ভারতের উত্তরপ্রদেশে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২১

ভারতের উত্তরপ্রদেশে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২১ ভারতের উত্তর প্রদেশের হাতরাসে ভোলে বাবার সৎসঙ্গ অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতও হয়েছে বহু মানুষ, যাদের মধ্যে ২৮ গুরুতর আহত রয়েছেন। গতকাল রাজ্যের হাতরাস জেলায় ‘শিব স্মরণে’ ভোলে বাবার এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন ভোলে বাবা নিজেই। মূলত তার ভাষণ শুনতেই ভক্তরা সৎসঙ্গ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন পরিবেশ খুব গরম ও আদ্র ছিল। তাঁবু ঘেরা অনুষ্ঠানে এত বেশি মানুষ এসেছিল যে পরিস্থিতি দমবন্ধের মতো হয়ে গিয়েছিল। লোকেদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হতেই তারা বাইরে বের হতে ছুটোছুটি শুরু করে। এ সময় ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি হয় এবং পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকার জানিয়েছে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। নিহতের ঘটনায় হাতরাসে ‘সৎসঙ্গ আয়োজকদের’ বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দায়েরকৃত এফআইআরের তথ্য অনুসারে, অনুষ্ঠানটিতে ৮০ হাজার লোকের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সেখানে প্রায় আরাই লাখেরও বেশি ভক্ত উপস্থিত হয়েছিলেন। এফআইআরে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় থাকা অনিয়ন্ত্রিত ভিড়, মাটিতে বসে থাকা ভক্তদের পদদলিত করে। রাস্তার অপর পাশে জল এবং কাদা ভরা মাঠের ভিড়কে আয়োজক কমিটি লাঠি দিয়ে জোর করে থামিয়ে দেয়, যার কারণে ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে এবং মহিলা, শিশু এবং পুরুষরা পদদলিত হতে থাকে।

কোপা আমেরিকার গ্রুপপর্ব শেষ, কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি প্রকাশ

কোপা আমেরিকার গ্রুপপর্ব শেষ, কোয়ার্টার ফাইনালের  সূচি প্রকাশ আজ ব্রাজিল-কলম্বিয়া ও কোস্টারিকা-প্যারাগুয়ের ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হলো কোপা আমেরিকার এবারের আসরের গ্রুপপর্বের খেলা। চারটি গ্রুপ থেকে আটটি দল জায়গা করে নিয়েছে শেষ আট তথা কোয়ার্টার ফাইনালে। দলগুলো হলো- আর্জেন্টিনা, কানাডা, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, উরুগুয়ে, পানামা, কলম্বিয়া ও ব্রাজিল। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনাল তথা সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াই। তার আগে চলুন দেখে নিই কোপা আমেরিকার ৪৮তম আসরের শেষ আটের সময়সূচি— কোয়ার্টার ফাইনালের সময়সূচি: তারিখ মুখোমুখি সময় (বাংলাদেশ) ৫ জুলাই আর্জেন্টিনা-ইকুয়েডর সকাল ৭টা ৬ জুলাই ভেনেজুয়েলা-কানাডা সকাল ৭টা ৭ জুলাই কলম্বিয়া-পানামা ভোর ৪টা ৭ জুলাই উরুগুয়ে-ব্রাজিল সকাল ৭টা কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আগামী ১০ জুলাই সকাল থেকে শুরু হবে সেমিফাইনালের লড়াই। ১১ জুলাই হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। আর ১৪ জুলাই সকালে হবে ফাইনালে। এরপর পর্দা নামবে কোপা আমেরিকার এবারের আসরের।

