হানিয়া আমিরের সঙ্গে সিনেমা, যা বললেন শাকিব খান

হানিয়া আমিরের সঙ্গে সিনেমা, যা বললেন শাকিব খান গত সেপ্টেম্বরে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে ঢাকায় এসেছিলেন হানিয়া আমির। প্রতিষ্ঠানটির এক আয়োজনে হানিয়া বলেন, ‘আমার মনে হয়, তোমরা শাকিব খানকে অনেক বেশি পছন্দ করো, তাই আমারও পছন্দ শাকিব খান। এর পর থেকেই গুঞ্জন ছড়িয়েছে, শাকিব খানের নায়িকা হচ্ছেন হানিয়া আমির। বিষয়টি নিয়ে চর্চার মধ্যে শাকিব খান জানালেন, আসলেই একটি সিনেমা নিয়ে হানিয়া আমিরের সঙ্গে কথা হচ্ছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান দ্য ছোটভাইয়ের এক ভ্লগে বিষয়টি নিয়ে শাকিব খানকে কথা বলতে দেখা গেছে। আজ শুক্রবার বিকেলে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভ্লগটি প্রকাশ করেন রাফসান। সপ্তাহখানেক আগে বনানীতে একটি ব্র্যান্ডের শোরুম উদ্বোধন করেন শাকিব খান, সেখানে রাফসানও ছিলেন। ভ্লগে দেখা গেছে, রাফসানকে দেখে শাকিব খান বলেন, ‘তোমার অনেকগুলো ভ্লগ দেখলাম আমার ফিউচার হিরোইনের সঙ্গে, হানিয়ার সঙ্গে। এ সময় পাশ থেকে একজন জানতে চান, উনি (হানিয়া আমির) কি আপনার সঙ্গে মুভি করছেন? উত্তরে শাকিব খান বলেন, ‘হ্যাঁ, একটা মুভির কথা হচ্ছে। কোন সিনেমা নিয়ে কথা হচ্ছে, তা এখনো খোলাসা করেননি শাকিব খান। তিনি বর্তমানে ‘সোলজার’ নামে একটি সিনেমা করছেন, তার বিপরীতে আছেন তানজিন তিশা ও জান্নাতুল ঐশী। ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ নামে আরেক সিনেমায়ও দেখা যাবে শাকিব খানকে। তার বিপরীতে তাসনিয়া ফারিণের অভিনয়ের কথা শোনা যাচ্ছে। পাকিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে হানিয়া আমিরের পরিচিতি রয়েছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানি টিভি সিরিয়াল ‘কাভি মে কাভি তুম’–এ অভিনয় করে খ্যাতি পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ‘সরদারজি ৩’ সিনেমা দিয়ে বলিউডেও অভিষেক ঘটেছে হানিয়ার। ছবিটি পাকিস্তানে সাফল্য পেয়েছে। মেরি জিন্দাগি হ্যায় তু’ নামে নতুন একটি টিভি সিরিয়ালে কাজ করছেন হানিয়া। ৭ নভেম্বর থেকে এআরআই ডিজিটাল টিভিতে সিরিয়ালটি প্রচারে এসেছে। এতে প্রথমবারের মতো অভিনেতা বিলাল আব্বাস খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন হানিয়া।

