শহীদ মিনার ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা থাকবে: ডিএমপি কমিশনার

শহীদ মিনার ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা থাকবে: ডিএমপি কমিশনার একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এনডিসি। আজ বেলা ১১টায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ডিএমপির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় ডিএমপির বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আজ রাত ১২ টা ০১ মিনিট থেকে উদযাপিত হতে যাচ্ছে। প্রথমে ভিভিআইপি, ভিআইপি এবং তারপরে জনসাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। আনুমানিক রাত ১২টা ৪০ মিনিটে জনসাধারণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলাশী গেট উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তিনি সবাইকে শৃঙ্খলা মেনে শ্রদ্ধা নিবেদন করার অনুরোধ জানান এবং নিরাপত্তার জন্য যাত্রীদের নিজেদের মূল্যবান জিনিসপত্রের প্রতি খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের সমাগম অনেক বেশি হয়, ভিড়ের মধ্যে দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, এবার তিন/চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজ বিকেল ৫টা থেকে আগামীকাল দুপুর ৩টা পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পর্যাপ্ত সংখ্যক অফিসার ও ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন উপলক্ষে আমরা কোনো নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখছি না। ডিএমপির গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে স্থাপন ও দেহ তল্লাশি। কেউ যেন দাহ্য পদার্থ, বিস্ফোরক দ্রব্য বা এই জাতীয় কোনো কিছু নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে। শহীদ দিবস উপলক্ষে ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সরওয়ার জানান, ব্যাপক লোক সমাগম হবে বিধায় শহীদ মিনার কেন্দ্রিক রাস্তা আটকে দেওয়া হবে। সাতটি পয়েন্টে রোড ব্লকার স্থাপন করা হবে: শাহবাগ ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, চাঁনখারপুল ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং ও বকশীবাজার ক্রসিং। তিনি আরো জানান, পায়ে চলাচলের রাস্তা হিসেবে পলাশী ক্রসিং থেকে শহীদ মিনারে প্রবেশ করা যাবে এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রোমানা ক্রসিং-দোয়েল চত্বর হয়ে বের হতে হবে। অন্যান্য পথ বন্ধ থাকবে। ট্রাফিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট রাস্তা আজ রাত ৮টা থেকে বন্ধ করা হবে এবং রাত ৯টায় সব রাস্তায় বন্ধ করে দেওয়া হবে। জনসাধারণকে রাত ১২টা ৪০ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য আসার অনুরোধ জানান তিনি। প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তরুণেরা নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা

তরুণেরা নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা তরুণেরা নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক–২০২৫ প্রদান উপলক্ষে এক ভাষণে তিনি এ কথা জানান। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, ‘‘আমরা এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে বেশি শক্তিশালী, উদ্যমী এবং সৃজনশীল। আমাদের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন অতীতের যে কোনো প্রজন্মের স্বপ্নের চাইতে দুঃসাহসী। তারা যেমন নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করতে চায়, তেমনি একই আত্মবিশ্বাসে নতুন পৃথিবীর সৃষ্টি করতে চায়। নতুন পৃথিবী সৃষ্টিতে তারা নেতৃত্ব দিতে চায়। সে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত। ছেলেরাও প্রস্তুত, মেয়েরাও প্রস্তুত।’’ ‘‘তারা (তরুণেরা) ঘুনে ধরা, আত্মবিনাশী সভ্যতার বন্ধনমুক্ত হয়ে তাদের স্বপ্নের নতুন সভ্যতা গড়তে চায়। যে সভ্যতার মূল লক্ষ্য থাকবে পৃথিবীর সকল সম্পদের ওপর প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা, প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন দেখার এবং সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের সকল সুযোগ নিশ্চিত করা, মানুষের জীবনযাত্রাকে এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে পৃথিবীর অস্তিত্ব কোনো রকম বিঘ্নিত না-হয় এবং পৃথিবীর ওপর বসবাসরত সকল প্রাণীর সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকা কোনো ক্রমেই বিঘ্নিত না হয়।’’ প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৫ উদযাপনের স্মরণীয় দিনে আমরা তরুণদের এই স্বপ্নের আশু বাস্তবায়ন নিশ্চিত হোক এই কামনা করছি। দেশের ভবিষ্যৎ রচনায় পথ দেখিয়ে যারা আজ জাতির পক্ষ থেকে স্বীকৃতি পেলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং তাদেরকে আবারো অভিনন্দন জানাচ্ছি।’’ ‘‘দেশের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব যারা আজ একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন তাদের দেশবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনাদের অবদানের জন্য জাতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আপনারা জাতির পথ প্রদর্শক। আপনাদের অবদানে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি দৃঢ় বিশ্বাসে জাতিপুঞ্জের মজলিসে ক্রমাগতভাবে উন্নততর অবস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।’’ গত ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘‘এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে সুযোগ এসেছে নতুন এক বাংলাদেশ নির্মাণের। আজ এই পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি দেশমাতৃকার জন্য বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রাম, বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে যে সকল সাহসী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন তাদের সকলকে।’’ ড. ইউনূস বলেন, ‘‘দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের অমর একুশে নতুন তাৎপর্য নিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। আমরা জানি, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের অবিনাশী স্মারক। আমাদের স্বাধিকার চেতনার প্রাণপ্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই ফেব্রুয়ারি মাসেই রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে পাকিস্তানি শাসকদের চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছিল ছাত্রসমাজ। ঢাকার রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমাদের স্বাধিকার চেতনার এক অবিশ্বাস্য জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল।’’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ১৭ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নারী ফুটবল দলকে একুশে পদক প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ বছর শিল্পকলায় পাঁচজন, সাংবাদিকতায় একজন, সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারে একজন, সংস্কৃতি ও শিক্ষায় একজন, শিক্ষায় একজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দলগতভাবে চারজন, সমাজসেবায় একজন, ভাষা ও সাহিত্যে দুজন, গবেষণায় একজন এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে জাতীয় নারী ফুটবল দলকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। শিল্পকলার বিভিন্ন শ্রেণিতে পদক পাওয়া পাঁচজন হলেন- চলচ্চিত্রে আজিজুর রহমান (মরণোত্তর), সংগীতে ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া (মরণোত্তর) এবং ফেরদৌস আরা, আলোকচিত্রে নাসির আলী মামুন ও চিত্রকলায় রোকেয়া সুলতানা। আজিজুর রহমানের পক্ষে তার কন্যা আলিয়া রহমান বিন্দি ও নিরোধ বরণ বড়ুয়ার মেয়ে শিল্পী ফাল্গুনী বড়ুয়া পদক গ্রহণ করেন। সাংবাদিকতায় এবার একুশে পদক পেয়েছেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ (মরণোত্তর)। তার পক্ষে পদক নেন তার স্ত্রী। সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারে পদক পেয়েছেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এছাড়া সংস্কৃতি ও শিক্ষা ক্যাটাগরিতে পেয়েছেন বিশিষ্ট তিনজন। ভাষা ও সাহিত্য ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছেন কবি হেলাল হাফিজ (মরণোত্তর) এবং শহীদুল জহির (মরণোত্তর)। হেলাল হাফিজের পক্ষে তার বড় ভাই দুলাল আবদুল হাফিজ এবং শহীদুল জহিরের পক্ষে তার বড় ভাই হাবিবুল হকের কাছে পদক হস্তান্তর করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দলগতভাবে একুশে পদক পেয়েছেন মেহেদী হাসান খান (দলনেতা), রিফাত নবী (দলগত), মো. তানবিন ইসলাম সিয়াম (দলগত) ও শাবাব মুস্তাফা। গবেষণায় মঈদুল হাসান একুশে পদক পেয়েছেন। এছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রে একুশে পদক পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। জাতীয় নারী ফুটবল দলের পক্ষে দলনেতা সাবিনা খাতুন ও সহযোগী দলনেতা মারিয়া মান্দা পদক গ্রহণ করেন। এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ঋণ দেবে সরকার

