শীতে হার্ট ভালো রাখতে কী খাবেন

শীতে হার্ট ভালো রাখতে কী খাবেন শীত তার নিজস্ব জাদু নিয়ে আসে – ঝলমলে সকাল, উজ্জ্বল রোদ, উষ্ণ পানীয় এবং আরামদায়ক খাবার। কিন্তু যারা তীব্র শীতের মধ্যে বাস করেন, তাদের জন্য এই ঋতু চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসে, বিশেষ করে হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য। শীতকালে সর্দি, ফ্লু এবং জ্বর বৃদ্ধি পেলেও, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের বৃদ্ধি। সুখবর হলো সহজ, সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে, আপনি আপনার হৃদযন্ত্রকে শীতকালেও ভালো রাখতে পারেন। তাপমাত্রা কমে গেলে শরীরের প্রথম অগ্রাধিকার হলো উষ্ণতা বজায় রাখা। তাপ হ্রাস রোধ করতে, সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র রক্তনালীকে সংকুচিত করে, যা রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদয়ে অক্সিজেন ও পুষ্টির প্রবাহ কমায়। সংকুচিত নালীর মধ্য দিয়ে রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখার জন্য হৃদপিণ্ডকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, যা হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। একই সময়ে, ঠান্ডা আবহাওয়া রক্তকে ঘন করে, কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় এবং জমাট বাঁধার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় – যা সবই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। জেনে নিন, এই শীতে হৃদযন্ত্রকে কীভাবে রক্ষা করবেন। ১. স্মার্ট খাবার খান : শীতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ২. ভালো চর্বি বেছে নিন : শীতকাল হলো ভালো চর্বির প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ার ঋতু। সঠিক তেল নির্বাচন করা- যেমন চিনাবাদাম বা সূর্যমুখী তেলের সাথে সরিষার তেলের মিশ্রণ হৃদরোগ-প্রতিরক্ষামূলক মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সরবরাহ করতে সাহায্য করে LDL কোলেস্টেরল কমায়। স্যামন এবং সার্ডিনের মতো ফ্যাটি মাছে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাট তাদের প্রদাহ-বিরোধী উপকারিতা এবং হৃদস্পন্দনকে সহায়তা করে, ট্রাইগ্লিসারাইড কমায় এবং জমাট বাঁধার প্রবণতা কমায়। নিরামিষাশীদের জন্য, আখরোট, চিয়া বীজ এবং তিসির বীজ চমৎকার উদ্ভিদ-ভিত্তিক ওমেগা-৩ উৎস প্রদান করে। ৩. পুরো শস্য যোগ করুন : আস্ত শস্য হৃদযন্ত্রের জন্য একটি উপকারী খাবার। সাদা ভাত, নান এবং ময়দা-ভিত্তিক খাবারের পরিবর্তে বাদামি চাল, বার্লি, আস্ত গম, ওটস বা কুইনোয়ার মতো পরিশোধিত শস্যদানা ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি যেমন বি ভিটামিন, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়াম যোগ করে। ফাইবার কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে এবং স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ বজায় রাখে। ৪. বাদাম খান : বাদাম একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। বাদাম, আখরোট এবং চিনাবাদাম স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন এবং ভিটামিন ই সরবরাহ করে, যখন তাদের আর্জিনিন উপাদান নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন বাড়ায়, রক্তনালীকে শিথিল করতে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন মাত্র এক মুঠো বাদামই উপকারিতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট। ৫. ফল এবং শাকসবজিতে পেট ভরে নিন : ফল এবং শাকসবজি রঙ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় খনিজ যোগ করে যা হৃদযন্ত্রকে শীতের চাপ সহ্য করতে সহায়তা করে। লাইকোপিন সমৃদ্ধ টমেটো এবং লাল মরিচ থেকে শুরু করে অ্যান্থোসায়ানিন-প্যাকড বেরি, মূলা এবং আঙুর পর্যন্ত, উদ্ভিদ-ভিত্তিক পুষ্টি রক্তনালীকে শক্তিশালী করে এবং প্রদাহ কমায়। আপনার প্লেটের অর্ধেক শাকসবজি দিয়ে পূরণ করুন এবং দিনে দুই থেকে তিনবার ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন।

