পাকিস্তানে তীব্র দাবদাহে ৬ দিনে ৫ শতাধিক মৃত্যু

পাকিস্তানে তীব্র দাবদাহে ৬ দিনে ৫ শতাধিক মৃত্যু পাকিস্তানে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে গত ছয়দিনে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একদিনেই প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ১৫০ জন। দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র করাচিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে অনুভূত তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। পাকিস্তানের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সংস্থা জানায়, করাচির মর্গগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে গত ছয় দিনে তারা প্রায় ৫৬৮টি লাশ সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে গত মঙ্গলবারই সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪১টি লাশ। করাচির সিভিল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ডা. ইমরান সারওয়ার শেখ বিবিসিকে জানান, গত রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ২৬৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন, যাদের বেশিরভাগের বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে করাচির বাসিন্দারা চরম সংগ্রাম করছে। শহরটিতে নিয়মিত লোডশেডিংয়ের ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। করাচি ছাড়াও পুরো সিন্ধ প্রদেশে গত মাসে প্রায় রেকর্ড ৫২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত করা হয়েছে। পাকিস্তান ছাড়াও ভারতের রাজধানী দিল্লিতেও তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। গত মে মাস থেকে সেখানে প্রতিদিনই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে, আবার কখনও কখনও তা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা নিয়মিত এবং তীব্র হয়ে উঠছে। করাচির এই তীব্র তাপপ্রবাহ আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারত হয়ে নেপাল-ভুটানে প্রবেশের দ্বার খুলছে বাংলাদেশ রেলওয়ের

