মেসিকে তুলে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন স্কালোনি

মেসিকে তুলে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন স্কালোনি দল তখনও পিছিয়ে, গোলের খোঁজে মরিয়া আর্জেন্টিনা। ঠিক এমন এক মুহূর্তে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়া হলো লিওনেল মেসিকে! কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনির এমন সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন অনেকেই। তবে ম্যাচ শেষে স্কালোনি জানালেন, সিদ্ধান্তটা একান্তই মেসির ইচ্ছে মতো হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে নিজেদের মাঠে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৫তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে দলকে এগিয়ে দেন লুইস দিয়াস। ৭৮তম মিনিটে তখনও ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা, আর ঠিক তখনই মেসিকে তুলে এসেকিয়েল পালাসিওসকে মাঠে নামান স্কালোনি। সবচেয়ে বড় চমক ছিল এই বদলিতেই। চোট না থাকলে সাধারণত পুরো ম্যাচ খেলা মেসিকে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময় তুলে নেওয়ায় প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে কোচ জানালেন, সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি মেসির সম্মতিতেই। স্কালোনির ভাষ্য, ‘সে সাধারণত মাঠ ছাড়ে না। কিন্তু যখন দেখল আমরা দুটি পরিবর্তন আনছি, তখন সে নিজেই বলল, তাকে তুলে নেওয়াই ভালো হবে। তাই আমরা তাকে পরিবর্তন করি। না হলে আমি কখনোই এমন করতাম না। আপনারা জানেন, আমি এসব বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিই। ’মেসির মাঠ ছাড়ার তিন মিনিট পরই থিয়াগো আলমাদার দারুণ এক গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। গত মার্চে চোটের কারণে উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে পারেননি মেসি। তবে ওই দুই ম্যাচ জিতে মূলপর্বের টিকিট নিশ্চিত করে নেয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এই মাসের বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে জয় পাওয়া ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন তিনি। জাতীয় দলের দায়িত্ব শেষ করে এখন ক্লাব ফুটবলে মনোযোগ দেবেন ৩৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার সকালে আল আহলির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামি।
টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের দুইয়ে আদিল রশিদ

টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের দুইয়ে আদিল রশিদ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন আদিল রশিদ। টি-টোয়েন্টি বোলারদের আইসিসি র্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফির পেছনে এখন মাত্র ১৩ রেটিং পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন ইংলিশ লেগ স্পিনার। আইসিসির সর্বশেষ সাপ্তাহিক হালনাগাদে দেখা যায়, ডাফির রেটিং পয়েন্ট ৭২৩, আর রশিদের ৭১০। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও টি-টোয়েন্টির শীর্ষ বোলার ছিলেন রশিদ। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করতে বড় ভূমিকা ছিল তার। শেষ ম্যাচে ৩০ রানে ২ উইকেটের পাশাপাশি আগের দুটি ম্যাচেও একটি করে উইকেট নেন তিনি। এই পারফরম্যান্সে তিনি র্যাংকিংয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও ভারুন চক্রবর্তীকে ছাড়িয়ে যান। ইংল্যান্ডের আরেক পেসার ব্রাইডন কার্স তিন ম্যাচে দুটি উইকেট নিয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৫২তম স্থানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার উন্নতি করেছেন ৩ ধাপ, অবস্থান করছেন ৬৬তম স্থানে (যৌথভাবে)। ব্যাটিং র্যাংকিংয়েও এসেছে বড় পরিবর্তন। টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। তবে ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দিয়েছেন সবচেয়ে বড় লাফ। শেষ ম্যাচে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে এক ধাক্কায় ৪৮ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ১৬তম স্থানে। হ্যারি ব্রুক ৬ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৮ নম্বরে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শাই হোপ ১৪ ধাপ উন্নতি করে এখন আছেন ১৫তম স্থানে। শেষ ম্যাচে ৭৯ রান করে র্যাংকিংয়ে ৮ ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে এসেছেন রভম্যান পাওয়েল।
ইসরায়েলি দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যসহ পাঁচ দেশের নিষেধাজ্ঞা

