লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত অভিনেত্রী সানা

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত অভিনেত্রী সানা হিন্দি টিভি সিরিয়াল ও তেলেগু সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সানা মকবুল খান লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সম্প্রতি তার এ রোগ শনাক্ত হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের পক্ষ থেকে সানা মকবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ আলাপচারিতা তিনি বলেন, “আমি বেশ কিছু দিন ধরে অটোইমিউন হেপাটাইটিসে ভুগছি। সম্প্রতি আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। আমার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমার লিভারকে মারাত্মকভাবে আক্রমণ করতে শুরু করেছে। এখন আমার লিভার সিরোসিস ধরা পড়েছে।”ইমিউনোথেরাপি শুরু করেছেন সানা মকবুল। এ তথ্য উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি শক্ত রাখার চেষ্টা করছি। একদিন পর পর চিকিৎসা নিচ্ছি।” লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করাতে চাচ্ছেন না ৩১ বছরের সানা। তা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “চিকিৎসক এবং আমি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট এড়ানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আমি ইমিউনোথেরাপি শুরু করেছি, সত্যি এটি কঠিন এবং ক্লান্তিকর। কিছু সময় অন্য সময়ের তুলনায় কঠিন। তবে আমি আশায় বুক বেঁধে আছি। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মতো বড় পদক্ষেপ ছাড়াই আমি সুস্থ হতে চাই। যদিও এটা সহজ হবে না। কিন্তু আমি এত সহজে হাল ছেড়ে দিতে রাজি নই।” সানার বাবা-মা তার পাশে আছেন। তা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “এ পরিস্থিতিতে আমার পরিবার আমার পাশে রয়েছে। তবে আমার জন্য তাদেরকে কষ্টে থাকতে দেখা, আমার বেঁচে থাকার চেয়েও কঠিন। তারা আমাকে ভেঙে পড়তে দেখছে। আমার মা খুব বেশি কিছু বলেন না। কিন্তু তার নীরবতা শক্তিতে ভরপুর। আমার বাবা চিন্তিত থাকলেও আমার সামনে তার সাহসী মুখটাই দেখান। তারা আমাকে কখনো একা বোধ করতে দেন না। আরোগ্য লাভ করা কেবল ওষুধের উপর নির্ভর করে না; এটি ভালোবাসার উপরও নির্ভর করে।” লিভার সিরোসিস কী? যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যখন লিভারের রোগের নানা পর্যায়ের পর কোষগুলো এমনভাবে আক্রান্ত হয় যে, লিভার আর কাজ করতে পারে না, সেই পর্যায়কে লিভার সিরোসিস বলে বর্ণনা করা হয়। যখন এই রোগে আক্রান্ত হয়, তখন লিভার বা যকৃৎ তার স্বাভাবিক কাজগুলো, যেমন বিপাক ক্রিয়া, রক্ত জমাট বাঁধার উপকরণ তৈরি, ওষুধ ও রাসায়নিকের শোষণ, খাদ্যের পুষ্টি উপাদানের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি করতে পারে না। লিভার সিরোসিস একটি মারাত্মক ও অনিরাময়যোগ্য রোগ। লিভারের নানারকম রোগের মধ্যে এটিকে চূড়ান্ত পর্যায়ের একটি রোগ বলে গণ্য করা হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে যকৃতের ট্রান্সপ্লান্ট বা প্রতিস্থাপন ছাড়া পুরোপুরি আরোগ্য হয় না। মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন সানা মকবুল। বিগ বস ওটিটি’র তৃতীয় সিজনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। বেশ কয়েকটি দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করেছেন সানা মকবুল। ‘নেমেসিস’ সিনেমার মাধ্যমে তার বলিউডে অভিষেক হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথমবার বিগ ব্যাশে বাবর আজম

