চাঁপাইনবাবগঞ্জ একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরো ৫১ জন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরো ৫১ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জে গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে আরো ৫১ জনের দেহে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৪ জন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ৩৪ জনের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ, ১৮ জন মহিলা ও ২ জন শিশু রয়েছেন। বাকি ১৭ জন বহির্বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে ভর্তি হননি। জেলা হাসপাতালের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে মঙ্গলবার বলা হয়েছে, পূর্বের মোট ভর্তি রোগী ছিলেন ৪৪ জন। তাদের মধ্যে ১৯ পুরুষ, ১৯ জন মহিলা ও ৬ জন শিশু ছিলেন। একই সময়ে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৩৩ জনকে। এই ৩৩ জনের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ৯ জন মহিলা ও ৪ জন শিশু রয়েছেন। অন্যদিকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৭ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ৭ জনরে মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ১ জন মহিলা রোগী রয়েছেন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ৩৮ জন। তাদের মধ্যে ৭ পুরুষ, ২৭ জন মহিলা ও ৪ জন শিশু রোগী রয়েছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৯৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২২ জনে। এছাড়া বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৬৩ জন।
দেশে আরো ১৩ জনের করোনা শনাক্ত

দেশে আরো ১৩ জনের করোনা শনাক্ত দেশে নতুন করে ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৫৮২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তবে গত এক দিনে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেই মৃত্যুদণ্ড, ইরানে আইন পাস

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেই মৃত্যুদণ্ড, ইরানে আইন পাস দখলদার ইসরায়েল ও তার মিত্র দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকলেই পেতে হবে মৃত্যুদণ্ড। এছাড়াও অন্য ‘শত্রু’ দেশগুলোর সঙ্গেও ইরানের কোনও মানুষ যোগাযোগ রাখলে একই শাস্তি পেতে হবে। আজ ইরানের সংসদে নতুন এই আইন পাস হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো, গুপ্তচরগিরি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য শত্রু দেশের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ‘পৃথিবীতে দুর্নীতির’ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যার শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। বিশেষভাবে ইসরায়েলের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যারা ইসরায়েলকে সামরিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করতে হবে। অপরদিকে স্টারলিংকসহ অন্যান্য অননুমোদিত ইন্টারনেট সেবার সরঞ্জাম ক্রয়, বিক্রি ও কাছে রাখা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। কেউ এ অপরাধে অভিযুক্ত হলে তাকে ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড পেতে হবে। আর যারা এসব নিষিদ্ধ যন্ত্রাংশ ১০টির বেশি উৎপাদন বা আমদানি করবে তাদের ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। এছাড়া কেউ যদি সামরিক ড্রোন তৈরি করে, সাইবার হামলা করে অথবা শত্রুদের জন্য ইরানি অবকাঠামোয় কোনও নাশকতামূলক কাজ করে তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এমনকি যদি শুধুমাত্র কেউ এ ধরনের কোনও চেষ্টা চালায়, তাকেই মৃত্যুদণ্ড পেতে হবে। এরসঙ্গে কেউ যদি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে যেগুলো মানুষের মধ্যে ‘বিভক্তি, ভয়’ তৈরি করে এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়’ তাদের ১০ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া বিদেশি গণমাধ্যমকে কোনও ছবি বা ভিডিও পাঠালে সেগুলো যদি ইরানি জনগণের ‘মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত করে’ তাহলে দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি ধর্মীয় আদেশ বা ফতোয়া জারি করেছেন ইরানের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ নাসের মাকারেম শিরাজি। এই ফতোয়ায় তিনি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘আল্লাহর শত্রু’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বা শাসক ইসলামের নেতা বা শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে হুমকি দেয়, সে ‘যুদ্ধপিপাসু’ বা ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
দেশে করোনার নতুন ঢেউ, জুনে ২২ জনের মৃত্যু

