৪৩তম বিসিএসে বাদ পড়া প্রার্থীদের অবস্থান, লিখিত আবেদন

৪৩তম বিসিএসে বাদ পড়া প্রার্থীদের অবস্থান, লিখিত আবেদন ৪৩ তম বিসিএসে একবার গেজেটভুক্ত হয়েও পরবর্তীতে যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছেন। বাদ পড়া প্রার্থীদের কয়েকজন আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দফতরে গিয়ে সবার আবেদন জমা দেন।এর আগে আজ সকালে সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নেন ৪৩ তম বিসিএসে বাদ পড়া প্রার্থীরা। তাদের চারজন প্রতিনিধি দুপুর আড়াইটার পর জনপ্রশাসন সচিবের দফতরে গিয়ে সবার আবেদন পৌঁছে দেন।দুপুর সোয়া ৩টার দিকেও বাদ পড়া অর্ধশতাধিক প্রার্থী সচিবালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন। নিয়োগের দাবিতে তারা সচিবালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেন। ৪৩ তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ১ হাজার ৮৯৬ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে গত সোমবার গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।এর আগে গত ১৫ অক্টোবর এই বিসিএসে ২ হাজার ৬৪ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে গেজেটভুক্তদের যাচাই–বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। দ্বিতীয় দফার যাচাই–বাছাইয়ে ১৬৮ জন প্রার্থী বাদ পড়েন। তারাই এখন নিয়োগের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান করছেন।
থার্টি ফার্স্ট নাইট; ৯৯৯-এ আতশবাজি-পটকার শব্দদূষণ নিয়ে ১১৮৫ ফোন

থার্টি ফার্স্ট নাইট; ৯৯৯-এ আতশবাজি-পটকার শব্দদূষণ নিয়ে ১১৮৫ ফোন সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিকট শব্দে আতশবাজি-পটকা ফাটিয়ে ও ফানুস উড়িয়ে নতুন বছর ২০২৫ উদযাপিত করেছে দেশবাসী। মঙ্গলবার রাত ১২টা বাজতেই আতশবাজি ও পটকার শব্দে কেঁপে ওঠে দেশ। বাতাসে উড়ে বেড়ায় বারুদের গন্ধ।থার্টি ফার্স্ট নাইটে গান-বাজনা, হৈ-হুল্লোড় ও আতশবাজি-পটকার কারণে সৃষ্ট শব্দদূষণ নিয়ে সারাদেশে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-নম্বরে শব্দদূষণের প্রতিকার চেয়ে এক হাজারের বেশি ফোন আসে। আজ ৯৯৯-এর পরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) আনোয়ার সাত্তার এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ৩১ ডিসেম্বর উচ্চশব্দে গান-বাজনা, হৈ-হুল্লোড় ও আতশবাজি ইত্যাদি শব্দদূষণ প্রতিকারে ৯৯৯ নম্বরে মোট ১ হাজার ১৮৫টি কল করেন ভুক্তভোগীরা। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর থেকে ৩৮৭টি কল এবং দেশের অন্যান্য স্থান থেকে ৭৯৮টি কল গৃহীত হয়। এসব ক্ষেত্রে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে প্রতিকারের চেষ্টা করা হয়। এদিকে, রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের পাশে স্বপ্ন শপিং মলের সামনে ফানুস থেকে আগুন ধরে যায়। ৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের একটি অগ্নিনির্বাপক দল ঘটনাস্থলে রওনা দিলেও তারা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি।
ভারতের আদালতে বাংলাদেশিকে ৭ বছরের কারাদণ্ড

ভারতের আদালতে বাংলাদেশিকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এক বাংলাদেশিকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভারতের একটি আদালত। সাজাপ্রাপ্ত ওই বাংলাদেশির নাম জাহিদুল ইসলাম ওরফে কাউসার। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫৭ হাজার রুপি অর্থদণ্ডও দিয়েছেন আদালত। ৩০ ডিসেম্বর রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে এই কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) বিশেষ আদালত তাকে এই সাজা দেন। জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) প্রচারে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার একজন বাংলাদেশি নাগরিককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, এনআইএ ২০১৯ সালে জেএমবির বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপে যেমন, ডাকাতি, ষড়যন্ত্র, তহবিল সংগ্রহ এবং গোলাবারুদ সংগ্রহের সাথে সম্পর্কিত একটি মামলা দায়ের করেছিল। মামলায় ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এনআইএ এই মামলাটি হাতে নেওয়ার আগে বেঙ্গালুরুর সোলাদেভানাহাল্লি পুলিশ বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে একটি মামলা দায়ের করেছিল। এনআইএ অনুসারে, জেএমবির প্রধান সালাউদ্দিন সালেহীনের সঙ্গে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের অক্টোবরে বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায়ও জড়িত ছিলেন জাহিদুল। বিস্ফোরণের পর জাহিদুল এবং তার সহযোগীরা বেঙ্গালুরুতে পালিয়ে যায়। বেঙ্গালুরু থেকেই তিনি জেএমবির ভারত বিরোধী কার্যকলাপকে আরো এগিয়ে নেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ এবং আসাম থেকে যুবকদের নিয়োগ করেছিলেন। গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, জাহিদুল এবং তার সহযোগীরা ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বোধগয়ায় বিস্ফোরণের জন্যও দায়ী ছিল।
ভারতের ৯৫ বন্দিকে মুক্তি দেবে বাংলাদেশ

ভারতের ৯৫ বন্দিকে মুক্তি দেবে বাংলাদেশ দেশের কারাগারে বন্দি ভারতের ৯৫ জেলেকে মুক্তি দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত অক্টোবরে সমুদ্রসীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসার পর তাদের আটক করা হয়। ঐ সময় তাদের ছয়টি ট্রলারও জব্দ করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ আজ জানিয়েছে, সম্প্রতি, বাংলাদেশ ভারতীয় এই জেলেদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে বাংলাদেশ ৯৫ ভারতীয় জেলেকে, অপরদিকে ভারত বাংলাদেশের ৯০ জেলেকে মুক্তি দিতে যাচ্ছে। গত ৯ ডিসেম্বর ট্রলারসহ ৭৮ জেলেকে বঙ্গোপসাগর থেকে ধরে নিয়ে যায় ভারতের কোস্টগার্ড। এর আগে থেকে আরো ১২ জন ভারতের কারাগারে ছিলেন। ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ভারতীয় ৯৫ জেলের মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশের বিষয়টি জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎসজীবী শ্রমিক ইউনিয়ের সেক্রেটারি সথিনাথ পত্র বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশে সরকারের জারি করা নির্দেশের কপি পেয়েছি। যেখানে আমাদের জেলেদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের ভারতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য স্বস্তির। কারণ এই গরীব জেলেরা গত অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি।”ভারতের একটি প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জেলেদের ট্রলারগুলোও ছেড়ে দেবে। আমরা আশা করি নতুন বছরে তারা বাড়িতে ফিরবে।” গত অক্টোবরে বাগেরহাট থেকে ৬৪ ভারতীয় জেলেকে আটক করে বাংলাদেশ। পরে পটুয়াখালীর কাছ থেকে আরো ৩১ জনকে আটক করা হয়। এরপর থেকে এসব ভারতীয় জেলেকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই উত্তর-২৪ পরগনার বাসিন্দা। টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, যখন বাংলাদেশ এই জেলেদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করে তখন ভারতীয় কোস্টগার্ড যেসব বাংলাদেশি জেলেকে আটক করেছে তাদেরও ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে ভারত সরকার। গত ৯ ডিসেম্বর উড়িষ্যার পরদ্বীপে প্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশের ৭৮ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় কোস্টগার্ড। যদিও অভিযোগ রয়েছে, তাদের বাংলাদেশের ভেতর ধরে আটক করা হয়। বাংলাদেশের ৯০ জেলের মধ্যে ১২ জনকে এরই মধ্যে মুক্তি দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। তবে তারা এখনো দেশে ফেরেননি। বর্তমানে তারা কাকদ্বীপ প্রশাসনের অধীনে রয়েছেন। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, নির্দেশনা পেলেই এই ১২ বাংলাদেশিকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভারতীয় কোস্টগার্ডের একটি সূত্র বলেছে, বঙ্গোপসাগরে দুই দেশের বন্দিবিনিময় হতে পারে। ঐ সময় তাদের ট্রলারগুলোকেও মুক্তি দেওয়া হবে। যদিও তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে এটি খুব শিগগিরই হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশে প্রবেশ করলে তাদের আটক করে আবার সঙ্গে সঙ্গে ফেরত দেওয়া হতো। তবে সরকার পরিবর্তনের পর এই নীতি থেকে সরে আসে বাংলাদেশ।
