ফিলিস্তিনে শিশুসহ ৭৮ জনকে হত্যা করল ইসরায়েল

ফিলিস্তিনে শিশুসহ ৭৮ জনকে হত্যা করল ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও হামলা চালিয়ে শিশুসহ অন্তত ৭৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েল। সোমবার ১৪ জুলাই বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আলজাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় দক্ষিণ গাজার রাফা, খান ইউনিস, মধ্য গাজার বুরেইজ ও গাজা শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, রাফায় একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে হামলা চালিয়ে অন্তত ৫ জন ত্রাণপ্রার্থীকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮৩৮ জন ফিলিস্তিনি। এদের অনেকেই নারী ও শিশু।এছাড়া খান ইউনিসে একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ৯ জন। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন। উত্তর গাজায়ও হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে একটি ট্যাংক হামলার শিকার হলে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) তিন সদস্য নিহত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় গাজা শহরের তুফাহ ও শুজাইয়া এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল, যা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন। গাজা শহরে এইসব হামলায় অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ অবরোধের কারণে গাজায় জ্বালানি ও খাদ্য সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ হাসপাতাল ও জরুরি সেবা।

বিমানবন্দর থেকে ৯৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া

বিমানবন্দর থেকে ৯৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) থেকে ৯৬ বাংলাদেশিসহ ১৩১ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরে প্রবেশের প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের ফেরত পাঠানো হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম দ্য সান ডেইলি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক হোটেল বুকিং, এক সপ্তাহ থাকার মতো যথেষ্ট অর্থ সঙ্গে না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে তাদের ফেরত পাঠায় মালয়েশিয়ান বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি। সোমবার ১৪ জুলাই বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ এ এই অভিযানে ৩০০ বেশি ব্যক্তির স্ক্রিনিং করা হয়। এ সময় দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ ১৩১ বিদেশি নাগরিককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এদের মধ্যে কিছু পর্যটক এক মাস থাকার দাবি করলেও তাদের কাছে মাত্র ৫০০ রিঙ্গিত ছিল, যা তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো ১৩১ জনের মধ্যে ৯৬ জন বাংলাদেশি পুরুষ, ৩০ জন পাকিস্তানি পুরুষ ও পাঁচজন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক রয়েছেন।

১৫ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল পাবে ৫৫ লাখ পরিবার: খাদ্য উপদেষ্টা

১৫ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল পাবে ৫৫ লাখ পরিবার: খাদ্য উপদেষ্টা আগামী আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি। এ বছর ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ (এফপিএমসি) কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খাদ্য উপদেষ্টা জানান, এবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মেয়াদ ছয় মাস। আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চার মাস এটি চলবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি স্থগিত থাকবে, এরপর ফেব্রুয়ারি ও মার্চ দুই মাস আবার কার্যক্রম চলবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান খাদ্য মজুত সন্তোষজনক। তবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য বন্যার কথা মাথায় রেখে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চার লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হবে। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে আরও পাঁচ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সভায় খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভাপতি ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিবন্ধনে প্রাথমিক বাছাইয়ে কোনো দলই ‘উত্তীর্ণ’ হতে পারেনি, সময় পাচ্ছে ১৫ দিন

নিবন্ধনে প্রাথমিক বাছাইয়ে কোনো দলই ‘উত্তীর্ণ’ হতে পারেনি, সময় পাচ্ছে ১৫ দিন নিবন্ধন চেয়ে আবেদন করা ১৪৪টি দলের কোনোটিই প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতো পারেনি। ফলে সবগুলো দলকেই ১৫ দিন সময় দিয়ে ঘাটতি পূরণের চিঠি দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ ইসির অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ জানান, প্রথম ধাপে ৬২টি দলকে চিঠি দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে অন্যান্য দলগুলোকেও চিঠি দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ১৫ দিন সময়ের মধ্যে যেসব ত্রুটি বিচ্যুতি আছে তা পূরণ করতে হবে। গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধন প্রত্যাশী দলগুলোকে আবেদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল ইসি। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বেশকিছু দল আবেদন করলে ২২ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ায় সংস্থাটি। ওই সময় পর্যন্ত ১৪৪টি দল ১৪৭টি আবেদন করে।

পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টিপাত, ১৯ জনের মৃ*ত্যু

পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টিপাত, ১৯ জনের মৃ*ত্যু ভারী বৃষ্টিপাতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখওয়া এবং রাজধানী ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে ঘরবাড়ি ধস ও পানিতে ডুবে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগামী দুই দিন দেশটির বিভিন্ন অংশে ভারি বর্ষণ ও বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খবর দ্য ডনের। পাকিস্তানের জাতীয় জরুরি পরিচালনা কেন্দ্র সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধান নদীগুলোর উজানে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে করে বেশ কয়েকটি এলাকায় হঠাৎ বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। এই সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রদেশটির বিভিন্ন অংশে হওয়া ভারী বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ধসে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রদেশটির অন্তত ২২টি জেলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ওয়াশুক, আওরান, ঝাল ম্যাগসি, খুজদার, মুসাখাইল, কিলা সাইফুল্লাহ, বারখান, কহলু, লোরালাই, ও ঝব-শেরানি জেলার বিভিন্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি শহরের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মালাকান্দ, বুনের, মানসেহরা ও কারাক জেলায় বৃষ্টির কারণে আরও ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আাগামী দুই দিনের জন্য দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির সতর্কতা জারি করেছে পাকিস্তানের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (এনইওসি)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুবিরোধী প্রচারণায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুবিরোধী প্রচারণায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটী পোল্লাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকায় আজ শোভাযাত্রা ও মানুষকে বাড়ির চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সচেতন করার কর্মসূচি পালন করেছে। আজ দুপুরে বিদ্যালয়ের কাবদল, হলদে পাখির দল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে শিক্ষকের নেতৃত্বে প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন হাতে নিয়ে শোভাযাত্রা বের করে। ক্যাচমেন্ট এলাকা ঘোরার সময় অভিভাবক ও এলাকার বাসিন্দাদের ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে বোঝায় ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সচেতন করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা খাতুন জানান, গত ২ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উল্লেখ করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ভয়াবহ আকারে দেখা দিয়েছে। তাই প্রতিটি বিদ্যালয়ের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখাসহ অভিভাবকদের সচেতন করার পদক্ষেপ হিসেবে কর্মসূচি গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সমাবেশে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়ির চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার শপথ নেয়।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হরিপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হরিপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে হরিপুর ১নং উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় বিআরটিএ চাপাইনবাবগঞ্জ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। স্কুলপর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সড়ক ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনা সভায় নিরাপদ সড়কের গুরুত্ব, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয়, নিরাপদে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। আলোচনা সভায় বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. শাহজামান হক, মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল খাবীরু, সহকারী মোটরযান পরিদর্শক আবু হুজাইফাসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার : ১ জনের বিদায় আরেকজনের যোগদান

নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার : ১ জনের বিদায় আরেকজনের যোগদান নাচোলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নীলুফা সরকারের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামাল উদ্দিনকে বরণ করা হয়েছে। আজ দুপুরে ৩২তম নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে মো. কামাল উদ্দিন যোগদান করেন। এসময় নবাগত ইউএনওকে ফুল দিয়ে বরণ করেন সদ্য বিদায়ী ইউএনও ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপস্থিত ছিলেন— বিদায়ী ইউএনও নীলুফা সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া, কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরাম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ইউএনও কামাল উদ্দিন বলেন, নতুন কর্মস্থলে সঠিকভাবে যেন দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কামাল উদ্দিন এর আগে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ৩৫তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। এছাড়াও বিদায়ী ইউএনও নীলুফা সরকার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) রাজশাহী বিভাগীয় অফিসে সচিব পদে যোগদান করেছেন।

নাচোলে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ঢেউটিন খাবার ও অর্থ বিতরণ

