ট্রিপল সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন অধিনায়ক মুল্ডার

ট্রিপল সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন অধিনায়ক মুল্ডার ক্রিকেট বিশ্বে নতুন ইতিহাস লিখলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার উইয়ান মুল্ডার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেই তিনি হাঁকালেন ট্রিপল সেঞ্চুরি (৩৬৬*)। টেস্ট ইতিহাসে এটি এক দুর্লভ কীর্তি। কারণ, অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই ট্রিপল সেঞ্চুরি করার নজির আছে কেবল আর একজনের! এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে মুল্ডার হয়ে ওঠেন রীতিমতো দুর্বার। আজ সোমবার (০৭ জুলাই) বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত এই টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মাত্র ২৯৭ বলে ৩৮টি চার ও ৩ ছক্কায় পূর্ণ করেন নিজের ট্রিপল সেঞ্চুরি। যা টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম। তার আগে কেবল ভারতের বীরেন্দর শেবাগই দ্রুততর (২৭৮ বলে) ত্রিশতক করেছিলেন। মুল্ডার প্রথম দিন শেষ করেছিলেন অপরাজিত ২৬৪ রানে। পরদিন সকালে সেই ইনিংস রূপ নেয় ইতিহাসে। ৩৮টি চার আর ৩টি ছক্কায় সাজানো এই অনবদ্য ইনিংসটিকে বলা যায় ধৈর্য আর আগ্রাসনের নিখুঁত মিশেল। মাত্র ২৭ বছর ১৩৮ দিন বয়সেই মুল্ডার ভেঙে দিলেন বব সিম্পসনের ৬১ বছরের পুরনো রেকর্ড। ১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি সিম্পসন অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে করেছিলেন ৩১১ রান। মুল্ডার সেখানে এখনও অপরাজিত ৩৬৭ রানে (এ প্রতিবেদন লেখার সময়)। টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা এটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাত্র দ্বিতীয় উদাহরণ। তার আগে কেবল হাশিম আমলা এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন—২০১২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ৩১১ রানের অনন্য ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। অভিষেক অধিনায়ক হিসেবেই প্রথম দিনেই ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন মুল্ডার। এমন কীর্তি টেস্ট ইতিহাসে খুব কমজনেরই আছে। এই তালিকায় আছেন কেবল গ্রাহাম ডাউলিং (নিউজিল্যান্ড, ২৩৯) এবং শিবনারায়ণ চন্দরপল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০৩)। মুল্ডারের এটি ছিল তার ২১তম টেস্ট, কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে প্রথম। নিয়মিত অধিনায়ক কেশব মহারাজ ইনজুরিতে পড়ায় হঠাৎ করেই নেতৃত্বের ভার পড়ে তার কাঁধে। সেই দায়িত্বকে সুযোগে পরিণত করে নিজেকে তুলে ধরলেন ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য উচ্চতায়।
ঢাকায় ফিরেই চমকপ্রদ সংবর্ধনা পেলো ইতিহাসগড়া নারী ফুটবল দল

ঢাকায় ফিরেই চমকপ্রদ সংবর্ধনা পেলো ইতিহাসগড়া নারী ফুটবল দল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পর দেশে ফিরতেই লাল-সবুজের সাহসিনী কন্যাদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক অভিনব সম্মাননা। মধ্যরাত পেরিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই রাজধানীর হৃদয়স্থল হাতিরঝিলে আয়োজন করা হয় এই ব্যতিক্রমী সংবর্ধনার। শনিবার দিবাগত রাত প্রায় সোয়া ৩টার সময়, ঘুম ভেঙে যাওয়া শহরের নিস্তব্ধতা ভেঙে চিৎকারে মুখর হয়ে ওঠে হাতিরঝিল। সেখানে হাজির ছিলেন ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা, কোচিং স্টাফ, ক্রীড়া সাংবাদিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত কিছু সমর্থক। মঞ্চে একে একে উঠলেন ঋতুপর্ণা, আফিদা, মনিকারা। হাতে ছিল দেশের পতাকা, চোখেমুখে ছিল বিজয়ের গর্ব। তাড়াহুড়ার এই আয়োজন নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুললেও এর পেছনে ছিল যুক্তিসঙ্গত কারণ। দলের তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা ও মনিকা চাকমা পরদিনই ভুটানে লিগ খেলতে রওনা দেবেন। কয়েকদিনের মধ্যে রুপনা চাকমা, মারিয়া মান্দা ও শামসুন্নাহার সিনিয়রও যোগ দেবেন বিদেশি লিগে। তাই দলের সবাইকে একসঙ্গে সম্মান জানানোর এই ক্ষণিক সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি বাফুফে। এর ঠিক দু’ঘণ্টা আগে, রাত দেড়টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে মেয়েরা। সেখানে ছিল ফুলেল শুভেচ্ছা আর অভ্যর্থনার উষ্ণতা। তবে প্রকৃত উদযাপন শুরু হয় হাতিরঝিলে। এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে বাছাইপর্বে মাঠে উপহার দেওয়া নজরকাড়া পারফরম্যান্স। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১২৮ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ পড়েছিল কঠিন ‘সি’ গ্রুপে, যেখানে প্রতিপক্ষ ছিল বাহরাইন (র্যাঙ্কিং ৯২), তুর্কমেনিস্তান এবং স্বাগতিক মিয়ানমার (র্যাঙ্কিং ৫৫)। র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে পিছিয়ে থাকলেও মাঠে তারা ছিল দুর্বার। প্রথম ম্যাচেই বাহরাইনকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ঋতুপর্ণার জোড়া গোলের নৈপুণ্যে ২-১ ব্যবধানে হারায় মিয়ানমারকে। শেষ ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানকেও ছাড়েনি মেয়েরা। আরও একবার ৭-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেয় তারা। এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। আগামী বছর মার্চে বসবে টুর্নামেন্টের ২১তম আসর, যেখানে খেলবে ১২টি দেশ। ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে ১১টি দলের অংশগ্রহণ— অস্ট্রেলিয়া (স্বাগতিক), চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, ফিলিপাইনস, ভিয়েতনাম, চাইনিজ তাইপে, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। এখন কেবল বাকি ‘এ’ গ্রুপের একটি দল। এই অর্জন শুধু ক্রীড়াঙ্গনের নয়, এটা জাতির জন্যও এক গৌরবময় মুহূর্ত। মধ্যরাতের ওই সংবর্ধনায় বাজছিল ঢোল, উড়ছিল পতাকা, আর মেয়েদের চোখে ছিল আত্মবিশ্বাসের আলো, যা আগামী দিনের নারী ফুটবলের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবে।
এয়ারপোর্টে কেন কাঁদছেন নোরা ফাতেহি?

এয়ারপোর্টে কেন কাঁদছেন নোরা ফাতেহি? পরনে কালো রঙের পোশাক। খোলা চুল। চোখে রোদচশমা। হাতে ব্যাগ। এমন লুকে গাড়ি থেকে নেমে বিমানবন্দরের প্রবেশ পথের দিকে এগিয়ে যান অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। কিন্তু চোখে রোদচশমা থাকলেও, চোখের জল আড়াল করতে পারেননি। কাঁদতে কাঁদতে হাঁটতে দেখা যায় তাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বেশ কটি ভিডিও ক্লিপে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এসব ভিডিও এখন অন্তর্জালে ভাইরাল। দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল জানিয়েছে, রবিবার (৬ জুলাই) বিকালে মুম্বাই এয়ারপোর্টে কাঁদতে দেখা যায় নোরা ফাতেহিকে। এসময় পাপারাজ্জিদের কেউ কেউ ছবি তুলতে এগিয়ে গেলে তাদের সরিয়ে দেন নোরার দেহরক্ষী। তবে কী কারণে এতটা ভেঙে পড়েছেন তার সঠিক কারণ জানা যায়নি। এয়ারপোর্টে নামার কয়েক মিনিট আগে নোরা ফাতেহি তার ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দেন। তাতে এ অভিনেত্রী লেখেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।” কেউ মারা গেলে বা বিপদগ্রস্ত থাকলে মুসলিম ধর্মের অনুসারীরা এটি পাঠ করে থাকেন। ধারণা করা হচ্ছে, নোরা তার পরিবারের কাউকে হারিয়েছেন। নোরা ফাতেহির মা–বাবা দুজনই মরক্কোর। তবে তার জন্ম আর বেড়ে ওঠা কানাডায়। ক্যারিয়ার গড়েছেন ভারতে। যদিও নিজেকে মরোক্কান হিসেবে পরিচয় দিতেই ভালোবাসেন এই অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী। ‘বিগ বস’ রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে ভারতীয় শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন নোরা। তেলেগু ভাষার ‘টেম্পার’, ‘বাহুবলি: দ্য বিগিনিং’, ‘কিক টু’, বলিউডের ‘সত্যমেভ জয়তে’, ‘স্ট্রিট ড্যান্সার থ্রিডি’ সিনেমার গানে নেচে বিশেষ পরিচিত লাভ করেন তিনি। শুধু বড় পর্দায়ই নয়, ছোট পর্দা এবং মিউজিক ভিডিওতেও সমান জনপ্রিয় তিনি। ‘ঝলক দিখলা যা’, ‘কমেডি নাইটস’, ‘এমটিভি ট্রল পুলিশ’সহ বেশ কিছু রিয়েলিটি শোয়ে পারফরর্ম করেও নজর কাড়েন তিনি।
