শিবগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রচারে উদ্বুদ্ধকরণ সভা

শিবগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রচারে উদ্বুদ্ধকরণ সভা শিবগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার উপলক্ষে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনষ্ঠিত হয়েছে। আজ দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় মহিলা সংস্থার উদ্যোগে চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে, প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন মাসুদ। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাকিব হাসান তরফদার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিক আজিজসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকার নারী ও তরুণী ভোটাররা অংশ নেন। সভায় বক্তারা বলেন, গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
শিবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা হেনসার আলীকে রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফন

শিবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা হেনসার আলীকে রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফন শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বিশ্বানাথপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য হেনসার আলী মৃত্যুবরণ করেছেন – ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাহি রাজিউন। আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে, ২ মেয়েসহ বহু গূণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ বিকেল পৌনে ৫টায় নিজ গ্রামে পারিবারিক গোরস্থান প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার এবং সেনবাহিনীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানানোর পর জানাজার নামাজ শেষে ওই গোরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আজিজ, শিবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়া,সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট আহসান হাবীব, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক এমপি শাহজাহান মিঞা, ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ রুহুল আমীন,বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান বাচ্চু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সভাপতি মাহবুবুর রহমান মিজানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
উপদেষ্টা পরিষদে গণঅভ্যুত্থানের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন

উপদেষ্টা পরিষদে গণঅভ্যুত্থানের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে উপদেষ্টা পরিষদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন পেয়েছে। আজ বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সরকার প্রত্যাহার করবে। নতুন করে মামলা করা হবে না।” “জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো মামলা হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তবে ওই সময় ব্যক্তিগত, সংকীর্ণ স্বার্থে কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলে তার বিচার হবে। এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে। এরপর সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান আইন উপদেষ্টা। এর আগে, ৮ জানুয়ারি এক ফেসবুক পোস্টে আইন উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের বীরদের ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে এবং তাদের প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসিফ নজরুল তার পোস্টে উল্লেখ করেন, জুলাই যোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছেন। আন্দোলনের সময় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার খুনিদের বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়েছিলেন, তার জন্য তাদের দায়মুক্তি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ধরনের আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। উদাহরণ হিসেবে তিনি আরব বসন্তসহ সমসাময়িক কালের বিভিন্ন বিপ্লবের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে গণ-অভ্যুত্থানের পর বিপ্লবীদের সুরক্ষায় এ ধরনের আইন করা হয়েছিল। সংবিধান ও মুক্তিযোদ্ধাদের নজির অধ্যাদেশটির যৌক্তিকতা তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা আরো বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে এ ধরনের দায়মুক্তি আইনের স্পষ্ট বৈধতা রয়েছে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, “১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্যও অনুরূপ দায়মুক্তি আইন করা হয়েছিল। সেই একই ধারায় এবার জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের সুরক্ষা দেবে রাষ্ট্র।”
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইসরায়েল

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইসরায়েল ইসরায়েলে ৪ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এই কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। আজ জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউরোপিয়ান-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ২ হিসেবে নিশ্চিত করেছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা শহরের কাছাকাছি এলাকায়। ভূমিকম্পের পরপরই লোহিত সাগর অঞ্চল ও দক্ষিণ নেগেভ মরুভূমিতে সতর্কতা জারি করে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড। সতর্কতার পর এসব অঞ্চলের বাসিন্দারা ভূমিকম্প অনুভব করার কথা জানান। ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম (এমডিএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা দিনে কতগুলো ডিম খেতে পারবে?

৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা দিনে কতগুলো ডিম খেতে পারবে? ডিমকে একটি সম্পূর্ণ খাদ্য হিসাবে উল্লেখ করা হয় এবং এর কারণটি পুরোপুরি যুক্তিসঙ্গত। এটি সাশ্রয়ী, রান্না করা সহজ এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর, বিশেষ করে শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য। তবে ছোট শিশুদের বাবা-মায়েদের জন্য, একটি সাধারণ প্রশ্ন বারবার আসে, ৫ বছরের কম বয়সী বাচ্চারা প্রতিদিন কতগুলো ডিম খেতে পারে? ডিম কেন শিশুদের জন্য ভালো ডিম ক্রমবর্ধমান শিশুদের জন্য একটি পুষ্টির শক্তি। ডিম উচ্চমানের প্রোটিন, উপকারী চর্বি, প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থে ভরপুর যা মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শারীরিক বৃদ্ধিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। ডিমে পাওয়া সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পুষ্টি উপাদানের মধ্যে একটি হলো কোলিন, যা স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের দক্ষতা উন্নত করার জন্য পরিচিত, বিশেষ করে শৈশবের প্রথম দিকে যখন মস্তিষ্কের বিকাশ তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। ডিম ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ তাই শিশুদের খাবার হিসেবে এটি বেশ কার্যকরী। ভিটামিন ডি হাড়ের বৃদ্ধি, ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং বি ভিটামিনের সঙ্গে শক্তি বিপাক সহায়তার ভূমিকা পালন করে। যেহেতু ডিম নরম এবং ভালোভাবে রান্না করলে চিবানো সহজ, তাই শিশুদের জন্য এটি উপযুক্ত। ৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য প্রতিদিন কতগুলো ডিম নিরাপদ? প্রতিদিন কতগুলো ডিম খাওয়া উচিত তা শিশুর বয়স এবং খাদ্যতালিকা দ্বারা নির্ধারিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ১ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুরা প্রতিদিন অর্ধেক থেকে একটি ডিম খেতে পারে, যেখানে ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিদিন একটি সম্পূর্ণ ডিম নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর। শিশুদের পেট ছোট এবং তাদের খাবার থেকে বঞ্চিত বোধ না করার জন্য তাদের সবকিছুই খাওয়ানো উচিত। কোনো একটি খাবার যত পুষ্টিকরই হোক না কেন তা দিয়ে পেট ভরিয়ে রাখলে শিশুরা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদানের প্রতি আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতে পারে না। শিশুরা কি প্রতিদিন ডিম খেতে পারে? হ্যাঁ, প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া যেতে পারে। তবে, ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্য, ডাল এবং দুগ্ধজাত খাবারের সমন্বয়ে একটি সুষম খাদ্যতালিকায় ডিম অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ছোট শিশুদের পুষ্টির জন্য কেবল ডিমই যথেষ্ট নয়। খাদ্যতালিকাগত বৈচিত্র্য নিশ্চিত করে যে শিশুরা ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাচ্ছে যা ডিম তাদের সরবরাহ করে না।
ভারতে নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড গড়ে জয়

ভারতে নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড গড়ে জয় সিরিজ বাঁচাতে জিততেই হতো—এমন সমীকরণে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড। ড্যারিল মিচেলের দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে আশা বাঁচিয়ে রেখেছে কিউইরা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল সফরকারীরা। রাজকোটে আজ প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮৪ রান করে ভারত। জবাবে ১৫ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। ভারতের মাটিতে এটি সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় নিউজিল্যান্ডের। এর আগে ২০২৩ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আহমেদাবাদে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করেছিল কিউইরা। ২০২৩ সালের পর টানা ৮ ওয়ানডে হারের পর ভারতের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের প্রথম জয় এটি। ভারতের মাটিতে ২০১৭ সালের পর টানা ৮ ওয়ানডে হারের পর প্রথম জয়। রান তাড়ায় নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনার দ্রতই ফিরে যান। তৃতীয় উইকেটে ১৬২ রানের জুটি গড়েন উইল ইয়াং ও ড্যারিল মিচেল। ইয়াং ৯৮ বলে ৮৭ রানে ফেরেন। তবে সেঞ্চুরি তুলে দলকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মিচেল। ১১৭ বলে ১৩১ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। ভারতের বিপক্ষে গত ৪ ম্যাচের তিনটিতেই শতক পেলেন ম্যাচসেরার পুরষ্কার তোলা মিচেল। এর আগে টসে হেরে লোকেশ রাহুলের অপরাজিত ১১২ ও শুবমান গিলের ৫৬ রানের উপর ভর করে ২৮৫ রানের সংগ্রহ পায় ভারত। ইন্দোরে সিরিজ নির্ধারর্ণী ম্যাচে রোববার ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে নিউ জিল্যান্ড। এরপর দুইদল ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে।
পাঁচ বছর পর শীর্ষে কোহলি

