গোমস্তাপুরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে সভা

গোমস্তাপুরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে সভা জুলাই-আগষ্ঠ মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদদের স্মরণে গোমস্তাপুরে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গোমস্তাপুর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত আনজুম অনন্যা। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ। অন্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুল ইসলাম আজম, শহীদ তারিকুল ইসলামে বাবা আসাদুল ইসলাম, ছাত্র রাসেল ইসলাম। জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ তার বক্তব্যে বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর আমি এই জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করি। তারপরে জেলার বিভিন্ন দাপ্তরিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেছি। কিন্তু আজকে যে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলাম, এ রকম এত আনন্দ এবং নিজের মধ্যে ভালোলাগা কাজ করা তা অন্য অনুষ্ঠানে এটা তা হয়নি। সত্যি আনন্দিত যে আজকে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আপনাদের সহযোগীতায় বীর শহীদদের পরিবারের কাছে কিছু উপহার তুলে দিতে পেরেছি। সবাই মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। এটা আমরা মনে করেছি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। যিনি শহীদ হয়েছেন তিনি তখনও জানতেন না আসলে ৫ আগষ্টের পর কি হবে। তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন। তার ভিতরে তারন্য ছিল এই অবস্থায় দেশকে চলতে দেওয়া যায়না। উপস্থিত শহীদ তারিকুলের বাবার কাছ থেকে তার ছেলের ঘটনা শুনলাম। এক ছাত্র ভাই তিনিও তার অভিজ্ঞতার কথা শুনালেন। সত্যিকার অর্থে ৫ আগষ্টের পূর্বে কিনবা পরে অভিজ্ঞাতার কথ বলি আমরা যারা সরকারী কর্মচারী ছিলাম। আমাদের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিলনা। আমাদের যে চাকুরিবিধি সে অনুযায়ী আমাদের চাকুরি করতে হয়। আমাদের সমর্থন থাকলেও আমরা প্রত্যক্ষভাবে মাঠে নেমে এসে কাজ করতে পারি নি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। আমরা যেটা পারি নাই ছাত্র ভাইরা সেটা করে দেখিয়ে দিয়েছে। ছাত্র ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে জুলাই ও আগষ্ঠ মাসে বিপ্লবে গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করি। যারা আহতাবস্থায় এখনোও হাসপাতালে আছেন তাদের সুস্থতা ও আরোগ্য কামনা করি। আমাদের এখানে যারা উপস্থিত রয়েছেন তাদের প্রতি শুভকামনা ও আগামীতে মঙ্গলকামনা করি। আজকে এই স্মরণসভার মাধ্যমে আমাদের বীর শহীদ পরিবারের প্রতি যে দায়িত্ববোধ তার কিঞ্চিত অংশ তা পালন করতে পেরেছি। তাদের যে ঋন আমরা তখননি শোধ করতে পারব,যেটা আমাদের তারিক হোসেনের বাবাই বলেছেন দেশটা যেন ভালোই চলে। দেশটা ভাল চালানোর দায়িত্ব আমরা যারা দায়িত্বে আছি,জনপ্রতিনিধি যারা আছেন তারাসহ সবার। উনি কিন্তু সবার কাছে উদাত্ব আহবান জানান। কাজেই আমাদের সবার প্রতিজ্ঞা থাকতে হবে যে চেতনা,যে ধারনায় এই আগষ্ঠ বিপ্লব কাঙ্খিত হয়েছিল। ৫ আগষ্টের পর এখনও তিন মাস হয় নাই কিন্তু এখনও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। আমাদের দেশটা আগামীতে আলোর দিকে নিয়ে যেতে পারি। তাহলে শহীদদের রক্তের ঋন পরিশোধ করতে পারব। সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা এটাই যারা আমরা প্রশাসনিক পদে আছি আমরা যেন নতুন দিগন্তভবে নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারি। ইনশাল্লাহ দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী শনিবার জেলা ও উপজেলার ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের উপস্থিতে এই ধরণে অনুষ্ঠান করা হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহীদ সাটু মিলনায়তনে বলে তিনি জানান। আলোচনার পর শহীদ তারিকুল ইসলামের বাবার কাছে চার শতকের জমির দলিল ও সেলাইমেশিন তুলে দেন জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ। পরে শহীদ ও আহতদেরসহ দেশের কল্যাণ,অগ্রগতি, সমৃদ্ধি জন্য দোয়া করা হয়।
