আজীবন সম্মানায় ভূষিত বলিউড অভিনেত্রী রেখা

আজীবন সম্মানায় ভূষিত বলিউড অভিনেত্রী রেখা সৌদি আরবের জেদ্দায় চলছে রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পঞ্চম আসর। এবারের আসরে সিনেমায় অসামান্য অবদানের জন্য আজীবন সম্মানায় ভূষিত হয়েছেন বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেত্রী রেখাকে। ভারতীয় সিনেমায় তার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ যাত্রার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এর আগে ‘সিনেমার প্রতি ভালোবাসা’-এই স্লোগান নিয়ে জেদ্দায় বসেছে এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। উৎসবের পঞ্চম আসর এটি। চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিশ্বের নানা দেশের ১১১ সিনেমা এবারের আয়োজনে প্রদর্শিত হচ্ছে। অভিনেত্রী রেখা ৭ ডিসেম্বর উৎসবে উপস্থিত ছিলেন। এই উপলক্ষে ১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘উমরাও জান’ এর বিশেষ প্রদর্শনী হয়। সিনেমাটি দেখানো হয়েছে ট্রেজার স্ট্যান্ড সেকশনে। যেখানে ইতিহাসে বিশেষ ছাপ রেখে যাওয়া, পুনরুদ্ধার করে পুনরায় প্রদর্শিত সিনেমাগুলো স্থান পায়। প্রদর্শনীর সময় প্রেক্ষাগৃহ ছিল দর্শকে উপচে পড়া। দর্শক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছবির পরিচালক মুজাফফর আলী। পাশাপাশি স্মরণ করা হয় প্রখ্যাত সুরকার খয়্যাম–এর পরিবারকে। যার সঙ্গীত এই চলচ্চিত্রে অনন্য মাত্রা যোগ করেছিল। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেখা বলেন, আমি খুব বেশি কথাবার্তা বলি না। ‘উমরাও জান’-এ আমার সংলাপও চোখের ভাষায় প্রকাশ পেয়েছিল। মা সবসময় বলতেন—নিজের অর্জন নিয়ে কথা বলো না, এমন জীবন বেছে নাও, যা দেখে মানুষ কিছু শিখতে পারে। আমি বুঝেছি কী করা উচিত নয়। তাই এই উৎসবে আসার সুযোগ হাতছাড়া করিনি।’ তিনি আরও বলেন, নীরবতার শক্তি শব্দের চেয়েও বেশি। আজকের এই মুহূর্ত আমি উৎসর্গ করছি আমার ভক্ত, বন্ধু ও পরিবারকে। সবকিছু শব্দে নয়, ভালোবাসায় ঘটে—আর সেই ভালোবাসা নীরব হয়েও প্রবল। ‘উমরাও জান’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮১ সালের ২ জানুয়ারি। ২০২৫ সালের ২৭ জুন ছবিটি ফোকে রিস্টোরড ভার্সনে পুনরায় মুক্তি পায়।
২৭০০ বছর আগের সূর্যগ্রহণের হিসাব সংশোধন করলেন গবেষকেরা

