চিনিতে শুল্ক কমালো এনবিআর

চিনিতে শুল্ক কমালো এনবিআর অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনির ওপর বিদ্যমান রেগুলেটরি ডিউটি ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আজ এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে শিশু খাদ্যসহ কতিপয় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, রেগুলেটরি ডিউটি ১৫ শতাংশ হ্রাসের মাধ্যমে আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি অপরিশোধিত চিনির ওপর শুল্ক কর ১১.১৮ টাকা এবং পরিশোধিত চিনির ওপর শুল্ক কর ১৪.২৬ টাকা কমানো হয়েছে। এতে চিনির কেজি প্রতি মূল্য কমপক্ষে শুল্ক হ্রাসের সমপরিমাণ কমে আসবে বলে মনে করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এই শুল্ক কর হ্রাসকরণের ফলে অবৈধ পথে চিনির চোরাচালান নিরুৎসাহিত হবে এবং বৈধ উপায়ে আমদানি বাড়বে বিধায় শুল্ক কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। বাজারে চিনির দাম স্বাভাবিক ও সাশ্রয়ী মূল্য ধরে রাখতে গত ৫ অক্টোবর অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে শুল্ক কমানোর সুপারিশ করে বাংলাদেশ ট্যারিফ অ্যান্ড ট্রেড কমিশন। চিঠিতে আপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনি আমদানিতে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) ৩০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার সুপারিশ করে প্রতিষ্ঠানটি। যেখানে ট্যারিফ কমিশন শুল্ক কমানোর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তির উপস্থাপন করা হয়।

মারা গেছেন ‘হ্যারি পটার’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ‘প্রফেসর মিনার্ভা ম্যাকগোনাগল’

মারা গেছেন ‘হ্যারি পটার’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ‘প্রফেসর মিনার্ভা ম্যাকগোনাগল’ হলিউডের জনপ্রিয় শিশুতোষ সিনেমা ‘হ্যারি পটার’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ‘প্রফেসর মিনার্ভা ম্যাকগোনাগল’ চরিত্রে অভিনয় করা খ্যাতনামা ব্রিটিশ অভিনেত্রী ম্যাগি স্মিথ মারা গেছেন। শুক্রবার লন্ডনের একটি হাসপাতালে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ অভিনেত্রী। হ্যারি পটার হচ্ছে ব্রিটিশ লেখিকা জে. কে. রাউলিং রচিত সাত খন্ডের কাল্পনিক উপন্যাসের একটি সিরিজ। এই সিরিজের উপন্যাসগুলোর মূল বিষয় জাদুকরদের দুনিয়া নিয়ে। এর কাহিনী আবর্তিত হয়েছে হ্যারি পটার নামে এক কিশোর জাদুকরকে ঘিরে যে তার দুই প্রিয় বন্ধু রন উইজলি ও হারমায়নি গ্রেঞ্জারকে সাথে নিয়ে নানা অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নেয়। গল্পের বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্র্যাফট অ্যান্ড উইজার্ডরিতে। মূল চরিত্র হ্যারি পটারের বড় হওয়ার পথে যেসব ঘটনা ঘটে, তার শিক্ষাজীবন, সম্পর্ক ও অ্যাডভেঞ্চার নিয়েই কাহিনী রচিত হয়েছে। ৭টি বইয়ের কাহিনী নিয়ে তৈরি হয় আটটি সফল চলচ্চিত্র। এই হ্যারি পটার সিরিজে ‘প্রফেসর মিনার্ভা ম্যাকগোনাগল’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাগি স্মিথ। এ চরিত্রের কারণে জন্য বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি প্রফেসর ম্যাকগোনাগেল নামেই অধিক পরিচিত। স্মিথের ক্যারিয়ারের শুরু ১৯৫০-এর দশকে। তিনি ট্রেবল অ্যাওয়ার্ড জয়ী (অস্কার, এমি ও টনি অ্যাওয়ার্ড) অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে তার ঝুলিতে উঠেছে দুটি অস্কার, চারটি এমি অ্যাওয়ার্ড ও টনি অ্যাওয়ার্ড। ১৯৬৫ সালে লরেন্স অলিভিয়ারের ‌‘ওথেলো’ সিনেমায় ডেসডিমোনা চরিত্রে অভিনয় করে প্রথমবারের মতো তিনি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। ১৯৬৯ সালে ‘দ্য প্রাইম অব মিস জিন ব্রডি’-তে এডিনবার্গ স্কুলশিক্ষিকার চরিত্রে অভিনয় তাকে অস্কার এনে দেয়। দ্বিতীয় অস্কার জেতেন ১৯৭৮ সালে ‘ক্যালিফোর্নিয়া সুইট’-এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। ১৯৯০ সালে রানি এলিজাবেথ তাকে সম্মানসূচক ‘ডেম’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ডেম উপাধি মূলত নারীদের দেওয়া হয়। এটি যুক্তরাজ্যের রাজার দেওয়া অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মানজনক ‘নাইট’ উপাধির সমতুল্য।

