মেয়েদের দুর্দান্ত জয় ব্যাটে-বলে

মেয়েদের দুর্দান্ত জয় ব্যাটে-বলে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ নারী দল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন তারা। শারমিন সুলতানা সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন। রান পেয়েছেন ওপেনার ফারজানা হক। বল হাতে সুলতানা আক্তার, মারুফা খাতুনরা করেছেন বাজিমাত। বাংলাদেশ নারী দলও পেয়েছে ১৫৪ রানের বড় জয়। বুধবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে পায় ৫৯ রান। মুর্শিদা খাতুন ৩৮ রান করে ফিরে যান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১০৪ রান যোগ করে বাংলাদেশ। সাজঘরে ফেরার আগে ওপেনার ফারজানা হক খেলেন ১১০ বলে ৬১ রানের ইনিংস। তবে ব্যাটারদের মধ্যে সেরা ইনিংসটা খেলেছেন তিনে নামা শামীমা আক্তার। তিনি ৮৯ বলে ৯৬ রান করে আউট হন। ১৪টি চার আসে এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে। এছাড়া অধিনায়ক নিগার সুলতানা ২৮ ও স্বর্ণা আক্তার ১৩ রান যোগ করেন। বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রান করে। জবাব দিতে নেমে আয়ারল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল ২৮.৫ ওভারে মাত্র ৯৮ রান তুলে অলআউট হয়েছে। আইরিশ মেয়েদের পক্ষে ওপেনার সারাহ ফোরবেস ২৫ রান করেন। চারে নেমে অর্লা প্রিন্ডারগাস্ট ১৯ ও লাউরা ডিলানি ২২ রানের ইনিংস খেলেন। তাদের ধসিয়ে দেওয়ার কাজটা করেছেন বাংলাদেশের তিন বোলার। এর মধ্যে সুলতানা খাতুন ৮.৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন। পেসার মারুফা ৪ ওভার বোলিং করে নেন ২ উইকেট। নাহিদা আক্তার নেন ২ উইকেট। ওপেনারসহ দলটির তিন ব্যাটার রান আউট হয়েছেন।

জিকা ভাইরাস শনাক্ত ঢাকায়

জিকা ভাইরাস শনাক্ত ঢাকায় ঢাকায় শনাক্ত হয়েছে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী। গত তিন মাসে আটজনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি জানা গেছে। গত বছরও পাঁচজন জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসা নেওয়ার পর তারা এখন ঝুঁকিমুক্ত। বুধবার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, জিকা ভাইরাস দেশে প্রথম ২০১৪ সালে শনাক্ত হয়। জিকার কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, এর চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক। গবেষকরা বলছেন, জিকার পাশাপাশি ঢাকা শহরে এখন চিকুনগুনিয়ায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এর অর্থ ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়া—এই তিন রোগে ঢাকা শহরের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগ তিনটি ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে। আইইডিসিআর জানিয়েছে, জিকার কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, এর চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে, জ্বর ও ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খেতে হবে। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে কাছের সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে বা রোগীকে ভর্তি করাতে হবে। জিকা ভাইরাসের দুটি ধরন আছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। একটি আফ্রিকান অন্যটি এশিয়ান। আইসিডিডিআরবি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় তাদের পাওয়া জিকা ভাইরাসের জিন বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ধরনটি এশিয়ান।