নতুন পাঠ্যবইয়ে এসেছে যেসব পরিবর্তন

নতুন পাঠ্যবইয়ে এসেছে যেসব পরিবর্তন শিক্ষাপঞ্জি মেনে আগামীকাল বুধবার সারা দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হচ্ছে। এবার ৪০ কোটির বেশি বই ছাপানো হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, নতুন পাঠ্যবইয়ে সাহিত্যের পাশাপাশি ইতিহাস বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ঘোষণা, শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানসহ বেশ কিছু বিষয়ে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। জানা গেছে, নতুন ৪০ কোটি বই এর মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৯ কোটি ৬৪ লাখের মতো। আর মাধ্যমিকে (মাদরাসার ইবতেদায়িসহ) মোট বইয়ের সংখ্যা ৩০ কোটি ৯৬ লাখের মতো। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকার এক যুগ আগে তৈরি পুরোনো শিক্ষাক্রমের আলোকে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে জন্য এনসিটিবি ৪১ বিশেষজ্ঞ দিয়ে ৪৪১টি পাঠ্যবই পরিমার্জন করেছে। এতে অনেক বিষয়বস্তু সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। বেশ কিছু গদ্য, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও কবিতা বা বিষয়বস্তু বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে স্থান পেয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তুসহ নতুন কিছু গল্প-কবিতা। পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ের নতুন বইয়ে ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক অধ্যায়ের প্রথম অংশে প্রথমে রয়েছে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ছবি। পাশে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। জাতীয় চার নেতার ছবিও রয়েছে। পুরোনো বইয়ে একই স্থানে শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার ছবি ছিল। নতুন বইয়ে একই অধ্যায়ের ‘পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা’ শীর্ষক লেখায় বলা হয়েছে, ‘…পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই আক্রমণের নাম দিয়েছিল “অপারেশন সার্চলাইট”। ঐ রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। ২৬শে মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারো স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।’ একই বিষয়ের পুরোনো বইয়ে এই অংশে ছিল, ‘…পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর এই আক্রমণের নাম দিয়েছিল “অপারেশন সার্চলাইট”। ঐ রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।…’ চতুর্থ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়েও স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি রয়েছে। নতুন বইয়ে এই অধ্যায়ের ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক লেখায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ছবির পাশাপাশি মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ছবি স্থান পেয়েছে। এখানে বিষয়বস্তু হিসেবে বলা হয়েছে, ‘…এ রাতেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ২৬শে মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারো স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’ পুরোনো বইয়ে এ–সংক্রান্ত লেখায় শুধু বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ছবি ছিল। আর স্বাধীনতার ঘোষণা–সংক্রান্ত স্থানে লেখা ছিল, ‘এ কালরাতেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগে অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ওয়্যারলেস বার্তায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। এর ভিত্তিতে ২৬ মার্চ শুরু হয় আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এছাড়া পাঠ্যবই থেকে ইতিহাসবিষয়ক আরো কিছু বিষয়বস্তু বাদ দেওয়া হয়েছে।