ইসরায়েলি দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যসহ পাঁচ দেশের নিষেধাজ্ঞা গাজা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের দুই ডানপন্থী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ে। গতকাল এক যৌথ ঘোষণায় দেশগুলো জানায়—অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যে তাদের সব সম্পদ জব্দ করা হবে। এ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন ইসরায়েলের গাজা অভিযান ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিন্নমতও নির্দেশ করে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, স্মোত্রিচ ও বেন গভির এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন যা ভয়ংকরভাবে চরমপন্থী ও সহিংসতা উসকে দেয়। এটি শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, ইসরায়েল সরকারের উচিত এমন বক্তব্য থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়া এবং তা স্পষ্টভাবে নিন্দা করা। স্মোত্রিচ ও বেন গভির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাদের একজন পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন করে বসবাস করেন এবং দুইজনই গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘পুনর্বাসনের’ নামে উচ্ছেদের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। আন্তর্জাতিক মহলে তাদের এসব বক্তব্য ও অবস্থান ব্যাপকভাবে সমালোচিত। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শুরু থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা অন্তত ১,৯০০টি হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর। বিবৃতিতে বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা গাজার চলমান সংঘাত থেকে আলাদা নয় বরং একটি বৃহত্তর মানবিক ও রাজনৈতিক বার্তার অংশ। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, পাঁচ দেশ চায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হোক, হামাস জিম্মিদের মুক্তি দিক এবং ভবিষ্যতে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক রাজনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া হোক—যেখানে হামাসের কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা থাকবে না। এর আগেও যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল মুক্ত বাণিজ্য আলোচনার স্থগিতাদেশ, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব এবং কিছু সহিংস বসতি স্থাপনকারী ও সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে “অসাংবিধানিক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল প্রতীকী নয়, বরং গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কার্যক্রম নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিচ্ছবি।
ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭০ ফিলিস্তিনি নিহ*ত, ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলো ‘মর*ণ ফাঁ*দ’

ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭০ ফিলিস্তিনি নিহ*ত, ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলো ‘মর*ণ ফাঁ*দ’ ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক। আজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি বলছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর নিরলস হামলায় ৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ক্ষুধার্ত ত্রাণপ্রার্থীও রয়েছেন। মঙ্গলবার গাজার কেন্দ্রীয় অংশে ইসরায়েলনিয়ন্ত্রিত নেতসারিম করিডোরের কাছে ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। গাজা সরকারের তথ্য অফিস জানায়, এতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন। নিহতদের মধ্যে ১২ বছরের এক শিশুও রয়েছে। শিশুটির নাম মোহাম্মদ খলিল আল-আথামনেহ। এই ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলো পরিচালনা করছে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) নামের একটি বিতর্কিত সংস্থা, যার কার্যক্রম ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলছে এবং এটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কাজ করছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণ এই বিতরণ কেন্দ্রগুলোকে ‘মানব কসাইখানা’ বলে অভিহিত করেছেন। জিএইচএফ কার্যত একটি ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। গাজা সরকারের তথ্য অফিস এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জিএইচএফ এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক ভয়ঙ্কর হাতিয়ার। যারা ত্রাণ দেওয়ার নামে নিরস্ত্র ও ক্ষুধার্ত মানুষদের টেনে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে সেখানে। আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে জানিয়েছেন, জিএইচএফ-এর এসব ত্রাণকেন্দ্র এখন ‘রক্তপাতের মঞ্চ’ হয়ে উঠেছে, যেখানে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের টানা বোমাবর্ষণ ও অবরোধের মুখে গাজার হাসপাতালগুলো মারাত্মক চাপে পড়েছে। বিশেষ করে সহায়তা বিতরণকেন্দ্রগুলোর আশপাশে ইসরায়েলি হামলায় বাড়তে থাকা হতাহতের চাপ বহন করতে পারছে না চিকিৎসা ব্যবস্থা। বিবৃতিতে সংস্থাটি আরও জানায়, সম্প্রতি আহত হয়ে আসা অধিকাংশ রোগীই বলেছেন, তারা সাহায্য বিতরণকেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এসব হামলা চালানো হয়েছে বিভিন্ন দিক থেকে। ড্রোন, ট্যাংক ও স্নাইপার ব্যবহার করে এসব বিচ্ছিন্ন ত্রাণকেন্দ্রে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। এসব হামলাকে মূলত মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার এক প্রক্রিয়া বলে অভিমত সাংবাদিক আজ্জুমের। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জিএইচএফের সহায়তা কেন্দ্র ঘিরে হামলায় ১২৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭৩৬ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৯ জন।
হাসপাতালগুলোতে আবার চালু হচ্ছে করোনা পরীক্ষা