২৭০০ বছর আগের সূর্যগ্রহণের হিসাব সংশোধন করলেন গবেষকেরা প্রাচীন চীনা নথি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সূর্যগ্রহণের নতুন তথ্য পেয়েছেন। তাদের মতে, এই তথ্যগুলো পৃথিবীর ঘূর্ণনগতির ইতিহাস বুঝতে সহায়তা করবে। গবেষণাটি ২ ডিসেম্বর অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, খ্রিষ্টপূর্ব ৭০৯ সালের ১৭ জুলাই ঘটে যাওয়া সূর্যগ্রহণের বর্ণনা পাওয়া যায় ‘স্প্রিং অ্যান্ড অটাম অ্যানালস’ নামের একটি প্রাচীন নথিতে। তবে এই নথি সূর্যগ্রহণের প্রায় দুই থেকে তিন শতাব্দী পরে লেখা হয়েছিল। পরে ‘বুক অব হান’-এ আরও একটি মন্তব্য যোগ করা হয়, যেখানে সূর্যকে ‘উপরে-নিচে পুরো হলুদ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, এটি সম্ভবত সূর্যের বাইরের উজ্জ্বল বৃত্তের প্রাচীনতম লিখিত বর্ণনা। গবেষকেরা আধুনিক গণনা পদ্ধতি ব্যবহার করে নথির তথ্য যাচাই করেছেন। প্রথমদিকে দেখা যায়, নথিতে উল্লেখ করা স্থান কুফু শহর থেকে ওই গ্রহণটি দেখা সম্ভব ছিল না। পরে ঐতিহাসিক মানচিত্র ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য মিলিয়ে জানা যায়, আগের গবেষণায় কুফুর প্রকৃত অবস্থান থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার ভুল জায়গার সমন্বয় (কোঅর্ডিনেট) ব্যবহার করা হয়েছিল। এ ভুল সংশোধন করলে পৃথিবীর সে সময়কার ঘূর্ণনগতির আরও সঠিক হিসাব পাওয়া যায়। একই সঙ্গে সূর্যের অবস্থান ও গ্রহণের সময় করোনা কেমন দেখা যেত, তারও নির্ভুল মডেল তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল অবজারভেটরির মিতসুরু সোামা বলেন, নতুন হিসাব আগের বহু গবেষণার ভুল সংশোধন করেছে। এতে অতীতের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাগুলোর তারিখ নির্ধারণ আরও নির্ভুল হবে। প্রাচীন যুগে মানুষ আকাশে ঘটতে থাকা ঘটনাকে শুভ–অশুভ লক্ষণ মনে করত। তাই তারা সূর্যগ্রহণ, অরোরা, ধূমকেতু—এসব ঘটনা খুব যত্ন করে লিখে রাখত। লকহিড মার্টিন সোলার অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ল্যাবের গবেষক মেং জিন বলেন, প্রাচীন নথির পর্যবেক্ষণ আর আধুনিক গণনার সমন্বয়ে আমরা হাজার বছরের পুরোনো পৃথিবী ও সূর্যের অবস্থা সম্পর্কে নতুন ধারণা পাচ্ছি।
বিশ্বে ১০০ কোটিরও বেশি নারী সহিংসতার শিকার

বিশ্বে ১০০ কোটিরও বেশি নারী সহিংসতার শিকার বিশ্বজুড়ে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ১০০ কোটিরও বেশি নারী শৈশবে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালে প্রিয়জনের কাছ থেকে সহিংস আচরণের শিকার হয়েছেন প্রায় ৬০ কোটির বেশি নারী।গতকাল চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী সঙ্গীর কাছে নিগৃহীত হয়েছেন। এসব অঞ্চলে এইচআইভি ও দীর্ঘমেয়াদী রোগের হার বেশি হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ভারতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অন্তত ২৩ শতাংশ নারী সঙ্গীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আবার ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের ৩০ শতাংশের বেশি এবং পুরুষদের ১৩ শতাংশের শৈশবে যৌন সহিংসতার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। গবেষকেরা গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ (জিবিডি) স্টাডি ২০২৩-এর তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এটি ‘সময় ও ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য ক্ষতির সবচেয়ে বড় ও ব্যাপক পরিমাপক’ হিসেবে বিবেচিত। জিবিডি স্টাডিটি সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষকরা জানান, বিশ্বব্যাপী ২০২৩ সালে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৬০ কোটি নারী কখনো না কখনো আইপিভির শিকার হয়েছেন। আর ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ১০০ কোটিরও বেশি নারীর শৈশবে যৌন সহিংসতার অভিজ্ঞতা হয়েছে। যৌন সহিংসতার ফলে নারীদের মধ্যে প্রচণ্ড উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শৈশবে যৌন সহিংসতার অভিজ্ঞতা নারীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, মাদক ব্যবহারজনিত ব্যাধি এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগসহ অন্তত ১৪টি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। গবেষকেরা বলেন, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলা করা শুধু মানবাধিকারের বিষয় নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার। এর মাধ্যমে লাখো মানুষের জীবন বাঁচানো যেতে পারে। নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া হলে তা একটি সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। গবেষকরা বলেছেন, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবেলা কেবল মানবাধিকারের বিষয় নয় বরং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার যা লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচাতে পারে, মানসিক স্বাস্থ্যের ফলাফল উন্নত করতে পারে এবং স্থিতিশীল সম্প্রদায় গড়ে তুলতে পারে। তারা বলেছেন, সহিংসতার কারণে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি কমাতে আইনি কাঠামো শক্তিশালীকরণ, লিঙ্গ সমতা প্রচার এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সহায়তা পরিষেবা সম্প্রসারণের মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর এই গবেষণার ফলাফল জোর দেয়। সূত্র: এনডিটিভি।
বিশ্বকাপের আগে উরুগুয়ে ও জাপানের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের আগে উরুগুয়ে ও জাপানের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড আগামী বছরের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে ও এশিয়ার পরাশক্তি জাপানকে। গ্তকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে ৬০ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর লক্ষ্যে প্রস্তুতি জোরদার করছে টমাস টুখেলের দল। সেই পথেই আগামী ২৭ মার্চ ওয়েম্বলিতে উরুগুয়েকে আতিথ্য দেবে ইংল্যান্ড। চার দিন পর একই ভেন্যুতে জাপানের বিপক্ষেও মাঠে নামবে থ্রি লায়ন্স। বাছাইপর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড গড়ে প্রথম ইউরোপীয় দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। র্যাঙ্কিংয়ে উরুগুয়ে রয়েছে ১৬তম অবস্থানে, জাপান ১৮তম। ফলে দুই ম্যাচই যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, তা সহজেই অনুমেয়। দুই দলই এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। মে মাসে টুখেল তার চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। ফলে ওয়েম্বলির এই দুটি ম্যাচই খেলোয়াড়দের সামনে ঘরের মাঠে নিজেদের প্রমাণের শেষ সুযোগ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনাও রয়েছে ইংল্যান্ডের। ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘এল’ গ্রুপে পড়েছে ইংল্যান্ড। তাদের সঙ্গী ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা—যা টুখেল ও তার দলের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জই বয়ে আনবে।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ : অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দল ঘোষণা

