মেক্সিকোতে জরুরি অবতরণকালে ছোট প্লেন বিধ্বস্ত, ৭ আরোহী নিহত

মেক্সিকোতে জরুরি অবতরণকালে ছোট প্লেন বিধ্বস্ত, ৭ আরোহী নিহত মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে জরুরি অবতরণের সময় একটি ছোট প্লেন বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় তিন আরোহী ছাড়া বাকি সবাই নিহত হয়েছেন। আজ বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে সোমবার একটি ছোট প্লেন জরুরি অবতরণের চেষ্টা করার সময় বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। মেক্সিকো স্টেট সিভিল প্রোটেকশন কো-অর্ডিনেটর আদ্রিয়ান হার্নান্দেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সান মাতেও আতেনকো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি একটি শিল্পাঞ্চল এবং টোলুকা বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে এলাকাটির দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। প্লেনটি মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী শহর আকাপুলকো থেকে উড্ডয়ন করেছিল। হার্নান্দেজ জানান, ব্যক্তিমালিকানাধীন ওই জেটে ৮ জন যাত্রী ও ২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত মাত্র ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্লেনটি একটি ফুটবল মাঠে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিল। কিন্তু অবতরণের সময় পাশের একটি কারখানার ধাতব ছাদে আঘাত হানে, যার ফলে বড় ধরনের আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে মমতার কড়া নির্দেশ

৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে মমতার কড়া নির্দেশ দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ফের বসতে চলেছে বিশ্ব ইজতেমার আসর। নতুন বছরের শুরুতেই হুগলি জেলার তাজপুর থানার অন্তর্গত দাদপুরের পুইনান এলাকায় আয়োজন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক এই ধর্মীয় মহাসমাবেশ। আগামী ২ থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে ইজতেমা। ৫ জানুয়ারি আখরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আনুষ্ঠানিকতা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইজতেমাকে ঘিরে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আয়োজকদের প্রাথমিক অনুমান, চার দিনে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ মুসল্লির সমাগম হতে পারে। নামাজ আদায়, ইসলামী বয়ান শোনা এবং শান্তি-কল্যাণ ও আল্লাহর রহমত কামনায় একত্রিত হবেন মুসল্লিরা। বিশ্ব ইজতেমার মতো এত বড় জনসমাবেশ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সোমবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, বিশিষ্ট ইমাম, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ব ইজতেমা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে জানা, হুগলি জেলা প্রশাসনকে ইতোমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য থাকা, খাবার, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা বা গুজব রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়ানো ঠেকাতে সাইবার সেলকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে শেষবার পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিন দশকের বেশি সময় পর ২০২৬ সালে বৃহৎ এই ধর্মীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা

বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। আজ সকালে ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এ সময় বিজিবির একটি সুসজ্জিত চৌকস দল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এর আগে, দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরসহ সারাদেশে বিজিবির সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও ইউনিটগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিজিবি মহাপরিচালক প্রত্যুষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
মহান বিজয় দিবস আজ

মহান বিজয় দিবস আজ আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। এ বিজয় দিবস বাঙালি জাতির আত্মগৌরবের একটি দিন। এ বছর এ দিনটিতে বাঙালি জাতির বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৭১ সালের এদিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব-মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন ও সার্বভৌম হানাদার মুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও গৌরবগাঁথা গণবীরত্বে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় বাঙালি জাতি। বাঙালি জাতি তার অধিকার আদায়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে উঠে। ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যায় জাতি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও ভ্রান্ত দ্বিজাতির তত্ত্বের ভিত্তিতে যে অসম পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় তার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয় বাঙালি জাতিকে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার নির্যাতন। অর্থনৈতিক, সরকারি চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব দিক থেকে বঞ্চিত হতে থাকে বাঙালি তথা এ ভূখণ্ডের মানুষ। পাকিস্তানের এই শোষণ বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে পাকিস্তানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির এই আন্দোলনকে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার ঘোষণায় সারা দিয়ে সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী ছাত্র, শিক্ষক, যুবক, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে নামে এবং জীবন দেয়। জীবনের নিশ্চিত ঝুঁকি নিয়ে বাংলার দামাল ছেলে, মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পাশে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত। সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ওই সময় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন দিয়ে সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষ নেয়। বিশ্ব জনমতও গড়ে উঠতে থাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির সাহসিকতার কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করেন।
সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ে বাংলাদেশের

সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ে বাংলাদেশের বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা নিয়ে সর্বাধিক প্যারাস্যুটিং করে বিশ্বরেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। এতে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে স্কাই ডাইভিং করেন। আজ বেলা ১২টার দিকে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এই প্যারাস্যুটিং করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনী প্রধান, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ‘টিম বাংলাদেশ’ এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপারের এই পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী। এটি একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। ১২ হাজার উচ্চতা থেকে এই ফ্রি ফল জাম্পে অংশ নেওয়া এই ৫৪ জন হলেন- সেনাবাহিনীর ৪৬, নৌ বাহিনীর ৫, বিমান বাহিনীর ২ জন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ৪৯ থেকে ৫৪ নম্বরধারী ফ্রি ফল জাম্পাররা সুদানে নিহত ৬ জন শান্তিরক্ষীদের নাম বুকে ধারণ করেন। এই ফ্রি ফল জাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন এবং ড্রপ জোন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এম ইমরুল হাসান। এছাড়া তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মহান বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করে। এখানে একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো আয়োজন করা হয়।
বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টা

বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টা ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ সূর্যোদয়ের সময় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করেন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা। প্রথমে সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর কিছুক্ষণ পর সকাল ৬টা ৫৬ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ১৬ ডিসেম্বর প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উদযাপন শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন এবং রঙিন পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি; তফসিল ঘোষণা

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি; তফসিল ঘোষণা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার – সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। এবার দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে তাদের নিয়েই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড সরানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন ইসি। আজ স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ওই নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেট, তোরণ বা ঘের, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী ও নির্বাচনী ক্যাম্প থাকলে তা সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য প্রার্থী/ব্যক্তিদের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজ খরচে/দায়িত্বে অপসারণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। এ লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। ইসি জানায়, নির্ধারিত সময়ে উপর্যুক্ত প্রচারণা সামগ্রীসমূহ অপসারণ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়ে অনুরোধ করা হলো। নির্দেশনা মোতাবেক ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণ করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। অন্যথায় নির্বাচনী আচরণবিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আট ধাপ পেছাল বাংলাদেশের মেয়েরা

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আট ধাপ পেছাল বাংলাদেশের মেয়েরা চার ম্যাচে টানা হারের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের র্যাঙ্কিংয়ে। ৮ ধাপ পিছিয়ে বর্তমানে ১১২ নম্বরে অবস্থান করছে তারা। এর আগে আগস্ট মাসের ৭ তারিখ প্রকাশিত ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে মেয়েরা ২৪ ধাপ এগিয়ে ১০৪ তম অস্থানে উঠেছিল। আজ আজ প্রকাশিত মেয়েদের নতুন ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবনতি হয়েছে বাংলাদেশ দলের। আগে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ১১৭৯.৮৭৩। নতুন প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে ১২.২৬ রেটিং পয়েন্ট কমেছে বাংলাদেশের। এখন তাদের রেটিং পয়েন্ট ১১৬৭.৬১১। গত ৪ মাসে ৪ টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তার সবগুলোই হেরেছে। অক্টোবরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচে ৩-০ ও ৫-১ গোলে হারে বাংলাদেশ। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তিন জাতি নিয়ে টুর্নামেন্টেও দুটি ম্যাচে হারে তারা। মালয়েশিয়ার কাছে ১-০ ও আজারবাইজানের কাছে ২-১ গোলে হারে বাংলাদেশ দল। এই চার ম্যাচে ১১টি গোল হজমের বিপরীতে মাত্র ২ গোল করতে পারে বাংলাদেশ। মেয়েদের ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুইয়ে।
ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেনি। বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১১ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৪ জনে। আর আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯ হাজার ৪৯৩ জন। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা, আর একজন ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে থেকে এসেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭০ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২০ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২১ জন এবং রংপুর বিভাগে ২ জন ও সিলেট বিভাগে ৬ জন রোগী রয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬৬.৯ শতাংশ এবং নারী ৩৩.১ শতাংশ। এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে ছাড়পত্র পেল মোট ৯৭হাজার ২৫৩ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু ছড়িয়েছে ৬৪ জেলায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।