১১৭ বছরের মধ্যে রেকর্ড তুষারপাত সিউলে, নিহত ৪

১১৭ বছরের মধ্যে রেকর্ড তুষারপাত সিউলে, নিহত ৪ রেকর্ড ভেঙেছে দক্ষিণ কোরিয়ার তুষারপাত। ১১৭ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি তুষারপাত হয়েছে দেশটির রাজধানী সিউলে। অতিরিক্ত শীতে এরইমধ্যে চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। আজ সিউলের কিছু অংশে স্থানীয় সময় সকাল ৮টার মধ্যে ৪০ সেন্টিমিটারের (১৬ ইঞ্চি) বেশি তুষার জমেছে। জানা গেছে, ইতিমধ্যে ভারী ও রেকর্ড তুষারপাতের কারণে সিউলে ১৪০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে ফেরি ও ট্রেন চলাচল। সিউলের পাশাপাশি প্রদেশ গেয়ংগিতেও বৃহস্পতিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার তুষার চাঁপা পরে সিউল গল্ফ রেঞ্জে একজন মারা যায় এবং দু’জন আহত হয়। এছাড়া আর একজন গাড়ি পার্কে একটি প্রতিরক্ষামূলক তাঁবু ধসে মারা যায়। এছাড়া অতিরিক্ত তুষারপাতে রাজধানীর পূর্বদিকের মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত আরও দুজন নিহত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় গ্যাংওয়ান প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহর ওনজুতে একটি মহাসড়কে ৫৩টি গাড়ির সংঘর্ষে ১১ জন আহত হয়েছে।
ডেঙ্গুতে আরো ৭ মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৮৩৭

ডেঙ্গুতে আরো ৭ মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৮৩৭ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৭ জন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৮২ জনে। আর সবমিলিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন সংখ্যা ৯০ হাজার ৪৪০ জন।আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৭ জনের মধ্যে ২ জন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ১ জন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ২ জন ঢাকার বাসিন্দা। এছাড়া ১ জন বরিশাল বিভাগের (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ও ১ জন খুলনা বিভাগের (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে)। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, হাসপাতালে নতুন ভর্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৭২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৮৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ২২১, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৭১, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১১৫, খুলনা বিভাগে ১০৯ জন রয়েছেন। এছাড়াও রাজশাহী বিভাগে ৩২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮ জন, রংপুর বিভাগে ১০ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সিজনাল নেই, সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনে পক্ষ থেকে সব জায়গায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেনতনা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।
হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল

হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল পবিত্র হজ নিবন্ধনের সময় আরো ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। এতে ২০২৫ সালে হজে যেতে ইচ্ছুকরা আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন। এ সময়ের পর আর কোনো সময় বাড়ানো হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আজ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এদিকে, আগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় আগামী ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো কোটার বড় অংশ খালি রয়ে গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের হজযাত্রীদের নিবন্ধনের সময় আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলো। এ সময়ের মধ্যে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে এবং একইসঙ্গে হজ প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করার জন্য হজযাত্রীদের অনুরোধ করা হলো। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ৫ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছরের মতো আগামী বছরও (২০২৫ সাল) বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এর মধ্যে ১০ হাজার ১৯৮ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকি এক লাখ ১৭ হাজার জন হজযাত্রীরা যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে। প্রসঙ্গত, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় হজের প্রাথমিক নিবন্ধন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ৪০ হাজারের মতো হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন।
টেস্টে ৪২ রানে অল আউট শ্রীলংকা

টেস্টে ৪২ রানে অল আউট শ্রীলংকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৯১ রানে অলআউট করে খুশিমনেই ব্যাটিংয়ে নেমেছিল শ্রীলংকা। কিন্তু এরপর যা ঘটল, তা শ্রীলংকার টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসেই প্রথম, এমনকি বড় লজ্জার। ডারবানে প্রোটিয়াদের বোলিং তোপে মাত্র ৪২ রানে অলআউট হয়েছে লংকানরা। ১৯৮২ সালে প্রথম টেস্ট খেলা শ্রীলংকার নিজেদের ইতিহাসে এটা সর্বনিম্ন স্কোর। আগের সর্বনিম্ন স্কোরটি পাকিস্তানের বিপক্ষে। ১৯৯৪ সালে ক্যান্ডিতে ৭১ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এটা যে কোনো প্রতিপক্ষের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড।২০১৩ সালে কেপটাউন টেস্টে নিউজিল্যান্ড দলটির কাছে ৪৫ রানে অলআউট হয়েছিল। এই ইনিংসে মাত্র ৮৩ বল খেলেছে লংকানরা। যা গত একশ বছরের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন, সব মিলিয়ে দ্বিতীয়। ১৯২৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৭৫ বল টিকেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। শ্রীলংকার ভুলে যাওয়ার মতো দিনে বাঁ হাতের পেসে আগুন ধরিয়েছেন মার্কো জানসেন। মাত্র ১৩ রানে তিনি নিয়েছেন ৭ উইকেট। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রোটিয়া বোলারদের যা সবচেয়ে ভালো ফিগার।এই স্পেল পেছনে রাখছে কলম্বোয় ২০১৮ সালে কেশভ মহারাজের ১২৯ রানে নেয়া ৯ উইকেটকে। জানসেনের স্পেলটি এই শতাব্দীতে প্রোটিয়া পেসারদের মধ্যে সেরা। শ্রীলংকার ৫ ব্যাটার আউট হয়েছেন ডাকে, দুজন স্পর্শ করেন দুই অঙ্কের ঘর। কাগিসো রাবাদা দিমুথ করুনারত্নেকে ২ রানে বিদায় করে দেওয়ার পর একাই ব্যাটন হাতে নেন জানসেন। তিনি টানা নেন পাথুম নিশাঙ্কা, দিনেশ চান্দিমাল ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজের উইকেট।অভিষেকের পর থেকে টানা ৮ ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলে বিশ্বরেকর্ড গড়ার রেকর্ড কামিন্দু মেন্ডিসের। তিনি ছাড়া এই রেকর্ড আর কারো নেই। তাকে ১৩ রানে ফেরান জেরাল্ড কোয়েৎজে।এটাই শ্রীলংকার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এরপর আবার জানসেন। এবার নেন ধনঞ্জয় ও প্রবাথ জয়াসুরিয়ার উইকেট। কোয়েৎজে কুশল মেন্ডিসকে সাজঘরের পথ দেখানোর পরের দুটি উইকেটই নেন জানসেন। ১০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন লাহিরু কুমারা।