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কী খাবেন

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কী খাবেন ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকের জন্যই জরুরি। আপনি হয়তো খেয়াল করলে পরিবারের কাউকে না কাউকে খাওয়া ও ঘুমের আগে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে দেখে থাকবেন। কার্বোহাইড্রেট-ভারী খাবারের পরে শক্তি হ্রাস পায়। যে কারণে হঠাৎ ক্ষুধা যা স্বাভাবিকের চেয়ে জরুরি বলে মনে হয়। মানসিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে যার স্ট্রেসের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এই দৈনন্দিন সংকেতগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার ওঠানামার ইঙ্গিত দেয়, এমনকী যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন তাদের ক্ষেত্রেও। তবে সুসংবাদ হলো যে রক্তে শর্করার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রতিদিনের কিছু খাদ্যাভ্যাস সাহায্য করতে পারে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন? খাবারের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখুন- ১. প্রোটিন দিয়ে দিন শুরু করুন, শুধু কার্বোহাইড্রেট নয় : ডায়াবেটিসের সঙ্গে লড়াই করা অনেক পরিবার তাড়াতাড়ি এটি শিখে ফেলে। টোস্ট, সিরিয়াল বা ফলের নাস্তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি এবং হ্রাসের কারণ হতে পারে। প্রোটিন যোগ করলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়। সবজির সঙ্গে ডিম, বাদাম বা বীজের সঙ্গে দই, মসুর ডাল বা বিনস, গোটা শস্যদানা ইত্যাদি সকালের খাবারে রাখুন। ২. প্রতিটি খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখুন : কার্বোহাইড্রেটের ওপর বেশি নির্ভরশীলতা খাবার রক্তে শর্করার স্পাইক বাড়ায়। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ফাইবারের সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট যুক্ত করলে রক্তে গ্লুকোজ আরও ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। শক্তির জন্য কার্বোহাইড্রেট, চিনির নিঃসরণ কমাতে প্রোটিন, টেকসই পূর্ণতার জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি, চিনির শোষণ কমাতে ফাইবার রাখুন প্রতিদিনের খাবারে। ৩. খাবার এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত বিরতিতে খান : খাবার এড়িয়ে যাওয়া রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির একটি সাধারণ কারণ। এর ফলে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় এবং দিনের শেষে অতিরিক্ত খাওয়া শুরু হয়। নিয়মিত বিরতিতে খাওয়ার অভ্যাস গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে, তীব্র ক্ষুধা কমায় এবং সারাদিন ধরে ভালোভাবে শক্তি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ৪. খাবারের মধ্যে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন : খাবারের মধ্যে বিস্কুট বা মিষ্টি খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি হতে পারে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার স্থিতিশীল শক্তি প্রদান করে এবং হঠাৎ ক্ষুধা রোধ করে। বাদাম বা বীজ, দই, সেদ্ধ ডিম, ভাজা ডাল ইত্যাদি খেতে পারেন। ৫. প্রতিটি খাবারে ফাইবার গ্রহণ বৃদ্ধি করুন : আঁশ রক্তে চিনির শোষণকে ধীর করে দেয় এবং খাবারের পরে গ্লুকোজের তীব্র বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরিয়ে রাখে। প্রাকৃতিকভাবে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে। শাক-সবজি, ত্বকের খোসাযুক্ত ফল, লেবু, গোটা শস্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে কাজ করে।