প্রথমবার বিগ ব্যাশে বাবর আজম বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাট হাতে বহুবার তোলপাড় করা বাবর আজম এবার অস্ট্রেলিয়ার জমজমাট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) পা রাখতে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন গুঞ্জনের পর অবশেষে এই পাকিস্তানি তারকাকে নিজেদের স্কোয়াডে টেনে নিয়েছে সিডনি সিক্সার্স। নতুন মৌসুমে (২০২৫) তাকে দেখা যাবে গোলাপি জার্সিতে। এটাই বাবরের প্রথমবারের মতো বিগ ব্যাশে খেলার অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। সিডনি সিক্সার্সের সঙ্গে তার এই চুক্তিটি হয়েছে প্রি-সাইনিং অপশনের মাধ্যমে, যেখানে প্রতিটি দল আন্তর্জাতিক ড্রাফট শুরুর আগেই একজন বিদেশি ক্রিকেটারকে দলে নিতে পারে। ১৯ জুন শুরু হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ড্রাফটের আগেই সিক্সার্স বাবরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাবরের মতো বিশ্বমানের অভিজ্ঞ একজন টপ অর্ডার ব্যাটারকে পাওয়ার অর্থই হলো দলে গভীরতা ও ভারসাম্য বাড়ানো। এই তারকার সঙ্গে একই দলে থাকছেন স্টিভ স্মিথ, শন অ্যাবটের মতো অভিজ্ঞ অজি খেলোয়াড়রা, যা দলের শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। গত মৌসুমে একমাত্র সিডনি সিক্সার্সই ছিল এমন দল, যারা কোনো বিদেশি তারকাকে আগেভাগে দলে নেয়নি। এবার তারা সেই ঘাটতি পূরণ করল বাবরের মতো একজন ক্রিকেট সেনসেশনকে নিয়ে।তবে বাবরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেকবার। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে তার জায়গা এখন অনিশ্চিত, ব্যাটেও অনুজ্জ্বল সময় কাটছে। তবু, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন এই চ্যালেঞ্জ বাবরের জন্য এক নতুন দরজা খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।চুক্তির পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় বাবর জানান, “এটা আমার জন্য দারুণ এক সুযোগ। বিগ ব্যাশ বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি লিগ এবং সিডনি সিক্সার্স একটি সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি। এই দলে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। আমি চাই দলের জয়ে অবদান রাখতে, ভক্তদের ভালোবাসা কুড়াতে এবং এই অভিজ্ঞতা আমার পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে।” অস্ট্রেলিয়ায় বাবরের প্রথম আগমনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই পাকিস্তানি ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে। অনেকেই বলছেন, হয়তো এটাই সেই ‘নতুন শুরু’, যেটা বাবরের ক্যারিয়ার আবার উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।
নতুন যাত্রায় পুরনো অভিজ্ঞতার আলোয় পথ চলতে চান মিরাজ

নতুন যাত্রায় পুরনো অভিজ্ঞতার আলোয় পথ চলতে চান মিরাজ বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আজ দায়িত্ব পেয়ে প্রথবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন। সেখানে তিনি কীভাবে কাজ করবেন, নেতৃত্বে কীভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে চান, তরুণদের কিভাবে কাজে লাগাবেন, কোন অভিজ্ঞতা তাকে পথ দেখাবে সেটা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে কথা বলেন নতুন এই অধিনায়ক। নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা না থাকলেও দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা মিরাজকে তৈরি করেছে। তিনি জানান, “বাংলাদেশ দলে (ওয়ানডেতে) আমার অভিষেক হয়েছিল মাশরাফি ভাইয়ের অধীনে। আমি (খেলোয়াড় হিসেবে) অনেক অধিনায়ককে পেয়েছি। এটা আমার জন্য ভালো লাগার বিষয় যে তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। যেটা আমি হয়তো আমার এই অধিনায়কত্বের সময়ে কাজে লাগাতে পারব।” তিনি আরও বলেন, “তারা যেভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন, শক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন, সে জিনিসগুলো আমি অনুসরণ করেছি যে কীভাবে নিতেন। অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতিতে শক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় নিজের। অনেক সময় পক্ষে আসবে, অনেক সময় আসবে না। কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত কীভাবে নিচ্ছি, সেটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ।” নেতৃত্বে যেমন অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করা। সেই দিকটাও ভেবেছেন মিরাজ, “যারা জুনিয়র আছে, তাদেরকে অবশ্যই পারফর্ম করতে হবে ওই পরামর্শগুলো দেব। আমরা যখন প্রথমে ঢুকেছিলাম, বড় ভাইয়েরা আমাদেরকে যেভাবে সাহায্য করেছে, চেষ্টা করব ওভাবে সাহায্য করার জন্য। ড্রেসিংরুমটাকে ওভাবে রাখার জন্য। যেন যেই ড্রেসিংরুমে থাকে না কেন, সে যেন অনুভব না করে আমি একা, আমার সঙ্গে সবাই আছে।”