ভোলাহাটে অবৈধ ৫ ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত, ৫ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড আদায়

ভোলাহাটে অবৈধ ৫ ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত, ৫ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড আদায় ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে লাইসেন্সবিহীন ৫টি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই ভাটা ৫টি থেকে ৫ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড আদায় সহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আজ সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তর ঢাকার মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট উইং এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্টেট (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো: রবিউল আলম। এর আগে গতকাল দিনব্যাপী জেলার নাচোল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে লাইসেন্সবিহীন ৩টি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়ে ভাটাগুলো থেকে ৭ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়। এ নিয়ে টানা দু’দিনে জেলার দুই উপজেলায় মোট ৮টি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়ে মোট ১২ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড আদায় করল পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু সাঈদ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসক প্রদত্ত ইট পোড়ানো অনুমতি না থকায় ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, র্যাব-৫ ব্যাটালিয়ন এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ভোলাহাটে দিনব্যাপী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মেসার্স মদিনা ব্রিকস ফিল্ডস, মেসার্স সেভেনে স্টার ব্রিকস, মেসার্স হিরো ব্রিকস,মেসার্স জে টাটা ব্রিকস এবং মেসার্স মেঘনা জিগজ্যাগ ব্রিকস এর প্রত্যেকটিকে ১ লক্ষ টাকা করে মোট ৫ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড আরোপ ও আদায় করা হয়। এছাড়া ভাটা ৫ টি এক্সেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে পানি ঢেলে চিমনি নিভিয়ে সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরণের অভিযান অব্যহত থাকবে বলেও জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু সাঈদ।
টাকা পাচার বন্ধে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ পাস

টাকা পাচার বন্ধে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ পাস ব্যাংকের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে দেশ থেকে টাকা পাচার বন্ধ করতে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ পাস করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বা অর্থনৈতিক অপরাধ যে গোষ্ঠীগুলো করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক কাজগুলো হয়েছে। এখন ফিন্যান্সিয়াল অপরাধে যারা জড়িত ছিলেন তাদের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করতে আলাদা কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া কর্পোরেট এবং ব্যাংকিং সেক্টরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আনার জন্য ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে। রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য এই ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ আজকে আমরা পাস করেছি। আমরা আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনায় সাধারণ আমানতকারীদের বিপদে পড়তে না হয় সেজন্য এক্ষেত্রে শৃঙ্খলা কেমন করে আনা হবে, বাংলাদেশ ব্যাংককে কতটুকু ক্ষমতা দেওয়া হবে, প্রতিষ্ঠানটি কোনো পর্যায়ে গিয়ে ইন্টারভেন (হস্তক্ষেপ) করবে সেগুলো এতদিন স্পষ্ট ছিল না আইনে, এখন স্পষ্ট করা হলো। একইসঙ্গে দেওয়ানী মামলার আইন ‘দ্য কোড অব সিভিল প্রসিডিউর – ১৯০৮’ (সিপিসি) এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংশোধনী এনে আধুনিক করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি জানান, মামলায় কতবার সময় নেওয়া যাবে এমন বিষয় সংশোধন করা হয়েছে। লিস্টে পূর্ণ শুনানি ও আংশিক শুনানির মামলা কতবার আসবে সেগুলো সুনিদিষ্ট করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া অনেকাংশেই সেকেলে রয়ে গেছে। বিচার প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়নের কথা বলা হয়েছে। এখন থেকে সমন জারি টেলিফোন, এসএমএস ও আধুনিক ডিভাইসের মাধ্যমে করা যাবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া কাউকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার জন্য যেসব মামলা করা হয় তার শাস্তি আগে ২০ হাজার টাকা ছিল। এখন সেটি পরিবর্তন করে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। উপদেষ্টা আরও বলেন, অভিন্ন জলরাশির পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দুইটি আইন রয়েছে। এর একটিতে বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ মিরাজ, দর্শকের পছন্দে শীর্ষে ঋতুপর্ণা

বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ মিরাজ, দর্শকের পছন্দে শীর্ষে ঋতুপর্ণা ২০২৪ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। অন্যদিকে দর্শকদের ভোটে সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাথলেট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নারী ফুটবল দলের মিডফিল্ডার ঋতুপর্ণা চাকমা। আজ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড ২০২৪ প্রদান করা হয়। পুরস্কারের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয় দেশের খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের সেরা ক্রীড়াবিদ ও সংশ্লিষ্টদের। বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ (স্পোর্টস পারসন অব দ্য ইয়ার) নির্বাচিত হওয়ার দৌড়ে মিরাজ পেছনে ফেলেন সাফজয়ী ফুটবলার ঋতুপর্ণা ও অলিম্পিক কোয়ালিফায়ার আর্চার সাগর ইসলামকে। অন্যদিকে ‘পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’-এর লড়াইয়ে ঋতুপর্ণা এগিয়ে যান মিরাজ ও পেসার নাহিদ রানার চেয়ে। সম্মাননা পেলেন যারা বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ (স্পোর্টস পারসন অব দ্য ইয়ার): মেহেদী হাসান মিরাজ (চ্যাম্পিয়ন – ক্রিকেট) ঋতুপর্ণা চাকমা (রানারআপ – ফুটবল) সাগর ইসলাম (রানারআপ – আর্চারি) পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড: ঋতুপর্ণা চাকমা (ফুটবল) অন্যান্য বিভাগে বিজয়ীরা: বর্ষসেরা ক্রিকেটার: মেহেদী হাসান মিরাজ বর্ষসেরা ফুটবলার: ঋতুপর্ণা চাকমা বর্ষসেরা আর্চার: সাগর ইসলাম বর্ষসেরা অ্যাথলেট (ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড): জহির রায়হান উদীয়মান ক্রীড়াবিদ: নাহিদ রানা (ক্রিকেট) বর্ষসেরা দাবাড়ু: মনন রেজা নীড় বর্ষসেরা দলগত সাফল্য: অনূর্ধ্ব-২১ জাতীয় হকি দল সক্রিয় সংস্থা: যশোর শামস-উল-হুদা অ্যাকাডেমি বর্ষসেরা কোচ: মওদুদুর রহমান শুভ (হকি) তৃণমূল ক্রীড়াব্যক্তিত্ব: বীরসেন চাকমা (ফুটবল সংগঠক, রাঙামাটি) বর্ষসেরা সংগঠক: মো. ইমরুল হাসান (সভাপতি, বসুন্ধরা কিংস) বর্ষসেরা আম্পায়ার: শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত বিশেষ সম্মাননা: হামিদুল ইসলাম (২০১০ এসএ গেমসের সোনাজয়ী ভারোত্তোলক) বিজয়ীদের প্রতিক্রিয়া বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হওয়ার পর মিরাজ বলেন, “বিএসপিএ প্রতি বছর যে সুন্দর আয়োজন করে, তার জন্য ধন্যবাদ। এখানে এসে বিভিন্ন খেলার খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়—এই বিষয়টি আমাকে ভীষণ আনন্দ দেয়। ” অন্যদিকে ঋতুপর্ণা ভিডিও বার্তায় জানান, “খেলার জন্য ভুটানে অবস্থান করায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারিনি, তবে এই সম্মাননা আমাকে আগামীতে আরও ভালো করতে অনুপ্রাণিত করবে। বিএসপিএকে আন্তরিক ধন্যবাদ। “ আয়োজক ও অতিথিদের বক্তব্য বিএসপিএ (বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন) ১৯৬৪ সাল থেকে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। এবারের আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী প্রমুখ। নিজের বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ বলেন: “এই আয়োজন ক্রীড়াঙ্গনে আশার আলো জাগাবে। আমরা বাজেট বৃদ্ধিসহ ক্রীড়াক্ষেত্রে গঠনমূলক পরিবর্তনে কাজ করছি। ” অঞ্জন চৌধুরী বলেন, “বিএসপিএ’র পাশে আমরা আছি, থাকবো। বিশেষ করে জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে আরও মনোযোগী হওয়া জরুরি। “
গাছে গাছে দুলছে আমচাষিদের স্বপ্ন ৪ লাখ মে.টন উৎপাদনের প্রত্যাশা