যে ৫ অভ্যাসে ফুসফুস ভালো থাকবে শীতে

যে ৫ অভ্যাসে ফুসফুস ভালো থাকবে শীতে শীতে সর্দি-হাঁচি-কাশির সমস্যা বেড়ে যায়। বেড়ে যায় শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও। ফুসফুস শ্বাসতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অসচেতনতার কারণে কিংবা জীবনযাপনের কিছু ভুলে সহজেই ঠান্ডা লাগতে পারে এবং ভাইরাস সংক্রমণে নিউমোনিয়া হয়ে যেতে পারে। তাই এসময় সুস্থ থাকতে বাড়তি সচেতনতার প্রয়োজন। নাকের মাধ্যমে শ্বাস নিন শীতে মুখের পরিবর্তে নাকের মাধ্যমে শ্বাস নিতে পারেন। এতে ফুসফুসে ঠান্ডা বাতাসের প্রবেশ ঠেকাতে পারবেন। নাকের মাধ্যমে শ্বাসগ্রহণ করলে বাতাস উষ্ণ হতে বেশি সময় পায়। ফুসফুস উষ্ণ বাতাস পেলে অসুস্থতার প্রবণতা কমে আসে। মাস্ক ব্যবহার করুন অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়া শ্বাসতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ফুসফুস সুরক্ষিত রাখতে বাইরে গেলে মাস্ক পরুন। এতে বাতাস ফুসফুসে প্রবেশের আগেই উষ্ণ হবে। এটা ফুসফুসের ওপর ঠান্ডা বাতাসের প্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করবে। বাইরে গিয়ে শরীরচর্চা নয় তীব্র শীতে ঘরেই শরীরচর্চা করুন। বাইরে শরীরচর্চা করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। বাইরের ঠান্ডা বাতাস ফুসফুসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাতে রাখুন শাক-সবজি ও ফল শীতে ফুসফুসের সুরক্ষায় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খান। বিশেষ করে পাতে ফল ও শাকসবজি রাখুন। তাজা ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, বাদাম, বীজ, বিনস, অলিভ অয়েল ও মাছ খান। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান পুষ্টিবিদদের মতে, ফুসফুসের সুস্থতায় প্রোটিন ভূমিকা রাখে। প্রোটিন সেই মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে, যা গভীর শ্বাসের সময় ফুসফুসকে প্রসারিত করে থাকে। পর্যাপ্ত প্রোটিন বিশেষ করে শিম জাতীয় সবজি, বাদাম, বীজ খেলে শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ হবে।

জুতা যেমন হওয়া চাই

জুতা যেমন হওয়া চাই হাঁটা সবারই প্রয়োজন, তবে নিয়মিত হাঁটার ক্ষেত্রে সঠিক জুতা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত জুতা হাঁটার সময় আরাম দেয়, পায়ের ব্যথা কমায় এবং আঘাতজনিত বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। সঠিক ওয়াকিং জুতা বেছে নেওয়ার সময় প্রথমেই জুতার সাইজের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। জুতার সাইজ পায়ের আকারের সঙ্গে মানানসই হওয়া উচিত; খুব বেশি টাইট বা অতিরিক্ত ঢিলেঢালা জুতা পরা ঠিক নয়। আঙুলের সামনে সামান্য ফাঁকা জায়গা থাকা দরকার, যাতে হাঁটার সময় চাপ না পড়ে। হাঁটার জুতার ওজন হালকা হওয়াই উত্তম। কারণ ভারী জুতা হাঁটার সময় পায়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। জুতার সোলের গঠন ও মানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আউটসোল বা নিচের অংশ রাবারের তৈরি হলে ভালো গ্রিপ পাওয়া যায় এবং পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। নন-সিøপ ডিজাইন থাকলে জুতা মাটি বা রাস্তার সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খায়। মিডসোল বা মাঝের অংশ হাঁটার সময় ধাক্কা ও কম্পনের প্রভাব কমায় এবং আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। ইভিএ (ঊঠঅ) ফোম বা জেল কুশন প্রযুক্তিযুক্ত মিডসোল দীর্ঘক্ষণ হাঁটার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ইনসোল বা ভেতরের অংশে নরম কুশন থাকা উচিত, যাতে পায়ের তালুতে চাপ কম পড়ে। অর্থোপেডিক ইনসোল থাকলে পায়ের গঠন অনুযায়ী অতিরিক্ত সাপোর্ট পাওয়া যায়। যাদের পায়ের তালুর বাঁক বেশি বা কম, তাদের জন্য উপযুক্ত আর্চ সাপোর্ট থাকা জরুরি। একই সঙ্গে গোড়ালির জন্য ভালো সাপোর্ট থাকলে দীর্ঘক্ষণ হাঁটার সময় গোড়ালি ও হাঁটু সুরক্ষিত থাকে। জুতার ওপরের অংশ এমন উপাদানে তৈরি হওয়া উচিত, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। জালযুক্ত বা ক্যানভাসের জুতা ঘাম শোষণ করে এবং পা ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখে। সিনথেটিক লেদারও আরামদায়ক হতে পারে। হাঁটার জুতার হিল খুব বেশি উঁচু বা খুব বেশি নিচু হওয়া উচিত নয়। সাধারণত শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৫ ইঞ্চি উচ্চতার হিল হাঁটার জন্য আরামদায়ক। সম্পূর্ণ সমান বা ফ্ল্যাট জুতা নিয়মিত হাঁটার জন্য উপযুক্ত নয়। জুতায় বাঁকানোর সুবিধা থাকা দরকার, যাতে সহজে পায়ের আঙুল ভাঁজ করা যায়; একেবারে শক্ত ও অনমনীয় জুতা হাঁটার জন্য ভালো নয়। লেইস বা ভেলক্রো স্ট্র্যাপ থাকলে জুতা পায়ে ভালোভাবে ফিট হয়। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য ভেলক্রো স্ট্র্যাপ সহজ ও সুবিধাজনক বিকল্প। দীর্ঘস্থায়ী ও ভালো মানের ব্র্যান্ডের জুতা নির্বাচন করা উচিত, যা সহজে নষ্ট হয় না। বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ ধরনের জুতা ব্যবহার করা দরকার। যেমন- প্লান্টার ফ্যাসাইটিস বা হিল স্পার থাকলে আর্চ সাপোর্ট ও হিল কুশনযুক্ত জুতা উপযোগী। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নরম ও সেলাইবিহীন ইনসোলযুক্ত জুতা প্রয়োজন, যাতে ঘর্ষণজনিত ক্ষত না হয়। ফ্ল্যাটফুট সমস্যায় বিশেষ ধরনের আর্চ সাপোর্টযুক্ত জুতা ব্যবহার করা উচিত। তবে এসব ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সর্বোত্তম। ডা.এম ইয়াছিন আলী লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট

যেসব ভুলে দাঁত নষ্ট হয়

যেসব ভুলে দাঁত নষ্ট হয় দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন বেশিরভাগ মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি যেটি দেখা যায়, সেটি হলো এনামেল ক্ষয়। এবং এই সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো বেশিরভাগই নিজের ক্ষতি নিজেই করে। তবে সেটি যত্নের অভাবের কারণে নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যাসের নীরব পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ঘটে থাকে। যা আমরা বুঝতেও পারি না। চলুন জেনে নেওয়া যাক, আমাদের প্রতিদিনের কোন অভ্যাসগুলো দাঁত নষ্ট করে দিচ্ছে- যখন ‌ক্লিনার ব্রাশিং ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে অনেকে দ্রুত জোরালো ব্রাশ দিয়ে দিন শুরু করেন। কিন্তু জোরে ব্রাশ করলে দাঁত পরিষ্কার হয় এই বিশ্বাস একেবারেই ভুল। অতিরিক্ত ব্রাশ করা, বিশেষ করে শক্ত ব্রিস্টলযুক্ত টুথব্রাশ দিয়ে, দাঁতের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এটি এনামেল নামক পাতলা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্তর যা দাঁতকে ক্ষয় এবং সংবেদনশীলতা থেকে রক্ষা করে, তা ক্ষয় করতে পারে।   অ্যাসিড, চিনি এবং আধুনিক খাদ্য অ্যাসিড এবং চিনিযুক্ত খাবারের দিকে ঝোঁক এখনকার বেশিরভাগ মানুষের। এর মধ্যে রয়েছে ফিজি ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, সাইট্রাস-ভিত্তিক জুস, চা, কফি এবং বিভিন্ন ধরণের মিষ্টি। প্রতিটি চুমুক বা কামড় যদিও আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকারক নয়, তবে দাঁতে অ্যাসিডের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে এনামেলকে ক্ষয় করে। হাইড্রেশনের উপেক্ষিত ভূমিকা লালা হলো মুখের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যাসিডকে নিউট্আল করে এবং খনিজ পদার্থ পূরণ করে যা এনামেলকে শক্তিশালী করে। তবুও, ক্যাফেইন দ্রুতগতির জীবনযাপনে ডিহাইড্রেশন এই সুরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। সারা দিন হাইড্রেটেড থাকার মতো সহজ অভ্যাস দাঁত রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর, কিন্তু উপেক্ষিত উপায়গুলোর মধ্যে একটি। DIY সাদা করার পেছনে বিপদ নিখুঁত হাসির সন্ধানে, সোশ্যাল মিডিয়া ঘরোয়া প্রতিকারকে জনপ্রিয় করে তুলেছে যা তাৎক্ষণিক সাদা করার প্রতিশ্রুতি দেয়, লেবুর রস এবং বেকিং সোডা থেকে শুরু করে আরও অনেককিছু। যদিও এগুলো অস্থায়ী উজ্জ্বলতা প্রদান করতে পারে, তবে এগুলো ঘষার সময় এনামেল ক্ষয় হয়। এর ফলে দাঁত সাময়িক ঝকঝকে হলেও পরে তা আরও হলুদ এবং সংবেদনশীল হয়ে যায়।