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ : অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দল ঘোষণা আগামী বছর নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে অজিদের নেতৃত্ব দেবেন ভিক্টোরিয়ার ব্যাটার অলিভার পিক। পিক যুব দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি খেলেছেন অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়েও। ডেভেলপমেন্ট প্লেয়ার হিসেবে টেস্ট স্কোয়াডের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সফরও করেছেন তিনি। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন পিক। বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত দলে রয়েছেন তিন নতুন মুখ। তারা হলেন নাডেন কুরে, নিথেশ স্যামুয়েল এবং উইলিয়াম টেইলর। বিশ্বকাপে দলটি অংশ নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধান কোচ টিম নিলসেনের অধীনে। সহকারী হিসেবে থাকবেন লুক বাটারওর্থ এবং ট্রাভিস ডিন। অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দল : অলিভার পিক (অধিনায়ক), কেইসি বার্টন, নাডেন কুরে, জেডেন ড্রেপার, বেন গর্ডন, স্টিভেন হোগান, থমাস হোগান, জন জেমস, চার্লস লাখমুন্ড, উইল মালাইচজুক, নিথেশ স্যামুয়েল, হেইডেন শিলার, আরিয়ান শর্মা, উইলিয়াম টেইলর, অ্যালেক্স লি ইয়ং।
রিয়ালের তিন ফুটবলার ২ ম্যাচ নিষিদ্ধ

