পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে বাংলাদেশ

পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে বাংলাদেশ ক্যাথলিক চার্চের প্রধান এবং ভ্যাটিকান সিটি স্টেটের রাষ্ট্রপ্রধান ও খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে তিন দিন রাষ্ট্রীয় শোক। আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ভবনের (১ নম্বর ভবন) ওপরে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে। অন্যান্য সরকারি ভবনেও উড়ছে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা। আজ থেকে শুরু হয়ে আগামী শনিবার ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে বাংলাদেশ। এরআগে বুধবার রাতে ২৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে, ক্যাথলিক চার্চের প্রধান এবং ভ্যাটিকান সিটি স্টেটের রাষ্ট্রপ্রধান হিজ হলিনেস পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে আজ থেকে শনিবার ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিন রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে। রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে। এছাড়া পোপ ফ্রান্সিসের বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে। এদিকে, সদ্য প্রয়াত ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেবেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রোমান ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস গত সোমবার মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি ১২ বছর রোমান ক্যাথলিক গির্জার সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন।
৭ দেশের ১৭ হাজার প্রবাসী ভোটারের আবেদন অনুমোদন

৭ দেশের ১৭ হাজার প্রবাসী ভোটারের আবেদন অনুমোদন প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে সব মহলে আলোচনা হলেও তাদের ভোটার করে নেওয়ার কার্যক্রমে তেমন অগ্রগতি নেই। ফলে ভোটদান পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারলেও কত শতাংশ ভোট তাদের থেকে আসবে তা নিয়েও অনেকের রয়েছে সংশয়। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও মালয়েশিয়া; এই সাতটি দেশে দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইসি। এক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন করে দূতাবাসে এসে ফটো তুলে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এছাড়া কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুরে কার্যক্রমটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। জানা গেছে, ৭ টি দেশ থেকে মোট আবেদন পড়েছে ৪২ হাজার ২৬৯টি। যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছে তিন হাজার ৪০১টি আবেদন। উপজেলা নির্বাচন অফিসে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন আছে ২০ হাজার ১৮৪টি আবেদন। তদন্ত শেষে আবেদন অনুমোদন হয়েছে ১৭ হাজার ৬০৭ জনের। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে ৪৫৭ জনের আবেদন। আর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া হয়েছে ২২ হাজার ১২৮ জনের। সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৮ হাজার ৫৮৯টি। আর সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে মালয়েশিয়ায় ৭৮৪ জন। গত বছরের মে থেকে এই আবেদনগুলো এসেছে। নির্বাচন কমিশন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনশক্তি ব্যুরো, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি-বায়রাসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দেখেছে ৪০টি দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীদের আধিক্য রয়েছে। এইসব দেশকেই মাথায় রেখে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান, লিবিয়া, সুদান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, হংকং, মিশর, ব্রুনাই, মৌরিশাস, ইরাক, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, স্পেন, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, তুরস্ক ও সাইপ্রাস। এসব দেশে এক কোটি ৪০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ জন প্রবাসী রয়েছে। সবচেয়ে রয়েছে বেশি প্রবাসী রয়েছে সৌদি আরবে, ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৮ জন। আর সবচেয়ে কম রয়েছে নিউজিল্যান্ডে দুই হাজার ৫শ জন। জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন ওই ৪০টি দেশেই কার্যক্রমটি সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে তা হাতে নিতে হচ্ছে। তবে যেসব দেশে কার্যক্রম চলমান, সেখান থেকেও খুব একটা সাড়া মিলছে না। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবাসীদের ভোটার করে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে পাসপোর্ট। কেননা, বৈধ পাসপোর্টধারী ছাড়া কারো আবেদন তারা আমলে নিচ্ছে না। এছাড়া ভৌগলিক অবস্থানও একটা কারণ। অন্যদিকে অনেকেই নিরক্ষর হওয়ার কারণেও আসছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের প্রবাসীদের অধিকাংশই কাজের জন্য বিদেশ গিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে কাজ সেরে বা কাজের ফাঁকে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে এসে ভোটার হওয়া অনেকের জন্যই প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। একজন ব্যক্তি হয়তো ভোটার হতে চান, আর তার কর্মক্ষেত্রে হয়তো কোনো রিমোট অঞ্চলে, তাহলে অর্থ ও সময় ব্যয় করে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশের রাজধানীতে স্থাপিত আমাদের দূতাবাসে এসে ভোটার হতে চাইবেন না, এটাই স্বাভাবিক। আবার অনেকেই প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন বৈধ কাগজপত্র ছাড়া। হয়তো ভুয়া কাগজ বানিয়ে গেছেন। কিন্তু এখন আর সঠিক কাগজ দেখাতে পারছেন না। ফলে সেটাও আইনের বরখেলাপ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকের আগ্রহ থাকলেও ভোটার করে নেওয়া যাচ্ছে না। তাই সেভাবে এগুচ্ছে না। এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ বলেন, আমরা সাতটা দেশে ভোটার কার্যক্রম চালাচ্ছি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আমাদের দূতাবাসের লোকবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তারা একটা নির্দিষ্ট ফি নিয়ে ভোটার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অর্থাৎ তারা অনলাইনের তথ্যের ইনপুট দেওয়া, ছবি তোলা ও চোখের আইরিশ নেওয়ার কাজটি করে দিচ্ছে। এরপর সেই ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেই আবেদনের সত্যতা প্রমাণে তদন্ত করছেন। তদন্তে সত্যতা মিললে সেটিকে আমরা অনুমোদন দিচ্ছি। এরপর প্রবাসীর এনআইডি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আইনের ব্যত্যয় করা যায় না। বৈধ কাগজপত্র থাকলে এবং ভোটার হতে চাইলে তার জন্য কোনো অসুবিধা নেই। খুব সহজেই ভোটার হতে পারবেন। অন্যদিকে প্রবাসীদের অনেকেই দেশ থেকেই ভোটার হয়ে গেছেন। কেননা, যারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিদেশে গিয়েছেন, তারা এনআইডি ছাড়া পাসপোর্ট করতে পারেননি। কাজেই আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, প্রবাসীদের অধিকাংশেরই এনআইডি আছে এবং তারা ভোটার হয়েছেন। অন্যরা যারা হননি, তাদের জন্যই আমরা সুযোগটি সৃষ্টি করেছি। তবে বৈধ কাগজপত্র লাগবে। ভোটদান পদ্ধতি নির্ধারণ হলে ভালো সাড়াই মিলবে বলে আশা করি। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতে এসে রোববার (২০ এপ্রিল) প্রবাসীদের ভোটদান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেছেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো ভালো পদ্ধতি পায়নি কমিশন। প্রবাসীদের ভোটাধিকার যদি নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, প্রবাসীদের ভোটার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইনে যেভাবে আছে, সেভাবে ভোটার হয়ে যাবেন। আর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য কমিশন পদ্ধতি খুঁজছে। এক্ষেত্রে তিনটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যে কোনো পদ্ধতিতে ভোট হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পেয়ে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১৯ সালে প্রবাসে এনআইডি সরবরাহের উদ্যোগ হাতে নেয়। এরপর ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের অনলাইনে ভোটার করে নেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করে ইসি। এর আগে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীদের মাঝে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। তার আগে একই বছর ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার অংশ হিসেবে অনলাইনে আবেদন নেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এরপর সৌদি আবর, সিঙ্গাপুর ও মালদ্বীপে থাকা বাংলাদেশিদের জন্যও এ সুযোগ চালু করা হয়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে থমকে যায় দূতাবাসের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই কার্যক্রমকে ফের উজ্জীবিত করেন। এক্ষেত্রে আগের আবেদনগুলো পাশ কাটিয়ে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেন তারা। সেই কার্যরক্রমকেই এগিয়ে নিচ্ছে বর্তমান নাসির কমিশন।