এতদিন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও পতাকা নির্মাণের নিয়মাবলি এবং জাতীয় সংগীত বাংলা বইয়ের প্রচ্ছদের ঠিক পরের পৃষ্ঠায় ছিল। কিন্তু নতুন বাংলা বইয়ে তা পুনর্বিন্যাস করে বইয়ের শেষ প্রচ্ছদের আগের পৃষ্ঠায় নেয়া হয়েছে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ে ছয়টি প্রবন্ধ, কবিতা বা ছড়া নতুন করে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শীর্ষক প্রবন্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ আবু সাঈদ ও মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ছবিসহ এই গণ-অভ্যুত্থানে সব শহিদকে স্মরণ করে লেখা যুক্ত হয়েছে। এই প্রবন্ধে আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহিদ মীর নিসার আলী তিতুমীর থেকে শুরু করে এ বছরের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে শহিদদের স্মরণ করা হয়েছে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তনের বিষয়ে জানান, জুলাই বিপ্লবের পর বিপ্লবের গ্রাফিতিসহ বিষয়গুলোকে স্থান দেওয়ার একটি গণদাবি ছিল। এবার ইতিহাসের বইয়ে না দিয়ে বাংলা–ইংরেজি বইয়ে জুলাই বিপ্লবের বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। আর মুক্তিযুদ্ধে অন্য নায়কদের আগে অবহেলা করা হয়েছে। এবার তাদেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অতিবন্দনা পরিহার করা হয়েছে। পাঠ্যবইকে রাজনৈতিক দলের প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করা হয়েছে।তবে গতবারের মতো এবারো থাকছে পাঠ্যবইয়ের ঘাটতি। বছরের প্রথম দিন সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দিতে ৪০ কোটি ১৬ লাখ পাঠ্যবই প্রয়োজন। ছাপাখানার মালিক, মুদ্রণ শিল্প সমিতি ও এনসিটিবি সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি পাঠ্যবই ছাপা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ কোটি বই উপজেলা পর্যায়ে পাঠানোর জন্য ছাড়পত্র বা পিডিআই হয়েছে। এখনো ৩৩ কোটি বই ছাপানোই বাকি। ফলে এবার নতুন বছরের প্রথম দিনে সারা দেশে সব শিক্ষার্থী সব বই পাবে না। ছাপাখানাগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১১৬টি ছাপাখানায় ২৪ ঘণ্টা বিরামহীন পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। তবে ছয় মাসের কাজ এক মাসে শেষ করতে সরগরম ছাপাখানাগুলো। কোনো ফুরসত নেই শ্রমিকদের। মিনিটে মিনিটে বেরিয়ে আসছে ছাপা কাগজ। অন্যপাশে চলছে বাঁধাইয়ের কাজ। ২০২৩ সালে সেপ্টেম্বর মাসে পাঠ্যবই ছাপার কাজ শুরু হয়েছিল। তারপরও সবার হাতে সব বই পৌঁছাতে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এবার মাধ্যমিকের পাঠ্যবই ছাপাতে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশ (নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড বা নোয়া) দেওয়া হয় ১০ ডিসেম্বর থেকে। কাগজসংকট না থাকলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪০ লাখ কপি পাঠ্যবই পাঠানোর সক্ষমতা আছে ছাপাখানাগুলোর। ছাপাখানার মালিক, মুদ্রণ শিল্প সমিতি ও এনসিটিবি কর্মকর্তারা বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, পাঠ্যবই পরিমার্জন, আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র দেওয়া, দেরি করে পরিদর্শন প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা, বিলম্বে নোয়া (নোট অব অ্যাওয়ার্ড) দেওয়াসহ ছাপাসংক্রান্ত কাজে বিলম্বের কারণে এবার এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখনো বেশ কিছু পরিমাণ বই ছাপার জন্য মুদ্রণকারীদের সঙ্গে চুক্তিপত্র সইয়ের কাজটিও শেষ হয়নি। ফলে আগামী মার্চ মাসের আগে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো কঠিন হবে।
মাহিদুলের ৬ ছক্কা, শেষ ৫ ওভারে রান ৮৪

মাহিদুলের ৬ ছক্কা, শেষ ৫ ওভারে রান ৮৪ মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ক্রিজে আসলেন। আর জয় করলেন। ঝড় তুললেন ব্যাট হাতে। বিষয়টা ঠিক এমনই হলো মিরপুরের ২২ গজে। শুরুর ৩ বলে রান নিলেন ১। এরপর যা করলেন তা রীতিমত চমকে দেওয়ার মতো। ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে মাত্র ১৮ বলে করলেন ফিফটি। যেখানে ছিল ১ চার, ৬ ছক্কা। তার দোর্দণ্ড প্রতাপে শেষ ঝড়ে চিটাগং কিংসের বিপক্ষে খুলনার রান পৌঁছে গেল ২০৩-এ। গতকাল প্রথম দিনে দুই ম্যাচে রান ১৯০ হয়েছিল। তৃতীয় ম্যাচে দুইশ পেরিয়ে গেল দলীয় রান। মাহিদুল ২২ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া ওপেনার উইলিয়াম বসিসটো ৫০ বলে ৭৫ রান করেন ৮ চার ও ৩ ছক্কায়। দুজনের পঞ্চম উইকেট জুটিতেই খুলনার ইনিংসের শেষের চিত্র পাল্টে যায়। মাত্র ৩৫ বলে দলীয় সংগ্রহে ৮৬ রান যোগ করেন দুজন। এর আগে খুলনা টাইগার্সের পঞ্চম উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রান ছিল ২৮। ব্যাটসম্যান ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও ইব্রাহিম জাদরান। চিটাগং কিংসের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনার শুরুটা ভালো ছিল। ৩ ছক্কা ও ১ চারে ২৬ রান করেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। পঞ্চম ওভারে তার ইনিংসটি থামান আলিস আল ইসলাম। তিনে নামা মিরাজ আলো ছড়াতে পারেননি। ১৮ বলে ১৮ রানে থেমে যায় খুলনার অধিনায়কের ইনিংস। ইব্রাহিম জাদরান ৬ রানের বেশি করতে পারেননি। আফিফের ইনিংস থেমে যায় ৮ রানে। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ধীর স্থির থেকে রান তুলছিলেন বসিসটো। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ৩৬ বলে তুলে নেন বিপিএলের প্রথম ফিফটি। এরপর মারমুখী ব্যাটিংয়ে পরের ১৪ বলে আরও ২৫ রান যোগ করেন। চিটাগং কিংসের হয়ে বল হাতে ২টি করে উইকেট নেন আলিস আল ইসলাম ও খালেদ আহমেদ। শরিফুল ছিলেন বিবর্ণ। ৪৭ রানে ছিলেন উইকেটশূন্য।
‘কমরেড’ পুতিনকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কিম

‘কমরেড’ পুতিনকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কিম উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। আজ কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নববর্ষ উপলক্ষে একটি চিঠিতে কিম তার ‘প্রিয় বন্ধু এবং কমরেড’ পুতিন, রাশিয়ান জনগণ এবং রাশিয়ান সামরিক কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিম পুতিনকে তার দায়িত্বশীল ও কঠিন রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের কার্যক্রম এবং রাশিয়ান জনগণের সমৃদ্ধি, মঙ্গল ও সুখে ‘বৃহত্তর সাফল্য’ কামনা করেছেন বলে কেসিএনএ জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার। কেসিএএ’র প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চিঠিতে কিম আরো লিখেছেন, তিনি আশাবাদী ২০২৫ সালে ২০২৪ সালের চেয়েও বেশি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হবে দুই দেশের মধ্যে। এ ছাড়া চিঠিতে ইউক্রেন যুদ্ধের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া আশা করে, ২০২৫ সালে নব্য-নাৎসিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়া সফল হবে। জয় লাভ করবে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, পুতিন প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরু করাটা রাশিয়ান ভাষাভাষীদের ‘নব্য-নাৎসি একনায়কত্ব’ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে।চলতি বছরের জুন মাসে পুতিন দুই দশকের মধ্যে প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর করেন। এসময় দেশ দুটি একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, পিয়ংইয়ং তখন থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ান বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য ১০ হাজারেরও বেশি সেনা পাঠিয়েছে।
প্রাথমিকের ২০২৫ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ

প্রাথমিকের ২০২৫ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী- সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৭৬ দিন বন্ধ থাকবে। গতকাল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মো. মিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, পবিত্র রমজানের ছুটি শুরু হবে ২ মার্চ থেকে। রমজান, ঈদুল ফিতর, জুমাতুল বিদা এবং স্বাধীনতা দিবসসহ একাধিক ছুটি মিলিয়ে এ সময় টানা ২৮ দিন স্কুল বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ এ ছুটির পর ৮ এপ্রিল থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশে টানা ১৪ দিনের ছুটি থাকবে। এই ছুটি শুরু হবে ৩ জুন এবং চলবে ২২ জুন পর্যন্ত। দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার ৭ দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্মীপূজা ও ফাতেহা-ই-ইয়াজ দহমসহ বেশ কয়েকটি ধর্মীয় ছুটি এ সময় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, প্রতিবছরের মতো ২০২৫ সালেও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের হাতে তিনদিনের সংরক্ষিত ছুটি থাকবে, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নিয়ম অনুযায়ী ছুটি থাকবে।
