১২৪ রানের ছোট লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ ভারত, ঘরের মাঠেই লজ্জার হার

১২৪ রানের ছোট লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ ভারত, ঘরের মাঠেই লজ্জার হার স্পিন-বান্ধব উইকেট বানিয়ে চার জন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে নেমেছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকাকে মাত্র ১২৩ রানে (লক্ষ্য) বেধে ফেলে জয়ের পাল্লাটাও তাদের দিকেই ঝুঁকে ছিল। কিন্তু অধিনায়ক শুভমান গিলকে হারিয়ে তাদের দুভার্গ্যের শুরুটা হয় গতকাল। ফলে চতুর্থ ইনিংসে স্বাগতিকরা ব্যাটিংয়ে নামে ১০ জন নিয়ে। এরপর মাত্র দুজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে নামা প্রোটিয়াদের বিপক্ষে নিজেদের পাতা ফাঁদেই ধসে গেল ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। হারমার-মহারাজদের ঘূর্ণিতে ১২৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মাত্র ৯৩ রানে গুটিয়ে গেছে ভারত। এর মধ্য দিয়ে ভারতের মাটিতে প্রোটিয়াদের টেস্ট জিততে দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাগপুর টেস্টে শেষবার টেস্ট জিতেছিল গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা। এমন দিন দেখতে টেম্বা বাভুমাদের লম্বা সময় অপেক্ষায় থাকতে হলো। প্রোটিয়া অধিনায়ক নিজেই সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে সফরকারীরা অলআউট হওয়ার সময়ও একপ্রান্তে ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন বাভুমা। পুরো ম্যাচ মিলিয়ে এটাই ছিল কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। ইডেন গার্ডেনে ব্যাটারদের প্রতিকূল উইকেটে মাত্র আড়াই দিনেই শেষ হয়েছে সিরিজের প্রথম টেস্ট। এমন উইকেট নিয়ে গতকাল থেকে সমালোচনা চলছে।

হায়দ্রাবাদে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৭

হায়দ্রাবাদে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৭ পাকিস্তানের হায়দ্রাবাদের লতিফাবাদ এলাকার একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গতকাল রাতে উদ্ধারকারীরা একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। দেশটির উদ্ধারকারী পরিষেবা ১১২২-এর মুখপাত্র জানান, লাঘারি গোথ নদীর তীরে, লতিফাবাদ পুলিশ স্টেশন এলাকার একটি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দ বহু মাইল দূরে পর্যন্ত শোনা গেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপে অনেক কক্ষ ও দেওয়াল ভেঙে পড়ায় আরও কয়েকজন আটকা পড়ার শঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা তাদের বের করার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনের শরীরের ৯৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। হায়দ্রাবাদের মেয়র কাশিফ শোরো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বিস্ফোরণে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। লতিফাবাদ সহকারী কমিশনার সৌদ লুন্ড জানিয়েছেন, কারখানাটি একটি বাড়িতে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, কার্যক্রম পরিচালনার কোনো লাইসেন্স ছিল না।

যুক্তরাজ্যে শরণার্থীরা স্থায়ী নাগরিকত্ব পাবেন ২০ বছর পর

যুক্তরাজ্যে শরণার্থীরা স্থায়ী নাগরিকত্ব পাবেন ২০ বছর পর অবৈধভাবে প্রবেশ ঠেকাতে ও আশ্রয়ের আবেদন কমাতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শরণার্থীরা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাবেন ২০ বছর পর। আগামীকাল এ সংস্কার চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী শরণার্থীরা যুক্তরাজ্যে সাময়িকভাবে থাকতে পারবেন। তাদের বিষয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। যাদের নিজ দেশ নিরাপদ বলে বিবেচিত হবে, তাদের ফিরে যেতে হবে। বর্তমান নিয়মে শরণার্থী অবস্থায় পাঁচ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকা যায়। পরে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর)-এর জন্য আবেদন করতে হয়। নতুন নীতি অনুযায়ী প্রাথমিক সময়কাল ৫ বছর থেকে কমিয়ে আড়াই বছর করা হবে। এরপর নিয়মিত পুনর্মূল্যায়ন হবে। আর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময়কাল ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শাবানা মাহমুদের মতে এই সংস্কার অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেশটিতে আসতে মানুষকে নিরুৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন আমাদের দেশকে বিভক্ত করছে। সরকারের কাজ দেশকে একত্রিত করা। এদিকে, নতুন নীতিকে রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী এনভার সোলোমন ‘কঠোর ও অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ নীতি নির্যাতনের শিকার ও নৃশংস যুদ্ধে পরিবার হারানো মানুষদের আসা বন্ধ করতে পারবে না। যুক্তরাজ্যের নীতিটি ডেনমার্কের অভিবাসন ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হয়েছে। ডেনমার্ক শরণার্থীদের দুই বছরের অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়। মেয়াদ শেষ হলে ফের আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে হয়।