দু’দিন বন্ধের পর আজও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আলু ও পেঁয়াজ আমদানী অব্যহত

দু’দিন বন্ধের পর আজও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আলু ও পেঁয়াজ আমদানী অব্যহত গত সোম ও মঙ্গলবার হঠাৎ করেই টানা দু’দিন বন্ধের পর গতকাল থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর পথে আবারও প্রবেশ করছে আমদানীকৃত আলু ও পেঁয়াজ ভর্তি ভারতীয় ট্রাক। আজ ৩৫টি ভারতীয় ট্রাকে ৯৪১.৫ টন পেঁয়াজ ও ৬১টি ট্রাকে ১ হাজার ৬৯২ টন আলু প্রবেশ করেছে। এর আগে গত বুধবার ৯৪টি ভারতীয় ট্রাকে ২ হাজার ৫০২.৬ টন পেঁয়াজ ও ১০৯টি ট্রাকে ২ হাজার ৯৪২.১ টন আলু প্রবেশ করে। এনিয়ে টানা দুদিনে ১২৯ ট্রাকে ৩ হাজার ৪৪৪.১ টন পেঁয়াজ ও ১৭০টি ট্রাকে ৪ হাজার ৬৩৪.১ টন আলু প্রবেশ করল। সোনামসজিদ বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারি অপারেটর প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেড অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত সোমবার ৩ ট্রাকে ৬২ টন আলু শুধু বন্দরে প্রবেশ করার পর ওইদিনই পণ্য দুটি আমদানী বন্ধ হয়ে যায় বলেও জানান তিনি। ওইদিন কোন পেঁয়াজ প্রবেশ করে নি। এর আগে শেষ গত রবিবার যথারীতি ৩০টি ভারতীয় ট্রাকে ৮২৩.১ টন পেঁয়াজ ও ৫৯টি ট্রাকে ১ হাজার ৬৩৫.৪ টন আলু প্রবেশ করে। সে দিন আমদানী নিয়ে কোন সমস্যার বিষয় জানা যায় নি। এদিকে দু’দিন কেন আমদানী বন্ধ ছিল ও আবার বুধবার কেন চালু হল এবং এসব পণ্য আমদানী অব্যহত থাকবে কি না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোন তথ্য জানাতে পারেননি আমদানীকারক বা বন্দরের কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে দুই দেশের দায়িত্বশীল কোন পক্ষের কোন চিঠিও পান নি কেউ। এদিকে গণমাধ্যমে আমদানী বন্ধের খবর প্রচারের পর দেশের অনান্য স্থানের ন্যয় চাঁপাইনবাবগঞ্জেও বেড়ে যায় পণ্য দু’টির দাম। কেজি প্রতি আলু অন্তত: ১০ টাকা ও পেঁয়াজ অন্তত ১৫ টাকা বেড়ে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম পেঁয়াজ ও আলু আমদানীকারক মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, গত সোমবার গণমাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন পণ্য দুটি রপ্তানী বন্ধ করে দিয়েছে ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। তবে এ ব্যাপারে তাঁদের ভারতীয় রপ্তানীকারকরা আগাম কোন তথ্য দেন নি। এরপর গত সোমবার থেকেই বন্ধ হয়ে যায় পণ্য দু’টির আমদানী। গত মঙ্গলবারও ওই দুই পন্য প্রবেশ করে নি। এরপর গতকাল থেকে আবারও আমদানীকৃত আলু ও পেঁয়াজ বন্দরে প্রবেশ করে। যা আজও অব্যহত ছিল। ভারতীয় রপ্তানীকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টরা তাঁদের জানিয়েছেন,পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার তাদের বাজারে পণ্য দুটির দাম বেশি বলে পশ্চিমবঙ্গের কোন বন্দর দিয়ে পণ্য দুটি রপ্তানীর অনুমতি দেয় নি। মাসুদ রানা আরও বলেন,সোনামসজিদের বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের মহদিপুর স্থলবন্দরে আলুবোঝাই ট্যাক্স দেয়া যে সব ট্রাক রয়েছে (পাইপলাইনে) সেগুলো আপাতত রপ্তানীর অনুমতি দেয়া হয়েছে জানা গেছে। এরপর আলু আর রপ্তানীর অনুমতি দিবে না রাজ্য সরকার। তবে পশ্চিমবঙ্গ ব্যাতীত ভারতের সাথে যে সব বন্দর রয়েছে সেসব বন্দর দিয়ে আলু আনা যাবে যদি বাংলাদেশ সরকার অনুমতি দেয়। এদিকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানী চলবে বলেও জানা গেছে। পেঁয়াজ বন্ধের ব্যাপারে কোন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে নি। সোনামসজিদ বন্দর কর্মকর্তারাও ভারতীয়দের বরাতে একই তথ্য জানিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য ধ্বংস

