আকাশে দেখা গেল ফেব্রুয়ারির ‘স্নো মুন’, আসছে সুপারমুন ও চন্দ্রগ্রহণ

আকাশে দেখা গেল ফেব্রুয়ারির ‘স্নো মুন’, আসছে সুপারমুন ও চন্দ্রগ্রহণ বাংলাদেশ সময় গত সোমবার ভোরে আকাশে দেখা গেছে ফেব্রুয়ারির পূর্ণিমা, যাকে ‘স্নো মুন’ নামে ডাকা হয়। উত্তর আমেরিকায় এ সময় তুষারপাত বেশি হয় বলে এই নামটি জনপ্রিয়। পূর্ণিমার চাঁদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেই দেখা যায়। বাংলাদেশে রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত চাঁদ ছিল প্রায় পূর্ণিমার মতো উজ্জ্বল। আর্থস্কাই-এর তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণিমা সর্বোচ্চ উজ্জ্বল হয়েছিল রবিবার বিকাল ৫টা ৯ মিনিটে (ইস্টার্ন টাইম)। বাংলাদেশ সময় তা ছিল সোমবার ভোর ৪টা ৯ মিনিটে। ফলে দেশে চাঁদ দেখার সবচেয়ে ভালো সময় ছিল রবিবার রাত এবং সোমবার ভোর। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিজ্ঞানী নোয়া পেট্রো জানান, পূর্ণিমার সময় চাঁদের পৃষ্ঠে আলো-অন্ধকার অংশ খালি চোখেও দেখা যায়। টেলিস্কোপ বা দূরবীন ব্যবহার করলে চাঁদের গর্ত (ক্রেটার) ও বিভিন্ন গঠন আরও স্পষ্ট বোঝা সম্ভব। এদিকে আকাশপ্রেমীদের জন্য সামনে আরও কয়েকটি বড় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা রয়েছে। ফারমার্স অ্যালমানাকের তালিকা অনুযায়ী, ৩ মার্চ আবার পূর্ণিমা হবে (ওয়ার্ম মুন)। একই দিনে এশিয়া অঞ্চলের আকাশে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যেতে পারে। চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ লালচে দেখাতে পারে, যাকে অনেকে ‘ব্লাড মুন’ (রক্তিম চাঁদ) বলেন। এছাড়া ২০২৬ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেখা যেতে পারে সুপারমুন ; চাঁদ পৃথিবীর তুলনামূলক কাছাকাছি চলে এলে এটি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দৃশ্য উপভোগ করতে শহরের অতিরিক্ত আলো এড়িয়ে খোলা জায়গা বেছে নেওয়া ভালো। আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশ থেকেও এসব ঘটনা সহজে দেখা যাবে।

আরও ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আরও ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে আরও ১৭১ মিলিয়ন বা ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কাটঅফ মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দফায় মোট ৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। এর আগেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়েক দফায় নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন পর্যন্ত মোট কেনা হয়েছে ৪৩২ কোটি ৩০ লাখ বা ৪.৩২ বিলিয়ন ডলার।