নেতৃত্বের ভার গ্রহণ করে শুধু মাঠের দায়িত্ব নয়, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ গঠন ও ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরির কথা বললেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার দেখার পালা, এই তরুণ নেতার হাতে ওয়ানডে দলে কতটা বদল আসে।
বিশ্বকাপ স্বপ্ন থেমে গেছে, ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার ক্রীড়াঙ্গন

বিশ্বকাপ স্বপ্ন থেমে গেছে, ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার ক্রীড়াঙ্গন ওমানের বিপক্ষে ড্রয়ের মাধ্যমে শেষ হয়ে গেছে ফিলিস্তিনের বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বপ্নযাত্রা। মাঠের লড়াইয়ের পরিসমাপ্তির সময় গাজায় মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ।যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডের ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, তারা আবার মাঠে ফিরতে পারলেও তাতে লাগবে অন্তত এক দশক। খান ইউনুসে নিজের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরের ভেতর ৭৫ বছর বয়সী শাকের সাফি হাত বুলিয়ে দেখছিলেন তার ছেলে মোহাম্মদের পুরনো ছবি। মোহাম্মদের হাতে গড়া জুনিয়র ফুটবল দলের ট্রফি, মেডেল, দলের হাডল করা মুহূর্তের ছবি—সব এখন স্মৃতিচিহ্ন, এক অসমাপ্ত স্বপ্নের নীরব সাক্ষী।২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর, ইসরায়েলি এক বিমান হামলায় নিহত হন মোহাম্মদ সাফি—একজন ফুটবল কোচ এবং শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক। গাজার স্কুল ও স্থানীয় ক্লাবে বছরের পর বছর ধরে কিশোর ফুটবলারদের গড়ে তুলেছিলেন তিনি। আল-আকসা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শারীরিক শিক্ষায় স্নাতক মোহাম্মদ ছিলেন দক্ষিণ গাজার আল-আমাল ফুটবল ক্লাবের প্রধান কোচ। ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের মাঝে তার সুনাম ছিল অপরিসীম।শাকের বলেন, “আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনকে প্রতিনিধিত্ব করার। সে বিশ্বাস করত—খেলা তরুণদের হতাশা থেকে বের করে আনতে পারে। কিন্তু যুদ্ধ তার আগেই থামিয়ে দিল তাকে। ”মোহাম্মদের স্ত্রী নীরমীন ও তাদের চার সন্তান—শাকের জুনিয়র (১৬), আমির (১৪), আলমা (১১) ও তাইফ (৭)—আজ শূন্যতা আর কষ্ট নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাদের কাছে বাবার শেষ ফুটবল, কোচিংয়ের নোটবইই এখন একমাত্র সম্বল। ছোট্ট তাইফ যখন জিজ্ঞাসা করে, “আমাদের কাছ থেকে বাবাকে কেন কেড়ে নিল ওরা?” তখন মায়ের চোখে জল ঝরে।“সে রাজনীতিবিদ ছিল না, স্বপ্নবাজ ছিল,” বলেন নীরমীন। “আন্তর্জাতিক রেফারি হতে চেয়েছিল, মাস্টার্স করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে মেরে ফেলা হলো, কারণ সে ছিল জীবনের প্রতীক। ” খেলাধুলার বদলে এখন শুধু বেঁচে থাকার লড়াই, গাজায় যারা এখনও বেঁচে আছে, তাদের কাছে খেলাধুলা এখন বিলাসিতা। বেঁচে থাকাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।২০ বছর বয়সী ইউসুফ আবু শাওয়ারিব, রাফাহর প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের গোলরক্ষক। মে ২০২৪-এ নিজের ঘর ছেড়ে আশ্রয় নেন খান ইউনুস স্টেডিয়ামে—যেখানে একসময় খেলতেন ম্যাচ।আজ সে মাঠে নেই ফুটবলারের ছায়া, বরং সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শরণার্থীদের তাঁবু।“এই জায়গায় আমার কোচ আমাকে ম্যাচের আগে ব্রিফ করতেন। এখন আমি এখানে পানির জন্য অপেক্ষা করি, কিক অফের জন্য নয়,” বলেন ইউসুফ। আজ তার রুটিন কেবল মাঝেমধ্যে নিজের তাঁবুতে হালকা অনুশীলন। জার্মানিতে খেলার স্বপ্ন কিংবা খেলাধুলা নিয়ে উচ্চশিক্ষার চিন্তা—সব এখন অতীত।