১৬ লাখ মার্কিন ডলার পাচ্ছেন প্যাট কামিন্সরা

১৬ লাখ মার্কিন ডলার পাচ্ছেন প্যাট কামিন্সরা  ঐতিহ্যের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে ৪–১ ব্যবধানে হারানো অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের জন্য অপেক্ষা করছে মোটা অঙ্কের বোনাস। ঘরের মাঠে এই সিরিজে আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও দ্রুতই ক্রিকেটারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য আর্থিক পুরস্কার দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বে সিরিজে ১১ দিনেই ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সাল থেকে অ্যাশেজের ‘ছাইদানি’ নিজেদের কাছে রেখেছে অজিরা। ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে ‘ব্যাগি গ্রিনস’রা মোট ১৬ লাখ মার্কিন ডলার বোনাস ভাগ করে নেবেন। সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য অজি পেসার মাইকেল নেসার ও অভিষিক্ত ব্যাটার জেক ওয়েদারাল্ডও ব্যক্তিগতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ পেতে যাচ্ছেন। নেসার পুরো সিরিজে ১৫ উইকেট নেন ১৯.৯৩ ইকোনমিতে, আর ওয়েদারাল্ড নিজের প্রথম অ্যাশেজেই নজর কাড়েন দারুণ ব্যাটিংয়ে। এই দুই ক্রিকেটারের রাজ্য দলের চুক্তির আয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) ন্যূনতম কেন্দ্রীয় চুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। রাজ্য চুক্তিতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫ হাজার ডলার পাওয়া যায়। ফলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্টভিত্তিক বেতন কাঠামোর শর্ত পূরণ করায় নেসার ও ওয়েদারাল্ড আরও প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ডলার অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। ওয়েদারাল্ড সিরিজ শেষ করেন ২০১ রান নিয়ে, গড় ছিল ২২.৩৩। অবশ্য শেষ তিনটি টেস্টে ভুগতে দেখা গেছে তাকে। গ্যাবায় নিজের প্রথম টেস্টে ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটার। অ্যাশেজে দাপুটে জয়ের সুবাদে আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ র‍্যাংকিংয়েও শীর্ষে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। টপকে গেছে নিউজিল্যান্ডকে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। তবে সিরিজের এই সাফল্যের মাঝেই বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্ন ও পার্থ টেস্ট সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় সংস্থাটির আয় কমেছে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ ভবিষ্যতে উইকেট প্রস্তুতির দিকে আরও সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দেন। গ্রিনবার্গ বলেছিলেন, ‘সংক্ষিপ্ত টেস্ট ব্যবসার জন্য ভালো নয়। এর চেয়ে স্পষ্ট করে বলার কিছু নেই। ব্যাট ও বলের মধ্যে আরও ভারসাম্য থাকা দরকার।’

বার্সাকে ‘গার্ড অব অনার’ দিতে অস্বীকৃতি, সমালোচনার মুখে এমবাপ্পে

বার্সাকে ‘গার্ড অব অনার’ দিতে অস্বীকৃতি, সমালোচনার মুখে এমবাপ্পে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। দলের প্রধান তারকাকে ফাইনালের জন্য বিশেষভাবে স্পেন থেকে উড়িয়ে আনা হয়। গুঞ্জন ছিল, ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়েই হলেও শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে ফরাসি এই সুপারস্টারকে। তবে প্রত্যাশার সেই দৃশ্য দেখা যায়নি। এল ক্লাসিকো ফাইনালে এমবাপে নামেন ম্যাচের শেষ দিকে, বদলি হিসেবে। মাঠে নেমেও দলের ভাগ্য বদলাতে পারেননি তিনি। ফাইনাল হারের পর এখন বির্তকিত এক কাণ্ড ঘটিয়ে উল্টো সমালোচনার মুখে পড়েছেন এমবাপে। স্প্যানিশ সাংবাদিক আলফ্রেদো মার্তিনেজের জানিয়েছেন, সুপার কাপ ফাইনালে হারের পর রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের বার্সেলোনাকে ‘গার্ড অব অনার’ না দিতে নির্দেশ দেন কিলিয়ান এমবাপে। কাতালান চ্যানেল এস্পোর্তো-থ্রি- এর ভিডিওতেও এমনটাই দেখা যায়। ফাইনালে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর রিয়াল মাদ্রিদের তারকারা সরাসরি বেঞ্চের দিকে চলে যান। তখন কোচ জাবি আলোনসোই তাদের জানান, বাধ্যতামূলক নয় এমন ‘গার্ড অব অনার’ বা স্পেনে যাকে ‘পাসিয়ো’ বলা হয়, সেটি দেওয়ার কথা। সেই সময় বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা বিজয়ী পদক নিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে মার্তিনেজের মতে, এমবাপেই সতীর্থদের ডাগআউটের দিকে নিয়ে যান। ক্যামেরায় ধরা পড়ে, ১০ নম্বর জার্সিধারী এই ফরোয়ার্ড স্পষ্টভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন এবং গার্ড অব অনারে অংশ নিতে আগ্রহ দেখানো রাউল আসেনসিওর দিকে তাকিয়ে অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে অন্য এক সতীর্থের সঙ্গে কিছু বলছেন। এই ঘটনার জেরে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (টুইটার) একটি জনপ্রিয় অ্যাকাউন্ট এমবাপেকে ‘সর লুসার ’ বা ‘হার মেনে নিতে না পারা’ খেলোয়াড় বলে আখ্যা দেয় এবং সেই ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদনে এমবাপের এমন আচারণকে ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ লিখেছে। অনেক বার্সা সমর্থকদের কাছেও এই ঘটনা দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে। রোমাঞ্চকর ফাইনালে ৭৬ মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়ার বদলি নামেন এমবাপে। ২-৩ গোলে পিছিয়ে থাকা দলকে উদ্ধার করতে এসে শেষ মুহূর্তে সতীর্থকে দিয়ে একটি গোল করানোর খুব কাছে ছিলেন। তবে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের কাছে ফাইনাল হারের একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে লস ব্লাঙ্কোসরা।

গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ জাপানের

গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ জাপানের চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের লক্ষ্যে আজ এক ঐতিহাসিক অভিযানে যাত্রা শুরু করেছে জাপানের একটি গবেষণা জাহাজ। বৈজ্ঞানিক খনন জাহাজ ‘চিকিউ’ স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শিজুওকার শিমিজু বন্দর ত্যাগ করে প্রশান্ত মহাসাগরের দূরবর্তী দ্বীপ মিনামি তোরিশিমার উদ্দেশে রওনা দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপটির আশপাশের জলসীমায় বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ রয়েছে। টোকিও থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। এই পরীক্ষামূলক অভিযানটি এমন এক সময়ে শুরু হলো, যখন জাপানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল খনিজ সরবরাহকারী চীন। গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ানে হামলা হলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই টানাপোড়েন তীব্র হয়। চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে বিরল খনিজে নিজের আধিপত্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধেও এই খাতটি চীনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার ছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে একদিন দেরিতে শুরু হওয়া ‘চিকিউ’-এর এই যাত্রা ভবিষ্যতে দেশে বিরল খনিজ উৎপাদনের পথ খুলে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরের কর্মসূচি পরিচালক শোইচি ইশি। বন্দরেই সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার কথা ভাবছি এবং নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে চাইছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিরল খনিজের দেশীয় উৎপাদন নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’ বিরল খনিজ বলতে পৃথিবীর ভূত্বক থেকে উত্তোলনে জটিল ১৭ ধরনের ধাতুকে বোঝায়। এগুলো বৈদ্যুতিক যান, হার্ড ড্রাইভ, বায়ু টারবাইন থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। জাপান এজেন্সি ফর মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (জ্যামস্টেক) জানিয়েছে, ৬ হাজার মিটার গভীরতায় এ ধরনের পরীক্ষামূলক খনন বিশ্বে এই প্রথম।জাপানের অর্থনৈতিক জলসীমায় অবস্থিত মিনামি তোরিশিমার আশপাশে ১ কোটি ৬০ লাখ টনের বেশি বিরল খনিজ মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিক্কেই বিজনেস ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, এটি বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম মজুত। নিক্কেই জানিয়েছে, এই সমৃদ্ধ স্তরে রয়েছে প্রায় ৭৩০ বছরের জন্য প্রয়োজনীয় ডিসপ্রোসিয়াম, যা মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির উচ্চক্ষমতার চুম্বকে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ৭৮০ বছরের জন্য প্রয়োজনীয় ইট্রিয়াম, যা লেজার প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)-এর গবেষণা সহযোগী তাকাহিরো কামিসুনা এএফপিকে বলেন, ‘মিনামি তোরিশিমার আশপাশে যদি জাপান নিয়মিতভাবে বিরল খনিজ উত্তোলনে সফল হয়, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতের জন্য একটি নিরাপদ দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত হবে।’ এই গবেষণা অভিযান চলবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সাম্প্রতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে দুই মাস ধরে চলা উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বেইজিং জাপানি পণ্য আমদানিতে বিলম্ব ঘটাচ্ছে ও টোকিওতে বিরল খনিজ রফতানির গতিও শ্লথ হয়েছে। চলতি মাসে চীন জাপানের কাছে ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ কিছু পণ্যের রফতানি বন্ধ করেছে, যেগুলোর সামরিক ব্যবহার সম্ভব। এতে বেইজিং বিরল খনিজ সরবরাহও আটকে দিতে পারার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে জাপানের, কারণ এর কিছু চীনের দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

