আবারও আলোচনার কেন্দ্রে হানিয়া আমির

আবারও আলোচনার কেন্দ্রে হানিয়া আমির এক বছর পর নতুন ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশনে ফেলেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির। আরেক পাকিস্তানি সেনসেশন বিলাল আব্বাস খানের বিপরীতে ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ সিরিয়ালে দেখা যাচ্ছে তাকে। প্রচারের শুরু থেকেই দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল এই সিরিয়াল। পাকিস্তানের গণ্ডি পেড়িয়ে বাংলাদেশ ও ভারতেও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সিরিয়ালটি। বিরতির পরও যে হানিয়ার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি, তা আবারও প্রমাণ করেছেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালে ‘কাভি মে কাভি তুম’–এ অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছিলেন অভিনেত্রী। আইরা ও কাময়ার চরিত্রে এই নতুন জুটির পর্দার রসায়ন শুরু থেকেই দর্শকের নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের অভিনয় ও রোমান্টিক মুহূর্ত নিয়ে প্রশংসা থামছে না। তবে সব প্রশংসার মধ্যেও কিছু সমালোচনা রয়েছে। গল্পের ধীরগতির উপস্থাপন ও অতিরিক্ত ফ্ল্যাশব্যাক ব্যবহারে একাংশ দর্শক মনে করছেন, চিত্রনাট্য আরও সংক্ষিপ্ত হলে সিরিয়ালটি আরও উপভোগ্য হতো। তবুও সব মিলিয়ে, ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ এখন দর্শক মহলে আলোচনার শীর্ষে।
বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানাতে চান রাফি

বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানাতে চান রাফি সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা ও ওয়েব ফিল্ম নির্মাণের জন্য খ্যাতি রয়েছে পরিচালক রায়হান রাফির। আগেও বেশকিছু বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা বানিয়ে হইচই ফেলেছেন গুণি এই নির্মাতা। এবার বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন রাফি। এমনটা নির্মাতা নিজেই জানিয়েছেন। সবশেষ ওটিটিতে রাফি পরিচালিত ওয়েব ফিল্ম ‘অমীমাংসিত’ মুক্তি পায়। ধারণা করা হয়ে থাকে, এটি সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। যদিও বিষয়টি কখনোই সরাসরি স্বীকার করেননি তিনি। তবে সিনেমাটি মুক্তি দিতে কম কাঠ-খড় পোড়াতে হয়নি তাকে। প্রথমে ‘অমীমাংসিত’ মুক্তির সময় সেন্সর বোর্ড সিনেমাটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর এটি মুক্তির অনুমতি পায়। এদিকে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানানো প্রসঙ্গে রায়হান রাফি বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছে আছে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানানোর। এতজন সেনাকে হত্যা করা হল, একের পর এক লাশ বের হল, গণকবর হল। ভেতরে কী ঘটনা ঘটেছিল তা এখনো পুরোপুরি জানি না। আরও তথ্য জানা গেলে তখন এ নিয়ে সিনেমা বানাব। সাহস থাকলে সত্য ঘটনা অবলম্বনে বারবার কাজ করা যায়। আমার লক্ষ্য হল, সমাজে একই ধরনের অন্যায় যেন পুনরায় না ঘটে, সেই সচেতনতা তৈরি করা। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সত্য ঘটনা অবলম্বনে কাজ করতে গিয়ে তাকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া বিডিআর বিদ্রোহে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন।
লন্ডন মাতালেন সাগর বাউল