ধ্বংসের মাঝেও কিছু আশা টিকে আছে। ফিলিস্তিনের অ্যাম্পিউটি ফুটবল দলের প্রধান কোচ শাদি আবু আরমানা যুদ্ধের আগে ছয় মাসব্যাপী একটি প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা করেছিলেন।তার ২৫ জন খেলোয়াড় ও পাঁচ সদস্যের কোচিং স্টাফ নিয়ে দলটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। ২০১৯ সালে তারা ফ্রান্সে অংশ নিয়েছিল, আবার ২০২৩ সালের নভেম্বর ও ২০২৫ সালের অক্টোবরের জন্য পরিকল্পনা ছিল।“এখন তো একসঙ্গে জড়ো হওয়াটাই সম্ভব না,” বলেন শাদি। “সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে—হোম, মাঠ, গিয়ার, কিছুই নেই। খেলোয়াড়দের অনেকেই পরিবারের সদস্য হারিয়েছে, কেউ কেউ নিজের বাড়িও। ” তিনি বলেন, “যুদ্ধ থেমে গেলেও, আমরা যা হারিয়েছি তা ফিরিয়ে আনতে বছর লাগবে। এটা শুধু থেমে যাওয়া নয়, এটা একেবারে ‘মুছে ফেলা’। ফিলিস্তিন অলিম্পিক কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আসআদ আল-মাজদালাওয়ি বলেন, গাজার ক্রীড়াব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে। কমপক্ষে ২৭০টি ক্রীড়া স্থাপনা আঘাতপ্রাপ্ত, যার মধ্যে ১৮৯টি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ৮১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। “গাজার ক্রীড়া অবকাঠামোর প্রতিটি স্তরে হামলা হয়েছে—অলিম্পিক অফিস, ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রম—সবকিছু,” বলেন আল-মাজদালাওয়ি। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক কারাতে চ্যাম্পিয়ন নাঘাম আবু সামরা, ১৯৯৬ সালের অলিম্পিকে পতাকা বহনকারী মাজেদ আবু মারাহিল, জাতীয় ফুটবল কোচ হানি আল-মাসদার এবং অ্যাথলেটিকস কোচ বিলাল আবু সামান। “এটা শুধু ক্ষতি নয়, এটা এক ধরনের নির্মূল প্রক্রিয়া,” বলেন আল-মাজদালাওয়ি। “প্রতিটি খেলোয়াড় ছিল একেকটি কমিউনিটির স্তম্ভ। তারা সংখ্যা নয়, তারা প্রতীক ছিল—আশা, ঐক্য ও সংগ্রামের প্রতীক। ” আন্তর্জাতিক সমাজের নীরবতা আর সহনীয় নয়, আল-মাজদালাওয়ির মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠনগুলো শুধু নীরবই নয়, বরং একপ্রকার দায় এড়িয়ে চলেছে। তিনি বলেন, “প্রাইভেটভাবে অনেকে সমবেদনা প্রকাশ করে, কিন্তু সিদ্ধান্তের স্তরে এসে ইসরায়েল যেন আইনের ঊর্ধ্বে। খেলাধুলার নিয়ম বা মানবাধিকার—সবই এখানে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। ” তিনি বলেন, “আমরা ১৯৯৪ সাল থেকে এই ক্রীড়া কাঠামো গড়ে তুলেছি। জ্ঞানের স্তর, পেশাদারি, অবকাঠামো—সব ছিল। এখন তা কয়েক মাসেই ধ্বংস হয়ে গেছে। ” যুদ্ধ এখনও চলছে। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তবুও শাকের সাফি, ইউসুফ, শাদি—তারা সবাই বিশ্বাস করেন, একদিন খেলাধুলা আবার হয়ে উঠবে তাদের অস্তিত্ব, আশা আর জীবনের পরিচয়। “এখন তো শুধু কামনা করি, আগামীকাল যেন খাওয়ার কিছু পাই,” বলেন ইউসুফ। “যুদ্ধ শুধু মাঠ ভাঙেনি, আমাদের ভবিষ্যৎও গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ” তিনি যখন পোড়া স্টেডিয়ামের দিকে তাকান, তখন তা শুধুই সাময়িক আশ্রয় নয়—একটা জাতিগত ‘মুছে ফেলার’ প্রতীক।
ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৯

ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৯ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৯ জন। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২৮ জন মারা গিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৯ জন। এদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) নয় জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) নয়জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) তিনজন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ যাবত মোট পাঁচ হাজার ১১ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ১৩ জুন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে ৫৯ দশমিক পাঁচ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক পাঁচ শতাংশ নারী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত পাঁচজনের মধ্যে চারজন বরিশাল বিভাগের এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫ দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত হয়েছে আরও ১৫ জন রোগী। আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক এক সংবাদ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দুই নারী মারা গেছেন। তাদের একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, আরেকজনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছররের মধ্যে। একজন ঢাকা বিভাগের আরেকজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। একজন সরকারি হাসপাতালে আরেকজন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। উল্লিখিত সময়ে ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ যাবত দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ জন।২৪ ঘণ্টায় তিন জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ যাবত মোট সুস্থ হয়েছেন ২০ লাখ ১৯ হাজার ৪০১ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৭৪ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এযাবত ১ কোটি ৫৭ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৪ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। এযাবত শনাক্তের হার মোট ১৩ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৪ শতাংশ।দেশে প্রায় এক বছরের অধিক সময় পর গত ৫ জুন করোনায় একজনের মৃত্যুর খবর জানা যায়।এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই করোনা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর থেকে করোনা আক্রান্ত হলেও দীর্ঘ সময়ে আর কেউ মারা যায়নি।২০২০ সালের ৮ মার্চ মাসে দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
সৌদিতে একদিনে ৩ বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

সৌদিতে একদিনে ৩ বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে একইদিনে তিন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। এ বছর হজ পালন করতে গিয়ে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ২৬ বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। এদের মধ্যে ২৩ জন পুরুষ ও তিনজন নারী। আজ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের মৃত্যু সংবাদে এসব তথ্য জানা গেছে। সবশেষ গত ১২ জুন (বৃহস্পতিবার) মৃত্যুবরণকারী হাজিরা হলেন খাতিজা বেগম, মো. মনিরুজ্জামান ও মো. আমির হামজা। মৃত ২৬ হজপালনকারীর মধ্যে মক্কায় মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের, মদিনায় আট ও আরাফায় একজনের। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টাল সূত্রে জানা যায়, এ বছর হজে গিয়ে গত ২৯ এপ্রিল প্রথম মারা যান রাজবাড়ীর পাংশার মো. খলিলুর রহমান (৭০)। এরপর ২ মে মারা যান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের মো. ফরিদুজ্জামান (৫৭), ৫ মে মারা যান পঞ্চগড় সদরের আল হামিদা বানু (৫৮), ৭ মে মারা যান ঢাকার মোহাম্মদপুরের মো. শাহজাহান কবির (৬০) এবং ৯ মে মারা যান জামালপুরের বকশিগঞ্জের হাফেজ উদ্দিন (৭৩), ১০ মে মারা যান নীলফামারী সদরের বয়েজ উদ্দিন (৭২), ১৪ মে মারা যান চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মো. অহিদুর রহমান (৭২), ১৭ মে মারা যান গাজীপুর সদরের মো. জয়নাল হোসেন (৬১) এবং ১৯ মে মারা যান চাঁদপুরের মতলবের আ. হান্নান মোল্লা (৬৩) ও ২৪ মে রংপুরের পীরগঞ্জের মো. সাহেব উদ্দিন। এছাড়া ২৫ মে মারা গেছেন চাঁদপুরের কচুয়ার বশির হোসাইন (৭৪), ২৭ মে মারা যান চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের শাহাদাত হোসেন, ২৯ মে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মো. মোস্তাফিজুর রহমান(৫৩), একই দিন মাদারীপুর সদরের মোজলেম হাওলাদার (৬৩), গাজীপুরের টঙ্গীর পূর্ব থানার আবুল কালাম আজাদ (৬২), গত ১ জুন মারা যান, গাজীপুরের পুবাইলের মো. মফিজ উদ্দিন দেওয়ান (৬০) ও নীলফামারীর সৈয়দপুরের মো. জাহিদুল ইসলাম (৫৯), ৫ জুন