চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুবিরোধী প্রচারণায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুবিরোধী প্রচারণায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটী পোল্লাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকায় আজ শোভাযাত্রা ও মানুষকে বাড়ির চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সচেতন করার কর্মসূচি পালন করেছে। আজ দুপুরে বিদ্যালয়ের কাবদল, হলদে পাখির দল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে শিক্ষকের নেতৃত্বে প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন হাতে নিয়ে শোভাযাত্রা বের করে। ক্যাচমেন্ট এলাকা ঘোরার সময় অভিভাবক ও এলাকার বাসিন্দাদের ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে বোঝায় ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সচেতন করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা খাতুন জানান, গত ২ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উল্লেখ করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ভয়াবহ আকারে দেখা দিয়েছে। তাই প্রতিটি বিদ্যালয়ের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখাসহ অভিভাবকদের সচেতন করার পদক্ষেপ হিসেবে কর্মসূচি গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সমাবেশে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়ির চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার শপথ নেয়।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হরিপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হরিপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে হরিপুর ১নং উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় বিআরটিএ চাপাইনবাবগঞ্জ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। স্কুলপর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সড়ক ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনা সভায় নিরাপদ সড়কের গুরুত্ব, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয়, নিরাপদে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। আলোচনা সভায় বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. শাহজামান হক, মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল খাবীরু, সহকারী মোটরযান পরিদর্শক আবু হুজাইফাসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।
নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার : ১ জনের বিদায় আরেকজনের যোগদান

নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার : ১ জনের বিদায় আরেকজনের যোগদান নাচোলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নীলুফা সরকারের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামাল উদ্দিনকে বরণ করা হয়েছে। আজ দুপুরে ৩২তম নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে মো. কামাল উদ্দিন যোগদান করেন। এসময় নবাগত ইউএনওকে ফুল দিয়ে বরণ করেন সদ্য বিদায়ী ইউএনও ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপস্থিত ছিলেন— বিদায়ী ইউএনও নীলুফা সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া, কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরাম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ইউএনও কামাল উদ্দিন বলেন, নতুন কর্মস্থলে সঠিকভাবে যেন দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কামাল উদ্দিন এর আগে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ৩৫তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। এছাড়াও বিদায়ী ইউএনও নীলুফা সরকার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) রাজশাহী বিভাগীয় অফিসে সচিব পদে যোগদান করেছেন।
নাচোলে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ঢেউটিন খাবার ও অর্থ বিতরণ

নাচোলে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ঢেউটিন খাবার ও অর্থ বিতরণ নাচোলে অগ্নিকাণ্ড ও কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিনামূল্যে ঢেউটিন, গৃহ নির্মাণের জন্য অর্থ ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আজ দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জনপ্রতি এক বান্ডিল করে ঢেউটিন ও গৃহমঞ্জুরি বাবদ ৩ হাজার করে অর্থ সহায়তা এবং ১৫০ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া এইসব বিতরণের আয়োজন করে নাচোল উপজেলা প্রশাসন। প্রধান অতিথি হিসেবে এসব বিতরণ করেন বিদায়ী নির্বাহী অফিসার নীলুফা সরকার। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দিন খাঁন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাদেকুল ইসলাম, নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, নাচোল উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলামসহ উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দফা দাবিতে স্বাস্থ্যসহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি পালন