আজ রাতে পর্দা উঠছে এলপিএলের

আজ রাতে পর্দা উঠছে এলপিএলের পর্দা উঠতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল)। আজ রাতে আসরের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ থাকছে মোস্তাফিজুর রহমান ও তাওহীদ হৃদয়ের। আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে তাদের দল ডাম্বুলা সিক্সার্স। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ক্যান্ডি ফ্যালকন্স ও ডাম্বুলা সিক্সার্সের লড়াই দিয়ে পর্দা উঠবে এবারের আসরের। ডাম্বুলার তুলনায় ভালোই শক্তিশালী ফ্যালকন্স। তাদের দলে আছেন আন্দ্রে ফ্লেচার, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও দাসুন শানাকারার মতো তারকারা। এই আসরে এবার মোস্তাফিজ ও তাওহীদের সঙ্গে খেলতে গিয়েছেন তাসকিন আহমেদও। তাসকিন মাঠ মাতাবেন কলম্বো স্ট্রাইকার্সের হয়ে। প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-২০ টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পেলেন তাসকিন। গত আসরে জাফনা কিংসের হয়ে খেলেছিলেন তাওহিদ হৃদয়। ৬ ইনিংসে ৩৮.৭৫ গড় আর ১৩৫.৯৬ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেছিলেন ১৫৫ রান। তার দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল তার। সর্বোচ্চ রান করা শোয়েব মালিক তার চেয়ে ৫ রান এগিয়ে ছিলেন।এবার তাওহীদ দল বদলে তৌডাম্বুলা সিক্সার্সের হয়ে। তার সতীর্থ হিসেবে থাকছেন স্বদেশী মোস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এ পেসার প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছেন এ লিগে। এলপিএলে খেলতে রোববার বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার একসঙ্গেই শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছেন।

শক্তি সঞ্চয় করে ধেয়ে আসছে ‘বেরিল’

শক্তি সঞ্চয় করে ধেয়ে আসছে ‘বেরিল’ আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট হারিকেন বেরিল ভয়াবহ ঝড়ে পরিণত হয়েছে, এবার প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ঝড়ে নয়-ফুট ঢেউ এবং বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। স্থানীয়দের নিরাপদে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আজ সোমবার এই হারিকেন ক্যারিবীয় দ্বীপে ভয়াবহ তাণ্ডব চালাতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে ইউএস ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)। ইউএস ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) বরাতে বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ঝড়টি ক্যাটাগরি-৪ বিপজ্জনক হারিকেনে রূপ নিতে পারে। এর আগে বলা হয়েছিল ঝড়টি ক্যাটাগরি-৩ বিপজ্জনক হারিকেনে রূপ নিতে পারে। মাত্র ৪২ ঘণ্টার মধ্যে এটি প্রবল আকার ধারণ করেছে। আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাসে এর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে মাত্রা ছয়বার। এদিকে, ঘূর্ণিঝড় বেরিল দক্ষিণ-পূর্ব ক্যারিবীয় অঞ্চলের কাছে পৌঁছে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ক্যারিবীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ১৭৯ থেকে ২০৯ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ নিয়ে তাণ্ডব চালাতে পারে। আজ সকালে উইন্ডওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জে ‘বড় ধরনের বিপজ্জনক ঝড়’ হয়ে আসবে বলে পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, বেরিল এখন পর্যন্ত আটলান্টিক মহাসাগরে রেকর্ড করা প্রথম এবং জুন মাসে রেকর্ড করা একমাত্র ক্যাটাগরি ৪ হারিকেন। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের ডিরেক্টর মাইক ব্রেনান সিএনএনকে বলেন, আমরা দ্রুত তীব্রতা (ঝড়ের) বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছি এবং বার্বাডোস ও উইন্ডওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জের মতো জায়গায় পৌঁছানোর আগে বেরিল একটি বড় হারিকেন হয়ে উঠবে। এছাড়া পূর্ব ও মধ্য ক্যারিবীয় অঞ্চলে অগ্রসর হওয়ার পরও এটি শক্তিশালী থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতাসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝড়ের ‘বড় প্রভাবের’ জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন ব্রেনান। ঘূর্ণিঝড় বেরিল বার্বাডোস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট, গ্রেনাডাইনস, গ্রেনাডা, মার্টিনিক, টোবাগো ও ডোমিনিকাসহ গোটা ক্যারিবীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এরই মধ্যে এসব দেশে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেরিলের তাণ্ডবের শঙ্কায় ওই অঞ্চলের মানুষ জ্বালানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্যোগের প্রস্তুতি হিসেবে খাবার ও পানি মজুদের হিড়িক পড়েছে।