নিনজা-ডোরেমনের ডাবিং আর্টিস্ট জুনকো হরিয়ার মারা গেছেন

নিনজা-ডোরেমনের ডাবিং আর্টিস্ট জুনকো হরিয়ার মারা গেছেন কিংবদন্তি ডাবিং আর্টিস্ট জুনকো হরি মারা গেছেন। জনপ্রিয় কার্টুন নিনজা হাতোরি এবং ডোরেমন-এ কণ্ঠ দিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছিলেন। অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জাপানি এই ভয়েস আর্টিস্ট। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। জুনকো হরির প্রোডাকশন সংস্থা বাওবাব মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত বার্ধক্যজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে গোপনীয়তার অনুরোধ জানিয়ে তার শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন। এই কারণেই শিল্পীর মৃত্যুর খবর দেরি করে জানানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় আরও জানা গেছে যে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুধু নিকটাত্মীয়দের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভক্তদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বাড়িতে যাওয়া বা উপহার দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রবীণ জাপানি এ অ্যানিমেশন ডাবিং তারকা অসংখ্য জনপ্রিয় অ্যানিমেশনে নিজের কণ্ঠ দিয়েছেন। অ্যানিমে ভূমিকার জন্য পিচ করার পাশাপাশি গেগে নো কিতারো এবং গানবারে গোয়েমন গেম সিরিজে ভিডিও গেম চরিত্র সুনাকাকে এবং সাসুকেতে কণ্ঠ দিয়েছেন হরি। অ্যানিমে নিউজ নেটওয়ার্ক অনুসারে, তিনি পশ্চিমা চলচ্চিত্র টোক কিল এ মকিংবার্ড, ম্যাড ম্যাক্স বিয়ন্ড থান্ডারডোম এবং গেট ইওর গানের ভূমিকায় ডাব করেছেন। তার অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যস্ততার জন্য তাকে অ্যানিমেটেড সিটকম দ্য সিম্পসনসের প্রথম ১৫ সিজনে বার্ট সিম্পসনকে কণ্ঠ দিতে হয়েছিল। তাছাড়া, তিনি টম অ্যান্ড জেরি কার্টুন সিরিজে জেরির কণ্ঠস্বর দিয়েছিলেন। হরির অ্যানিমে ক্রেডিটগুলোর তালিকার মধ্যে রয়েছে অ্যাস্ট্রো বয়, সিন্ডারেলা বয়, অ্যান অফ গ্রিন গেবলস, দ্য গুটি ফ্রগ, লিজেন্ড অফ দ্য মিস্টিক্যাল নিনজা, সিন্দবাদ দ্য সেলর, রেইন বয়, ক্যাট আইড বয়, স্পিড রেসার, লিটল লুলু, টোকিও মেউ-এর ভয়েসিং চরিত্রগুলো যা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

যুদ্ধবিরতি শুরু হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল

যুদ্ধবিরতি শুরু হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল লেবাননে ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। আজ বুধবার স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে দুপক্ষের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। খবর রয়টার্সের। যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও এখনই লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না ইসরায়েল। তবে ৬০ দিনের মধ্যে তাদের অবশ্যই লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও বৈরুত জুড়ে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। তবে এটা উদযাপনের জন্য করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ। তবে লেবাননের সেনাবাহিনী ইসরায়েল সীমান্তবর্তী বসতিদের নিজ বাড়িতে ফিরতে একটু অপেক্ষা করতে বলেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, সকাল ৪টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

বৃষ্টির আভাস বৃহস্পতিবার থেকে 

বৃষ্টির আভাস বৃহস্পতিবার থেকে  দেশের তিন বিভাগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অফিস আরো জানায়, আগামীকাল খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ দিন শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়া পরদিন শুক্রবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ দিন দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে এবং সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, রাত এবং দিনের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরো উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সকাল ৬টায় একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে।

আবরারকে নিয়ে চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে ৩ ডিসেম্বর

আবরারকে নিয়ে চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে ৩ ডিসেম্বর বেদনা জাগানো এক সিনেমার নাম ‘রুম নম্বর ২০১১’। গল্পটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নিয়ে। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর যাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছিলেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। বুয়েটের সেই আবরার ফাহাদকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য এই চলচ্চিত্রটি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শেখ জিসান আহমেদের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে এটি। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অভিনয় করেছেন। এর আগে সিনেমাটি মুক্তির কথা শোনা গেলেও সেটি চূড়ান্ত কিছু ছিল না। অবশেষে এটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ৩ ডিসেম্বর। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রিমিয়ার হবে ছবিটির। পাশাপাশি আগামী ৩০ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও প্রিমিয়ার হবে সিনেমাটির। ‘রুম নম্বর ২০১১’ পরিচালক জিসানের প্রথম ফিকশন। এর আগে তিনি বিভিন্ন সিনেমার দৃশ্যের রিমেক করে আলোচনায় এসেছেন। এর মধ্যে আছে ‘মনপুরা’, ‘থ্রি ইডিয়ট’সহ বেশ কিছু সিনেমা। জিসান আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘রুম নম্বর ২০১১’ সরাসরি বায়োপিক নয়। আবরারের ঘটনার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। আমরা নির্মাণের আগে তার পরিবার, বন্ধু, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। আবরার সম্পর্কে সবকিছু জেনেই নির্মাণে হাত দিয়েছি। তবে আবরারের ঘটনাটি বুয়েটের হলেও এটির শুটিং হয়েছে জিসানের ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কোটি টাকা দুর্নীতির পরও চাকরি যাবে না

