জানুয়ারির মধ্যে আবাসন চুক্তি না হলে হজে যাওয়া অনিশ্চিত

জানুয়ারির মধ্যে আবাসন চুক্তি না হলে হজে যাওয়া অনিশ্চিত চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসনের বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীরা হজ পালন করতে পারবেন না, এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ২৪ জানুয়ারি বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত সব লিড ও সমন্বয়কারী এজেন্সির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এখনো অনেক লিড এজেন্সি তাদের আওতাধীন হজযাত্রীদের আবাসন চুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি এই দুই মাধ্যমে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী ৩০টি লিড এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তাদের একটি বড় অংশের জন্য মক্কা-মদিনায় আবাসন নিশ্চিত করা হয়নি। চিঠিতে আরো বলা হয়, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। গত ২৩ জানুয়ারি জেদ্দায় অনুষ্ঠিত জুম সভায় সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য আবাসন চুক্তির অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব হজযাত্রীর আবাসন চুক্তি সম্পন্ন হবে না, তারা হজ পালনের সুযোগ হারাতে পারেন বলেও তিনি সতর্ক করেন। তবে চিঠিতে জানানো হয়েছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় সব হজযাত্রীর জন্য মক্কা ও মদিনায় আবাসনের চুক্তি ইতোমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা হজযাত্রীদের জন্য আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে আবাসন চুক্তি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোকে তাদের সংশ্লিষ্ট লিড এজেন্সিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবাসন চুক্তি শেষ না হলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির হজ কার্যক্রম পরিচালনায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৫ হাজার দেশি ও ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৫ হাজার দেশি ও ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন। এছাড়া, নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন প্রায় ৫০০ জন। আজ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক এ তথ্য জানান। এর আগে রবিবার ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি মিশনের কূটনীতিকদের ব্রিফ করে নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশন। ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ১ হাজার ৯৯৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৬ জন। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন সদস্য দায়িত্বে থাকবেন বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। পাশাপাশি প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকবেন ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৪ জন। এছাড়া, পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

নির্বাচন উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রবিবার ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) সারাদেশে নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। এছাড়া, নির্বাচন উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলে ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ ছুটি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর পরদিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা চার দিনের ছুটি ভোগ করবেন। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সেনাসদরে প্রধান উপদেষ্টার মতবিনিময়

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সেনাসদরে প্রধান উপদেষ্টার মতবিনিময় গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। মতবিনিময় সভার শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা দেশের বিভিন্ন প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় আসন্ন নির্বাচনকে সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক, শঙ্কামুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। মতবিনিময় সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়েদের টুর্নামেন্টে রেকর্ড প্রাইজমানি বরাদ্দ করল ফিফা

