমে উঠে। গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচ শেষে ফ্রান্স, উগান্ডা, কানাডা, আর চিলি তিনটি দলেরই সমান ৪ পয়েন্ট দাড়ায়। তাতে পরের পর্বে যাওয়ার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় গোল ব্যবধান। গ্রুপ ‘কে’ এর চারটি দলই এক জয়, এক হার এবং একটি ম্যাচ ড্র করে। তবে গোল ব্যবধানে (+১) এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যুবা বিশ্বকাপের পরের পর্ব নিশ্চিত করে ফ্রান্স। কানাডা আর উগান্ডার গোল ব্যবধান শূন্য হলেও মুখোমুখি লড়াইয়ে উগান্ডাকে হারানোয় পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থেকে শেষ করে কানাডা। আর গ্রুপ পর্বে সেরা দুইয়ে না থাকলেও প্রতিযোগিতার মোট ১২টি গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে থাকা সেরা আট দলে থেকে নক-আউট পর্ব নিশ্চিত করে উগান্ডা। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে চোখে চোখ রেখেই লড়েছে উগান্ডা। দৃঢ় রক্ষণভাগ আর ভয়ডরহীন আক্রমণাত্মক খেলার মিশ্রণে উগান্ডা তরুণরা ফরাসিদের পুরো ম্যাচজুড়ে চাপে রাখে। ম্যাচের ১৫ মিনিট পার হতেই উগান্ডার জেমস বোগেরের গোলই ব্যবধান গড়ে দেয়। ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁকানো এক শটে বল পাঠান জালের কোণে। আফ্রিকার দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় হয়েই থাকবে এই মুহূর্ত। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় পর্বের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-১৭ দল। গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচই জিতে পরের পর্বে পা রাখে আলবিসেলেস্তা যুবারা। দুই জয় আর এক ড্রয়ে ব্রাজিলও গ্রুপসেরা হয়েছে।

মাহমুদুলের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ

মাহমুদুলের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ সিলেট টেস্টে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় সেশনের শুরুতেই ঘরের মাঠে নিজের প্রথম এবং ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। জর্ডান নিলের বলে গালি অঞ্চলে চার মেরে সেঞ্চুরির মাইলফলক ছোঁয় মাহমুদুল। এর আগে ২০২২ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে করেছিলেন তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ম্যারাথন ইনিংসে তিনি এখন পর্যন্ত ১২৯ রানে অপরাজিত, যেখানে রয়েছে ৯টি চার ও ১টি ছক্কা। তার সঙ্গে ক্রিজে আছেন মুমিনুল হক, যিনি ৫৬ রানে অপরাজিত। এর আগে আয়ারল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রানে অলআউট হলে, ওপেনিং জুটিতে দারুণ সূচনা পায় বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল মিলে গড়েন ১৬৮ রানের পার্টনারশিপ। সাদমান ৮০ রান করে আউট হলেও, ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছেন মাহমুদুল ও মুমিনুল। ৬৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬৮ রান, হাতে রয়েছে ৯ উইকেট।

হারাচ্ছে আলোর পোকা জোনাকি, ফেরানোর উপায় কি?

