খেজুরের গুড় শীতে কেন খাবেন

খেজুরের গুড় শীতে কেন খাবেন শীতের দারুণ একটি খাবার গুড়। কম বেশি সবার কাছেই এ গুড় অনেক পছন্দের। নানা ধরনের পিঠা কিংবা মিষ্টিজাতীয় কোনো খাবার বানাতে এ গুড়ের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন, শীতের এ গুড় নিয়মিত ১ চামচ খেলে শরীরে কেমন পরিবর্তন আসে? পুষ্টিবিদরা জানান, চিনির চেয়ে গুড় খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। আর নানা ধরনের গুড়ের মধ্যে খেজুর গুড়ের পুষ্টি অনেক বেশিই বলা যায়। খেজুর গুড়ে রয়েছে ফসফরাস, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়ামজাতীয় খনিজ উপাদান। যারা নিয়মিত এক চামচ গুড় খান, তারা পাবেন খেজুর গুড়ের নানান উপকারিতা। খেজুর গুড় ওজন কমাতে দারুণ কাজ করে। যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত ডায়েটে রাখতে পারেন এক চামচ খেজুর গুড়। খেজুর গুড় কোল্ড অ্যালার্জি থেকে অনেকটাই আপনাকে দূরে রাখে। রক্তাল্পতায় ভুগলেও খেতে পারেন খেজুর গুড়। কারণ, এই গুড় শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও খেতে পারেন এই গুড়। কাবোহাইড্রেট, আয়রন কিংবা গ্লুকোজের ঘাটতি হলেও খেজুরের গুড় শরীরে ভালো কাজ করে। গুড়ে থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কাজে লাগাতে পারেন সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও। কেন না, এই গুড় ত্বক সতেজ রাখে, পাশাপাশি ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমায়। শীতে শরীর গরম রাখতে কিংবা সর্দি-কাশি ও জ্বরের মতো রোগ থেকেও নিজেকে দূরে রাখতে খেতে পারেন খেজুরের গুড়। তবে খেয়াল রাখবেন, একমাত্র খাটি গুড় থেকেই এসব উপকারিতা আপনি পাবেন। ভেজাল গুড় খেলে শরীরে উপকারিতার চেয়ে অপকারিতাই বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আমাদের সময়

সিনেমা ‘লস্ট ল্যান্ড’ রেড সি উৎসবে সেরা পুরস্কার জিতল

সিনেমা ‘লস্ট ল্যান্ড’ রেড সি উৎসবে সেরা পুরস্কার জিতল সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সর্বোচ্চ সম্মান ‘গোল্ডেন ইউসর’ জিতেছে রোহিঙ্গা ভাষার চলচ্চিত্র ‘লস্ট ল্যান্ড’। জাপানি নির্মাতা আকিও ফুজিমোতো পরিচালিত এই ছবিটি সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এক ঝলমলে আয়োজনে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ‘গোল্ডেন ইউসর’ পুরস্কারের সঙ্গে নির্মাতা ফুজিমোতো নগদ ১ লাখ ডলার প্রাইজমানি লাভ করেছেন। রোহিঙ্গা ভাষায় নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘লস্ট ল্যান্ড’-এ মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শিশুদের জীবন-সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। ছবিতে দেখানো হয়, চার বছর বয়সী শাফি এবং তার নয় বছর বয়সী বোন সোমিরা কীভাবে বাংলাদেশে থাকা শরণার্থী ক্যাম্প ছেড়ে মালয়েশিয়ায় পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছানোর জন্য জীবন-মরণ ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করে। গোল্ডেন ইউসর প্রদানকালে জুরি প্রধান শন বেকার বলেন, ‘চলচ্চিত্রটি বাস্তুচ্যুত শিশুদের দুর্দশাকে অসাধারণ মানবিকতা ও কবিত্বপূর্ণ তাগিদে তুলে ধরেছে। রেড সি ফেস্টিভ্যালের আগে থেকেই সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছিল। এ বছরের ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের হরাইজনস বিভাগে এর বিশ্ব প্রিমিয়ার হয় এবং ছবিটি সেখানে বিশেষ জুরি পুরস্কার জেতে। এছাড়াও, এ বছর এটি এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসে জুরি গ্র্যান্ড প্রাইজ লাভ করে।

