ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩৫

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩৫ জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হওয়ার কারণে ইরানে টানা ৯ দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে সহিংসতা ও প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক বিঘ্ন এবং কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে প্রকৃত হতাহত ও গ্রেপ্তারের সঠিক সংখ্যা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে মানবাধিকার কর্মীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। আজ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, ৪ জন শিশু এবং ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ২ জন সদস্য রয়েছেন। ইরানের ভেতর থাকা বিস্তৃত কর্মী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দেশটির অতীতের অস্থিরতার সময়েও নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজনা, মারভদাশত ও কোরভেহ শহরে অন্তত ৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। বিক্ষোভে আহত হয়েছেন অন্তত ৬৪ জন, যাদের অধিকাংশের শরীরে পেলেট গান ও প্লাস্টিক বুলেটের আঘাত রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ৪৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু এলাকায় সরাসরি গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও দেশটির অন্তত ৮৮টি শহরের ২৫৭টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সপ্তাহজুড়েই মৃত্যু ও গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ও অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো, তবে পরিসংখ্যান ভিন্ন ছিল। রয়টার্স এসব সংখ্যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। ২০২২ সালে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে ২২ বছরের কুর্দি ইরানি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর পর দেখা দেওয়া গণবিক্ষোভের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। তবে এবার জনগণের অসন্তোষের ব্যাপারে দেশটি শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সুর তুলনামূলকভাবে অনেকটা নরম। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিক্ষোভকারীদের ‘প্রতিনিধিদের’ সঙ্গে বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়ে ‘সমস্যা সমাধানে’ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব মাচাদোর

ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব মাচাদোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত বছর প্রাপ্ত তার নোবেল শান্তি পুরস্কারটি ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। গতকাল ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা বিশ্বাস করেন এই পুরস্কারটি তাদের সবার এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে এর অংশীদার করতে পারলে খুশি হবেন। মাচাদো গত বছর যখন নোবেল পুরস্কারটি জেতেন, তখন ট্রাম্পও এটি পাওয়ার জন্য জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে যখন নরওয়ের অসলোতে উপস্থিত হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন মাচাদো, তখন থেকেই তাদের মধ্যকার সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মুহূর্তে ট্রাম্পের এই অসন্তোষ মাচাদোর ক্ষমতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মাচাদোর নোবেল গ্রহণ করার সিদ্ধান্তটিকে ট্রাম্প ইতিবাচকভাবে নেননি। কর্মকর্তারা মনে করেন, মাচাদো যদি পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করতেন, তবে হয়তো আজ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট থাকতেন তিনি। এদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা আটক করার পর সামাজিকমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ওই পোস্টে তিনি বলেন, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে এবং তারা এখন ক্ষমতা নিতে প্রস্তুত। কিন্তু এর দুই ঘণ্টা পর এক সংবাদ সম্মেলনে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়- মাচাদো ভেনেজুয়েলার পরবর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলাকে চালানোর মতো সমর্থন ও সক্ষমতা মাচাদোর নেই। দেশটির সবাই তাকে সম্মান করেন না বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। মাদুরোকে আটক করার পর ভেনেজুয়েলার জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক চিঠিতে মাচাদো বলেন, জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। চিঠিতে মাচাদো বলেন, নিকোলাস মাদুরো আজ থেকে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের জন্য তাকে এখন জবাবদিহি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসতে মাদুরো বারবার অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে মার্কিন সরকার আইন প্রয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটিই বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মাচাদোর ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় এখন জনগণের শাসন ও সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। তিনি বলেন, দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং একটি নতুন ভেনেজুয়েলা গড়ে তোলা হবে।
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান। দেশটির পশ্চিম উপকূলে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ৬ দশমিক ২ মাত্রার এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে দেশজুড়ে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। খবর এএফপির। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, শিমান প্রিফেকচারে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ওই ভূমিকম্প থেকে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বলছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮। জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইয়াসুগিতে কম্পনের শিন্দো স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা পাঁচের বেশি। এই স্তরে ভারী আসবাবপত্র পড়ে যেতে পারে এবং চালকদের স্টিয়ারিংয়ে সমস্যা হতে পারে। জেএমএ জানিয়েছে, একই অঞ্চলে ৪.৫, ৫.১, ৩.৮ এবং ৫.৪ মাত্রার বেশ কয়েকটি ছোট ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’ এর পশ্চিম প্রান্তে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের ওপরে অবস্থিত এবং বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্প-সক্রিয় দেশগুলোর মধ্যে একটি। প্রায় ১২৫ মিলিয়ন মানুষের আবাসস্থল এই দ্বীপপুঞ্জে প্রতি বছর প্রায় ১৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয় যাদের বেশিরভাগই কম মাত্রার।
১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, অব্যাহত থাকার আভাস