৬ দফা দাবিতে স্বাস্থ্যসহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি পালন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রস্তাবিত মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়োগবিধি সংশোধন পূর্বক স্নাতক বা সমমান সংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান ও ইন সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ ৬ দফা দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ সিভিল সার্জন অফিসের সামনে বাংলাদেশ হেলথ্ অ্যাসিসট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলা কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন— বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আকবর আলী, স্বাস্থ্য সহকারীদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে রাকিব রায়হান, গোমস্তাপুর উপজেলা থেকে নিয়ামত উল্লাহ, নাচোল উপজেলা থেকে রবিউল ইসলাম ও ভোলাহাট উপজেলা থেকে আহসান হাবীব। এছাড়াও নূরুন নাহার শাপলা, কানিজ ফাতেমা, আবু সায়েমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। স্বাস্থ্য সহকারীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, মানবশিশু জন্মের পর থেকে ১০টি মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় প্রতিরোধযোগ্য টিকা হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে আমরা স্বাস্থ্য সহকারীরাই টিকা প্রদান করে থাকি। আমাদের এ টিকা প্রদানের কাজটি সম্পূর্ণ টেকনিক্যাল হলেও আমরা টেকনিক্যাল পদমর্যাদা থেকে বঞ্চিত। তাছাড়া আমরা দীর্ঘদিন থেকে টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবি করে এলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ বাস্তবায়ন না করায় স্বাস্থ্য সহকারীরা সরকারের অন্যান্য সকল দপ্তরের কর্মচারীদের থেকে পদমর্যাদাসহ চরম বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তারা বলেন, আমাদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেক্টরে সকল আন্তর্জাতিক অর্জন হওয়া সত্ত্বেও বিগত সরকার আমাদের শুধু আশার বাণীই দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই আমাদের নিয়োগবিধি সংশোধন করে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (বিজ্ঞান) সংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান করতে হবে ও ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকনিক্যাল পদমর্যাদা বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ প্রস্তাবিত ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে এ কর্মসূচি পালন করছি। বক্তারা আরো বলেন, আমরা এ কমসূচি পালনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি ও আবেদন জমা দিয়ে আমাদের দাবি ও কর্মসূচি বিষয়ে অবগত করেছি। কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যদি আমাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ইপিআইসহ সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন বন্ধ রাখা হবে। স্বাস্থ্য সহকারীদের প্রস্তাবিত ৬ দফা দাবি হলো— ১. নির্বাহী আদেশে নিয়োগ বিধি সংশোধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (বিজ্ঞান) সংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান। ২. ইন সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ। ৩. পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ। ৪. পূর্বের নিয়োগবিধি অনুযায়ী নিয়োগ পেলেও কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী সকল স্বাস্থ্য পরিদর্শক তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে স্নাতক পাস স্কেলে আত্মীকরণ। ৫. বেতন স্কেলে উন্নীতকরণের পূর্বে স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শকগণ যত সংখ্যক টাইম স্কেল অথবা উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত বা প্রাপ্য হয়েছেন তা পরবর্তী পুনঃনির্ধারিত বেতন স্কেলের সাথে যোগ করতে হবে। ৬. পূর্বে ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা এসআইটি কোর্স সম্পন্নকারী স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শকদেরকে ডিপ্লোমাধারী সম্পন্ন হিসেবে গণ্য করে সরাসরি ১১তম গ্রেড দিতে হবে।
পদ্মা নদী ভাঙনের আতঙ্কে ৫০ হাজার মানুষ

পদ্মা নদী ভাঙনের আতঙ্কে ৫০ হাজার মানুষ ভাঙন শুরুর আগেই পদক্ষেপ নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর বর্ষাকালের আগেই এবার গ্রীষ্মের শেষ থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। গ্রীষ্মের এই বৃষ্টি জোরেশোরে বর্ষাকাল আগমনেরই প্রতিধ্বনি। আর তাই আষাঢ়ের শুরু থেকেই প্রতিদিনই ঝরছে বৃষ্টি। পানিতে ভরে উঠছে ধু ধু পদ্মা নদী। বৃষ্টির সজীবতায় সবুজ প্রকৃতি উজ্জ্বল হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বসতভিটা ভাঙার আতঙ্ক বাড়ছে নদী-তীরবর্তী হাজারো পরিবারের। এখনো ভাঙন শুরু না হলেও হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি গ্রাম, প্রায় ৫০টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিজিবি ক্যাম্প, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, হাটবাজার, কবরস্থান