ভারত হয়ে নেপাল-ভুটানে প্রবেশের দ্বার খুলছে বাংলাদেশ রেলওয়ের বাংলাদেশ ও ভারতের রেল ট্রানজিট চুক্তির মধ্যে দিয়ে ট্রান্স এশিয়ান নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে দেশের রেলওয়ে। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের রেলপথ ব্যবহার করে ভারত নিজেদের ভূখণ্ডে যেতে পারবে।আর বাংলাদেশ রেলওয়ে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেতে পারবে নেপাল-ভুটানে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে ১২টি রুটের কথা বলা হয়েছে, যেসব রুট ব্যবহার করে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ‘সেভেন সিস্টার্স’খ্যাত সাত রাজ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। এক্ষেত্রে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল-ভুটানে যেতে পারা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। বুধবার ধোঁয়াশা দূর করেছেন রেলপথ সচিব হুমায়ুন কবির ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্যে উন্মুক্ত হচ্ছে ভারতীয় রেলপথ দিয়ে নেপাল-ভুটান প্রবেশের দ্বার। নেপাল ও ভুটান যথাক্রমে ১৯৭৬ ও ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি করেছিল। কিন্তু ভারতের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের মালবাহী গাড়ি চলাচল করতে না পারায় সেটি খুব একটা কার্যকর হয়নি। এখন ভারতের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কারণে নতুন করে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে পূর্বে হওয়া কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা জেগেছে। ভারত-বাংলাদেশ রেল করিডোর নিয়ে নয়া চুক্তি চলতি মাসের ২২ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৩টি ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার এক নম্বর রয়েছে রাজশাহী ও কলকাতার মধ্যে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুকরণ, ভারতীয় রেল করিডোর নিয়ে নয়া চুক্তি। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৭৭ বছর পর রাজশাহী ও কলকাতার মধ্যে পুনরায় ট্রেন সার্ভিস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। যেটি হবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী চতুর্থ আন্তঃদেশীয় ট্রেন। এছাড়া এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে ভারতের কলকাতা থেকে ‘সেভেন সিস্টার্স’-খ্যাত সাত রাজ্যের ১২টি রুটে পণ্য ও যাত্রী চলাচলের সুবিধা। এ বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়ের বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত নিউজ করেছে ভারতীয় প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফ। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পরিকল্পনার আওতায় মোট এক হাজার ২৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের ১৪টি সেকশন থাকবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ভেতরে থাকবে ৮৬১ কিলোমিটার। আর নেপালে ২০২ কিলোমিটার ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে থাকবে ২১২ কিলোমিটার পথ। পত্রিকাটি বলছে, বাংলাদেশ সরকার দেশের ভেতরে ভারতকে রেলপথ স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নয়াদিল্লির পরিকল্পনা সহজ হয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে মোট ৮৬১ কিলোমিটার, নেপালে ২০২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার এবং উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জরিপ চালানো হবে। ভারতের সঙ্গে এই চুক্তির ফলে ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশ রেলওয়ে নেপালেও পণ্য ও যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। প্রস্তাব অনুসারে, ভারত ও নেপালের মধ্যে রেল সংযোগের জন্য অনুমোদিত রুট বিরাটনগর-নিউ মাল জং সেকশনে ১৯০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণের প্রয়োজন হবে। আর গালগালিয়া-ভদ্রপুর-কাজলী বাজার সেকশনে সাড়ে ১২ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে ভুটানে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের রেলপথ ব্যবহার করে দেশটির সীমান্তবর্তী হাসিমারা স্টেশন যাওয়া যাবে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যে রেল সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে যোগাযোগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে চায় তা আদতে একটি ‘ওপেন ডোর’ পলিসি। এ সম্পর্ক উন্নয়নের মূল কথা হলো, ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমতাভিত্তিক উন্নয়নের সুযোগ দেওয়া। কেউ এগিয়ে যাবে, কেউ পিছিয়ে যাবে, এ নীতিতে আসলে উন্নয়ন স্থিতিশীল হয় না। আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে। আমাদের কোস্ট লাইন বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য করা সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এই সুযোগটি কিন্তু প্রতিবেশী ভারতের সেভেন সিস্টারস, নেপাল বা ভুটানের নেই। সে জায়গায় বাংলাদেশ তার ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিতে পারে। বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো বহুমাত্রিক। ’ ট্রানজিট চুক্তিতে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রেল ট্রানজিটে বাংলাদেশকে লাভবান হতে নেপাল-ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে হবে। ভারত যেমন আমাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে আমরাও যেন তেমনি ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে এ সুযোগ সুবিধা নিতে পারি। ’ এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ূন কবির বলেন, ‘যখন বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন), ট্রান্স এশিয়ান নেটওয়ার্ক আর বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল নিয়ে উপআঞ্চলিক সংযুক্তি-বিবিআইএন নিয়ে কথা বলছি, সেই নেটওয়ার্ক বা রুট কিন্তু কেবল একটি দেশের রুট ব্যবহার করে বাস্তবায়ন সম্ভব না। আমরা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় বলছি, ভারতের ট্রেনটি গেদে স্টেশন থেকে দর্শনা, আব্দুলপুর, চিলাহাটি হয়ে হলদিবাড়ি, ডালগাও পর্যন্ত যাবে। পরে আমাদের অনুরোধে পশ্চিমবঙ্গের আলিদুয়ারপুর জেলার হাসিমারা সীমান্ত পর্যন্ত রেল চালানোর অনুমতি মিলেছে। এতে আমরা ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি যেতে পারব। ’ ভারতের সঙ্গে যে ১২টি রেলপথে আন্তদেশীয় সংযোগ স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রেলওয়ে তাতে নজর রাখছে বিরল-রাধিকাপুর এবং মোগলহাট-গিতলদহ রুটে। রেলপথ সচিব বলেন, ‘বিরল-রাধিকাপুর হয়ে ভারতের যোগবাণী পর্যন্ত রেল চলবে। সেখান থেকে নেপালের বিরাটনগর সীমান্ত কাছে। নেপালের পাথর এ রুটে আসছে বাংলাদেশে। এই পথে যদি পণ্যবাহী রেল আমরা পরিচালনা করতে পারি, তবে বাংলাদেশ রাজস্ব আরও বেশি আয় করবে। চুক্তি অনুযায়ী আমরা ভারতের বর্তমান রেলপথ ব্যবহার করতে পারব। ’ ১২টি রেলপথে আন্তঃদেশীয় সংযোগ স্থাপন করার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কীভাবে হবে, এ প্রশ্নে রেলওয়ে মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, ‘দুই দেশের একটা কমিটি হবে। এখন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরি করতে হবে। ট্যারিফ প্ল্যান করতে হবে। সবে তো চুক্তি হলো। কারা কীভাবে অর্থ লগ্নি করবে সেটি আসবে তারপর। ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট দু-ধরনের পলিসির কথাই চুক্তিতে আছে। এখন নেপাল, ভুটানে কীভাবে পণ্য যাবে, কীভাবে আমরা লভ্যাংশ পাব সেটি নির্ধারণ করবে কমিটি। এতে কোনো এক দেশ এককভাবে লাভবান হবে এমন কোনো কথা নেই। ’

