সারাদেশে ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪২৮

সারাদেশে ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪২৮ গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সারাদেশে ৪২৮ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬২ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫০ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চার জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় ৪০৯ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরে এ যাবত মোট ২১ হাজার ৪৬১ রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরের ৬ আগস্ট পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ৮১২ জন। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক সাত শতাংশ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক তিন শতাংশ নারী রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজন মারা গেছে। চলতি বছরে এ যাবত ডেঙ্গুতে মোট ৯২ জনের মৃত্যু হয়। মৃত তিনজনের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম বিভাগের, একজন রাজশাহী বিভাগের এবং একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

নির্বাচনে ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রে থাকবে বডি ক্যামেরা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচনে ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রে থাকবে বডি ক্যামেরা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে দেশের ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে একটি করে বডি ক্যামেরা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আজকে আমরা আলোচনা করেছি সারাদেশে নির্বাচন পরিচালনার জন্য কত ফোর্স প্রয়োজন হবে, এসব বিষয়ে। এ ছাড়া আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সবাইকে বডি ক্যামেরা দেওয়ার চেষ্টা করব। কোন ক্যামেরা কার কাছে ও কীভাবে থাকবে—সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। প্রিজাইডিং অফিসাররা যেন কারও বাসায় না থেকে নির্বাচনী কেন্দ্রে থাকতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। তাদের সঙ্গে আনসার ও পুলিশ সদস্যও থাকবেন। কারা বডি ক্যামেরা পাবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে একটি করে বডি ক্যামেরা দেওয়ার চেষ্টা করব। পুলিশের সিনিয়র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেই এই ক্যামেরা থাকবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সব বাহিনীকে আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনকে বলেছি, তারা যেন পোলিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেন। আমাদের বাহিনীর প্রশিক্ষণ শেষে আমরা মহড়া দেব। নির্বাচন যেন ভালোভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য অনুশীলনও করা হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ থাকবে। আনসার থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী পর্যন্ত এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সব বাহিনীকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ৭৬ কর্মকর্তার সংযুক্ত বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা রুটিন বিষয়, চলতে থাকবে।

ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণার ইঙ্গিত দিলেন সিইসি

ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণার ইঙ্গিত দিলেন সিইসি নির্বাচনি দিকনির্দেশনার জন্য প্রধান উপদেষ্টার চিঠির অপেক্ষায় থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভোটের তারিখের দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন কমিশনকে ভোটের প্রস্ততি নিতে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার ঘোষণা দিলে আজ হঠাৎ সংবাদ সম্মেলন ডাকেন সিইসি। নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের কাছে ভোটের প্রস্তুতি তুলে ধরেন। সিইসি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ আগামী কয়েক মাসে আরও উন্নত হবে। এখন কোনো সমস্যা দেখছি না। ফেব্রুয়ারিতে ভোট হলে এ সময়ের মধ্যে জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা, দলগুলোর আস্থা অর্জন, ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণই চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, এখন তো সেই অবস্থা নেই। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ইমপ্রুভ করে গেছে। ভোট তো আরও কয়েক মাস আছে। এর মধ্যে দেখবেন যে ইনশল্লাহ এভ্রিথিং ইন প্লেস এবং আমার বিশ্বাস আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিটা কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা গতকালকে তো একটা ঘোষণা দিয়েছেন। উনি বলেছেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে রমজানের আগে ইলেকশন করার জন্য আমাদেরকে একটা চিঠি দেবেন। আমি প্রত্যাশা করছি দ্রুত চিঠিটা পেয়ে যাবো। কারণ উনার কথার মধ্যে আমরা তো বুঝতে পারি যে খুব দ্রুতই চিঠিটা আমরা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। চিঠি এখনই না এলেও ঘোষিত সময়সীমা ধরে প্রস্তুতি চলমান থাকবে। চিঠি না পেলেও বেশ কয়েকদিন ধরে আলোচনা ছিল ইলেকশনের তারিখ নিয়ে। আমাদের প্রস্তুতি আমরা অনেক আগের থেকে নিচ্ছি। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার জন্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আমরা কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছি ইনশআল্লাহ। আমাদের কোনো প্রস্তুতিতে ঘাটতি হবে না। সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি বিষয়ে তিনি দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, যেন তেন একটা নির্বাচন করে আপনারা জেতার চেষ্টা করবেন না। আল্লাহর দোহা্য়‌, আমাকে সাহায্য করুন। আমি একটা সুন্দর ক্রেডিবল, একটা ট্রান্সপারেন্ট ইলেকশন দিতে চাই। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া পারব না। প্লেয়াররা যদি সবাই ফাউল করার নিয়তে মাঠে নামে, যে আমরা ফাউলই করব, এখন রেফারির পক্ষে সে ম্যাচ পণ্ড হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব না। লালকার্ড কজনকে দেখাবেন আপনি? সুতরাং যারা খেলবেন তাদের তো দায়িত্ব আছে বিশাল। আমি এই মেসেজটা রাজনীতির দলগুলোকে দিতে চাই। দলগুলো একটা মেজর স্টেক হোল্ডার। আমাদের দায়িত্ব হবে খেলার মাঠটা তাদের জন্য সমান করে দেওয়া। তারা সুন্দর একই অপরচুনিটি পায় সেই চেষ্টাটা আমরা করছি এবং করব। সুন্দর নির্বাচনের নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সিইসি বলেন, প্রধান কাজগুলোর মধ্যে নিখুঁত ভোটার তালিকা হালনাগাদ খসড়া প্রকাশ এবং ৩১ অগাস্টের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। ভোটারযোগ্য তরুণদের অন্তর্ভূক্ত করতে তফসিলের মাস খানেক আগে একটা সময় নির্ধারণ করে সম্পুরক তালিকা করা হবে। ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দলগুলোর আলোচনা শেষ হলে নির্বাচন কমিশনও অংশীজনের সংলাপে বসবে। আলোচনা করার জন্য এক মাসের একটা প্ল্যান করেছি। সিইসি বলেন, ভোটার লিস্টটা হয়ে যাচ্ছে। প্রকিউরমেন্ট টার্গেট ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ করে ফেলতে পারবো। টেন্ডার হয়ে গেছে। তারপরে ডিলিমিটেশন (সীমানা নির্ধারণ) স্বচ্ছভাবে হয়েছে। শুনানি করে শেষ করা হভে। একটা বড় কাজ হয়ে গেছে- পার্টি রেজিস্ট্রেশন। ইতোমধ্যে যাচাই বছাই চলছে। যারা শর্ত পূরণ করতে পারবে তাদের বিষয়ে তদন্ত হবে, এরপর কারো আপত্তি আছে কিনা ১৫ দিনের বিজ্ঞিপ্তি হবে। এসব বড় কাজ বাই সেপ্টেম্বর, ইনশাআল্লাহ উই ওয়ান্ট টু কমপ্লিট অল দিস বিগ টাস্ক। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, আমি যে লেভেল প্লেং ফিল্ড তৈয়ার করার কথা বলছি, এটার বাস্তবায়ন আপনাদের উপর নির্ভর করছে। আপনারা যদি এই কাজে যদি আমাকে সহযোগিতা না করেন আমি তো এটা কাজটা করতে পারবো না। আমাদের মূল মেসেজটা হচ্ছে, আমরা এবার এই ইলেকশনটাকে পার্টিসিপেটরি করতে চাই। ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ আমরা চাই। তিনি আরও বলেন, মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন নাম্বার ওয়ান চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। আসলে মানুষের তো দোষ দিয়ে লাভ নেই, ভোটারদেরকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা হারিয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা যে বলেছেন উৎসবমুখ পরিবেশে ঈদের দিনের মত একটা ইলেকশন দেখতে চান, আমরা সেইটা সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, কমিশন এআই-এর অপব্যবহার রোধে কাজ করে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের কর্মকাণ্ড যতই তারা আরো দেখবে ভবিষ্যতে দেখবেন আমাদের ওপর আস্থা সৃষ্টি হবে। কারণ আমরা যখন প্রফেশনালি নিউট্রালি কাজ করছি, তখন অটোমেটিক্যালি আস্থা আসবে, ফিরে আসবে। আমরা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে মাথা ঘামাতে চাই না। রাজনৈতিক নেতারা অনেক কথা বলতে পারেন, উনাদের ইচ্ছা বললে কোনো অসুবিধা নেই।

১৫ দিন পর মাইলস্টোনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু

১৫ দিন পর মাইলস্টোনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনার ১৫ দিন পর রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হলো। আজ সকাল সাড়ে ৮টায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার (নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। মাইলস্টোনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল এ তথ্য জানান। গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এসেছিল। তবে ওই দিন কোনো পাঠদান কার্যক্রম হয়নি। শিক্ষার্থীরা যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত, আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় আয়োজিত দোয়া এবং শোক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। নিজেদের মধ্যে কুশলাদি বিনিময় শেষে তারা বাসায় ফিরে যায়। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ, কথা বলা ও মতামতের মাধ্যমে এই ক্লাসগুলো খোলা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অন্যান্য শাখা আস্তে আস্তে খুলে দেওয়া হবে। এর আগে কয়েক দফায় ছুটি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ছুটি বাড়ানো হয়। সম্পূর্ণ উপযোগী হওয়ায় আজ ক্লাস শুরু হয়েছে। গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত শিশু, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ ৩৪ জন নিহত হন । দগ্ধ অনেকে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জাতীর উদ্দ্যেশে ভাষণ প্রধান উপদেষ্টার: রমজানের আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন

জাতীর উদ্দ্যেশে ভাষণ প্রধান উপদেষ্টার: রমজানের আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যেন নির্বাচন আয়োজন করা যায় সেজন্য নির্বাচন কমিশনারকে (ইসি) চিঠি দেওয়া হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতারে ভাষণটি একযোগে সম্প্রচার হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করবো। অন্তর্র্বতী সরকারের পক্ষ থেকে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠাবো, যেন নির্বাচন কমিশন আগামী রমজানের আগে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, আপনারা সকলেই দোয়া করবেন যেন সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করে এ দেশের সকল নাগরিক একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার কাজে সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করা যায় সেজন্য সকল প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করবো। ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন যেন আনন্দ-উৎসবের দিক থেকে, শান্তি-শৃঙ্খলার দিক থেকে, ভোটার উপস্থিতির দিক থেকে, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার দিক থেকে দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে সেজন্য সকল আয়োজন সম্পন্ন করতে আগামীকাল থেকে আমরা সকলেই মানসিক প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন শুরু করবো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন জুলাই শহিদ পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধাসহ জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে সম্মিলনের আয়োজন করে। আজ সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মঞ্চে আয়োজিত সম্মিলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। এতে বক্তব্য দেন এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেস ড. সফিকুল বারী, পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, ঢাকায় নিহত শহিদ তারেক হোসেনের পিতা আসাদুল ইসলাম, মতিউর রহমানের ছেলে ইসমাইল হোসেন, আহত জুলাই যোদ্ধা সাগর আহমেদ ও শহিদুল ইসলাম, জুলাই যোদ্ধা আব্দুর রাহিম, লিমা আক্তারসহ অন্যরা। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক-জুলাইয়ের চেতনা বুকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন দুর্নীতি মুক্ত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। সম্মিলনে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ওমর ফারুক, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইসাহাক আলী, পাবিলক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল ওদুদ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে জুলাই যোদ্ধা সাব্বির আহমেদের বক্তব্যের শুরুতে জুলাই যোদ্ধাদের একাংশ তাকে বক্তব্য দিতে নিষেধ করে। এসময় তারা ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেয়। এসময় সাব্বিরের বক্তব্য পণ্ড হয়ে যায়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষ শান্ত হয়। এসময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার জুলাই যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

গোমস্তাপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

গোমস্তাপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত গোমস্তাপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শহিদ তারেক হোসেনের কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। আজ সকাল ৮টায় চৌডালা ইউনিয়নের ইসলামপুর গোরস্থানে শহিদ তারেকের কবরস্থানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ, পুলিশ সুপার রেজাউল করিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সীসহ শহিদ তারেকের বাবা আশাদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় । গোমস্তাপুর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইফতেখারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) আনিসুর রহমান, গোমস্তাপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান তারেক, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার জাহিদ হাসান, গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়াদুদ আলম, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুল ইসলাম আজমসহ শহীদ পরিবারের সদস্য, উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা ও শিক্ষার্থীরা। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহিদ তারেকের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর শেরে বাংলানগরে ছাত্র জনতার উপর পুলিশ গুলি চালালে শহিদ তারেক হাসানের পেটে চারটি এবং বাম হাতে একটি গুলি লাগে। পরে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল চিকিৎসধীন অবস্থায় ৯ আগষ্ট তিনি শাহাদাত বরণ করেন। পরের দিন নিজ বাড়ির এলাকায় ওই কবরস্থান তাকে দাফন করা হয়।

জুলাই শহীদদের জাতীয় বীর ঘোষণা

জুলাই শহীদদের জাতীয় বীর ঘোষণা জুলাই ঘোষণাপত্রে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পলায়নের প্রথম বর্ষপূর্তির দিন আজ বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কার করা সংবিধানের তফসিলে এ জুলাই ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে আমরা কাজ করছি: প্রধান উপদেষ্টা

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে আমরা কাজ করছি: প্রধান উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে-একটি নতুন ধারার রাজনৈতিক ব্যবস্থার চারপাশে একটি বিস্তৃত জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। লক্ষ্যটা পরিষ্কার-এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সব বাংলাদেশি শান্তিতে, গর্বের সঙ্গে, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।” আজ বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে জাতিসংঘ আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠান ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সূচনালগ্ন থেকেই জাতিসংঘ আমাদের রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে। আমি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে তার অকুণ্ঠ সমর্থন ও সংহতি এবং এ বছরের মার্চে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানাই।আমি হাইকমিশনার ভোলকার টার্ক, ওএইচসিএইচআর ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিমের সদস্য, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিস গুইন লুইস এবং অবশ্যই আমার বন্ধু সিনিয়র মানবাধিকার উপদেষ্টা মিস হুমা খানকে তাদের অসাধারণ ও ঐতিহাসিক অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।” তিনি বলেন, “আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। আমাদের সংস্কার এজেন্ডার পাশাপাশি, আমরা গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জন্য আইনি জবাবদিহি অনুসরণ করছি। কিন্তু বিচার মানে শুধু শাস্তি নয়।ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, যাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আর কখনও তার নিজের জনগণকে দমন, নীরব বা ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা যাবে না।” প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই বিগত বছরের কথা চিন্তা করলে আমরা স্মরণ করি-সেই সব মানুষকে, যারা সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের পথ প্রশস্ত করেছে।তারা একটি নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছে, যার মূলে রয়েছে আশা, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক নবায়ন। আমাদের সবচেয়ে দুঃখময় সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে আমি জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানাই এবং আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অব্যাহত অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করছি।” প্রধান উপদেষ্টা বলেন,“গত বছরের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরপরই আমি মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়কে (ওএইচসিএইচআর) ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিলাম। আমরা বিশ্বাস করতাম যে, সত্যের একটি নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য হিসাব কেবল ন্যায়বিচারের জন্য নয়, প্রতিকারের জন্যও অপরিহার্য।” তিনি বলেন,“২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের হাইকমিশনারের প্রতিবেদনে নৃশংসতার বিস্ময়কর-মাত্রা প্রকাশ করা হয়েছে।মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিবেদনে সহিংসতাকে পূর্ববর্তী সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পদ্ধতিগত, নির্দেশিত এবং সমন্বিত বলে বর্ণনা করা হয়েছে।এতে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে জরুরি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।” মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমরা এই সুপারিশগুলো অন্তঃস্থল থেকে গ্রহণ করেছি-অন্যের প্রতি দায়বদ্ধতার জন্য নয়, বরং নিজের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে। দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই আমাদের সরকার ব্যাপক সংস্কারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। আমরা ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করেছি এবং জোরপূর্বক গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সম্মত হয়েছি। এ মাসের শুরুতে আমরা ঢাকায় একটি মিশন প্রতিষ্ঠার জন্য ওএইচসিএইচআরের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। এই মিশন সংস্কার উদ্যোগের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি সরকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস, মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা নাগরিক সমাজের কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৫৮ জন : হাসপাতালে ভর্তি ৪৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো ৫৮ জন : হাসপাতালে ভর্তি ৪৯ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৫৮ জন। এদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ভেতর বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ২৬ জন এবং বহির্বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ৩২ জন। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে আজ জানানো হয়েছে, বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪৯ জন। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ১৬ জন মহিলা ও ৪ জন শিশু রয়েছেন। একই সময়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ২৩ জনকে। এই ২৩ জনের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ১০ জন মহিলা ও ৬ জন শিশু রয়েছেন। অন্যদিকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৩ জন মহিলা রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আর বহির্বিভাগে শনাক্তরা নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৩৫২ জনে। একই সময়ে বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮৯৯ জনে।