চূড়ান্ত হলো ২০২৬-বিশ্বকাপের ১২ দল

চূড়ান্ত হলো ২০২৬-বিশ্বকাপের ১২ দল শেষ হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসর। এক মাসব্যাপী ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণের বিশ্বমঞ্চের লড়াইয়ে শেষ হাসিটা হেসেছে ভারত। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ৭ রানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে টিম ইন্ডিয়া। আবার ২ বছর পর ২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বসবে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বকাপের দশম আসর। ১০ম আসরেও খেলবে ২০টি দল। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে সরাসরি খেলবে ভারত এবং শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানরা সুপার এইটে যেতে না পারলেও স্বাগতিক হওয়ার ফায়দা নিয়ে সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। এছাড়া সুপার এইটে খেলা আট দলও সরাসরি চলে যাবে বিশ্বকাপে, যার মধ্যে রয়েছে ভারতও। ভারত বাদে বাকি দলগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মোট দল হল ৯টি। এরপর সুপার এইটে উঠতে না পারা দলগুলোর মধ্যে র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা ৩ দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে। র‍্যাংকিংয়ের অবস্থা অনুযায়ী সেই তিন দল হচ্ছে- নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং আয়ারল্যান্ড। সর্বশেষ র‍্যাংকিং অনুযায়ী নিউজিল্যান্ড ছয়ে, পাকিস্তান সাতে এবং আয়ারল্যান্ড রয়েছে ১১ নম্বরে। তিনটিই টেস্ট খেলুড়ে দেশ। সব মিলে হল ১২ দল। বাকি ৮ দল আসবে বাছাইপর্ব পার করে। বাছাইপর্বে নিজ নিজ মহাদেশ অনুযায়ী বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলবে দলগুলো। এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেবে ২টি করে মোট ৬টি দল। বাকি দুই দল আসবে আমেরিকা এবং পূর্ব এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় মহাদেশ থেকে। সব মিলে হল ২০টি দল। ফলে পরবর্তী বিশ্বকাপের ১২ দল ইতোমধ্যে নিশ্চিত। এখন বাছাইপর্ব পার করে খেলতে আসবে আরও ৮টি দল। প্রসঙ্গত, এবারই প্রথম ২০ দল নিয়ে বসেছে বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দল বেশি হওয়াতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হয়েছে বেশি। অনেক বাঘা বাঘা দলকে হারিয়ে দিয়েছে সহযোগী সদস্য অনেক দেশ। সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র তো চলে গেছে সুপার এইটেও। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার মত দল। সেমিফাইনালে খেলে ইতিহাস গড়েছে আফগানিস্তান। দল বেশি হওয়াতে লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। পরের আসরেও এমন ভালো লড়াই দেখা যাবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।

সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিমকে’ বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। এতে বন্ধ রয়েছে সকল ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা। কর্মসূচির ফলে কার্যত দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়েছে। সব ধরনের ক্লাস বন্ধের পাশাপাশি সব পরীক্ষা বর্জন করেছেন তারা। মিডটার্ম, ফাইনাল ও ভর্তি পরীক্ষাসহ কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। এমনকি বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের অফিস, সেমিনার, কম্পিউটার ল্যাব ও গবেষণাগারও বন্ধ। সেই সঙ্গে কর্মসূচি চলাকালে একাডেমিক কমিটি, সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটি এবং প্রশ্নপত্র সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হবে না। রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের মূল ফটকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মবিরতি কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া। সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের দাবি- প্রত্যয় স্কিমের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করতে হবে। আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, শুধু প্রত্যয় স্কিমের প্রজ্ঞাপন বাতিল। এসব দাবি আদায়ে রোববার পূর্ণদিবস কর্মবিরতির পাশাপাশি অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশও করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। এদিকে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক আখতারুল ইসলাম বলেন, আমরা এই আন্দোলন নিজেদের জন্য করছি না। বরং আগামী প্রজন্মের জন্য করছি। দেশে এতো দুর্নীতির কথা আমরা শুনি। সেসব কী শিক্ষকরা করেছে? তাহলে কেন তাদের সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। এই প্রত্যয় স্কিম বৈষম্যমূলক। উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ‘প্রত্যয় স্কিম’ এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ব্যবস্থাকে একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বলে শুরু করেই বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনগুলো। দাবি আদায়ে কিছু কর্মসূচি পালনের পর গত ৪ জুন অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকেরা। এরপরও দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ২৫,২৬ ও ২৭ জুন অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তারা। পরে ৩০ জুন পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়।