প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব করা হবে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব করা হবে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী সুষম-জনকল্যাণমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব করা হবে। আজ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য মুক্তির মূল শক্তি হবে শিক্ষা। শিশুদের মেধা বিকাশে নতুন শিক্ষা কারিকুলাম তৈরি করা হচ্ছে। শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দুই বছরের করার পরিকল্পনা করছে সরকার। শেখ হাসিনা বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের পরিচালক হবে আজকের শিশুরাই। প্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন নতুন প্রজন্মই দেশকে এগিয়ে নেবে সমৃদ্ধির দিকে। আর তাই কোমলমতি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। এর আগে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ। আর বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী টুসি। এবারের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশুবান্ধব প্রাথমিক শিক্ষা, স্মার্ট বাংলাদেশের দীক্ষা’। ২০২২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা পদক নীতিমালায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কয়েকটি নতুন পদক সংযোজন করে মোট ১৮ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে নিজ সংস্কৃতির উন্নয়ন, আত্ম-উন্নয়ন, আত্ম-নির্ভরশীলতা অর্জন এবং দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজ দেশের সংস্কৃতি উন্মোচন করা।

চাঁপাইনবাবঞ্জে ৭০ গ্রাম হেরোইন মামলায় কারবারির যাবজ্জীবন

চাঁপাইনবাবঞ্জে ৭০ গ্রাম হেরোইন মামলায় কারবারির যাবজ্জীবন চাঁপাইনবাবগঞ্জে সত্তর গ্রাম হেরোইন বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় আব্দুল করিম ওরফে পাচু করিম নামে এক ব্যাক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও ২ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র দায়রা জজ মো: আদীব আলী একমাত্র পলাতক আসামীর অনুপস্থিতিতে আদেশ প্রদান করেন। দন্ডিত করিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের শেখালিপুর গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে। মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায় এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী(পিপি) নাজমুল আজম বলেন, ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারী শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সুজনপাড়া গ্রামে, জেলা ডিবি পুলিশের হাতে ৭০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হয় করিম। এ ঘটনায় পরদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় করিমকে একমাত্র আসামী করে মামলা করেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক এসআই আরিফুল ইসলাম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক এসআই আসগার আলী ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী করিমকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ৯ জনের সাক্ষ্য, প্রমাণ ও শুনানী শেষে আদালত আজ করিমকে দোষি সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনাা করেন এড. শাহীন আল মামুন।

ব্যয় সাশ্রয়ী খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গাভী পালন ও গরু মোটাতাজাকরণ প্রশিক্ষণ

ব্যয় সাশ্রয়ী খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গাভী পালন ও গরু মোটাতাজাকরণ প্রশিক্ষণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ব্যয় সাশ্রয়ী খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গাভী পালন ও গরু মোটাতাজাকরণ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর বাজারে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)র সহযোগিতায় প্রশিক্ষণের আয়োজন করে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন প্রয়াসের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাজিন বিন রেজাউল। এসময় তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে গরুর ফিডের মূল্য বেশি হওয়ার কারণে বাজার থেকে ফিড কিনে গরু মোটাতাজা করতে অর্থের ব্যয় বেশি হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং পিকেএসএফ’র সহযোগিতায় আমাদের তৈরি পুষ্টিসম্মত গো-খাদ্য খাওয়াতে পারলে খাদ্যের খরচ কমের আসবে এবং খামারীরা লাভবান হবেন। এসব খাদ্য হলো- খড়, সুয়াবিন, গমের ভাঙ্গা, খেসাড়ি ভাঙ্গা, ডিসিপি, লবণ, চিটাগুড়, পানি। এ খাবার দিয়ে স্বল্প ব্যয়ে গাভী পালন ও গরু মোটাতাজাকরণ করা সম্ভব। প্রশিক্ষণে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির সদস্যদের ব্যয় সাশ্রয়ী খাবার হাতে কলমে তৈরি করে দেখানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেনÑ প্রয়াসের আরএমটিপি (ডেইরি) প্রকল্পের ভ্যালুচেইন ফ্যাসিলেটেটর ডা. মাহমুদুল হাসান, অফিসার শাহরিয়ার শিমুল, সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইমদাদুল হক।

