শরীর ভারসাম্য হারাতে শুরু করেছে: অমিতাভ বচ্চন

শরীর ভারসাম্য হারাতে শুরু করেছে: অমিতাভ বচ্চন বলিউড মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন। বয়স হয়েছে, ভারসাম্য হারাতে শুরু করেছে শরীর, এরপরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ওপর বয়সের প্রভাব বাড়ছে, সেটি স্বীকার করেছেন ৮২ বছর বয়সী এই অভিনেতা। সম্প্রতি নিজের ব্লগে অমিতাভ লেখেন, ‘শরীর ধীরে ধীরে ভারসাম্য হারাতে শুরু করেছে। ’সম্প্রতি ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ব্লগে তিনি জানান, কাজের পাশাপাশি এখন তার জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নিয়মিত ওষুধ সেবন। সেই সঙ্গে যোগব্যায়াম ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামও শরীর সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অমিতাভ বলেন, এখন আর আগের মতো কাজ করা যায় না। কিছু করতে হলে আগে চিন্তা করতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দীর্ঘক্ষণ একটানা দাঁড়িয়ে থাকেন না তিনি, কারণ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনকি বাড়িতেও এসেছে পরিবর্তন। শরীরের ভারসাম্য রাখতে এখন ঘরের ভেতর হ্যান্ডেল বার ব্যবহার করেন এই অভিনেতা। যেসব কাজ কিছুদিন আগেও সহজে করতে পারতেন, সেগুলোর জন্য এখন এই সরঞ্জামের সাহায্য নিতে হয়। বয়স নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা আরও বলেন, এই সময়টা সবার জীবনেই আসে। কিন্তু আমি চাই না, এটা আসুক। আমরা যেদিন পৃথিবীতে জন্ম নিই, সেদিন থেকেই মৃত্যুর দিকে এগোতে থাকি। এটা স্বাভাবিক হলেও খুব দুঃখজনক। জীবনের গতিতে কখন যে বয়স ব্রেক কষিয়ে দেবে, তা ভাবতেও পারবেন না।
পিএফএ বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন সালাহ

পিএফএ বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন সালাহ লিভারপুল তারকা মোহামেদ সালাহ তৃতীয়বারের মতো প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)-এর বর্ষসেরা পুরস্কার জিতেছেন। ৩৩ বছর বয়সী মিশরীয় উইঙ্গার গত মৌসুমে লিভারপুলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ২৯ গোল এবং ১৮ অ্যাসিস্ট করেন।সালাহ একই সঙ্গে ২০২৪-২৫ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ বর্ষসেরা খেলোয়াড় এবং ফুটবল রাইটার্স’ অ্যাসোসিয়েশন (এফডব্লিউএ) বর্ষসেরা ফুটবলারও নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, অ্যাস্টনভিলা মিডফিল্ডার মরগান রজার্স জিতেছেন পিএফএ বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের খেতাব। ২৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ তারকা গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৪ ম্যাচে ১৪ গোল করেন এবং ভিলাকে প্রিমিয়ার লিগে ষষ্ঠ স্থানে তোলেন। সাবেক ইংল্যান্ড ম্যানেজার গ্যারেথ সাউথগেট পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ পিএফএ মেরিট অ্যাওয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে আট বছরে চারটি বড় টুর্নামেন্টে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। বর্ষসেরা একাদশ: খেলোয়াড়দের ভোটে গঠিত প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা একাদশে আধিপত্য করেছে লিভারপুল ও আর্সেনাল। গোলরক্ষক: ম্যাটজ সেলস (নটিংহ্যাম ফরেস্ট) ডিফেন্ডার: উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল) গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল) ভার্জিল ফন ডাইক (লিভারপুল) মিলোস কেরকেজ (বর্নমাউথ, বর্তমানে লিভারপুল) মিডফিল্ডার: আলেক্সিস মাক আলিস্তার (লিভারপুল) রায়ান গ্র্যাভেনবার্গ (লিভারপুল) ডেক্লান রাইস (আর্সেনাল) ফরোয়ার্ড: মোহামেদ সালাহ (লিভারপুল) আলেকজান্ডার ইসাক (নিউক্যাসল) ক্রিস উড (নটিংহ্যাম ফরেস্ট)
৩ বছর পর আবার মাঠে গড়াচ্ছে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ

৩ বছর পর আবার মাঠে গড়াচ্ছে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আশি-নব্বইয়ের দশকে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ছিল দেশের ফুটবল ক্যালেন্ডারের অন্যতম আকর্ষণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জৌলুস ম্লান হয়ে যায়, আয়োজনে আসে অনিয়মিততা। সর্বশেষ ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। এরপর দীর্ঘ ৩ বছর অপেক্ষার পর আবার মাঠে ফিরছে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা। ২০২৫ সালের জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ আগস্ট। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে, ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ড্র। আয়োজনটি ঘিরে গতকাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) অর্গানাইজিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি। সভা শেষে তিনি জানান, প্রতিযোগিতাটি তিন মাসব্যাপী চলবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। প্রতিযোগিতায় এবার অংশ নিচ্ছে দেশের ৬৪টি জেলা দল। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবার রাখা হয়নি। আয়োজক কমিটির প্রধান বলেন, “মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় আমরা এবার শুধুমাত্র জেলা দলগুলো নিয়েই আয়োজন করছি। এটি আন্তঃজেলা প্রতিযোগিতা হিসেবেই আয়োজন করা হচ্ছে। “ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পর্বে মোট ১১২টি ম্যাচ হবে। প্রতিটি ম্যাচ হবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। ম্যাচ ড্র হলে খেলা সরাসরি টাইব্রেকারে গড়াবে। দ্বিতীয় পর্বে উত্তীর্ণ হবে ৩২টি দল, যারা একই ফরম্যাটে পরবর্তী ধাপের খেলা খেলবে। এবারের আয়োজনকে কেন্দ্র করে থাকছে বাড়তি কিছু আকর্ষণও। মূল প্রতিযোগিতার মধ্যবর্তী সময়ে আয়োজন করা হবে বয়সভিত্তিক দুটি টুর্নামেন্ট—একটি অনূর্ধ্ব-১৭ দল নিয়ে, অন্যটি নারীদের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা। জেলা পর্যায়ের ফুটবল বিকাশে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে বাফুফে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাফুফের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এবারের আসর উৎসর্গ করা হয়েছে দেশের তরুণ শহীদদের স্মৃতিতে। আয়োজকরা বলছে, “তারুণ্যের উৎসব” প্রতিপাদ্যে এই আয়োজন তরুণদের আত্মত্যাগ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণে তাঁদের অবদানকে স্মরণ করতেই নেওয়া হয়েছে। দেশকে ভাগ করা হয়েছে আটটি জোনে, আর প্রতিটি জোনের নামকরণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত আট শহীদের নামে। তারা হলেন- মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ (মীর মুগ্ধ), নাফিসা হোসেন মারওয়া, মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, সাকিব আনজুম, আবু সাঈদ মিয়া, শেখ মো. সাকিব রায়হান, আব্দুল্লাহ আল বাহার ও গোলাম নাফিজ। বাংলা বর্ণমালার ভিত্তিতে জেলাগুলোকে ভাগ করে জোন বিন্যাস করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির পাশাপাশি গঠিত হয়েছে আট সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি। এই কমিটির প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁয়াকে। এ ছাড়া উপদেষ্টা হিসেবে থাকছেন বাফুফে সভাপতি, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক, বিকেএসপির মহাপরিচালক এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া-১)। দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ দেশের ঘরোয়া ফুটবলের পুনর্জাগরণে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, সে দিকেই তাকিয়ে আছে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।
নেইমার-দি মারিয়াদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেবে টাইগাররা

নেইমার-দি মারিয়াদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেবে টাইগাররা বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বিসিবি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার জন্য খেলোয়াড়দের পাঠাতে গিয়ে ভিসাজনিত জটিলতা আর অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়েছে বোর্ডকে। এবার সেই সমস্যা এড়াতে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ ক্রিকেটারদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিটি ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের জন্য নির্দিষ্ট করা হবে চিকিৎসার গন্তব্য দেশ ও হাসপাতাল। গুরুতর চোট বা বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন পড়লে নিয়ম ভেঙে অন্য দেশেও পাঠানো হবে ক্রিকেটারদের। তবে মূল পরিকল্পনায় শীর্ষে থাকছে কাতারের বিশ্বখ্যাত এসপেটার হাসপাতাল, যেটি ফিফার স্বীকৃত মেডিকেল সেন্টার এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির গবেষণা কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। ২০০৯ সালে ফিফা একে ঘোষণা করে ‘মেডিকেল সেন্টার ফর এক্সিলেন্স’ আর ২০১৪ সালে আইওসি একে স্বীকৃতি দেয় চোট প্রতিরোধ ও ক্রীড়াবিদদের স্বাস্থ্য গবেষণার জন্য। বিশ্বের বড় বড় ক্রীড়াবিদদের চিকিৎসার জন্য বহুবার আলোচনায় এসেছে এই হাসপাতাল। ২০২৩ সালে অস্ত্রোপচার করান নেইমার, চিকিৎসা নেন আনহেল দি মারিয়া, মো. ফারাহ, ইয়া ইয়া তোরের মতো বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদরা। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্যও হাসপাতালটি নতুন নয়। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, অভিষেক দাস এবং আশিকুর জামান এর আগে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। শুধু বিদেশে নয়, দেশের মাটিতেও ক্রিকেটারদের জন্য চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে চাইছে বিসিবি। এজন্য পরিকল্পনা হচ্ছে মিরপুরের একাডেমি ভবনে একটি ‘মিনি মেডিকেল ইউনিট’ স্থাপনের। বর্তমানে বিসিবির মূল ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম চলে, তবে ম্যাচ চলাকালে দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের বিধিনিষেধের কারণে সেখানে প্রবেশ করতে পারেন না খেলোয়াড়রা। নতুন মেডিকেল ইউনিট হলে জিম আর একাডেমি মাঠের কাছেই থাকবে পুনর্বাসনের সব ব্যবস্থা। এতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইতোমধ্যেই এসপেটার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পরিকল্পনা চলছে, সেখান থেকে চিকিৎসক এনে স্থানীয় ফিজিওদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার। বিসিবির মেডিকেল বিভাগের প্রধান মনজুর আলম দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘আমরা শুধু বিদেশে চিকিৎসা নয়, মিরপুরেই ক্রিকেটারদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য আল্ট্রাসনোগ্রামসহ আধুনিক সব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করব। একই সঙ্গে এসপেটারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এনে স্থানীয় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। ’ সব মিলিয়ে নেইমারদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেবে টাইগাররা—এমন খবর শুধু প্রতীকী নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেট চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য এক নতুন যুগের সূচনা। ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করা, চোট কমানো এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে আরও বৈজ্ঞানিক করার লক্ষ্যে বিসিবির এই উদ্যোগকে অভিনব মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গাজায় প্রায় ১৯ হাজার শিশু নি*হ*ত, হা*ম*লা তীব্রতর

গাজায় প্রায় ১৯ হাজার শিশু নি*হ*ত, হা*ম*লা তীব্রতর গাজায় ইসরায়েলের হা*মলা*য় এ পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নি*হ*ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৮৮৫ জনই শিশু। গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, গাজায় শিশুদের জন্য আর কোনো স্থানই নিরাপদ নয়। ইসরায়েলের অবরোধে খাদ্য ও ওষুধের সংকট তীব্র হওয়ায় ক্ষুধা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন লাখো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। কিন্তু ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে এসব আশ্রয়কেন্দ্রও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, জাতিসংঘের পতাকার নিচে আশ্রয় নিলেও সেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। ইউনিসেফের তথ্য উদ্ধৃত করে সংস্থাটি জানিয়েছে, গত পাঁচ মাসে—ইসরায়েল একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা শুরুর পর থেকে—প্রতি মাসে গড়ে ৫৪০ জনেরও বেশি শিশু নি*হ*ত হয়েছে। জাতিসংঘের সতর্কবার্তার মধ্যেই মঙ্গলবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন ফিলিস্তিনি নি*হ*ত হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন নি*হ*ত হন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত জিএইচএফের খাদ্য বিতরণকেন্দ্রের কাছে। গাজার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। দেইর আল-বালাহর একটি তাঁবুতে হামলায় আরও চারজনের মৃ*ত্যু হয়েছে। এদিকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইসরায়েল গাজা সিটিতে আক্রমণ জোরদার করছে। জয়তুন এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দক্ষিণ গাজায় বাড়িঘর উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পূর্বের তুফফাহ এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ চালানো হয়েছে। অন্যদিকে কাতার জানিয়েছে, হামাস একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। প্রস্তাবটিতে রয়েছে ৬০ দিনের অস্ত্রবিরতি ও আংশিক জিম্মি বিনিময়। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, সরকার গাজায় আটক সব জিম্মিকে (জীবিত ও মৃত) একসঙ্গে ফেরত চাইছে। পরিকল্পনায় আরও রয়েছে গাজা থেকে আংশিক ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার (বর্তমানে যার ৭৫ শতাংশ দখলে) এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি। যদিও ইসরায়েলের সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বো*মা ও গু*লির পাশাপাশি ক্ষুধা ও অপুষ্টিতেও মানুষের মৃ*ত্যু হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজন মারা গেছেন। জুনের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১১২ জন শিশু অপুষ্টি ও অনাহারে প্রা*ণ হারিয়েছে।
২৪ লাখ ৬৭ হাজার কলিং ভিসার কোটা খুলেছে মালয়েশিয়া