ঝড়ের তাণ্ডবে ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ডে নিহত অন্তত ৭

ঝড়ের তাণ্ডবে ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ডে নিহত অন্তত ৭ প্রচণ্ড ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা এবং ভূমিধসে ইউরোপের দুই দেশ ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডে অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। রোববার ওই দুই দেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে। ফ্রান্সের স্থানীয় এক কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আউবে অঞ্চলে প্রচণ্ড বাতাসের কারণে একটি গাছ উপড়ে গাড়ির ওপর পড়েছে। এতে ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া গাছের নিচে চাপা পড়া গাড়ির আরেক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশী সুইজারল্যান্ডে ঝড়ের তাণ্ডবে অন্তত চারজন নিহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে প্রবল বর্ষণের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে বলে দেশটির টিকিনোর ক্যান্টন পুলিশ জানিয়েছে। সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইসের দক্ষিণ-পশ্চিমের ক্যান্টনের সাস-গ্রুন এলাকার একটি হোটেলে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বন্যার পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ বলেছে, ভ্যালাইসে অপর এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের বেসামরিক নিরাপত্তা সেবা সংস্থা বলেছে, ভ্যালাইসের রোন ও অন্যান্য নদ-নদীর দুই তীর উপচে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ওই এলাকা থেকে কয়েকশ’ বাসন্দিাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির জরুরি সেবা সংস্থাগুলো পেকিয়া এলাকায় একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখতে আসা ৩০০ দর্শনার্থীকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া মোগনো গ্রামের একটি হলিডে শিবির থেকে প্রায় ৭০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির কয়েকটি দুর্গম উপত্যকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সতর্ক ব্যবস্থা বলেছে, ক্যান্টনের কিছু এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ফুরিয়ে গেছে। এর আগে, গত সপ্তাহেও দক্ষিণ-পূর্ব সুইজারল্যান্ডে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। সেই সময় ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও একজনের প্রাণহানি ঘটে। এদিকে, উত্তর ইতালির আওস্তা উপত্যকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা বন্যার পানি ও পানিতে টুইটম্বুর নদীর ছবি শেয়ার করেছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। এর ফলে বন্যা ও ঝড়ের মতো চরম বৈরী আবহাওয়ার বিভিন্ন ঘটনার তীব্রতা ও বারবার আঘাত হানার ঘটনা বাড়ছে এবং এর প্রভাবও দীর্ঘ হচ্ছে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ দিলো অস্ট্রেলিয়া