লন্ডন মাতালেন সাগর বাউল লন্ডনের কলোসিয়াম স্যুটে গেল ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ‘বাউল উৎসব লন্ডন-২০২৬’। বাংলা ক্রেজ ইউকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে শ্রোতাদের মাতালেন কণ্ঠশিল্পী সাগর বাউল। সাগর বাউল ছাড়াও আয়োজনে অংশ নেন কামরুজ্জামান রাব্বি ও বেলী আফরোজ। এছাড়াও ছিলেন লন্ডনপ্রবাসী বাঙালি শিল্পীরা। তাদের মধ্যে আছেন বাউল এম হোসেন, সাজ্জাদ নুর, বন্যা তালুকদার, বাউল ইকরাম উদ্দিন ও রানা এবং যৌথভাবে বাংলাদেশ-লন্ডনের শিল্পী হিসেবে পারফরম্যান্স করেন শারমিন দীপু। মূলত, এটি টিকিট শো হলেও প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে বলে জানান আয়োজকরা। সাগর বাউল বলেন, ‘দারুণ একটি শো শেষ করলাম। লন্ডনের প্রবাসী বাংলাদেশিরা যে গান পাগল সেটা আরেকবার প্রমাণিত হলো। বাংলা ক্রেজ ইউকের সিইও ফয়সাল আহমেদ ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর শারমীন দীপুর অক্লান্ত পরিশ্রম আর আতিথেয়তার কথা না বললেই নয়। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এখানকার দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। বিশেষ করে, বাংলা ক্রেজ ইউকে সংগঠনের সকল কলাকুশলীরা এই অনুষ্ঠানে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। বলা দরকার, লন্ডনে বসবাসরত বাঙালিরাই অনুষ্ঠানে যন্ত্রশিল্পী হিসেবে বাজিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তানিম, হাসান, রিজানসহ অনেকে।এদিকে, সাগর বাউল বিশ্বের ১৪টি দেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তবে সকল আয়োজনের মধ্যে লন্ডনের অনুষ্ঠানটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ লোকসংগীতের বিশাল এক প্রাণকেন্দ্র সিলেটের মানুষজন আর সেই সিলেটি মানুষের বিশাল একটি অংশ বসবাস করে লন্ডনে; যারা লোকগানের ভক্ত ও প্রচারক।
পারফর্মের সময় হেনস্তার শিকার মৌনী রায়

পারফর্মের সময় হেনস্তার শিকার মৌনী রায় ভারতের হরিয়ানায় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে প্রকাশ্যে শারীরিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী মৌনী রায়। দর্শকদের মাঝ থেকে বয়স্ক ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন অভিজ্ঞতার শিকার বলেই অভিযোগ তার। এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। নিজের নিরাপত্তা ও নারী সম্মানের বিষয়টি সামনে এনে সামাজিক মাধ্যমে মৌনী রায় জানান, মঞ্চে ওঠার আগেই দুই বয়স্ক ব্যক্তি তার কোমরে হাত দিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করেন। মৌনী সরাসরি এর প্রতিবাদ জানিয়ে হাত সরাতে বললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। পরে পারফরম্যান্সের সময় সামনের সারিতে থাকা ওই ব্যক্তিরা অভিনেত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, মৌনী তাদের সংযত হতে বললে তারা মঞ্চে গোলাপ ফুল ছুড়তে শুরু করেন। আয়োজকদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন অভিনেত্রী। জানান, বিষয়টি এতটাই অস্বস্তিকর ছিল যে তিনি অনুষ্ঠান ফেলে চলে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পেশাদারিত্বের খাতিরে শেষ পর্যন্ত পারফর্ম করেন।মৌনী আরও বলেন, শিল্পীদের শিল্পের মাধ্যমেই মূল্যায়ন করা উচিত; এমন অভব্য আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মৌনী রায় মূলত ছোট পর্দা থেকে ক্যারিয়ার শুরু করে বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তার এই অভিযোগটি বর্তমানে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নারী নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত অন্তত ৫ হাজার, স্বীকার করলো ইরান

বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত অন্তত ৫ হাজার, স্বীকার করলো ইরান ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রথমবারের মতো দেশটির সরকার স্বীকার করেছে। রোববার দেশটির আঞ্চলিক এক সরকারি কর্মকর্তা বিক্ষোভ সহিংসতায় হতাহতের শিকার লোকজনের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে কর্তৃপক্ষ এমন পরিসংখ্যান পেয়েছে বলে জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য কর্তৃপক্ষ যাচাই করেছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৫০০ সদস্য রয়েছেন। তিনি এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের দায়ী করে বলেছেন, তারা ‘‘নিরীহ ইরানিদের’’ হত্যা করেছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত ও সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ওই অঞ্চলে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় রয়েছেন এবং দেশটির অতীতের অস্থিতিশীলতার সময়ও সেখানে ভয়াবহ সহিংসতার রেকর্ড রয়েছে। দেশটির সরকারি ওই কর্মকর্তা বলেছেন, বিক্ষোভ-সহিংসতায় প্রাণহানির চূড়ান্ত সংখ্যায় বড় ধরনের উল্লম্ফনের সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও বিদেশে থাকা সশস্ত্র বিভিন্ন গোষ্ঠী রাস্তায় নামা লোকজনকে সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য বিদেশি শত্রুদের দায়ী করে থাকে। এর মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কট্টর বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েলও রয়েছে। গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-সহিংসতায় উসকানি ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এদিকে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলেছে, ইরান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩০৮ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া দেশটির নজিরবিহীন এই সংঘাতে আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। সংস্থাটি বলেছে, বিক্ষোভ চলাকালীন ইরানি কর্তৃপক্ষ ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। নরওয়ে-ভিত্তিক ইরানি কুর্দিপন্থীদের মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও বলেছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা সবচেয়ে সহিংস আকারে ছড়িয়ে পড়ে উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায়। অন্যদিকে, রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইরানি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগের বয়স ৩০ বছরের কম এবং তরুণ। এছাড়া বিক্ষোভে আহত হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। বেশিরভাগই মানুষ নিহত হয়েছেন দু’দিনের ব্যবধানে। ইরানি-জার্মান চক্ষু চিকিৎসক প্রফেসর আমির পারাস্তা সানডে টাইমসকে বলেছেন, এটি অন্য মাত্রার নৃশংসতা। এবার তারা মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আমরা মাথা, গলা, বুকে গুলি এবং শার্পনেলের আঘাত দেখতে পেয়েছি। সানডে টাইমস বলছে, ইরানের বড় আটটি চক্ষু হাসপাতাল এবং ১৬টি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হতাহতের ওই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। চিকিৎসকরা সাধারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহার করে যোগাযোগ করতে সমর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেছে সানডে টাইমস। আহতদের অনেকে চোখে আঘাত পেয়েছেন বলেও এ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর শটগান থেকে গুলিবর্ষণ করেছেন। গুলিতে প্রায় ৭০০ জন অন্ধ হয়ে গেছেন। গত মাসের শেষ দিকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি তা সহিংস আকার ধারণ করে। ওই সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের শঙ্কাও তৈরি হয়। তবে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী কঠোর অবস্থানে যাওয়ায় বর্তমানে বিক্ষোভ প্রায় স্থিমিত হয়ে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স, সানডে টাইমস।
মোদির সভা শুরুর আগেই ডিম-ভাত খেলেন বিজেপি কর্মীরা

মোদির সভা শুরুর আগেই ডিম-ভাত খেলেন বিজেপি কর্মীরা ভারতের হুগলির সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মেগা জনসভাকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বিজেপি কর্মীরা দলবেঁধে ডিম-ভাত খেয়ে সভার প্রস্তুতি সারেন। সারাদিন সভার ব্যস্ততায় খাওয়ার সময় পাওয়া যাবে না এই আশঙ্কায় সকাল সকাল পেট ভরে আহার সেরে নেন তারা। আনন্দবাজার অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপি কর্মীদের এই ‘ডিম-ভাত’ ভোজ মূলত ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্রিগেডের সেই আলোচিত ‘ডিম্ভাত’ স্মৃতিকেই নতুন করে উসকে দিয়েছে।রোববার সকালে হুগলির গ্রামাঞ্চলে শীতের আমেজ থাকলেও মোদির সভাকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ছিল বনভোজনের মেজাজ। ইটের অস্থায়ী উনুন বানিয়ে বড় কড়াইয়ে চলছে রান্না। মেনু হিসেবে প্রায় সর্বত্রই ছিল গরম ভাত আর ডিমের ঝোল, কোথাও আবার বাড়তি পদ হিসেবে ছিল সয়াবিনের তরকারি। বিজেপি কর্মীদের দাবি, কম সময়ে এবং স্বল্প খরচে ডিম-ভাতের চেয়ে পুষ্টিকর ও দ্রুত তৈরি করা যায় এমন খাবার আর নেই। তাই দীর্ঘক্ষণ সভায় থাকার শক্তি জোগাতে তারা এই পদকেই বেছে নিয়েছেন। বাংলার রাজনীতিতে বড় সভার আগে সমর্থকদের ডিম-ভাত খাওয়ানোর সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের এবং এটি কোনো বিশেষ দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০১৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ব্রিগেডে বিরোধী জোটের সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন, তখন তৃণমূলের পক্ষ থেকে কর্মীদের জন্য ডিম-ভাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই সময় দেওয়াল লিখনে বানান ভুলের কারণে ‘ডিম্ভাত’ শব্দটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি বামপন্থীদের সভাতেও কর্মীদের ডিম-ভাত খেতে দেখা গেছে। মোদির সভার আগে বিজেপির এই আয়োজন প্রমাণ করল যে রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হলেও জনসভার ঝক্কি সামলাতে সব পক্ষই শেষ পর্যন্ত সস্তা ও সুষম আহার হিসেবে ডিম-ভাতের ওপরই ভরসা রাখে। সিঙ্গুরের ‘টাটার মাঠে’ আয়োজিত এই সভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই বাসে করে রওনা দেন কর্মীরা। মূলত তৃণমূলের দুর্নীতি এবং সিঙ্গুরের হারানো শিল্প ফিরিয়ে আনার দাবিকে সামনে রেখেই এই ‘পরিবর্তন সংকল্প জনসভা’র আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই কর্মীদের মধ্যে চনমনে ভাব বজায় রাখতে দলীয় স্তরে এই খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাজনীতির মাঠে ‘ডিম্ভাত’ নিয়ে যতই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ হোক না কেন, বাস্তব চিত্র হলো কঠোর পরিশ্রমী কর্মী-সমর্থকদের কাছে চার দেয়ালের রাজনীতির চেয়েও পাতের এই সহজলভ্য আহারটি অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক ও কার্যকর। সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
করাচিতে শপিং মলে আগুন, নিহত ৬