মারা যান ঢাকার কেরানীগঞ্জের মনোয়ারা বেগম মুনিয়া, ৬ জুন খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকার শেখ মো. ইমারুল ইসলাম, ৭ জুন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মো. মুজিব উল্যা, ৯ জুন মারা যান গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের এ টি এম খায়রুল বাসার মন্ডল, ১০ জুন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার গোলাম মোস্তফা, ১২ জুন লালমনিরহাট পাটগ্রামের আমির হামজা, ময়মনসিংহের কোতয়ালি এলাকার মো. মনিরুজ্জামান (৬৬) ও নোয়াখালীর চাটখিল এলাকার খাতিজা বেগম (৪১)। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট ছিল ২৯ এপ্রিল আর শেষ ফ্লাইট ৩১ মে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ১০ জুন এবং শেষ হবে ১০ জুলাই।
৬ বিজ্ঞানী নিহত, জরুরি অধিবেশন ডেকেছে ইরান

৬ বিজ্ঞানী নিহত, জরুরি অধিবেশন ডেকেছে ইরান ইরানের রাজধানী তেহরানে পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাকে মূল লক্ষ্যবস্তু করে দেশটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আজ ইরানের স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছু সময় পর, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র ইফি ডেফ্রিন শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইরানে ১০০টির বেশি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে ২০০টির বেশি যুদ্ধবিমান। এমন প্রেক্ষাপটে পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডেকেছে ইরান। ইরান ইন্টারন্যাশনালের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা এবং ফরেন পলিসি কমিটি শুক্রবার জরুরি অধিবেশনে বসবে। দেশটির সিনিয়র একজন আইনপ্রণেতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে বিবিসি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়লের হামলায় ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ডের প্রধান হোসেইন সালামি নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে নিহত হয়েছেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি। খতম-আল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার ঘোলামালি রশিদও নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইসরায়েলের অতর্কিত হামলায় ইরানের ছয়জন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। তাদের একজন হলেন, ফেরেয়দুন আব্বাসি। আব্বাসি ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা, এইওআই-এর সাবেক প্রধান। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা দায়িত্বে আছে এইওআই। ইসরায়েলের হামলায় নিহত অপর বিজ্ঞানীর নাম মোহাম্মদ মেহেদী তেহরানচি। তিনি তেহরানের ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি। তবে বাকি চারজন নিহত বিজ্ঞানীর নাম এখন পর্যন্ত জানায়নি দেশটি। ইরান ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা শামখানি নিহত হয়েছেন। তার নিজ বাসভবনে হামলা চালায় ইসরায়েল। তবে খামেনি অক্ষত আছেন বলে নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে। এদিকে সর্বশেষ খবর অনু্যায়ী, ইরান ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ১০০টি ড্রোন ছুড়েছে।
প্রস্তুতি ঠিক থাকলে রমজানের আগেও নির্বাচন হতে পারে

প্রস্তুতি ঠিক থাকলে রমজানের আগেও নির্বাচন হতে পারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে। আজ দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেইজে এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অত্যন্ত সৌহার্দ্যমূলক পরিবেশে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার কাছে আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তাব করেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও মনে করেন ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভালো হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন যে তিনি আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার এই অবস্থানকে স্বাগত জানান এবং দলের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রধান উপদেষ্টাও জনাব তারেক রহমানকে ফলপ্রসু আলোচনার জন্য ধন্যবাদ জানান। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটার দিকে যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবির।