হাসপাতালগুলোতে আবার চালু হচ্ছে করোনা পরীক্ষা দেশে করোনা সংক্রমণ আবারও বাড়তে থাকায়, হাসপাতালগুলোতে সীমিত পরিসরে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে যে সব মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে আরটি পিসিআর ল্যাব রয়েছে, সেখানেই এই পরীক্ষা শুরু করা হবে। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশীদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় কোম্পানিগুলো থেকে পরীক্ষার কিট সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকেও কিট আমদানির জন্য সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি)-কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হালিমুর রশীদ আরো বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী ১০ দিনের মধ্যে হাসপাতালগুলোতে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা আবার চালু করা যাবে- তবে তা সীমিত পরিসরে হবে। তিনি বলেন, যে সব হাসপাতালে আরটিপিসিআর ল্যাব রয়েছে, করোনা পরীক্ষা পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি নিতে তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে করোনা পরীক্ষা চালু করা হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের করোনা উপসর্গ থাকবে, পরীক্ষা শুধু তাদের জন্যই চালু করা হবে। সে অনুযায়ী তারাই এ পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত হবেন- যাদের শরীরে কোভিড-১৯ এর উপসর্গ (জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট) রয়েছে অথবা চিকিৎসক যাদের করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দেবেন। হালিমুর রশীদ আরও বলেন, সংক্রমণের হার যদি আরও বাড়ে, তাহলে পরীক্ষার পরিধিও বাড়ানো হবে। জনগণকে মাস্ক পরা, হাত ধোয়ার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে থাকার আহ্বান জানান তিনি। অধ্যাপক ডা. রশীদ আরো বলেন, আমরা চাই না যে, পরিস্থিতি আবারো হাতের বাইরে চলে যাক। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাত নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ দুপুরে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর এ নির্দেশনার কথা জানান। পরিচালক বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণের হার বেড়েছে। করোনাভাইরাসের কয়েকটি নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার প্রতিরোধে দেশের সব স্থল, নৌ, বিমান বন্দরের আইএইচআর ডেস্কগুলো নজরদারি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো জোরদার করার বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে এ সময় তিনি সাত নির্দেশনা দেন। সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসাধারণের করণীয়: ১. জনসমাগম যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন এবং উপস্থিত হতেই হলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। ২. শ্বাসতন্ত্রের রোগ সমূহ হতে নিজেকে রক্ষার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন। ৩. হাঁচি/কাশির সময় বাহু বা টিস্যু দিয়ে নাক মুখ ঢেকে রাখুন। ৪. ব্যবহৃত টিস্যুটি অবিলম্বে ঢাকনা যুক্ত ময়লা ফেলার ঝুড়িতে ফেলুন। ৫. ঘনঘন সাবান ও পানি কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন (অন্তত ২০ সেকেন্ড)। ৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক, মুখ ধরবেন না। ৭. আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে করণীয়: ১. জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকুন। ২. রোগীর নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন। ৩. রোগীর সেবাদানকারীগনও সতর্কতা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করুন। ৪. প্রয়োজন হলে নিকটস্থ হাসপাতালে অথবা আইইডিসিআর (০১৪০১-১৯৬২৯৩) অথবা স্বাস্থ্য বাতায়নের (১৬২৬৩) নাম্বারে যোগাযোগ করুন। ডা. আবু জাফর আরও বলেন, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ বছরের ওপরে যারা, অন্তঃসত্ত্বা, ৬০ বছরের বেশি বয়সী ও ইমিউনো কম্প্রোমাইজ ব্যক্তিদের আবারও টিকা নেওয়া উচিত। নিকটস্থ কেন্দ্রে গেলে তারা বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন।
১ দিনেই ২৮৮ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

১ দিনেই ২৮৮ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ ছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২৮৮ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৬১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) এক জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুই জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) এক জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় ২৬৮ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ যাবত মোট চার হাজার ৮৩২ রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ১১ জুন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৩০৩ জন। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক সাত শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক তিন শতাংশ নারী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি, চলতি বছরে এ যাবত ডেঙ্গুতে ২৩ জন মারা গেছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
করোনা ভাইরাস : সোনামসজিদ ইমিগ্রেশনে মেডিকেল টিমের কাজ শুরু