হারাচ্ছে আলোর পোকা জোনাকি, ফেরানোর উপায় কি? কখনও সন্ধ্যা নামলেই মাঠে, গাছতলায় কিংবা খোলা জলাভূমির ধারে জড়ো হতো শিশুর দল। তাদের হাতে ধরা পড়ত ছোট্ট একটি আলোর বিন্দু, নাম তার জোনাকি। সেই আলো ছিল নিখাদ বিস্ময়, ছিল রাতের সৌন্দর্য। কিন্তু সময় বদলেছে। শৈশবের সেই আলোর স্মৃতি এখন অতীত হয়ে যাচ্ছে। গবেষণায় বলা হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে দ্রুত কমে যাচ্ছে জোনাকির সংখ্যা। আর এই বিলুপ্তির পেছনে আছে প্রধান তিনটি কারণ; বাসস্থান ধ্বংস, আলো দূষণ এবং কীটনাশকের ব্যবহার। বিশ্বে প্রায় দুই হাজার প্রজাতির জোনাকি রয়েছে। বেশিরভাগ জোনাকি পোকা জন্মায় এবং বেঁচে থাকে আর্দ্র পরিবেশে; পুকুরের ধারে, জলাভূমিতে, পচা কাঠের পাশে বা অন্ধকার বনে। কিন্তু উন্নয়ন আর নগরায়নের চাপ সেই পরিবেশকে গ্রাস করে নিচ্ছে। খোলা মাঠ ভরাট করে বহুতল ভবন, ম্যানগ্রোভ বনের জায়গায় কৃষিখামার, নদীর তীরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা; সব মিলিয়ে জোনাকির জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্ধকার এবং নীরব পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী সারা লুইসের নেতৃত্বে ২০২০ সালে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, জোনাকিদের টিকে থাকার জন্য নির্দিষ্ট পরিবেশগত শর্ত প্রয়োজন। তার ভাষায়, জোনাকিদের জীবনচক্র এমন এক জায়গার ওপর নির্ভরশীল, যেখানে এদের জন্ম হয়, তারা সাধারণত সেখানেই থাকে। বলেন গবেষক দলটির প্রধান। সেই পরিবেশ হারালে তারা প্রজনন করতে পারে না, প্রজন্ম জন্মায় না। আরেকটি বড় হুমকি কৃত্রিম আলো। জোনাকিরা তাদের দেহের আলো ব্যবহার করে সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রজনন করে। পুরুষ জোনাকি আলো জ্বেলে উড়ে বেড়ায়, স্ত্রী জোনাকি অপেক্ষা করে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য। কিন্তু মানুষের রাস্তার লাইট, বিজ্ঞাপনের আলো, গাড়ির হেডলাইট; সব কৃত্রিম আলো জোনাকিদের নিজেদের সংকেত পাঠানো ব্যাহত করে। ফলে তারা সঙ্গী খুঁজে পায় না। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর মোট স্থলভাগের অন্তত ২৩ শতাংশ এলাকায় রাতের অন্ধকার আর অন্ধকার থাকে না, এটা জোনাকিদের জন্য মৃত্যুঘণ্টা। এদিকে কৃষিজমিতে ব্যবহার করা কীটনাশক জোনাকির লার্ভার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। লার্ভা সাধারণত এক থেকে দুই বছর বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু মাটির রাসায়নিক উপাদান তাদের বেড়ে ওঠার সময়ই ধ্বংস করে দেয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কীটনাশকের প্রভাবে জোনাকির মৃত্যুহার ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন ‘জোনাকি ট্যুরিজম’ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নৌকায় করে নেওয়া হচ্ছে জোনাকির আবাসস্থলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পর্যটনে আলোর ব্যবহার, শব্দ এবং নৌকার ইঞ্জিন জোনাকিদের জীবনচক্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তবে আশার কথা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো সময় আছে। সচেতনতা বাড়ানো গেলে জোনাকিকে রক্ষা করা সম্ভব। তাদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে অপ্রয়োজনীয় আলো কমাতে হবে, কীটনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং জলাভূমি, বন ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করতে হবে।