আউটলুক ইন্ডিয়ার চোখে বছরের সেরা ৫ নারী চরিত্র

আউটলুক ইন্ডিয়ার চোখে বছরের সেরা ৫ নারী চরিত্র   ভারতীয় চলচ্চিত্রে নারীকেন্দ্রিক গল্প এখন আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। বলা যায়, চলতি বছরে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট। গল্পভিত্তিক ছবি, হরর, থ্রিলার, ফেমিনিস্ট ড্রামা এমনকি সুপারহিরোর চরিত্রও এখন নারীশিল্পীদের হাতে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় গণমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়া বেছে নিয়েছে বছরের নারী অভিনয়শিল্পীদের পাঁচটি সেরা চরিত্র। ১. মোনিকা পানওয়ার, ‘খাউফ’, ‘নিশাঞ্চি ১’ ও ‘নিশাঞ্চি ২’ ২০২৫ সাল এক লাফে মোনিকা পানওয়ারকে শীর্ষ সারিতে নিয়ে গেছে। ‘খাউফ’ সিনেমায় মধু চরিত্রে তিনি সামলেছেন নারীবিদ্বেষ, অতিপ্রাকৃত ভয় ও নারীদের ঐক্যের শক্তি সবই অনায়াস স্বাভাবিকতায়। আবার ‘নিশাঞ্চি’ সিরিজে মঞ্জরী হয়ে হাজির হয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে শোকাহত অথচ প্রজ্ঞাবান এক মাতৃতান্ত্রিক চরিত্র, যিনি বুদ্ধি ও কর্তৃত্বে নিজের পৃথিবী চালান। এক বছরের মধ্যে এমন বৈচিত্র্য খুব কম অভিনেত্রীই দেখাতে পারেন। ২. কাল্যাণী প্রিয়দর্শিনী, ‘লোকাহ: চ্যাপ্টার ১’ এই সিনেমা কাল্যাণীর অভিনয়ভাবমূর্তি পাল্টে দিয়েছে। পৌরাণিক সুপারহিরো ও ধারালো ভ্যাম্পায়ারের দ্বৈত চরিত্রে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সহিংসতা ও নৈতিক সংকটে ভরা এক জগতে। চরিত্রটি ধারণ করেছেন এমন আত্মবিশ্বাসে যে তাঁর অভিনয়গ্রাফ আরও উঁচুতে উঠে গেছে। তীব্রতা আর কোমলতার মেলবন্ধন এই চরিত্রকে কেবল ‘কস্টিউমড হিরোইন’ নয়, বরং এক পরিণত অভিনেত্রীর শক্ত প্রমাণে দাঁড় করিয়েছে। ৩. তৃপ্তি দিমরি, ‘ধড়ক ২’ ‘ধড়ক ২’-এ তৃপ্তি দিমরি নারীর সাহস, কষ্ট ও মর্যাদার লড়াইকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন আন্তঃবর্ণ প্রেমের গল্পে। পূর্বসূরি চলচ্চিত্রকে সম্মান জানিয়ে এই সংস্করণটি এসেছে আরও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। বিদ্ধি চরিত্রের শান্ত দৃঢ়তা ও অন্তর্নিহিত শক্তি ছবিটিকে স্মরণীয় করে তোলে। ৪. রাশমিকা মন্দানা, ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ রাশমিকা অভিনীত ভূমা দেবী ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী। তাঁর সরলতা কোনও দুর্বলতা নয়; বরং সেই সরলতাকেই ব্যবহার করে বিক্রম তাঁর আত্মপরিচয়ে আঘাত হানে। সেখান থেকেই শুরু হয় ভূমার আত্মোন্মোচন ও পুনর্গঠনের যাত্রা। গল্পটি সচেতনভাবেই ‘অ্যানিমাল’ বা ‘কবীর সিং’-এর মতো অতিপুরুষ-নির্ভর প্রবণতার বিপরীত এখানে গুরুত্ব পেয়েছে দায়বদ্ধতা, অনুভূতি ও ব্যক্তিগত পুনরুদ্ধার। ৫. অঞ্জলি শিবরামন, ‘ব্যাড গার্ল’ এই সিনেমায় রামিয়া চরিত্রে এক বিদ্রোহী, কল্পনাপ্রবণ তরুণীর ভূমিকায় দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন অঞ্জলি শিবরামন। স্বাধীনতা, প্রেম, ব্যর্থতা ও বড় হয়ে ওঠার টানাপোড়েনকে তিনি রঙিন, বেদনাময় ও গভীর মানবিকতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। ছবির সঙ্গীতেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য যা তাঁকে বছরের অন্যতম ব্যতিক্রমী শিল্পী হিসেবে তুলে ধরেছে।