ফেসবুক ও জিমেইলের ১৪৯ মিলিয়নের বেশি তথ্য ফাঁস

ফেসবুক ও জিমেইলের ১৪৯ মিলিয়নের বেশি তথ্য ফাঁস বিশ্বজুড়ে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুক ও জিমেইলসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় অনলাইন সেবার ১৪৯ মিলিয়নের বেশি লগইন তথ্য একটি উন্মুক্ত অনলাইন ডাটাবেজে পাওয়া গেছে। এতে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে এটি গুগল বা মেটার সার্ভারে সরাসরি কোনো বড় হ্যাক নয়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে ঢুকে পড়া ‘ইনফোস্টিলার’ ধরনের ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যেভাবে ফাঁস হয় তথ্য সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জেরেমায়া ফাওলার একটি প্রায় ৯৬ গিগাবাইট আকারের ডাটাবেজ শনাক্ত করেন, যা কোনো পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ছাড়াই উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ এই ডাটাবেজে প্রবেশ করতে পারত। ডাটাবেজটিতে ইমেইল ঠিকানা, ইউজারনেম, সরাসরি পাসওয়ার্ড এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের লগইন লিংক সংরক্ষিত ছিল—যা সাইবার অপরাধীদের জন্য কার্যত প্রস্তুত তালিকার মতো। কোন কোন সেবার তথ্য বেশি গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি তথ্য ছিল ইমেইল অ্যাকাউন্টের। আনুমানিক হিসাবে, জিমেইল: ৪৮ মিলিয়ন, ফেসবুক: ১৭ মিলিয়ন, ইনস্টাগ্রাম: ৬.৫ মিলিয়ন, ইয়াহু মেইল: ৪ মিলিয়ন, নেটফ্লিক্স: ৩.৪ মিলিয়ন, আউটলুক: ১.৫ মিলিয়ন, আইক্লাউড মেইল: ৯ লাখ ও টিকটক: ৭.৮ লাখ। কেন ইমেইল অ্যাকাউন্ট সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি ইমেইল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পেলে হ্যাকাররা সহজেই অন্যান্য অ্যাকাউন্টও দখল করতে পারে। কারণ ব্যাংকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা স্বাস্থ্যসেবার মতো অধিকাংশ সেবার পাসওয়ার্ড রিসেট লিংক ইমেইলে পাঠানো হয়। ফলে ব্যক্তিগত নথি, বিল, ভ্রমণের তথ্যসহ সংবেদনশীল ডেটা ঝুঁকিতে পড়ে। কীভাবে ছড়ায় ম্যালওয়্যার এই তথ্য একদিনে চুরি হয়নি। ভুয়া সফটওয়্যার আপডেট, সন্দেহজনক ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট, ক্ষতিকর ব্রাউজার এক্সটেনশন কিংবা বিভ্রান্তিকর অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ডিভাইসে ঢুকে পড়ে। ব্যবহারকারী যখন পাসওয়ার্ড টাইপ করেন বা ব্রাউজারে সেভ করেন, তখনই তা চুরি হয়ে যায়। গবেষক ডাটাবেজটির বিষয়ে হোস্টিং কোম্পানিকে জানালেও প্রায় এক মাস এটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় প্রযুক্তি কোম্পানির সার্ভার তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত হলেও ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইস দুর্বল হলে ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই ব্যক্তিগত সাইবার সচেতনতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২ লাখ ১০ হাজার টন সার কিনবে সরকার

২ লাখ ১০ হাজার টন সার কিনবে সরকার মরক্কো, সৌদি আরব ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৮০ হাজার টন ডিএপি সার, ৭০ হাজার টন ইউরিয়া এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি সার রয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৩৭০ কোটি ৯১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭৫ টাকা। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর মধ্যে সই হওয়া চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মরক্কো থেকে এই সার আনতে ব্যয় হবে ৩১৯ কোটি ৫১ লাখ ৮ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৬৫১ মার্কিন ডলার।

৩৩৩-তে ডায়াল করে মিলবে নির্বাচন ও গণভোটের তথ্য

৩৩৩-তে ডায়াল করে মিলবে নির্বাচন ও গণভোটের তথ্য আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সঠিক, নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় এটুআই এর ন্যাশনাল হেল্পলাইন ৩৩৩ এর মাধ্যমে বিশেষ তথ্যসেবা চালু করা হয়েছে। দেশের যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে টোল ফ্রি এই নম্বরে কল করে ৯ প্রেসের মাধ্যমে সহজেই নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাবেন নাগরিকরা। আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, এই সেবার আওতায় ভোটাররা ভোট দেওয়ার নিয়ম ও পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি, প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার নিয়ম, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা, পাশাপাশি জরুরি নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত Smart Election Management BD ‌ও Postal Vote BD অ্যাপ ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৬ জানুয়ারি থেকে পাইলট আকারে চালু হওয়া এই বিশেষ সেবার মাধ্যমে এরইমধ্যে ১ হাজার ৬৪৩ অন নাগরিক তথ্য ও সহায়তা গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ, সম্ভাব্য অস্থিরতা আগাম শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ৩৩৩ এর ৯ নম্বর ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এটি সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল রুম হিসেবে কাজ করবে না, বরং একটি ‘Information Intake, Early Warning & Forwarding System’ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্য ৯৯৯ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

ব্যবহৃত মোবাইল হস্তান্তর বা বিক্রির আগে নিবন্ধন বাতিল করতে হবে: বিটিআরসি

ব্যবহৃত মোবাইল হস্তান্তর বা বিক্রির আগে নিবন্ধন বাতিল করতে হবে: বিটিআরসি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন হস্তান্তর বা বিক্রির আগে অবশ্যই নিবন্ধন বাতিল করতে হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)’ সিস্টেম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর এই নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। আজ বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)’ সিস্টেম গত ১ জানুয়ারি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করেছে। বিটিআরসি জানায়, এনইআইআর চালুর ফলে বর্তমানে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল থাকা সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে অথবা ফোনটি অন্য কারও ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর কিংবা বিক্রয়ের আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডসেটটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থেকে নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে। ডি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার জন্য সিম ক্রয়ের সময় ব্যবহৃত ডকুমেন্ট—জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিটিআরসি’র কল সেন্টার ১০০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে কিংবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যাবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হেরোইন কারবারির যাবজ্জীবন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হেরোইন কারবারির যাবজ্জীবন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০ গ্রাম হেরোইন বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় আব্দুল হালিম নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। সেই সাথে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়। আজহ দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়রা জজ হায়দার আলী খোন্দকার আসামীর অনুপস্থিতিতে (পলাতক) আদেশ প্রদান করেন। দন্ডিত হালিম গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের বিরামপাড়া গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। একই মামলায় অপরাধ প্রমানিত না হওয়ায় অসিম নামে অপর আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত। মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায় এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আব্দুল ওদুদ বলেন, ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর চৌডালা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের চৌডাালা গ্রাম এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ৫০ গ্রাম হেরোইন সহ হাতেনাতে আটক হন হালিম। এ ঘটনায় পরদিন গোমস্তাপুর থানায় দু’জনকে আসামী করে মামলা করেন ডিবি’র উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান। ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) ও ডিবি’র তৎকালীন উপ-পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান দু’জনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে মামলার চার্জশীট দাখিল করেন। ৮ জনের সাক্ষ্য, প্রমাণ ও শুনানী শেষে আদালত আজ পলাতক হালিমকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং অসিমকে খালাস দিয়ে সাজা ঘোষণা করেন।

নাচোলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

নাচোলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত নাচোলে মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। আজ সকালে বিদ্যালয় মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা উপলক্ষে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান শিক্ষক সাাদিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দিন খান, নাচোল সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, অবসর প্রাপ্ত প্রভাষক শফিকুল আলম, নাচোল মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ওবাইদুর রহমান, মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইয়াসিন আলী, মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। বিকেলে বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী হেরোইন কারবারির যাবজ্জীবন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী হেরোইন কারবারির যাবজ্জীবন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০৫ গ্রাম হেরোইন বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত একটি মামলায় এক নারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়। আজ দুপুর দেড়টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়রা জজ মো: হায়দার আলী খোন্দকার একমাত্র পলাতক আসামীর অনুপস্থিতে সাজা ঘোষণা করেন। দন্ডিত লুসিয়ারা বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সরজন মহিপুর গ্রামের মৃত বেলাল উদ্দিন বিম্বাসের মেয়ে লুসিয়ারা বেগম নামে। মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী(পিপি) আব্দুল ওদুদ বলেন, ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর র‌্যাব-৫ ব্যাটালিয়নের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের অভিযানে নিজ বসত বাড়ি থেকে দুইশত পাঁচ গ্রাম হেরোইনসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন লুসিয়ারা। এ ঘটনায় ওইদিন র‌্যাবের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহেদুল ইসলাম একমাত্র লুসিয়ারা বেগমকে আসামী করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এবং সদর থানার তৎকালীর উপ-পরিদর্শক(এসআই) মো. আশরাফুজ্জামান একমাত্র লুসিয়ারাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ১০ জনের সাক্ষ্য, প্রমাণ ও শুনানী শেষে আজ আদালত পলাতক লুসিয়ারা বেগমকে দোষি সাব্যস্ত করে দন্ডাদেশ ঘোষণা করেন। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড.আব্দুল আওয়াল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও গম্ভীরা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও গম্ভীরা অনুষ্ঠিত ডোপ টেস্টে কেউ পজিটিভ হলে, অর্থাৎ মাদক গ্রহণকারী হিসেবে চিহ্নিত হলে সে কোথাও (ইউনিভার্সিটি ও কলেজে) ভর্তি হতে পারবে না এবং কোথাও চাকরিও পাবে না বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ। আজ সকালে নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ডোপ টেস্ট নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিতে যেমন ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে ইউনিভার্সিটি ও কলেজ লেভেলে ভর্তি হলেও শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের চালক ও কলকারখানায় যারা যন্ত্রাংশ পরিচালনা করেন, তাদের সবার জন্যও ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এটি যেমন স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে, তেমনি এখান থেকে মাদকাসক্তি বাড়ছে, মাদকের বিক্রি বাড়ছে এবং তারা বিভিন্নভাবে বখাটেপনা করে শহর ও গ্রামের রাস্তায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। এই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, আমরা এখান থেকেই (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) শুরু করতে চাই এবং সামনে আরও সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে যেখানেই মাদকের সংবাদ পাওয়া যাবে, সেখানেই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করতে চাই। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। “মাদকের বিরুদ্ধে হই সচেতন, বাঁচাই প্রজন্ম, বাঁচাই জীবন”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এ. শাহাব উদ্দীন, নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান, নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম কবীর, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বালুগ্রাম আদর্শ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. গোলাম ফারুক মিথুন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুস্থ জীবনধারার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করানো হয় এবং “মাদককে না বলি” শীর্ষক লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিবৃন্দকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আলোচনা সভা শেষে ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তারুণ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক গম্ভীরা গান পরিবেশিত হয়। গম্ভীরা পরিবেশন করেন প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট-এর নাট্যকর্মীবৃন্দ।