বিদায়বেলায় ‘টাটা’ বলার প্রচলন যেভাবে শুরু

বিদায়বেলায় ‘টাটা’ বলার প্রচলন যেভাবে শুরু বিদায়ের সময় বন্ধুকে, সহকর্মীকে বা প্রিয়জনকে বিদায় জানাতে আমরা প্রায়ই বলি – ‘টাটা’। এই শব্দটি এতটাই পরিচিত যে, বয়স বা প্রজন্ম নির্বিশেষে সবার মুখে এটি শোনা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- বিদায়ের সময় সবাই কেন বলে ‘টাটা’? ভাষাবিদদের মতে, ‘টাটা’ মূলত ব্রিটিশ ইংরেজি থেকে আগত একটি শব্দ। এটি ‘গুডবাই’ বা ‘ফেয়ারওয়েল’-এর তুলনায় অনেক বেশি অনানুষ্ঠানিক ও আন্তরিক অভিব্যক্তি। উনিশ শতকের শেষ দিকে ইংল্যান্ডে, বিশেষ করে ককনি (Cockney) উপভাষায়, শব্দটির প্রচলন শুরু হয়। সেখান থেকে এটি পুরো ব্রিটিশ সমাজে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে উপনিবেশের প্রভাবে ভারতীয় উপমহাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শব্দটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর সহজ উচ্চারণ। শিশুদের মুখে উচ্চারণ সহজ বলে মা–বাবারা প্রাথমিকভাবে বিদায় জানাতে শেখানোর সময় বলেন- বলো টাটা। শিশুরাও হাসিমুখে হাত নাড়িয়ে বলে ‘টাটা’, যা একধরনের স্নেহমিশ্রিত বিদায়ের রীতি হয়ে ওঠে। আরও একটি মজার দিক হলো, অনেক ভাষায় ‘টাটা’ শব্দের অর্থ ‘বাবা’। ফলে যখন শিশুরা ‘টাটা’ বলে বিদায় জানায়, তখন সেটি একদিকে আবেগের প্রকাশ, অন্যদিকে ধ্বনিগতভাবে সহজ একটি বিদায়ের ইঙ্গিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মিষ্টি ধ্বনি বিদায়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ব্রিটিশ উপনিবেশের যুগে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শব্দটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে এখন ‘টাটা’ এক অনানুষ্ঠানিক, বন্ধুত্বপূর্ণ বিদায়ের সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে। ভাষাবিদরা বলেন, আনুষ্ঠানিক পরিবেশে ‘গুডবাই’, ‘ফেয়ারওয়েল’ বা ‘বিদায়’ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে ‘টাটা’, ‘বাই’ বা ‘সি ইউ লেটার’-এর মতো শব্দই আন্তরিকতা প্রকাশ করে।

বহুরূপী মানুষ চেনার সহজ উপায়

বহুরূপী মানুষ চেনার সহজ উপায় অনেক সময় আমরা মানুষের মিষ্টি কথায় সহজেই প্রলুব্ধ হয়ে যাই। কিন্তু কি জানেন? সব মিষ্টি কথা মানে সত্যিকারের ভালোবাসা বা আন্তরিকতা নয়। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বহুরূপী বা ফেক মানুষদের আচরণে এমন কিছু লক্ষণ থাকে যা চিনে নিলে আপনি মানসিক শান্তি ও আবেগ রক্ষায় সচেতন থাকতে পারবেন। . খুব দ্রুত এবং অতিরিক্ত ভালো আচরণ যারা সত্যিকারের ভাল মানুষ, তারা কখনোই অতিরিক্ত অভিনয় করে না বা খুব দ্রুত বিশ্বাস জেতার চেষ্টা করে না। কিন্তু বহুরূপী মানুষ প্রথম থেকেই অতিরিক্ত মিষ্টি বা দয়ালু হলে সেটি সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। . বারবার নিজের চরিত্র বদলানো একই ব্যক্তি বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। কেউ নম্র ও ভদ্র, আবার অন্য কারো কাছে আত্মবিশ্বাসী। এ ধরনের আচরণ মনোবিজ্ঞানে ‘ইম্প্রেশন ম্যানেজমেন্ট’ নামে পরিচিত। . সত্যিকারের আবেগ তৈরি করতে না পারা এরা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থে সম্পর্ক স্থাপন করে, সত্যিকারের ভালোবাসা বা সহানুভূতির জন্য নয়। . সব সময় অন্যের সমালোচনা করা বহুরূপী মানুষরা অন্যের গসিপ করে এবং সমালোচনা করতে ভালোবাসে। তারা নিজস্ব অনিশ্চয়তা ও কম আত্মবিশ্বাস লুকানোর জন্য এমন আচরণ করে। যারা অন্যদের খারাপ কথা বলে, তারা আপনার পেছনেও একই কাজ করবে। . বন্ধুসুলভ আচরণ করে গোপনে প্রতিযোগিতা যদিও বন্ধুত্বের ভান করে, তাদের মধ্যে হিংসা ও প্রতিযোগিতার মনোভাব লুকানো থাকে। তারা আপনার সাফল্যে খুশি না হয়ে আপনাকে ছোট করার চেষ্টা করে। মনোবিজ্ঞানে এটিকে ‘কভারট রাইভেলারি’ বলা হয়। সত্যিকারের বন্ধুত্ব হলো একে অপরকে উৎসাহ দেওয়া, আর বহুরূপী মানুষের সাথে সম্পর্ক মানসিক শান্তি নষ্ট করতে পারে। তাই, এই লক্ষণগুলো বুঝে সাবধান হওয়া জরুরি।