মেয়েদের টুর্নামেন্টে রেকর্ড প্রাইজমানি বরাদ্দ করল ফিফা নারী ফুটবলের ইতিহাসে নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ প্রাইজমানি বরাদ্দ দিয়েছে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আর্সেনালের স্টেডিয়ামে পরবর্তী সপ্তাহে শুরু হতে যাচ্ছে ওমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স কাপ। পুরো টুর্নামেন্টটির জন্য ৪৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা (৩.৯ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২৮ সালে লন্ডনে হতে যাওয়া নারী ক্লাব বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক মঞ্চ হিসেবেই আয়োজিত হতে যাচ্ছে ওমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স কাপ। গ্তকাল ফিফা জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে আর্সেনালের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম ওমেন্স চ্যাম্পিয়নস কাপে চ্যাম্পিয়ন ক্লাবকে ২৩ লাখ মার্কিন ডলার (২৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা) প্রাইজমানি দেওয়া হবে। সবমিলিয়ে ৩৯ লাখ ডলার ছয়টি মহাদেশীয় ক্লাব চ্যাম্পিয়নের মাঝে বণ্টন করা হবে। মেয়েদের নির্দিষ্ট কোনো টুর্নামেন্টে এটি সর্বোচ্চ বরাদ্দ। আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল মুখোমুখি হবে মরক্কোর ক্লাব এএসএফএআরের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের গোথাম লড়বে ব্রাজিলের করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে। এই দুটি সেমিফাইনাল ম্যাচই বুধবার ব্যাক-টু-ব্যাক অনুষ্ঠিত হবে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে। পরবর্তীতে ১ ফেব্রুয়ারি আর্সেনালের স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। একই ভেন্যুতে তার আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচও হবে। শিরোপাজয়ী মেয়েদের দল ২৩ লাখ ডলার এবং রানার্সআপ পাবে ১০ লাখ ডলার (১২ কোটি ১৪ লাখ টাকা)। এ ছাড়া সেমিফাইনালে পরাজিত দুই দল প্রত্যেকে পাবে ২ লাখ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা) করে। আগের রাউন্ডে বিদায় নেওয়া দুই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন ওশেনিয়ার অকল্যান্ড ইউনাইটেড এবং এশিয়ার প্রতিনিধি উহান চেগু জিয়াংদা প্রত্যেকেই ১ লাখ ডলার (১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি) করে পাবে। মেয়েদের লিগে রেকর্ড বরাদ্দ প্রদানের বিষয়ে ফিফার মহাসচিব মাত্তিয়াস গ্রাফস্ট্রম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘এই প্রাইজমানি নারী ক্লাব ফুটবল এবং এর ধারাবাহিক উত্থানকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি খেলোয়াড়, ক্লাব ও প্রতিযোগিতার প্রতি বিশ্বাসের একটি স্পষ্ট বার্তা।’ এর আগে সর্বশেষ মৌসুমে উয়েফা নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল পেয়েছিল ১৫ লাখ ইউরোর বেশি (প্রায় ১৮ লাখ ডলার) প্রাইজমানি। অন্যদিকে, ছেলেদের সর্বশেষ ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে ৩২টি দলের মধ্যে মোট ১ বিলিয়ন ডলার প্রাইজমানি বিতরণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টটি সৌদি আরবের অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছিল, যাতে প্রভাবশালী ইউরোপীয় ক্লাবগুলো অংশ নিতে সম্মত হয় এবং প্রত্যাশিত প্রাইজমানি নিশ্চিত করা যায়।

যে গ্রামে দোকান চলে দোকানদার ছাড়াই !

যে গ্রামে দোকান চলে দোকানদার ছাড়াই ! নাগাল্যান্ডের পাহাড়ঘেরা খোনোমা গ্রাম বিশেষভাবে নজর কাড়ে মানুষের জীবনধারা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের কারণে„। এখানে এমন দোকান আছে, যেখানে কোনো দোকানদার নেই, তবু দিনের পর দিন ঠিকঠাক চলে। খোনোমা কোনো পরিচিত পর্যটন স্পট নয়। শহরের কোলাহল বা আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রের ঝলমলে পরিবেশ নেই। তবে যারা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের উদাহরণ দেখতে চান, তাদের জন্য খোনোমা ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা দিতে পারে। গ্রামটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং শান্ত। এখানে চুরি বা অসৎ আচরণের ভয় নেই। ১৯৯৮ সালে খোনোমা নেচার কনজারভেশন অ্যান্ড ট্র্যাগোপান স্যাংচুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর এটি ভারতের প্রথম সবুজ গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত এই গ্রামে প্রধানত আংগামি নাগা জনগোষ্ঠীর বসবাস। শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর মানুষ বন সংরক্ষণ, কৃষিকাজ ও পশুপালনে বেশি মনোযোগ দেয়। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, গ্রামে প্রায় এক হাজার ৯০০ জন বাস করেন। খোনোমার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো দোকান ব্যবস্থা। এখানে অনেক দোকানেই কোনো দোকানদার নেই। ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য নিয়ে নির্ধারিত টাকা রেখে যায়। গ্রামবাসীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এতটাই দৃঢ় যে কেউ প্রতারণার কথা ভাবতেই পারে না। অনেক বাড়িতেই তালা থাকে না, এবং কমিউনিটি লাইব্রেরি থেকে যে কেউ বই নিয়ে পড়তে পারে। পর্যটকদের জন্য খোনোমা দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। পাহাড়ি প্রকৃতি, সবুজ বন এবং নিরিবিলি পরিবেশে হাঁটা বা ট্রেকিং করা যায়। খোনোমা ফোর্ট ঐতিহাসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। উনিশ শতকে আংগামি নাগারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। খোনোমা গ্রাম দেখিয়ে দেয়, বিশ্বাস, সততা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকলে সমাজকে কত সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়। দোকানদার ছাড়াই দোকান, পরিবেশ সংরক্ষণ বা কমিউনিটি উদ্যোগ—প্রতিটি ক্ষেত্রে খোনোমা ব্যতিক্রমী উদাহরণ। ব্যস্ত আধুনিক জীবনে যখন মানবিক মূল্যবোধ ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে, তখন খোনোমা নতুন করে ভাবতে শেখায় যে উন্নয়ন মানে কেবল কংক্রিটের শহর নয়।

২০৩৯ সালে এক বছরে ২টি হজ্জ্ব,  ৩ টি ঈদ!