বোনের বিস্ফোরক মন্তব্য ডিপজলকে নিয়ে

বোনের বিস্ফোরক মন্তব্য ডিপজলকে নিয়ে   ঢালিউড সিনেমার জনপ্রিয় খল-অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল এলাকাবাসীর কাছে ‘দানবীর’ খেতাব পেলেও তার বিরুদ্ধে পারিবারিক পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে তার তিন বোনের অভিযোগ ওঠে। পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ এনেছেন অভিনেতার বোনেরা। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক মাধ্যমে এটাকে ‘মিথ্যা অপবাদ’ দাবি করে ডিপজল লিখেছেন আল্লাহই সবকিছুর উত্তম বিচারক। যদি আইন অনুযায়ী তারা মালিক হোন, তবে তাদের প্রাপ্য অংশ অবশ্যই তারা পাবেন। এ খল-অভিনেতার ফেসবুক পোস্টের পর তার বোন পারভীন বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বাবা অনেক প্রোপার্টি রেখে গেছেন। তারা তিন ভাই তিনতলায় থাকে। আমার মাকে নিচতলায় আন্ডারগ্রাউন্ডে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কাজের মেয়ে যা রান্না করে দিত, তা খাইত। পারভীন বেগম আরও বলেন, আমার ভাইয়েরা একই বাড়িতে থাকে তিনতলা, চারতলা ও পাঁচতলায়। কখনো কি তাদের বাসা থেকে আমার মায়ের জন্য ভাত দিছে? দেয়নি। আমার তিন ভাইয়ের এক ভাইও বলতে পারবে না আমার মাকে ভাত খাওয়াইছে। তিনি বলেন, আপনারা জিজ্ঞাসা করবেন আপনার মা ছিল কোন ফ্ল্যাটে? আপনি এত মা ভক্ত, আপনি কি আপনার মাকে ফ্ল্যাটে ঢুকাইতে পারছেন? মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনার মা কোথায় ছিল, কোন রুমে আপনার মা মারা গেছে? তিনি আরও বলেন, যে ভাই মায়ের জানাজার পড়ে না, ওই ভাই বোনদের দেখবে? সেই ভাই কোনো দিন বোনদের হক ন্যায্যভাবে দেবে? এটা আশা করা যা-ই না। পারভীন বলেন, আমরা ডিপজল ভাইয়ের অংশ চাই না। বাবার অংশ যতটুকু পাই, সেটি চাই। যেগুলো সে করেছে তো করেছেই। তিন ভাই ৪০ বছর ধরে আমার বাবার টাকা খেয়েছে, ওটা নিয়ে আমরা একটা মামলা দিয়েছি। ওটা কোর্ট বুঝবে। দুই হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মাসাৎ উল্লেখ করে ডিপজলের বোন বলেন, বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, মোট সম্পত্তি আনুমানিক পাঁচ হাজার কোটি টাকা ধরেছি। তিন ভাইয়ের তিন হাজার কোটি। আমাদের চার বোনের দুই হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি। অর্থাৎ প্রতিজনের ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি। পারভীন বেগম বলেন, আমি কী ৫০০ কোটি টাকা সম্পত্তি ভাইদের নামে লিখে দেব? ভুয়া দলিল দেখিয়ে বলছে— বোনেরা লিখে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এত পাগল না যে, টিপসই দিয়ে তাদের লিখে দেব। আমাদের চার বোনের দুই হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি তার কাছে। এই ৪০ বছর সম্পত্তি বাবদ কোত্থেকে কত ভাড়া নিয়েছে, আমাদের জানা আছে বলেও জানিয়েছেন ডিপজলের বোন।

বিজয়ের মাসে বড়পর্দায় জয়ার সিনেমা

বিজয়ের মাসে বড়পর্দায় জয়ার সিনেমা বিজয়ের মাসে বড়পর্দায় জয়া আহসান অভিনীত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘নকশী কাঁথার জমিন’ দেখার সুযোগ! দুই বোনের ভালোবাসা, ত্যাগ আর জীবনের টানাপোড়েনের গল্প নিয়ে সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ‘খাঁচা’ খ্যাত নির্মাতা আকরাম খান। মাটির মানুষ আর মনের গল্পে বোনা এক নকশী কাঁথার স্পর্শ পাওয়া যাবে সিনেমায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ দুই বোনের জীবনে যে করুণ পরিণতি নিয়ে আসে তারই আখ্যান ‘নকশীকাঁথার জমিন’। সিনেমাটি গত অক্টোবর থেকে স্ট্রিমিং হচ্ছে দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্লাটফর্ম আইস্ক্রিনে। কিন্তু বিজয়ের মাসে সিনেমাটি আবারও বড়পর্দায় দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। ‘নকশী কাঁথার জমিন’ র একটি ইভেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন জয়া আহসান। সেখান থেকে জানা যায়, আগামী ২০ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টায় রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে সিনেমাটি দেখানো হবে। বিশেষ এই প্রদর্শনী দেখার আহ্বান জানিয়ে ওই ইভেন্টে বলা হয়, লাখো বাঙালির জীবন দিয়ে অর্জিত মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের স্মরণে হাসান আজিজুল হক রচিত বিধবাদের কথা অবলম্বনে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক আকরাম খান নির্মিত ‘নকশীকাঁথার জমিন’ চলচ্চিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী। এই বিশেষ প্রদর্শনীর জন্য হল ভাড়া এবং আবশ্যিক ইউটিলিটি বিলের খরচ নির্বাহের উদ্দেশ্যে সর্বনিম্ন টিকেট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ছাত্র-ছাত্রী ১৫০ টাকা এবং পেশাজীবী ২০০ টাকা। আসন নিশ্চিত করতে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতেও অনুরোধ জানানো হয়। মুক্তিযুদ্ধে সব হারানো দুই বোন রাহেলা ও সালেহা তাদের এক জীবনের আখ্যানের নকশা তোলে নকশী কাঁথার জমিনে। কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ‘বিধবাদের কথা’ গল্প অবলম্বনে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা তুলে আনা হয়েছে এই সিনেমায়। সিনেমায় দুই বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও ফারিহা শামস সেঁওতি। এ ছাড়াও সিনেমাটিতে দুই ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরেশ যাকের ও রওনক হাসান। তা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ আরও দুই চরিত্রে আছেন দুই ভাই দিব্য জ্যোতি ও সৌম্য জ্যোতি।

অন্য সেলিব্রিটিদের মতো সব আমলের ক্রিম খাই না আসিফ

অন্য সেলিব্রিটিদের মতো সব আমলের ক্রিম খাই না আসিফ   জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। গানের মানুষ হলেও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী। কয়েক দিন আগে একটি টিভি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। এ আলাপচারিতায় শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে কথা বলেন আসিফ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক আসিফের একটি লেখা উল্লেখ করেন। সঞ্চালক বলেন, “আপনার ছোট একটা লেখার কথা মনে আছে। যেখানে আপনি লিখেছিলেন‘আমি উট পাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে, অন্য সেলিব্রিটিদের মতো সব আমলের ক্রিম খাই না, সম্ভবও না। এই দেশের অনেক সেলিব্রিটি।” সঞ্চালকের কথা শেষ হওয়ার আগেই আসিফ আকবর বলেন, “অনেক না, প্রায় শতভাগ সেলিব্রিটি ক্রিমখোর। এটা নিঃসন্দেহে। কিছু আছে পাগলছাগল। তারা কাউরে গোনে না, চিনেও না, এটা ভালো। ব্যাখ্যা করে আসিফ আকবর বলেন, “কিন্তু পলিটিক্যাল বেনিফিট। ‘আই অ্যাম নট পলিটিশিয়ান, অ্যাই ডোন্ট লাইক পলিটিকস, আই হেট পলিটিকস’ এসব বলেন তারা। একটু আগে যে নায়কের কথা বললে। আমাদের লম্বা চুলের হিরো। সে কোথায় যায় না, সব জায়গায় তেল মারে। আমার কাছে ছবিও আছে। তাদের নৈতিকতা তাদের কাছে। কিন্তু আমার স্টাইল হলো আমি ভেঙে যাব, তবু মছকাব না। নৈতিক-আদর্শিক ইস্যুকে মেইনটেইন করতে হবে। সঞ্চালকের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে আসিফ আকবর বলেন, “একটা জীবনে তুমি কী চাও? তোমার ভালো কাজ নিয়ে চর্চাই তো হবে! খারাপ কাজ তো বেশি দিন টিকবে না। খারাপ কাজ নিয়ে মানুষ আলাপ করবে না। মৃত্যুর পর খোঁজে খোঁজে তোমার ভালো কাজ নিয়ে মানুষ আলাপ করবে। মৃত্যুর জন্যই আমাদের অপেক্ষা করতে হয় এবং মৃত্যুর পরে যে চর্চা হয় সেটাই আসল চর্চা। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আসিফ আকবর বলেন, “সোশ্যাল সাইট আসার পর থেকে তো একটা অস্থিরতা চলছে। বিষয়টা এমন যে, একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মালিক মানে, একটা টিভি চ্যানেলের মালিক। সুতরাং মানুষ বলতেই থাকবে। কিন্তু তুমি কে, তুমি কী, তুমি কীভাবে চলছো, কোথায় তোমাকে থামতে হবে—এটা ‘নো দাই সেলফ’ অর্থাৎ নিজেকে চেনা। নিজেকে চেনার ব্যাপারটা আমার জন্য যথেষ্ট আছে। আমি যদি ভুল করি, দ্রুত তা সংশোধন করে ফেলি। এটা নিজে থেকে করে ফেলি। আর যেটা ভুল না, সেটা নিয়ে এক জীবন পার করব। কারণ আমি জানি এটা ভুল না। একসময় তোমাকে এখানে আসতেই হবে। বলেন আসিফ আকবর।

মিথিলা আমাকে এভাবেই বোকা বানায় সৃজিত

মিথিলা আমাকে এভাবেই বোকা বানায় সৃজিত বেশ অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যায়, সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছে না অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা ও পার বাংলার পরিচালক সৃজিত মুখার্জির। এমনকি তার বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন এমন গুঞ্জনও চাউর হয়। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সব জল্পনাকেই যেন উল্টে দিলেন মিথিলা। এই মুহূর্তে সৃজিতের সঙ্গে মুম্বাইয়ে অবস্থান করছেন মিথিলা। কবে কখন গিয়েছেন, তা স্পষ্ট না হলেও এক সংবাদ মাধ্যমের বরাতেই খবরটি সামনে এসেছে। সাক্ষাৎকারে মিথিলা বলেন, “এরকম হয়েছে যে ওর (সৃজিতের) অনেক ফ্যামিলি মেম্বারের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি; এবার দেখা হলো। আমরা বেড়াতে গিয়েছি, আইরার (মেয়ে) সঙ্গে পরিচয় হলো সবাই। গতবছর আমাদের শেষ দেখা হয়েছে, এরপর আর দেখা হয়নি। তো এবার একসঙ্গে হইচই করলাম। ওরকম খুব ঘুরে বেড়ানো হয়নি। মিথিলা আরও বলেন, “এখনও বোম্বেতে কিচ্ছু দেখিনি। আমি বলেছিলাম, গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া আছে তো সিনেমায় দেখা যায়, সৃজিতকে বললাম, ‘আমাকে প্লিজ সেটা দেখাও।’ তখন বলল, ‘ওটা এখন বন্ধ, ঢেকে রেখেছে কাপড় দিয়ে।’ আমি ভাবলাম, এটা কি ভুল ভাবছি! এটা তো অনেক বড়! কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায়? সবসময়ই সৃজিত আমাকে এভাবে বোকা বানায়। কথাগুলো এত সিরিয়াস চেহারা নিয়ে বলে যে… পরে আমি গুগল করলাম, দেখলাম, এত বড় স্থাপনা কীভাবে ঢেকে রাখা যায়! এরপর ওই আরকি। সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে মিথিলার বিচ্ছেদের গুঞ্জন দীর্ঘদিন চলছিল। তাদের বিচ্ছেদের খবর নেটমাধ্যমে ছড়ালে পরে মিথিলা এক পডকাস্টে কৌশলী মন্তব্য করে আলোচনায় চলে এসেছিলেন। সেই সময় মিথিলা বলেছিলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত আমি কলকাতা যাইনি, আমার ভিসা নেই।” সঞ্চালক সরাসরি জানতে চাইলে, সৃজিত এখনও তার স্বামী কি না, মিথিলা রহস্য রেখে বলেছিলেন, “এটা তো যারা বলছে তারা বলছে, আমি কিছুই বলব না।” তবে স্বামী সম্পর্কিত প্রশ্নে যোগ করেন, “হ্যাঁ, পাসপোর্টে তার নামও রয়েছে।

রাতের খাবারের কতক্ষণ পর ঘুমানো উচিত?

রাতের খাবারের কতক্ষণ পর ঘুমানো উচিত?   রাতের খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়া শরীরের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ধীরে ধীরে এতে নানা জটিল অসুখ দেখা দিতে পারে। বদহজম, বুকজ্বালা, অ্যাসিডিটি, অতিরিক্ত ওজন এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই রাতে খাওয়া ও ঘুমের মাঝে ঠিক কতটা বিরতি রাখা প্রয়োজন, তা জানা খুবই জরুরি। হজমে সমস্যা: খাওয়ার পরই শুয়ে পড়লে প্রথমেই ক্ষতি হয় হজমশক্তির। ঘুমের সময় খাবার ঠিকমতো ভাঙতে শরীরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। নিউট্রিশনিস্ট রূপালী দত্তের মতে, খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে গেলে খাবার ধীরে হজম হয় এবং অন্ত্রে সঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে না। ফলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা দেখা দেয়। আবার ঘুমও ঠিকমতো হয় না, আর ঘুম কম হলে ওজন বাড়তে থাকে। ঘুমে ব্যাঘাত: ঘুমানোর কিছুক্ষণ আগে খাবার খেলে ঘুমের মান নষ্ট হয়। বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে শরীরে বাড়তি এনার্জি তৈরি হয়, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। ওজন বৃদ্ধি: ধীর হজম ও খারাপ ঘুম দুটিই ওজন বাড়ার প্রধান কারণ। দিনের শেষে মেটাবলিজম ধীরে চলে, ফলে তখন খাওয়া ক্যালরি সহজে বার্ন হয় না। শরীর সূর্যের কার্যক্রমের ছন্দে কাজ করে, তাই তাড়াতাড়ি খেলে পুষ্টিগুণ ভালোভাবে শোষিত হয়। কিন্তু দেরি করে খেলে সেই পুষ্টিগুণ ঠিকমতো না মেটাবলাইজ হয়ে শরীরে চর্বি হিসেবে জমে। বুকজ্বালা ও অ্যাসিডিটি: খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে বুকজ্বালা আরও বেড়ে যায়। পেটে চাপ পড়ার ফলে অস্বস্তি ও অ্যাসিডিটি বাড়ে। গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, অ্যাসিডিটি থেকে স্লিপ অ্যাপনিয়া হতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। বদহজম থেকে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপও বেড়ে যায় যা হার্টের জন্য ক্ষতিকর। খাওয়া ও ঘুমের মধ্যে কতক্ষণ বিরতি রাখা উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের খাবার ও ঘুমের মধ্যে অন্তত ৩ ঘণ্টা বিরতি রাখা ভালো। এতে বদহজম, বুকজ্বালা এবং ঘুমের সমস্যা কমে। ভরা পেটে ঘুমালে মেটাবলিজম শ্লথ হয়ে যায়, ফলে ওজন বাড়া ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে।

পোশাকে বিজয়ের লাল-সবুজ

পোশাকে বিজয়ের লাল-সবুজ পোশাকে চেতনা ধারণ করার ভাবনাটি নতুন নয়। দুটি রঙের মিশেলে দেশের জন্য ভাবনাকে ফুটিয়ে তুলতে পারা যায় অনায়াসে। তবে পোশাকের নকশা, কাট, ডিজাইন যেমনই হোক, লাল-সবুজ মানেই একটি চেতনা। সব পরিচয় ছাপিয়ে যেখানে বড় হয়ে ওঠে নিজেদের বাংলাদেশি পরিচয়টাই। তাই প্রতিবারের মতো এবারও দেশীয় হাউসগুলো সেজেছে লাল-সবুজে। বিস্তারিত লিখছেন নিশাত তানিয়া লাল-সবুজ রঙটি আজও আমাদের চেতনার প্রতীক, বলছিলেন রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার সৌমিক দাশ। এবারও তারা আয়োজন করেছেন বিজয় উৎসবের। এবারের থিম মানচিত্র, পতাকা ও জাতীয় সংগীত। তিনি আরও বলেন, লাল ও সবুজের সমন্বয়ে প্রতিটি পোশাক যেন কথা বলে আত্মবিশ্বাসের, গর্বের, স্বাধীনতার। কটন হাইব্রিড, জ্যাকেট কটনের আরামদায়ক পোশাক রেখেছেন তারা যে কোনো বয়সের ক্রেতাদের জন্য। স্কিন আর ডিজিটাল প্রিন্টের কাজে প্রতিটিতে থাকছে নানন্দিকতার ছোঁয়া। বাংলাদেশের উৎসব আর দিবসভিত্তিক পোশাকে বিজয় দিবস উল্লেখযোগ্য। তাই তো ফ্যাশন হাউসগুলোর ভাবনায় একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে সময়োপযোগী করার তাগিদ থাকে প্রতিটি বিজয় উৎসবেই। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। বরাবরই ফ্যাশন হাউসগুলো নতুন প্রজন্মকে পোশাকের দিক থেকে করেছে স্বদেশমুখী। তাদের ডিজাইনের একটা বড় অংশজুড়ে রয়েছে দেশাত্মবোধের চেতনা। এবারের বিজয় দিবসে লাল-সবুজের প্রত্যয়ে আবারও সে চেষ্টাই চলছে। মূলত ফ্যাশনের ধারাটা সময়কে ধারণ করে। ফ্যাশন হাউসগুলো ঘুরে দেখা গেল বিজয় দিবস উপলক্ষে ডিজাইন করা শাড়িতে জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রঙের পাশাপাশি আছে কালো, সাদা ও কমলারও নিপুণ সমন্বয়। ফ্যাব্রিক হিসেবে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে ক্রেপ সিল্ক ও হ্যান্ডলুম কটন বা হাতে বোনা সুতি কাপড়। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় এখন ফ্যাশন স্টাইলের অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এ ফ্যাশন-স্টাইলে উৎসবী আমেজ থাকলেও তার থেকে বেশি থাকে দেশাত্মবোধ তথা দেশপ্রেম। আর সে কারণেই বিজয়, স্বাধীনতা কিংবা ভাষা দিবসের ফ্যাশনের প্রথম চিত্রকল্প হিসেবে পোশাকে, শোপিসে কিংবা গহনায় উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের স্থিরচিত্রের চিত্রকর্ম, ’৭১-এর আত্মত্যাগের বাঙালি ধরনটা যেমন হৃদয়ছোঁয়া, মর্মস্পর্শী, আবেগঘন; তেমনি আনন্দময়তার রেশটাও কম নয়। আর এ ফ্যাশন বোধের মর্মকথাটা চিত্রে ও কবিতার পঙ্্ক্তির মাধ্যমে পোশাকে উৎকীর্ণ করার সফল প্রয়াসটা প্রতিবছরের এ বিশেষ দিনগুলোতে করে থাকেন প্রতিষ্ঠিত হাউসগুলোর পক্ষে নিজ নিজ ডিজাইনাররা। এবারের বিজয় দিবসও এর ব্যতিক্রম নয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ডাকটিকিট, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কবিতা, ছবি, আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা ও স্মৃতিসৌধ এবারের আয়োজনের অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আমাদের পতাকার রঙ লাল ও সবুজ রঙ পোশাক ডিজাইনে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এবারের আয়োজনে শাড়ি, পাঞ্জাবি, মেয়েদের টপস, সালোয়ার-কামিজ, টি-শার্ট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি, শাড়ি, টি-শার্ট, সালোয়ার-কামিজ ইত্যাদি। মহান বিজয়ের এই দিনটি সুন্দরভাবে উদযাপন করার জন্য পোশাকগুলোর মূল্যও তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে।’ শীতের আগমনে এ আয়োজনে বিজয় দিবসে কিছুটা ভিন্নতা আনা হয়েছে। পোশাকগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে মোটা সুতি ও খাদি কাপড়। শাড়ি, থ্রিপিস, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, ছেলেমেয়েদের কুর্তা, টি-শার্ট ইত্যাদিতে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশ লেখা এবং লাল-সবুজ রঙের মাধ্যমে উঠে এসেছে দেশীয় ভাবনা। পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান এসেছে ডিজাইনের অনুষঙ্গ হিসেবে। কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে টাইডাই, ব্লক, বাটিক, অ্যাপলিক, ক্যাটওয়াক, স্ক্রিনপ্রিন্ট ইত্যাদি। আর পোশাকের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই। দেশপ্রেমের চেতনা ধারণ করে এগিয়ে চলার আত্মপ্রত্যয়ে আপনিও যদি এমন পোশাক পরতে চান, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো থেকে। রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের বিভিন্ন শোরুমে পাবেন এমন পোশাকের খোঁজ। অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটার সুযোগও রয়েছে। চাইলে বানিয়েও নিতে পারেন নিজের পছন্দমতো পোশাক। বিজয় দিবস থিমে আপনার পোশাকটির মূল রঙ হতে পারে সবুজ; বুকে থাকতে পারে লাল নকশা, এমনকি পতাকার লাল বৃত্তটাই। পোশাকের হাতা আর কলারে থাকতে পারে লাল রঙের ব্যবহার। আবার মূল রঙ লাল রেখে সবুজের বৈচিত্র্যময় ব্যবহারও হতে পারে। চাইলে এই রঙের ভিন্নতাটুকু অ্যাপ্লিকের কাজ দিয়েও করিয়ে নিতে পারেন পোশাকে। থাকতে পারে দেশের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো পঙ্ক্তি। জাতীয় সংগীতের লাইন, একাত্তরে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে ওঠা জর্জ হ্যারিসনের গানের লাইনও লেখা আছে বাজারের কিছু পোশাকে। নারীরা চাইলে লাল রঙের কো-অর্ডের সঙ্গে সবুজ শাল পরতে পারেন কিংবা সবুজ কো-অর্ডের সঙ্গে টকটকে লাল ওড়না বা কটি। আর ব্যান্ডানা তো পথেও বিক্রি করেন পতাকার ফেরিওয়ালারা। পোশাক কিংবা অনুষঙ্গে লাল-সবুজের পরশ রাখা যায় নানাভাবেই। লাল-সবুজের চেতনা অন্তরে নিয়েই হোক সবার পথচলা।

পাঁচ দিনে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার আয় ৩০৬ কোটি টাকা

পাঁচ দিনে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার আয় ৩০৬ কোটি টাকা বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংয়ের নতুন সিনেমা ‘ধুরন্ধর’। লাদাখে শুটিং করতে গিয়ে সিনেমাটির শতাধিক ক্রু সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন, ট্রেইলার মুক্তির পর রণবীরের মারকাটারি উপস্থিতিও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ফলে আদিত্য ধর নির্মিত এ সিনেমার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন সিনেমাপ্রেমীরা। অপেক্ষার ইতি টেনে সিনেমাটি নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে হাজির হয়েছেন রণবীর সিং। গত ৫ ডিসেম্বর ৪ হাজার পর্দায় মুক্তি পায় এটি। চলতি বছরে রণবীর সিংয়ের এটিই প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। প্রিয় তারকার সিনেমার জন্য বছরজুড়ে অপেক্ষায় ছিলেন রণবীরের ভক্ত-অনুরাগীরা। বছর শেষে পর্দায় এসে ভক্তদের হতাশ করেননি এই তারকা। চলচ্চিত্র সমালোচক, বক্স অফিস রিপোর্ট অন্তত তেমনই খবর দিয়েছে। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার রেণুকা ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার রেটিং পাঁচে সাড়ে তিন দিয়েছেন। ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাকে ‘শক্তিশালী করাচি মাফিয়া থ্রিলার’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তার মতে, “সিনেমাটির প্রধান অভিনেতা রণবীর সিং ‘সংযত কিন্তু জ্বলন্ত’ পারফরম্যান্স করেছেন; যা চলচ্চিত্রের সামগ্রিক প্রভাবকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে। সিনেমাটি প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের হলেও বিরক্তিকর মনে হয়নি। কারণ এতে রয়েছে ‘স্টাইলিশ, নিবিড় গাঁথুনির গল্প। আর নির্মাণশৈলী বিশ্বমানের। হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি পাঁচে রেটিং দিয়েছেন ৩। ‘দীর্ঘ কিন্তু উপাদানে ভরপুর স্পাই ড্রামা’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। রণবীর সিং ও অক্ষয় খান্নার অভিনয়, পাশাপাশি পরিচালক আদিত্য ধরের কাজের প্রশংসা করেছেন। তবে সমালোচক রেণুকার সঙ্গে খানিকটা দ্বিমত পোষণ করেছেন ঋষভ। কারণ চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য অতিরিক্ত ও উপ-কাহিনি কম বলে বর্ণনা করেছেন এই সমালোচক। এনডিটিভির রাধিকা শর্মা পাঁচে রেটিং দিয়েছেন ৩। অভিনয়শিল্পীদের পারফরম্যান্স ও সাউন্ডট্র্যাকের প্রশংসা করেছেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের সমালোচনা করে সিনেমাটিকে ‘একেবারে ভিন্ন আরেকটি চলচ্চিত্রের মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন রাধিকা। পিঙ্কভিলার গায়ত্রী নির্মল চলচ্চিত্রটিকে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন ৪। তিনি চলচ্চিত্রটির দ্বিতীয়ার্ধ, চিত্রনাট্য, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের প্রশংসা করেছেন। যদিও চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন রাধিকা। বক্স অফিসে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার শুরুটা মন্দ হয়নি। বলি মুভি রিভিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বলিউডের ৪৪টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া সিনেমার শীর্ষে রয়েছে ‘ছাবা’ (২৯ কোটি রুপি)। এ তালিকার চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমা। মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটি আয় করেছে ২৪ কোটি রুপি (নিট), দ্বিতীয় দিনে আয় করেছে ৩০ কোটি রুপি (নিট), তৃতীয় দিনে আয় করে ৩৭ কোটি রুপি (নিট), চতুর্থ দিনে আয় করে ২১ কোটি রুপি (নিট), পঞ্চম দিনে আয় করে ২৪ কোটি রুপি (নিট)। পাঁচ দিনে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৯৭.৮৮ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৬৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। তবে স্যাকনিল্কের তথ্য অনুসারে, ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার আয় খানিকটা বেশি। মুক্তির পাঁচ দিনে শুধু ভারতে আয় করেছে ১৮২.৭৫ কোটি রুপি (গ্রস)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২২৪.৭৫ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা)। ভারতীয় একজন গুপ্তচরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রণবীর সিং। পাকিস্তানের লিয়ারি শহরের ভেতরে ঢুকে অপারেশন চালান তিনি। সত্য-মিথের সীমানা মিলিয়ে সিনেমাটিতে উঠে এসেছে বাস্তব চরিত্রও। অক্ষয় খান্না অভিনয় করেছেন আলোচিত গ্যাংস্টার রেহমান ডাকাতের চরিত্রে আর সঞ্জয় দত্তকে দেখা গেছে এসপি চৌধুরী আসলামের ভূমিকায়। এ সিনেমায় রণবীর সিংয়ের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সারা অর্জুন। এ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে তার। তাছাড়াও অভিনয় করেছেন অর্জুন রামপাল, রাজেশ বেদি, আর. মাধবন, মানব গোহিল প্রমুখ। ২৮০ কোটি রুপি বাজেটের এ সিনেমা প্রযোজনা করেছেন আদিত্য ধর, লোকেশ ধর, জ্যোতি দেশপান্ডে।