পৃথিবীর আকাশে ‘দ্বিতীয় চাঁদ’ দেখা যাবে ২৯ সেপ্টেম্বর

পৃথিবীর আকাশে ‘দ্বিতীয় চাঁদ’ দেখা যাবে ২৯ সেপ্টেম্বর পৃথিবীতে নতুন আরেকটি চাঁদের দেখা মিলবে। তবে এটি ঠিক চাঁদ না, আসলে একটা গ্রহাণু। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত নতুন এই চাঁদকে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এর নাম ‘২০২৪ পিটি৫’। তবে একে খালি চোখে নয়, কমপক্ষে ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে দেখা যাবে। পৃথিবীর আকাশে দ্বিতীয় চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্লোস মার্কোস বলেন, অর্জুন গ্রহাণু বেল্টে থাকা গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে সর্বনিম্ন ২৮ লাখ মাইল দূরত্বে আসতে পারে। এ অবস্থায় ভূকেন্দ্রিক শক্তি দুর্বল হয়ে গ্রহাণুটি পৃথিবীর একটি অস্থায়ী চাঁদে পরিণত হতে পারে। যদিও গ্রহাণুটি পৃথিবীর চারপাশে একটি সম্পূর্ণ কক্ষপথ অনুসরণ করবে না। অনেকটা জানালায় উঁকি দেওয়ার মতো করে চলে যাবে গ্রহাণুটি। নতুন এই ক্ষুদ্র চাঁদকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মিনি-মুন ইভেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, ‘স্বল্প সময়ের জন্য এ ধরনের গ্রহাণু আমাদের পৃথিবীকে আবর্তন করতে পারে। যেকোনো গ্রহাণুকে মিনি-মুন হওয়ার জন্য পৃথিবীর প্রায় ২৮ লাখ মাইলের কাছাকাছি আসতে হবে। এ অবস্থায় বস্তুটি অস্থায়ীভাবে পৃথিবীর আকর্ষণে আবদ্ধ হয়ে যায়। চলতি বছরের ৭ আগস্ট গ্রহাণুটি আবিষ্কার করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত এটি পৃথিবীর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময়ে, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা প্রভাবিত হবে। কক্ষপথে ঢুকে প্রদক্ষিণও করবে দুই মাস ধরে। অর্থাৎ পৃথিবীর দুই নম্বর উপগ্রহ সাময়িকভাবে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে। ২৫ নভেম্বরের পরে, এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ থেকে বেরিয়ে আসবে এবং তারপরে আবার নিজেই কক্ষপথে চলে যাবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই মাসের জন্য এই গ্রহাণু যে শুধু পৃথিবীর উপগ্রহ হয়েই ঘুরবে তা কিন্তু নয়, বিজ্ঞানীদের গবেষণায় বিশেষ সাহায্য করবে এটি। এর দ্বারা তৈরি চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে অনেক নতুন নতুন তথ্যও জানতে পারা যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। তথ্যসূত্র-স্পেস ডটকম

আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হলো আইনস্টাইনের চিঠি

আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হলো আইনস্টাইনের চিঠি পরমাণু অস্ত্র নিয়ে আলবার্ট আইনস্টাইনের লেখা একটি ঐতিহাসিক চিঠি নিলামে বিক্রি হয়েছে। মাত্র দুই পাতার এই চিঠি বিক্রি হয়েছে ৩৯ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি দামে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার সমান। ঐতিহাসিক এই চিঠিটি নিলামে তুলে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টি। বিজনেস ইনসাইডার অনুসারে, আইনস্টাইনের এই চিঠি মাইক্রোসফটের প্রয়াত সহ-প্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেনের মালিকানায় ছিল। চিঠিটি এখন নিউইয়র্কে রুজভেল্ট লাইব্রেরির সংগ্রহশালার অংশ হয়ে গেল। জানা গেছে, ১৯৩৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের কাছে চিঠিটি লিখেছিলেন তিনি। জার্মানিকে নিয়ে আশঙ্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাতে নিজেদের পারমাণবিক বোমা তৈরির কর্মসূচি হাতে নেয়, তার অনুরোধ জানান ওই চিঠিতে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টি আইনস্টাইনের চিঠিটি নিলামে তুলেছিল। চিঠিতে আইস্টাইন মূলত প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে জার্মানি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন। তার এ চিঠিই পারমাণবিক বোমা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিঠিতে আইনস্টাইন পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন ইউরেনিয়াম শক্তির একটি নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন, এই শক্তিকে অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যাডলফ হিটলারের উত্থানের কারণে সহকর্মী পদার্থবিদ লিও সিলার্ডসহ আইনস্টাইন ইউরোপ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। আইনস্টাইনের চিঠিকে গুরুত্ব দিয়ে মার্কিন সরকার পারমাণবিক গবেষণাকে ত্বরান্বিত করে, যার ফলে ম্যানহাটন প্রকল্প এবং পরমাণু বোমার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে। ক্রিস্টির জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ পিটার ক্লারনেট এ চিঠিকে ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী চিঠি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও এ চিঠির জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে গিয়েছিল; তবে পরে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন আইনস্টাইন। তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়নে তার সম্পৃক্ততাকে বড় ভুল বলে অভিহিত করেছেন। ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার পর আইনস্টাইন এই অস্ত্রের কারণে সৃষ্ট অপরিমেয় মানবিক যন্ত্রণার স্বীকৃতি দিয়ে বিলাপ করেছিলেন।

অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে শরীরে যা ঘটে

অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে শরীরে যা ঘটে খাবার খেতে বসলে কমবেশি সবাই ঝাল খাবার খেতে পছন্দ করেন। তাই বলে খাবারের সঙ্গে মুঠো মুঠো মরিচ খাওয়া মোটেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। অতিরিক্ত মসলাদার খাবার খেলে শরীরে দেখা দেয় একাধিক সমস্যা। গুঁড়া মরিচ কিংবা কাঁচা মরিচও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। খুব বেশি পরিমাণে ঝাল খাবার খেলে শরীরে যা ঘটে চলুন জেনে নেওয়া যাক- > অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে বদহজমের সমস্যা দেখা দিতে বাধ্য। > তীব্র অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগবেন আপনি। > পেটে ব্যথা হতে পারে খুব ঝাল দেওয়া খাবার খেলে। > অতিরিক্ত ঝাল খাবার খাওয়ার অভ্যাসে পেটে আলসার হতে পারে। > আবার খুব বেশি ঝাল খাবার খেলে মাথা যন্ত্রণার সমস্যাও শুরু হয়ে যায়। > এমনকি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। আরো যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে: দীর্ঘদিন ধরে ঝাল খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে অবধারিতভাবে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেবে আপনার। সাধারণত মাংসেই ঝাল বেশি খাওয়া হয়।একই সঙ্গে অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে। এছাড়া পেটের সমস্যাও আপনার নিত্যসঙ্গী হয়ে যাবে। মাঝে মধ্যেই ডায়েরিয়ার মতো কষ্টদায়ক অসুখ যন্ত্রণা দেবে আপনাকে। যারা এরই মধ্যে পেটের সমস্যা, অ্যাসিডিটির সমস্যা কিংবা গ্যাসের সমস্যা আছে তারা একেবারেই ঝাল খাবার এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত ঝাল দেওয়া খাবার তো খাবেনই না। গুঁড়া মরিচ একেবারেই বাদ দিন, প্রয়োজনে কাঁচা মরিচ খেতে পারেন। তবে সেটাও কম পরিমাণে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে কেউ কেউ প্রচণ্ড ঘামতে শুরু করেন। এই লক্ষণও অস্বাস্থ্যকর। নিজেকে কষ্ট দিয়ে ঝাল স্বাদের খাবার খাওয়া কোনো অর্থ নেই। তাই অতিরিক্ত ঝাল খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলুন।

হাড় মজবুত ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে “নুনে শাক”

