পেরুতে নৌকা ডুবে ১২ জনের প্রাণহানি

পেরুতে নৌকা ডুবে ১২ জনের প্রাণহানি পেরুর মধ্যাঞ্চলে গতকাল সোমবার দেশটির ইপারিয়া নদী বন্দরে নোঙর করা দুটি নৌকা ভূমিধসের কারণে ডুবে যাওয়ায় তিন শিশুসহ কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় নৌকা থাকা আরও কয়েক ডজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানা গেছে। খবর এএফপি’র। পুলিশ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আন্দিনা সংবাদ সংস্থা জানায়, উকায়ালির আমাজন জঙ্গল অঞ্চলের ইপারিয়া বন্দরে ভূমিধসের ফলে দুটি নৌকা ডুবে যায়। তবে, নৌকায় কতজন লোক ছিল তা জানা যায়নি। নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন জোনাথন নভোয়া টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, নয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আর ২৫ জন আহত হয়েছে এবং প্রায় ৪০ জন নিখোঁজ’ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া পরিবারগুলোর কাছ থেকে ঠিক কতজন নিখোঁজ হয়েছে তা জানার এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ইউটিভি নোটিসিয়াস চ্যানেলে প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, ডুবে যাওয়া নৌকাগুলোর লাগেজ ও মালামাল নদীতে ভেসে যাওয়ার সময় হতবিহ্বল মানুষজন নদীর তীরে দৌড়াদৌড়ি করছে।

দক্ষিণ সুদানে বিমান হামলায় নিহত ৪০

দক্ষিণ সুদানে বিমান হামলায় নিহত ৪০ দক্ষিণ সুদানের দক্ষিণ কর্দোফান অঞ্চলে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। নিহতদের দাফন কাজে অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তি গ্তকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শনিবার কোমো গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার সংগঠন ‘এমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর পরিচালিত বিমান হামলা সরাসরি গ্রামটির একটি নার্সিং স্কুলে আঘাত হানে। হামলায় ডজনখানেক শিক্ষার্থীসহ বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। হেইবান গ্রামের বাসিন্দা কাফি কালু বলেন, “বিমান হামলার খবর পেয়ে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি নার্সিং স্কুলে আগুন জ্বলছে। সবাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে এবং লাশ দাফন করছে। প্রায় ৪০ জনকে কবর দিতে হয়েছে।” আরেক বাসিন্দা টিহ ইসা জানান, “আমরা ৪০টিরও বেশি কবর খুঁড়েছি। ঘটনা ছিল খুবই মর্মান্তিক।”তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সুদানি সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সেনাবাহিনী কখনো বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। যদিও ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলমান সংঘাতে সেনাবাহিনীর হামলায় বারবার সাধারণ মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ উঠছে। দক্ষিণ সুদানে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং তাদের মিত্র সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট–নর্থ বর্তমানে দারফুর ও দক্ষিণ কর্দোফানের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে তীব্র লড়াই চলছে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে। জাতিসংঘ জানায়, শুধু নভেম্বর মাসেই দক্ষিণ কর্দোফানের ছোট গ্রামগুলো থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। চলমান এই যুদ্ধ এখন পর্যন্ত লাখো মানুষের প্রাণ কেড়েছে এবং ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে বাস্তুহারা করেছে।

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৬৩১, আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ লাখ