অর্জিত সুনাম ও পেশাগত মর্যাদা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে   ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের সাড়া জাগানো নায়িকা শাবনূর। দীর্ঘ দিন ধরে অস্ট্রেলিয়া বসবাস করছেন তিনি। দুই-তিন বছর পরপর হঠাৎ করে দেশে ফেরেন, কিছুদিন ঘুরে ফিরে আবার চলে যান। বছর দুয়েক আগে ঘোষণা আসে শাবনূর ‘রঙ্গনা’ নামের একটি সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে ফিরতে যাচ্ছেন। গেল বছর ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শাবনূর নিজেই কামব্যাক করার ঘোষণা দেন। পূবাইল ও ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে এ সিনেমার কিছু অংশের শুটিংও করেছিলেন। শুটিং শেষ না করেই অস্ট্রেলিয়া চলে যান অভিনেত্রী। কথা ছিল, শারীরিক পরিবর্তন এনে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে আবার শুটিং করবেন। সম্প্রতি দেখা গেল আরাফাত হোসেন পরিচালিত এবং মৌসুমী মিথিলা প্রযোজিত এই সিনেমার শুটিং হওয়া অংশটুকু’র ফুটেজ ইউটিউবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণ শুটিং ফুটেজ ইউটিউব আপলোড দেওয়ার চরম ক্ষোভ ঝাড়লেন অভিনেত্রী শাবনূর। এমনকি পরিচালক-প্রযোজকের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলে শাবনূর তার ফ্যান পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে অভিনেত্রী লেখেন, আজকের চলচ্চিত্র জগতে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মানের অভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে।   দক্ষ পরিচালক ও পেশাদার প্রযোজকের অভাবে মানসম্মত সিনেমা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে শিল্পের মূল্য না বুঝে সহজ পথ বেছে নিচ্ছেন, ফলে নষ্ট হচ্ছে চলচ্চিত্রের মান, আর শিল্পীরা হারাচ্ছেন তাদের প্রাপ্য সম্মান। এসময় শাবনূর বলেন, আপনাদের অনেকেই জানেন, আমি ‘রঙ্গনা’ সিনেমায় অভিনয় করতে সম্মত হয়েছিলাম। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠিত হয় এবং সবাই তখন এ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিল। মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে আমিও আশাবাদী ছিলাম যে নতুনদের সঙ্গে কাজ করছি, নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে। মহরতের কিছুদিন পর দেশে ফিরে আমি প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও কয়েকদিন শুটিং করি। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে তখন সিনেমাটির কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। প্রযোজকের সঙ্গে আমার কথাবার্তা ছিল, দেশে ফিরে বাকি অংশের শুটিং শেষ করে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হবে। প্রযোজনা ও পরিচালনার সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা শুরু থেকেই অপেশাদারসুলভ আচরণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন শাবনূর। তিনি বলেন, কাজ শুরুর আগেই তারা একটি নিম্নমানের পোস্টার প্রকাশ করে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয়। শুটিং চলাকালেও ইউনিটে ছিল অগোছালোভাব ও অব্যবস্থাপনা। আমাকে শুরুতে বলা হয়েছিল, কিছু দৃশ্য ও গান বিদেশে শুট হবে এবং এডিটিংও হবে দেশের বাইরে, কিন্তু বাস্তবে তাদের কথার কোনো প্রতিফলন দেখিনি। তবুও আমি আমার প্রতিশ্রুতি রাখতে চেয়েছিলাম এবং ডিসেম্বরে বাকি শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ দেখি, সিনেমার অসম্পূর্ণ ফুটেজ ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছে। শাবনূর বলেন, যে সিনেমা বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা, সেটি এখন বিনামূল্যে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে! আমি বড় পর্দার অভিনেত্রী। আমার কাজ ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখানোর জন্য নয়। যদি আমি আগে জানতাম এই প্রজেক্টটি সিনেমা হলের বদলে ইউটিউব কনটেন্ট হিসেবে প্রকাশিত হবে, তবে আমি কখনই এতে অংশ নিতাম না। যোগ করে এই সাড়া জাগানো অভিনেত্রী বলেন, আমি কখনোই বলিনি যে ‘রঙ্গনা’তে আর কাজ করব না। তাহলে কেন আমার অনুমতি ছাড়াই সিনেমার অসম্পূর্ণ ক্লিপগুলো ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশ করা হলো? এখন আবার বলা হচ্ছে, পুরনো সব দৃশ্য বাদ দিয়ে নতুন করে শুটিং হবে, যা একদমই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও হতাশ। আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ও পেশাগত মর্যাদা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। শাবনূর আরও বলেন, এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, পুরো বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও এক দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক ঘটনা। আমার অসংখ্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই ঘটনার প্রতি যে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা সবসময় আমার পাশে থেকেছেন, তাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও প্রেরণাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।

