হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঠাট্টা

হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঠাট্টা প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে এবং এ অচলাবস্থা দ্রুতই কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারস্য উপসাগরের জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলে ঠাট্টা করেছেন তিনি। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে সৌদি আরব সমর্থিত একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের স্বার্থে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। এসময় তিনি হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বললে উল্লেখ করেন। বক্তৃতার সময় ট্রাম্প বলেন, তাদের ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’- মানে হরমুজ- খুলে দিতে হবে। দুঃখিত, এটা বড় ভুল হয়ে গেছে। পরে নিজেই মন্তব্যটি ঘিরে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারে, তবে তার ক্ষেত্রে এমন ভুল সচরাচর ঘটে না।

ভবিষ্যতে ন্যাটোর পাশে যুক্তরাষ্ট্র নাও থাকতে পারে, হতাশ ট্রাম্প যা বললেন

ভবিষ্যতে ন্যাটোর পাশে যুক্তরাষ্ট্র নাও থাকতে পারে, হতাশ ট্রাম্প যা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত করতে সামরিক বাহিনী পাঠাতে ন্যাটো মিত্রদের অস্বীকৃতির বিষয়ে তাঁর হতাশা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, ভবিষ্যতে অনুরোধ করা হলেও ওয়াশিংটন হয়তো ন্যাটোর পাশে নাও থাকতে পারে। খবর এএফপি’র। মিয়ামিতে একটি বিনিয়োগ ফোরামে ট্রাম্প বলেন, তারা তো ছিলই না। আমরা প্রতি বছর ন্যাটোর জন্য শতশত বিলিয়ন ডলার খরচ করি, তাদের রক্ষা করি এবং আমরা সব সময় তাদের পাশে থাকতাম। কিন্তু এখন, তাদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে মনে হয় আমাদের থাকার দরকার নেই, তাই না? তিনি বলেন, তারা যদি আমাদের পাশে না থাকে, তাহলে আমরা কেন তাদের পাশে থাকব? তারা তো আমাদের পাশে ছিলই না। এক মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে, ট্রাম্প পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থনের অভাব এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে বাহিনী পাঠাতে অনীহা নিয়ে বারবার হতাশা প্রকাশ করেছেন। হরমুজ প্রণালি হলো উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, যা ইরানের আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই জলপথ দিয়ে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং জাপানসহ ছয়টি প্রধান দেশ জানিয়েছে যে তারা ‘উপযুক্ত উদ্যোগে অবদান রাখতে’ প্রস্তুত, কিন্তু এখনো কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।’ ট্রাম্প ন্যাটোর সবচেয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। গত সপ্তাহে তিনি ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকে ‘কাওয়ার্ড’ বা কাপুরুষ বলে অভিহিত করেন এবং ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোট কেবল ‘কাগুজে বাঘ’। গত বৃহস্পতিবার তিনি তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাটোর কাছ থেকে কিছুই প্রয়োজন নেই।’ তিনি বলেন, ‘ন্যাটো দেশগুলো এখন সামরিকভাবে বিধ্বস্ত উন্মাদ রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সাহায্য করার জন্য বিন্দুমাত্র কিছুই করেনি।’