ঝড়ের তাণ্ডবে পর্তুগালে ৩ মৃত্যু, ইংল্যান্ডে বন্যা

ঝড়ের তাণ্ডবে পর্তুগালে ৩ মৃত্যু, ইংল্যান্ডে বন্যা বিধ্বংসী ঝড় ক্লাদিয়া কয়েক দিন ধরে পর্তুগাল, স্পেন ও ব্রিটেনে তাণ্ডব চালাচ্ছে। তীব্র ঝড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতে ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই ঝড় শনিবারের মধ্যে ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশে পৌঁছে গেছে। যার প্রভাবে পর্তুগালে ৩ জনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ব্রিটেনের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অনেক এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা বৃহস্পতিবার পর্তুগালের লিসবনের ফেরনাও ফেরো এলাকায় পানিতে ডুবে যাওয়া একটি বাড়ি থেকে বয়স্ক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা রাতে পানি বাড়তে থাকায় বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। আঞ্চলিক সিভিল প্রোটেকশন কমান্ডার ভিতর ভাজ পিন্টো জানান, পর্তুগালের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আলবুফেইরায় ঝড়টির আঘাতে একটি ক্যাম্পিং এলাকায় বেশকিছু ক্যারাভান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে ৮৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নারী নিহত হয়েছেন। শহরটির একটি হোটেলে অবস্থান করা ২৮ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। এদিকে, শনিবার ব্রিটেনে তীব্র বন্যা দক্ষিণ-পূর্ব ওয়েলসের মোনমাউথ শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, তারা উদ্ধার অভিযান, বাসিন্দা সরিয়ে নেওয়া ও বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ওয়েলশ সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি ওয়েলসের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি করেছে। এতে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউরোপে ক্লাদিয়ার মতো ঝড়গুলো পশ্চিম থেকে পূর্বে বয়ে গিয়ে ভারী বৃষ্টি, দমকা বাতাস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। এটি ঠাণ্ডা ও মৃদু বায়ুর সংঘর্ষ থেকে শক্তি সংগ্রহ করে।

২৬ বাংলাদেশি নিয়ে লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, ৪ জনের মৃত্যু

২৬ বাংলাদেশি নিয়ে লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, ৪ জনের মৃত্যু লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে কমপক্ষে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট। আজ রেড ক্রিসেন্টের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে উপকূলীয় শহর আল-খোমসের কাছে এ নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম নৌকাটিতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ২৬ জন ছিলেন, যাদের মধ্যে চার জন মারা গেছেন। দ্বিতীয় নৌকাটিতে ছিলেন ৬৯ জন, তাদের মধ্যে দুজন মিশরের নাগরিক এবং বেশ কয়েকজন সুদানি নাগরিক ছিলেন। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা স্পষ্ট নয়। ওই নৌকায় আট জন শিশু ছিল বলে তথ্য দিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। ত্রিপোলির পূর্বদিকে প্রায় ১১৮ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর আল-খোমস ইউরোপগামী অবৈধ অভিবাসীদের অন্যতম কেন্দ্র। ২০১১ সালে নেটো-সমর্থিত গণবিক্ষোভে মোয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়া পরিণত হয়েছে সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে ইউরোপমুখী মানুষের প্রধান ট্রানজিট রুটে। নৌকাডুবিতে নিহতদের মরদেহ মোড়ানো সারিবদ্ধ কালো ব্যাগের একটি ছবি প্রকাশ করেছে লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট।