দেশে করোনার নতুন ঢেউ, জুনে ২২ জনের মৃত্যু পাঁচ বছর আগে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা ভাইরাস ফের নতুন রূপে ফিরে আসছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও বেড়েছে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার নতুন একটি ঢেউয়ের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) পরিচালিত সর্বশেষ কোভিড-১৯ সার্ভিলেন্স ‘ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সার্ভিলেন্স ও পিএইচওসি’ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের মে থেকে দেশে করোনা সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে শুরু করেছে। জুন মাসে ১ হাজার ৪০৯ জন সম্ভাব্য কোভিড-১৯ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৩৪ জন পজিটিভ শনাক্ত হন, যা পরীক্ষার ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ। এটি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মে সময়কালে সর্বোচ্চ হার। এর আগে ২০২৩ সালের মে-আগস্ট এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি-আগস্টে সংক্রমণের হার ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি। সর্বশেষ পাওয়া করোনা ভাইরাসের নমুনাগুলোর জিনোম সিকুয়েন্সিং করে ‘ওমিক্রন বিএ ২.৮৬’ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, যা এর আগেও দেশে শনাক্ত হয়েছিল। আইসিডিডিআরবি চলতি বছর সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে নতুন দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট এক্সএফজি এবং এক্সএফসি বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরেছে। জুন মাসের প্রথম ১০ দিনে ১৪টি জিনোম সিকুয়েন্স করা হয়। এর মধ্যে ১২টিতেই এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, যা ওমিক্রন জেএন.১-এর একটি উপশাখা। সম্প্রতি যেসব নমুনা পাওয়া যাচ্ছে, এর প্রায় সবকটিতে এক্সএফজি ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। সোমবার ৩০ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বিবৃতি থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছর মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬৯ জন এবং এ যাবত দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৫২ হাজার ১১৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। চলতি বছরে করোনায় মোট ২২ জনের মৃতু্ হয়েছে। চলতি বছরে করোনায় মারা যাওয়া ২২ জনই জুন মাসে মারা যান। দেশে এযাবৎ করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫২১ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার পাঁচ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এ যাবত শনাক্তের হার মোট ১৩ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৪ শতাংশ। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিষয়ে হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশে করোনা বাড়ছে। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, ছোট কিংবা বড় হোক আমরা করোনার আরেকটি ঢেউয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। যে প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমরা যে সংখ্যক করোনা আক্রান্ত রোগীর তথ্য পাচ্ছি, তা প্রকৃত সংখ্যা নয়, আক্রান্তের একটা মাত্র অংশের তথ্য আমরা জানতে পারছি। বরফ খণ্ড যখন সমুদ্রের পানিতে ভাসমান থাকে, তখন বরফের ১২ ভাগের এক ভাগ পানির উপরে থাকে বাকিটা পানির নিচে থাকে। করোনার যে রোগীগুলোকে আমরা নির্ণয় করতে পেরেছি, সেটা হচ্ছে সেই ভাসমান অংশ। প্রকৃত সংখ্যা অনেক। আমরা নথিবদ্ধ মৃত্যু যে ২২ জন বলছি, আমাদের ধারণা এর বাইরেও অনেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। সবমিলে বলা যায়, ছোট বড় কিংবা মাঝারি যাই হোন না কেন, একটি ঢেউয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার নতুন এই ধরনটির সংক্রামিত করার ক্ষমতা বেশি হলেও রোগের তীব্রতা কম। তবে অসাবধানতা এবং অচেতনতায় ধরনটি যেকোনো সময় শক্তিশালীও হয়ে উঠতে পারে। তাই সবাইকে যথেষ্ট সচেতন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
সারা দেশে ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৮৬

সারা দেশে ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৮৬ গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩৮৬ জন। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৮ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) আট জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৯ জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় ৩২২ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ যাবত মোট নয় হাজার ৪০৯ রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক এক শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক নয় শতাংশ নারী রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চলতি বছরে এ যাবত ডেঙ্গুতে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কসোভোর রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কসোভোর রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা।আজ বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল রাষ্ট্রদূত প্লানার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত প্লানাকে তার নিয়োগের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বাংলাদেশের ‘জুলাই বিদ্রোহ’-এর চেতনার কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা কসোভোর জনগণের স্বাধীনতা, শান্তি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি তাদের অবিচল প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। কসোভোকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত প্লানা। তিনি ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে কসোভো অঞ্চলের সশস্ত্র সংঘাতের পর কসোভোর জনগণের জীবনে পুনর্গঠনে গ্রামীণ কসোভোর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে মূল্যবান অংশীদার হিসেবে দেখি। আমি আপনার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান জানাতে চাই। আপনার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ট্রাস্ট আমাদের জাতির জন্য এক বিশাল সহায়তা ছিল। স্বাধীনতা ও উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশি সদস্যদের অবদান এবং সহায়তার জন্য আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা রপ্তানিমুখী পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো সম্ভাবনাময় খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি কসোভোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।রাষ্ট্রদূত প্লানা দুদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উভয় দেশের বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। মানবিক সংযোগ জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা কসোভোর বিভিন্ন খাতে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি আরও প্রস্তাব দেন, কসোভোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং সে লক্ষ্যে বৃত্তি, ফেলোশিপ ও একাডেমিক অনুদান প্রদান করা যেতে পারে।
নাচোলে কৃষককে উপকরণ দিল প্রয়াস