হাড় মজবুত ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে “নুনে শাক” গ্রামবাংলার নানা ধরনের শাক পাওয়া যায়। তেমনি একটি নুনিয়া বা নুনে শাক অত্যন্ত উপকারী খনিজ লবণ সমৃদ্ধ এটি। আদি ঢাকাইয়ারা নুনিয়া শাক ও গরুর মাংস দিয়ে রান্না করে বিচিত্রধর্মী ও অপূর্ব স্বাদের নুইন্না গোশত। যা পুরান ঢাকার একটি সিগনেচার ডিশ। নুনে শাক একটি বর্ষজীবী, রসাল, গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Portulaca oleracea। এটি Portulacaceae পরিবারের উদ্ভিদ। অন্যান্য স্থানীয় নাম বুল খুরিয়া শাক, নুনে শাক, নুন খুড়িয়া, নুইন্না শাক, নূনতা শাক, চিড়া শাক, নুনিয়া শাক। নুনে শাক একটি অনাবাদি উদ্ভিদ। এটি জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে আখের ক্ষেত এবং অন্যান্য সবজি ক্ষেতে বেশি পরিমাণে জন্মে। বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে বছরের যেকোনো সময় ফুল ফোটে। পাতা গুচ্ছের মাঝখানে একটি করে ফুল ফুটে। ফল পাকার পরে ফেটে বীজ ঝরে পড়ে। লম্বা শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে এবং খরার সময় টিকে থাকে। নুনে শাকের পাতা তেলতেলে, রসালো এবং গাঢ় সবুজ রঙের। এই শাক অন্যান্য শাকের সাথে মিশিয়ে ভাজি করা হয়। স্বাদ একটু লোনতা এবং টক ধরনের। পুষ্টিগুণ : এতে খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনিসিয়াম, পটাশিয়াম এবং আয়রন। এ পাতায় রয়েছে কার্বোঅক্সালিক এসিড, অক্সালিক এসিড, সোডিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, থাইয়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যারোটিনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান। এ শাকে যথেষ্ট পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আছে। প্রতিগ্রামে ০.০১মিলিগ্রাম ইকোচ্যাপেনটানিক এসিডও রয়েছে। নুনে শাকের ঔষধি গুণ ১. নুনে শাকে রয়েছে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনিসিয়াম যা শরীরের হাড়কে মজবুত করে। ২. নুনে শাকে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ৩. চোখ উঠলে চোখে ময়লা জমে চোখ খোঁচা খোঁচা ভাব হয়। এক্ষেত্রে নুনে শাকের রস দিলে সমস্যা দূর হয়ে যাবে। ৪. নুনে শাকের রস কিছুক্ষণ মুখে ধরে রেখে ফেলে দিবেন এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করলে তোতলামিও ভালো হবে। ৫. বিষাক্ত কোনো কিছু লেগে গা চুলকালে নুনে শাক বেটে উষ্ণ করে প্রলেপ দিলে জ্বালা ও চুলকানি ভালো হয়ে যায়। ৬. নুনে শাক থেঁতো করে এই রস হালকা গরম করে সেবন করলে বাচ্চাদের কাশি ভালো হয়। ৭. নুনে শাক থেঁতো করে এই রস হালকা গরম করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সকাল-বিকেল সেবন করলে আমাশয় ভালো হয়। ৮. এই শাক যকৃৎ, স্পিলিন, কিডনি, ডায়াবেটিস, এ্যাজমা ও হৃদ্‌রোগে উপকারী।