গাছে গাছে দুলছে আমচাষিদের স্বপ্ন ৪ লাখ মে.টন উৎপাদনের প্রত্যাশা আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সুস্বাদু সুমিষ্ট আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এই জেলায় উৎপাদিত আমের সুনামের কারণে অন্য জেলার আমকেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে চালিয়ে দেয়া হয়। এবার আমের রাজধানীতে ৩৭ হাজার ৬০৪ হেক্টর বাগানে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় চার লাখ মেট্রিক টন। কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও এবার প্রায় শতভাগ আমগাছে মুকুল এসেছিল। মৌসুমের শেষের দিকে অতিমাত্রায় ঠাণ্ডার মধ্যেও গাছে গাছে মুকুল দেখে কৃষকদের মনে হয়েছিল, এবার আমের ফলন ভালো হবে। তবে শেষ পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ ভাগ গাছে আম দেখা দেয়। যা দেখে আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা স্বপ্ন বুনছেন লাভের আশায়। মাঝখানে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার আম বেচাকেনা হতে পারে অনেকেই মত প্রকাশ করেন। ক্যালেন্ডারের হিসাবে আসছে মে মাসের শেষের দিকে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠের মধুমাসে বাজারে নামবে বাহারি সব আম। জেলার বাগানগুলোয় এখন শোভা পাচ্ছে ছোট থেকে বড় বড় আমের গুটি। এদিকে চৈত্রের শুরুতে দুই দফায় বৃষ্টি হওয়ায় আমের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনলেও এক সপ্তাহ আগে থেকে চলমান খরা ও মৃদু তাপপ্রবাহ আম উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আমচাষিরা। বাগানের সবচেয়ে ছোট গাছের গুটি মটরদানা ও মার্বেলের আকারে শোভা পাচ্ছে। তবে বাগানের অধিকাংশ বড় গাছে আমের মুকুল ও গুটি হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম। খরার কারণে বাগানে গুটি আম শুকিয়ে ঝরে যাচ্ছে। খরায় আমের গুটি যাতে ঝরে না পড়ে তাই এরই মধ্যে বাগানে সেচসহ বিভিন্ন পরিচর্যা করছেন আমচাষিরা। এছাড়া ক্ষতিকর পোকা দমনে বাগানে কীটনাশক স্প্রেও করছেন তারা। বাগানমালিক ও আমচাষিরা জানিয়েছেন, এক বছর ভালো ফলন হলে পরের বছর কম ফলন হয়। ফলনগত দিক থেকে স্থানীয়দের কাছে কমের বছর ‘অফ ইয়ার’ এবং ভালো ফলনের বছর ‘অন ইয়ার’ হিসেবে পরিচিত। সে হিসাবে এবার অন ইয়ার, বলছেন তারা। আমচাষিরা বলছেন, আবহাওয়ার কারণে এবার আম গাছগুলোয় বেশি বেশি পরিচর্যা করতে হচ্ছে। গতবছরের তুলনায় এবার বালাইনাশক, রাসায়নিক সার বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। এদিকে চৈত্রের তেজেও বোটা শুকিয়ে গুটি ঝরে যাচ্ছে। তাই বাড়তি খরচে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে এবার আম উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে আম চাষাবাদ হয়েছে ৩৭ হাজার ৬০৪ হেক্টর জমিতে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও জেলার অন্যতম আমচাষি মুনজের আলম মানিক বলেন- এবার অন ইয়ার হিসেবে যতটা আম হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। তার কারণ, মুকুলের সময় হালকা বৃষ্টি, রাতের তাপমাত্র কমে যাওয়া এবং দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি। সবমিলিয়ে আমচাষে এবার প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। তবে বাগানে পর্যাপ্ত আম আছে। তিনি বলনÑ গতবছরের তুলনায় এবার সার-কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেই সঙ্গে কৃষি শ্রমিকের খরচও বেড়েছে। গতবছর শ্রমিকের মজুরি ছিল সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, এবার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। ইউরিয়া সারের দাম শতকরা ২৫ ভাগ বেড়েছে। এছাড়া কীটনাশকের দাম ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। মানিক আরো বলেন- বরেন্দ্র এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির অধিক ব্যবহারের কারণে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। সবমিলিয়ে চাষিদের এবার আম উৎপাদনে খরচ অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি বিষয়ে বলেন- কোনো কোম্পানি যদি দাম বৃদ্ধি করে থাকে, তাহলে সেটার বিষয়ে তো কারোর কিছু করার নেই। তবে প্যাকেটের গায়ে লেখা নির্ধারিত মূল্যের অধিক কেউ নিলে সেটা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমরা দেখব। তবে সারের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগই নেই বলে জানান। আমের উৎপাদন বিষয়ে তিনি বলেন- মাঝখানে কিছুটা খরা গেল, সেই কারণে এবং যারা সেচ দেয়নি তাদের বাগানে কিছুটা গুটি ঝরেছে। তবে যারা সেচ দিয়েছে, তাদের বাগানে আমের কোনো ক্ষতি হয়নি। আমের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য কৃষি বিভাগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে এবার জেলায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২৯০ মেট্রিক টন আমের ফলন হতে পারে বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শীর্ষ এই কর্মকর্তা। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাংগো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেনÑ শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আশা করা যায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। এর বাজার মূল্য হবে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় যেসব আমচাষ হয় তার মধ্যে প্রথমে বাজারে আসে বিভিন্ন ধরনের গুটি আম। এরপর সুমিষ্ট আমগুলোর মধ্যে আসে গোপাল ভোগ। এটি শেষ হবার আগেই আসে সুস্বাদু ক্ষিরসাপাত। এরপর আসে লক্ষণভোগ, আ¤্রপালি, বারি-৪, আমের রাজা ফজলি। সব শেষে আসে টকমিষ্টি স্বাদের আশি^না। এর মধ্যেই আসে হালে চাষ হওয়া কাটিমনসহ অন্যান্য আম।
জেলার বাজারে বেড়েছে সবজির দাম; চালের দামও উর্ধ্বমুখি

জেলার বাজারে বেড়েছে সবজির দাম; চালের দামও উর্ধ্বমুখি চাঁপাইনবাবগঞ্জে সকল প্রকার সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধির কারণ বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। এছাড়া চিকন চালের দামও উর্ধ্বমুখি রয়েছে। আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। নিউমার্কেটের আব্দুর রহমান বাবু জানান, জিরাসাইল চাল প্রতিকেজি ৮৫-৮৬ টাকা, মিনিকেট চাল ৮৮-৯০ টাকা, সাদা স্বর্ণা ৫০-৫২ টাকা, লাল স্বর্ণা ৫৬-৫৮ টাকা, ৬৩ ধানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে থেকে ৭৫-৭৮ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা, চিনি ১১৭-১১৮ টাকা, মসুর ডাল ১৪০ টাকা, দেশী ছোলার ডালের দাম ১৪০ টাকা, খেসাড়ির ডাল ১২০ টাকা, মটোর ডাল ১৪০ টাকা, মাসকলাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা ও মুগ ডাল প্রতি কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। আর ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৪০ টাকায়। তিনি জানান, খোলা আটা ৩৮-৪০ টাকা ও প্যাকেট আটা ৪৫-৫০ টাকা কেজি, এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সবজি বিক্রেতা আব্দুর রশিদ রহমান জানান, রমজানের পর সব ধরণের সবজির দাম বাড়ছে। সরবরাহ কম থাকায় দাম বৃদ্ধির কারণ বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, বেগুনের দাম মানভেদে প্রতি কেজি পটোল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, বেগুন ৬৫-৭০ টাকা, পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৭০ টাকা, দেশী করোলা ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, শসা ৫০-৫৫ টাকা, টমেটো ৩৫-৫০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা, দেশী সজনে ডাটা ৮০-১২০ টাকা, দেশী কাঁচকলা ৩৫-৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫-৩০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০-৭০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা ও চাল কুমড়া ৭০ টাকা প্রতি পিস। এদিকে মাছ বিক্রেতারা জানান, ছোট মিড়কা মাছ বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা, রুই ওজনভেদে ২৩০-৩৫০ টাকা, বড় কাতলা ৩২০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০ টাকা, শোল ৬৫০-৭০০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০-১৪০০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, সিং ৬০০-৮০০ টাকা, বোয়াল ৭৫০-৮০০ টাকা, আইড় মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৬০ টাকা, পিয়ালি ৬০০ টাকা, ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা, একজি ওজনের ইলিশ ২০০০-২২০০ টাকা, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৬০০ টাকা। এদিকে মুরগি বিক্রেতা আলম জানান, দেশী মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৩০-৫৪০ টাকা, শরিফুল জানান, সোনালি বা পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, লাল লেয়ার ৩০০-৩১০ টাকা, সাদা লিয়ার ২৭০ টাকা, প্যারেন্স মুরগি ৩৪০ টাকা এবং ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি। অন্যদিকে মাংস বিক্রেতারা জানান, ভালো মানের গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছাগলের মাংস ৯০০-১১০০ টাকা এবং ভেড়ার মাংস ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গোমস্তাপুরে খালে ডুবে শিশুর মৃত্যু