ও কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এবার বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। সম্ভাবনা রয়েছে ভারী বৃষ্টিরও। ফলে এবার বন্যা ও নদীর ভাঙনও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন নদী তীরবর্তী মানুষ। এরই মধ্যে ভারত থেকে বয়ে আসা গঙ্গা নদীর পানি চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে পড়তে শুরু করেছে। পানি যত বাড়বে স্রোতের তীব্রতা ততই বৃদ্ধি পাবে। উল্লেখ্য, সাধারণত শ্রাবণের শেষ থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত এ অঞ্চলে পদ্মার ভাঙন দেখা যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। নদী ভাঙনের সাথে যুদ্ধ করেই এদের বেঁচে থাকতে হয়। এ নির্মম দুর্যোগের সঙ্গে চরাঞ্চলের মানুষের মোকাবিলা চলে আসছে শতাধিক বছর ধরে। আর এই মোকাবিলায় তারা হয়েছে দিশেহারা ও সর্বস্বান্ত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়ন নদী ভাঙন কবলিত। এসব এলাকার হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমি ও বসতবাড়ি এর আগে পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ অঞ্চলের প্রতিটি পরিবারই কমপক্ষে ১০ বার করে নদী ভাঙনের কবলে পড়েছেন। হাজার হাজার পরিবার অন্যত্র ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়েছেন, বলছেন এলাকাবাসী। সরকারি হিসাবে গত এক দশকে ভিটেমাটি হারিয়েছেন প্রায় এক হাজার শ্রমজীবী মানুষ। আর এলাকাবাসীর মতে, এই সংখ্যা অন্তত ৫ হাজার। বিলীন হওয়া আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার হেক্টর। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ টাকার অঙ্কে প্রায় ৪০০ কোটির মতন। তথ্যানুযায়ী, ১৯৯৫ সাল থেকে শুরু করে নদী ভাঙন প্রতিরোধে সরকার বেশ কয়েকবার পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও কর্ম পরিকল্পনা অনেকটায় বিফলে গেছে। চলতি বছরের ৩ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ভারত থেকে বয়ে আসা পদ্মা নদীর ভাটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ২৫ কিলোমিটার নদী ভাঙন কবলিত এলাকা রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বসতবাড়ি ও ফসলী জমি স্থায়ীভাবে নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে। শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নের যে স্থানে ভারতের গঙ্গা নদী পদ্মা নাম ধারণ করেছে, সেই স্থান থেকে ফারাক্কা বাঁধের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। ভারী বর্ষায় পাহাড়ি ঢল নেমে এলেই ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়া হয়। চরাঞ্চলবাসী বলছেন, এর ফলে পদ্মা আরো বেশি রাক্ষসী ও খরস্রোতা হয়ে উঠে। তখনই শুরু হয় তীব্র নদী ভাঙন। সেসময় বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে লাভ হয় না। ফেলার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যায়। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বলছেন, কয়েকবার ভরা বর্ষায় নদী ভাঙনকালীন অস্থায়ী জিও ব্যাগ, জিও টিউব ফেলা হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর কোনো উপকারই হয়নি। গমেরচর গ্রামের ল্যাচন আরা বেগম (৪০) বলেন, কয়েক বছর আগে ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে উজিরপুর ছেড়ে পাঁকা চরে আশ্রয় নিয়েছি। এখানে এসেও দুইবার ঘরবাড়ি ভেঙেছে। নদী থেকে আমাদের গ্রাম এখন মাত্র ১০০ গজের মতো দূরত্ব। যে কোনো সময় নদীতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি। নদীর ভাঙন ঠেকানোর জন্য বাঁধ দেখার সৌভাগ্য হবে কি— এই প্রশ্ন ল্যাচন আরার। নদী ভাঙনের হুমকির মুখে থাকা দিনমজুর শহিদুল ইসলাম (৩০) মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কোনোরকম জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যের ভিটেমাটির এক কোণে আশ্রয় নিয়ে ঘর বেঁধে বাস করেন। গতবছর থেকেই নদী ভাঙনের আশঙ্কায় দিন পার করছেন। শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই বছর থেকেই আতঙ্কে আছি। ঝড়-বৃষ্টি হলেই ছুটে যাই নদী ধারে। আর আমাদের বাঁচার জন্য আল্লাহকে ডাকি। তিনি আরো বলেন, বাড়ির সামনে বিশাল ঈদগাহ ছিল, সেটি গত দুই বছরে নদীতে ভেঙে গেছে। অনেক দিন ধরেই শুনে আসছি, সরকার বাঁধ করে ভাঙন বন্ধ করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। তার কথা, সরকার এত কিছু করে, কিন্তু তাদের দুর্দশার কথা কি জানতে পারে না। পাঁকা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বলেন, জীবদ্দশায় বহুবার নদী ভাঙনের কবলে পড়েছি। বর্তমানেও বসতবাড়ি নিয়ে আমরা গ্রামবাসী হুমকির মুখে আছি। চেয়ারম্যান থাকাকালে এবং এর পরেও ১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত বহুবার ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। আতাউর রহমান বলেন, গতবছরও একাধিকবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডে সশরীরে গিয়ে অনুরোধ করেছি। উনারা সরেজমিন অনেকবার এলাকা পরিদর্শন করেছেন, সরকারও কয়েকবার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে কোনো কর্মসূচি কাজে লাগেনি। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে সরকারের যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে, তাতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। তিনি আরো বলেন, গতবছর থেকেই শুনছি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেটি এখনো একনেকে পাস হয়নি। সকল প্রক্রিয়া শেষ হয়ে সরেজমিনে কাজ শুরু হতে পারে আগামী বছর। প্রসঙ্গত, পদ্মা নদীর বামতীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে কিছু অংশ এখনো বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। অন্যদিকে ডান তীরের মানুষ এখন পর্যন্ত রয়েছে ভাঙন আতঙ্কে।