ইরানে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, দ্রুত চালু হবে ইন্টারনেট

ইরানে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, দ্রুত চালু হবে ইন্টারনেট তীব্র অর্থনৈতিক দুরাবস্থার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে নিহতের ঘটনায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান সরকার। একই সঙ্গে শিগগিরই ইন্টারনেট সংযোগ আবার চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গ্তকাল দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বিক্ষোভে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের ‘শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সম্মানে এই শোক পালন করা হবে। যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ১০০ জনেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে বিরোধী কর্মীরা দাবি করছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। এর মধ্যে শত শত বিক্ষোভকারীও মারা গেছেন। এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমন্বয় করে দ্রুত ইন্টারনেট পুনঃসংযোগ চালু করতে কাজ করছে। দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর ইন্টারনেট সংযোগও চালু করা হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি বিক্ষোভে আরও উসকানি সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন আরাগচি। এদিকে, চলমান সহিংস বিক্ষোভের প্রতিবেদে আগামীকাল সোমবার ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে জাতীয় বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার। গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সরকার অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত, তবে ‘দাঙ্গাবাজদের’ প্রতি কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখানো হবে না। সূত্র: আল-জাজিরা, জিও নিউজ

ইসিতে প্রথম ঘণ্টায় ২৪ আপিল নিষ্পত্তি, মনোনয়নপত্র বাতিল ৭ জনের

ইসিতে প্রথম ঘণ্টায় ২৪ আপিল নিষ্পত্তি, মনোনয়নপত্র বাতিল ৭ জনের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টায় ২৪টি আপিলের শুনানি হয়েছে। এরমধ্যে ১৫টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে। ৭টি আপিল নামঞ্জুর হয়েছে নাম এবং দুটি আপিল অপেক্ষমান রাখা হয়েছে। আজ সকাল ১০টা ১০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) আপিল শুনানি শুরু হয়। আপিল শুনানিতে দেখা গেছে, ২৯৮ খাগড়াছড়ি আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী দীনময় রোয়াজার নামে থাকা একটি ক্রেডিট কার্ডে ২২ হাজার ৭০০ টাকার বিল বকেয়া থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১১ আসনে গণধিকার পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিনের ৯৭ হাজার ৯৯১ টাকা ঋণ খেলাপি থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৯ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় তার মনোনয়নটি বাতিল করা হয়েছে। ফেনী-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইলের এক শতাংশ সমর্থনকারীর কম হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। নাটোর-২ আসনে এনপিপি প্রার্থী জি এ এ মুবিন সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। তার চাকরি থেকে অব্যাহতির সময় তিন বছর না হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাকিলা ফারজানাকে ‘নট প্রেসড’ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এদিকে, মানিকগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম আব্দুল মান্নানের ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় যুক্তিতর্কের পর তার মনোনয়ন আপাতত অপেক্ষা মন রাখা হয়েছে এবং পাবনা-২ আসনে শুনানি স্থগিত থাকায় গণফোরাম প্রার্থী শেখ নাসির উদ্দিনের মনোনয়নপত্র অপেক্ষমান রাখা হয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন তথ্য দিল আবহাওয়া অফিস

শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন তথ্য দিল আবহাওয়া অফিস আজ আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, দেশের আট জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। এ সময় রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। এ সময় চলমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বুধবার ১৪ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারা দেশে আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী ১৫ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। সে সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ১৬ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিনের শেষের দিকে রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

মার্চে জাপান সফরে যাবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

মার্চে জাপান সফরে যাবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে জাপান সফরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে গতকাল ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা এ কথা জানিয়েছেন। এনকারেজমেন্ট অব সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশন (সামাজিক অবদান উৎসাহিতকরণ) ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছেন। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আকি আবে তার প্রয়াত স্বামী শিনজো আবের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আন্তরিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক স্মৃতিচারণ করেন। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সাক্ষাতে আকি আবে আসন্ন নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টা কীভাবে সময় কাটাবেন, বিশেষ করে তার পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।জবাবে অধ্যাপক ইউনূস জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তিনি মূলত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রথমত ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করা হবে, যাতে দেশের নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জানতে ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন—সে ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, তরুণদের উন্নয়ন ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলে জানান ড. ইউনূস। তৃতীয়ত, এসডিজি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও তিনি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে জাপান সফরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ড. ইউনূস। সফরকালে সামুদ্রিক গবেষণা ও ওশান রিসার্চসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে।

আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন। ঢাকায় পৌঁছালে বিমানবন্দ‌রে নতুন রাষ্ট্রদূত‌কে স্বাগত জানা‌বেন মা‌র্কিন দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের কর্মকর্তারা। সূত্র জানায়, চল‌তি সপ্তা‌হেই পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশন শুরু করবেন ক্রিস্টেনসেন। আগামী দুই দিন পররাষ্ট্রস‌চিব আসাদ আলম সিয়াম ও রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে প‌রিচয়পত্র পে‌শের প্রস্তু‌তি নে‌বেন তিনি। আগামী ১৫ জানুয়া‌রি রাষ্ট্রপ‌তি মো. সাহাবু‌দ্দি‌নের কা‌ছে প‌রিচয়পত্র পেশ কর‌বেন। ঢাকায় আসার আগে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যে দেশটির সঙ্গে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত, সেই বাংলাদেশে ফিরতে পেরে ভীষণ আনন্দিত। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে এবং প্রতিদিন নিরলসভাবে কাজ করে আমেরিকাকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তুলতে আমি উচ্ছ্বসিত। উল্লেখ্য, ঢাকায় ১৮তম মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিচ্ছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি মোতায়েন থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি মোতায়েন থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে সারাদেশের সব ভোটকেন্দ্রে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ দুপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ লক্ষ্যে গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই আনসার ও ভিডিপি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫৬ হাজার উপজেলা-থানা কোম্পানি আনসার, ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি সদস্য এবং ৩ হাজারেরও অধিক আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে প্রায় সাড়ে চার লক্ষাধিক সদস্যকে STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি টিমে ১০ জন করে মোট ১১ হাজার ৯১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যা সামগ্রিক নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করবে।

দেশে বন্ধ হয়েছে ৮৮ লাখের বেশি সিম

দেশে বন্ধ হয়েছে ৮৮ লাখের বেশি সিম দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা দিতে গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি সিমকার্ড বাতিল করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এতে দেশের ৮৮ লাখেরও বেশি সিমকার্ড বন্ধ হয়েছে। আরো ১ লাখ সিম মামলাসংক্রান্ত কারণে আটকে রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মোবাইল ব্যবহারকারী ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে। কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে গ্রাহক। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিমের সংখ্যা ৫ টিতে নামিয়ে আনা হলে এ খাতে আরো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, দেশের ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে গ্রাহকের কাছে থাকা সিমকার্ড কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নভেম্বর থেকে গ্রাহকের বিপরীতে ১০টির বেশি সিম বন্ধ করে দেয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সিমের সংখ্যা পাঁচটিতে নামিয়ে আনতে বিটিআরসিকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে গ্রাহকদের অসন্তোষ ও আন্দোলনের কারণে তা এখনই বন্ধ করা হবে না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। টেলিযোগাযোগ সংস্থাটির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের নির্দেশনা ছিল গ্রাহকপ্রতি ১০টি সিমে নামিয়ে আনা। এতে প্রায় ৮৯ লাখ অতিরিক্ত সিম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮৮ লাখের বেশি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাকি এক লাখ সিম ভিআইপিসহ বিভিন্ন মামলা চলমান থাকায় স্থগিত করা হয়েছে। তবে দ্রুতই সেগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা ছিল সিম সংখ্যা পাঁচটিতে নামিয়ে আনার। কিন্তু সামনে যেহেতু নির্বাচন এবং ৬ থেকে ১০টি সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি, তাই সেটি আমরা এখনই করছি না। নির্বাচনের পর পাঁচটিতে নামিয়ে আনতে কাজ করব।’ এদিকে সিমের সংখ্যা কমিয়ে আনার ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মোবাইল গ্রাহক ও ইন্টারনেট ব্যবহারে। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু ও সিম বন্ধের ফলে গত ছয় মাসে কমেছে প্রায় ১৮ লাখের বেশি মোবাইল গ্রাহক ও ৬২ দশমিক ৬ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে দেশের চারটি সিম অপারেটরের বিপরীতে ১৯ কোটি ৪২ লাখ মোবাইল ব্যবহারকারী ছিল। এর এক বছর পর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সে সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৮৭ লাখ এবং বর্তমানে (নভেম্বর-২৫) সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৭০ লাখে। গত ছয় মাসে ধারাবাহিকভাবে কমছে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা। দেশে ধারাবাহিকভাবে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের কড়াকড়ি, সিম কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত, মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্যবৃদ্ধি ও ব্রডব্যান্ডের সহজলভ্যতা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সিমকার্ড ১০টিতে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে খুব বেশি প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে পাঁচটিতে নামিয়ে আনলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বাজারের ওপর। তখন রাজস্ব ও অন্যান্য খাতে প্রভাব পড়বে।’