২৪ লাখ ৬৭ হাজার কলিং ভিসার কোটা খুলেছে মালয়েশিয়া বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে কলিং ভিসার কোটা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এ তথ্যটি গতকাল দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল নিশ্চিত করেছেন। খবরটি মালয়েশিয়ার প্রায় সবকটি প্রধানধারার গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কৃষি, বাগান ও খনি খাতসহ মোট ১৩টি উপখাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে সার্ভিস সেক্টরের হোলসেল অ্যান্ড রিটেল, ল্যান্ড ওয়্যারহাউস, সিকিউরিটি গার্ডস, মেটাল অ্যান্ড স্ক্রাপ ম্যাটেরিয়ালস, রেস্তোরাঁ, লন্ড্রি, কার্গো এবং বিল্ডিং ক্লিনিং খাতে শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ থাকছে। তিনি আরও বলেন, নির্মাণ খাত অর্থাৎ কনস্ট্রাকশন সেক্টরে নিয়োগ কেবল সরকারি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে, আর উৎপাদন (ম্যানুফ্যাক্টর) খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমআইডিএ) এর আওতাধীন নতুন বিনিয়োগকে। এবারের কলিং ভিসা/বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদনের সুযোগ শুধু খাতভিত্তিক অফিসিয়াল এজেন্সিগুলো পাবে। আগের মতো কোনো এজেন্ট বা সরাসরি নিয়োগকর্তা স্বাধীনভাবে আবেদন করতে পারবে না। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তা অনুমোদন করবে ফরেন ওয়ার্কার্স টেকনিকাল কমিটি এবং পরে জয়েন্ট (যৌথ) কমিটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানিয়েছে, এখন ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন শ্রমিকের কোটা চালু আছে, যা বছর শেষ (৩১ ডিসেম্বর-২০২৫) পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ সীমিত করে কেবল দেশের মোট জন শক্তির ১০% পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এ কোটায় বাংলাদেশিরা কতজন আবেদন করতে পারবে তা জানায়নি দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা মিডিয়াগুলো।
ইরান ফেরত আফগানদের বহনকারী বাসে দু*র্ঘট*না, নি*হ*ত ৭১

ইরান ফেরত আফগানদের বহনকারী বাসে দু*র্ঘট*না, নি*হ*ত ৭১ ইরান থেকে বিতাড়িত আফগান নাগরিকদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে ১৭ শিশুসহ প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭১ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই। আজ স্থানীয় সময় বিকেলে ইসলাম কালা সীমান্ত পেরিয়ে কাবুলগামী ওই বাসটি একটি ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। সংঘর্ষের পরপরই বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু যাত্রীর মৃত্যু হয়। আফগান প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি এবং স্থানীয় পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত গতি ও চালকের অসাবধানতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে। এর আগের দিনই ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ঘোষণা দেন, আগামী এক মাসে আরও আট লাখ অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এর বেশিরভাগই আফগান নাগরিক। ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ৯২১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এটি শুধু একটি ভূখণ্ডগত বিভাজন নয়-এটি ভাষা, ধর্ম, ইতিহাস ও ভাগ্যগত অভিন্নতার সেতুবন্ধও বটে। বিগত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ ও দখলদারিত্ব থেকে পালিয়ে আসা অর্ধকোটিরও বেশি আফগান নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে ইরান-যা এই অঞ্চলজুড়ে সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী বাস্তবতা। ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর লাখ লাখ আফগান নাগরিক ইরানে আশ্রয় নেন। এরপর ১৯৯৬ সালে তালেবান শাসন, ২০০১ সালে মার্কিন হামলা ও সর্বশেষ ২০২১ সালে তালেবানের ফের ক্ষমতা গ্রহণ—প্রতিটি ধাপেই আফগান জনগণের একটি বড় অংশ ইরানের দিকে ছুটে এসেছে।
পাসপোর্ট না থাকলেও প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার সুযোগ দিল ইসি

পাসপোর্ট না থাকলেও প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার সুযোগ দিল ইসি প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা দূর হলো। এখন থেকে কারও পাসপোর্ট না থাকলেও ভোটার করতে পারবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সংশোধন করায় এমন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইসির এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) খান আবি শাহানুর খানের সই করা এসওপি থেকে বিষয়টি জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশে বসবাসকারী এনআইডি-ধারী তিনজন প্রবাসীর কাছ থেকে বাংলাদেশি মর্মে প্রত্যয়নপত্র জমা দিলেই হবে। এছাড়াও যেসব বিষয় লাগবে সেগুলো হলো- • অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র ফরম-২(ক) • নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বিশেষ এলাকা’ হিসেবে ঘোষিত চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৬টি উপজেলা/থানার জন্য অতিরিক্ত তথ্য সম্বলিত ‘বিশেষ তথ্য ফরম’ • মেয়াদসম্বলিত বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি/মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি/বিদেশি পাসপোর্টের কপি • বাংলাদেশি জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি (অনলাইন ভেরিফায়েড) • পাসপোর্ট সাইজের ১ কপি রঙিন ছবি। এছাড়াও আবেদনকারীর পিতামাতার এনআইডির কপি/বাংলাদেশি অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি/বাংলাদেশি মৃত্যু সনদের কপি (মৃত হলে)/পাসপোর্টের কপি/ওয়ারিশ সনদের কপি/বাংলাদেশের বাসিন্দা মর্মে নাগরিক সনদের কপি*/দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)। • শিক্ষা সনদের কপি (SSC / সমমান / JSC / PEC সনদ) (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) • ড্রাইভিং লাইসেন্স / টিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) • নিকাহনামা (বিয়ের সনদ) এবং স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) • আবেদনকারীর নাগরিকত্ব সনদ (কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান/মেয়র/সিইও/প্রশাসক কর্তৃক) (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) • সংশ্লিষ্ট ঠিকানা সংবলিত ইউটিলিটি বিলের কপি/হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) • এক্ষেত্রে আবেদনপত্র, পাসপোর্টের কপি/তিন এনআইডি-ধারীর প্রত্যয়নপত্র, ছবি এবং জন্ম সনদ বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। এসওপিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় অন্যান্য দলিলাদিও নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দেওয়া যাবে। সম্ভব না হলে আবেদনকারীর পক্ষে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রতিনিধির মাধ্যমে উক্ত দলিলাদি তদন্তকারী কর্মকর্তা তথা রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার) কাছে জমা দেওয়া যাবে। বর্তমানে নয়টি দেশের ১৬টি স্টেশনে দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটার কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি। দেশগুলো হলো-সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। এসব দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন এসেছে।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ব্রিটিশ হাইকমিশনারের

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ব্রিটিশ হাইকমিশনারের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। গতকাল বেলা ২টায় সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে তাদের এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। পারস্পরিক কুশলবিনিময়ের পাশাপাশি সৌজন্য সাক্ষাতে বিচার বিভাগের বিভিন্ন দিক নিয়ে তারা আলোচনা করেন বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্ণ করায় সৈয়দ রেফাত আহমেদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা অর্জনে গত এক বছরে প্রধান বিচারপতির বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও কর্মপরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। এ ছাড়া বিচারবিভাগ সংস্কারে প্রধান বিচারপতি ঘোষিত রোডম্যাপ, ১২ দফা নির্দেশনা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন সারাহ কুক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে শক্তিশালী বিচার বিভাগ গড়ে তুলতে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন। এর আগে ১৪ আগস্ট প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
যত চ্যালেঞ্জিংই হোক, সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই হবে: প্রধান উপদেষ্টা

যত চ্যালেঞ্জিংই হোক, সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই হবে: প্রধান উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতেই হোক না কেন এবং যত চ্যালেঞ্জিংই হোক না কেন, আমাদের সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই হবে। আজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতা বৃদ্ধির নিমিত্তে ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু নিয়ে আমরা সকলে আজ একত্রিত হয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ বলছি এ কারণে যে, জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ দরকার। দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে না পারলে ব্যক্তিগত জীবন থেকে জাতীয় উন্নয়ন-কোনোটাই যথাযথভাবে করা যাবে না। তাই যে কোনো পরিস্থিতিতেই হোক না কেন এবং যত চ্যালেঞ্জিংই হোক না কেন, আমাদের সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই হবে। এ জন্য সরকারি, বেসরকারি, সুশীল সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা-সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কেবল পারস্পরিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই এটা সম্ভব। আর সে কারণেই আজকের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই অসংক্রামক রোগ দিনদিন বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর ছোট এলাকায় বসবাসের প্রেক্ষাপটে এ পরিস্থিতি আরও সংকটময়। তাই এটি জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের সাথেও নিবিড়ভাবে জড়িত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর শতকরা ৭১ ভাগ ঘটে থাকে অসংক্রামক রোগের কারণে এবং এর মধ্যে শতকরা ৫১ ভাগ মানুষের মৃত্যু হয় ৭০ বছর বয়সের নিচে, যাকে আমরা অকাল মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। আমাদের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয় (আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার) ৬৯ শতাংশ, যার বেশিরভাগ অসংক্রামক রোগের জন্য ব্যয় হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অসংক্রামক রোগ হলে মানুষ উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়ের মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়। কোনো ব্যক্তির ক্যান্সার হলে তার পরিবারকে আর্থিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই সহায়হীন-সম্বলহীন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে অতি উচ্চ মূল্যে চিকিৎসা নেওয়ারও প্রয়োজন হয়। আমাদের বিপুল অঙ্কের টাকা চলে যায় বিদেশে এসব রোগের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে। তাই অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা যেমন উন্নত হওয়া জরুরি, তেমনি রোগগুলো যেন কম হয় অথবা না হয়, সেজন্য উপযুক্ত জনসচেতনতা এবং প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা করে তোলা দরকার। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়। এজন্য সব মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা দরকার। খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা, ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত-এমন প্রত্যেকটি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইউনূস বলেন, প্রত্যেক খাত থেকে দরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও নিবিড় উদ্যোগ। তাই এ সকল মন্ত্রণালয় চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবুও আমি ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতে চাই। তিনি বলেন, প্রথমত, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকগুলোর বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ সচেতনতা আছে-এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। অনেকেই সচেতন থাকলেও জীবনযাপনে হয়তো সেভাবে প্রতিফলন নেই। ফলে নানামাত্রিক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অগ্রগতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্বিতীয়ত, ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি দরকার বেসরকারি উদ্যোগ। দরকার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কারিগরি সহযোগিতা। এবং তৃতীয়ত, যে কোনো কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিবিড় মনিটরিং ও মূল্যায়ন আবশ্যক। আবার এগুলো করতে দরকার উপযুক্ত ও দক্ষ জনবল, আর্থিক বরাদ্দ। আমি এ দিকটা বিবেচনায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনারা ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নের কাজটি বিশেষ অগ্রাধিকারে রাখবেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও জনবল নিশ্চিত করবেন, যেন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বিশেষ কোনো সীমাবদ্ধতা বা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি না হয়। তিনি বলেন, আজকের এই ‘যৌথ ঘোষণা’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা একসঙ্গে কাজ করতে নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম। এটি শুধুমাত্র একটি আয়োজনের মধ্যে যেন সীমাবদ্ধ না থাকে। এটি আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস। আমি বিশ্বাস করি, এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এটি হবে অগ্রগতির একটি নতুন মাইলফলক। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও এসডিজি-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডাসমূহ অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে অর্জনে সহায়ক হবে। ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে, বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ অফিসের সত্যিই প্রশংসনীয় ভূমিকা রয়েছে। আমি জেনেছি, আজকের আয়োজনে তারা গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছে। এ জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ডিরেক্টর, প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট ড. থাকসাফন থামারাংসি কষ্ট করে এ আয়োজনে উপস্থিত হয়েছেন। তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।