গোমস্তাপুরে খালে ডুবে শিশুর মৃত্যু গোমস্তাপুরে খালের পানিতে ডুবে রিশাদ (২০ মাস) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বেগম নগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ২০ মাস বয়সী রিশাদ বেগম নগর গ্রামের নবির উদ্দিনের ছেলে। গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রইস উদ্দিন জানান, রিশাদ হাঁটতে শিখেছে। পরিবারের অজান্তে সকালে খেলতে খেলতে বাড়ির পাশে খালের পানিতে ডুবে যায়। পরে শিশুটি ভেসে উঠলে পরিবারের লোকজন মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ১২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক চীনের

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ১২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক চীনের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পাল্টা জবাব দিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে এবার ১২৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। আগামীকাল থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। বুধবার বেইজিং মার্কিন পণ্যের ৮৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করে। বাণিজ্যযুদ্ধে এটি এক চলমান প্রবণতা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়ানোর পর চীনও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে।বেইজিং বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর আর কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ‘অস্বাভাবিক উচ্চ শুল্ক’ আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক বাণিজ্য নীতিমালা, মৌলিক অর্থনৈতিক আইন এবং সাধারণ বুদ্ধিমত্তার পরিপন্থী। এটি সম্পূর্ণ একপেশে হয়রানি ও জবরদস্তি। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক এখন সংখ্যার খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে, অর্থনৈতিক দিক থেকে যার কোনো বাস্তব মানে নেই। তিনি আরও বলেন, এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের ‘হয়রানি ও জবরদস্তি’ আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে এবং ‘এটি এক ধরনের হাস্যকর পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়াবে’। এদিকে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার বেড়ে এখন কার্যত ১৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশে চীনের ওপর শুল্কহার ৮৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। এর আগে প্রেসিডেন্ট চীনের ওপর ফেন্টানিল-সম্পর্কিত ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, আর নতুন শুল্ক তার ওপরই যুক্ত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের যেসব দেশের পণ্যে উচ্চহারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন, ০৯ এপ্রিল তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে এদিনই তিনি জানিয়ে দেন চীন, কানাডা ও মেক্সিকো বাদে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপর আরোপ করা পাল্টা শুল্ক আগামী ৯০ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে এই ৯০ দিন, অর্থাৎ তিন মাস এই দেশগুলোর সবার জন্য বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক হার প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশকে স্বাগত জানিয়ে যা বলল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশকে স্বাগত জানিয়ে যা বলল যুক্তরাষ্ট্র আর্টেমিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় বাংলাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়। গত ৮ এপ্রিল বিশ্বের ৫৪তম দেশ হিসেবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল বিনিয়োগ সম্মেলনে বাংলাদেশ আর্টেমিস চুক্তির ৫৪তম স্বাক্ষরকারী দেশ হয়। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসনের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আর্টেমিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ একটি টেকসই সম্পর্ক উপভোগ করছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কাজ করতে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে এই সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আর্টেমিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে বাংলাদেশ মহাকাশে শান্তিপূর্ণ অন্বেষণের স্বপ্ন দেখে।’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে উভয় দেশ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালে সাতটি সহযোগী দেশের সঙ্গে মিলে আর্টেমিস অ্যাকর্ড প্রবর্তন করে। এটি একটি ব্যবহারিক নীতিমালার সংকলন, যার লক্ষ্য হলো মহাকাশে দায়িত্বশীল ও টেকসই নাগরিক অন্বেষণ কার্যক্রম পরিচালনা। বর্তমানে চুক্তিতে বাংলাদেশসহ আরও ৫৩টি দেশ রয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউক্রেন, থাইল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল অন্যতম। এছাড়া আরও অনেক দেশ রয়েছে। এই চুক্তির বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং নাসা মূল নেতৃত্ব প্রদান করে থাকে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প!