করোনা ভাইরাস : সোনামসজিদ ইমিগ্রেশনে মেডিকেল টিমের কাজ শুরু প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনা ভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের স্থল ও নৌবন্দরগুলোর পাশাপাশি সবকটি বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। জনসমাগমে সকলকে মাস্ক পরার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর সোনামসজিদের ইমিগ্রেশনে এক সদস্যের মেডিকেল টিম বসানো হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারত থেকে আসা ভ্রমণকারীদের শরীরের জ্বর পরীক্ষা করছে মেডিকেল টিম। জ্বর শনাক্ত হলেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শাহাব উদ্দিন বলেন— ঈদের পর থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশনে মেডিকেল টিম কাজ শুরু করেছে। ভারত থেকে আসা ভ্রমণকারীদের শরীরে জ্বর থাকছে কিনা, করোনার কোনো লক্ষণ বোঝা যাচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করছেন। তিনি বলেন— করোনা পরীক্ষার কীটের জন্য বলা হয়েছে, পেলেই পরীক্ষা শুরু হবে। এদিকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ হারের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সকলকে মাস্ক পরার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ৬ জুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কোভিড-১৯ সংক্রমণ হারের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সকলকে মাস্ক পরার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। বিশেষত বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের এ ধরনের স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়।’
আম আড়ৎদারদের অহেতুক ও অযৌক্তিক কমিশন বর্জন: শিবগঞ্জে আম চাষীদের নিয়ে কৃষক সমিতি গঠন

আম আড়ৎদারদের অহেতুক ও অযৌক্তিক কমিশন বর্জন: শিবগঞ্জে আম চাষীদের নিয়ে কৃষক সমিতি গঠন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ কানসাটের আম আড়ৎদারগণ অহেতুক ও অযুক্তিক কমিশন আদায়ের প্রতিবাদে মতবিনিময় সভা ও কৃষক সমিতি গঠন করা হয়েছে। মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাহামুদুল হক হায়দারী মাহমুদ মিঞার উদ্যোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাহামুদুল হক হায়দারী। সভায় উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট আম ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন রুবেল, মাওলানা কয়েস উদ্দিন, জামাল উদ্দিন জেম, আল আমিন, ফজলুর রহমান, শামিম চৌধুরী, সাবেক ওয়ার্ড সদস্য নেফাউর রহমান, সেরাজুল ইসলাম ও আব্দুল লতিব, মাওলানা রেজাউল করিম, একরামুল হক সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আম চাষীগণ। সভায়, কানসাট আম বাজারে চলমান আম ক্রয়-বিক্রয়ে জটিলতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। চলমান কানসাট আম বাজারে কেজি দরে আম ক্রয়-বিক্রয় ও আড়ৎদারগণের বেধে দেয়া কেজি প্রতি ৩ টাকা কমিশন বর্জন সহ সঠিক নিয়মে আম ক্রয়-বিক্রয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আম চাষীদের নিয়ে কৃষক সংগঠন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।আলোচনা সভা শেষে আম চাষীদের নিয়ে কৃষক সমিতি গঠন করা হয়।
প্রাণান্তকর চেষ্টার পরও হারলো বাংলাদেশ