আজ একা থাকার দিন

আজ একা থাকার দিন আজ ১১ নভেম্বর বিশ্বের নানা প্রান্তে পালিত হচ্ছে ‘সিঙ্গেল ডে’ বা একা থাকার দিন। একা থাকা মানেই নিঃসঙ্গতা নয় বরং নিজের মতো করে বাঁচার স্বাধীনতা, নির্বিবাদী জীবনযাপন, নিজের সত্তাকে উপভোগ করার সুযোগ। সিঙ্গেল মানেই ঝাড়া হাত-পা, কোনো কৈফিয়তের দায় নেই, নেই প্রেমের টানাপড়েন। কেউ কেউ হয়তো প্রেমহীনতার আফসোসে ভোগেন, কিন্তু অনেকেই এই একাকিত্বকেই স্বাধীনতার আনন্দ হিসেবে দেখেন একা থাকার আনন্দ যারা একবার অনুভব করেন, তারা জানেন এর ভেতর লুকিয়ে আছে মুক্তির স্বাদ। কেউ কেউ সম্পর্কের ব্যর্থতা বা বিচ্ছেদের পর নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন, আবার কেউ নিজের ইচ্ছায় একা থাকাকে বেছে নেন। এই ‘সিঙ্গেল ডে’ উদযাপনের সূত্রপাত চীনের নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী, যারা ভালোবাসায় ব্যর্থ হলেও জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতেন, ১৯৯৩ সালে প্রথম এই দিবসটি উদযাপন করেন। দিনটি বেছে নেওয়া হয় ১১ নভেম্বর অর্থাৎ ১১-১১। প্রতিটি ‘১’ একক মানুষকে বোঝায়, আর চারটি এক মিলে জীবনের সম্মিলিত আনন্দকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। চীনে দিনটি মূলত ভালোবাসা দিবসের বিপরীতে একা মানুষদের উৎসব হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এখন বিশ্বের নানা প্রান্তে এই দিনটি পালিত হয় আত্মপ্রেম, স্বাধীনতা এবং নিজেকে উদযাপনের বার্তা নিয়ে। ‘ডেজ অব দ্য ইয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের প্রচারক ছিলেন টমাস ও রুথ রয় নামের দুজন ভদ্রলোক। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, মানুষ যেন একা থাকাকে লজ্জার নয়, বরং গর্বের বিষয় হিসেবে দেখতে শেখে। বহুরূপী মানুষ চেনার সহজ উপায় : তাই আজকের দিনটি হোক নিজের জন্য নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর, নিজের সঙ্গ উপভোগ করার দিন। একা থাকা মানেই কিন্তু শূন্যতা নয়; বরং স্বাধীনতার মিষ্টি পরশ।