রিয়ালের তিন ফুটবলার ২ ম্যাচ নিষিদ্ধ স্প্যানিশ লা লিগায় সেলতা ভিগোর বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন রিয়ালের তিন খেলোয়াড়। এর মধ্যে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দুই ডিফেন্ডার ফ্রান গার্সিয়া ও আলভারো ক্যারেরাস। অন্যদিকে শেষ বাঁশি বাজার পর বেঞ্চ থেকে লাল কার্ড দেখেন এনদ্রিক। লা লিগার শৃঙ্খলা কমিটি গতকাল তিন খেলোয়াড়কে দুই ম্যাচ করে নিষিদ্ধ করে। তবে কারভাহালের শাস্তি পাওয়া বেশ অদ্ভূত। সেলতা বিপক্ষে ম্যাচে স্কোয়াডেও ছিলেন না তিনি। তবে ‘রেফারির ওপর চড়াও হওয়ায়’ দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। রিয়ালকে ওই রাতে অনেকটা সময় ১০ জন ও শেষের কিছু সময় ৯ জন নিয়ে খেলতে হয়। এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ফ্রান গার্সিয়া। সেলতার বিপক্ষে ম্যাচে পরপর দুই মিনিটে দুটি হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন আলভারো কারেরাস। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। রেফারিকে এই ডিফেন্ডার বলেছিলেন, ‘আপনি খুব বাজে। চলতি বছর লা লিগায় আর খেলা হচ্ছে না তার। একই ম্যাচে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে লাল কার্ড দেখেছিলেন বেঞ্চে থাকা এন্দ্রিকও। বেঞ্চ থেকে উঠে অনেকটা দূর গিয়ে ম্যাচের চতুর্থ অফিসিয়ালকে লক্ষ্য করে চিৎকার করেছিলেন তিনি। পরে তাকে থামান কোচিং স্টাফরা। এজন্য দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হন তিনি। স্প্যানিশ ফুটবলের ক্ষেত্রেই এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। চ্যাম্পিয়নস লিগ বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতার জন্য নয়। লা লিগায় ১৬ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে রিয়াল। সমান ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে শিরোপাধারী বার্সেলোনা। লা লিগায় আগামী রবিবার আলাভেসের মাঠে নামবে রিয়াল। এই ম্যাচে এনদ্রিক, ক্যারেরাস, ফ্রান গার্সিয়া ও কারবাহালকে পাবেন না কোচ জাবি আলোনসো। গার্সিয়া লাল কার্ড দেখায় এমনিতেই এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। বাকি তিন খেলোয়াড়কে আলাভেস ম্যাচের পাশাপাশি ২১ ডিসেম্বর সেভিয়ার বিপক্ষেও মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ১৬ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ৪ পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে রিয়াল।
‘এ+’ গ্রেড হারাতে পারেন কোহলি-রোহিত

‘এ+’ গ্রেড হারাতে পারেন কোহলি-রোহিত আইসিসির সর্বশেষ ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার জন্য সুখবরের পাশাপাশি রয়েছে কিছু চাঞ্চল্যকর দুঃসংবাদ। ৩৭ বছর বয়সী কোহলি দুই নম্বরে এবং ৩৮ বছর বয়সী রোহিত শর্মা শীর্ষে থাকা এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার এখনও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন, তবে তাদের বেতন কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের দলে শুধু ওয়ানডেতে খেলছেন এই দুই সিনিয়র ক্রিকেটার। ২০২৪-২৫ মৌসুমের চুক্তিতে তারা ‘এ+’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন, তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়-পরবর্তী অবসরের কারণে এবং এবার টেস্ট থেকে বিদায় নেয়ার পর সম্ভাবনা রয়েছে তাদের গ্রেড একটি ধাপ নেমে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে চলে যাবে। এতে তাদের বার্ষিক বেতন বর্তমান ৭ কোটি রুপি থেকে কমে প্রায় ২ কোটি রুপি কমতে পারে। ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আগামী ২২ ডিসেম্বর ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিসিসিআইয়ের ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই সভায় বেতন কাঠামার পাশাপাশি আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের বেতন সংস্কার এবং বোর্ডের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের হালনাগাদ বিষয়গুলোও আলোচনা হবে। বর্তমান সময়ে রোহিত-কোহলির পরে ভারতের ওয়ানডে এবং টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে উঠে আসছেন শুভমান গিল। এছাড়া জাসপ্রিত বুমরাহ ও রবীন্দ্র জাদেজাও এ+ ক্যাটাগরিতে থাকবেন। গিল পূর্বে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন।
হাসপাতালে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর হামলায় নিহত ৩৪

হাসপাতালে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর হামলায় নিহত ৩৪ হাসপাতালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত। এতে আরও বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিসিবি। গতকাল রাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-উ শহরের একটি হাসপাতালে এই হামলা চালানো হয়। এলাকাটি বর্তমানে জান্তাবিরোধী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামরিক বাহিনী জাতিগত সেনাবাহিনীগুলোর কাছ থেকে এলাকা পুনরুদ্ধার করার জন্য বিমান হামলা আরও জোরদার করেছে। তারা শত্রুদের উপর বোমা ফেলতে প্যারগ্লাইডারও ব্যবহার করছে। এই হামলার বিষয়ে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, টেলিগ্রামে সামরিক বাহিনীর সমর্থক অ্যাকাউন্টগুলো দাবি করেছে যে এই সপ্তাহের হামলাগুলো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে করা হয়নি। আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিহতদের বেশিরভাগই হাসপাতালের রোগী ছিলেন। তিনি বলেন, এটি বেসামরিক স্থান লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ ঘৃণ্য হামলা। সামরিক বাহিনীকে বেসামরিক নাগরিকদের উপর বোমা বর্ষণের জন্য দায় নিতে হবে।
স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রিয়া

