আইএল টি-টোয়েন্টি : তাসকিনের প্রথম উইকেটের ম্যাচে জয় পেল শারজাহ

আইএল টি-টোয়েন্টি : তাসকিনের প্রথম উইকেটের ম্যাচে জয় পেল শারজাহ আইএল টি-টোয়েন্টিতে প্রথম তিন ম্যাচে হার দিয়ে শুরু করলেও ছন্দে ফিরেছে শারজাহ ওয়ারিয়র্স। টানা দ্বিতীয় জয়ে গ্তকাল গালফ জায়ান্টসকে হারিয়েছে তাসকিন আহমেদের দল। এই ম্যাচেই টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম উইকেটের দেখা পান বাংলাদেশি পেসার তাসকিন আহমেদ। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে শারজাহ ওয়ারিয়র্স। দলের পক্ষে টম অ্যাবেল ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। তিনি ৪১ বলে ৬৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে গালফ জায়ান্টস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রানের বেশি করতে পারেনি। গালফের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার মঈন আলি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আগের ম্যাচে এমআই এমিরেটসের বিপক্ষে অভিষেক হলেও উইকেট পাননি তাসকিন। সেই ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৯ রান দিয়েছিলেন তিনি। তবে গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩৪ রান খরচায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন এই টাইগার পেসার। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিনকে বল তুলে দেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। প্রথম ওভারে ৮ রান দেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভারে প্রথম দুই বলে চার ও ছক্কা হজম করলেও পরের চার বলে দেন মাত্র ১ রান। ওই ওভারেই গালফ অধিনায়ক জেমস ভিন্সকে ফিরিয়ে নিজের আইএল টি-টোয়েন্টির প্রথম উইকেট শিকার করেন তাসকিন। ওভারটিতে মোট ১২ রান দেন তিনি। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৬ রান দেন তাসকিন। ম্যাচের শেষ দিকে গালফ জায়ান্টসের যখন জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩২ রান, তখন ১৯তম ওভারে মাত্র ৮ রান খরচ করেন তিনি। এতে শারজাহ ওয়ারিয়র্সের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
চীনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলকে নৈশভোজ সংবর্ধনা

চীনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলকে নৈশভোজ সংবর্ধনা চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত চীন-বাংলাদেশ ক্রিকেট ফ্রেন্ডশিপ ট্যুরে অংশ নিতে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দল। এই সফরের অংশ হিসেবে গ্তকাল চাইনিজ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এক নৈশভোজ সংবর্ধনায় অংশ নেয় বাংলাদেশ দল। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন চীনের নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং চীনা নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরাও। নৈশভোজ শেষে উভয় দেশের খেলোয়াড়রা একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের কোনো ক্রিকেট দলের জন্য এটি প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে চীন সফর। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিরিজ আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ১৪ সদস্যের মূল স্কোয়াড ও চারজন স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড় নিয়ে এই সফরের দল ঘোষণা করে। চীনে পৌঁছানোর পরদিনই দলটি এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এই সফরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ডিসেম্বর। পরবর্তী দুই ম্যাচ মাঠে গড়াবে ১৯ ও ২১ ডিসেম্বর। তিনটি ম্যাচই চীনের হাংজুতে অনুষ্ঠিত হবে। সফর শেষে আগামী ২২ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের স্কোয়াড: সুমাইয়া আক্তার, আরতি মন্ডল, সাদিয়া ইসলাম, অদৃতা নওশের, মায়মুনা নাহার, রুমানা আহমেদ, সাদিয়া আক্তার, অতসী মজুমদার, জেরিন তাসনিম, লামিয়া মৃধা, অচেনা জান্নাত, সাদিয়া নুসরাত, ববি খাতুন, কুমারি শ্রাবণী। স্ট্যান্ডবাই:
অ্যাডিলেড টেস্টে ফিরলেন অধিনায়ক কামিন্স