গম্ভীরকে ফের প্রাণ*না*শের হুম*কি, তদন্তে দিল্লি পুলিশ

গম্ভীরকে ফের প্রাণ*না*শের হুম*কি, তদন্তে দিল্লি পুলিশ ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ ও সাবেক ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংসদ গৌতম গম্ভীর সম্প্রতি আবারও প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন। গত ২২ এপ্রিল, কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার দিনেই গম্ভীরের ব্যক্তিগত ই-মেইলে দুটি হুমকির বার্তা পাঠানো হয়, যাতে লেখা ছিল “আমি তোমাকে মেরে ফেলব”। একটি ই-মেইল আসে দুপুরে, অপরটি সন্ধ্যায়। উভয় ই-মেইলে একই বার্তা লেখা ছিল—“আমি তোমাকে মেরে ফেলব”। ঘটনার পর গম্ভীর দিল্লির রাজিন্দর নগর থানার দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মধ্য দিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পাশাপাশি, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। এটি প্রথমবার নয়—২০২১ সালের নভেম্বর মাসে, সাংসদ থাকাকালীনও গম্ভীর অনুরূপ হুমকি পেয়েছিলেন। সে সময় তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল। এদিকে মঙ্গলবার কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর জঙ্গী হামলার পর গম্ভীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ লিখেছেন: “নিহতদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা। যারা এই কাপুরুষোচিত হামলার জন্য দায়ী, তারা এর মূল্য চুকাবে। ভারত পাল্টা জবাব দেবে। ”পেহেলগামের এই হামলাকে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ওজন কমানোর পাঁচ পানীয়

ওজন কমানোর পাঁচ পানীয় সকালের একটি ছোট অভ্যাস বদলে দিতে পারে পুরো শরীর। প্রতিদিন সকালে মাত্র এক গ্লাস স্বাস্থ্যকর পানীয় শরীরের অতিরিক্ত মেদ গলাতে এবং মেটাবলিজম বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যালান্সড ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি কিছু সহজ ঘরোয়া পানীয় আপনার ওজন কমানোর যাত্রাকে আরও সহজ করে তুলতে পারে। চলুন জেনে নিই এমন ৫টি ‘ওজন কমানোর’ সকালের পানীয়— ১. লেবু পানি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজ পানীয়। লেবুতে থাকা ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর ডিটক্স করতে সহায়তা করে, হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখে। যেভাবে খাবেন সকালে খালি পেটে, এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। ২. জিরা পানি রান্নার পরিচিত উপাদান হলেও জিরা পানির রয়েছে অতুলনীয় উপকারিতা। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, পানিশূন্যতা দূর করে এবং শরীরের ফ্যাট ভাঙতে সাহায্য করে। প্রস্তুত প্রণালি ১ চা চামচ জিরা এক কাপ পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেটা ফুটিয়ে নিন। ছেঁকে নাশতার অন্তত ২০ মিনিট আগে হালকা গরম অবস্থায় পান করুন। ৩. আমলকির রস গরম পানিতে আমলকি এক কথায় একটি সুপারফ্রুট। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্যাট কমাতেও সহায়তা করে। খাওয়ার নিয়ম ২ টেবিল চামচ আমলকির রস এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খালি পেটে পান করুন। পান করার পর অন্তত ৩০ মিনিটের মধ্যে চা বা কফি পান করবেন না। ৪. দারচিনি পানি দারচিনি ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে চর্বি জমা প্রতিরোধ করে। একই সঙ্গে মেটাবলিজম বাড়িয়ে ওজন কমাতেও সহায়তা করে। যেভাবে তৈরি করবেন এক কাপ পানি ফুটিয়ে তাতে ১ চা চামচ গুঁড়ো দারচিনি অথবা একটি দারচিনি স্টিক দিন। ১০ মিনিট রেখে ছেঁকে নিয়ে গরম গরম পান করুন। এই সহজ ৫টি পানীয় নিয়মিত সকালে গ্রহণ করলে শরীর যেমন হালকা লাগবে, তেমনি ওজনও কমানো যাবে। ৫. অপরাজিতার চা প্রাকৃতিক নীল রঙের হারবাল পানীয় অপরাজিতার চা। এটি ক্যাফেইন-মুক্ত ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ডিটক্সে সহায়ক। লেবু মিশিয়ে গরম গরম উপভোগ করুন। তবে মনে রাখতে হবে—শুধু পানীয় নয়, এর সঙ্গে চাই সঠিক ডায়েট ও নিয়মিত শরীরচর্চা।