জয়জয়কার অ্যানিমেশনের

জয়জয়কার অ্যানিমেশনের ২০২৫ সালে হলিউডের বক্স অফিস চিত্রের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে–এ বছর অ্যানিমেশনই রাজত্ব করেছে। বাস্তব অভিনেতাদের উপস্থিতিকে ছাপিয়ে অ্যানিমেটেড চরিত্ররাই দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। বছরের সর্বাধিক আয় করা সিনেমাগুলোর তালিকা বিশ্লেষণ করলে অ্যানিমেশনের এই দাপট অস্বীকার করার সুযোগ নেই। মাত্র ৮০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত চীনা অ্যানিমেটেড ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘নে ঝা-২’ বিশ্বজুড়ে আয় করেছে ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা একে বছরের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল সিনেমার মর্যাদা এনে দিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডিজনির বহুল প্রতীক্ষিত অ্যানিমেশন ‘জুটোপিয়া ২’, যার আয় ছাড়িয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় অবস্থানেও রয়েছে ডিজনিরই লাইভ-অ্যাকশন অ্যানিমেশন ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’। একই সঙ্গে জাপানি অ্যানিমেশন ‘ডেমন স্লেয়ার: কিমেৎসু নো ইয়াইবা–দ্য মুভি: ইনফিনিটি ক্যাসল’ মুক্তির পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দর্শকমহলে দারুণ উত্তেজনা ছড়ায়। অ্যানিমেশনের এই জোয়ারের মধ্যেও কিছুটা মুখ রক্ষা করেছে বড় স্টুডিওগুলোর কয়েকটি প্রকল্প। ওয়ার্নার ব্রসের ‘আ মাইনক্রাফট মুভি’ বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ৯৫৮ মিলিয়ন ডলার এবং ইউনিভার্সাল পিকচারসের ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড রিবার্থ’ পৌঁছেছে ৮৬৯ মিলিয়ন ডলারে। দুটি ছবিই অল্পের জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে পারেনি। বছরের মাঝামাঝি সময়ে ব্র্যাড পিট অভিনীত ‘এফ ওয়ান’ এবং ডেভিড কোরেন্সওয়েটের ‘সুপারম্যান’ কিছুটা আলোচনায় এলেও সামগ্রিকভাবে হলিউডে বড় তারকানির্ভর সিনেমাগুলো প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে। এ বছর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, হলিউডে তারকাদের স্টারডাম ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ডোয়াইন জনসনের ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’ বক্স অফিসে বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়েছে। জেনিফার লরেন্সের ‘ডাই মাই লাভ’ আয় করতে পেরেছে মাত্র সাড়ে ১১ মিলিয়ন ডলার। একইভাবে আশানুরূপ সাড়া পায়নি জুলিয়া রবার্টসের ‘আফটার দ্য হান্ট’ এবং গ্লেন পাওয়েলের ‘দ্য রানিংম্যান’। এমনকি টম ক্রুজের বহুল আলোচিত ‘মিশন: ইম্পসিবল– দ্য ফাইনাল রেকনিং’ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২০০ মিলিয়ন ডলারের গণ্ডিও পেরোতে পারেনি, যা এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য হতাশাজনক বলেই ধরা হচ্ছে। ব্র্যাড পিটের ‘এফ ওয়ান’-এর বক্স অফিস ফলাফলও তাঁর তারকাখ্যাতির তুলনায় অনেকটাই কম। তবে যে কোনো সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালে হলিউডে ভৌতিক সিনেমা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ৯০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের ‘সিনারস’ বিশ্বব্যাপী আয় করেছে সাড়ে ৩৫০ মিলিয়নের বেশি। অন্যদিকে মাত্র ৩৮ মিলিয়নে নির্মিত ‘ওয়েপনস’ পেরিয়ে গেছে আড়াইশ মিলিয়ন ডলারের মাইলফলক। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগামী বছরগুলোতে হলিউডে হরর ঘরানার সিনেমার সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ বছরের আরেকটি বড় আলোচিত ঘটনা হলো– ডিসির কাছে মার্ভেলের পরাজয়। দীর্ঘদিন ধরে মার্ভেলের সুপারহিরো সিনেমাগুলো দর্শকদের মন জয় করে এলেও এবার চিত্রটা বদলেছে। মার্ভেল এ বছর ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’, ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর: ফার্স্ট স্টেপ’ এবং ‘থান্ডারবোল্টস’-এর মতো বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি দিলেও ডিসির ‘সুপারম্যান’-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। বছরের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল সুপারহিরো সিনেমার খেতাব গেছে ‘সুপারম্যান’-এর ঝুলিতে। মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স যাত্রা শুরুর পর এই প্রথমবার ডিসির কাছে স্পষ্টভাবে পিছিয়ে পড়ল প্রতিষ্ঠানটি।

