বাংলাদেশের ২৩ ক্রিকেটার দ্য হান্ড্রেডের নিলামে  

বাংলাদেশের ২৩ ক্রিকেটার দ্য হান্ড্রেডের নিলামে   ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডের আগামী আসরের নিলামের জন্য নাম লিখিয়েছেন প্রায় এক হাজার ক্রিকেটার। এই দীর্ঘ তালিকায় বাংলাদেশের ২৩ ক্রিকেটারও রয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছে, ক্রিকেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন এই প্রতিযোগিতায় খেলতে নাম লিখিয়েছেন। তবে সাকিব আল হাসান নাম দেননি। নিলামের জন্য নিবন্ধন করা ক্রিকেটারদের তালিকা নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ। তালিকার ২১তম স্থানে নাম রয়েছেন মোস্তাফিজুর। তারকা এ পেসারের ভিত্তিমূল্য ১ লাখ পাউন্ড। আগামী ১১ ও ১২ মার্চ প্রথমবারের মত দ্য হান্ড্রেডের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। আগে প্লেয়ার ড্রাফটের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের দলে নেওয়া হত। ২১ জুলাই শুরু হয়ে টুর্নামেন্ট চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত। দ্য হান্ড্রেডের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। পাঁচটি আসর হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার এই প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পাননি। এবার মোস্তাফিজুর দল পান কি না, সেটাই বড় কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। শুধু মোস্তাফিজুরই নন, রিশাদ হোসেনকে নিয়েও আলোচনা আছে। দুজনই ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছন্দে আছেন। তাদের দিকে বাড়তি নজর পড়তে পারে দলগুলোর। বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য রিশাদ হোসেনের, ৭৫ হাজার পাউন্ড। বাকি ২১ জনেরই ভিত্তিমূল্য ৩১ হাজার পাউন্ড করে। দ্য হান্ড্রেডের নিলামে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা: মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, জাকের আলী, লিটন দাস, মেহেদী হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিম হাসান, তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, হাসান মাহমুদ, রিপন মণ্ডল, মোহাম্মদ নাঈম, নাহিদ রানা, শরীফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, শামীম হোসেন, পারভেজ হোসেন , নাজমুল হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, সাব্বির রহমান ও সৌম্য সরকার।

সামিত সোমের ছবি দিয়ে মাতৃভাষা দিবসে অংশ নিলো ফিফাও

সামিত সোমের ছবি দিয়ে মাতৃভাষা দিবসে অংশ নিলো ফিফাও সারা বিশ্বে আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের এই দিনে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গন ও মহান শহীদ ও মাতৃভাষা দিবস বিশেষভাবে পালন করছে। ফিফা বিশ্বকাপের ফেসবুক পেজ থেকে অংশ নিয়েছে মাতৃভাষা দিবসে। কানাডিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশি তারকা ফুটবলার সামিত সোমের ছবি দিয়ে তারা ক্যাপশনে লিখেছে ‘ভিন্ন ভাষায় একই আবেগ।’ পাশে ফুটবল ও ভালোবাসার ইমোজি দেওয়া হয়েছে। আর সামিতের ছবিতেও বাংলা ভাষায় লেখা হয় ‘ফুটবলই আমাদের ভাষা।’ অর্থাৎ, বাংলা ভাষার মাধ্যমে ফুটবলেরও নিজস্ব ভাষা আছে সেটাই স্মরণ করিয়ে দিলো ফিফা। অবশ্য ফিফার ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে প্রাইভেসি ‘কাস্টম’ করে, কেবল বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সম্ভবত পোস্টটি দেখতে পারবেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী হামজা চৌধুরীর পথ ধরে আরও বেশ কয়েকজন ফুটবলার বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। বিশ্বফুটবলে তারা নতুন করে তুলে ধরছেন লাল-সবুজের পতাকা। তারই প্রতীকি চিত্র ফুটে উঠল ফিফা বিশ্বকাপের পেজে সামিত সোমের ছবি ব্যবহারে! এর আগে বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষার অধিকার, তাদের স্মৃতি চিরদিন বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে। শহীদদের রক্তে রাঙানো একুশ আমাদের গৌরব, আমাদের পরিচয়। নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), ‘তারুণ্যের নব চেতনায় একুশ রবে সকলের অনুপ্রেরণায়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।

অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার

অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হাঁসখালিতে অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম প্রকাশ টিকাদার। জানা যায়, হাঁসখালি থানার অন্তর্গত বড় চুপায়া এলাকায় প্রকাশ টিকাদারের বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ করা এক বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে গোপন সূত্রে খবর পায় পুলিশ। খবর পাওয়া মাত্রই প্রকাশের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে প্রকাশ এবং কথিত সেই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের দাবি, কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন ওই নারী। তাকে ভারতে প্রবেশের সাহায্য করেন প্রকাশ টিকাদার। এ কারণে দুজনকেই গ্ৰেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাঁসখালি থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এর সঙ্গে আর কারা জড়িত তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে হাঁসখালি থানার পুলিশ।

ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে ‘টেলিগ্রাম’ নিষিদ্ধ করছে রাশিয়া

ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে ‘টেলিগ্রাম’ নিষিদ্ধ করছে রাশিয়া রাশিয়ার সামরিক বাহিনী, আইনপ্রণেতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘রসকমনডজোর’ অ্যাপটির বিরুদ্ধে নাশকতা ও সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ আনে। রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সাইবার ক্রাইম বিভাগের মতে, টেলিগ্রামের বিভিন্ন ‘বট’ ব্যবহার করে অবৈধভাবে নাগরিকদের ‘ডিজিটাল প্রোফাইল’ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর সংগ্রহ করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত এক মাসে এই ধরণের ১৩ হাজারের বেশি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যার ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন রুবল (প্রায় ১৯ কোটি ডলার)। টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার আইনি অনুরোধগুলো উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল উন্নয়নমন্ত্রী মাকসুত শাদায়েভ জানান, শিশু পর্নোগ্রাফি এবং মাদক সংক্রান্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি কন্টেন্ট সরানোর অনুরোধ উপেক্ষা করেছে টেলিগ্রাম। এই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার থেকে রাশিয়ায় অ্যাপটির গতি কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রসকমনডজোর। ফেডারেশন কাউন্সিলের সাংবিধানিক আইন কমিটির প্রধান আন্দ্রেই ক্লিশাস স্পুটনিক রেডিওকে বলেন, আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হলে টেলিগ্রাম রাশিয়ায় সম্পূর্ণ ব্লক বা নিষিদ্ধ হতে পারে। সম্প্রতি মেটা’র মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ-এর ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নাগরিকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে তৈরি ন্যাশনাল মেসেঞ্জার ‘ম্যাক্স’ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সাল থেকে রাশিয়ায় নতুন সব ডিভাইসে এই অ্যাপটি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভ এর আগে জানিয়েছিলেন, এই ধরনের বিধিনিষেধ মূলত ব্যবহারকারীদের রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে থাকা প্ল্যাটফর্মগুলোর দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি চেষ্টা। মেটা কর্তৃপক্ষও এই ধরণের পদক্ষেপকে রাজনৈতিক সেন্সরশিপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন?

ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন? রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা সহজপাচ্য, পুষ্টিকর এবং শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে দই-চিড়া হতে পারে একটি চমৎকার স্বাস্থ্যকর বিকল্প। এটি শুধু সুস্বাদু ও সহজপ্রস্তুত খাবারই নয়, বরং প্রচুর পুষ্টিগুণে ভরপুর, যা শরীরের জন্য উপকারী। চলুন জেনে নিই দই চিড়ার উপকারিতা: ইফতারে চিড়া দই খাওয়ার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। এটি সহজপাচ্য, দ্রুত শক্তি প্রদানকারী, হজমে সহায়ক, পানিশূন্যতা দূরকারী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। যারা স্বাস্থ্যকর এবং হালকা কিছু খেতে চান, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ খাবার। চিড়া, যা শুকনো চাল থেকে তৈরি হয়, সহজে হজমযোগ্য এবং দ্রুত শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম। অন্যদিকে, দই প্রাকৃতিকভাবে প্রোবায়োটিক, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ একটি খাবার, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই দুই উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি চিড়া দই ইফতারের জন্য একদম সঠিক একটি খাবার, বিশেষত যারা স্বাস্থ্যসম্মত ও হালকা খাবার খেতে চান। দই- চিড়া খাওয়ার কারণ ও উপকারিতা তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করে সারাদিন রোজা রাখার পর শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে, কারণ শরীর দীর্ঘ সময় ধরে কোনো খাবার ও পানীয় পায় না। চিড়ায় প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) থাকে, যা দ্রুত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। ফলে এটি ইফতারের জন্য একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। সহজে হজম হয় ও পাকস্থলীর জন্য আরামদায়ক অনেকেই ইফতারে ভারী ও তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন। চিড়া ও দই খুব সহজপাচ্য খাবার, যা হজমে সহায়তা করে এবং পাকস্থলীর জন্য আরামদায়ক। বিশেষ করে, দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান হজমশক্তি বাড়ায় ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমায়। পানিশূন্যতা দূর করে রমজানে দীর্ঘ সময় পানি পান না করার ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। দই শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ করতে সাহায্য করে এবং ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স বজায় রাখে। বিশেষ করে গরমের সময় রোজা রাখলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, যা পূরণ করতে দই বেশ কার্যকর। পেট ঠান্ডা রাখে ও অ্যাসিডিটি কমায় অনেকেই সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে ইফতারের সময় অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন। দই পাকস্থলীর জন্য একটি ঠান্ডা ও আরামদায়ক খাবার, যা গ্যাস্ট্রিক ও অম্লতার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। প্রোটিনের ভালো উৎস দই উচ্চমানের প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাবার, যা শরীরের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং পেশি গঠনে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা রোজার সময়ও শারীরিক পরিশ্রম করেন বা ব্যায়াম করেন, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য চিড়া দই একটি ভালো বিকল্প। এটি কম ক্যালোরিযুক্ত এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমায়। হাড়ের জন্য উপকারী দইয়ে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে রোজার সময় শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই ইফতারে দই খেলে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে (উৎসাহিত) করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া দইয়ের ভিটামিন ও মিনারেল শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়। ঘুম ভালো হয় ও মানসিক চাপ কমায় দইয়ে ট্রিপটোফ্যান নামে একটি উপাদান থাকে, যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন উৎপাদনে সাহায্য করে এবং ঘুমের মান উন্নত করে। রোজার সময় পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দই খাওয়া মানসিক প্রশান্তি আনতে পারে। তাই এই রমজানে তেল-মশলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর চিড়া দই রাখতে পারেন ইফতারিতে, যা আপনাকে সুস্থ ও সতেজ রাখবে।

রোজায় শরীরে শক্তি ধরে রাখতে যা করবেন

রোজায় শরীরে শক্তি ধরে রাখতে যা করবেন যদিও রোজা রাখার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে তবে এর কারণে শরীর ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে পুরো রমজানজুড়ে আপনি সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে পারবেন। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে ক্লান্তিবোধ কমে আসবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় শক্তি ধরে রাখতে কী করবেন- সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খান সুষম সেহরি দিনের বেলায় রোজার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি হজমকে আরও মসৃণ করে তুলবে। জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও শাক-সবজির মিশ্রণ শরীরকে টিকিয়ে রাখবে। লবণাক্ত বা গভীর ভাজা খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করুন। হোল গ্রেইন রুটি, বাদামি চাল, ডিম, অ্যাভোকাডো, পনির এবং কলা বেছে নিন। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। মৃদু ব্যায়াম শরীর যখন রোজার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন প্রথম কয়েক দিন শক্তির মাত্রা কমে যেতে পারে। এটিকে সামঞ্জস্য করার জন্য, আপনার দিনের মধ্যে মৃদু কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করুন। কয়েক মিনিট স্ট্রেচিং, অল্প হাঁটা, অথবা কিছু সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনাকে পুনরুজ্জীবিত এবং সতেজ করতে সাহায্য করবে। ঘুমের সময়সূচী ঠিক রাখুন ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার একত্রিত হওয়ার সময় হলো রমজান মাস। ইফতার, নামাজ, সেহরি সবকিছু মিলিয়ে রাতে ঘুমের সময়ে পরিবর্তন আসে। যদি সম্ভব হয়, আগে আগে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন, অথবা সম্ভব হলে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখুন। ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রোজায় পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনিং সমৃদ্ধ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন, সেইসঙ্গে সম্ভব হলে তাপ থেকে দূরে থাকুন। তীব্র পানিশূন্যতা এড়াতে নিজের ও প্রিয়জনদের দিকে খেয়াল রাখুন। পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

কত টাকার মালিক নেহা কাক্কর?

কত টাকার মালিক নেহা কাক্কর? বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়িকা নেহা কাক্কর। গত বছরটি খুব একটা ভালো কাটেনি তার। লাইভ কনসার্ট ও নতুন গান প্রকাশের পর অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার কিছুদিন পর নেহা কাক্কর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন “দায়িত্ব, সম্পর্ক, কাজ সবকিছু থেকে বিরতি নেওয়ার সময় এসেছে। আর ফিরব কি না নিশ্চিত নই।” এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নেহার সংসার ভাঙার গুঞ্জন চাউর হয়। সর্বশেষ তা উড়িয়ে দেন নেহা। চলুন এক নজরে দেখে নিই, নেহা কত টাকার মালিক নবভারত টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেহা কাক্করের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০৪ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা)। প্রতি মাসে তার আয় ২ কোটি রুপি। প্রতি গানের জন্য ১০-২০ লাখ রুপি পারিশ্রমিক নেন। প্রতিটি লাইভ শোয়ের জন্য নেন প্রায় ২৫-৩০ লাখ রুপি। তাছাড়া টিভি রিয়েলিটি শোয়ের বিচারক হিসেবে কাজ করেন নেহা কাক্কর। রিয়েলিটি শোয়ের বিচারক হিসেবে প্রতি সিজনে ২০ লাখ রুপির বেশি পারিশ্রমিক পান। মিউজিক ভিডিও, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও আয় করে থাকেন এই শিল্পী। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় নেহা কাক্করের ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা ৭৭ মিলিয়নের বেশি। ফলে ব্র্যান্ড প্রমোশন ও অনলাইন সহযোগিতার মাধ্যমেও মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করে থাকেন এই শিল্পী। ভারতীয় সংগীতশিল্পীদেরে মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুসারীর দিক থেকে অন্যতম নেহা। বিলাসবহুল ফ্ল্যাট-বাড়ি মুম্বাইয়ে সমুদ্রমুখী বিলাসবহুল একটি ফ্ল্যাটের মালিক নেহা কাক্কর। এর মূল্য প্রায় ১.২ কোটি রুপি। ঋষিকেশে তার একটি সুন্দর বাংলো রয়েছে। সেখানে প্রকৃতির মাঝে শান্ত সময় কাটান এই শিল্পী। দামি গাড়ির সংগ্রহ নেহা কাক্করের গ্যারেজে বেশ কিছু বিলাসবহুল গাড়ি শোভা পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অডি কিউ৭, মার্সিডিজ-বেঞ্জ জিএলএস ৩৫০, বিএমডব্লিউ। বিলাসবহুল প্রতিটি গাড়ির মূল্য কয়েক কোটি রুপি। নেহার ক্যারিয়ার ১৯৮৮ সালের ৬ জুন উত্তর প্রদেশের ঋষিকেশে এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন নেহা কাক্কর। তার বাবা ছিলেন শিঙাড়া বিক্রেতা। বড় বোন সনু কাক্কর ও ভাই টনি কাক্কর উভয়ে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। মাত্র চার বছর বয়স থেকে গান শুরু করেন নেহা। ২০০৫ সালে ইন্ডিয়ান আইডলের মাধ্যমে গায়িকা হিসেবে নজর কাড়েন নেহা।‍ ২০০৮ সালে ভাই টনির সঙ্গে মুম্বাই পা রাখেন নেহা। সেই বছরই ‘নেহা দ্য রকস্টার’ নামে তার প্রথম গানের অ্যালবাম মুক্তি পায়। ২০১৩ সালে ‘ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো’সিনেমার ‘ধাতিং নাচ’ গানে প্রথম প্লেব্যাক করেন। ২০১৪ সালে তার ‘সানি সানি’গানটি দারুণ হিট হয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক তুমুল জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। নেহার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জাদু কা ঝাপ্পি’, ‘টুকুর টুকুর’, ‘ন্যায়না’, ‘মে তেরা বয়ফ্রেন্ড’, ‘দিলবার দিলবার’, ‘কালা চশমা’, ‘আঁখ মারে’, ‘কোকাকোলা’, ‘সাকি সাকি’ প্রভৃতি।

একুশ মানে নিজের ভাষাকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা’

একুশ মানে নিজের ভাষাকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা’ রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিনে বাঙালি জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব বীর সন্তানদের, যারা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২ সালের এই দিনে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। শোক, অহংকার আর গৌরবের এই দিনে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় ও নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। শহীদ দিবস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তিনি; যেখানে বায়ান্নর ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ এবং বাংলা ভাষার প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা ফুটে উঠেছে। জয়া আহসান লেখেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি। এই দিনটা এলে ভোরের আলোটাও যেন একটু নরম হয়, বাতাসে ভেসে আসে অদ্ভুত এক শোক আর গর্বের মিশ্র গন্ধ। মনে হয়, মাটির খুব গভীর থেকে কেউ ফিসফিস করে বলছে, ‘ভাষাকে ভালোবাসো। এই অভিনেত্রী আরও লেখেন, ভাষা তো শুধু উচ্চারণ নয়। ভাষা মানে মায়ের আঁচলের গন্ধ, শৈশবের প্রথম ছড়া, প্রথম ভালোবাসার স্বীকারোক্তি। সেই ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে ১৯৫২’র তরুণেরা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল। গুলির শব্দের সামনে তারা ভয়কে ছোট করে দেখেছিল। কারণ তাদের কাছে বাংলা ছিল শ্বাসের মতো; থামানো যায় না, থামানো উচিতও নয়। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে জয়া তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার; এই নামগুলো উচ্চারণ করলেই বুকের ভেতর কেমন হাহাকার জেগে ওঠে। তারা তো শুধু শহীদ নন; তারা আমাদের প্রতিটি ‘মা’ শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সাহস। জয়া লেখেন, আজ আমরা সহজে বাংলায় লিখি, কথা বলি, মনের কথা প্রকাশ করি। অথচ এই সহজতার পেছনে কতটা রক্ত, কতটা অশ্রু, কতটা অসমাপ্ত স্বপ্ন লুকিয়ে আছে একুশ মানে মাথা নত করে দাঁড়ানো। একুশ মানে ভেতর থেকে শক্ত হয়ে ওঠা। একুশ মানে নিজের ভাষাকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা। শেষে জয়া লেখেন, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, তোমাদের ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না, শুধু হৃদয়ে বহন করে যাব চিরকাল।

ইফতারের পর শরীর ক্লান্ত লাগলে দূর করবেন যেভাবে

ইফতারের পর শরীর ক্লান্ত লাগলে দূর করবেন যেভাবে সারাদিন রোজার রাখার পর মাগরিবের আজান শুনে ইফতার করা হয়। টেবিলে সাজানো নানা পদের খাবার দেখে খাওয়ার আগ্রহ থাকে অনেক বেশি, কারণ আপনি সারাদিনের ক্ষুধার্ত। পেটপুরে মজার সব খাবার তো খেয়ে নিলেন, এরপর ভাবছেন মুহূর্তেই শক্তিশালী হয়ে যাবেন? আপনার প্রত্যাশা এমনটা থাকলেও আসলে তা হয় না। কারণ ইফতার খাওয়ার পরপরই আপনার ক্লান্ত লাগতে শুরু করে। একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়া সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে বেশি খাবার খেলে হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হয়ে যায়। তখন শরীরের রক্তপ্রবাহের বড় অংশ অন্ত্রের দিকে চলে যায়, যাতে খাবার দ্রুত হজম হয়। ফলে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্নতা ও ক্লান্তি অনুভূত হয়। পানিশূন্যতা সারাদিন পানি না খাওয়ার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ইফতারে যদি পর্যাপ্ত পানি বা তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ক্লান্তি আরও বাড়ে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার ডুবো তেলে ভাজা খাবার, মসলাদার পদ ও অতিরিক্ত মিষ্টি শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এসব খাবার হজমে বেশি সময় নেয় এবং শরীরকে অবসন্ন করে তোলে। ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করার উপায় ধীরে ও পরিমিতভাবে খান- ইফতার শুরু করুন একটি খেজুর ও একগ্লাস পানি দিয়ে। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দিন। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে খান। এতে হজম সহজ হবে এবং শরীর ভারী লাগবে না। পানিশূন্যতা দূর করুন- ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সঙ্গে রাখতে পারেন ফল, ফলের রস, শরবত, ডাবের পানি। এগুলো শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। হালকা খাবার বেছে নিন- ভাজাপোড়া কমিয়ে ছোলা, ফল, সালাদ, স্যুপ বা হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এতে শক্তি মিলবে, কিন্তু অতিরিক্ত ভারী লাগবে না। এককাপ চা কিংবা কফি- ইফতারের কিছু সময় পর এক কাপ হালকা চা বা কফি পান করতে পারেন। এতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত বা খুব কড়া কফি এড়িয়ে চলাই ভালো। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন- ইফতারের পরপরই শুয়ে পড়বেন না। ১০–১৫ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয় এবং শরীর চাঙ্গা থাকে। নামাজ আদায় করুন- ইফতারের শুরুতে হালকা কিছু খেয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে পারেন। এতে খাবার হজমের জন্য শরীর সময় পায়। নামাজ শেষে ধীরে ধীরে বাকি খাবার গ্রহণ করলে ক্লান্তি কম হয়। ইফতারের পর ক্লান্তি অনুভব করা স্বাভাবিক। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং হালকা শারীরিক নড়াচড়া এই সমস্যাকে অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। রমজানে সুস্থ থাকতে চাই সচেতনতা ও পরিমিত খাবার গ্রহণ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চটেছেন সালমান খান

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চটেছেন সালমান খান বলিউডের প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যখন গোটা সিনেমা পাড়ায় উদ্বেগ কাজ করছে, ঠিক তখনই বাবার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত তথ্য প্রকাশ্যে আসা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপারস্টার সালমান খান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার কারণে প্রবীণ এই ব্যক্তিত্বকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই চিকিৎসকরা নিয়মিত ‘হেলথ বুলেটিন’ বা স্বাস্থ্যবার্তা গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো চটেছে পুরো খান পরিবার। সালমানের অভিযোগ, পরিবারের অনুমতি ছাড়া একজন ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার খুঁটিনাটি জনসমক্ষে প্রচার করা তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন। খান পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সেলিম খানের প্রতি সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের গভীর ভালোবাসা এবং উদ্বেগের জন্য তারা কৃতজ্ঞ। তবে সালমান মনে করেন, তার বাবার অসুস্থতার প্রতিটি ছোটখাটো বিষয় বাইরের মানুষের জানার প্রয়োজন নেই। কোনো তথ্যের দরকার হলে পরিবার নিজেই সেটি জানাবে। সালমান খানের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতিস্বীকার করেছে এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন থেকে অনুমতি ছাড়া সেলিম খানকে নিয়ে আর কোনো মেডিকেল বুলেটিন বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন অপেশাদার আচরণে সালমান ও তার পরিবার সরাসরি তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এদিকে গত দুই দিনে সেলিম খানের শারীরিক অবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার কোনো বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়েনি, তবে ডিএসএ প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রবীণ এই চিত্রনাট্যকারকে ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। যদি দ্রুত উন্নতি ঘটে, তবে খুব শীঘ্রই তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হতে পারে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল সার্বক্ষণিক তার দেখাশোনা করছেন এবং তিনি চিকিৎসায় ইতিবাচকভাবে সাড়া দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে সেলিম খানকে দেখতে গিয়েছিলেন সালমানের আগামী সিনেমা ‘ব্যাটল অব গলওয়ান’-এর সহ-অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিংহ। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তিনি অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে জানান যে, সেলিম খান এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। প্রিয় অভিনেতার বাবার এমন অসুস্থতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অগণিত ভক্ত দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা পাঠাচ্ছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে যাতে এই কঠিন সময়ে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান জানানো হয়।