পাঁচ বছর পর শীর্ষে কোহলি ওয়ানডে ক্রিকেটে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন বিরাট কোহলি। টানা পাঁচ ম্যাচে অন্তত পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার সুফল পেলেন ভারতের এই তারকা ব্যাটার। প্রায় পাঁচ বছর পর আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছেন কোহলি। গতকাল আইসিসি প্রকাশিত সাপ্তাহিক হালনাগাদে দেখা যায়, পুরুষদের ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর থেকে তিনে নেমে গেছেন ভারতের বর্তমান অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তার জায়গা দখল করেছেন বিরাট কোহলি। আর তিন নম্বর থেকে দুইয়ে উঠে এসেছেন নিউজিল্যান্ডের ড্যারেল মিচেল। সবশেষ ২০২১ সালে ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন কোহলি। এরপর দীর্ঘ সময় শীর্ষস্থান দখলে রাখেন পাকিস্তানের বাবর আজম। ২০২২ সালে এক পর্যায়ে সেরা দশ থেকেও ছিটকে যান কোহলি। তবে ২০২৩ সাল থেকে শুরু হয় তার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে দুই নম্বরে ওঠার পর এবার রোহিত শর্মাকে টপকে আবারও এক নম্বরে জায়গা করে নিলেন তিনি। কোহলি ছাড়া ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ভারতের কেএল রাহুল ও শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা এক ধাপ করে এগিয়েছেন। রাহুল বর্তমানে ১১তম এবং নিসাঙ্কা রয়েছেন ১৪তম স্থানে। বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা অবস্থানে আছেন তাওহীদ হৃদয়। ৫৬৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি আছেন ৩৩ নম্বরে। আর নাজমুল হোসেন শান্ত রয়েছেন ৪১তম স্থানে, যিনি শীর্ষ ৫০-এর মধ্যে থাকা আরেক বাংলাদেশি ব্যাটার। এদিকে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশ বোলার ও অলরাউন্ডারদের তালিকায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বোলারদের মধ্যে শীর্ষে আছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান। আর অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন আরেক আফগান তারকা আজমাতুল্লাহ ওমরজাই।
পরিচালক নাজমুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বিসিবির

পরিচালক নাজমুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বিসিবির আপত্তিকর মন্তব্য করায় বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাকে কারণ দর্শানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বিসিবি। পাশাপাশি বিপিএলের চূড়ান্ত পর্ব নির্বিঘ্নে শেষ করতে ক্রিকেটারদের সহায়তা চাওয়া হয়। এর আগে, গতকাল বিকেলে বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে ক্রিকেটারদের ক্ষতি বিষয়ক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘তারা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পিছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি।’ এ ছাড়া কয়েকদিন আগে তামিম ইকবালকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন তিনি। একের পর এক এমন আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে নাজমুল ইসলামকে আজ দুপুর একটায় বিপিএলের ম্যাচের আগে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। তিনি পদত্যাগ না করলে সব ধরনের খেলা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। গতকাল রাতে জুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের নিয়ে নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, গত কিছুদিন ধরে আপনারা দেখছেন একজন বোর্ড পরিচালক যেভাবে প্লেয়ারদের নিয়ে মন্তব্য করছেন, একজন দায়িত্বরত বোর্ড পরিচালক কখনো এভাবে প্লেয়ারদের নিয়ে কথা বলতে পারেন না। আমরা উনার পদত্যাগ চাচ্ছি। উনি যদি আজ বিপিএলের প্রথম ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ ঘোষণা করছি। এসব ঘটনায় গতকাল রাতেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো পরিচালকের ব্যক্তিগত মন্তব্যের দায় বিসিবি বহন করবে না এবং ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, বোর্ডের একজন সদস্যের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য অনুচিত, আপত্তিকর এবং খেলোয়াড়দের জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে। এ ধরনের বক্তব্যের জন্য বোর্ড আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। বিসিবি মনে করে, এ সব মন্তব্য বোর্ডের মূলনীতি ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিসিবি কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করেন কিংবা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুনাম ও ভাবমূর্তির ক্ষতি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বোর্ড বুঝিয়ে দিয়েছে যে, পরিচালকের পদে থাকলেও কাউকেই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে রাখা হবে না। বোর্ড তার বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ক্রিকেটাররাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের মূল কেন্দ্রবিন্দু। অতীতে এবং বর্তমানে যারা দেশের জন্য অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি বিসিবির পূর্ণ সম্মান ও সমর্থন রয়েছে। খেলোয়াড়দের মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় বিসিবি সবসময় অটল থাকবে এবং ক্রিকেটের প্রতিটি স্তরে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা হবে।
বছরে তিনটির বেশি বিদেশি লিগ খেলতে পারবেন না রশিদ-নবীরা