নাচোলে কৃষককে উপকরণ দিল প্রয়াস নাচোল উপজেলার ফতেপুরে মাছের আঁইশ প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতকরণে উদ্যোক্তা তৈরি লক্ষে এক উপকারভোগীকে বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হয়েছে। উপকরণের মধ্যে রয়েছে— প্লাস্টিক ড্রাম, বাঁশের চাটাই, ইলেকট্রিক ফ্যান, ওজন মেশিন, বসার টুল, ক্যারেট, বালতি, বেলচা, ঝুড়ি, ব্লু নেট ইত্যাদি। প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির কৃষি ইউনিটভুক্ত মৎস্য খাতের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির নাচোল উপজেলার ফতেপুর শাখায় এইসব উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, ফতেপুর শাখার ব্যবস্থাপক বারিউল ইসলাম এবং ফিল্ড অফিসার সম্রাট আলী। আঁইশ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে মৎস্য কর্মকর্তা উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি।
দেশে আরও ২১ জনের করোনা শনাক্ত

দেশে আরও ২১ জনের করোনা শনাক্ত দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাননি। তবে নতুন করে আরও ২১ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৪৭৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর মহামারি শুরুর পর থেকে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫২ হাজার ১৮ জনে। একই সময়ে কেউ মারা না গেলেও, ২০২৪ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত করোনায় মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫১৮ জনের। এছাড়া মোট পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ১৩১টি।বর্তমানে দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম ৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অস্ত্র মামলায় কারাদণ্ড ১ জনের

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অস্ত্র মামলায় কারাদণ্ড ১ জনের চাঁপাইনবাবগঞ্জে অস্ত্র মামলায় মিঠন নামের একজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। আজ দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. মিজানুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত মিঠন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ভুরকুন্দা গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আব্দুল ওদুদ জানান, ২০২১ সালের ২২ অক্টোবর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বংপুর এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব-৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প। অভিযানকালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় ৩টি দেশী ওয়ানশুটারগানসহসহ মিঠনকে আটক করা হয়। এ ঘটনার পর দিন র্যাবের এসআই শ্রী নিবাস মিস্ত্রি বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোমস্তাপুর থানার এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর তদন্ত শেষে মিঠনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত এই দণ্ড প্রদান করেন।
নাচোলে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

নাচোলে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত নাচোল উপজেলায় বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল তিলের জাত বিনা তিল-২ ও ৩ এর সাথে বারি তিল-৩ এর প্রয়োগিক মাঠ পরীক্ষা মূল্যায়ন ও চাষাবাদ সম্প্রসারণের লক্ষে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরামাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উপকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের আয়োজনে ও নাচোল উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এবং বিনার গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অর্থায়নে কৃষকদের নিয়ে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। আজ বিকেলে উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের পল্টন পুকুর গ্রামে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিনা’র মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আজাদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের এসএসও এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. আজাদুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং পিএসও ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদার, বিনা’র পিএসও এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এএম ওয়াহিদুজ্জামান, নাচোল উপজেলা কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরাম ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। উল্লেখ্য, উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের পল্টন পুকুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম দুই বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল (বিনা) তিল-২ সেচ ছাড়ায় অল্প খরচে ভালো ফলন পেয়েছেন। এই মাঠ দিবসের মাধ্যমে তিল এবং অন্যান্য কম খরচে বেশি ফলনশীল ফসল চাষাবাদে উদ্ভাবিত করেন অতিথিরা।