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ দিলো অস্ট্রেলিয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা পাওয়া আরও কঠিন করল অস্ট্রেলিয়া। দেশটি একধাক্কায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ফি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে। মূলত রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসনের লাগাম টানতে এবং এর জেরে দিন দিন আবাসন বাজারের ওপর চাপ তীব্র হতে থাকায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। আজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া তার ভিসা ফি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে বলে সোমবার দেশটি জানিয়েছে। সর্বশেষ পদক্ষেপে চলতি জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসার ফি ৭১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৬০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (১০৬৮ মার্কিন ডলার) করা হয়েছে।এছাড়া ভিজিটর ভিসাধারী ও অস্থায়ী স্নাতক ভিসা রয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত অবস্থায় স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লেয়ার ও’নিল এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজকে কার্যকর হওয়া পরিবর্তনগুলো আমাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করতে এবং এমন একটি অভিবাসন ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করবে যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য আরও সুন্দর, ক্ষুদ্রতর এবং আরও ভালোভাবে কাজ করতে সক্ষম।’ চলতি বছরের মার্চ মাসে অভিবাসন বিষয়ে প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় নেট ইমিগ্রেশন ৬০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ভিসা ফি বৃদ্ধির ফলে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করা এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। উত্তর আমেরিকার এই দুই দেশে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা ফি যথাক্রমে ১৮৫ মার্কিন ডলার এবং ১৫০ কানাডিয়ান ডলার (১১০ মার্কিন ডলার)। সরকার বলেছে, তারা ভিসা সংক্রান্ত নানা নিয়ম ও বিধির ত্রুটিগুলোও বন্ধ করছে যা বিদেশি ছাত্রদের অস্ট্রেলিয়ায় তাদের থাকার সময়সীমা ক্রমাগত প্রসারিত করার সুযোগ দিতো। ২০২২-২৩ সালে দ্বিতীয় বা পরবর্তী স্টুডেন্ট ভিসায় ছাত্রদের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়ে দেড় লাখের বেশি হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিলো অস্ট্রেলীয় সরকার। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় বার্ষিক অভিবাসন রেকর্ড মাত্রায় বেড়েছে। এরপর বিপুল সংখ্যায় অভিবাসীদের আগমন ঠেকাতে গত বছরের শেষের দিক থেকে স্টুডেন্ট ভিসার নিয়মগুলোকে কঠোর করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয় অস্ট্রেলিয়া।এরই অংশ হিসেবে সর্বশেষ এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এর আগে গত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগমন নিয়ন্ত্রণে ভিসার আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনের জন্য সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। সেসময় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই ন্যূনতম ২৯ হাজার ৭১০ অস্ট্রেলীয় ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় (২১ লাখ ৪৬ হাজার ৯২২ টাকা) সঞ্চিত থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সঞ্চিত অর্থ সংক্রান্ত ব্যাংক নথি প্রদর্শন করতে হবে। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসায় আবেদনে যেসব কাগজপত্র-নথি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক, সেসবের মধ্যে ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ বিষয়ক নথিও অন্তর্ভুক্ত। এই নথি অন্তর্ভুক্ত করা না হলে আবেদন গ্রহণ করার নিয়ম নেই। এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনের জন্য প্রদর্শনযোগ্য সঞ্চিত অর্থের বাধ্যবাধকতা ছিল ন্যূনতম ২১ হাজার ৪১ অস্ট্রেলীয় ডলার, পরে ২০২৩ সালের অক্টোবরে তা বৃদ্ধি করে ২৪ হাজার ৫০৫ অস্ট্রেলীয় ডলারে উন্নীত করা হয়। সেই হিসেবে গত মে মাসে প্রদর্শনযোগ্য সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ বাড়ানো হয় দ্বিতীয় দফায়।