বিপ্লবীদের মিছিল-স্লোগানে মুখরিত শহিদ মিনার

বিপ্লবীদের মিছিল-স্লোগানে মুখরিত শহিদ মিনার রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ায় ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারা দেশ থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে দলে দলে মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করেছে বিপ্লবী ছাত্র-জনতা। ছাত্র-জনতার ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘দিল্লি না ঢাকা ঢাকা’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ,’ ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে শহিদ মিনার এলাকা। আজ সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও শহীদ মিনার এলাকায় জমায়েত হতে শুরু করেন তারা। ছাত্র-জনতার বিভিন্ন দলকে শহিদ মিনারের আশপাশে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলেও তাৎক্ষণিকভাবে অবস্থান নিয়েছেন। আবার কেউ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছেন। চট্টগ্রাম, নাটোর, পঞ্চগড়, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ছাত্র-জনতাও সকাল থেকে শহিদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নেন। ভোরে সিলেট থেকে এসেছেন কিছু শিক্ষার্থী। তারা সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। তারা বলেন, আমরা চাই না বিপ্লব ব্যর্থ হয়ে যাক। আমরা চাই বিপ্লব যেন আগামীর স্বপ্নের দেশ গড়তে ভূমিকা রাখে। এসময় তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী শপথে সারা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আজ শহিদ মিনারে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করার কথা ছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার এ ঘোষণাপত্র পাঠ করবে জানালে আজ ঘোষণাপত্র পাঠ হবে কি না তা নিয়ে বিভ্রান্তি শুরু হয়। এমন প্রেক্ষাপটে ৩০ ডিসেম্বর রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে নিজেদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেখানে বলা হয়, আজ বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ (ঐক্যের জন্য যাত্রা) কর্মসূচি পালন করা হবে।
আগামী বছর থেকে নির্দিষ্ট স্থানে বর্ষবরণ হবে: ডিএমপি কমিশনার

আগামী বছর থেকে নির্দিষ্ট স্থানে বর্ষবরণ হবে: ডিএমপি কমিশনার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, সারা পৃথিবীতেই নববর্ষে পটকা-আতশবাজি ফোটান হয়। তবে তারা নির্দিষ্ট স্থানে এ উৎসব করেন। আগামী বছর থেকে ঢাকায়ও বর্ষবরণ উৎসবের জন্য স্থান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।। এ বছর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহুর্তে সেটা করা সম্ভব হয়নি। আজ থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত পুলিশ মোতায়েন থাকে। প্রত্যেক ফাঁড়ি থেকে রাতের বেলা কমপক্ষে দুটি পেট্রোল টিম থাকে, থানা থেকে চারটি-পাঁচটি টিম থাকে। এটা আমাদের রেগুলার ডিপ্লোয়মেন্ট। আজকে শুধু থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে এর বাইরে তিন হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কিছু পয়েন্টকে টার্গেট করেছি৷ বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশান, ৩০০ ফিট, উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আমাদের পুলিশ ফোর্সের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদফতরের ম্যাজিস্ট্রেটরা থাকবেন। তারা যেকোনো জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে আমাদের ফোর্স তাদের সহযোগিতা করবে। এ সময় ডিএমপি কমিশনার থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি না ফোটানোর জন্য ঢাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান। তার এ আহ্বানে ঢাকাবাসী সাড়া দেবেন বলেও আশা করেন তিনি।