কোটি টাকা দুর্নীতির পরও চাকরি যাবে না সরকারি চাকরি আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আইনটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় ১০ বছর ঘষামাজার পর চূড়ান্ত হয়। সে সময় টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) এবং গণমাধ্যমের সমালোচনা উপেক্ষা করে আইনটি প্রণয়ন করা হয়। এতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নানাভাবে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে আইনের ৪১ এবং ৪২ ধারা নিয়ে বিশেষ বিতর্ক রয়েছে। এক বছরের কম শাস্তি হলে কিংবা হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করলেও সরকারি কর্মচারীকে চাকরিচুত করা যাবে না এমন বিধান এতে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনটি ফের সংশোধন করতে হবে। কারণ এটি দুর্নীতি রোধের চেয়ে বেশি উৎসাহিত করবে। যা একটি কুলুষমুক্ত প্রশাসন গঠনে বড় বাধা। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ প্রণয়ন করে ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা বাতিল করা হয়। জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান কোনো মন্তব্য করেননি। তবে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, সরকারি চাকরি আইন প্রণয়ন করা হয় অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের জন্য। অথচ এই আইনে বেশকিছু দুর্বলতা রয়েছে। এসব দুর্বলতা এখনি সংশোধন করা সময়ের দাবি। অন্যথায় আইনটি প্রণয়নের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আগামী দিনেও অতীতের মতো কর্মচারীরা হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করবে। তাতে তাদের চাকরি যাবে না। ধারা দুটি দুর্নীতি সহায়ক বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারি চাকরি আইনের ৪১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার পূর্বে তাকে গ্রেফতার করতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে। এই ধারার দুর্বলতা প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ আসেই না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পুলিশ সদস্যরা আসামি ধরতে গিয়ে অনেক সময় বাড়াবাড়ি করেন অথবা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ থাকে, এছাড়া সরকারি জমি, বাড়ি, স্থাপনা থেকে উচ্ছেদের সময় কিছু ঘটনা ঘটে, যা দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিযোগ খুব একটা আসে না। এসব ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনে বলা আছে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে। তিনি বলেন, দেশে কর্মচারীরা কর্মরত অবস্থায় ঘুস নিচ্ছেন, অনেক কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় সেবাপ্রত্যাশীর সঙ্গে মারামারি করছেন। অথচ আইনে বলা হয়েছে এ ধরনের অপরাধ ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে তাদের গ্রেফতারের আগে সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অসাধু কর্মচারীদের অনেকেই ঘুসের টাকাসহ ধরা পড়েছে। অথচ সরকারি চাকরি আইনে বলা আছে তাকে গ্রেফতার করতে সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে। সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বা এক বছর মেয়াদের অধিক কারাদণ্ড হলে, ওই দণ্ড আরোপের রায় বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে চাকরি থেকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত হবে। আইনের ৪২(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায়ে অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড কিংবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হলে তাকে তিরস্কার, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের দণ্ড আরোপ করা যাবে। তার চাকরি থাকবে। এই ধারার দুর্বলতাগুলোর বিষয়ে ফিরোজ মিয়া বলেন, আইনের এই বিধান থাকায় এক বছর পর্যন্ত শাস্তি হলে সাজা শেষে সে জেল থেকে বেরিয়ে ফের চাকরিতে যোগদান করতে পারবে। তিরস্কার দণ্ড দেওয়া হলো কিন্তু তার চাকরি বহাল থাকল, পদোন্নতি স্থগিত হলো অথচ তার চাকরি বহাল থাকল, নিম্নতর স্কেলে নামিয়ে দিল কিন্তু তার চাকরি বহাল থাকল এবং তার কাছ থেকে জরিমানা আদায় করল অথচ তার চাকরি থাকল-এটা আইনের শাসনের পরিপন্থি। তিনি আরও বলেন, সরকার একজন ঘুসখোরকে চাকরিতে রাখবে কেন? তিনি আরও বলেন, ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিতে বলা ছিল, মৃত্যুদণ্ড, এক বছরের অধিক কারাদণ্ড, দশ হাজার টাকার অধিক জরিমানাসহ আইনের বিধানের মধ্যে যে কোনো অপরাধ সংঘটন করুক না কেন সেই ক্ষেত্রে কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা যাবে। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ প্রণয়ন করে ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা বাতিল করা হয়। ফিরোজ মিয়া আরও বলেন, ধরুন কেউ ৫০০ টাকা ঘুস নেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত হলো, বর্তমান আইনে তার কিছুই হবে না। ১৯৮৫ সালের শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির বিধানের আলোকে তার চাকরি থাকার কথা নয়।