মিথিলা ভোটযুদ্ধে সবাইকে ছাড়িয়ে গেল   ৭৪তম মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে বেশ জোরেসোরেই নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি তানজিয়া জামান মিথিলা। বিশ্বের ১২১টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে লড়াই করে তিনি এখন উঠে এসেছেন ‘পিপলস চয়েস’ ভোটে প্রথম স্থানে! গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মিস ইউনিভার্স অ্যাপে দেখা যায়, মিথিলার ভোট সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা থাইল্যান্ডের প্রতিনিধির ভোট প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার। প্রতিটি মুহূর্তে বাড়ছে উত্তেজনা, হাড্ডাহাড্ডি এই ভোটযুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ভোট চলবে ভোট গ্রহণ। পিপলস চয়েজ ছাড়াও ‘বেস্ট ন্যাশনাল কস্টিউম’, ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’, ‘বেস্ট ইভিনিং গাউন’ ও ‘বেস্ট স্কিন’বিভাগেও এগিয়ে আছেন মিথিলা। এক ভিডিও বার্তায় থাইল্যান্ড থেকে মিথিলা বলেন, ‘এখন বাংলাদেশ এক নম্বরে। এটি শুধু আমার নয়, আমাদের সবার জয়। ভোট দিতে থাকুন ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। চলুন, একসঙ্গে ইতিহাস গড়ি অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ!’ মিথিলা আরও বলেন, বাংলাদেশে খুব ভালো অবস্থানে আছে। তবে এখনেই ভোট দেওয়া থামানো যাবে না। আাগামী ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ভোট দিতে হবে। ভোটের পাশাপাশি সবগুলো ইভেন্টে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আমি। আমার বিশ্বাস, আগামী ইভেন্টগুলোও দারুণভাবে উতরাতে পারব। এখন শুধু দরকার দেশের মানুষের আরও ভোট। এই প্রথম মিস ইউনিভার্স আসরে বাংলাদেশ এত ভালো অবস্থানে আসতে পেরেছে। আমার বিশ্বাস এই যাত্রায় বাংলাদেশেই বিজয় হবে। এর আগে তিনি দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন চলছে মিথিলার জন্য তুমুল ক্যাম্পেইন। দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারা একে একে যুক্ত হচ্ছেন তার পাশে জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী, রুনা খান, শবনম বুবলী, মুমতাহিনা টয়া, সাফা কবীর, জান্নাতুল পিয়া, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, শবনম ফারিয়া, সালমান মুক্তাদিরসহ অনেকে সামাজিক মাধ্যমে মিথিলার জন্য ভোট চেয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। ভোট দিতে চাইলে মিস ইউনিভার্স অ্যাপে গিয়ে বাংলাদেশ সিলেক্ট করে “গেট ভোট” অপশনে ক্লিক করতে হবে। তারপর ‘পিপলস চয়েস’ সেকশনসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে গিয়ে তানজিয়া জামান মিথিলা-কে নির্বাচন করা যাবে। প্রতিটি বিজ্ঞাপন দেখার মাধ্যমে অতিরিক্ত ভোট দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। উল্লেখ্য, তানজিয়া জামান মিথিলা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ‘ফ্লোরাব্যাংক মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’-এর মুকুট জেতেন। তিনি শুধু একজন মডেল ও অভিনেত্রী নন, বরং বাল্যবিবাহবিরোধী প্রচারণা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজের জন্যও পরিচিত। ২০২০ সালেও তিনি একই খেতাব অর্জন করেছিলেন, তবে করোনার কারণে আন্তর্জাতিক পর্বে অংশ নিতে পারেননি। এবার পুনরায় সেই স্বপ্নের মঞ্চে ফিরে এসে তিনি লিখছেন নতুন ইতিহাস ‘মিস ইউনিভার্স’-এর মঞ্চে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্যের গল্প!

