শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থার সমাধান হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থার সমাধান হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে অচলাবস্থা চলছে শিগগিরই সেই সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্র্বতী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার। আজ দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার ফলে শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। তবে সবকিছু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। চলমান সমস্যাগুলো দ্রুততম সময়ে সমাধান করা হবে এবং এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও জানান উপদেষ্টা।
সীমান্ত পেরিয়ে চীনে কিম জং উন

সীমান্ত পেরিয়ে চীনে কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন চীনের রাজধানী বেইজিং পৌঁছেছেন। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ভিক্টরি ডে’ সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিতে তিনি বিশেষ সাঁজোয়া ট্রেনে চীন সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। এই তথ্য জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা। কুচকাওয়াজে কিম জং উন ছাড়াও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অন্যান্য বিশ্বনেতারা উপস্থিত থাকবেন। এটি কিমের প্রথম কোনো বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক সভায় অংশগ্রহণ। এটি ১৯৫৯ সালের পর প্রথমবারের মতো যে, কোনো উত্তর কোরীয় নেতা চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছেন। কিম ছাড়াও মিয়ানমার, ইরান, কিউবাসহ ২৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এই কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছেন।
শারজায় বল হাতে রশিদ খানের বিশ্বরেকর্ড

শারজায় বল হাতে রশিদ খানের বিশ্বরেকর্ড দুর্দান্ত এক অর্জনে নাম লিখালেন আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক রশিদ খান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের বিশ্বরেকর্ড এখন তার দখলে। শারজায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে আমিরাতের বিপক্ষে মাঠে নেমে যেন নতুন করে জানান দিলেন নিজের সামর্থ্যের। গতকাল অনুষ্ঠিত ম্যাচে আমিরাতকে ৩৮ রানে হারায় আফগানিস্তান। ১৮৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিকরা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে করতে পারে মাত্র ১৫০ রান। বল হাতে আলো ছড়ান রশিদ খান। মাত্র ২১ রানের বিনিময়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। আর এই ৩ উইকেটই তাকে পৌঁছে দেয় বিশ্বরেকর্ডের শীর্ষে।
আমি স্ট্যাটাস দিই আর গালি শুনি : অভিনেতা জয়

আমি স্ট্যাটাস দিই আর গালি শুনি : অভিনেতা জয় ছোট ও বড় পর্দার বহুমুখী তারকা শাহরিয়ার নাজিম জয়। অভিনয় ছাড়াও নানা বিষয়ে তাকে সরব থাকতে দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মনের ভেতরে যে কথা থাকে, সে কথা তিনি অকপটে মানুষের সামনে তুলে ধরেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে। বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায় প্রতিনিয়ত কথা বলতে দেখা যায় জয়কে। জয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে প্রতিনিয়ত সমালোচনা হয়ে থাকে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই অভিনেতা। এ নিয়েও চলছে সমালোচনা। শাহরিয়ার নাজিম জয় লেখেন, ‘যদি অপরাধী হতাম তাহলে চুপচাপ থাকতাম, স্ট্যাটাস দিতাম না। আশপাশে এমন অনেক আছে। অথচ আমি স্ট্যাটাস দিই আর গালি শুনি। অনেকে ভয়ও দেখায়। যারা চুপ তাদের অপরাধ কেউ মনেও করে না, তাদের কেউ গালিও দেয় না। ’ জয়ের ভাবনার সঙ্গে সহমত পোষণ করে অনেকে মন্তব্য করেছেন। আবার অনেকে জয়কে আক্রমণ করেও ‘নোংরা’ ভাষায় মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ পাল্টা যুক্তি কিংবা পরামর্শ দিয়েছেন। একজন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লেখেন, ‘আচ্ছা ভাইয়া, আপনাকে মানুষ কেন গালি দেয়?’ নোমান খান লেখেন, ‘সত্যের পক্ষে থাকুন মানুষ ভালোবাসবেই। তবে আওয়ামী লীগ থেকে দূরে থাকুন। আব্দুল্লাহ নামে একজন পরামর্শ দিয়ে লেখেন, ‘এত কথা আর খাতিরের দরকার কী, চুপ থাকেন কয়দিন, দিন ফিরবে ইনশাআল্লাহ।’ আরেকজন লেখেন, ‘ঠিক বলেছেন ভাই। আপনার মতো সৎসাহস সাবার নেই।’ এমন অনেক মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে কমেন্ট বক্সে।