শুধুই চিনি নয়, ক্যান্সারের ঝুঁ*কি রয়েছে দৈনন্দিন খাবারেও

শুধুই চিনি নয়, ক্যান্সারের ঝুঁ*কি রয়েছে দৈনন্দিন খাবারেও চিনি অনেকদিন ধরেই ক্যান্সারসহ নানা প্রাণঘাতী রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। যদিও অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ যে ক্ষতিকর, তা অস্বীকার করার উপায় নেই, তবুও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে—স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত অনেক সাধারণ খাবারও দীর্ঘমেয়াদে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটি কোনো খাবারকে দোষারোপ করার বিষয় নয়। বরং উদ্দেশ্য হচ্ছে সচেতনতা বাড়ানো। বিজ্ঞানীরা যখন ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির পেছনের কারণগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করছেন, তখন পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে— নিয়মিত যেসব খাবার আমরা গ্রহণ করি, সেগুলোরই বড় ভূমিকা রয়েছে। গবেষণা বলছে, ক্যান্সার কোষ সত্যিই সাধারণ কোষের তুলনায় বেশি গ্লুকোজ গ্রহণ করে, তবে সম্পূর্ণ চিনি বাদ দিলেই ক্যান্সার থেমে যাবে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। গ্লুকোজ মানবদেহের সব কোষের জন্যই প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস। আসল উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে আমাদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস। দীর্ঘদিনের প্রদাহ, স্থূলতা এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের মতো সমস্যা—যেগুলো অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও লাল মাংসের সঙ্গে যুক্ত এবং ক্যান্সারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এদিকে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে ডিমের ক্ষেত্রেও। সাধারণভাবে ডিমকে উচ্চমানের প্রোটিন ও পুষ্টির উৎস হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু উরুগুয়েতে ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এক বড় গবেষণায় দেখা গেছে, অতিমাত্রায় ডিম খাওয়ার সঙ্গে কয়েক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। ৩,৫০০-এর বেশি ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ২,০০০-এর বেশি নিয়ন্ত্রণ দলের (হাসপাতালে থাকা সাধারণ রোগী) উপর চালানো এই গবেষণায় ধরা পড়ে, যারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে ডিম খেতেন, তাদের মধ্যে কোলন, ফুসফুস, স্তন, প্রোস্টেট, মূত্রাশয়, মুখগহ্বর এবং উপরের শ্বাসনালী ও খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। গবেষকরা ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং সার্বিক খাদ্যাভ্যাসের মতো উপাদানগুলোর হিসাব করে ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন। তারপরও ডিমের সাথে ক্যান্সারের ঝুঁকির সংযোগ রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরাসরি কারণ নয় বরং একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক সম্পর্ক। তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলছে— অতিরিক্ত ডিম গ্রহণ কি ধূমপান, খারাপ খাদ্যাভ্যাস বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের মতো অন্যান্য ঝুঁকির সাথে মিলে ক্যান্সার প্রবণতা বাড়াতে পারে? এই বিষয়ে গবেষকরা আরও মানবভিত্তিক গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছেন, যাতে এই সংযোগের প্রকৃত কারণ আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। ডিম নিয়ে সব গবেষণা কিন্তু নেতিবাচক নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমের প্রোটিন ও পেপটাইড—বিশেষ করে বিশুদ্ধভাবে তৈরি হলে—অ্যান্টি-ক্যান্সার এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রাখে। তবে সমস্যা হলো, এই ফলাফলগুলো মূলত ল্যাবরেটরিতে কোষের উপর (ইন ভিট্রো) করা পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে। মানবদেহে এগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই পর্যাপ্ত মানবভিত্তিক গবেষণা ছাড়া ডিমের এই