সাদামাটা মানুষ ছিলেন রাজীব গম্ভীর ঝাঁজালো কণ্ঠ, রহস্যভরা চোখের চাহনি এবং বৈচিত্র্যময় অভিব্যক্তি-এই সমস্ত গুণই দর্শকের মনে উত্তেজনা আর ভয়ের মিশ্র অনুভূতি সৃষ্টি করত। ঢাকাই সিনেমার নিয়মিত দর্শকরা সহজেই চিনে যেতেন এই অভিনেতাকে- রাজীব, যার আসল নাম ওয়াসীমুল বারী রাজীব। ২০০৪ সালের ১৪ নভেম্বর ৫২ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চলে যান তিনি। আজ তার মৃত্যুর দুই দশক পূর্ণ হলো। পর্দায় খল চরিত্রে অভিনয় করলেও, বাস্তব জীবন ও ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজীব চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। পর্দায় খলনায়ক হলেও পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন মিশুক, হাস্যোজ্জ্বল এবং আড্ডাবাজ। তার সন্তানরা বর্তমানে ঢালিউডের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে গণমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তার ছেলে বলেছিলেন, “বাবা চলচ্চিত্র নিয়ে বাসায় কখনো কথা বলতেন না। পারিবারিক জীবন ও চলচ্চিত্রজগৎ তার জন্য আলাদা ছিল। খোলামনের একজন সাদামাটা মানুষ ছিলেন তিনি। রাজীবের ব্যক্তিগত জীবনও দৃষ্টিকর্ষণীয়। মার্শাল আর্টের ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলমের চাচাতো বোন ইসমত আরাকে বিয়ে করেন তিনি। জাহাঙ্গীর আলম এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “সিনেমায় দেখানো চরিত্রগুলো থেকে বিপরীত ছিলেন রাজীব। শুটিং সেটে কখনো উচ্চস্বরে বা চড়া মেজাজে কথা বলতেন না। অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮২ সালে কাজী হায়াতের ‘খোকন সোনা’ ছবির মাধ্যমে। ২২ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি চারশোরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। পর্দায় তার উপস্থিতি প্রমাণ করত যে, কোনো চরিত্রই ছোট বা বড় নয়- রাজীব নিজেই সেটিকে শক্তিশালী করে তুলতেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে আছে ‘দাঙ্গা’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘ভাত দে’, ‘জীবন দিয়ে ভালোবাসি’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘বুকের ভেতর আগুন’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বাবার আদেশ’ এবং ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। রাজীবের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল নিজস্ব ‘ছাপ’ রাখতে পারা। কোনো চরিত্র ততটা গভীরভাবে লেখা না থাকলেও, তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতায় সেটিকে দর্শকের মনে জীবন্ত করে তুলতেন। দর্শকরা প্রায়শই বলতেন, রাজীবের উপস্থিতিই ছবিকে অন্য মাত্রা দিত। সেই প্রভাব এতটাই দৃঢ় ছিল যে, তিনি উপস্থিত হলে শুটিং সেটেও অন্যদের মনোযোগ সহজে আকৃষ্ট করতেন। চলচ্চিত্রের বাইরে, রাজীব ছিলেন বন্ধুবৎসল, সহানুভূতিশীল এবং সহকর্মীদের প্রতি অত্যন্ত সহমর্মী। হাস্যোজ্জ্বল এবং খোলামেলা স্বভাব তাকে শুটিং সেটে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। চলচ্চিত্রের কড়া এবং কঠোর খলনায়ক চরিত্রের বাইরে তিনি ছিলেন একান্ত মানবিক এবং দয়া ময় মানুষ।অভিনয়জগতে তার অবদান কেবল চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য তিনি ছিলেন দৃষ্টান্ত। অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি, সততা এবং পেশাদারিত্ব-এই তিনটি গুণই রাজীবের কর্মজীবনের সঙ্গে মিশে ছিল। বয়স মাত্র ৫২ বছরে চলে গেলেও, ঢাকাই সিনেমার দর্শকরা আজও তার অভিনীত চরিত্রগুলো মনে ধরে রেখেছেন। যদি আরও দীর্ঘ জীবন হতো, রাজীব নিঃসন্দেহে আমাদের আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে চোখে পড়তেন। তার স্মৃতি ও অভিনয় ঢালিউডের ইতিহাসে চিরকাল অমর থেকে যাবে, আর ব্যক্তিত্বের মানবিক দিকও সবার মনে গেঁথে থাকবে।

হোটেল বয়ের চিঠি পেয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন দীঘি

হোটেল বয়ের চিঠি পেয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন দীঘি শিশুশিল্পী হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখেন অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। দূর দেশে হোটেল বয়ের চিঠি পেয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন এই অভিনেত্রী। দীঘি বর্তমানে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে একটি চিঠির ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন এই অভিনেত্রী। তাতে লেখা “আপু, আপনার সাথে দেখা করতে পারব?” নিচের অংশে ইংরেজি হরফে লেখো, “রুম অ্যাটেনডেন্ট। এ চিঠির ক্যাপশনে দীঘি লেখেন, “সকালবেলা হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় রিসেপশনে বলে গিয়েছিলাম আমার রুমটা যেন ক্লিন করে রাখে। অনেক হাঁটাহাঁটি করে দুই হাত ভর্তি শপিং করে রুমে ঢুকে দেখি আমার রুমে একটা ছোট চিরকুট রাখা। সম্ভবত যে রুম ক্লিন করেছিল, উনি বাঙালি। মুগ্ধতা প্রকাশ করে দীঘি লেখেন, “এই ডিজিটাল আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কেউ এইভাবে একটু দেখা করতে চাচ্ছে, ব্যাপারটা খুব মিষ্টি লাগল। এই নোটটার মাধ্যমে আবারো নতুন করে উপলদ্ধি করলাম ভালোবাসা এখনো চিঠিতে বসবাস করে। আর আমার এমন ভক্তদের জন্য এখনো নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছি। তাদের এই ভালোবাসাটা আজীবন চলমান থাকুক।

কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন শিল্পকলার মহাপরিচালক হলেন

কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন শিল্পকলার মহাপরিচালক হলেন আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আইন, ১৯৮৯ এর ধারা ৯(২) অনুযায়ী শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) অন্য কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মহাপরিচালকের পদ ছাড়েন লিয়াকত আলী লাকী। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর নাট্যনির্দেশক ও গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদকে দুই বছরের জন্য মহাপরিচালক করা হলেও তিনি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ৪ মার্চ একাডেমির সচিব মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক করা হয়। আর গত ১৪ সেপ্টেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই পদে পূর্ণ দায়িত্ব পেলেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। আশির দশকের আলোচিত কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্য-সচিব। কবিতায় অবদানের জন্য ২০০৬ সালে তাকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়।

‘হেরা ফেরির’ প্রযোজক কপিল শর্মার কাছে ২৫ কোটি ক্ষতিপূরণ চাইলেন

‘হেরা ফেরির’ প্রযোজক কপিল শর্মার কাছে ২৫ কোটি ক্ষতিপূরণ চাইলেন ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-এর সঞ্চালক কপিল শর্মা ফের খবরের শিরোনাম হচ্ছেন। নেটফ্লিক্সে প্রচার হওয়া তার শো-র একটি পর্বে জনপ্রিয় বলিউড সিনেমা ‘হেরা ফেরি’র চরিত্র ‘বাবুরাও’-এর চরিত্র অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। সে কারণে ২৫ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আর এ অভিযোগটি তুলেছেন ‘হেরা ফেরি’ সিনেমার প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা। তিনি উল্লেখ করে বলেছেন, ‘বাবুরাও’ শুধু একটি চরিত্র নয়, হেরা ফেরির মূল আকর্ষণ। পরিচালক বলেন, অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের অভিনয়ে চরিত্রটি ইতোমধ্যে তাদের পরিবারের মালিকানাধীন নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক। তাই অনুমতি ছাড়া এর ব্যবহার সরাসরি আইন ভঙ্গের শামিল বলে জানান নাদিয়াদওয়ালা। এ প্রসঙ্গে পরিচালকের আইনজীবী সানা রইস খান বলেন, এটি শুধু কপিরাইট লঙ্ঘন নয়, বরং স্পষ্ট চুরির ঘটনা। এ ছাড়া নেটফ্লিক্স ও অনুষ্ঠান নির্মাতাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়া, কনটেন্টটি সরিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন প্রযোজক। এর পাশাপাশি আরও অভিযোগ— ২৫ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে । তবে এ ঘটনায় এখনো কপিল শর্মা কিংবা নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংগীত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থহীন