ঢাকা বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষায় নতুন জিপিএ–৫ পেল ২০১ শিক্ষার্থী

ঢাকা বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষায় নতুন জিপিএ–৫ পেল ২০১ শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হয়েছে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ২০১ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে, আর ৩০৮ জন ফেল থেকে পাসে ফিরেছে। আজ পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। ঢাকা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, এ বছর মোট ৭৯ হাজার ৬৭১ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৩৩১ জনের ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ হয়েছিল গত ১৬ অক্টোবর। এরপর ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়। বোর্ড সূত্র জানায়, এ বছর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ২ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার খাতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। এর মধ্যে সর্বাধিক আবেদন করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, আর সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে বরিশাল বোর্ডে। বিষয়ভিত্তিকভাবে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে সর্বাধিক আবেদন জমা পড়ে। ঢাকা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডটির ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৬ হাজার ১৫০ জন পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছেন। এসব আবেদন থেকে জমা পড়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৬টি খাতা চ্যালেঞ্জ। এরপর অবস্থান কুমিল্লা বোর্ডে ২২ হাজার ৫০৩ জনের ৪২ হাজার ৪৪টি খাতা, রাজশাহী বোর্ডে ২০ হাজার ৯২৪ জনের ৩৬ হাজার ১০২টি খাতা এবং চট্টগ্রাম বোর্ডে ২২ হাজার ৫৯৫ জনের ৪৬ হাজার ১৪৮টি খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন। যশোর বোর্ডে আবেদন করেছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন, মোট খাতা ৩৬ হাজার ২০৫টি। দিনাজপুরে আবেদন করেছে ১৭ হাজার ৩১৮ জন, খাতা ২৯ হাজার ২৯৭টি। ময়মনসিংহ বোর্ডে ১৫ হাজার ৫৯৮ জন, খাতা ৩০ হাজার ৭৩৬টি। সিলেট বোর্ডে ১৩ হাজার ৪৪ জন, খাতা ২৩ হাজার ৮২টি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১২ হাজার ৭ জন, খাতা ১৫ হাজার ৩৭৮টি। আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছে ৭ হাজার ৯১৬ জন, খাতা ১৪ হাজার ৭৩৩টি। সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে—এখানে ৮ হাজার ১১ জন শিক্ষার্থী ১৭ হাজার ৪৮৯টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন। ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৯ হাজার ১৯৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১১ হাজার ৪৪৭ জন, ছাত্রী ৬ লাখ ২৪ হাজার ২১৫ জন। আগের ফল অনুযায়ী মোট পাস করেছে ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন, পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ফেল করেছে ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন, যা ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ। ছাত্রীদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, আর ছাত্রদের ৫৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।

৬ দলের সঙ্গে সংলাপে ইসি

৬ দলের সঙ্গে সংলাপে ইসি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে আজ দ্বিতীয় দিন সকালে ৬টি দলের সঙ্গে সংলাপে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিকালে আরও ৬টি দলের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। আজ নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আজ সংলাপে পর্যন্ত গণফোরাম, গণফ্রন্ট, ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি- বিএসপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি অংশ নেয়।

ঢাকার বাতাস আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’, শীর্ষে দিল্লি

ঢাকার বাতাস আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’, শীর্ষে দিল্লি বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ১৮১ স্কোর নিয়ে ৫ম অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। ফলে আজও ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’। আইকিউএয়ারের বাতাসের মানসূচকে (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-একিউআই) বিশ্বে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ৫৫৯ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান নির্ধারণ সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’ থেকে এ তথ্য নেওয়া হয়েছে। আইকিউএয়ারের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২১১ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। একই সঙ্গে ২০২ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে মিশরের কায়রো শহর। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা ‘সহনীয়’ ধরা হয় বায়ুর মান। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর (অসুস্থ বা শিশু-বৃদ্ধ) জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। আর স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত থাকলে সে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয় এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন অ্যাপ উদ্বোধন ১৮ নভেম্বর