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প! রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ গোলাম মোস্তফা গণমাধ্যমকে জানান, এটি হালকা ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.০। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে। গোলাম মোস্তফা আরও জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ঢাকার আগারগাঁওয়ের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে ১০৫ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্ব দিকে। তবে ইউরোপিয়ান-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশের কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর ও ভারতের আগরতলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার উত্তরে। এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের পর ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবা দেওয়াকারী সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তবে সারাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের সময় অনেকে টের পাননি। এর ফলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে কম। যারা বুঝতে পেরেছেন, তাদের অনেকেই দৌঁড়ে বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে যান নিরাপদ জায়গায়। গত ২৮ মার্চ প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। ওইদিন প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। পরে ১২ মিনিটের ব্যবধানে আরেকটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। শক্তিশালী ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের মান্দালয়ের সাগাইং শহরের কাছাকাছি। ওই ভূমিকম্পে মিয়ানমারে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
প্রজ্ঞাপন প্রতারক চক্র নিয়ে সতর্ক বার্তা

প্রজ্ঞাপন প্রতারক চক্র নিয়ে সতর্ক বার্তা সরকারি নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, বিদেশে চাকরির বিষয়ে ভুয়া প্রজ্ঞাপন ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রতারণার ফাঁদে কেউ যেন ফেঁসে না যান, সে বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করার জন্য আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদায়ন আদেশের নকল বানিয়ে কর্মকর্তার সই জাল করে ভুয়া স্মারক বসিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করছে একটি প্রতারক চক্র। ফেইথের ‘ফাঁদে’ ফতুর প্রবাসী চান পরিত্রাণ সতর্কীকরণ বার্তায় বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সব নিয়োগ, পদায়ন, বদলি-সংক্রান্ত আদেশ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির (জিইএমএস) মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের কোনো প্রজ্ঞাপন যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে করা যেতে পারে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই সরকারি সংস্থার নামে ভুয়া প্রজ্ঞাপন জারির একটি ঘটনা আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট ও সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এর নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল একটি প্রতারক চক্র। একই ধরনের আরো কিছু ভুয়া প্রজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরতে দেখা যায় সম্প্রতি। এসব প্রজ্ঞাপনের টার্গেট থাকে প্রতারণার মাধ্যমে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। তখন বোয়েসেলের মহাব্যবস্থাপক নূর আহমেদও সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেছিলেন, বোয়েসেলের সুনাম ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যারা জীবন জীবিকার জন্য বিদেশ যেতে আগ্রহী, তাদের ঠকিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া প্রজ্ঞাপনের প্রবণতা বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার সবাইকে সতর্ক করল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।