সংগীত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থহীন   বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাস লিখতে গেলে প্রথম দিকে যে নামটি উচ্চারিত হবে, তা হলো অর্থহীন। নব্বই দশকে যাত্রা শুরু করা এই ব্যান্ড একসময় তরুণদের আবেগ, প্রতিবাদ আর স্বপ্নের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। ‘এপিটাফ’, ‘চাইতেই পারো’, ‘স্বপ্নগুলো তোমার মতো’, ‘তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে’, ‘যদি কোনোদিন’, ‘আমার প্রতিচ্ছবি’, ‘গাইব না’, ‘আমার গল্প’, ‘অদ্ভুত সেই ছেলেটি’, ‘গুটি’, ‘বোকা মানুষটা’র মতো গানগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে আন্দোলিত করেছে। সেই উজ্জ্বল পথচলার মাঝে হঠাৎ থেমে যায় তাদের সংগীতচর্চা। ব্যান্ডের প্রাণভোমরা সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন– সবাই যাঁকে ভালোবেসে বেজবাবা সুমন বলে ডাকেন– জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই শুরু করেন। ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ, একের পর এক অস্ত্রোপচার, বিদেশে দীর্ঘ চিকিৎসা– সব মিলিয়ে যেন অনিশ্চয়তার অন্ধকার নামল অর্থহীনের ওপর। ভক্তরা নতুন গান শুনতে পারছিল না, মঞ্চেও আর তেমন দেখা মিলত না ব্যান্ডটির। তবু সুমন হাল ছাড়েননি। বারবার ভেঙে পড়েছেন, আবার দাঁড়িয়েছেন। যেন ছাই থেকে উঠে আসা ফিনিক্স পাখির মতো প্রতিবার নতুন করে জন্ম নিয়েছেন তিনি। সেই জীবনের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছিল ২০২২ সালে প্রকাশিত অ্যালবাম ‘ফিনিক্সের ডায়েরি’তে। ছয় বছরের বিরতির পর প্রকাশিত এই অ্যালবামের আটটি গান শ্রোতার হৃদয় জয় করে নেয়। প্রতিটি গানেই ছিল বেদনা, সংগ্রাম, আবার আশার আলো; যেন দলটির নিজেদের জীবনের গল্পই উঠে এসেছিল সুর আর কথায়। এর পর থেকে ভক্তদের মনে প্রশ্ন, আবার কবে আসবে সেই ডায়েরির নতুন খণ্ড? সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে অবশেষে। ব্যান্ডটি জানিয়েছে, আসছে অক্টোবরেই প্রকাশ পাবে ‘ফিনিক্সের ডায়েরি-২’। দুই বছর আগে ফেসবুক লাইভে সুমন নিজেই দিয়েছিলেন ইঙ্গিত। সম্প্রতি ব্যান্ডটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয় এক রহস্যময় মোশন পোস্টার। সেখানে আগুনের ভেতর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে এক ফিনিক্স। হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণে তার সাদা ডানাগুলো আগুনে জ্বলে লাল হয়ে যায়। রক্ত ঝরে, যন্ত্রণা স্পষ্ট। তবু ফিনিক্স থামে না, সামনে এগিয়ে যায়। পোস্টারের শেষে ভেসে ওঠে একটি বাক্য– ‘জীবনে মাঝেমধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষটির সঙ্গেও ভালো কিছু ঘটে।’ এবার ঘোষণা এলো অ্যালবামটি ২০২৬ নয়, বরং ২০২৫ সালের অক্টোবরেই আসছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই অর্থহীনপ্রেমীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন। যদিও এখনও প্রকাশ করা হয়নি কটি গান থাকছে নতুন অ্যালবামে। অর্থহীনের আগের অ্যালবামগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি অ্যালবামই একেকটি সময়কে ধারণ করে। ২০১৬ সালে এসেছিল ‘ক্যান্সারের নিশিকাব্য’, যেখানে সুমনের অসুস্থতার ছায়া গভীরভাবে মিশে ছিল। ২০১৮ সালে ভক্তরা পেয়েছিল ‘কারণ তুমি অমানুষ’ নামে একক ট্র্যাক। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২০২২ সাল পর্যন্ত। তারপর এলো ‘ফিনিক্সের ডায়েরি’। এবার তারই ধারাবাহিকতায় ‘ফিনিক্সের ডায়েরি-২’। তাই তো অক্টোবরকে ঘিরে অর্থহীনের পরিকল্পনা শুধু অ্যালবামেই সীমাবদ্ধ নয়; একই মাসে তারা প্রথমবারের মতো সংগীত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের আকাঙ্ক্ষা ছিল, অর্থহীনকে বিদেশের মঞ্চে দেখা। সুমনের অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছিল না। এবার সব বাধা কাটিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়। সফর শুরু হবে ২৫ অক্টোবর, বোস্টন থেকে। এরপর ধারাবাহিকভাবে ১ নভেম্বর ভার্জিনিয়া, ২ নভেম্বর নিউইয়র্ক, ১৪ নভেম্বর হিউস্টন, ১৬ নভেম্বর ডালাস ও ২২ নভেম্বর ইন্ডিয়ানাতে গাইবেন তারা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আরও কিছু শহরে শো যোগ হতে পারে। পুরো সফরের আয়োজন করছে মিউজিক বাংলা ও ভেরিতাস ইভেন্টস। এই সফর অর্থহীনের জন্য যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ভক্তদের জন্যও বিশেষ। কারণ, প্রবাসীরা শুধু নতুন অ্যালবামের গানই নয়, বরং শুনতে পাবেন সেই চিরচেনা পুরোনো গানগুলো, যা একসময় তাদের কৈশোর-যৌবনের সঙ্গী ছিল। বর্তমানে অর্থহীনের লাইনআপ– সুমন (কণ্ঠ ও বেজ গিটার), মার্ক ডন (ড্রামস) ও এহতেশাম আলী (গিটার)। তিনজনের এই ছোট দলটিই এখন অর্থহীনের নতুন শক্তি।