জন্মদিনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন জাংকুক

জন্মদিনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন জাংকুক বিটিএস তারকা জাংকুক, যিনি তার গান দিয়ে বিশ্বব্যাপী তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে ভক্তরা উদযাপন করেছেন প্রিয় তারকা জন্মদিন। আর জন্মদিনের শুভেচ্ছার ভিড়ের মধ্যেই ভক্তদের সাথে সরাসরি আলাপচারিতায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এই সংগীতশিল্পী। জানিয়েছেন অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD) রোগে ভুগছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকায় একটি মিউজিক ভিডিওর শুট করে দেশে ফেরার পর গায়ক এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। এক ভক্ত লাইভ চলাকালীন তার অস্থিরভাবে নাড়াচাড়া করা নিয়ে মন্তব্য করলে জাংকুক সরল ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমার এই স্বভাবটা আছে। আমি এভাবেই নড়াচড়া করি।’ ADHD বা Attention Deficit Hyperactivity Disorder একটি স্নায়ু-সংক্রান্ত সমস্যা। এটি মনোযোগ ধরে রাখা, স্থির হয়ে বসা বা আকস্মিক প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে। সাধারণত শৈশবেই এর লক্ষণ শুরু হয়, তবে প্রাপ্তবয়সেও অনেকের মধ্যে তা থেকে যায়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি অতিরিক্ত অস্থিরতা, এক জায়গায় স্থির হয়ে না বসতে পারা, মনোযোগের ঘাটতি, টাইম ম্যানেজমেন্টের সমস্যা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তবে চিকিৎসা ও সঠিক কৌশলের মাধ্যমে অনেকেই এর সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। জাংকুকের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি মুহূর্তেই ভক্তদের মন ছুঁয়ে যায়। মাসের পর মাস তার লাইভে স্বাভাবিক অস্থির আচরণ নিয়ে কটাক্ষ হচ্ছিল। অনেকে তাকে ‘চুপচাপ বসতে’ বলতেন। কিন্তু এবার ভক্তরা তার পাশে দাঁড়িয়ে জানান, অস্থিরভাবে নড়াচড়া করা বা ‘স্টিমিং’ আসলে ADHD-এর সাধারণ বৈশিষ্ট্য, যা নিয়ে বিদ্রূপ করা উচিত নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের সমর্থন। কেউ লিখেছেন, ‘উনি যেভাবে স্বাভাবিকভাবে কথাটা বললেন, দারুণ লেগেছে। জাংকুক আর সুগা- দু’জনেই যেভাবে তাদের ADHD নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন, সেটা অসাধারণ।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘এখন যারা অকারণে তাকে ‘চুপচাপ বসো’ বলছিলেন, তাদের থামা উচিত।’ অনেক ভক্ত জানিয়েছেন, জাংকুকের অভিজ্ঞতা তাদের ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে মিলে গেছে। একজন লিখেছেন, ‘আমি সারাক্ষণ শুনি পা নড়ানো বা অস্থিরভাবে বসা নিয়ে বকাঝকা। কিন্তু আমি থামাতে পারি না। জাংকুকের কথায় মনে হল, আমি তো একা নই।’
নেদারল্যান্ডসকে বিশাল ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ

নেদারল্যান্ডসকে বিশাল ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচটি একতরফা করে তোলে টাইগাররা। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আবারও টস জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাটিংয়ে পাঠান টাইগার অধিনায়ক লিটন দাস। সিলেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৭ ওভার ৩ বলে ১০৩ রান করে অলআউট হয় নেদারল্যান্ডস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেছেন আরিয়ান দত্ত। বাংলাদেশের হয়ে ২১ রানে ৩ উইকেট শিকার করে ইনিংসের সেরা বোলার নাসুম। জবাবে খেলতে নেমে ১৩ ওভার এক বলে এক উইকেট হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সফরকারী দলের ওপেনার বিক্রমজিৎ সিং ১৭ বলে ২৪ রান করে আউট হন। চারটি চার মারেন তিনি। অন্য ওপেনার ম্যাক্স ওডাউড ১০ বলে ৮ রান করে ফিরে যান। শারিজ আহমেদ ১২ রানে আউট হলে বিপদ বাড়ে ডাচদের। ৯.৫ ওভারে ৬১ রানে ৬ উইকেট হারায় তারা। ৬৭ রানে যা ৭ উইকেট হয়ে যায়। সেখান থেকে একশ’ রান ছাড়িয়েছেন নয়ে নামা বোলার আরিয়ান দত্ত। তিনি ২৪ বলে ৩০ রান করেন। তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৫.৩ ওভারে ৪০ রান করে বাংলাদেশ। ফিরে যাওয়ার আগে পারভেজ ইমন ২১ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ২৩ রান করে ফিরে যান। পরের পথ পাড়ি দেন তানজিদ তামিম ও লিটন দাস। তানজিদ ৪০ বলে ৫৪ রানের হার না মানা ইনিংস চারটি চার ও দুটি ছক্কার শটে সাজান। লিটন ১৮ বলে দুই চারে অপরাজিত ১৮ রান করেন।
প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট ১৮ পেরিয়ে উনিশে পদার্পণ

প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট ১৮ পেরিয়ে উনিশে পদার্পণ শাহরিয়ার শিমুল চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি পরিচিত নাম ‘প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট’ (পিএফটিআই)। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে সংগঠনটি আজ ১ সেপ্টেম্বর সোমবার সফলতার ১৯ বছরে পদার্পণ করল। এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লোকজ সংস্কৃতিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভাষায় গোটা দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট। স্বীকৃতিস্বরূপ নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ টেলিভিশন, চ্যানেল আই, আমেরিকান দ্রুতাবাস, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। দেশের অন্যান্য জেলা শহরেও পারফর্ম করে চলেছে পিএফটিআই। ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর পথচলা শুরু প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের। এটি গঠনে উদ্যোগী হন চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা সংগঠনটি আজ অত্যন্ত সফলতা এবং সুনামের সঙ্গে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে কাজ করে চলেছে। বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে বলেই বাংলার জনমানুষের আকার, অবয়ব, চেহারায় এত বৈচিত্র্য। তেমনি নানা ভাষাজাতির আগমনে সংস্কৃতিতেও বৈচিত্র্য দেখা যায়। তবে পল্লী ও কৃষিপ্রধান এই বাংলাদেশে গ্রামীণ জীবনের সংস্কৃতির প্রভাবই বেশি। আবার নদীর খেয়ালি আচরণ আর প্রকৃতির ঋতুবৈচিত্র্য বাঙালিমানসকে বিচিত্রভাবে সমৃদ্ধ করেছে। আর তাই বাঙালির সংস্কৃতি বুঝতে এই বৈচিত্র্যময় পটভূমি খেয়ালে রাখতে হয়। লোকসংস্কৃতি লোকসম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাস ও আচার-আচরণ, জীবনযাপন প্রণালী, চিত্তবিনোদনের উপায় প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি। এটা সম্পূর্ণই তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। দীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা এই সংস্কৃতি তাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মাধ্যমে আনন্দময় পরিবেশে লোকশিক্ষা প্রদান করার লক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে গড়ে ওঠে ‘প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট (পিএফটিআই)’। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধারণ, সংরক্ষণ, উন্নয়ন, গবেষণা ও এর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার লক্ষে কাজ শুরু করে সংগঠনটি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের লোকজ সংস্কৃতি দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতেও কাজ করেছে প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট। প্রত্যেক বাঙালির শিরা-উপশিরায় তার নিজস্ব সংস্কৃতির ধারা প্রবাহিত। কাজেই যে কোনো তথ্য জনগণের অন্তরে গেঁথে দিয়ে তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটানোর জন্য এই আঙ্গিকগুলো অধিক কার্যকরী। প্রাচীন বাংলার উল্লেখযোগ্য জনপদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নিজস্ব সম্পদ গম্ভীরা। গম্ভীরার মূল উদ্দেশ্যই থাকে সমাজের নানা অসঙ্গতি হাস্যরসাত্মকভাবে তুলে ধরা। এতে মুখ্য চরিত্রে থাকেন একজন নানা ও একজন নাতি। সঙ্গে কয়েকজন বাদ্যযন্ত্র বাদক ও দোহারী। গম্ভীরায় নানা-নাতি দুজনেই পাড়াগাঁয়ের অতি সহজ-সরল মানুষের ভূমিকায় বিভিন্ন তথ্য আঞ্চলিক ভাষায় অভিনয়, নৃত্য ও গানের সুরে সুরে দর্শকদের মাঝে উপস্থাপন করে থাকেন। যাতে করে সাধারণ মানুষ বিনোদনের মাধ্যমে নানা-নাতির পরিবেশিত তথ্যগুলো খুব সহজেই হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন। তবে গম্ভীরার এই নানা-নাতির পোশাক, কথা বলার ঢং সবকিছুর মধ্যেই ফুটে ওঠে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গ্রামের সহজ সরল কৃষকের ছবি। গম্ভীরার প্রধান চরিত্র নানার পরনে থাকে ছেঁড়া লুঙ্গি, স্যান্ডো গেঞ্জি, মুখে পাকা দাড়ি, মাথায় মাথল, হাতে লাঠি। নাতির পরনে থাকে হাফ প্যান্ট বা লুঙ্গি, ছেঁড়া গেঞ্জি, কোমরে গামছা, কখনো গামছার আঁচলে বাঁধা থাকে ছাতু ও কালাইয়ের রুটি। গম্ভীরার আরেকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখযোগ্য। আর তাহলো তাৎক্ষণিক বিভিন্ন তথ্য এতে সন্নিবেশ করা। অর্থাৎ গম্ভীরা দল যে কর্মসূচিতে যোগ দিতে যায়, তখন সে কর্মসূচির উদ্দেশ্যের আলোকেই গম্ভীরা সাজিয়ে থাকেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতি এই গম্ভীরায় প্রয়াস ফোক থিয়েটার ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। সাধারণত প্রচলিত ধারার গম্ভীরায় নানা ও নাতির মধ্যে শুধু গান ও আলাপচারিতা লক্ষ্য করা যায়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এর মূল বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে ছোট-বড় অনেক তথ্যই দর্শক-শ্রোতার কাছে বোধগম্য হয় না। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গম্ভীরার পূর্বনির্ধারিত বিষয়বস্তুর তথ্যগুলো আরো সহজতরভাবে দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য কয়েকটি নাট্যাংশ তৈরি করে পিএফটিআই। যাকে তারা বলছে ‘গম্ভীরা নাট্য’। এক্ষেত্রে গম্ভীরার প্রতিটি কথাই হয় তথ্যনির্ভর। গম্ভীরা ও গম্ভীরা নাট্যের পাশাপাশি বাংলার প্রায় হারিয়ে যাওয়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির একটি মাধ্যম পটগান নিয়ে কাজ করছে পিএফটিআই। দর্শকদের মাঝে তথ্য পৌঁছে দেবার জন্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এটি একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। পটগান এমনই এক মাধ্যম, যা দ্বারা সব ধরনের দর্শকদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়। কারণ পটগানে ছবিও প্রদর্শিত হয় এবং সেই ছবির বর্ণনা নৃত্য ও গানের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। এতে করে ছবি দেখেই কাঙ্ক্ষিত তথ্য পেয়ে যান কোনো কোনো দর্শক। আবার কিছু কিছু দর্শক আছে, যারা গান শুনেই নির্ধারিত বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হন। আবার একইসাথে ছবি ও গান শুনে বিষয়টি বুঝতে সহজ হয় কোনো কোনো দর্শকের। এভাবে দর্শক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে পটগানও বিনোদনের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের গম্ভীরা, পটগান ছাড়াও অন্য আঙ্গিকগুলো হচ্ছে— আলকাপ গান, কবিগান, কিচ্ছা কাহিনী, লাঠিখেলা, সত্য পীরের গান, মনসার গান, মেয়েলী গীত এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতি। এই আঙ্গিকগুলোর মধ্যে থেকে পিএফটিআই কয়েকটি নিয়ে পরীক্ষামূলক নাট্য নির্মাণ করেছে এবং ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট, তিনি হলেন প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন। সংস্কৃতি অনুরাগী এই মানুষটি বলা যায়, ‘অক্সিজেন’ দিয়ে প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউটকে ১৮ বছর ধরে টেনে নিয়ে চলছেন। কেননা বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা চালিয়ে যাওয়া একটা খরুচে বিষয়। সেটাকে মেনে নিয়েই ফোক থিয়েটারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন তিনি।
শিবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে দুজনকে কারাদন্ড, উদ্ধার চোলাইমদ

শিবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে দুজনকে কারাদন্ড, উদ্ধার চোলাইমদ শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ও কানসাটের মিলিক বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ মোতাবেক দুজনকে যথাক্রমে ২ মাসের ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদ- ও অর্থদ- প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিক আজিজ। অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সদস্যরা সহযোগিতা করেন। অভিযান চলাকালে দেশী চোলাইমদ তৈরির কাঁচামালসহ চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মাদকের কালো থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে তৌফিক আজিজ জানিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৬ চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে ৬ জন ও বহির্বিভাগে ৬ জন এবং শিবগঞ্জে ৩ জন ও গোমস্তাপুরে ১ জন শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬ জন। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রোগী রয়েছেন। এছাড়া জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৬ জনকে। তাদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ২ জন নারী রয়েছেন। অন্যদিকে গোমস্তাপুর ভর্তি আছেন ১ জন এবং শিবগঞ্জ থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৩ জনকে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে আজ এই তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা হচ্ছে ১ হাজার ৭৭৬ জন। একই সময়ে বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হচ্ছে ১ হাজার ২৩৪ জন।
মালয়েশিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২ শ্রমিকের মৃত্যু

মালয়েশিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২ শ্রমিকের মৃত্যু গোমস্তাপুর উপজেলার মালয়েশিয়া প্রবাসী ২ যুবক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- গোমস্তাপুর সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গোপালনগর গ্রামের শুকুরুদ্দীন কালুর ছেলে তুহিন ও একই ওয়ার্ডের নসিবন্দিনগর গ্রামের কাবিলের ছেলে শামীম রেজা। নিহতদের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা প্রায় আড়াই বছর যাবৎ মালয়েশিয়ায় পাম বাগানের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত তুহিনের মামা শফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটার দিকে পাহাড়ী এলাকায় পিকআপ জাতীয় গাড়ীতে থাকা গোমস্তাপুরের ৫ জন পামবাগানে কাজ শেষে আবাসস্থলে আসার পথে একটি মোটরসাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় গাড়ী উল্টে দু’জন নিহত হন। ঘটনার পর ওই গাড়ী থেকে লাফ দিয়ে রক্ষা পান গাড়ীতে থাকা অপর তিন বাংলাদেশী। ঘটনার পর মালয়েশিয়ায় থাকা এলাকার ও বাংলাদেশের অন্য শ্রমিকরা বিকেল ৫টার দিকে নিহতদের বাড়িতে ফোন করে খবর দেন। জানাগেছে, মালয়েশিয়ায় রবিবার ছুটি থাকলেও তাঁরা ওভারটাইম করছিলেন। বর্তমানে মরদেহ মালয়েশিয়ান পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এবিষয়ে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ওয়াদুদ আলম জানান, গতকাল দুপুরে মালয়েশিয়ায় গোমস্তাপুরের দুই বাসিন্দা সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হবার খবর তাঁরা জানতে পেরেছেন।