করাচিতে শপিং মলে আগুন, নিহত ৬ পাকিস্তানের করাচির একটি শপিং মলে আগুনে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। শনিবার রাতে গুল প্লাজা নামে ওই শপিং মলে আগুন লাগে বলে জানায় স্থানীয় কর্মকর্তারা। রোববার সকাল পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযান চলছে। খবর আল-জাজিরার । করাচির সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক সাবির মেমন জানান, তিনজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। করাচির ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল সৈয়দ আসাদ রেজা বলেন, এ ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫ হয়েছে। পরে ইধি ফাউন্ডেশন ছয়জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহত ব্যক্তিদের এ সংখ্যা নিশ্চিত করে উদ্ধারকাজের মুখপাত্র হাসানুল হাসিব খান জানান, আহত হয়েছেন ২০ জন। তিনি বলেন, সকাল পর্যন্ত আগুন প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ওই শপিং মলে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ দোকান রয়েছে। কাপড়, তৈজসপত্র, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, সুগন্ধি, প্রসাধনীসহ নানা পণ্য কেনাবেচা হয় সেখানে। এসব পণ্যের কারণে আগুনের তীব্রতা বেড়েছে।
গাজায় পাকিস্তানকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প

গাজায় পাকিস্তানকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প গাজা শাসনের জন্য ঘোষিত বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদে যোগ দিতে পাকিস্তানকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে আমন্ত্রণ জানানোর খবরটি নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বলেছেন, ‘জাতিসংঘের প্রস্তাবনার আলোকে ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় পাকিস্তান সম্পৃক্ত থাকবে। ট্রাম্পের এই শান্তি পরিষদের ঘোষণা ভালোভাবে নেয়নি ইসরাইল। দখলদার দেশটির হাতে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলমান গণহত্যা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই পরিষদ। রোববার এই বিষয়ে বিরোধীতা করে শাসক জোটের অংশীদারদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।এএফপি জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় গাজা বিষয়ক নির্বাহী বোর্ডের গঠন নিয়ে আপত্তি তোলে। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বোর্ড অব পিসের অধীন গঠিত গাজা নির্বাহী বোর্ডের গঠন সংক্রান্ত ঘোষণা ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় না করেই দেওয়া হয়েছে। এটি ইসরায়েলের নীতির পরিপন্থী।তবে আপত্তির সুনির্দিষ্ট কারণ বিবৃতিতে ব্যাখ্যা করা হয়নি। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘শান্তি পরিষদ ঘোষণা করতে পারা আমার জন্য বিরাট সম্মানের, বোর্ড অব পিস গঠিত হয়েছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এই পরিষদের সদস্যদের নাম ‘শিগগির’ ঘোষণা করা হবে।
জেনে নিন সবজি পরোটা তৈরির রেসিপি