হলিউড পরিচালক সমিতি সভাপতি হলেন অস্কারজয়ী নোলান

হলিউড পরিচালক সমিতি সভাপতি হলেন অস্কারজয়ী নোলান যে কোনো সমিতি ও গিল্ডের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের শোবিজে চলে উত্তেজনা, আলোচনা। বিশেষ করে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নানা সমিতির নির্বাচন ঘিরে সবারই কৌতুহল থাকে তুঙ্গে। সেই তুলনায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের শোবিজ রিলেটেড সংগঠনগুলো খুব একটা আলোচনায় আসে না। এই যেমন সম্প্রতি নির্বাচন হয়ে গেল হলিউডের পরিচালকদের গিল্ডে। আমেরিকার পরিচালক গিল্ডের (ডাইরেক্টর্স গিল্ড অব আমেরিকা) নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ক্রিস্টোফার নোলান। নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সমন্বয় নিয়েছেন ইউনিয়নের দায়িত্বে। অস্কারজয়ী নোলান তার প্রজন্মের অন্যতম সফল পরিচালক হিসেবে পরিচিত। তিনি গিল্ডের জাতীয় পরিচালকদের বোর্ডের সদস্য ছিলেন। তার পূর্বসূরি লেসলি লিঙ্কা গ্ল্যাটারের জায়গায় তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি টানা দুই মেয়াদে সভাপতিত্ব করেছেন। নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে গেল শনিবার রাতে। এতে ১৬৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নেন। ১৯,৫০০ জনেরও বেশি গিল্ড সদস্যে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি বাছাই করেছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচনে দুই বছরের জন্য সভাপতি হয়েছেন ক্রিস্টোফার নোলান। তার সঙ্গে জাতীয় সহ-সভাপতি পদে লরা বেলসি ও কোষাধ্যক্ষ পদে প্যারিস বার্কলে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। সংগঠনটিতে প্রথম সহ-সভাপতি পদে টড হল্যান্ড, দ্বিতীয় সহ-সভাপতি পদে রন হাওয়ার্ড, তৃতীয় সহ-সভাপতি পদে জিনা প্রিন্স-বাইদউড, চতুর্থ সহ-সভাপতি পদে সাইথ ম্যান, পঞ্চম সহ-সভাপতি পদে মিলিসেন্ট শেল্টন, ষষ্ঠ সহ-সভাপতি পদে লিলি অলসজেভস্কি ও সহকারী সচিব পদে জয়েস থমাস নির্বাচিত হয়েছেন। নোলান নির্বাচিত হওয়ার পর বলেন, ‌‘আমার পেশাগত জীবনের অন্যতম সেরা সম্মান এই নির্বাচনে সভাপতি হওয়ার সুযোগ পাওয়া। আমাদের শিল্পে বিশাল পরিবর্তন ঘটছে। এমন সময় সদস্যরা আমার উপর এই দায়িত্বে আস্থা রেখেছেন বলে আমি কৃতজ্ঞ। আমি প্রেসিডেন্ট গ্ল্যাটারের গত চার বছরের নেতৃত্বের জন্যও ধন্যবাদ জানাই। আশা করি নতুন নির্বাচিত বোর্ডের সঙ্গে মিলিত হয়ে আমাদের সদস্যদের সৃজনশীল ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারব। গত চার বছরে ডাইরেক্টর্স গিল্ড নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্যোগে সক্রিয় ছিল। তারা ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেমা ও টেলিভিশন কর প্রণোদনা সুবিধা গ্রহণ করা প্রযোজনার সেটে নিরাপত্তা পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করার জন্য পাইলট প্রকল্প প্রবর্তনের চেষ্টা করেছিল। এছাড়া গিল্ড ক্যালিফোর্নিয়ার কর সুবিধা সম্প্রসারণের জন্যও লবিং কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। চুক্তি আলোচনায় গিল্ড বিদেশি স্ট্রিমিংয়ের আয়ের অংশ সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ করেছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুতে ডাইরেক্টর্স গিল্ড প্রধান প্রযোজনা সংস্থা আলায়েন্স ফর মোশন পিকচার অ্যান্ড টেলিভিশন প্রডিউসার্সের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করবে। নোলানের নির্বাচন বিরল এক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রথম কোনো হাই প্রোফাইল নির্মাতা পেশাগত শীর্ষে থাকা অবস্থায় ইউনিয়নের নেতৃত্ব নিয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ের উপর সিনেমা পরিচালনায় তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন সুপারহিরো সিনেমা ‘ব্যাটম্যান বিগিনস’, ‘দ্য ডার্ক নাইট’, জটিল থ্রিলার ‘ইনসেপশন’, ‘মেমেন্টো’, ‘টেনেট’ এবং ঐতিহাসিক ‘ডাংকার্ক’, ‘অপেনহেইমার’ দিয়ে। ২০২৩ সালের ‘অপেনহেইমার’ সিনেমার জন্য দুটি অস্কার জয় করেন নোলান। নোলানের পরবর্তী বড় প্রকল্প ‘দ্য ওডিসি’। ধারণা করা হচ্ছে এই ছবিটিও বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলবে।