প্রয়াসের পণ্য চালু উপলক্ষে আলোচনা

প্রয়াসের পণ্য চালু উপলক্ষে আলোচনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির আরটিপি প্রকল্পের আওতায় উদ্যোক্তাদের স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে উৎপাদিত সরিষার বোতলজাত ভোজ্য তেল বাজারজাতকরণ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নকীব হোসেন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির পরিচালক ও রেডিও মহানন্দার স্টেশন ম্যানেজার আলেয়া ফেরদৌস। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বাজার কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন প্রয়াসের কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক ও আরএমটিপি প্রকল্পের ফোকাল পার্সন ফারুক আহমেদ। প্রকল্পের কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ রিফাত আমিন। এসময় তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পিকেএসএফ ও প্রয়াসের সহযোগিতায় কোল্ড ওয়েল প্রেস মেশিনের মাধ্যমে নিরাপদ উপায়ে সরিষার তেল উৎপাদন করে বিক্রি করছেন। সেই তেলের ব্র্যান্ডিং হচ্ছেÑ ‘মোস্তাফিজুর সরিষার তেল’, ‘গৌড় সরিষার তেল’ ও ‘কৃষক সরিষার তেল’। তিনি আরো জানান, এই বোতলজাত তেল বিএসটিআই মানসম্পন্ন। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আরএমটিপি ডেইরি প্রকল্পের বিপণন কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ, রেডিও মহানন্দার সহকারী প্রযোজক (অনুষ্ঠান ও খবর) সোনিয়া শীল, সরিষা উৎপাদনকারী কৃষক, ব্যবসায়ীবৃন্দ, দোকান মালিকসহ অন্যরা। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র সরিষার নিরাপদ ভোজ্য তেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপ-প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে আম বাগান পরিদর্শন করলেন বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে আম বাগান পরিদর্শন করলেন বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুস শহীদ এমপি’র নেতৃত্বে উত্তম কৃষি চর্চা পদ্ধতি অনুসরণ করে মানসম্পন্ন আম উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানরা। আজ নাচোল উপজেলার কেন্দবোনা গ্রামে আম চাষি রফিকুল ইসলামের আম বাগান করেন। এসময় কৃষিমন্ত্রী বিশে^র কাছে বাংলাদেশের আমের প্রচারের জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা আমের বাগান পরিদর্শনে এসেছেন, আমাদের আমের গুণাগুণ পর্যবেক্ষণ করলেন এবং পরে তারা নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন এবং আশা করছি তারা বাংলাদেশ থেকে আম আমদানি করবেন। তাদের আকৃষ্ট করতেই পরিদর্শনের এই উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” শীর্ষক একটি প্রকল্পের গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (জিএপি) সম্পর্কে ব্রিফিং দেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) সহযোগিতায় জিএপি- এর প্রটোকল বজায় রেখে আম চাষি এবং বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার বিজয়ী মো. রফিকুল ইসলামের এক একর জমিতে বারী আম-৩ ও বারী আম-৪-এর বৈধতা পরীক্ষাও পরিচালিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, কৃষি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে বিদেশী কূটনীতিক ও মিশন প্রধানদের আম আদানিতে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। কৃষিমন্ত্রীর পাশাপাশি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন, কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার এবং বিদেশি কূটনীতিকরা আম বাগান পরিদর্শন করেন। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, আমরা দেশে-বিদেশে আমের ব্র্যান্ডিং করতে এসেছি। তিনি আরো বলেন, জিএপি সার্টিফিকেশন ছাড়া আমরা অন্য দেশে আম রপ্তানি করতে পারি না। ব্রুনেই, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভুটান, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও লিবিয়ার রাষ্ট্রদূতরা এ পরিদর্শনে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সংসদ মু.জিয়াউর রহমান, জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন, স্থানীয় সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, পুলিশ সুপার মো. ছাইদুল হাসান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডক্টর পলাশ সরকারসহ অন্যরা।