বর্ষাকালে যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে

বর্ষাকালে যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে বর্ষা গরমের তীব্রতা থেকে মুক্তি দেয়, নিয়ে আসে স্বস্তি। কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গে এসময় জলবাহিত রোগ, হজম সংক্রান্ত সমস্যা এবং সংক্রমণসহ অনেকগুলি স্বাস্থ্য সমস্যাও নিয়ে আসে। এই সময়ে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য আপনি কী খাচ্ছেন সেদিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবার দূষণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বা বর্ষাকালে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। সুস্থ ও নিরাপদ থাকার জন্য বর্ষাকালে কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক- পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি যদিও পালং শাক, লেটুস এবং বাঁধাকপির মতো শাক-সবজি সাধারণত স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়, তবে বর্ষা মৌসুমে এগুলো সমস্যার কারণ হতে পারে। স্যাঁতসেঁতে এবং আর্দ্র অবস্থা এই সবজিতে ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য রোগজীবাণুর জন্য একটি আদর্শ প্রজনন স্থল। ভেজা অবস্থার কারণে পাতাযুক্ত শাক সহজেই ময়লা, জীবাণু এবং পোকার ডিম দ্বারা দূষিত হতে পারে। এগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করা কঠিন, ফলে পেটের সংক্রমণ এবং ডায়রিয়ার মতো খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাইরের খোলা খাবার পথের পাশের খাবার প্রস্তুত এবং পরিবেশন করা হয় খোলা পরিবেশে। এ ধরনের খাবার বৃষ্টির পানি এবং মাছির মাধ্যমে দূষিত হতে পারে। রাস্তার খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত পানি বিশুদ্ধ নাও হতে পারে, যা কলেরা এবং টাইফয়েডের মতো জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। রাস্তার খাবার খাওয়ার পরিবর্তে, পরিষ্কার, তাজা উপাদান এবং নিরাপদ রান্নার অভ্যাস ব্যবহার করে বাড়িতে একই ধরনের স্ন্যাকস তৈরি করুন। মাশরুম মাশরুম ছত্রাক এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বেড়ে ওঠে, যা বর্ষাকালে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বর্ষাকালে কেন মাশরুম এড়িয়ে চলা উচিত? বন্য মাশরুম আর্দ্র অবস্থায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং টক্সিন দ্বারা সহজেই দূষিত হতে পারে। কিছু মাশরুম হজম করা কঠিন হতে পারে, যা সম্ভাব্য পেট খারাপের কারণ হতে পারে। এর পরিবর্তে, তাজা, খামারে জন্মানো মাশরুম বেছে নিন। সেগুলো খাওয়ার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার ও সেদ্ধ করে নিন।

পিরিয়ডের সময় ব্রণ? যেভাবে দূর করবেন

পিরিয়ডের সময় ব্রণ? যেভাবে দূর করবেন মাসিক চক্র জুড়ে হরমোনের মাত্রা ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়। পিরিয়ডের ঠিক এক বা দুই সপ্তাহ আগে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমে যায়, এর ফলে তেল গ্রন্থিগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে। এই অতিরিক্ত তেল মৃত ত্বকের কোষ এবং ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ত্বকের ছিদ্রগুলোকে আটকে রাখে এবং ব্রণের সৃষ্টি করে। এই ব্রণ সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে সেজন্য আপনাকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার খান স্বাস্থ্যকর খাবার শুধু রোগ প্রতিরোধই করে না, এটি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্রণ হোক বা প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম (PMS)-জনিত ব্রণ হোক, শাক-সবজি, ফলমূল, দানাশস্য এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার উপশম দিতে পারে। সেইসঙ্গে চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অ্যালকোহলের মতো খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম ব্যায়াম নিজেই ব্রণ নিরাময় করে না; তবে এটি ব্রণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ওয়ার্কআউট রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, শর্করা অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করতে পারে যা তেল উৎপাদন বাড়ায়, ব্রণের একটি প্রধান কারণ। ব্যায়াম রক্ত ​​সঞ্চালনকেও উন্নত করে, ত্বকের কোষে অক্সিজেন এবং পুষ্টি পৌঁছে দেয় এবং বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। পিরিয়ডের সময় হরমোন ওঠানামা করে। এটি আপনার তেল গ্রন্থিগুলোকে সিবাম অতিরিক্ত উৎপাদন করতে উৎসাহিত করতে পারে, যার ফলে ছিদ্র আটকে যায় এবং ব্রণ হয়। ব্রণ তখনই হয় যখন আপনার শরীর চাপের মধ্যে থাকে, কারণ এটি কর্টিসল নিঃসরণ করে, যা হরমোনের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে ব্যাহত করে। এর ফলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্ট্রেস দূর করার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম এবং মেডিটেশনের মতো কৌশল বেছে নিতে হবে। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুমও এক্ষেত্রে জরুরি।