সুয়েজ খাল অচল করে দিতে পারে ইরান সমর্থিত হুথিরা : রিপোর্ট

সুয়েজ খাল অচল করে দিতে পারে ইরান সমর্থিত হুথিরা : রিপোর্ট ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৯তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে সরাসরি তেহরানের পক্ষে যুদ্ধে নামার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন’কে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে হুথি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মোহাম্মদ মনসুর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর হামলা আরও জোরালো করে, তবে হুথিরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এদিকে, কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরির মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অংশগ্রহণ বিশ্ব বাণিজ্যের দ্বিতীয় একটি প্রধান নৌপথকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে এলমাসরি বলেন, ‘গত আড়াই বছরে আমরা দেখেছি যে হুথিদের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। যদি তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এর ফলে লোহিত সাগর ও শেষ পর্যন্ত সুয়েজ খালে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে আমরা দু’টি প্রধান ‘চোকপয়েন্ট’ বা বাধাগ্রস্ত পয়েন্টের (হরমুজ প্রণালী ও সুয়েজ খাল) সম্মুখীন হব।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই রুটগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য প্রধান বৈশ্বিক নৌপথ। তাই আমি মনে করি সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।’ তার মতে, হুথিদের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন হামলা ইসরায়েলের শক্তিশালী কিন্তু ‘অভেদ্য নয়’ এমন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হিজবুল্লাহর মিসাইল ও রকেট এবং ইরানের মিসাইলগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। এখন যদি ইসরায়েল ইয়েমেন থেকে আসা মিসাইলগুলো মোকাবিলা করতে বাধ্য হয়, তবে তা তাদের জন্য পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে আরও জটিল করে তুলবে।’ এলমাসরি জানান, ‘রাজনৈতিকভাবে-এবং হয়তো কিছুটা অদ্ভুতভাবে-ইসরায়েল এটিকে স্বাগত জানাতে পারে। কারণ তারা এই যুদ্ধকে বিস্তৃত ও দীর্ঘায়িত করতে চায়। তারা নিশ্চিত করতে চায় যেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিকট ভবিষ্যতে যুদ্ধের সমাপ্তি না ঘটান। কারণ ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলো এখনও অর্জিত হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৯তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়নি, এখনও বাকি ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়নি, এখনও বাকি ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু : ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়নি মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসি„ডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করার বাকি আছে। গ্তকাল ফ্লোরিডার মায়ামি বিচে ফায়েনা ফোরামের ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এফআইআই) ইনস্টিটিউটের সম্মেলনে এমন কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং এখনো ইরানের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা বাকি রয়েছে। খুব দ্রুতই এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা সম্পন্ন করা হবে। ইরান এর আগে কখনো এমন কিছু দেখেনি বলেও হুঁশিয়ার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘কোনো স্থলবাহিনী ছাড়াই’ তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে এবং এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার সমান্তরালে ইরানে ‘চূড়ান্ত হামলার’ প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে খবর দিয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। সেক্ষেত্রে ইরানে ব্যাপক পরিমাণে বিমান হামলার পাশপাশি স্থলবাহিনী নামানোর চিন্তাও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরো দুইজনের বরাতে এ প্রস্তুতির খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’। খবরে বলা হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে মূলত বড় হামলার পথে হাঁটবে মার্কিন বাহিনী। অ্যাক্সিওস লিখেছে, খার্ক, লারাক কিংবা আবু মুসারে মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপে আক্রমণ হতে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে ইরানি তেলবাহী জাহাজে অবরোধ আরোপের মতো পরিকল্পনাও আছে। খবরে বলা হয়, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, বড় ধরনের হামলা চালালে তা শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। দুই পক্ষের আলোচনায় যুক্ত থাকা এক ব্যক্তি বলেন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিশর সংলাপ আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অ্যাক্সিওস লিখেছে, সম্ভাব্য অনেক বিকল্প মার্কিন প্রশাসন ভেবে রাখলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। এছাড়া হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তা স্থল অভিযানকে এখনো ‘কাল্পনিক’ হিসেবেই দেখেন। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট, সিএনএন

উত্তেজনা বাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পথে বিশাল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

উত্তেজনা বাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পথে বিশাল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাসমান এয়ারবেস ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ— যা ৮০টিরও বেশি বিমান বহন করতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যের ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায় এটিকে মোতায়েন করা হবে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএসকে বলেন, রণতরীটি এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপ চলতি মাসের শুরুতে মোতায়েন-পূর্ব প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে এবং এখন তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে যোগ দিতে পারে। দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস ডোনাল্ড কুক এবং ইউএসএস ম্যাসন—এই সপ্তাহে ইরানে চলমান মার্কিন অভিযানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে। আরেকটি ডেস্ট্রয়ার— ইউএসএস রস, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে, যদিও এর গন্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তারপরও এই মার্কিন বিমানবাহী রণতরী নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