মোবাইল কোর্টের অভিযান : শব্দ দূষণ করায় ৪ মামলা ও জরিমানা আদায়

মোবাইল কোর্টের অভিযান : শব্দ দূষণ করায় ৪ মামলা ও জরিমানা আদায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে শব্দ দূষণবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। আজ পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কের দ্বারিয়াপুর এলাকায় এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ এর ৮(১) লংঘন করে যানবাহনে অনুমোদিত শব্দের মানমাত্রা অতিক্রমকারী হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করার অপরাধে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ১৫(২) অনুযায়ী ৩টি বাস ও ১টি ট্রাকচালককের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের করা হয় এবং ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সেই সঙ্গে অনুমোদিত শব্দের অতিরিক্ত মানমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী ৮টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সহযোগিতায়, মোবাইল কোর্টের নেতৃত্ব দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অনুজ চন্দ্র। প্রসিকিউশন প্রদান করেন— পরিবেশ অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ। এসময় শব্দদূষণ সম্পর্কিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং একই সাথে বিভিন্ন যানবাহনে স্টিকার লাগানো হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান বা মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ দিনে আরো ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ দিনে আরো ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে ৮ জন ও বহির্বিভাগে ৫ জন এবং গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ও নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৪ জন রোগী। একই সময়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে ৫ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৩ জন, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১ জন করে রোগীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৯ জন পুরুষ ও ৬ জন মহিলাসহ ১৫ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলাসহ ৬ জন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ পুরুষ ও ১ জন মহিলাসহ ৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। সিভিল সার্জন অফিস ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে আজ এই তথ্য জানানো হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাবমতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৬৭০ জন।

মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু : খেলাধুলা চর্চার আহ্বান বক্তাদের

মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু : খেলাধুলা চর্চার আহ্বান বক্তাদের ‘খেলাধুলায় বাড়ে বল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল’, ‘মাদক নয়-আম চাষে করব বিশ্বজয়’, ‘মাদককে না বলুন’— এমন সব স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হয়েছে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫। আজ বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নতুন স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সোলায়মান। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— পুলিশ সুপার রেজাউল করিম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন, নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন, জেলা ক্রীড়া অফিসার আবু জাফর মাহমুদুজ্জামানসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অদিধিপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রাজিউর রহমান। বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা চর্চা করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। সহযোগিতা করছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। টুর্নামেন্টে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা, শিবগঞ্জ উপজেলা, গোমস্তাপুর উপজেলা, নাচোল উপজেলা ও ভোলাহাট উপজেলা দল অংশগ্রহণ করছে। উদ্বোধনী খেলায় শিবগঞ্জ উপজেলা বনাম নাচোল উপজেলা দল মুখোমুখি হয়। খেলার প্রথমার্ধে ১৫ নম্বর জার্সি পরিহিত জোবায়েরের করা গোলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় শিবগঞ্জ উপজেলা দল। খেলার দ্বিতীয়ার্ধের শেষ মুহূর্তে ১০ নম্বর জার্সি পরিহিত সিজানের করা আরো ১টি গোলের সুবাদে ২-০ গোলে জয়লাভ করে শিবগঞ্জ উপজেলা দল। আগামীকাল একই স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সদর ও গোমস্তাপুর উপজেলা ফুটবল দল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ দিনে আরো ৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ দিনে আরো ৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে ৩ জন ও বহির্বিভাগে ২ জন এবং গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৯ জন রোগী। একই সময়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে ১ জন, শিবগঞ্জ থেকে ২ জন ও গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৩ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা হাসপাতাল থেকে ২ জন রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৫ জন পুরুষ ও ৮ জন মহিলাসহ ১৩ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন পুরুষ, ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলাসহ ৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। সিভিল সার্জন অফিস ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে আজ এই তথ্য জানানো হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব মতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৬২৫ জন।