গান প্রকাশের পর অভিনয় ছাড়ার কারণ জানালেন বিজয়

 গান প্রকাশের পর অভিনয় ছাড়ার কারণ জানালেন বিজয় ৯০ হাজার ভক্ত নিয়ে গান প্রকাশের পর অভিনয় ছাড়ার কারণ জানালেন বিজয় ‘জন নায়াগান’ হচ্ছে বিনোদনজগৎকে বিদায় জানিয়ে রাজনীতিতে নাম লেখা দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা। মুক্তি পাচ্ছে আগামী বছরের ৯ জানুয়ারি। ছবিটি নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের কমতি নেই। বিজয়কে দেখতে গত শনিবার ২৭ ডিসেম্বর ৯০ হাজার ভক্ত ভিড় করেছেন মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল স্টেডিয়াম বুকিত জলিলে। সেখানে সিনেমার গান প্রকাশের আয়োজন ছিল। অনুষ্ঠানে বিজয় বলেন, শ্রীলঙ্কার পর মালয়েশিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় তামিল জনগোষ্ঠীর একটি রয়েছে। মালয়েশিয়ায় অনেক তামিল সিনেমার শুটিং হয়েছে। আমার বন্ধু অজিত অভিনীত ‘বিলা’ ছবিটিও মালয়েশিয়ায় শুট করা হয়েছিল। আমার ‘কাভালান’ ও ‘কুরুবি’ ছবির শুটিংও এখানে হয়েছে। বিজয় অভিনয়কে বিদায় জানালেন বছর খানেক আগে তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন বিজয়। এরপর তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন করার ঘোষণা দেন এ অভিনেতা। ইতোমধ্যে ‘জন নায়াগান’ এরপর অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিজয়। বিজয় বলেন, মানুষ আমার জন্য সিনেমা হলে এসে দাঁড়ান। সে কারণেই আগামী ৩০ থেকে ৩৩ বছর আমি তাদের জন্য দাঁড়াতে প্রস্তুত। বিজয়–ভক্তদের জন্যই আমি সিনেমা থেকে সরে যাচ্ছি। অভিনয়ের শুরু থেকেই ভক্তদের পাশে পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিজয় বলেন, প্রথম দিন থেকেই আমি সব ধরনের সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছি, এটা পুরোনো গল্প। কিন্তু আমার ভক্তরা শুরু থেকেই টানা ৩৩ বছর ধরে আমার পাশে থেকেছেন। আমি সিনেমায় এসেছিলাম একটি ছোট বালুর ঘর বানানোর স্বপ্ন নিয়ে, আর আপনারা আমাকে একটি প্রাসাদ উপহার দিয়েছেন। তাই যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের জন্য আমিও দাঁড়াব। ভক্তদের কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করব। তিনি বলেন, জীবনে সফল হতে সব সময় বন্ধুর প্রয়োজন না–ও হতে পারে, কিন্তু শক্তিশালী এক শত্রু দরকার। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেই আপনি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবেন। ভক্তদের উদ্দেশে বিজয় বলেন, ছোট একটি সাহায্য বা ছোট একটি ভালো কাজ ভবিষ্যতে আপনাকে সাহায্য করবে। কাউকে কষ্ট দেবেন না, কাউকে আঘাত করবেন না।