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ঋণ দেবে সরকার চলতি অর্থবছরে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট হতে ৬০০ জন অসচ্ছল ও দরিদ্র ইমাম-মুয়াজ্জিনকে সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া, আর্থিক সাহায্য হিসেবে ৪ হাজার ৬২০ জন অসহায়-দরিদ্র ইমাম-মুয়াজ্জিনকে পাঁচ হাজার টাকা হারে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকা দেবে মন্ত্রণালয়। আজ ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে ট্রাস্টভুক্ত ইমাম ও মুয়াজ্জিনে সংখ্যা প্রায় ৮৪ হাজার। ট্রাস্টের মাধ্যমে কোন ইমাম বা মুয়াজ্জিন মারাত্মক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্য ব্যাধি ইত্যাদি কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে তাকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া, কোনো ইমাম বা মুয়াজ্জিন আকস্মিক মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে আর্থিক সাহায্য, তাদের মেধাবী ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার জন্য সাহায্য এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়াসহ সার্বিক কল্যাণে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এদিকে, ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইমামদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। আজ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট হতে নির্বাচিত ইমাম মুয়াজ্জিনদের মাঝে আর্থিক অনুদান ও সুদমুক্ত ঋণের চেক বিতরণকালে তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইমামরা প্রশিক্ষণের আওতায় আসছে। এ প্রশিক্ষণে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির প্রশিক্ষণ মডিউল অনুসরণ করা হবে। তুরস্কের আল মুয়াসসাসা দিয়ানা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্বে থাকবে ধর্ম মন্ত্রণালয়।’’ খালিদ হোসেন বলেন, ‘‘বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট একটি সমাজবান্ধব ট্রাস্ট। এ ট্রাস্টের মাধ্যমে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সুদমুক্ত ঋণ ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এ ট্রাস্টের মাধ্যমে একটি মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনের বিষয়েও কাজ চলছে।’’ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের পরিচালক শফিউল আলম, ধর্ম উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদসহ ইফার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আগামীকাল একুশে পদক দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

আগামীকাল একুশে পদক দেবেন প্রধান উপদেষ্টা আগামীকাল একুশে পদক প্রদান করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কাল বেলা ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ পদক বিতরণ করা হবে। পদক বিতরণ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। আজ প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহাম্মদ এ তথ্য জানান। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৮ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও দলকে একুশে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। মনোনীতরা হলেন- চলচ্চিত্রে আজিজুর রহমান (মরণোত্তর), সংগীতে ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া (মরণোত্তর) ও ফেরদৌস আরা, আলোকচিত্রে নাসির আলী মামুন ও চিত্রকলায় রোকেয়া সুলতানা, সাংবাদিকতায় মাহ্ফুজ উল্লাহ (মরণোত্তর), গবেষণায় মঈদুল হাসান, শিক্ষায় ড. নিয়াজ জামান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেহদী হাসান খান (দলনেতা), রিফাত নবী (দলগত), মো. তানবিন ইসলাম সিয়াম (দলগত) ও শাবাব মুস্তাফা (দলগত)। সমাজসেবায় মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী (মরণোত্তর), ভাষা ও সাহিত্যে হেলাল হাফিজ (মরণোত্তর) ও শহীদুল জহির (মো. শহিদুল হক) (মরণোত্তর), সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারে মাহমুদুর রহমান, সংস্কৃতি ও শিক্ষায় ড. শহিদুল আলম এবং ক্রীড়ায় বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে চালু করা একুশে পদক সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দিয়ে থাকে। দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখা ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক দেওয়া হচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তন, পেছালো বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা

এসএসসি পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তন, পেছালো বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা পরীক্ষা শুরুর তারিখ অপরিবর্তিত রেখে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে এ পরীক্ষা শুরু হবে। গত ১২ ডিসেম্বর এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। তাতে ১০ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হয়ে ৮ মে পর্যন্ত তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নতুন সূচি অনুযায়ী, তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ১৩ মে। আজ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। প্রথম প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা ১৩ মে অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ের পরীক্ষাটি ১৩ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। সংশোধিত রুটিনে আগের মতোই তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ১০ মে থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে। ১৮ মের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে। অন্যদিকে, আগামী ২৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর তারিখ নির্ধারণ করে বুধবার সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
ফিলিপাইনে মশা ধরে দিলে নগদ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা

ফিলিপাইনে মশা ধরে দিলে নগদ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা মশা ধরে দিলে নগদ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ফিলিপাইনের জনবহুল অঞ্চল মেট্রো ম্যানিলার একটি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। মৃত অথবা জীবিত উভয় মশা ধরে জমা দিলেই দেওয়া হবে অর্থ। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রতিরোধে আজ এমন ঘোষণা দেয় অ্যাডিশনাল হিলস পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ওই পৌরসভার প্রধান কার্লিতো কার্নাল বলেছেন, পাঁচটি মশা জমা দিলে এক পেসো (২ টাকা) দেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছেন, তার এলাকায় ডেঙ্গুতে দুজন ছাত্রের মৃত্যুর পর তারা এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাস্তাঘাঁট পরিস্কার রাখা, পানি জমতে না দেওয়ার যেসব কার্যক্রম তাদের রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন কার্যক্রমটি।জীবিত ও মৃত মশার পাশাপাশি লার্ভা জমা দিলেও মিলবে নগদ অর্থ। যেসব জীবিত মশা সংগ্রহ করা হবে সেগুলো অতি বেগুনি রশ্মি ব্যবহার করে নির্মূল করা হবে। তবে এমন ‘অদ্ভুদ’ ঘোষণাটি বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে একজন মজা করে লিখেছেন, “সেখানে এখন ইচ্ছাকরে মশার চাষ করা হবে। যেগুলো পরে বিক্রি করা হবে।” আরেকজন লিখেছেন, “যদি একটি পাখা থাকে তাহলে কী ওই মশা নেওয়া হবে না?” তবে ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য বিভাগ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছে, স্থানীয় সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটিকে তারা স্বাগত জানায়।পৌরসভা প্রধান কার্নাল বলেছেন, তিনি জানেন তার এ ঘোষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের এলাকাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে তারা সব ধরনের উদ্যোগই নিচ্ছেন। অ্যাডিশনাল হিলস নামের ওই শহুরে এলাকাটিতে ৭০ হাজার মানুষ বাস করেন। সাম্প্রতিক সময়ে সেখান ৪৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। মৌসুমী ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে ফিলিপাইনে বেড়েছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
কিডনি ড্যামেজ হওয়ার ৭ লক্ষণ

কিডনি ড্যামেজ হওয়ার ৭ লক্ষণ কিডনির স্বাস্থ্যের কথা বলতে গেলে, বেশিরভাগ মানুষই কোমরের ব্যথা এবং প্রস্রাবের পরিবর্তনের মতো সাধারণ লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন। তবে কিডনির ক্ষতি অস্বাভাবিক উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করা হয়। সেই প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণগুলো সনাক্ত করতে পারলে তা জটিলতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিডনি ড্যামেজ হওয়ার কিছু লক্ষণ সম্পর্কে- ১. মুখের মধ্যে ধাতব স্বাদ দীর্ঘস্থায়ী ধাতব স্বাদ বা মুখে দুর্গন্ধ কিডনির ক্ষতির লক্ষণ হতে পারে। এটি রক্তপ্রবাহে বিষাক্ত পদার্থ জমা হওয়ার কারণে ঘটে, যা ইউরেমিয়া নামে পরিচিত। যা স্বাদ উপলব্ধি এবং নিঃশ্বাসের গন্ধকে পরিবর্তন করে। ২. চুলকানি এবং শুষ্ক ত্বক যদিও ত্বকে চুলকানি বিভিন্ন কারণে হতে পারে, তবে ক্রমাগত শুষ্কতা এবং জ্বালা কিডনির কর্মহীনতা নির্দেশ করতে পারে। কিডনি খনিজ এবং তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিডনি ড্যামেজ হতে শুরু করলে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে ত্বকের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। ৩. অস্বাভাবিক স্থানে ফোলাভাব এটি কিডনি রোগের একটি সুপরিচিত লক্ষণ, তবে এটি সবসময় গোড়ালি এবং পায়ের মতো স্থানে দেখা যায় না। মুখ, হাত, এমনকি চোখের চারপাশে ফোলাভাব কিডনির কার্যকারিতা হ্রাসের একটি প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণ হতে পারে। ৪. শ্বাসকষ্ট হালকা কাজের পরে যদি বাতাসের জন্য হাঁপাতে থাকেন, তবে এটি কিডনির ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কিডনি শরীরে তরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং সঠিকভাবে কাজ না করলে ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমা হতে পারে, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। ৫. ক্লান্তি দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ফলে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন কমে যেতে পারে, যার ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্ক এবং পেশীতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। যার ফলে ক্রমাগত ক্লান্তি এবং মনোযোগ দিতে সমস্যা দেখা দেয়। ৬. ঘন ঘন পেশীতে খিঁচুনি ক্যালসিয়ামের কম মাত্রা এবং ফসফরাসের উচ্চ মাত্রার মতো ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা ঘন ঘন পেশীতে খিঁচুনি সৃষ্টি করতে পারে। যদি আপনি কোনো আপাত কারণ ছাড়াই এই সমস্যাগুলো অনুভব করেন, তাহলে কিডনির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিন। ৭. সব সময় ঠান্ডা লাগা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা উষ্ণ পরিবেশেও অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগার কথা জানান। এটি রক্তস্বল্পতার সঙ্গে সম্পর্কিত। যা টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়, এর ফলে ক্রমাগত ঠান্ডা লাগার অনুভূতি হয়।
তৃতীয় সংসারও টিকলো না হৃদয় খানের

তৃতীয় সংসারও টিকলো না হৃদয় খানের দেশের সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় গায়ক হৃদয় খানের তৃতীয় সংসারেও ভাঙনের খবর মিলেছে। স্ত্রী হুমায়রার সঙ্গে একছাদের নিচে থাকছেন না হৃদয় খান। এই শিল্পীর পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, হৃদয়কে ডিভোর্স দিয়েছেন তার তৃতীয় স্ত্রী হুমায়রা। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি এই দম্পতি। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের কয়েক বছর সংসার করলেও হৃদয় খানের আচরণ ও জীবনযাপনে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন হুমায়রা। বহুদিন ধরেই নাকি একছাদের নিচে থাকছেন না হৃদয় খান ও তার স্ত্রী হুমায়রা। গায়কের ওপরে নানা কারণে অতিষ্ঠ ছিলেন তিনি। যে কারণে এই শিল্পীকে ডিভোর্স লেটার পাঠান। তবে বিচ্ছেদ হলেও পুরো বিষয়টি দুই পরিবারই গোপন রেখেছে। এমনকি বিচ্ছেদ নিয়ে হৃদয় খানও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঢাকা পোস্টের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, পুরো বিষয়টি ‘ব্যক্তিগত’ মন্তব্য করেই শেষ করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, নিজের চেয়ে বয়সে বড় দেশের জনপ্রিয় মডেল অভিনেত্রী সুজানা জাফরকে বিয়ে করে চারদিকে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন হৃদয় খান। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট সুজানাকে বিয়ে করেন এই সংগীতশিল্পী। এরপর ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। এরপর ২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পারিবারিক আয়োজনে হুমায়রাকে বিয়ে করেন হৃদয় খান। কয়েক মাস পর রাজধানী একটি পাঁচ তারকা হোটেলে হৃদয় খান-হুমায়রার বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। হুমায়রার সঙ্গে এটি ছিল হৃদয় খানের তৃতীয় বিয়ে। এর আগে পূর্ণিমা আকতার নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন হৃদয়। সেই সংসারও বেশিদিন টেকেনি। এরই মধ্যে শোনা গেল তৃতীয় সংসারেও ভাঙনের খবর।
ভিকি-রাশমিকার জয়রথ চলছেই