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৬৩১, আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ লাখ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা জুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা আজ বেড়ে ৬৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে। জাকার্তা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। সরকারি সংস্থা ও ত্রাণ সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দিতে কাজ করছে। অন্যদিকে উদ্ধারকারীরা এখনও নিখোঁজ ৪৭২ জনকে খোঁজার চেষ্টায় রয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, মালাক্কা প্রণালীতে সৃষ্ট বিরল এক ঘূর্ণিঝড় গত সপ্তাহে দেশটির তিনটি প্রদেশে আঘাত হানে, যা প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছে সরকারের দুর্যোগ বিষয়ক সংস্থা। এশিয়ার যেসব জায়গায় এবার প্রবল বর্ষণ ও ঝড় আঘাত করেছে ইন্দোনেশিয়া তার একটি। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কাতেও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনো এসব এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং জরুরি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উচ্চ পর্যায়ের নির্বাচনি কর্মশালা স্থগিত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উচ্চ পর্যায়ের নির্বাচনি কর্মশালা স্থগিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উচ্চ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মশালা স্থগিত করেছে সরকার। আজ সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। আগামীকাল রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত ভূমিকা’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উপসচিব মো. শিমুল আকতার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কর্মশালাটি বাতিল করা হলো। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা, প্রতি জেলার একজন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ওসি অংশগ্রহণের কথা ছিল। এছাড়া অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা সংযুক্ত থাকার কর্মসূচিও ছিল। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়ার কথা ছিল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি থাকার কথা ছিল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সকলের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ঘোষণার মাধ্যমে কর্মশালার গুরুত্ব আরোপ করেছিল। তবে হঠাৎ স্থগিত ঘোষণার ফলে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এই সমন্বয়মূলক প্রশিক্ষণের কার্যক্রম আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ সদস্যরা

হাসপাতালে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ সদস্যরা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করেছেন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরা। আজ দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে এসএসএফ সদস্যরা ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করেন। গণমাধ্যমকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গ্তকাল বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। প্রজ্ঞাপনে তার নিরাপত্তায় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী-এসএসএফ নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১ এর ধারা ২ (ক) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা দেয়।

উত্তরপূর্বাঞ্চলে কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাস

উত্তরপূর্বাঞ্চলে কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাস দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলের কোথাও কোথাও আজ হালকা কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এ সময় সারা দেশের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে । গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুর ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানায়, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলংকা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’উত্তর দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে গত ৩০ নভেম্বর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল এবং বর্তমানে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তামিলনাড়ু-অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলীয় এলাকায় ১ ডিসেম্বর দুপুরে (১৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮০ দশমিক ৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর এবং ক্রমান্বয় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ : গুমের সাজা যাবজ্জীবন, হতে পারে ফাঁসিও

অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ : গুমের সাজা যাবজ্জীবন, হতে পারে ফাঁসিও গুমের সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ এর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। একই সঙ্গে গুমের ফলে মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। রাখা হয়েছে ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান। এ আইনে গুমের আদেশ বা অনুমতি দানকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারদেরও সমান সাজার বিধান রাখা হয়েছে। অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেও সমান দণ্ড প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে আইনে। গ্তকাল রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে। গত ৬ নভেম্বর এ অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ, যেখানে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন এবং অভিযোগ গঠনের ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অধ্যাদেশে গুমের অপরাধকে জামিন ও আপোস অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি গুম অপরাধের বিচারে বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে এক বা একাধিক ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। শুধুমাত্র জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে গ্রহণ করে বিচার করতে পারবে এই ট্রাইব্যুনাল। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার আগ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির অবস্থান ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ গোপন রাখা যাবে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের অভিযোগ নিয়ে গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সমালোচনা রয়েছে। গত বছর ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিত গোপন বন্দিশালা থেকে দীর্ঘ সময় পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মুক্ত হওয়ার পর গুমের বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে গত বছর ২৯ আগস্ট গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। এ সনদে যুক্ত হওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের জন্য সরকার বা এর যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে ভূমিকা রাখবে জাতিসংঘ। দেশে গুম বিরোধী এই আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর করতেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য যদি কোন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ করার পর বিষয়টি অস্বীকার করে অথবা ওই ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন রাখে এবং এ কাজের ফলে ওই ব্যক্তি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন তাহলে কাজটি গুম বা শাস্তিযোগ্য ফৌজদারী অপরাধ বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে দায়ী ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ডের দণ্ডিত হবে। এই অপরাধে দায়ী ব্যাক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বা গুমের পাঁচ বছর পরেও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব নাহলে দায়ী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিতও হবেন তিনি। অধ্যাদেশে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি গুমের স্বাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট করেন বা গুমের উদ্দেশে গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করেন, তাহলে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারদের জন্যও সাজার বিধান রয়েছে অধ্যাদেশে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডার বা দলনেতা এ ধরনের অপরাধ সংঘটনে অধস্তনদের আদেশ, অনুমতি, সম্মতি, অনুমোদন বা প্ররোচনা দেন, কিংবা নিজেই অংশ নেন, তাহলেও তিনি মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারের অবহেলা বা অদক্ষতার কারণে অধস্তনরা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ালেও সাজা পেতে পারেন সেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা বজায় রাখা বা অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধান করার ব্যর্থতার ফলে অধস্তনরা যদি এ ধরনের অপরাধ করে তাহলেও তিনি মূল অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হবেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক হলেও তার অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন করা যাবে বলে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে। আর গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের বিষয়ে এই অধ্যাদেশে পৃথক ধারা রয়েছে।

পঞ্চদশ সংশোধনীর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু

পঞ্চদশ সংশোধনীর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশ বিশেষ বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আলাদা তিনটি আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হয়েছে। আজ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের বেঞ্চে আপিল শুরু হয়। তিনটি শুনানির জন্য আজ কার্যতালিকায় এক, দুই ও তিন নম্বর ক্রমিকে ছিল এটি। এর আগে হাইকোর্ট আলাদা দুটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল করে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিল করেছেন, যা কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ১ লাখ ৩০ হাজার প্রবাসীর নিবন্ধন

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ১ লাখ ৩০ হাজার প্রবাসীর নিবন্ধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৭২ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টাল ভোটিং আপডেট তথ্যানুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে আজ দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৭২ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৩ জন পুরুষ ভোটার এবং ১৬ হাজার ৫৮৯ জন নারী ভোটার। দেশভিত্তিক নিবন্ধনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ হাজার ৪২০ জন, সৌদি আরবে ১৩ হাজার ১৪ জন দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯ হাজার ৩৯৭ জন, সিঙ্গাপুরে ৯ হাজার ৮৩ জন, কানাডায় ৮ হাজার ৭৬৮ জন, অস্ট্রেলিয়ায় ৭ হাজার ৫৫৩ জন, যুক্তরাজ্যে ৭ হাজার ৫৫১ জন, জাপানে ৬ হাজার ৮১০জন, ইতালিতে ৫ হাজার ৩৬৯ জন এবং মালয়েশিয়ায় ৫ হাজার ২৭ জন। এদিকে আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধনের সময় বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে, ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১ টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিশ্বের সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘আউট অফ কান্ট্রি ভোটিংয়ের ব্যাপারে আমরা বলেছিলাম ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা। ওই সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড টাইম অনুযায়ী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৪৮টি নির্দিষ্ট দেশে ভোটার নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেন। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য প্রবাসী ভোটারকে অবশ্যই যেখান থেকে ভোট দেবেন সে দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রথমে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে। ব্যবহারকারী বাংলা বা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করে অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশনাবলী দেখতে পারবেন। বিদেশে ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ঠিকানা প্রদান অপরিহার্য।

৩৮ টাকা বাড়ল এলপিজি গ্যাসের দাম

৩৮ টাকা বাড়ল এলপিজি গ্যাসের দাম ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। ডিসেম্বর মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২১৫ টাকা থেকে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অটোগ্যাসের দাম ৫৫.৫৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ নতুন এ দর ঘোষণা করা হয়, যা সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে। এর আগে নভেম্বর মাসে এলপি গ্যাসের দাম ২৬ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দাম ভোক্তাপর্যায়ে ১ টাকা ১৯ পয়সা কমিয়ে ৫৫ টাকা ৫৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।