নুসরাত ফারিয়া চমকে দিলেন

নুসরাত ফারিয়া চমকে দিলেন বছরের শেষ মুহূর্ত দারুণ আনন্দেই কাটছে ঢাকাই নায়িকা নুসরাত ফারিয়ার। বেশ কিছুদিন ধরে কানাডা সফরে রয়েছেন নায়িকা। এর মধ্যে জানিয়েছিলেন, দেশটির ওটায়া শহরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার; জানিয়েছিলেন আমন্ত্রণও। এবার সেই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে দেখা গেল নুসরাত ফারিয়াকে; নেচে সেখানকার মঞ্চ মাতালেন এই নায়িকা। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছোট ভিডিও প্রকাশ করেন নুসরাত ফারিয়া। তাতে দেখা যায়, সাদা রঙের একটি গ্ল্যামারাস ফ্রিল ড্রেস এবং সাদা বুট পরে মঞ্চে ঝড় তুলেছেন ফারিয়া। ধারণা করা হচ্ছে, ওটায়ার প্রেস্টন ইভেন্ট সেন্টারের সেই জমকালো পারফরম্যান্স সেটি; আর ভিডিওটি মুহূর্তেই তার ভক্ত-নেটিজেনদের মাঝে সারা ফেলে বেশ। ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সারদের সাথে তাল মিলিয়ে ফারিয়ার স্টাইলিশ মুভগুলো তার নাচের দক্ষতাও ফুটে ওঠে। এ সময় ফারিয়ার নাচের ভঙ্গি এবং অভিব্যক্তি দর্শকদের মুগ্ধ করলেও কেউ কেউ মজাও নেন। এক ভক্ত লিখেছেন, ‘অসাধারণ নেচেছেন আপু।’ একজন জায়েদ খানের সঙ্গে তুলনা করে মজা করে লেখেন, ‘জায়েদ খান প্রো। বছরের শেষ সময়টা কানাডায় অবস্থান করছেন ফারিয়া। কখনো টরোন্টো আবার কখনো ওটায়ার পথঘাটে ঘুরে বেড়ানোর ছবি শেয়ার করছেন। এর আগে ওটায়া থেকে শেয়ার করা ফারিয়ার একটি অফ-শোল্ডার কালো গাউন পরা ছবি ভক্তদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। সেখানে নেটিজেনরা তাকে ‘ক্লিওপেট্রা’র সঙ্গেও তুলনা করেছেন। কানাডা ভ্রমণের এই আনন্দঘন মুহূর্তে নুসরাত ফারিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে দেখা গেছে ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়ক জায়েদ খানকেও। বড়দিন এবং নতুন বছরের আমেজ তারা একসাথেই উদযাপন করছেন। গত ২৬ ডিসেম্বর সেই ছবি প্রকাশ করে ফারিয়া লিখেছিলেন, ‘২৭ তারিখ দেখা হবে ওটায়ার প্রেস্টন ইভেন্ট সেন্টারে।’ এরপরই ভক্তরা আশা বাঁধেন, নিশ্চয়ই জায়েদ খানের সঙ্গে জমকালো মঞ্চে একসঙ্গে মাতবেন তারা। যদিও নাচের এই ভিডিওতে জায়েদ খানকে দেখা যায়নি; তাই এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, ‘জায়েদ খান কোথায়?’।