স্বাস্থ্যগুণ এখনও শুধুই প্রতিশ্রুতির পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, চিনির পরে যদি কোনো খাদ্যাভ্যাস সত্যিকারের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা হলো অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের বেড়ে চলা প্রবণতা। প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, তৈরি খাবার, কোমল পানীয় এবং ফাস্টফুড—এইসব খাবার আধুনিক খাদ্যাভ্যাসের বড় একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী গবেষণা বলছে, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের উচ্চমাত্রায় গ্রহণের ফলে, দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতা, স্থূলতা এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ-এর মত সমস্যা তৈরি হয় এগুলো সবই ক্যান্সার সৃষ্টির বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। তাহলে আসলে গুরুত্বপূর্ণ কী? স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে অনেকেই একটি ‘সুপারফুড’ খুঁজে নেন বা কোনো ‘খারাপ’ খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একক কোনো খাবারই আপনার স্বাস্থ্য গড়তেও পারে না, ভাঙতেও পারে না। আসল গুরুত্ব রয়েছে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসে—আপনি কতটা বৈচিত্র্যময় এবং সুষম খাবার খান, সেটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে, ফলমূল, সবজি, সম্পূর্ণ শস্য, বাদাম, বীজ এবং জলপাই তেল, অ্যাভোকাডো ও মাছের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বিতে সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ওপর জোর দেওয়া উচিত। এসব খাবার উচ্চমাত্রায় ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, যা শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। প্রদাহ কমানো মানেই দীর্ঘমেয়াদি রোগের (যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সার) ঝুঁকি হ্রাস করা। এছাড়া, সুস্থ থাকা মানে আপনার প্রিয় খাবার একেবারে ছেড়ে দিতে হবে—এমন নয়। মাঝেমধ্যে কেকের টুকরো খাওয়া ঠিক আছে, যদি আপনার প্রতিদিনের খাবারের বড় অংশ হয় সতেজ ও পুষ্টিকর উপাদানে ভরা। ডিমও খাদ্যতালিকায় থাকতে পারে, তবে অতিরিক্ত গ্রহণ এবং প্রদাহ সৃষ্টিকারী অন্য খাবারের সাথে অতিরিক্ত সংমিশ্রণ ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চার বছরের প্রে*মে ভা*ঙন, কাঁদলেন মাহি

চার বছরের প্রে*মে ভা*ঙন, কাঁদলেন মাহি এ সময়ের ছোট পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। মডেলিং দিয়ে তার ক্যারিয়ার শুরু হলেও খুব অল্প সময়ে সাবলীল অভিনয় দিয়ে নিজেকে জানান দেন এই অভিনেত্রী। ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও এখন বেছে বেছে কাজ করছেন মাহি। গেল চার বছর ধরে সাদাত শাফি নাবিল নামের একজনের সঙ্গে প্রেম করছেন তিনি। মাহির সেই সম্পর্ক ভেঙে গেছে। বিষয়টি অভিনেত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন। বছর দুয়েক আগে প্রকাশ্যে এসেছিল তাদের প্রেমের বিষয়টি। এবার দুজনের সম্পর্ক যে তিক্ততায় গড়িয়েছে, সেটিও সামনে আনলেন অভিনেত্রী। জানালেন রীতিমতো শনির দশা পার করছেন তিনি। ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে বেশকিছু ছবি পোস্ট করেছেন মাহি। সেখানেই তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। মাহির কথায়, গত কয়েকটা দিন খুব কষ্টের কেটেছে… ট্রোল্ড হওয়া থেকে শুরু করে আমার বোনের বিয়ের দায়িত্ব বহন করা, আমার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া- সবকিছু মিলিয়ে আমি ভেঙে গেছি, হারিয়ে গেছি। অনেক কিছু হয়েছে। ব্যক্তিজীবনে যাদের কষ্ট দিয়েছেন, তাদের প্রতিও দুঃখপ্রকাশ করেছেন মাহি। তিনি বলেন, আমি ভুল করেছি, যা অনেককেই কষ্ট দিয়েছে, এটাও আমি বহন করে গেছি। আমি জানি আমি হৃদয় ভেঙেছি, এর জন্য আমি দুঃখিত এবং আমি বলতে ভয় পাই না যে আমি ভেঙে পড়েছি। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কান্নার ছবি পোস্ট করে মাহি লেখেন, আমার এই দুর্বলতম সময়েও আমি জানি, উঠে দাঁড়ানোর শক্তি আমাকে ছেড়ে যায়নি। আমি এখন শুধুই ক্লান্ত, তবে পরাজিত নই। যদি সবার সঙ্গে হাসি শেয়ার করা যায়, তাহলে আমি বলব চোখের জলও শেয়ার করা যায়। জীবনে দুঃসময়গুলো খুব ভালো করেই দেখেছেন অভিনেত্রী। হয়তো সে কারণেই তিনি লেখেন, ‘জীবন সবসময় পরিশ্রুত ও নিখুঁত হয় না এবং আজকে আমার কাছে এটাই সত্য। এর আগে, বছরখানেকের বন্ধুত্বের পর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন মাহি। পরিচয়ের পর নিয়মিত কথা হতো তাদের। কথা বলা থেকে ভালোলাগা শুরু এবং প্রেম। তাদের দুই পরিবার বিষয়টি জানতো এবং সম্পর্ক মেনে নিয়েছিলেন। এবার চার বছরে সম্পর্কে বিরহের সুর।