দেশে হিলিয়াম গ্যাসের ঘাটতি নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে হিলিয়াম গ্যাসের ঘাটতি নেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমলেও বাংলাদেশে বর্তমানে হিলিয়াম গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ দুপুরে রাজধানীর আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘সিএমই অন মেডিকেল এথিকস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে হিলিয়াম গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই, ফলে দেশের হাসপাতালগুলোতে এমআরআই স্ক্যানসহ অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এর ফলে বৈশ্বিকভাবে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং চিকিৎসা খাতের অতিপ্রয়োজনীয় এমআরআই মেশিন পরিচালনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ নিয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে যাতে বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যখাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সোমবার ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আগামী সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ শনিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। আমিনুল হক বলেন, ‘যারা জাতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে। তাদের সম্মানিত করতে ক্রীড়া কার্ড দেয়া হবে। যারা বিভিন্ন পদক পেয়েছে, তাদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা দেয়া হবে। সব খেলাকে সমান গুরুত্ব দেয়া হবে।’ মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে এবং এপ্রিল থেকে ১২৯ জন ও পর্যায়ক্রমে বাকি ক্রীড়াবিদদের যুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘৪৯৫ উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ করা হবে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ক্রীড়াবৃত্তি প্রদান করা হবে।’ এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় দখল হয়ে থাকা মাঠ উদ্ধারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশি আলু রফতানির জন্য ভিয়েতনামের বাজার উন্মুক্ত

বাংলাদেশি আলু রফতানির জন্য ভিয়েতনামের বাজার উন্মুক্ত ভিয়েতনাম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের আলু রফতানির জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত করেছে। আজ ভিয়েতনামের কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমোদন প্রদান করেছে।গ্তকাল রাতে ভিয়েতনামে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। ভিয়েতনামের বিধি অনুযায়ী, কোনো দেশ আলু রপ্তানি করতে চাইলে তাদের কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হলে অনুমোদন প্রদান করে। হ্যানয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ২০২৫ সালের মে মাসে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আজ থেকে বাংলাদেশ ভিয়েতনামে আলু রপ্তানির জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, এ অর্জন বাংলাদেশের আলু রপ্তানিকারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকরাও উপকৃত হবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভিয়েতনামে আলুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এই রপ্তানি উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে সহায়ক হবে। রাষ্ট্রদূত আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ অর্জন বাংলাদেশের অন্যান্য উদ্ভিদজাত পণ্য, যেমন তিল, ভিয়েতনামে রপ্তানির পথ সুগম করবে। তিনি বলেন, দূতাবাস বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের জন্য ভিয়েতনামের বাজারে আরও প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণে কাজ অব্যাহত রাখবে।

জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ২৯৩ অভিযান, ৭৮ মামলা

জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ২৯৩ অভিযান, ৭৮ মামলা দেশব্যাপী জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একদিনে ২৯৩টি অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭৮টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। আজ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৭ মার্চ দেশের ৬২টি জেলায় একযোগে জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে আরো বলা হয়, জ্বালানি বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। আগামীকালও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও জ্বালানি সংক্রান্ত অনিয়ম লক্ষ্য করলে বা সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট ভিজিল্যান্স টিমের নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক শুরু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক শুরু হয়েছে। আজ বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। উপস্থিত আছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ তাহেরসহ কমিটির ১১ সদস্য। মূলত, সংসদ সদস্যদের আবাসন সমস্যাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধানের করণীয় ঠিক করতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সংসদীয় সভাও অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ ভবনের সরকার দলীয় সভাকক্ষে ওই বৈঠক হবে। বিএনপি সংসদীয় দলের সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন দেয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। সংসদের এই অধিবেশন চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এরপর থেকেই সংসদীয় কার্যক্রমকে নিয়মিত ও গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছিল। আজকের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।