উষনি শাক রীতিমতো মহৌষধ

উষনি শাক রীতিমতো মহৌষধ গ্রামবাংলার আনাচে কানাচে নানা ধরনের শাকসবজি রয়েছে। এসব শাকসবজি আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। অবহেলায় গজিয়ে ওঠা বেশ কিছু গাছ রীতিমতো মহৌষধ। উষনি শাক তেমনি একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ। এটি হচ্ছে গুল্ম প্রজাতির Asteraceae পরিবারের একটি উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Spilanthes acmella L.। বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকায় এই কুড়িয়ে পাওয়া শাকটির তেমন কোনো একক নাম নেই যে নামে সবাই একে চিনতে পারে। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয়দের ভেতর এই শাকটি উষনি শাক নামে পরিচিত। ময়মনসিংহের হাজং আদিবাসীরা এই শাকটিকে কালানাগুনি, উখলিপাতা নামে ডাকেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমাদের ভেতর অতি প্রিয় এই শাক ওজোন শাক নামে পরিচিত। মৌলভীবাজারের ওঁরাও আদিবাসীদের ভেতর শাকটি দুরুখ বাকু নামে পরিচিত। উষনি শাক বাড়ির আশেপাশের পতিত জায়গায়, বাঁশ ঝাড়ের আশেপাশে, স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায়, কলার বাগানের ঝোপ ঝাড়ে পাওয়া যায়। উষনি শাক কিছুটা ঝাঁঝালো স্বাদের হয়। বর্ষাকালে গাছের আকার বেশ বড়সড় হয় এবং পাতায় ঝাঁঝালো গন্ধ ও স্বাদ কম থাকে। প্রায় সারা বছরই দেখা যায়। পাহাড়ি এলাকায় জুমে ফসল বোনার পর পরই কচি চারা গুলো গজিয়ে উঠে। কচি শাক খেতে দারুণ মজা। এই শাক বাংলাদেশের সর্বত্র জন্মায়। এই শাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম আছে। এছাড়াও এতে বিভিন্ন ফ্যাটি এসিডের উপস্থিতির পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম প্রভৃতি খনিজ পুষ্টি উপাদান সমূহ থাকে। তাই উষনি শাকের রয়েছে নানান ঔষধি গুণাগুণ। ঔষধি গুণাগুণ- ১. শরীরে বিষ ব্যথা হলে উষনি শাক খেলে উপকার পাওয়া যায়। ২. উষনি শাক আঁতুড় ঘরে সন্তান প্রসবের পরে মাকে খাওয়ালে শরীরের ব্যথা কমে যায়। ৩. দাঁত ব্যথা হলে উষনি শাকের ফুলের রস ব্যবহার করলে ব্যথা দ্রুত ভালো হয়। ৪. উষনি শাক মূত্রবর্ধক, তাই শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল ও বিষাক্ত দ্রব্যাদি দূর করতে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। ৫. উষনি শাকে শক্তিশালী প্রদাহবিরোধী (anti-inflammatory) ক্ষমতা বাত ও টিস্যুর প্রদাহ কমাতে দারুণ কার্যকরী। ৬. উষনি শাক খেলে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ৭. নিয়মিত উষনি শাক খেলে ডায়াবেটিস, ও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি (Chronic Fatigue) সেরে যায়। ৮. এটি অ্যাজমা, অ্যালার্জি এবং ব্যথা সারায়। সংক্রমণ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক ধ্বংস করে ফ্লু, যক্ষ্মা,দাদ এসব থেকে রক্ষা কর। ৯. এই শাকে অনেক ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড আছে যা বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার রোগ, স্ট্রোক এবং এমনকি ক্যান্সার প্রতিরোধী। ১০. এই উদ্ভিদ তার অ্যান্টিএজিং উপাদানের জন্য প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১ হাজার ৫৮১ জন নিহত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১ হাজার ৫৮১ জন নিহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের তালিকা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক উপ-কমিটি। এই তালিকায় সবশেষ তথ্যমতে সারা দেশে মোট ১৫৮১ জন নিহতের খবর প্রকাশ করা হয়েছে। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে গঠিত স্বাস্থ্যবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ কমিটি এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির যৌথ প্রচেষ্টায় সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ব্যক্তিদের এই প্রাথমিক তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় মোট ১ হাজার ৫৮১ জন ব্যক্তির তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, তালিকা প্রণয়নের কাজে আমাদের সহায়তা প্রদান করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি, রেড জুলাইসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি সংস্থা। পাশাপাশি, বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ের ব্যক্তিরাও তথ্য প্রদান করে তাদের সহযোগিতা করেছেন, যা এই তালিকা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রাথমিক তালিকার এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির কাছে তা পাঠানো হয়েছে। এই কমিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চূড়ান্ত তালিকা প্রদান করা হবে বলেও জানিয়েছে এই উপ-কমিটি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি ২৪ ঘণ্টায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত কয়েকদিন থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো হালকা আবার কখনো ভারী। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা খানিকটা বিঘিœত হলেও জনজীবনে নেমে এসেছে স্বস্তি। লোডশেডিং হলেও শীতল আবহাওয়ায় মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, গত বুধবার ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় গড় বৃষ্টি হয়েছে ৪০ মিলিমিটার। এর মধ্যে সদরে বৃষ্টি হয়েছে ৫০ মিলিমিটার, শিবগঞ্জে ৫৫ মিলিমিটার, গোমস্তাপুরে ২৫ মিলিমিটার, নাচোলে ৫০ মিলিমিটার ও ভোলাহাট উপজেলায় ২০ মিলিমিটার। এদিকে বৃষ্টিার কারণে রাস্তায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা চলাচল কম করেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে। অনেককে বৃষ্টির পানিতে ভিজেই ঘরে ফিরতে দেখা গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু চাঁপাইনবাবগঞ্জে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে। আজ সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ মেলার আয়োজন করেছে বন বিভাগ। মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহাবুব-উল-ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- সামাজিক বন বিভাগ রাজশাহীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আজগর আলী। সূচনা বক্তব্য দেন- সহকারী বন সংরক্ষক মো. মেহেদীজ্জামান। বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা বিষয়ে বক্তব্য দেন- মনামিনা কৃষি খামারের স্বত্বাধিকারী মো. মতিউর রহমান মতি। সপ্তাহব্যাপীর বৃক্ষমেলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ২৫টি স্টল অংশ নিয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছেÑ ‘বৃক্ষ দিয়ে সাজায় দেশ, সমৃদ্ধ করি বাংলাদেশ’।