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য ধ্বংস আদালতের নির্দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তদন্তাধীন বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে ও পরিত্যক্ত অবস্থায় সাধারণ ডায়েরিমূলে জব্দ করা বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য ও নিষিদ্ধ সামগ্রী ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংসকৃত মামলার আলামত মাদকদ্রব্যের নমূণা রাখা হয়েছে। আজ সন্ধায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন স্থানে প্রকাশ্যে বুলডোজার দিয়ে পিষে ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়। এ সময় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম ও মো. তৌহিদুজ্জামান উপস্থিত থেকে তদারকি করেন। আদালত পুলিশ পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মনিরুল ইসলাম বলেন, এসব মাদক তদন্তাধীন বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে ও পরিত্যক্ত অবস্থায় সাধারণ ডায়েরিমূলে জব্দকৃত। জেলার পাঁচ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময় এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করে। ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে হেরোইন ৬ কেজি ৮০৯ গ্রাম, ইয়াবা ট্যাবলেট ৩৭ হাজার ২৩০ পিস,বিদেশী মদ ৮৪৩ বোতল, ফেনসিডিল ৩ হাজার ৭০৭ বোতল, চোলাই মদ ৩০ লিটার, লুজ মদ ৩০ লিটার, গাঁজা ৩৩ কেজি ৫৬০ গ্রাম, ভারতীয় বিড়ি ১২ হাজার বান্ডিল,ভারতীয় বিড়ির পাতা ৩কেজি ৫০০ গ্রাম, দেড় লক্ষ ভারতীয় জাল রুপী, লাল ফসফরাস ৭কেজি ২০০ গ্রাম ও গান পাওডার ১১ কেজি ২৬০ গ্রাম।
সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার সময় বাড়লো ১ মাস

সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার সময় বাড়লো ১ মাস সম্পদের হিসাব জমা দিতে আরো এক মাস সময় পাবেন সরকারি কর্মচারীরা। চলতি বছরের সম্পদ বিবরণী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তা জমা দেওয়া যাবে। আজ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার সময় এক মাস বাড়ানো হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে সার্কুলার ইস্যু করবো। মোখলেস উর রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে কেউ সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেয়নি। কীভাবে এটা জমা দিতে হবে তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। এ জন্য সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে চলতি বছরের সম্পদের হিসাব বিবরণী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
শোভিতাই শূন্যতা পূর্ণ করেছে: নাগা চৈতন্য

শোভিতাই শূন্যতা পূর্ণ করেছে: নাগা চৈতন্য তেলুগু অভিনেতা নাগা চৈতন্যের সঙ্গে অভিনেত্রী শোভিতা ধুলিপালার প্রেমের খবর গত কয়েক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছিল। মাস তিনেক আগে বাগদাদ সেরেছেন তারা। এখন বিয়ের প্রস্তুতি চলছে, আগামী ৪ ডিসেম্বর চারহাত এক হতে চলেছে। এই সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসার পরেই নেটিজেনদের একাংশ কটাক্ষ করছে। বিশেষ করে প্রাক্তন স্ত্রী তথা অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর অনুরাগীদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। শোভিতা ধুলিপালার জন্যই নাকি তাদের দাম্পত্যে চিড় ধরেছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নাগা চৈতন্য জানালেন, তার জীবনে শূন্যতা ভরাট করেছেন শোভিতা। বিয়ের ঠিক আগেই হবু স্ত্রী সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন নাগা। জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘শোভিতার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছি। ওর সঙ্গে জীবনটা উদযাপন করতে চাই।’ এরপর বলেন, ‘ওর সঙ্গে আমি নিজেকে খুব ভাল ভাবে মেলাতে পারি। ও আমাকে খুব ভালো বোঝে। আমার মধ্যে সব শূন্যতা ও পূরণ করে দিতে পারে। আমি জানি, খুব সুন্দর হবে এই নতুন অধ্যায়।’ ২০১৭ সালে বিয়ে করেন সামান্থা ও নাগা চৈতন্য। সামান্থার অভিব্যক্তি ও বক্তব্যে বারবার নাগার প্রতি তার প্রেম প্রকাশ্যে এসেছে কিন্তু সেই সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। ২০২১-এ বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন তারা।
সাত বছর হয়ে গোল বারী সিদ্দিকী নেই; আজ এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী

সাত বছর হয়ে গোল বারী সিদ্দিকী নেই; আজ এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী প্রয়াণ নশ্বর দেহটাকে সবার কাছ থেকে তাকে আলাদা করে দিয়েছে। কিন্তু প্রিয় শিল্পীর প্রতি যে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা তা কোনোদিন শেষ হবার নয়। বলছি প্রয়াত গায়ক বারী সিদ্দিকীর কথা। তিনি ছিলেন, থাকবেন অনন্তকাল শ্রোতাদের হৃদয়ে। কণ্ঠে ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজ, আমার মন্দ স্বভাব, আমার গায়ে যত দুঃখ সয়, শুয়া চান পাখি’ এ ধরনের মর্মস্পর্শী গান শ্রোতা ভক্তদের উপহার দিয়েছেন, আর যাই হোক তাকে একজীবনে ভোলা যাবে না। হিজলে তমালে ছাওয়া আদিঅন্তহীন হাওরের বুক থেকে গান নিয়ে বারী সিদ্দিকী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সারা বাংলায়। জল ছলছল লিলুয়া বাতাসে ভেসে সেই অপরূপ গানে স্পর্শ করেছিলেন সমগ্র বাংলাভাষী মানুষদের মন। আজ এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের আজকের এই দিনে চলে গেছেন অধরা জগতের দূর নীলিমায়। সাত বছর হয়ে গেল বারী সিদ্দিকী নেই। ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনা সদরের কাইলাটি ইউনিয়নের ফচিকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বারী সিদ্দিকী। পরে জেলা সদরের কারলিতে ‘বাউল বাড়ি’ করেন তিনি। বাবা মহরম আলী ও মা প্রয়াত জহুর-উন-নিসা। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে বারী সবার ছোট। বয়স যখন তিন-চার, সেই বয়সেই মায়ের কাছে তার প্রথম শোনা গান ছিল ‘শ্বাশুড়িরেও কইয়ো গিয়া’। সেই গানের সুরই বারীর মনে গেঁথে যায়। যদিও পরিবারে সেভাবে সংগীত চর্চা ছিল না। সৌখিন হিসেবে বলা যায়। বারীর বয়স যখন পাঁচ তখন বড় ভাইয়ের বাঁশিতে ফু দিয়ে অন্যরকম আগ্রহের সৃষ্টি হয় বাঁশি শেখার প্রতি। বারী তার বাঁশি ও গান শেখার উৎসাহ পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। ছোটবেলায় বাঁশি বাজাতেন মূলত বড় ভাইদের নকল করে। সেসময় নেত্রকোনায় বাঁশি শেখার সুযোগ ছিল না। তবে সাত-আট বছর বয়সে মা জহুর-উন-নিসার কাছে গান শেখা শুরু করেন। মায়ের কাছ থেকে জীবনে তিনি প্রথম যে গানটির সুর বাঁশিতে তুলে নিয়েছিলেন সেই সুরটিই তিনি পরবর্তীতে হুমায়ূন আহমেদর ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেন। সেটি ছিল শ্যাম বিচ্ছেদের একটি সুর; ‘আস্ট আঙ্গুল বাঁশের বাঁশি/মধ্যে মধ্যে ছ্যাদা/ নাম ধরিয়া ডাকে বাঁশি/ কলংকিনী রাধা/’। বারী সিদ্দিকী যখন হাইস্কুলে পড়তেন, তখন থেকেই তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সংগীত