অ্যাডিলেড টেস্টে ফিরলেন অধিনায়ক কামিন্স চোট কাটিয়ে অবশেষে অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে ফিরেছেন নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। অ্যাডিলেড টেস্টের জন্য ঘোষিত দলে আরও একটি পরিবর্তন হিসেবে জায়গা ফিরে পেয়েছেন অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়ন। কামিন্স ও লায়নের ফেরায় একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন অলরাউন্ডার মাইকেল নেসার এবং পেসার ব্রেন্ডন ডগেট। পিঠের চোটে ভোগা উসমান খাজাও অ্যাডিলেড টেস্টের একাদশে জায়গা পাননি। তাঁর পরিবর্তে সাত নম্বরে ব্যাট করবেন জশ ইংলিস। সিরিজে এগিয়ে থাকা অবস্থায় একাদশের বাইরে থাকা নিয়ে হতাশ হলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন খাজা। অধিনায়ক কামিন্স খাজার পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে বলেন,’সে একজন প্রকৃত টিমম্যান। দলের প্রয়োজনে সে সবকিছু করতে প্রস্তুত।’ এই টেস্টের মধ্য দিয়ে চলতি অ্যাশেজে প্রথমবার মাঠে নামছেন কামিন্স। চোটের কারণে পার্থ ও ব্রিসবেন টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি। সর্বশেষ চলতি বছরের মাঝামাঝিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছিলেন এই পেসার। নিজের ফিটনেস নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কামিন্স জানিয়েছেন, পুরো ওভার বোলিং করার জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন,’আমি এখন পুরোপুরি ফিট। কিছুদিন ধরেই শতভাগ ফিটনেসে বোলিং করছি। যদি ব্রিসবেনে খেলতাম, হয়তো ওভার সীমিত থাকত, কিন্তু এই টেস্টে আমার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।’ অ্যাডিলেড টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার একাদশ: জেক ওয়েদারাল্ড, ট্র্যাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, জশ ইংলিস, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, স্কট বোল্যান্ড।
মেগাভূমিকম্পের সতর্কতা তুলে নিল জাপান

মেগাভূমিকম্পের সতর্কতা তুলে নিল জাপান জাপানের উত্তর উপকূলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার এক সপ্তাহ পর সম্ভাব্য মেগাভূমিকম্পের জন্য জারি করা সতর্কতা প্রত্যাহার করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। আজ এ তথ্য জানানো হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) এবং অগ্নিনির্বাপণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এফডিএমএ) জানায়, গত ৮ ডিসেম্বরের ভূমিকম্পে সর্বোচ্চ ৭০ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ ২৮ ইঞ্চি উচ্চতার সুনামি ঢেউ সৃষ্টি হয়। এতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের পর জেএমএ একটি বিরল সতর্কতা জারি করে। এতে দেশটির উত্তরে ৮ মাত্রা বা তার বেশি শক্তিশালী মেগাভূমিকম্পের ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৭ মাত্রা বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের পর সাত দিনের মধ্যে মেগাভূমিকম্প ঘটার আশংকা প্রায় এক শতাংশ। এ সতর্কতার অংশ হিসেবে বাসিন্দাদের জরুরি ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রেখে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। জেএমএর কর্মকর্তা ইসেই সুগানুমা আজ এএফপিকে বলেন, বাসিন্দাদের জন্য জারি করা বিশেষ সতর্কতার সময়সীমা মধ্যরাতে শেষ হয়ে গেছে।
মেক্সিকোতে জরুরি অবতরণকালে ছোট প্লেন বিধ্বস্ত, ৭ আরোহী নিহত

মেক্সিকোতে জরুরি অবতরণকালে ছোট প্লেন বিধ্বস্ত, ৭ আরোহী নিহত মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে জরুরি অবতরণের সময় একটি ছোট প্লেন বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় তিন আরোহী ছাড়া বাকি সবাই নিহত হয়েছেন। আজ বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে সোমবার একটি ছোট প্লেন জরুরি অবতরণের চেষ্টা করার সময় বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। মেক্সিকো স্টেট সিভিল প্রোটেকশন কো-অর্ডিনেটর আদ্রিয়ান হার্নান্দেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সান মাতেও আতেনকো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি একটি শিল্পাঞ্চল এবং টোলুকা বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে এলাকাটির দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। প্লেনটি মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী শহর আকাপুলকো থেকে উড্ডয়ন করেছিল। হার্নান্দেজ জানান, ব্যক্তিমালিকানাধীন ওই জেটে ৮ জন যাত্রী ও ২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত মাত্র ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্লেনটি একটি ফুটবল মাঠে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিল। কিন্তু অবতরণের সময় পাশের একটি কারখানার ধাতব ছাদে আঘাত হানে, যার ফলে বড় ধরনের আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে মমতার কড়া নির্দেশ

৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে মমতার কড়া নির্দেশ দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ফের বসতে চলেছে বিশ্ব ইজতেমার আসর। নতুন বছরের শুরুতেই হুগলি জেলার তাজপুর থানার অন্তর্গত দাদপুরের পুইনান এলাকায় আয়োজন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক এই ধর্মীয় মহাসমাবেশ। আগামী ২ থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে ইজতেমা। ৫ জানুয়ারি আখরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আনুষ্ঠানিকতা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইজতেমাকে ঘিরে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আয়োজকদের প্রাথমিক অনুমান, চার দিনে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ মুসল্লির সমাগম হতে পারে। নামাজ আদায়, ইসলামী বয়ান শোনা এবং শান্তি-কল্যাণ ও আল্লাহর রহমত কামনায় একত্রিত হবেন মুসল্লিরা। বিশ্ব ইজতেমার মতো এত বড় জনসমাবেশ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সোমবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, বিশিষ্ট ইমাম, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ব ইজতেমা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে জানা, হুগলি জেলা প্রশাসনকে ইতোমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য থাকা, খাবার, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা বা গুজব রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়ানো ঠেকাতে সাইবার সেলকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে শেষবার পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিন দশকের বেশি সময় পর ২০২৬ সালে বৃহৎ এই ধর্মীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা

বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। আজ সকালে ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এ সময় বিজিবির একটি সুসজ্জিত চৌকস দল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এর আগে, দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরসহ সারাদেশে বিজিবির সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও ইউনিটগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিজিবি মহাপরিচালক প্রত্যুষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
মহান বিজয় দিবস আজ

মহান বিজয় দিবস আজ আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। এ বিজয় দিবস বাঙালি জাতির আত্মগৌরবের একটি দিন। এ বছর এ দিনটিতে বাঙালি জাতির বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৭১ সালের এদিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব-মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন ও সার্বভৌম হানাদার মুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও গৌরবগাঁথা গণবীরত্বে পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় বাঙালি জাতি। বাঙালি জাতি তার অধিকার আদায়ে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে উঠে। ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যায় জাতি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও ভ্রান্ত দ্বিজাতির তত্ত্বের ভিত্তিতে যে অসম পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় তার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয় বাঙালি জাতিকে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার নির্যাতন। অর্থনৈতিক, সরকারি চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব দিক থেকে বঞ্চিত হতে থাকে বাঙালি তথা এ ভূখণ্ডের মানুষ। পাকিস্তানের এই শোষণ বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে পাকিস্তানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির এই আন্দোলনকে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত করেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার ঘোষণায় সারা দিয়ে সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী ছাত্র, শিক্ষক, যুবক, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। আধুনিক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে নামে এবং জীবন দেয়। জীবনের নিশ্চিত ঝুঁকি নিয়ে বাংলার দামাল ছেলে, মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পাশে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত। সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ওই সময় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন দিয়ে সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষ নেয়। বিশ্ব জনমতও গড়ে উঠতে থাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির সাহসিকতার কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করেন।
সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ে বাংলাদেশের

সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ে বাংলাদেশের বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা নিয়ে সর্বাধিক প্যারাস্যুটিং করে বিশ্বরেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। এতে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে স্কাই ডাইভিং করেন। আজ বেলা ১২টার দিকে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এই প্যারাস্যুটিং করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনী প্রধান, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ‘টিম বাংলাদেশ’ এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপারের এই পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী। এটি একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। ১২ হাজার উচ্চতা থেকে এই ফ্রি ফল জাম্পে অংশ নেওয়া এই ৫৪ জন হলেন- সেনাবাহিনীর ৪৬, নৌ বাহিনীর ৫, বিমান বাহিনীর ২ জন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ৪৯ থেকে ৫৪ নম্বরধারী ফ্রি ফল জাম্পাররা সুদানে নিহত ৬ জন শান্তিরক্ষীদের নাম বুকে ধারণ করেন। এই ফ্রি ফল জাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন এবং ড্রপ জোন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এম ইমরুল হাসান। এছাড়া তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মহান বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করে। এখানে একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো আয়োজন করা হয়।
বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টা

বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টা ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ সূর্যোদয়ের সময় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করেন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা। প্রথমে সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর কিছুক্ষণ পর সকাল ৬টা ৫৬ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ১৬ ডিসেম্বর প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উদযাপন শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন এবং রঙিন পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে।