দুই শতাধিক রান করেও রেকর্ড সপ্তমবার হারলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

দুই শতাধিক রান করেও রেকর্ড সপ্তমবার হারলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২০০ রান মানেই জয়ের নিরাপদ গণ্ডি, এই ধারণা যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে এখন আর প্রযোজ্য নয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ২০৫ রান করেও হারলো তারা। সেটিও ৩ উইকেট আর চার বল হাতে রেখে! সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে বাংলাদেশ সময় আজ সকালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে এমন লজ্জাজনক রেকর্ড গড়লো ক্যারিবীয়রা। ২০০’র বেশি রান তুলে এটি তাদের সপ্তম পরাজয়, যা বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট হাতে জমজমাট পারফরম্যান্সই দিয়েছিল। শারফেন রাদারফোর্ডের ৩১, পাওয়েল ও শেফার্ডের সমান ২৮ রানের ইনিংসে ২০৫ রানে পৌঁছায় দলটি। কিন্তু বোলারদের হতাশাজনক প্রদর্শনী এবং তিনটি সহজ ক্যাচ মিস তাদের জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়। অস্ট্রেলিয়া জয়ের লক্ষ্যে নেমে আগ্রাসী শুরু পায়। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল মাত্র ১৮ বলে ৪৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। যেখানে ছিল ১টি চার আর ৬টি বিশাল ছক্কা। ইংলিস খেলেন ৩০ বলে ৫১ রানের ঝকঝকে ইনিংস। তবে ম্যাচের আসল নায়ক হয়ে উঠলেন ক্যামেরন গ্রিন। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে অপরাজিত ৫৫ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ম্যাচের বিভিন্ন সময় বৃষ্টি খেলায় বিঘ্ন ঘটালেও, জয়ের গতিপথ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে সরাতে পারেনি। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান, সেই হিসেব মিটে যায় মাত্র দুই বলেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আকিল হোসেন বৃষ্টির মধ্যেই শেষ ওভার করতে এলেও মাঠের ব্যাটসম্যানরা ছিলেন একেবারে শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত। অস্ট্রেলিয়া পেয়ে যায় সহজ জয়, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ রান পাহাড় গড়েও মুখ থুবড়ে পড়ে আত্মঘাতী ভুলে।
দাবানলে পু*ড়ছে গ্রিস, সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের

দাবানলে পু*ড়ছে গ্রিস, সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের ভয়াবহ দাবানলে আবারো পুড়ছে গ্রিস। পাঁচটি বড় দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ। এর মধ্যে রাজধানী অ্যাথেন্স থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার উত্তরে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আফিদনেস অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দাবানলের ধোঁয়া অ্যাথেন্স শহর পর্যন্ত পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে সহযোগিতা চেয়েছে গ্রিস সরকার। দেশটিতে তাপপ্রবাহও চলছে। রবিবার পর্যন্ত তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। সপ্তাহান্তজুড়ে এমন চরম তাপমাত্রা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রিসের জলবায়ু সংকট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ইয়ানিস কেফালোইয়ানিস বলেছেন, “আমাদের দমকলকর্মীরা আহত হয়েছেন, মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে, সম্পদ পুড়ে গেছে, বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে।” প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রবল বাতাস দাবানল আরো ছড়িয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইইউ সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম থেকে অতিরিক্ত ছয়টি দমকল বিমান চেয়েছে গ্রিস। অ্যাটিকা অঞ্চলে (যেখানে অ্যাথেন্স অবস্থিত), আফিদনেসে শুরু হওয়া আগুন দ্রোসোপিগি, ক্রিওনেরি ও আগিওস স্টেফানোস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে বহু মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরতে হয়েছে। প্রধান আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে ধোঁয়া ও আগুন দেখা যাচ্ছে। ২০০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার, হেলিকপ্টার ও পানিবাহী বিমান আগুন নেভাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, ইভিয়া দ্বীপে পিসোনার কাছে দ্বিতীয় একটি দাবানল ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে গেছে এবং দ্রুত আফ্রাতির দিকে এগোচ্ছে। আগুনে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার পুড়ে যাওয়ায় পুর্নোস ও মিস্ট্রোসের মত কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দগ্ধ ও শ্বাসনালীতে ধোঁয়া যাওয়ায় এ পর্যন্ত ছয়জন দমকলকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে; তবে ১১৫ জন কর্মী এখনও আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। দিরফিওন-মেসাপিয়নের মেয়র জর্জোস সাথাস বলেছেন, “ধ্বংসের পরিমাণ হিসাবের বাইরে।” তৃতীয় একটি দাবানল কিথিরা দ্বীপের বড় অংশকে গ্রাস করেছে। সেখানে রীতিমত ‘ধ্বংসযজ্ঞ’ চলছে বলে বর্ণনা করেছেন স্থানীয়রা। বেশ কিছু বাড়িঘর খালি করা হয়েছে। কোস্টগার্ড লিমনিওনাস বিচ থেকে ১৩৯ জনকে উদ্ধার করে কাপসালি বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে। মেসিনিয়ার ত্রাফিলিয়া এলাকার পলিথেয়াতে শনিবার সকালে চতুর্থ দাবানল শুরু হয়, যা পরে আরো তীব্র হয়। সেখানে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। ৮৪ জন দমকলকর্মী, ৩০টি যানবাহন এবং সাতটি উড়োযান দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ চলছে সেখানে। পঞ্চম দাবানল চলছে ক্রিতির খানিয়া অঞ্চলের তামেনিয়া এলাকায়। সেখানে দুটি আলাদা স্থানে আগুন শুরু হওয়ার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরো কয়েকটি অঞ্চলে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- আয়োনিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিম গ্রিস, পিলোপনিস, মধ্য গ্রিস, অ্যাটিকা, এপিরাস, পশ্চিম মেসিডোনিয়া (ফ্লোরিনা, কাস্তোরিয়া, কোজানি), পূর্ব মেসিডোনিয়া ও থ্রেস (এভ্রোস), থেসালি (মাগনিসিয়া, লারিসা, ত্রিকালা), দক্ষিণ ঈজিয়ান (রোডস) ও ক্রিট। গত মাসে উত্তর এজিয়ান সাগরের খিওস দ্বীপে দাবানলে ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। জুলাইয়ের শুরুর দিকে ক্রিটে আরেকটি দাবানলে ৫ হাজার পর্যটককে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। ইউরোপের দক্ষিণে অবস্থিত গ্রিসে গ্রীষ্মকালের উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে প্রায়ই দাবানলের ঘটনা ঘটে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক দাবানলগুলো আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
একনেকে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ প্রকল্প অনুমোদন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আজ মোট ৮ হাজার ১৪৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বাদ পড়ে গেছে আলোচিত ‘জুলাই শহীদদের আবাসন প্রকল্প’। আজ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের প্রকল্প অনুমোদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন কাঠামো এমনভাবে গঠিত হয়েছে যাতে সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা বেশি: সরকারি অর্থায়ন- ৮ হাজার ৮১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ সহায়তা: ১৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন: ৫২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সভায় অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে ৬টি নতুন, ৪টি সংশোধিত এবং ২টি কেবল মেয়াদ বাড়ানোর প্রকল্প। প্রকল্পগুলোতে সরকারি অর্থায়ন ৮ হাজার ৫৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ১৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ২০টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন ও কোস্ট গার্ডের জন্য লজিস্টিক সুবিধা গড়ে তোলা। এছাড়া গ্রামীণ স্যানিটেশন, বহদ্দারহাট খাল খনন, রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ, মিরপুর সেনানিবাসে অফিসার্স মেস নির্মাণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নও প্রকল্প তালিকায় রয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর সম্প্রসারণ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কন্দাল ফসল গবেষণা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রকল্পও এদিন অনুমোদিত হয়। এছাড়া সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ইতোমধ্যে অনুমোদিত ১৮টি প্রকল্পের বিস্তারিত একনেক সদস্যদের অবহিত করেন। এর মধ্যে রয়েছে: গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন, হাতি সংরক্ষণ, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ঢাকা উত্তর ও রাজশাহী নগরীর অবকাঠামো উন্নয়নসহ আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও উপদেষ্টা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা। তাদের মধ্যে ছিলেন-আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেনান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, গৃহায়ন ও শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ভূমি ও খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, বিদ্যুৎ, সড়ক ও রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ান।
ভারতে মন্দিরে প*দ*দলিত হয়ে ৬ জনের প্রা*ণহা*নি

ভারতে মন্দিরে প*দ*দলিত হয়ে ৬ জনের প্রা*ণহা*নি ভারতের উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে মনসা দেবী মন্দিরে পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো অনেকে। মূল মন্দিরে যাওয়ার পথে সিঁড়িতে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির। পুলিশ জানিয়েছে, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে জনতার মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয় আর তখন হুড়োহুড়ি শুরু হলে পদদলনের ঘটনা ঘটে। উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল বিভাগের কমিশনার বিনয় শঙ্কর পাণ্ডে জানিয়েছেন, এ ঘটনার আগে বিপুল সংখ্যক মানুষ মনসা দেবী মন্দিরে পূজা দিতে সেখানে জড়ো হয়েছিল। এ ঘটনায় অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে আসা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, আহত ভক্তদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অনেককে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি বর্ণনায় বিহারের এক আহত বাসিন্দা জানান, মন্দিরে হঠাৎ করেই বিশাল ভিড় জমে যায়, যার ফলে পদদলিত হয়। লোকজন যখন ভিড় থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি পড়ে যান এবং তার হাত ভেঙে যায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেন, দুর্ঘটনার পরপর উত্তরাখণ্ড পুলিশের রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশ ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি আরো জানান, তিনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। উত্তরাখণ্ড সরকার নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিন সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতিসংঘের ফিলিস্তিন সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ফিলিস্তিন সংকটের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি ও দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। দুই দিনব্যাপী এই মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনটি আগামী ২৮-২৯ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। ফ্রান্স ও সৌদি আরব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের গৃহীত প্রস্তাব এ/আরইএস/৭৯/৮১-এর আলোকে যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করছে। উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সম্মেলনের আলোচনায় অংশ নিয়ে গাজায় চলমান মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের প্রতি নতুন করে গতি সঞ্চারে সচেষ্ট হবেন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সম্মেলনে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার এবং টেকসই দ্বিরাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের প্রশ্নে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সম্মেলনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, এবং নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনাগুলোর প্রতি নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তির লক্ষ্যে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সময়সীমা নির্ধারিত রোডম্যাপের পক্ষে মত তুলে ধরবে বলে জানা গেছে। এই উচ্চপর্যায়ের জাতিসংঘ সম্মেলনকে গাজা শাসনব্যবস্থা নিয়ে ঐকমত্য গঠনে, বাধাহীন মানবিক সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জোরদারে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বৈশ্বিক প্রয়াস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পরিসরে ফিলিস্তিনের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিন স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই প্রথম দিকের স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম ছিল।
পর্যবেক্ষক সংস্থা চেয়ে নির্বাচন কমিশনের গণবিজ্ঞপ্তি

পর্যবেক্ষক সংস্থা চেয়ে নির্বাচন কমিশনের গণবিজ্ঞপ্তি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুনভাবে নিবন্ধন পেতে আগ্রহী বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আগামী ১০ আগস্ট বিকেল ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর নির্ধারিত ফরম (EO-1) পূরণ করে আবেদন করতে বলা হয়েছে। গতকাল ইসির জনসংযোগ শাখা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে। ইসি জানিয়েছে, সদ্য প্রণীত ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ অনুসারে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত ৯৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ২০২৩ সালের পুরোনো নীতিমালা বাতিল করে এবং পূর্বের সংস্থাগুলোর বৈধতা স্থগিত করে নাসির উদ্দিন কমিশন। নতুন নীতিমালার আওতায় এবার থেকে যোগ্যতা সম্পন্ন সংস্থাগুলোর আবেদন যাচাই করে পুনর্নিবন্ধন দেওয়া হবে। আগামী ১০ আগস্ট বিকাল ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিবন্ধনের আবেদন ফরম (EO-1) এ আবেদন দাখিল করতে হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং আবেদন ফরম (EO-1) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় (কক্ষ নং-১০৫) এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট www.ecs.gov.bd -তে পাওয়া যাবে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পর্যবেক্ষক নিবন্ধন প্রথা শুরু করে ইসি। সে সময় ১৩৮টি সংস্থা নিবন্ধন পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক ছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ২০১৪ সালে ৩৫টি সংস্থার ৮ হাজার ৮৭৪ জন পর্যবেক্ষক ভোট দেখেছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৮টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮১টি দেশি সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৯৬টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮০টির মতো সংস্থার ২০ হাজার ২৫৬ জন ভোট দেখেছেন।
বাংলাদেশকে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম দিল চীন

বাংলাদেশকে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম দিল চীন বাংলাদেশকে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়েছে চীন। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন। ঢাকার চীনা দূতাবাস জানায়, গতকাল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এবং বাংলাদেশের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে দুই হাজারেরও বেশি প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, যা ইউনান প্রদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং চীনের উহান তৃতীয় হাসপাতাল সরবরাহ করেছে। বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধারে চীন সরকার কর্তৃক বাংলাদেশকে প্রদত্ত জরুরি চিকিৎসা সহায়তার অংশ হিসেবে এ সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়েছে। দূতাবাস আরো জানিয়েছে, বাংলাদেশের চাহিদার ভিত্তিতে চীন তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
সারাদেশে ডেঙ্গুতে একজনের মৃ*ত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৮০

সারাদেশে ডেঙ্গুতে একজনের মৃ*ত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৮০ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজন মারা গেছেন এবং একই সময়ে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৮০ জন। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৬ জন, চট্রগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) তিনজন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৯ জন এবং রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চারজন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় ২৩৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ১৯৩ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ২৪ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬২৫ জন। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক ছয় শতাংশ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক চার শতাংশ নারী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। চলতি বছরে এ যাবত ডেঙ্গুতে মোট ৭০ জন মারা গেছেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত একজন চট্রগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে একলাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
২০০৭ সালের ভোটারদের ফরম সার্ভারে যোগ করার নির্দেশ

২০০৭ সালের ভোটারদের ফরম সার্ভারে যোগ করার নির্দেশ ২০০৭ সালের সকল ভোটের আবেদন ফরম সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মাসি সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দেশনাটি দিয়েছে ইসি সচব আখতার আহমেদ। ইসির এনআইডি পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০০৭ সালের ভোটারদের মধ্যে এ পর্যন্ত দুই কোটি ৩৮ লাখ নাগরিকের ২ নম্বর ফরম (ফরম-২) স্ক্যান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ফরমগুলোও দ্রুততার সঙ্গে স্ক্যান সম্পন্ন করা এবং সার্ভারে আপলোড দেওয়া প্রয়োজন। ইসি সচিব তার নির্দেশনায় দ্রুত সিস্টেম ম্যানেজারকে ২ ফরম আপলোড করার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ভোটার হওয়ার বা এনআইডি পাওয়ার জন্য নাগরিকরা যে ফরম পূরণ করেন সেটাকেই ২ নম্বর ফরম বলা হয়। এই ফরমটির ভিত্তিতে এনআইডি সংশোধন আবেদন সম্পন্ন করা হয়। আর অনেকের ফরমটি সার্ভারে না থাকায় তদন্তের সময় জটিলতায় পড়তে হয় মাঠ কর্মকর্তাদের।
সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলন করলে বাধ্যতামূলক অবসর

সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলন করলে বাধ্যতামূলক অবসর সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর দ্বিতীয় সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। গতকাল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর সইয়ে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর অধিকতর সংশোধনে প্রণীত এই অধ্যাদেশ সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হবে। নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোন সরকারি কর্মচারী আন্দোলনে গেলে, অর্থাৎ নিজে নিয়ম লঙ্ঘন করে একজন সরকারি কর্মচারী আরেকজন সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দিলে বা তাকে তার কাজ থেকে বিরত রাখলে, তাকে বাধ্যতামূলক অবসরসহ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে। সাধারণত সরকারি কর্মচারীরা নিজেরা কোনো আন্দোলন করলে নিজেও কাজ থেকে বিরত থাকে এবং অন্যজনকেও কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ দেন। অধ্যাদেশে সরাসরি আন্দোলনের কথা বলা না হলেও যেভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাতে আন্দোলনকে বুঝায় বলে আইনজীবীদের অভিমত। নতুন অধ্যাদেশের ৩৭ এর (গ) তে বলা হয়েছে, যে কোনো সরকারি কর্মচারীকে তাহার কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তা হবে সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ এবং তজ্জন্য তিনি উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত যেকোনো দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। আর উপ-ধারা (২) এ বলা হয়েছে, (২) উপ-ধারায় (১) উল্লিখিত কোনো কর্মের জন্য কোনো সরকারি কর্মচারীকে নিম্নবর্ণিত যেকোনো দণ্ড দেওয়া যাবে, যথা- (ক) নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ; (খ) বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া; এবং (গ) চাকরি থেকে বরখাস্ত। অধ্যাদেশে বলা হয়, যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নম্বর আইন) এর অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজনীয় এবং যেহেতু সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় আছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট তা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আশু ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান আছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন। এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০১৮ সনের ৫৭ নম্বর আইনের ধারা ৩৭ক এর সংশোধন। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সনের ৫৭ নং আইনের এর ধারা ৩৭(ক) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩৭(ক) প্রতিস্থাপিত হবে। ৩৭ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দণ্ড সংক্রান্ত বিশেষ বিধান। (১) এই আইন বা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালায় যা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো সরকারি কর্মচারী (ক) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করেন, আইনসংগত কারণ ছাড়া সরকারের কোনো আদেশ, পরিপত্র এবং নির্দেশ অমান্য করেন বা তা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করেন বা এসব কার্যে অন্য কোনো সরকারি কর্মচারীকে প্ররোচিত করেন, অথবা (খ) ছুটি বা যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ ছাড়া অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গে সমবেতভাবে নিজ কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন, অথবা (গ) যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্মে উপস্থিত হইতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তা হবে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ এবং তজ্জন্য তিনি উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত যেকোনো দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, (৩) যেক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে উপ-ধারা (১)-এ বর্ণিত কোনো অসদাচরণের জন্য কার্যধারা নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অথবা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অভিযোগ গঠন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীকে, অতঃপর অভিযুক্ত ব্যক্তি বলে অভিহিত, কেন এই ধারার অধীন দোষী সাব্যস্তপূর্বক দণ্ড আরোপ করা হবে না এই মর্মে ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে শুনানি করতে ইচ্ছুক কি না, ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাও উক্ত নোটিশে উল্লেখ করবেন। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। তবে এরূপ ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী দণ্ড আরোপের আদেশ প্রাপ্তির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ধারা ৩৬ অনুযায়ী আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারবেন এবং রাষ্ট্রপতি যেরূপ উপযুক্ত মনে করবেন, সেরূপ আদেশ দেবেন। অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যাদেশের (১২) উপ-ধারা (১০) ও (১১) এর অধীন, যথাক্রমে, আপিল ও রিভিউয়ে প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।