জঙ্গীর কথায় বাবুর সুরে ব্যান্ড উৎসব

জঙ্গীর কথায় বাবুর সুরে ব্যান্ড উৎসব  বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত নিয়ে এক ব্যতিক্রমী ও স্মরণীয় আয়োজন নিয়ে আসছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। প্রথমবারের মতো একটি মাত্র সংগীতানুষ্ঠানের জন্য দশটি ব্যান্ড গেয়েছে দশটি সম্পূর্ণ নতুন গান। এই অনন্য উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্যান্ড উৎসব ২০২৫’। অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে বিটিভির পর্দায় আগামী ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর, প্রতিদিন রাত ১০টায়। এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় নতুনত্ব হলো, দশটি গানের কথাই লিখেছেন একজন গীতিকার এবং দশটি গানের সুরই করেছেন একজন সুরকার। দেশের ব্যান্ড সংগীতাঙ্গনে এমন সমন্বিত প্রয়াস আগে কখনো দেখা যায়নি। দশটি নতুন গানের কথা লিখেছেন গীতিকার শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। সুর করেছেন দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ফিডব্যাকের দলনেতা ও গুণী সুরকার ফুয়াদ নাসের বাবু। একই গীতিকার ও একই সুরকারের সৃষ্টিতে ভিন্ন ভিন্ন ব্যান্ডের কণ্ঠ ও সংগীতায়োজন এই বিষয়টিই ‘ব্যান্ড উৎসব ২০২৫’-কে করেছে বিশেষ। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন গোলাম মোর্শেদ। গ্রন্থনা করেছেন আহমেদ তেপান্তর। এর উপস্থাপনায় দেখা যাবে ফেরদৌস বাপ্পীকে। বিটিভির এই উদ্যোগকে ব্যান্ড সংগীতের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজকদের মতে, নতুন গান সৃষ্টি ও ব্যান্ড সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে এই অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গীতিকার শহীদ মাহমুদ জঙ্গী বলেন, ‘দশটি নতুন গান একসঙ্গে একটি প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপন করা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের জন্য গর্বের বিষয়। এই নান্দনিক ও সাহসী উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে সুরকার ফুয়াদ নাসের বাবুও এই আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন।‘ব্যান্ড উৎসব ২০২৫’ শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়, বরং এটি নতুন গান তৈরির প্রতি উৎসাহ, ব্যান্ড সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হয়ে থাকবে এমনটাই আশা করছেন সংগীতপ্রেমীরা।

নেটমাধ্যমে ট্রল বিপিএল লুকে তানজিন তিশা

নেটমাধ্যমে ট্রল বিপিএল লুকে তানজিন তিশা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএল-এর দ্বাদশ আসরের পর্দা উঠেছে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে। গত ২৬ ডিসেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্সের ম্যাচের পর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাতে দেখা যায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে। তবে পারফরম্যান্সের চেয়েও বর্তমানে আলোচনায় তার ‘বিপিএল লুক’ এবং নেটিজেনদের সমালোচনা। রোববার রাতে সামাজিক মাধ্যমে নিজের সেই বিশেষ লুকের একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেন অভিনেত্রী। ছবিতে তাকে দেখা যায়, রুপালি চুমকি বসানো গ্লিটারি টপস, আর নিয়ন রঙের কার্গো স্টাইলের প্যান্ট। গলায় ছিল পাথরের ভারী নেকলেস এবং কানে ছোট ছোট টপ ইয়ারিংস। এছাড়াও চোখের কোণে স্টোনের ব্যবহার তার লুকে আনে বাড়তি চাকচিক্য। পায়ে ছিল অফ-হোয়াইট রঙের হিলের স্নিকার বুট। তবে তার অধিকাংশ ছবিতেই একটু ভিন্নধর্মী ভঙ্গিতে বসে পোজ দিতে দেখা গেছে। তিশার এই নতুন লুক অধিকাংশেরই মন জয় করতে পারেনি, ফলে সমালোচনা ও কটাক্ষের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী; যার কারণ তার পোশাকের অতিরিক্ত চাকচিক্য ও বসার ভঙ্গি। মন্তব্যঘরে একজন লিখেছেন, ‘আমি তো প্রথমে আপনাকেই বিপিএলের ট্রফি মনে করেছিলাম!’ আবার কেউ কেউ তার ফ্যাশন সেন্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘ছাপরি’ বা ‘যাত্রাপালার নায়িকা’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। লুকের পাশাপাশি আরও একটি গুঞ্জন তিশার পিছু ছাড়ছে না। শোনা যাচ্ছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন তাকে নাকি শুরুতে মাঠে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কমেন্ট বক্সে নেটিজেনরা সেই বিষয়টি নিয়েও খোঁচা দিতে ছাড়েননি। যদিও এসব কোনো মন্তব্যের উত্তর দেননি তানজিন তিশা। তবে তিশার অনেক ভক্ত তার প্রশংসাও করেছেন; বিশেষ করে বিপিএল-এর মঞ্চে তার নৃত্য পরিবেশন করে গ্যালারির দর্শকদের বিনোদন দিয়েছেন বলে।