স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রিয়া অস্ট্রিয়ার আইনপ্রণেতারা স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের জন্য হিজাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি আইন অনুমোদন করতে পারে। আজ একটি আইন অনুমোদন করতে পারেন অস্ট্রিয়ার আইনপ্রণেতারা। এই আইন বৈষম্যমূলক ও সামাজিক বিভাজন বাড়াতে পারে বলে মানবাধিকার সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তবে, রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারের দাবি, বাড়তে থাকা অভিবাসী বিরোধী চাপের প্রেক্ষাপটে, এই নিষেধাজ্ঞা মেয়েদের ‘অত্যাচার থেকে রক্ষা’ করার উদ্দেশ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধের একটি আইন অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক বলে বাতিল করেছিল। তবে সরকার বলছে, এবার তাদের প্রস্তাবিত আইনের সাংবিধানিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের নিচের মেয়েদের ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথা ঢেকে রাখা হিজাব, বোরকা পরে বা এ ধরনের যে কোনো পর্দা করে স্কুলে আসা নিষিদ্ধ করা হবে। এই বিল উপস্থাপনের সময় ইন্টিগ্রেশন মন্ত্রী ক্লাউডিয়া প্লাকোল্ম বলেন, ‘যখন একটি মেয়েকে বলা হয় সে পুরুষের দৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে শরীর ঢেকে রাখবে, তখন এটি কোনো ধর্মীয় আচার নয়, বরং নিপীড়ন।’ এই আইন পাস হলে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের নতুন নিয়ম ব্যাখ্যা করার একটি ‘পরিচিতি পর্ব’ চালু করা হবে, যেখানে নিয়ম ভাঙলে কোন শাস্তি দেওয়া হবে না। তবে বারবার এই নিয়মকে অমান্য করলে, অভিভাবকদের ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হবে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রিয়া প্রস্তাবিত আইনকে ‘মুসলিম মেয়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বৈষম্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি ‘ইসলামবিরোধী বর্ণবাদের প্রকাশ’। এই সংগঠনের মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা মুসলিমদের বিরুদ্ধে পূর্বধারণা ও কুসংস্কারকে আরও উসকে দিতে পারে। অস্ট্রিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের সরকারি প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা আইজিজিওই আইনটির বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা ‘সামাজিক সংহতিকে বিপন্ন করবে’ এবং বাচ্চাদের ক্ষমতায়নের বদলে ‘তাদেরকে কলঙ্কিত ও বিচ্ছিন্ন করবে’। নারী অধিকার সংগঠন ‘আমাজোনে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাঞ্জেলিকা অ্যাটসিঙ্গার বলেন, হিজাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ মেয়েদের কাছে ভুল বার্তা পাঠাবে, যে অন্যরা তাদের শরীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সেটি গ্রহণযোগ্য। অ্যান্টি-রেসিজম সংগঠন ‘এসওএস মিটমেন্স’-এর জারি করা বিবৃতিতেও এই আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
সৌদিজুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা

সৌদিজুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা সৌদি আরবের অধিকাংশ অঞ্চলে প্রবল ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর (এনসিএম)। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মক্কা, মদিনা, কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হাইল, তাবুক, আল জৌফ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় চলছে মৃদু থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত। অনেক অঞ্চলে মাঝারি বর্ষণের সঙ্গে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। মরুপ্রধান সৌদিতে এ ধরনের ঝড়-বৃষ্টি সাধারণত বিরল। তবে গত দুই-তিন বছরে বেশ কয়েকবার ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের ঘটনা ঘটেছে। এনসিএম জানায়, লোহিত সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। লোহিত সাগর উপকূলীয় দিক থেকে ১৮ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ো হাওয়া বইছে, যা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা। পারস্য উপসাগরেও ঝড়ো আবহাওয়া শুরু হয়েছে। সেখান থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে ১০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। এনসিএম দেশটির নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া, উপত্যকা বা নিচু এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলা এবং সব ধরনের সরকারি সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।