জেনে নিন সবজি পরোটা তৈরির রেসিপি পরোটা তৈরি করা যায় নানাকিছু দিয়ে। আপনি নিশ্চয়ই আলু পরোটা কিংবা কিমা পরোটা খেয়েছেন? তবে চাইলে সবজি দিয়ে তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু পরোটা। এটি তৈরি করতে খুব বেশি সময় লাগে না, আবার উপকরণও লাগে কম। সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায় তৈরি করতে পারেন সবজি পরোটা। চলুন জেনে নেওয়া যাক রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে গাজর কুচি- ১ কাপ বরবটি কুচি- আধা কাপ পেঁয়াজ কুচি- ২-৩টি আলু সেদ্ধ- ২টি গরম মশলা- ১/২ চা চামচ হলুদের গুঁড়ো- ১/২ চা চামচ কাঁচা মরিচ- ২ টি ধনিয়া পাতা কুচি- ২ চা চামচ। ডো তৈরি করতে যা লাগবে ময়দা- ১ কাপ লবণ- স্বাদমতো তেল- ১ চা চামচ পানি- পরিমাণমতো। যেভাবে তৈরি করবেন প্যানে ১/২ চা চামচ তেল নিয়ে গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি, গাজর কুচি, বরবটি কুচি, গরম মসলা, হলুদের গুঁড়া, ধনিয়া পাতা ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে ভেজে নিন। তারপর নামিয়ে ফেলুন। ম্যাশড আলু মিশিয়ে নিন। একটি পাত্রে ডো তৈরির সব উপকরণ মিশিয়ে ভালো করে ডো তৈরি করে ২০ মিনিট রেখে দিন। এবার ডো থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে মোটা রুটির মতো বেলে নিন। এরপর একেকটির মধ্যে পুর ভরে গোল বড় বল তৈরি করুন। এবার পরোটা বেলে নিন। এবার ভেজে গরম গরম পরিশেবন করুন।
নেপালে বাংলাদেশের দুই সিনেমা

নেপালে বাংলাদেশের দুই সিনেমা ৯ম নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা। একটি শাহরিয়ার আজাদের ‘দ্য পেয়ার অব হোয়াইট পিজিয়নস’, অন্যটি ফখরুল আলমের ‘মেমোরিজ অ্যান্ড মিজারিস’।‘দ্য পেয়ার অব হোয়াইট পিজিয়নস’ প্রসঙ্গে শাহরিয়ার আজাদ জানান, এটি নির্মিত হয়েছে একজোড়া কবুতরকে ঘিরে, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার শৈশবের স্মৃতি। নির্মাতা বলেন, ‘যশোর জেলার ঝিকরগাছার প্রত্যন্ত এক এলাকায় আমার বেড়ে ওঠা। আমার স্বল্পদৈর্ঘ্যের মধ্যদিয়ে শৈশবের নানা অনুভূতি তুলে ধরেছি। আমার দেখা গ্রামীণ নানা ঘটনা যেমন এতে আছে, তেমনি গ্রামীণ জনজীবন, প্রকৃতি এবং ভেতরের জটিল আবেগ গল্পে প্রকাশ পেয়েছে। ‘দ্য পেয়ার অব হোয়াইট পিজিয়নস’-এ অভিনয় করেছেন এস কে শাহরিয়ার ও শাহীন হোসাইন। এদিকে, ‘মেমোরিজ অ্যান্ড মিজারিস’ নিরীক্ষাধর্মী সিনেমা, যেখানে স্বর্গ ও পৃথিবীর মাঝামাঝি এক অদ্ভুত অবস্থানে আটকে থাকা একটি আত্মার যাত্রা দেখানো হয়। সেই আত্মা নিজের জীবনের দুটি ভিন্ন অধ্যায় ফিরে দেখে। এক অধ্যায়ে সে একজন লেখক, যে মানুষের গল্প খুঁজে বেড়ায়, অনুভূতি আর অভিজ্ঞতার ভাষা খোঁজে; অপর অধ্যায়ে সে একজন পাদ্রী- যুদ্ধবিধ্বস্ত সময়ের সাক্ষী, যে মানুষের কষ্ট, অপরাধবোধ ও স্বীকারোক্তি শুনে অভ্যস্ত। ফখরুল আলমের এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন শরিফ সিরাজ ও খালিদ হাসান। উল্লেখ্য, আগামী ২ থেকে ৬ এপ্রিল নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হবে এ চলচ্চিত্র উৎসব।