উড়োজাহাজ বিপর্যয়ের পর আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদী

উড়োজাহাজ বিপর্যয়ের পর আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদী আহমেদাবাদের মেঘানিনগরে এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সকাল নয়টার দিকেঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মোদি। মোদির সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু কিঞ্জরাপু, এই দফতরের প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মহল, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী উপেন্দ্র প্যাটেল, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংভি, আমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার জিএস মালিক প্রমুখ। এরপর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী চলে যান আহমেদাবাদের সিভিল হাসপাতালে। এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন দুর্ঘটনাগগ্রস্ত ওই বিমানটিতে আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে যাওয়া একমাত্র যাত্রী রমেশ বিশ্ব কুমারসহ অন্য আহত চিকিৎসক ও স্থানীয় ব্যক্তিরা। আহতদের সাথে কথা বলে তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে খোঁজখবর নেন মোদি। আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন ‘বেঁচে যাওয়া একমাত্র যাত্রী রমেশ বিশ্বকুমার ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি তার ভাই অজয় কুমার রাকেশের সাথে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাচ্ছিলেন। তিনি বিমানের ১১এ আসনে বসেছিলেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন।’ অন্যদিকে রমেশ জানান ‘টেক অফের মাত্র ৩০ সেকেন্ড পর হঠাৎ করে বিকট শব্দ হয় এবং এরপর সেটি ভেঙে পড়ে।’ বৃহস্পতিবারই হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গতকাল দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে আহমেদাবাদের মেঘানিনগর এলাকায় সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের দিকে উড়ে যাচ্ছিল ওই বিমানটি। এদিন দুপুরে ২৩ নম্বর রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনাগ্রস্থ বিমানটি বিমানবন্দরের কাছেই বাইরামজি জিজিভয় (বি.জে) মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে ভেঙে পড়ার আগে মাটি থেকে দুইটি জেট ইঞ্জিন বিশিষ্ট ওই বিমানটি ৬২৫ ফুট উঁচুতে ছিল বলে জানা যায়। বিমানবন্দরের ভিতরের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে বিমানবন্দর থেকে উন্নয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানটি বাম দিকে হেলে পড়তে থাকে। একইসঙ্গে ওপরে ওঠার পরিবর্তে লেজের অংশটি নিচের দিকে নামতে নামতে হঠাৎ মাটিতে ভেঙে পড়ে। বিবামবন্দার থেকে টেকঅফ’এর পরেই বিমানের পাইলট ‘মে-ডে কল’ (বিপদ সংকেত) পাঠান ‘এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল’ (এটিসি)-তে। এরপর এটিসি থেকে বিমানটির সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায় নি। তারই কয়েক সেকেন্ড পরে বিমানবন্দরের খুব কাছেই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বি.জে হাসপাতালের ভবনে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই বিমানটিতে বিমানকর্মী এবং যাত্রী মিলিয়ে ২৪২ জন যাত্রী ছিল। এর মধ্যে ২৩০ জন যাত্রী এবং ২ জন পাইলট ও ১০ কেবিন ক্রু সদস্য। যাত্রীদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয় নাগরিকের ছাড়াও ৬১ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন; এদের মধ্যে ৫৩ ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগাল এবং কানাডার ১ জন নাগরিক ছিলেন।