শেখা শুরু করেন। ওস্তাদ ছিলেন শ্রী গোপাল দত্ত। বড় দুই ভাই এবং রফিক মাহমুদ, বিপুল চৌধুরী, দুলাল দত্তনবীশ, হযরত আলীর কাছ থেকেও গানে সহযোগিতা পেয়েছেন। তখনই স্বপ্ন দেখেন গান গাইবেন, শিল্পী হবেন। ১৯৮০ সালের দিকে ঢাকায় শুদ্ধ সংগীত প্রসারের একটি অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় ওস্তাদ আমিনুর রহমানের সঙ্গে। তিনি পাইলট ছিলেন। ভারতবর্ষের বিখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ পান্না লাল ঘোষের শিষ্য ছিলেন। আমিনুর রহমানের বাড়িতে থেকেই বাঁশিতে তালিম নিতে থাকেন দিনের পর দিন। সেখানে থেকেই ওস্তাদ তাগাল ব্রাদার্স, পণ্ডিত দেবেন্দ্র মুৎসুদ্দী, ওস্তাদ আয়েফ আলী খান মিনকারীর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। পণ্ডিত বিজি কারনাডের কাছেও বাঁশি শিখতে তিনি পুনেতে গিয়েছিলেন। এভাবে একসময় বারী শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বাংলাদেশ রেডিও-টেলিভিশনসহ সম্মিলিত একটি যন্ত্রসংগীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এর পরপরই তিনি দক্ষিণ এশীয় সার্ক ফেস্টিভ্যালে যান বাঁশি বাজাতে। সেটি ছিল সরকারি সহযোগিতা। এরপর ধীরে ধীরে আরও পরিচিত হয়ে উঠতে লাগলেন। বাঁশি বাজান উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে। হুমায়ূন আহমেদর এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তার বাসায় যান বাঁশি বাজাতে। সেখানে বাঁশি বাজানোর পাশাপাশি গানও করেন। হুমায়ূন আহমেদ তাকে আরও গান গাইতে বলেন। গান শুনে মুগ্ধ হন হুমায়ূন। ১৯৯৫ সালে বিটিভির ‘রং-এর বারৈ’ অনুষ্ঠানে প্রথম গান করেন বারী সিদ্দিকী। এর পরপরই হুমায়ূন আহমেদ তাকে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে গান গাইতে বলেন। চলচ্চিত্রের গানে আকাশ-ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরপরই বাজারে তার দু’টি একক অ্যালবাম আসে। একটি ‘দুঃখ রইলো মনে’ এবং অন্যটি ‘অপরাধী হইলেও আমি তোর’। সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিদ্দিকী বলেছিলেন, ‘হুমায়ূন স্যার আমার গাওয়ার পেছনে যথেষ্ট উৎসাহ দিয়েছিলেন। মূলত তার সাহস নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস পেয়েছি। ’ দু’টি অ্যালবামই লুফে নেয় শ্রোতারা। সেসময় উকিল মুন্সীর লেখা গান শ্রোতাদের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পেরে বারী সিদ্দিকী দারুণ উচ্ছ্বাসে ভাসেন। তিনি সবসময়ই নিজেকে একজন বংশীবাদক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বংশীবাদক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি বাঁশি বাজিয়ে শ্রোতা-দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। ১৯৯৯ সালে ফ্রান্সে ওয়ার্ল্ড ফ্লুট সম্মেলনে এই উপমহাদেশ থেকে তিনিই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট অর্জন। একজন গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার আগে বারী সিদ্দিকী বংশীবাদক হিসেবে বাঁশি বাজিয়েছেন দু’দশক ধরে। কিন্তু গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর দেশের বাইরে বংশীবাদক হিসেবে তার সফর কমে যায়। কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন। ১৯৮০ সালে বারী সিদ্দিকী পেশাগতভাবে বাঁশি বাজানো শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে প্রথম বিটিভিতে ‘সৃজন’ অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজান। বারী সিদ্দিকী ‘মাটির পিঞ্জিরা’ নামের একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন। পরে তিনি ফেরারি অমিতের নির্দেশনায় ‘পাগলা ঘোড়া’ নাটকেও অভিনয় করেন। তবে অভিনয় করতেন নিতান্তই অনুরোধে এবং শখের বশে।