২০৩৯ সালে এক বছরে ২টি হজ্জ্ব,  ৩ টি ঈদ! একই ক্যালেন্ডার বর্ষে তিনটি ঈদ এবং দুইবার রমজান মাস এমনই এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনা অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে মুসলিম উম্মাহ একই বছরে তিনটি ঈদ উদযাপন করবে। সৌদি আরবের বিশিষ্ট জলবায়ু ও জ্যোতির্বিদ্যা বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল্লাহ আল মিসনাদ জানিয়েছেন, সূর্যকেন্দ্রিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় চন্দ্রকেন্দ্রিক হিজরি ক্যালেন্ডার প্রতি বছর ১০ থেকে ১১ দিন কম হওয়ায় এই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের শুরুর দিকে অর্থাৎ ৬ জানুয়ারি পালিত হবে ঈদুল আজহা। এরপর হিজরি ক্যালেন্ডার তার চক্র পূর্ণ করে বছরের শেষে আবারও ফিরে আসবে। ফলে একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর আবারও ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। অর্থাৎ ২০৩৯ সালে মক্কায় পৃথক দুটি হজ মৌসুমের দেখা মিলবে। আর এই দুই কোরবানির ঈদের মাঝখানে ১৯ অক্টোবর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ফলে পুরো বছরে মুসলিমরা তিনটি ঈদের আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। এর আগে ২০৩০ সালে এক বছরে দুইবার পবিত্র রমজান মাস পালনের বিরল অভিজ্ঞতাও হবে মুসলিমদের। ২০৩০ সালের জানুয়ারি মাসে একবার রমজান শুরু হবে এবং বছরের শেষে ডিসেম্বর মাসে আবারও রমজানের দেখা মিলবে। এর আগে ১৯৯৭ সালে শেষবারের মতো এমন ঘটনা ঘটেছিল। মূলত চাঁদের চক্র ও সূর্যের চক্রের মধ্যে সময়ের পার্থক্যের কারণেই প্রতি ৩৩ বছর পরপর এই চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। হিজরি সাল সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনে শেষ হলেও গ্রেগরিয়ান বছর ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিনের হওয়ায় প্রতি বছরই ইসলামের ধর্মীয় উৎসবগুলো ১০-১১ দিন করে এগিয়ে আসে, যা দীর্ঘ মেয়াদে একই খ্রিষ্টীয় বছরে একাধিক ঈদ বা রমজান মাসের সমাপতন ঘটায়।