বছরে তিনটির বেশি বিদেশি লিগ খেলতে পারবেন না রশিদ-নবীরা আফগান ক্রিকেটারদের দেশের বাইরে লিগে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। নতুন নীতি অনুযায়ী- ইচ্ছেমতো সব লিগে খেলার অনুমতি আর দেওয়া হবে না রশিদ খান, মোহাম্মাদ নবীদেরকে। বছরে তিনটির বেশি বিদেশের লিগে খেলতে পারবেন না তারা। কাবুলে এসিবির বার্ষিক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, নানা দিক ভাবনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটারদের ফিটনেসের সুরক্ষা ও মানসিকভাবে ভালো থাকার ব্যাপারটিকে প্রাধান্য দিয়ে বিদেশি লিগের ব্যাপারে নতুন নীতি অনুমোদন করেছে বোর্ড। ক্রিকেটাররা এখন থেকে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ এবং আর মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক লিগে খেলতে পারবেন। ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড সামলানো এবং জাতীয় দলের হয়ে সেরা পারফরম্যান্স নিশিচত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আফগান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা রাশিদ খানের ওপর। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সফলতম বোলার আইপিএলে খেলছেন গুজরাট টাইটান্সে। চলতি এসএ টোয়েন্টিতে এমআই কেপ টাউনের অধিনায়ক তিনি। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিরই অন্যান্য লিগের দল এমআই এমিরেটস ও এমআই নিউ ইয়র্কে তিনি খেলে থাকেন। এছাড়া অন্যান্য প্রায় সব লিগেই তিনি খেলেন বা খেলেছেন নানা সময়ে। এছাড়াও মোহাম্মাদ নবী, নুর আহমাদ, আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, রাহমানউল্লাহ গুরবাজ, মুজিব উর রাহমান, এএম গাজানফার, নাভিন উল হাক, ফাজালহাক ফারুকিদের দেখা যায় বিভিন্ন লিগে। আফগান বোর্ডের সভাপতি এখন মিরওয়াইস আশরাফ, যিনি রাশিদ-নাবিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছেন দীর্ঘদিন। ক্রিকেটারদের বিদেশের লিগে খেলার ক্ষেত্রে নানারকম বাধ্যবাধ্যকতা আছে অন্য কিছু দেশের বোর্ডেরও। ভারতের ক্রিকেটাররা দেশের বাইরের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অনুমতি পান না। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বছরে দুটি বিদেশি লিগে খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
নির্বাচনের আগে নেপালের সবচেয়ে পুরোনো দল বিভক্ত

নির্বাচনের আগে নেপালের সবচেয়ে পুরোনো দল বিভক্ত নেপালে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে, দেশটির সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলটির বিদ্রোহী একটি অংশ সর্বসম্মতিক্রমে নতুন সভাপতি নির্বাচন করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। এই বিভাজন নেপালের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত সেপ্টেম্বর দুর্নীতি, শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভে নেপালের আগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। আজ ভোরে দেওয়া বক্তব্যে নেপালি কংগ্রেসের নব-নির্বাচিত সভাপতি গগন থাপা বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাকে নেপালি কংগ্রেসের মতো একটি দলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এটি ছোট কোনো দায়িত্ব নয়। আমি আন্তরিকভাবে অঙ্গীকার করছি যে আপনাদের হতাশ করব না।’ তবে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। নেপালি কংগ্রেসের কোন অংশটি বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং আগামী ৫ মার্চ নির্ধারিত নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী গাছ প্রতীক ও দলীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবে। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টারাই এএফপিকে বলেন, ‘কমিশন চিঠিপত্র পেয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।’ পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ২০১৬ সাল থেকে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিতে বিদ্রোহী নেতারা একটি বিশেষ সম্মেলনের আহ্বান করেন। বিভক্তি এড়াতে বুধবার পর্যন্ত আলোচনা চললেও, শের বাহাদুর দেউবার সরে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে থাপাসহ দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয় এবং বিদ্রোহী অংশ গগন থাপাকে তাদের সভাপতি নির্বাচন করে। ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপা নেপালি কংগ্রেসের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং তিনি আগে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। নেপালি কংগ্রেসের এই ভাঙন দেশটির রাজনীতিতে বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রজন্মগত পরিবর্তন ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার দাবি পুরোনো দলগুলোর কাঠামো বদলে দিচ্ছে এবং নতুন মুখদেরকে রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। বছরের পর বছর অর্থনৈতিক স্থবিরতায় জন-অসন্তোষ আরও তীব্র হয়। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি আগামী নির্বাচনের জন্য একটি ‘ন্যায্য ও ভয়মুক্ত’ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।