এসএসসির ফল কখন-কীভাবে পাওয়া যাবে, জানাল বোর্ড

এসএসসির ফল কখন-কীভাবে পাওয়া যাবে, জানাল বোর্ড এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৫-এর ফল আগামী ১০ জুলাই দুপুর ২টায় দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষাকেন্দ্র অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া যাবে। এসএমএসের মাধ্যমেও জানা যাবে ফল। বাংলাদেশ আন্তঃ শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষাকেন্দ্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে হবে। আর পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। এ ছাড়া নির্ধারিত শর্ট কোড ১৬২২২-তে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাওয়া যাবে। শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকায় ফল পাওয়া যাবে না। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে মোবাইলে এসএসসি<>বোর্ডের নাম (প্রথম তিন অক্ষর)<> রোল<> বছর- টাইপ করে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ: SSC Dha 123456 2025 Send to 16222। ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য এসএমএসের মাধ্যমে ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে। আবেদন পদ্ধতি শিক্ষাবোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং টেলিটকের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যাবে।
৪৬তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

৪৬তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পুনর্নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ৪৬তম বিসিএসের আবশ্যিক বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২৪ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট এবং পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা ১০ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষা ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) , কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা। পরীক্ষা হলে বই-পুস্তক, সকল প্রকার ঘড়ি, মোবাইল ফোন, সায়েন্টিফিক/প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর, সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ডসদৃশ কোনো ডিভাইস, গহনা, ব্রেসলেট ও ব্যাগ আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ সামগ্রীসহ কোনো প্রার্থী পরীক্ষা হলে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষা হলের গেটে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশের উপস্থিতিতে প্রবেশপত্র এবং মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে মোবাইল ফোন, ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রার্থীদের পরীক্ষা হলে প্রবেশ করতে হবে। পরীক্ষার দিন বর্ণিত নিষিদ্ধ সামগ্রী সঙ্গে না আনার জন্য সকল প্রার্থীর মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হবে। এসএমএসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। পরীক্ষার সময় প্রার্থীরা কানের ওপর কোনো আবরণ রাখবেন না, কান খোলা রাখতে হবে। কানে কোন ধরনের হিয়ারিং এইড ব্যবহারের প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শপত্রসহ আগেই কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষার হলে কোনো প্রার্থীর কাছে নিষিদ্ধ সামগ্রী পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্তসহ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪-এর বিধি ভঙ্গের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলসহ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সব নিয়োগ পরীক্ষার জন্য তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩ এর ধারা-১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ অনুযায়ী কোনো অপরাধ সংঘটন করলে বা সংঘটনে সহায়তা করলে, তিনি যে ধারার অধীন অপরাধ সংঘটন করবেন বা সংঘটনে সহায়তা করবেন, সে ধারায় বর্ণিত দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। প্রার্থীদের পরীক্ষা হলে উপস্থিতি পরীক্ষা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার লক্ষ্যে হাজিরা তালিকায় প্রার্থীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর জোড় ও বিজোড়ে বিন্যস্ত করে এবং প্রতিটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর কক্ষওয়ারি দৈবচয়ন ভিত্তিতে সাজিয়ে হাজিরা তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। দৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় নিজ আসন এবং কক্ষ চিহ্নিত করা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। এ পরিপ্রেক্ষিতে নিজ আসন এবং কক্ষ চিহ্নিত করার জন্য প্রার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট আগে প্রার্থীকে অবশ্যই পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করতে হবে অর্থাৎ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের পর কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি প্রবেশপত্রে এবং পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠান এবং হলের সুশৃঙ্খল পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে কমিশনের পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পরীক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথভাবে প্রতিপালন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
কুশলের সেঞ্চুরি, বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল শ্রীলঙ্কা

কুশলের সেঞ্চুরি, বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল শ্রীলঙ্কা আগের ম্যাচটা জিতে সমতায় ফিরেছিল বাংলাদেশ। সেই ধারা বজায় রাখতে পারলেই ঐতিহাসিক সিরিজ বিজয়, এমন সমীকরণ সামনে রেখে আজ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছে টাইগাররা। পাল্লেকেল্লেতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটিতে টস জিতে আগে ব্যাটিং বেছে নেয় শ্রীলঙ্কা। এরপর কুশল মেন্ডিসের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৫ রান করে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ এই ম্যাচে একাদশের বোলিং বিভাগে একটি পরিবর্তন আনে। হাসান মাহমুদের জায়গায় আসেন তাসকিন আহমেদ। বল হাতে মোটামুটি ভালোই করেছেন তিনি। ১০ ওভারে ৫১ রান খরচে তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজও। টাইগার দলপতি ১০ ওভারে ৪৮ রানে নিয়েছেন তাসকিনের সমান ২ উইকেট। তবে বাংলাদেশের বাকি বোলাররা তেমন কিছু করতে পারেননি। বরং পুরো ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার ব্যাটার কুশল মেন্ডিস। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটি শেষ পর্যন্ত ঠেকেছে ১২৪ রানে। মাত্র ১১৪ বলে ১৮টি চার দিয়ে ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি। মেন্ডিস যেখানে লঙ্কান ইনিংসের ভিত্তি, চারিথ আসালাঙ্কা তার পিলার। তার ৬৮ বলে ৫৮ রানের ইনিংসটির কল্যাণে রানের পাহাড়ে চড়তে সক্ষম হয় স্বাগতিক দল। যদিও বোলিংয়ের শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের। নিশান মাদুশকা (১)-কে বিদায় করে লঙ্কান ওপেনিং জুটিকে দাঁড়াতে দেননি বাংলাদেশি পেসার তানজিম হাসান সাকিব। এরপর আরেক ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কাকে নিয়ে ধাক্কা সামাল দেন কুশল মেন্ডিস। তাদের জুটিতে ৫৬ রান যোগ হওয়ার পর আঘাত হানেন বাংলাদেশের তরুণ বাঁহাতি পেসার তানভীর ইসলাম। নিসাঙ্কা ফেরেন ৩৫ রান করে। এরপর কামিন্দু মেন্ডিস (১৬) কিছুক্ষণ সঙ্গ দিলেও মেহেদী হাসান মিরাজের বলে লেগ বিফোর হয়ে ফেরেন। দলীয় ১০০ রানে ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে এরপর থেকে উইকেটে জেঁকে বসেন কুশল ও আসালাঙ্কা। দুজনে মিলে বড় জুটি গড়ে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। দুজনেই পান ফিফটির দেখা। আসালাঙ্কা দলকে ২২৪ রানে রেখে চতুর্থ উইকেট হিসেবে বিদায় নেন। শেষদিকে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। বোলারদের হাত ধরে আসে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সাফল্য। ২৪৯/৫ থেকে একসময় লঙ্কানদের স্কোর দাঁড়ায় ২৫৯/৭। কিন্তু ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (১৪ বলে ১৮*) ও চামিরা (৮ বলে ১০*) মিলে বাকিটা ভালোভাবেই পাড়ি দেন। ফলে বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামবে বাংলাদেশ।
সারাদেশে আরও ১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত

সারাদেশে আরও ১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি, তবে একই সময়ে ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক এক সংবাদ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছর মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪৩ জন। এ যাবত দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৫২ হাজার ১৮৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ যাবত ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৬ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। চলতি বছরে মোট করোনায় ২৪ জন মৃত্যুবরণ করেছে। দেশে এ যাবত করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার তিন দশমিক ২৯ শতাংশ। এ যাবত শনাক্তের হার মোট ১৩ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২০ সালের ৮ মার্চ মাসে দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।