‘ব্রেডক্রাম্বিং’, ‘বেঞ্চিং’ দিয়ে—জেন জি জেনারেশন ঠিক কী বোঝাতে চায়

‘ব্রেডক্রাম্বিং’, ‘বেঞ্চিং’ দিয়ে—জেন জি জেনারেশন ঠিক কী বোঝাতে চায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বেঞ্চিং’ নিয়ে একাধিক মিম চোখে পড়েছে? ‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘বেঞ্চিং’, ‘ব্রেডক্রাম্বিং’-এর মতো শব্দগুলোও নিশ্চয় শুনে ফেলেছেন। শব্দগুলো শুনতে নতুন, আবার গুগল করলে যে মানে পাওয়া যায়, তাতে বিষয়টা আরও একটু জটিল লাগে। এমন অভিজ্ঞতা যদি হয়ে থাকে, তাহলে ধরে নেওয়াই যায় আপনি মিলেনিয়াল। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে যাদের জন্ম, তারাই মিলেনিয়াল বা জেন ওয়াই। প্রেম-ভালবাসার ক্ষেত্রে এত শব্দ, এত লেবেল, এত জটিলতার ভিড়ে তাদের পড়তে হয়নি বললেই চলে। কিন্তু ঠিক এর পরের প্রজন্ম, ইন্টারনেট সংস্কৃতিতে যাদের বলা হয় জেন জেড বা জেন জি জেনারেশন। এই প্রজন্ম এসব শব্দ নিয়েই সম্পর্কের হিসেব কষে। ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যাদের জন্ম এই প্রজন্ম জেন জি। এরা কিন্তু বড় হয়েছে মিলেনিয়ালদের সঙ্গে। ফলে নয়ের দশকের ‘ওল্ড স্কুল’ প্রেম আর আজকের ডেটিং অ্যাপের ‘লেফট–রাইট সোয়াইপ’—দুইয়ের সঙ্গেই তাদের পরিচয় আছে। কিন্তু মোবাইল, ইন্টারনেট আর ডেটিং অ্যাপের দৌলতে প্রেমের ভাষা যে গতিতে বদলাচ্ছে, তাতে ‘লেট নাইন্টিজ কিড’রা কতটা আপডেট থাকতে পারছে? আর কতটাই বা নিজেদের পুরনো দিনের ‘ওল্ড স্কুল টাইপ’ বলে ভাবতে পারছে? নতুন শব্দের জন্ম কোথা থেকে? সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘বেঞ্চিং’, ‘ব্রেডক্রাম্বিং’-এর মতো শব্দ। শুধু তাই নয় ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’-এর যুগও নাকি প্রায় অতীত। এখন জেন জিরা বেশি ব্যবহার করে ‘বেজ ফ্ল্যাগ’ বা ‘পিঙ্ক ফ্ল্যাগ’-এর মতো টার্ম। কিছু শব্দ ধীরে ধীরে স্বীকৃতি পাচ্ছে। যেমন ‘রিজ’ (Rizz), যা ২০২৩ সালে অক্সফোর্ড প্রেসের ‘ওয়ার্ড অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। অর্থাৎ, এখন এই শব্দের অর্থ আপনি অক্সফোর্ড অভিধানেই খুঁজে পাবেন। ডেটিং অ্যাপ জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসে রাইট–লেফট সোয়াইপের সংস্কৃতি। আরও পেছনে গেলে দেখা যায়, বিশ্বের প্রথম ডেটিং ওয়েবসাইট match.com চালু হয় ১৯৯৫ সালে। পশ্চিমে ডেটিং তখন থেকেই তুলনামূলক স্বাভাবিক হলেও, আমাদের সংস্কৃতিতে প্রেমের গ্রহণযোগ্যতা ছিল আলাদা রকমের। ধীরে ধীরে কফি ডেট ধারণা পপুলার কালচার আর দৈনন্দিন জীবনে জায়গা করে নেয়। প্রেমে ‘না’ শোনা কারও পছন্দ নয় বলেই হয়তো ‘প্রেম’ থেকে ‘ডেটিং’-এর পরিভাষা বদলেছে, আর তার সঙ্গে বদলেছে প্রেমের ভাষাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যেখানে মুহূর্তে মতামত তৈরি হয়, সম্পর্কের স্টেটাস নিয়েও থাকে নানা ব্যাখ্যা, সেখানে জেন জিদের প্রেমের ভাষা কি সত্যিই এত জটিল? বিশেষ করে মিলেনিয়ালদের কাছে? ভারতের অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটির সহ-অধ্যাপক সংহিতা স্যানাল বলছেন, “জেন জ়েড ডেটিং অ্যাংজাইটি নিতে চায় না। তাদের জীবনে প্রেমের পাশাপাশি আরও অনেক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কের সমীকরণ স্পষ্ট না হলে, প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি এড়াতেই তারা ‘সিচুয়েশনশিপ’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এতে একদিকে সম্পর্ক অস্বীকারও করা হলো না, আবার প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার দায়ও নিতে হলো না। কিন্তু এই সম্পর্ক প্রায়ই একতরফা হয়—অন্য মানুষটি হয়তো বিষয়টা একইভাবে দেখে না।” এই প্রসঙ্গে সমাজকর্মী ও গায়িকা পিয়া চক্রবর্তীর বক্তব্য আরও পরিষ্কার, “এ ধরনের পরিস্থিতি প্রেমে আগেও ছিল। শুধু তখন এর কোনও নাম ছিল না। এখন সেই জটিল অনুভূতিগুলো এক কথায় প্রকাশ করা যাচ্ছে—‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘ব্রেড ক্রাম্বিং’-এর মতো শব্দের মাধ্যমে।” শেষে বলা যায়, প্রেম বদলায়নি, বদলেছে তার ভাষা। আর সেই ভাষা বুঝে উঠতে গিয়েই মিলেনিয়ালরা আজ খানিকটা বিভ্রান্ত, খানিকটা কৌতূহলী।

তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, ৮ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল

তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, ৮ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের কারণে ৮ হাজারেরও বেশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক তুষারপাত এবং টেক্সাস থেকে উত্তর ক্যারোলিনা পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে বিপর্যয়কর বরফ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার-এর তথ্যমতে, আজ অন্তত ৩ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল করা হয়েছে এবং আগামীকাল রবিবারের জন্য আরো ৫ হাজারেও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি মানুষ বর্তমানে শীতকালীন ঝড়ের সতর্কবার্তার অধীনে রয়েছেন। মার্কিন আবহাওয়াবিদদের মতে, বিশেষ করে বরফকবলিত এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য হতে পারে। আজকের বড় ঝড়ের আগে শুক্রবার থেকেই টেক্সাস, ওকলাহোমা এবং কানসাসের কিছু অংশে তুষারপাত শুরু হয়েছে। এই ঝড়টি আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে মিশে পুরো সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ এলাকাকে প্রভাবিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেরিল্যান্ডের মার্কিন আবহাওয়া পূর্বাভাস সেন্টারের আবহাওয়াবিদ জ্যাকব অ্যাশারম্যান ব্রিটিশ বার্তা রয়টার্সকে বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত ভয়ংকর ঝড়।” তিনি জানান, তীব্রতা ও বিস্তৃতির দিক থেকে এটিই চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঝড়। ডাকোটা এবং মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে হাড়কাঁপানো বাতাসের কারণে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গেছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত পোশাক ছাড়া এই প্রচণ্ড ঠান্ডার সংস্পর্শে এলে খুব দ্রুত ‘হাইপোথার্মিয়া’ হতে পারে। লুইজিয়ানা, মিসিসিপি ও টেনেসি অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অ্যাশারম্যান জানান, সেখানে প্রায় এক ইঞ্চি পুরু বরফের স্তরে গাছের ডালপালা, বিদ্যুৎ লাইন ও রাস্তাঘাট ঢেকে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানান, সড়ক বিভাগ রাস্তাগুলোতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বাসিন্দাদের সম্ভব হলে ঘরে থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে, কারণ বরফে ঢাকা গাছের ডাল বা বিদ্যুতের তার ঝড় থেমে যাওয়ার অনেক পরেও ভেঙে পড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার প্রশাসন রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি ‘সহায়তা দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে’। এই ঝড়টি নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির জন্য প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনওয়াইওয়ান-কে তিনি বলেন, রবিবার প্রত্যাশিত ভারী তুষারপাত মোকাবিলায় শহরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘দেশের বৃহত্তম তুষার-প্রতিরোধী বাহিনীতে’ রূপান্তরিত করা হবে।

চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শুরুতে নেমে ২০ ওভারে ১৭৪ রান করে রাজশাহী। জবাবে ১১১ রানে থামে চট্টগ্রামের ইনিংস। এটা রাজশাহীর দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা। এর আগে বিপিএলের ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এদিকে, বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তিনবার শিরোপা জিতেছে ঢাকা। রাজশাহীর সমান দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশাল। আর একবার শিরোপা জিতেছে রংপুর রাইডার্স। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় রাজশাহী। তানজিদের ঝড় ও সাহিবজাদার ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটিতে আসে ৮৩ রান। ৩০ বলে ৩০ রান করে আউট হন ফারহান। দ্বিতীয় উইকেটে খেলতে নামা কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। শরিফুল ইসলামের বলে আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ২৪ রান করেন উইলিয়ামসন। এদিকে আপনতালে খেলতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ফিফটির পূরণের পর সেঞ্চুরিও তুলে নেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। বিপিএলের এবারের আসরে এটা চতুর্থ সেঞ্চুরি। আর বিপিএলের ফাইনালে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তানজিদ। এর আগে ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত তানজিদের ইনিংস থামে ১০০ রানে। মাত্র ৬২ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ছয়টি চার ও সাতটি ছয়ে সাজানো। আর দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। এদিকে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন জিমি নিশাম। চট্টগ্রাম রয়্যালসের সফল বোলার শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম। দুজনই দুটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলীয় ১৮ রানের মাথায় সাজঘরের ফেরেন দুই ব্যাটার। ১০ বলে ৯ রান করেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। আর ২ বল খেলে রানের খাতায় খুলতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। এরদিকে হাসান নেওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ১১ রান। চতুর্থ উইকেটে ব্যাট করতে নামেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাহিদুজ্জামান। তাকে নিয়ে কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়ে মির্জা বেগ। কিন্তু দুজনের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচটি চট্টগ্রামের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন জাহিদুজ্জামান। আর আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৩৯ রান করেন মির্জা বেগ।