শাহরুখ বাদ শাকিবকে বেছে নিলেন হানিয়া আমির

শাহরুখ বাদ শাকিবকে বেছে নিলেন হানিয়া আমির পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির এখন ঢাকায়। গত কয়েক দিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। কখনো পথের ধারে দাঁড়িয়ে ফুচকা-ঝালমুড়ি খাচ্ছেন, আবার কখনো ঘুরে দেখছেন ঐতিহাসিক স্থাপনা। ঢাকায় এসে একেবারেই আপন করে নিয়েছেন শহরটিকে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থাপক সৌমিক আহমেদ তাকে মজার ছলে প্রশ্ন করেন—বলিউড কিং শাহরুখ খান না কি ঢালিউড কিং শাকিব খান, কাকে তার বেশি পছন্দ? উত্তরে হানিয়া হাসিমুখে বলেন, “আমার মনে হয়, তোমরা শাকিব খানকে অনেক বেশি পছন্দ করো, তাই আমারও পছন্দ শাকিব খান। এই উত্তর শুনে উপস্থিত দর্শকরা হাততালি আর উল্লাসে ভরিয়ে তোলেন হলরুম। এর আগে শুক্রবার ভোরে হানিয়া গিয়েছিলেন ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলে। সেখানে তিনি জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান দ্য ছোটভাইয়ের সঙ্গে একটি ভিডিও ভ্লগে অংশ নেন। ভ্লগের ফাঁকে ফুচকা, ঝালমুড়ির মতো স্থানীয় খাবার চেখে দেখেন এবং সেই অভিজ্ঞতায় দারুণ খুশি হন। ২০১৬ সালে কমেডি ঘরানার একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন হানিয়া আমির। একই বছর টেলিভিশন নাটক ‘ফির ওহি মহব্বতে’ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকদের নজরে আসেন। এই কাজের জন্য তিনি অর্জন করেন হাম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট টেলিভিশন সেনসেশন (ফিমেল) পুরস্কার। পরে ‘পারওয়াজ হ্যায় জুনুন’ এবং পাঞ্জাবি কমেডি ‘সরদারজি ৩’ চলচ্চিত্র তাকে বাণিজ্যিকভাবে বড় সাফল্য এনে দেয়। প্রাণবন্ত অভিনয় আর সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি দ্রুতই পাকিস্তান ও সীমান্তপারের দর্শকদের প্রিয় তারকায় পরিণত হন। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দারুণ জনপ্রিয় হানিয়া আমির। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ১৮.৯ মিলিয়নের বেশি। ফানি ভিডিও, নান্দনিক ছবি আর স্টাইলিশ লুক শেয়ার করে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে শুধু অভিনেত্রী নন, বরং ফ্যাশন আইকন ও অনুপ্রেরণার উৎস। ১৯৯৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন হানিয়া আমির। কয়েক বছরের মধ্যেই প্রতিভা, প্রাণশক্তি আর উচ্ছ্বল ব্যক্তিত্ব দিয়ে তিনি পাকিস্তান ছাড়িয়ে বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ভক্তদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।