হিমির অনন্য রেকর্ড, শত নাটকের ভিউ কোটি পেরিয়ে

হিমির অনন্য রেকর্ড, শত নাটকের ভিউ কোটি পেরিয়ে ছোট পর্দার অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। নাচ থেকে মডেলিং, তারপর অভিনয়ে নাম লেখান তিনি। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে অভিনয় দক্ষতায় তুমুল ব্যস্ত অভিনেত্রী হিমি। ভিউয়ের প্রতিযোগিতায়ও পিছিয়ে নেই এই অভিনেত্রী। হিমি অভিনীত শতাধিক নাটকের ভিউ ১ কোটি করে ছাড়িয়েছে। অভিনেত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ১০৯টি নাটকে প্রতিটি ১ কোটি ভিউ! হিমির সাফল্যে গর্বিত টিম হিমি! এরপর থেকে শুভেচ্ছা বার্তায় ভাসছেন এই অভিনেত্রী। রায়হান কবীর নামের একজন লেখেন, ‘আমার অনেক পছন্দের অভিনেত্রী। আর নিলয় ভাইয়ের সঙ্গে জুটিটা অনেক ভালো মানায়। ’সুমি নামের আরেকজন লেখেন, ‘মাশাআল্লাহ, অভিনন্দন। আসলেই হিমি আপুর নাটক অনেক ভালো লাগে। ’ এমন অসংখ্য মন্তব্য শোভা পাচ্ছে কমেন্ট বক্সে। কিছু দিন আগে আলোচিত টেলিফিল্ম ‘বড় ছেলে’র ভিউয়ের রেকর্ড ভেঙেছে একক নাটক ‘শ্বশুরবাড়িতে ঈদ’। মহিন খান নির্মিত এই নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। বাংলা নাটকের ভিউয়ে এটি এখন শীর্ষে অবস্থান করছে। যদিও ভিউ দিয়ে গুণ বিচারের পক্ষে নন হিমি। এক সাক্ষাৎকারে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি ভিউ বা টাকার জন্য অভিনয় করি না। ’ হিমি নাটকের মানুষ হলেও ছোটবেলা থেকে ছায়ানটে নজরুলসংগীতে তালিম নিয়েছেন। বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরার কাছেও গানের তালিম নেন। তবে হাতেখড়ি হয় সাধনা মিত্রের কাছে। নাটকের পাশাপাশি কলকাতার একটি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন হিমি।
ভারতে ব্ল*ক করা হল পাকি*স্তান সর*কারের এক্স অ্যা*কাউন্ট

ভারতে ব্ল*ক করা হল পাকি*স্তান সর*কারের এক্স অ্যা*কাউন্ট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি এক্স (টুইটার) প্ল্যাটফর্মে কিছু নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট ও পোস্ট ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, এক্স শুধুমাত্র ভারতের অভ্যন্তরে এই অ্যাকাউন্ট ও পোস্টগুলোর অ্যাক্সেস সীমিত করেছে। পাকিস্তানের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টটি ভারতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আজ সকালে। তবে, কোম্পানিটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে ভারত সরকারের দাবি, এসব অ্যাকাউন্ট থেকে বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানো হচ্ছিল, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। পহেলগাঁওয়ে ২২ এপ্রিল ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে ২৬ জন পর্যটক নিহত এবং ২০ জন আহত হন। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ যা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার একটি শাখা বলে পরিচিত। এর আগে হামলার জেরে ভারত সিন্ধু নদীর পানি চুক্তি বাতিলসহ, পাকিস্তানের কোনো নাগরিককে ‘সার্ক ভিসা’ দেওয়া বন্ধের ঘোষণা দেয়। তাছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তানে ভারতের হাইকমিশন থেকে কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে নিতে বলে। ভারতে অবস্থারত পাকিস্তানের নাগরিকদের দেওয়া ভারতের ভিসা বাতিল করে তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়তে বলে। এর মধ্যে সিন্ধু নদীর পানি চুক্তি বাতিল সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৬০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই চুক্তিতে সই করেছিলেন।
কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। চারদিনের সরকারি সফরের শেষ দিনে আজ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় দোহায় কাতারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, কাতারের দোহায় ২২ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় ‘আর্থনা শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫’। এই সম্মেলনে অংশ নিতে অধ্যাপক ইউনূস চারদিনের সরকারি সফরে বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন। সফরের অংশ হিসেবে গত সোমবার ২১ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি দোহায় হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম তাকে অভ্যর্থনা জানান। এর আগে তিনি একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময়) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দোহার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ভারতীয় দূতাবাস অভি*মুখে ‘সং* মা*র্চ

ভারতীয় দূতাবাস অভি*মুখে ‘সং* মা*র্চ ভারতব্যাপী মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে প্রতিবাদী সংগীতযাত্রা ‘সং মার্চ’ শুরু করেছে জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। আজ বিকেল তিনটায় পল্টনের মুক্তাঙ্গন থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। মুক্তাঙ্গন থেকে পিকআপভ্যানে করে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করতে করতে সংগীত যাত্রা শুরু করেন জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদস্যরা। এই ‘সং মার্চ’ থেকে ভারতব্যাপী মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ভারতীয় দূতাবাসে প্রতিবাদলিপি দেবেন তারা। ‘সং মার্চ’ পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি কবি মুহিব খান বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে সারা ভারতজুড়ে নানা সময়ে নানা স্থানে নানাভাবে সেখানকার মুসলমানদের ওপর হত্যা, গুম, ধর্ষণ, ধ্বংসযজ্ঞ, উচ্ছেদ ও লাঞ্ছনাসহ নানারকম নির্যাতন সংঘটিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা থেকে নিয়ে ২০০২ সালে গুজরাটের নৃশংস মুসলিম হত্যা ও ধর্ষণযজ্ঞ, ২০১৩ সালে মুজাফফরাবাদের মুসলিম হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ, ২০২০ সালে দিল্লিজুড়ে মুসলিম হত্যা ও মসজিদসহ বিভিন্ন মুসলিম ঐতিহাসিক স্থাপত্যকলা ধ্বংসযজ্ঞ, সর্বশেষ ভারতীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর সম্পদ হরণ ও প্রতিকার হননের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ভারতের পার্লামেন্টে গৃহীত ওয়াকফ আইন সংশোধন বিলকে কেন্দ্র করে ভারতীয় মুসলমানদের ওপর যে নিধন ও নির্যাতন চলছে আমরা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর অঙ্গ ও অংশ হিসেবে এবং আধুনিক বিশ্বের মানবতাবাদী সভ্য মানুষ হিসেবে এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের নিন্দা ও প্রতিবাদের ভাষা দেশ ও বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আমরা আজ ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে প্রতিবাদী সংগীতযাত্রা ‘সং মার্চ’ করছি। কবি মুহিব খান আরও বলেন, আমরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভারতের ধর্মান্ধ উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং কখনো কখনো এসব কর্মকাণ্ডে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে শ্লোগান, সংগীত এবং সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চাই যে, ভারতসহ পৃথিবীর যেকোনো ভূখণ্ডে নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে আমরা আছি। শুধু মুসলিমরাই নন, নির্যাতন অন্যায় ও অমানবিকতার শিকার যেকোনো মানুষের পক্ষেই আমাদের অবস্থান। তিনি বলেন, আমরা ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনারের মাধ্যমে ভারতীয় মুসলিমদের নাগরিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকার এবং নিজ ধর্মীয় অনুশাসন পালনের পূর্ণাঙ্গ অধিকার নিশ্চিত করতে এবং ভারতীয় মুসলমানদের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে ভারত সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। কবি মুহিব খান বলেন, আমরা উগ্রতা ও সহিংসতায় বিশ্বাসী নই। আমরা চাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। আমরা চাই ধর্মান্ধ উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের পতন। আমরা চাই পৃথিবীর সব দেশের সব মানুষ নিজেদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকুক। আমরা চাই বিশ্ব মানবতা এবং প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতার বিজয় হোক।