১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, অব্যাহত থাকার আভাস দেশের ১০ জেলার উপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। আজ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক-এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সংস্থাটি জানায়, দেশের রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারাদেশে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারাদেশে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সাথে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের শ্বেতপত্র প্রকাশ

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের শ্বেতপত্র প্রকাশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের শ্বেতপত্র ওয়েবসাইটে (ptd.gov.bd) প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিগত ১৫ বছর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে (পিটিডি) সংঘটিত দুর্নীতি ও অনিয়ম-সংক্রান্ত বিষয়সমূহ পর্যালোচনা এবং বিশ্লেষণের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের দীর্ঘ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা স্থান পেয়েছে। গতকাল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শ্বেতপত্রে গত দেড় দশকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কাঠামোগত সমস্যার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমন অবস্থায় সরকারের প্রত্যাশা, এই শ্বেতপত্র টেলিযোগাযোগ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জন্য এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্স গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতে বিগত ১৫ বছরে দুর্নীতি ও অনিয়ম বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন করা।
আপিলের প্রথম দিনে ইসিতে ৪২ আবেদন জমা

আপিলের প্রথম দিনে ইসিতে ৪২ আবেদন জমা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ শুরু হয়েছে। আপিল গ্রহণের প্রথম দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৪২টি আবেদন জমা পড়েছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এসব আবেদন জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ৪১টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে একটি আপিল আবেদন রয়েছে। যেসব আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে সেগুলো হলো-১৬ লালমনিরহাট-১ (১টি), ১৯ রংপুর-১ (১টি), ২২ রংপুর-৪ (১টি), ৩৮ বগুড়া-৩ (১টি), ৪৪ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (১টি), ৫৬ রাজশাহী-৫ (১টি), ৫৮ নাটোর-১ (১টি), ৮৯ যশোর-৫ (১টি), ৯৩ নড়াইল-১ (১টি), ৯৫ বাগেরহাট-১ (১টি), ১০৪ খুলনা-৬ (১টি), ১১৩ পটুয়াখালী-৩ (১টি), ১৩০ টাঙ্গাইল-১ (১টি), ১৬২ কিশোরগঞ্জ-১ (১টি), ১৬৫ কিশোরগঞ্জ-৪ (১টি), ১৭৩ মুন্সীগঞ্জ-৩ (১টি), ১৭৬ ঢাকা-৩ (২টি), ১৮২ ঢাকা-৯ (১টি), ১৯১ ঢাকা-১৮ (১টি), ১৯৪ গাজীপুর-১ (১টি), ১৯৫ গাজীপুর-২ (১টি), ১৯৬ গাজীপুর-৩ (১টি), ১৯৮ গাজীপুর-৫ (২টি), ১৯৯ নরসিংদী-১ (১টি), ২০২ নরসিংদী-৪ (১টি), ২০৭ নারায়ণগঞ্জ-৪ (১টি), ২১৪ ফরিদপুর-৪ (১টি), ২১৬ গোপালগঞ্জ-২ (১টি), ২১৯ মাদারীপুর-২ (১টি), ২২১ শরীয়তপুর-১ (৩টি), ২২৩ শরীয়তপুর-৩ (১টি), ২৪৯ কুমিল্লা-১ (১টি), ২৫৭ কুমিল্লা-৯ (১টি), ২৬১ চাঁদপুর-২ (১টি), ২৬৫ ফেনী-১ (১টি), ২৮৮ চট্টগ্রাম-১১ (১টি) এবং ২৯৫ কক্সবাজার-২ (১টি)। ২৪৩ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ১টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৬টি, মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ২ হাজার ৫৬৮টি। বাছাইয়ে বৈধ হয়েছে ১ হাজার ৮৪২টি। আর বাতিল হয়েছে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র। সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ঢাকা অঞ্চলে, ১৩৩টি। সবচেয়ে কম বাতিল হয়েছে বরিশাল অঞ্চলে, ৩১টি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জানানো হয়, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময়সীমা ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করবে। সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময় সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি।নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান প্রাথমিক শিক্ষকদের

ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান প্রাথমিক শিক্ষকদের আসন্ন রমজানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও অংশগ্রহণের বাস্তবতা বিবেচনায় ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এ আহ্বান জানায়। আজ সংগঠনটির পক্ষ থেকে আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খায়রুন নাহার লিপি ও মু. মাহবুবর রহমানের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। ওই যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলির স্বাক্ষর করা একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তবে দাপ্তরিকভাবে এই ছুটির তালিকার সত্যতা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। যদি প্রকাশিত ছুটির তালিকাটি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে কিছু অসংগতি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা কর্তৃপক্ষের অনিচ্ছাকৃত ভুল বা প্রিন্টিং জটিলতার কারণে হতে পারে। এতে আরো বলা হয়, অতীত বছরগুলোতে শুক্র ও শনিবার ছুটির তালিকায় ‘শূন্য দিন’ হিসেবে গণনা করা হতো। চলতি ছুটির তালিকাতেও ২, ৬, ১৩, ২০, ২২ ও ২৩ নম্বর ক্রমিকে শুক্র ও শনিবার হওয়ায় শূন্য দিন ধরা হয়েছে। তবে একই ছুটির তালিকার ৮ নম্বর ক্রমিকে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটির মধ্যে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে গণনা করা হয়েছে। আবার ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত ১০ দিনের ছুটির মধ্যেও শুক্র ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ৮ নম্বর ক্রমিকে ৪ দিন এবং ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২ দিন করে মোট ৬ দিন শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এই অসামঞ্জস্যের কারণে শিক্ষক সমাজ ও সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা মনে করে, এ ধরনের বিভ্রান্তি অনভিপ্রেত এবং দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, রমজান মাস মুসলমানদের জন্য একটি পবিত্র মাস। এ সময় সিয়াম পালন করে শ্রেণি পাঠদান করা শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। একই সঙ্গে অনেক প্রাথমিক শিক্ষার্থীও রোজা রেখে বিদ্যালয়ে আসে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য শারীরিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষক নারী হওয়ায় বিদ্যালয়ের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে ইফতার প্রস্তুতির বিষয়টিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ ছুটির তালিকাটি বাস্তবতা ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
এনইআইআর নিয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি, মোবাইল ব্যবহারকারীদের সতর্ক করলো বিটিআরসি

এনইআইআর নিয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি, মোবাইল ব্যবহারকারীদের সতর্ক করলো বিটিআরসি মোবাইল ফোনের এনইআইআর সেবা নিয়ে সবাইকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ সেবা গ্রহণ করার জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে। আজ সকালে বিটিআরসিস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এনইআইআর সংক্রান্ত সকল সেবা গ্রহণের জন্য শুধুমাত্র বিটিআরসির নির্ধারিত ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো। বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অননুমোদিত কোনো ওয়েবসাইট বা লিংকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না। বিভ্রান্তিকর কোনো লিংকের মাধ্যমে এনইআইআর সেবা গ্রহণে কোনো রকম ফি প্রদান করবেন না। বিনামূল্যে এনইআইআর সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপন শুরু করেছিলেন যে সম্রাট

‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপন শুরু করেছিলেন যে সম্রাট থার্টি ফার্স্ট নাইট হলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ৩১শে ডিসেম্বরের শেষ রাত। এই রাতে নতুন বছরের প্রথম প্রহরকে স্বাগত জানানো হয়। শুরুটা হয়েছিলো পাশ্চাত্য খ্রিস্টীয় সংস্কৃতিতে, পরবর্তীতে দেশে দেশে শুরু হয় থার্টি ফার্স্ট উদযাপন। এই দিবস পালন প্রথম প্রবর্তন করেন জুলিয়াস সিজার। তিনি ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পরে নববর্ষ পালনের ক্ষণটি নির্দিষ্ট করেন। যদিও বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে একটি বৈশ্বিক উৎসবের রূপ নিয়েছে, অনেকেই পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে। এক নজরে জুলিয়াস সিজারের জীবনী জুলিয়াস সিজার ছিলেন রোমান ইতিহাসের এমন এক চরিত্র- যার ব্যক্তিত্বে প্রতিফলিত হতো ভক্তি ও বিদ্বেষ, শ্রদ্ধা, আতঙ্ক—ও ভালোবাসা। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যাকে উপেক্ষা করা সম্ভব ছিলো না। পরাজিত শত্রুদের তিনি ক্ষমা করতেন, সুযোগ দিতেন, এমনকি বহু শত্রুকেই পরে নিজের প্রশাসনে জায়গা করে দিতেন। কিন্তু এই উদারতা তাকে নিরাপদ করেনি। বরং অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, ‘‘সিজারের ক্ষমাশীলতাই শেষ পর্যন্ত তার হত্যার পথ প্রশস্ত করেছিল—কারণ যাদের তিনি ক্ষমা করেছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই অনেকেই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।’’ সিজারের সৈন্যরা তাকে গভীরভাবে ভালোবাসত ও শ্রদ্ধা করত। তিনি শুধু একজন সেনানায়কই ছিলেন না; তিনি ছিলেন সংগঠক, মনস্তত্ত্ববিদ এবং অনুপ্রেরণার উৎস। রাজনীতি ও সামরিক কৌশলে সিজারের প্রতিভা ছিল অসাধারণ। প্রশাসন পরিচালনা, যুদ্ধ পরিকল্পনা, জনসমর্থন আদায় এবং নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। আধুনিক অর্থে যাকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলা হয়, সিজার তা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতেন—নিজের লেখা ও ভাষণের মাধ্যমে তিনি নিজেকেই ইতিহাসের নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, ‘‘সিজারের মানবিকতাই তার রাজনৈতিক বাস্তবতাবোধকে কখনো কখনো দুর্বল করে তুলেছিল।’’ সাহিত্যিক হিসেবেও সিজার ব্যতিক্রমী। তার লেখা Commentaries on the Gallic War এবং Civil War শুধু ঐতিহাসিক দলিলই নয়, বরং ল্যাটিন সাহিত্যের উৎকৃষ্ট নিদর্শন। ভাষা ছিল সংযত, স্পষ্ট ও শক্তিশালী—অতিরঞ্জনহীন, অথচ গভীরভাবে প্রভাবশালী। যদিও এসব রচনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, তবুও সাহিত্যগুণে সেগুলো অনন্য। সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল সিজারের অশেষ কর্মশক্তি। শারীরিক ও মানসিক—উভয় দিক থেকেই তিনি ছিলেন অদম্য। যুদ্ধের ময়দান, প্রশাসনিক সভা, দীর্ঘ সফর ও লেখালেখি—সবকিছু তিনি একসঙ্গে সামলাতে পারতেন। যুদ্ধ চলাকালীনও তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তার প্রাণশক্তির প্রকাশ ছিল স্পষ্ট। প্রেমের কারণে তিনি সমালোচিত হয়েছেন, বিশেষ করে মিসরের রানি ক্লিওপেট্রার সঙ্গে তার সম্পর্ক রোমের অভিজাতদের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি করেছিল। এই সম্পর্ক রাজনৈতিকভাবেও তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। সূত্র: ব্রিটানিকা
দুই সন্তান থাকলে নারীদের মানসিক রোগের ঝুঁকি কমে: গবেষণা

দুই সন্তান থাকলে নারীদের মানসিক রোগের ঝুঁকি কমে: গবেষণা নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দুটি সন্তান থাকা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। চীনের সুচাউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল যুক্তরাজ্যের ৫৫ হাজারেরও বেশি নারীর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যেসব নারীর সন্তান রয়েছে—বিশেষ করে দুটি সন্তান, তাদের মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও বিষণ্নতার মতো গুরুতর মানসিক রোগের ঝুঁকি সন্তানহীন নারীদের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘জার্নাল অব অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার্স’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, সন্তানের সংখ্যা শূন্য থেকে দুই পর্যন্ত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক রোগের ঝুঁকি ধাপে ধাপে হ্রাস পায়। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, সন্তানের সংখ্যা দুইয়ের বেশি হলে এই সুরক্ষামূলক প্রভাব আর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না; বরং তা স্থিতিশীল হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘‘এই মানসিক সুরক্ষার পেছনে রয়েছে জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক—উভয় ধরনের কারণ।গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব হরমোন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং আবেগ ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘমেয়াদে এই হরমোনগত পরিবর্তনগুলো মুড ডিসঅর্ডারের বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে।’’ মা–শিশুর বন্ধন ও মানসিক তৃপ্তি সন্তান জন্মের পর মা ও নবজাতকের মধ্যকার নিবিড় আবেগী বন্ধন এবং শিশুর যত্ন নেওয়ার প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেম’কে সক্রিয় করে। এর ফলে মায়ের মধ্যে গভীর মানসিক তৃপ্তি তৈরি হয়, যা বিষণ্নতা ও নেতিবাচক অনুভূতি দূরে রাখতে সহায়ক। দ্বিতীয় সন্তান হলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ‘‘দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে মায়েরা সাধারণত বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকেন। প্রথম সন্তানের সময় যে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা থাকে, তা অনেকটাই কমে যায়। দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায় উদ্বেগ ও মানসিক চাপও তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হয়।’’ বিশ্বজুড়ে যেখানে প্রজনন হার কমছে এবং একই সঙ্গে মানসিক রোগের প্রকোপ বাড়ছে—সেই বাস্তবতায় এই গবেষণার ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ। এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ‘‘১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের একটি বড় অংশ মাঝারি থেকে মারাত্মক বিষণ্নতায় ভোগেন। এই প্রেক্ষাপটে দুটি সন্তানের মা হওয়া অনেক নারীর মানসিক সুস্থতার জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে।’’