প্রাণান্তকর চেষ্টার পরও হারলো বাংলাদেশ এএফসি বাছাইপর্বের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলো বাংলাদেশ।ম্যাচের আগে বাংলাদেশের হামজা-সমিত-ফাহামেদুলরা যেমন আলোচনায় ছিলেন, ঠিক তেমনি স্বাগতিকদের জন্য ভয়ের কারণ ছিলেন সিঙ্গাপুরের ইখসান ফান্দি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সেই ফান্দি-ই দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করলেন। দীর্ঘদিন পর জাতীয় স্টেডিয়ামে ফুটবল ফিরেছে। ঘরের মাঠে ফুটবল ফেরার ম্যাচে অবশ্য গত ৪ জুন ভুটানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে গড়বড় করে ফেললেন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। জাতীয় স্টেডিয়ামে যে ম্যাচটি নিয়ে ছিলো চরম উত্তেজনা, সেই ম্যাচটাই হেরে গেলো স্বাগতিকরা। আজকের এ ম্যাচ নিয়ে দর্শকদের মাঝে উন্মাদনা ছিলো অনেক আগে থেকেই। কেননা, ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কিছুই বটে। কানাডা প্রবাসী সমিত সোমের অভিষেক হয়েছে এই ম্যাচে। অন্যদিকে হামজা চৌধুরী, ফাহামেদুল ইসলামের মতো খেলোয়াড় দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় রাতারাতি পাল্টে গেছে বাংলাদেশ দল। ক’দিন আগেও কী এত শক্তিশালী ছিলো বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল, নিশ্চই না। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুটবলার হামজা চৌধুরী বাংলাদেশ দলে যোগ দেওয়ার পরেই যেনো দর্শকদের উন্মাদনা বেড়ে গেলো বহু গুণ। তারপর যোগ দিলেন ইতালির লিগে খেলা ফাহামেদুল ইসলাম ও কানাডার লিগে খেলা সমিত সোম। আর তার সঙ্গে সঙ্গে সমর্থকদের প্রত্যাশাও যেনো বেড়ে গেলো আরও কয়েকগুণ। তবে সমর্থকদের সেই প্রত্যাশায় যেনো গুড়ে বালি। বাংলাদেশের ফুটবল মাঠে এমন দৃশ্য ঠিক কবে দেখেছেন, হয়তো মনেও নেই। এত দর্শক সবশেষ কোন ম্যাচে হয়েছিলো, তাও হয়তো খেয়াল করতে পারবেন না। বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচে সমর্থকরা যে প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলেন মাঠে খেলা দেখতে, তাদের সেই প্রত্যাশা অবশ্য পূরণ হয়নি। সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। আবার দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একটা গোল হজম করে স্বাগতিকরা। গ্যালারি তখন একেবারে নিশ্চুপ। সেই নিরবতা ভাঙলো ম্যাচের ৬৭ মিনিটে। দর্শকদের সে কি চিৎকার, একেবারে গলা ফাটানো। কারণটা হলো, হামজার বাড়ানো বল থেকে সিঙ্গাপুরের গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে গোল করেন রাকিব হোসেন। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছে সিঙ্গাপুর। বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগও তৈরি করেছে, তবে তা কাজে আসেনি। সময়ে সময়ে আবার বাংলাদেশও নাড়া দিয়েছে সিঙ্গাপুরের ঘরে। মাঝেমধ্যে ফাহামেদুল-সমিতরাও ভীতি ধরিয়েছেন প্রতিপক্ষের মনে। ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণে ঢুকে পড়ে সিঙ্গাপুর। গোলকিপার মিতুল বল ফিস্ট করতে গিয়ে পারেননি। বক্সের মধ্য থেকে হেড দিয়ে সিঙ্গাপুরের একজন বল দেন ডান দিকে। সেখান থেকে তিনি বল দেন বাঁ পাশে। শট নেন সিঙ্গাপুরের সং উই ইয়াং। হামজা চৌধুরী অনেক দূর থেকে দৌড়ে এসে গোল বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পারেননি। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের ডেরায় বেশ কয়েকবার হানা দিয়েছিলো সমিত-ফাহামেদুলরা। তবে বাংলাদেশের আক্রমণের উৎস যেনো সমিত সোম। প্রথমার্ধে কমপক্ষে পাঁচটি আক্রমণের উৎস ছিলেন সমিত। কিন্তু তার দারুণভাবে বাড়ানো পাসগুলো কাজে লাগাতে পারেননি রাকিব-ফাহামেদুলরা। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে বড় বাঁচা বেঁচে যায় বাংলাদেশ। সতীর্থের ক্রস থেকে দারুণ এক হেড করেছিলেন ইখসান ফান্দি। তবে পোস্ট ঘেঁষে সেটি বেরিয়ে যায়। খেলার প্রথম ২০ মিনিটে আক্রমণে এগিয়ে ছিলো বাংলাদেশ। ফাহামেদুল ইসলাম ও শাকিল আহাদ একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু রাকিব হোসেন কাজে লাগাতে পারেননি। পাল্টা আক্রমণে সিঙ্গাপুরও দুটি সুযোগ তৈরি করেছিলো। তারাও সুযোগ হাতছাড়া করেছে। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় সিঙ্গাপুর। দ্বিতীয় গোলটি করেছেন ইকসান ফান্দি। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া সিঙ্গাপুরের এক ফরোয়ার্ডের শট বাংলাদেশের গোলকিপার মিতুল ঠেকালেও ভালোভাবে বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বক্সের মধ্যেই বল পেয়ে যান ফান্দি। দূরের পোস্টে তার নেওয়া শট ঠেকাতে পারেননি মিতুল মারমা। ৬৭ মিনিটে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরীর বাড়ানো বল পেয়ে সিঙ্গাপুরের গোলকিপারকে বোকা বানান রাকিব হোসেন। শেষ ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডেরায় একের পর এক আক্রমণ করেছে স্বাগতিকরা। হামজা-সমিতদের আক্রমণ ঠেকাতে রীতিমতো ঘাম ঝরেছে সফরকারীদের। তবে চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হামজাদের।