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন অ্যাপ উদ্বোধন ১৮ নভেম্বর প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন অ্যাপ আগামী ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় উদ্বোধন করা হবে। আজ নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের সেমিনার কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটার নিবন্ধন অ্যাপ উদ্বোধন করব। এবারই আমরা প্রবাসীদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাইছি। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন করার জন্য প্রচার চালানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রচার করলে, আমাদের এই উদ্যোগ সফল হবে। এদিকে আজ বিকেল ৩টায় প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ে একটি অনলাইন সভা করবে ইসি। আজ ইসির এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিকেল ৩টায় জুম অ্যাপস এর মাধ্যমে আইট অফ কান্ট্রি ভোটিং (ওসিভি) বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত প্রশিক্ষণে সকল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জরায়ু নিয়ে কোন বয়স থেকে মেয়েদের সতর্ক হওয়া উচিত

জরায়ু নিয়ে কোন বয়স থেকে মেয়েদের সতর্ক হওয়া উচিত ওজন বেশি বা স্থূলত্ব রয়েছে এমন মহিলাদের জরায়ুতে সিস্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ওজন বেশি মানেই সিস্ট হবে, তা নয়। জরায়ুতে সিস্ট বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ওভারিয়ান সিস্ট’ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। তাই ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকাই জরুরি। ওভারিয়ান সিস্ট কী? ‘ওভারিয়ান সিস্ট’ মূলত ডিম্বাশয়ের ভিতরে থলির মতো মাংসল পিণ্ড, যার ভিতরে রক্ত বা তরল পদার্থ থাকতে পারে। চিকিৎসক মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতে, সিস্ট মানেই ক্যানসার নয়। এটি একটি টিউমার জাতীয় বৃদ্ধি, যা ম্যালিগন্যান্ট (ক্যানসারযুক্ত) অথবা বিনাইন (ক্যানসারহীন) হতে পারে। তবে যদি সিস্টের দেওয়াল পুরু হয় এবং কোষের অনিয়মিত বিভাজন শুরু হয়, তখন তা ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে। কোন বয়স থেকে ঝুঁকি বাড়ে? বয়ঃসন্ধিকাল থেকে মেয়েদের জরায়ুতে সিস্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ সময়ের সিস্ট তাড়াতাড়ি সেরে যায়। কিন্তু রজোনিবৃত্তির পর (menopause-এর পর) সিস্ট হলে তা বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এ সময়ে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এই হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই সিস্ট মারাত্মক আকার নিতে পারে এবং অনিয়মিত রক্তপাতের ঝুঁকি তৈরি হয়। ওভারিয়ান সিস্টের ঝুঁকি যাদের বেশি : যাদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) রয়েছে যাদের এন্ডোমেট্রিওসিস আছে হরমোন থেরাপি নেওয়া মহিলারা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন নারীরা অন্য কোনো ক্যানসারের চিকিৎসা যেমন রেডিয়োথেরাপি বা কেমোথেরাপি নিয়েছেন স্তন ক্যানসারের ওষুধ ব্যবহারকারীরা সম্ভাব্য জটিলতা ও চিকিৎসা ডিম্বাশয়ের সিস্ট থাকলে ডিম্বাণু পরিপক্ব হতে বা বেরোতে সমস্যা হয়, ফলে গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিস্ট বিনাইন হয় এবং ওষুধের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ক্যানসারের সম্ভাবনা থাকলে CA-125 টেস্ট, আলট্রাসাউন্ড এবং প্রয়োজনে সার্জারি করা হয়। তবে প্রতিটি সিস্টের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট। চিকিৎসকদের পরামর্শ : ১৪ বছর বয়সের পর থেকেই মেয়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। মাসিক অনিয়ম, তলপেটে ব্যথা, ওজন বেড়ে যাওয়া বা মুখে ব্রণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রজোনিবৃত্তির পর অনিয়মিত রক্তপাত হলে দ্রুত গাইনোকলজিস্টের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা থাকলে ওভারিয়ান সিস্ট বড় কোনো সমস্যা নয়, বরং সময়মতো ধরা পড়লে সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।