নেশাগ্রস্ত চরিত্রে অভিনয় করাটা চ্যালেঞ্জিং ছিল: উপমা

নেশাগ্রস্ত চরিত্রে অভিনয় করাটা চ্যালেঞ্জিং ছিল: উপমা মেজবাহ শিকদার নির্মাণ করেছেন একক নাটক ‘শেষ ভালোবাসা’। নাটকটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী ফারজানা মেহমুদ উপমা। ঢাকার বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে নাটকটির দৃশ্যধারণের কাজ হয়েছে। গল্পটি আবর্তিত হয়েছে একটি উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়েকে ঘিরে, যে বাবা-মায়ের অবহেলায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় নেশার অন্ধকার জগতে। বন্ধুদের আড্ডা দিয়ে শুরু, এরপর নেশার লোভে জড়িয়ে পড়ে অনৈতিক সম্পর্কে। পারিবারিক দূরত্ব বাড়ে, প্রেমিকও একসময় সরে যায়। শেষ পর্যন্ত নিজেকে খুঁজে ফেরার আর্তনাদে, গল্পটি এগিয়ে যায় চূড়ান্ত পরিণতির দিকে। নাটকে উপমার প্রেমিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন এরফান অনিক। নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে উপমা বলেন, “একজন নেশাগ্রস্ত তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করাটা আমার জন্য ছিল এক নতুন চ্যালেঞ্জ। চরিত্রটি খুব বাস্তব ও হৃদয়স্পর্শী। নাটকটি সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবে—নেশা শুধু একজন মানুষ নয়, গোটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।” নাটকটি নিয়ে আশাবাদী ফারজানা মেহমুদ উপমা বলেন, “শেষ ভালোবাসা’ আমার অভিনীত অন্যতম সেরা কাজ হয়ে থাকবে।” ফারজানা মেহমুদ উপমা ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তার আলোচিত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে—আমি তোমাকেই ভালোবাসি, মেট্রোপলিটন বিভ্রম, অ্যাডালথুড, নিয়তির খেলা এবং সুপার গার্ল ওয়েব সিরিজ।
পাঞ্জাবে বাস উল্টে নিহত ১০

পাঞ্জাবে বাস উল্টে নিহত ১০ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে আজ সোমবার সকালে যাত্রীবোঝাই একটি মিনিবাস উল্টে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ জনের। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি কমপক্ষে ২৪ জন। ঘটনা পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরের। পুলিশ জানিয়েছে, মোট ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বাসটিতে। হাজিপুর থেকে দাসুয়া যাচ্ছিল মিনিবাসটি। ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় বাসটি। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৮ জন। বাকি ৩২ জন যাত্রীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দাসুয়া সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালে মারা যান আরো দুজন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দ্রুত গতিতে আসা বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এরপরেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পুলিশে খবর দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাসটিতে যান্ত্রিক সমস্যা ছিল, নাকি চালকের ভুলের জন্য এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।
চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড

চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড চাকরিতে পুনর্বহালসহ তিন দফা দাবিতে কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নেওয়া চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। সোমবার (৭ জুলাই) সকালে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় বিভিন্ন সময়ে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা। পরে সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা। পরে কাকরাইল মসজিদের সামনে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তাদেরকে সরে যেতে ১০ মিনিটের আল্টিমেটাম দেয় পুলিশ। তারা পুলিশের আহ্বানে সাড়া না দিলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখান থেকে সরিয়ে দিতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। রমনা থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বলেন, “সচিবালয়, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। এরপরও যমুনার উদ্দেশে পদযাত্রা করায় তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে।” ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা চাকরি ফেরত, বিজিবির নাম আবার বিডিআর করাসহ ৩ দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের দাবিগুলো হলো—ক্ষতিপূরণ দিয়ে চাকরিতে পুনর্বহাল, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের বিভিন্ন ধারা বাতিল এবং বিডিআর নাম পুনর্বহাল ও কারাগারে বন্দি থাকা সদস্যদের মুক্তি।
দেশে ফিরলেন ৭৩ হাজার ৪৯৩ হাজি

দেশে ফিরলেন ৭৩ হাজার ৪৯৩ হাজি হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৭৩ হাজার ৪৯৩ জন হাজি। ফেরত আসা যাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫ হাজার ৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৬২ হাজার ৮১৪ জন। সোমবার (৭ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স নামে তিনটি বিমান সংস্থা যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফিরিয়ে এনেছে ৩২ হাজার ৩৬২ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ২৬ হাজার ৬৮৩ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৮ হাজার ৭৭৬ জন হাজিকে। এ পর্যন্ত ১৯০টি ফিরতি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৯৩ ও সৌদি এয়ারলাইন্স ৭৪টি ফ্লাইট চালিয়েছে, আর ফ্লাইনাস পরিচালনা করেছে ২৩টি ফ্লাইট। এ বছর হজ পালনে গিয়ে ৪২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ এবং ও জন নারী। হজ অফিসের বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও অসুস্থতা ছিল প্রধান। হজযাত্রা শুরু হয় ২৯ এপ্রিল থেকে এবং শেষ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের উদ্দেশে যায় ৩১ মে। এবারের হজ অনুষ্ঠিত হয় ৫ জুন। ফিরতি হজ ফ্লাইট আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
আমরা বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি : এনসিপি’র আহ্বাক নাহিদ ইসলাম

আমরা বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি : এনসিপি’র আহ্বাক নাহিদ ইসলাম জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র ‘বিচার, সংস্কার, ও দেশ পূনর্গটনের লক্ষ্যে জনতার দুয়ারে জুলাই’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৬ জুলাই) দুপুরে জেলা শহরে শান্তিমোড় থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জেলা শহর। পদযাত্রাটি বাতেন খাঁর মোড়-নিমতলা-বড়ইন্দারা মোড় ও গাবতলা হয়ে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে আমের রাজধানী উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন-এটি একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হওয়া সত্বেও এই জেলার আম শিল্পকে বিশ্বাজারে তুলে ধরতে অতীতে কোনো সরকারই উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। তা ছাড়া আমরা জানি এই চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেশমশিল্পের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু দিনে দিনে এই রেশম শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই জাতীয় শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কোনো ধরনের উদ্যোগই নেয়া হয়নি। আমরা চাই বাংলাদেশের যেসব শিল্প রয়েছে সেগুলোগে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আমরা জানি আপনারা দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য আন্দোলন করছেন। আমরা এই সমাবেশ থেকে আপনাদের এই দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাই সরকার যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই দাবি মেনে নেয়। এনসিপি নেতা নাহিদ বলেন—চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমাদের সীমান্তের প্রতিরোধের প্রতীক। সীমান্ত মানে কাস্তে হাতে বসে থাকা সেই কৃষক। আমরা সেই কৃষকের সন্তান। বুক পেতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, বুলেট গুলি বুক পেতে নিয়েছি। এই মঞ্চে শহিদ তাকের হোসেনের পরিবার উপস্থিত রয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুইজন সন্তান শহিদ হয়েছেন। জুলাই গণঅথুত্থানে যারা জীবন দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সেদিন দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছিল, আমরা যেন সেই বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ চেয়েছি। গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার চেয়েছি। গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা গণহত্যাকারীদের বিচার চেয়েছি। আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জুলাই সনদ চেয়েছি।’ নাহিদ বলেন, ‘আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের একটা বার্তা নিয়ে এসেছি, যে বার্তা একটা ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েমের জন্য আমাদেরকে স্বপ্ন দেখায়, যে বার্তা একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়। আমরা সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি।’ নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘সীমান্তে বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এখানে গ্রেনেড মারে, বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। আমরা এইসব আগ্রাসন আর মেনে নিব না। সীমান্তে অনেক বাহাদুরি করেছে দাদারা। সীমান্তে আর যদি কোনো দাদাগির করতে দেয়া হবে না। সীমান্তে আর যদি আগ্রসন চালানো হয়, সীমান্তে আমার ভাইদের ওপর হত্যা চেষ্টা চালানো হয়, আমরা সীমান্তে লং মার্চ ঘোষণা করব। আমাদের সীমান্ত আমরাই রক্ষা করব।’ সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশকে নতুন কাঠামোতে, নতুন কায়দায় পরিচালনার জন্য নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। বাংলাদেশের মৌলিক সংস্কারকে কেউ যদি বাধাগ্রস্থ করে, জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রকেকেউ যদি আটকে রাখতে চায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এনসিপি’র প্রধান সমন্বয়কারী আলাউল হকের সভাপতিত্বে এবং এনসিপি’র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সঞ্চালনায় পথসভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য দেন, এনসিপি’র যুগ্ম আহবায়ক তাসনুভা জারিন, এনসিপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল। কর্মসূচিতে এনসিপি’র দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, তাসনিম জারাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এনসিপি নেতৃবৃন্দ গণঅভ্যুত্থানে শহিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জের তারেকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং এনসিপির জেলা কার্যালয় উদ্বোধন করেন।
বিশ্বরেকর্ড গড়লো হৃতিক-এনটিআরের ‘ওয়ার টু’

বিশ্বরেকর্ড গড়লো হৃতিক-এনটিআরের ‘ওয়ার টু’ হৃতিক রোশনের ব্লকবাস্টার হিট ছবি ‘ওয়ার’ মুক্তির ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। এবার আসছে এর বহু প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল, যেখানে হৃতিকের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন দক্ষিণের সুপারস্টার জুনিয়র এনটিআর। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘ওয়ার টু’ আর মুক্তির আগেই ছবিটি গড়ে ফেলেছে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড, যা এর আগে কোনো ভারতীয় ছবি করতে পারেনি। ২০০ কোটি টাকা বাজেটের এই ছবিটি নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা রয়েছে। এরই মধ্যে জানা গেছে, ‘ওয়ার টু’ বিশ্বব্যাপী মোট ৭ হাজার ৫০০টি স্ক্রিনে মুক্তি পেতে চলেছে। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এত বড় পরিসরে বিশ্বজুড়ে কোনো ছবি মুক্তি পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। যশরাজ ফিল্মসের এই হাই-অকটেন অ্যাকশন থ্রিলারটি যে বক্স অফিসে ঝড় তুলতে প্রস্তুত, এই রেকর্ডই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। হৃতিক রোশন বছরে খুব কম ছবি করলেও তার প্রতিটি ছবিই ভক্তদের কাছে বিশেষ। ২০২৫ সালেও তিনি ভক্তদের জন্য দারুণ কিছু উপহার দিতে চলেছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ‘ওয়ার টু’-এর মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হচ্ছে জুনিয়র এনটিআরের, যা ছবিটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অয়ন মুখার্জি পরিচালিত ‘ওয়ার টু’ থেকে প্রত্যাশা অনেক। এর আগে অয়ন বহু সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন। ‘ওয়ার’ ছবিটি ভারতে ৩০০ কোটি এবং বিদেশে ১৭৫ কোটি টাকা আয় করে মোট ৪৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল।
হার মানলেন হলিউড অভিনেতা জুলিয়ান ম্যাকমোহন

হার মানলেন হলিউড অভিনেতা জুলিয়ান ম্যাকমোহন সদ্যই মাইকেল ম্যাডিসনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নামে হলিউডে। এরই মধ্যে চলে গেলেন আরেক জনপ্রিয় তারকা। ‘এফবিআই: মোস্ট ওয়ান্টেড’ ও ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’-এর জন্য পরিচিত অস্ট্রেলীয় অভিনেতা জুলিয়ান ম্যাকমোহনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর বয়স। একটি ফেসবুক পোস্টে অভিনেতার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন ম্যাকমোহনের স্ত্রী কেলি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেডলাইনের সঙ্গে কথা বলার সময় কেলি জানিয়েছেন, অভিনেতা ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘদিন লড়াই করার পরে ২ জুলাই ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটারে মারা গেছেন। ম্যাকমোহনের স্ত্রী কেলি বলেন, মনে কোনো অসন্তোষ না রেখেই আমি বিশ্বকে জানাতে চাই যে, আমার প্রিয় স্বামী জুলিয়ান ম্যাকমোহন ক্যান্সারকে জয় করার এক সাহসী প্রচেষ্টার পর এই সপ্তাহে শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছেন। জুলিয়ান জীবনকে ভালোবাসতেন। তিনি তার পরিবারকে ভালোবাসতেন। তিনি তার বন্ধুদের ভালোবাসতেন। তিনি তার কাজকে ভালোবাসতেন, ভালোবাসতেন তার ভক্তদের। তার গভীরতম ইচ্ছা ছিল যতটা সম্ভব মানুষের জীবনে আনন্দ নিয়ে আসা। তিনি বলেন, আর আমরা কামনা করি জুলিয়ান যাদের জন্য আনন্দ বয়ে এনেছেন, তারা যেন জীবনে আনন্দ খুঁজে পান। সেই স্মৃতির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ম্যাকমাহন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম ম্যাকমোহনের ছেলে। রায়ান মারফির শোয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘকালীন সম্পর্ক। যেখানে তিনি জটিল ড. ক্রিশ্চিয়ান ট্রয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। একই সময়ে অ্যালিসা মিলানোর অন-স্ক্রিন লাভ ইন্টারেস্টের ভূমিকায় অভিনয় করে তাক লাগিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯২ সালের কমেডি ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াইল্ড সামার’-এ এলিয়ট গোল্ড এবং ক্রিস্টোফার অ্যাটকিন্সের বিপরীতে তার প্রথম সিনে চরিত্র পান। ফ্যান্টাস্টিক ফোরে চূড়ান্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। ম্যাকমাহনকে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে নেটফ্লিক্সের শো ‘দ্য রেসিডেন্স’-এ। ব্যক্তি জীবনে অস্ট্রেলিয়ান গায়ক ড্যানি মিনোগকে বিয়ে করেছিলেন জুলিয়ান ম্যাকমোহন। পরে ‘বেওয়াচ’ তারকা ব্রুক বার্নসকে বিয়ে করেন তিনি, যার সঙ্গে তার পঁচিশ বছরের এক কন্যা সন্তান আছে। ২০১৪ সালে কেলি পানিয়াগুয়াকে বিয়ে করেন ম্যাকমোহন।