ভিকি-রাশমিকার জয়রথ চলছেই রাশমিকা মান্দানা অভিনীত চলতি বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমা ‘ছাবা’। লক্ষ্মণ উতেকার নির্মিত এই সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ভিকি কৌশল। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের ৪ হাজার পর্দায় মুক্তি পায় এটি। মুক্তির আগেই বিতর্কে জড়ায় হিন্দি ভাষার ‘ছাবা’ সিনেমা। বাধ্য হয়েই আপত্তি ওঠা গানটি সিনেমা থেকে বাদ দেন নির্মাতারা। এসব বিষয় নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হওয়ার আগে থেকেই আলোচনায় এটি। মুক্তির পর দর্শক সমালোচকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। তবে শুরু থেকেই বক্স অফিসে সাড়া ফেলে সিনেমাটি। আয়ের গ্রাফ ওঠানামা করলেও ভিকি-রাশমিকার সিনেমাটি এখনো বক্স অফিস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুসারে, ‘ছাবা’ পাঁচদিনে শুধু ভারতে আয় করেছে ১৯৮.৮৫ কোটি রুপি। বিদেশে আয় করেছে ৩০ কোটি রুপি। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২২৮.৮৫ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২০ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বেশি)। ‘ছাবা’ সিনেমার গল্প শিবাজির পুত্র ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের জীবনের ওপর ভিত্তি করে এগিয়েছে। ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের চরিত্রে ভিকি কৌশল ও মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের চরিত্র রূপায়ন করেছেন অক্ষয় খান্না। সম্ভাজি মহারাজের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাশমিকা মান্দানা। তা ছাড়াও অভিনয় করেছেন— আশুতোষ রানা, ডিয়ানা পেন্টি, দিব্যা দত্ত প্রমুখ। দীনেশ বিজন প্রযোজিত এ সিনেমা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪০ কোটি রুপি।
২০৩২ সালে পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে মহাকাশ শিলা, যা বলছেন বিজ্ঞানীরা

২০৩২ সালে পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে মহাকাশ শিলা, যা বলছেন বিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুসারে, ‘২০২৪ YR4’ নামের একটি গ্রহাণু ২০৩২ সালে পৃথিবীতে আঘাত হানার ৩.১% সম্ভাবনা রয়েছে। এই হার এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২.৬% থেকে বেড়ে ৩.১%-এ পৌঁছেছে। প্রায় ১৭৭ ফুট চওড়া এই গ্রহাণুটি আকারে একটি বহুতল ভবনের সমান। যদিও এটি মানবসভ্যতা ধ্বংসের মতো বড় নয়, তবে এটি একটি বিশাল শহর নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বলে জানিয়েছে লাইভসাইন্স (LiveScience)। এ বিষয়ে প্ল্যানেটারি সোসাইটির প্রধান বিজ্ঞানী ব্রুস বেটস বলেন, আমি আতঙ্কিত নই। স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাবনা বাড়তে দেখলে ভালো লাগে না, তবে এটি নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, পর্যবেক্ষণের ফলে প্রথমদিকে সম্ভাবনা বাড়তে পারে, তবে পরে তা দ্রুত শূন্যে নেমে আসার সম্ভাবনাই বেশি। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী একটি সিমুলেশন শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখানো হয়েছে কেমন ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে এই মহাকাশ শিলা। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থ্রিডি অ্যানিমেশন বিশেষজ্ঞ আলভারো গ্রাসিয়া মন্টোয়া এই সিমুলেশন তৈরি করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, গ্রহাণুটি একটি বড় শহরে আঘাত হেনে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করছে। ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর ‘২০২৪ YR4’ গ্রহাণুটিকে প্রথম চিলির এল সস অবজারভেটরি শনাক্ত করে। এরপর, আন্তর্জাতিক গ্রহাণু সতর্কীকরণ নেটওয়ার্ক (IAWN) জানুয়ারিতে একটি সতর্কতা জারি করে, যখন এর পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা ১% ছাড়িয়ে যায়। তখন থেকে এর সম্ভাবনা ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। NASA-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ YR4 গ্রহাণুটি ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৯৬.৯% সম্ভাবনা রয়েছে, এটি পৃথিবীকে এড়িয়ে যাবে। LiveScience-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গ্রহাণুটির গতিপথ সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া গেলে এই ঝুঁকি শূন্যে নেমে আসতে পারে। এছাড়াও, একটি ছোট সম্ভাবনা রয়েছে (০.৩%) যে গ্রহাণুটি পৃথিবীর বদলে চাঁদে আঘাত হানতে পারে। গবেষকরা গ্রহাণুটির গতিপথ নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন, যা ভবিষ্যতে আরো নির্ভুল বিশ্লেষণ দিতে পারবে। NASA এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলো এই গ্রহাণুর গতিপথ নিয়ে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঝুঁকি বেশি দেখায়, তবে পরবর্তী বিশ্লেষণে তা কমে আসে। বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৪ YR4-এর পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে এটি মহাকাশ গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণযোগ্য বস্তু। সূত্র : এনডিটিভি