নাচোলে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ঢেউটিন খাবার ও অর্থ বিতরণ নাচোলে অগ্নিকাণ্ড ও কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিনামূল্যে ঢেউটিন, গৃহ নির্মাণের জন্য অর্থ ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আজ দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জনপ্রতি এক বান্ডিল করে ঢেউটিন ও গৃহমঞ্জুরি বাবদ ৩ হাজার করে অর্থ সহায়তা এবং ১৫০ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া এইসব বিতরণের আয়োজন করে নাচোল উপজেলা প্রশাসন। প্রধান অতিথি হিসেবে এসব বিতরণ করেন বিদায়ী নির্বাহী অফিসার নীলুফা সরকার। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দিন খাঁন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাদেকুল ইসলাম, নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, নাচোল উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলামসহ উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

৬ দফা দাবিতে স্বাস্থ্যসহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি পালন

৬ দফা দাবিতে স্বাস্থ্যসহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি পালন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রস্তাবিত মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়োগবিধি সংশোধন পূর্বক স্নাতক বা সমমান সংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান ও ইন সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ ৬ দফা দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ সিভিল সার্জন অফিসের সামনে বাংলাদেশ হেলথ্ অ্যাসিসট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলা কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন— বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আকবর আলী, স্বাস্থ্য সহকারীদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে রাকিব রায়হান, গোমস্তাপুর উপজেলা থেকে নিয়ামত উল্লাহ, নাচোল উপজেলা থেকে রবিউল ইসলাম ও ভোলাহাট উপজেলা থেকে আহসান হাবীব। এছাড়াও নূরুন নাহার শাপলা, কানিজ ফাতেমা, আবু সায়েমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। স্বাস্থ্য সহকারীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, মানবশিশু জন্মের পর থেকে ১০টি মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় প্রতিরোধযোগ্য টিকা হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে আমরা স্বাস্থ্য সহকারীরাই টিকা প্রদান করে থাকি। আমাদের এ টিকা প্রদানের কাজটি সম্পূর্ণ টেকনিক্যাল হলেও আমরা টেকনিক্যাল পদমর্যাদা থেকে বঞ্চিত। তাছাড়া আমরা দীর্ঘদিন থেকে টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবি করে এলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ বাস্তবায়ন না করায় স্বাস্থ্য সহকারীরা সরকারের অন্যান্য সকল দপ্তরের কর্মচারীদের থেকে পদমর্যাদাসহ চরম বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তারা বলেন, আমাদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেক্টরে সকল আন্তর্জাতিক অর্জন হওয়া সত্ত্বেও বিগত সরকার আমাদের শুধু আশার বাণীই দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই আমাদের নিয়োগবিধি সংশোধন করে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (বিজ্ঞান) সংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান করতে হবে ও ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকনিক্যাল পদমর্যাদা বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ প্রস্তাবিত ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে এ কর্মসূচি পালন করছি। বক্তারা আরো বলেন, আমরা এ কমসূচি পালনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি ও আবেদন জমা দিয়ে আমাদের দাবি ও কর্মসূচি বিষয়ে অবগত করেছি। কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যদি আমাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ইপিআইসহ সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন বন্ধ রাখা হবে। স্বাস্থ্য সহকারীদের প্রস্তাবিত ৬ দফা দাবি হলো— ১. নির্বাহী আদেশে নিয়োগ বিধি সংশোধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (বিজ্ঞান) সংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান। ২. ইন সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ। ৩. পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ। ৪. পূর্বের নিয়োগবিধি অনুযায়ী নিয়োগ পেলেও কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী সকল স্বাস্থ্য পরিদর্শক তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে স্নাতক পাস স্কেলে আত্মীকরণ। ৫. বেতন স্কেলে উন্নীতকরণের পূর্বে স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শকগণ যত সংখ্যক টাইম স্কেল অথবা উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত বা প্রাপ্য হয়েছেন তা পরবর্তী পুনঃনির্ধারিত বেতন স্কেলের সাথে যোগ করতে হবে। ৬. পূর্বে ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা এসআইটি কোর্স সম্পন্নকারী স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শকদেরকে ডিপ্লোমাধারী সম্পন্ন হিসেবে গণ্য করে সরাসরি ১১তম গ্রেড দিতে হবে।