ফিরোজ মিয়া উদাহরণ দিয়ে বলেন, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে এক বছরের বেশি শাস্তি দেওয়া হয় না। বর্তমান আইন অনুসারে এক বছর জেল খাটার পরও তার চাকরি বহাল থাকবে। কোনো স্কুল, কলেজ কিংবা মাদ্রাসার শিক্ষক মেয়েদের কিংবা মহিলা সহকর্মীকে উত্ত্যক্ত করল এবং তার ৬ মাসের জেল হলো। সেই ক্ষেত্রে তার চাকরি যাবে না। কারণ চাকরি আইনে বলা আছে এক বছরের অধিক জেল না হলে তার চাকরি যাবে না। মেয়েদের শ্লীলতাহানির অপরাধে জেল খেটে এসে যদি ওই শিক্ষক আবার শিক্ষকতা করতে আসেন তাহলে পরিবেশটা কেমন হয়। ফিরোজ মিয়া বলেন, ঘুস নেওয়ার মামলায় কোনো কর্মকর্তা অভিযুক্ত হয়ে এক বছর জেল খাটার পর আবার এসে কি সে দায়িত্বপালনের নৈতিক যোগ্যতা রাখেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা ঘুসের মামলায় এক বছর জেল খেটে এসে কি আবার কোনো মামলার তদন্ত কাজ করতে পারবেন? কিন্তু আইনে বলা হয়েছে এক বছর পর্যন্ত শাস্তি হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। ফিরোজ মিয়া বলেন, দুদক আইনে একজন কর্মচারীর তিন বছর জেল এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে সে অপিল দায়ের করে এবং আপিল আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এ অবস্থায় সে সরকারি চাকরি ফিরে পেয়েছে। কারণ সরকারি চাকরি আইনে বলা আছে, এক বছরের কম সময় জেল হলে তার চাকরি যাবে না। ফিরোজ মিয়া আরও বলেন সরকারি চাকরি আইনের ৪২-এর দুই ধারায় অর্থদণ্ড হাজার কোটি টাকা হলেও তার চাকরি যাবে না। সরকার শুধু জরিমানা আদায় করতে পারবে। কিন্তু চাকরি বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রথম সহকারি সচিব সারা স্টোরি। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় সেদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরে গতকাল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ৫ম ফরেন অফিস কনসালটেশনে এ আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রথম সহকারি সচিব সারা স্টোরি। পারস্পারিক সমঝোতার ভিত্তিতে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সভায় উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, কৌশলগত ও আঞ্চলিক বিষয়, অভিবাসন, বেসামরিক সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে উন্নয়ন কার্যক্রমে চলমান সহযোগিতার জন্য অস্ট্রেলিয়ার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বৈঠকে কৃষি, শিক্ষা, ব্লু ইকোনোমি, জ্বালানি ও তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হয়। এসময় রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে তাদেরকে নিজ প্রত্যাবাসনে অস্ট্রেলিয়ার আরো সক্রিয় ভূমিকা কামনা করা হয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকেও অনিয়মিত অভিবাসন, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘবদ্ধ চোরাচালান ও মানবপাচার রোধে বাংলাদেশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রশংসা করা হয়। বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে বৈশ্বিক পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উভয় দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ততার বিষয় উল্লেখ করে এ সমস্যা মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গী, সন্ত্রাস দমনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বহুপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে এ অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের বিষয়ে উভয় দেশের দৃঢ়তা প্রতিফলিত হয়। এসময় দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং ভবিষ্যত সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। বৈঠকে দু’দেশের সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্পারিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎসাহ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সফর বিনিময়সহ দু’দেশের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ হাইকমিশনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফরেন অফিস কনসালটেশনের পরবর্তী বৈঠক ২০২৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

গভীর নিম্নচাপ সাগরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

গভীর নিম্নচাপ সাগরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে, বুধবারের ২৭ নভেম্বর আবহাওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রাশিয়ার যুদ্ধবিমান পথ আটকাল যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বিমানের

রাশিয়ার যুদ্ধবিমান পথ আটকাল যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বিমানের  বাল্টিক সাগর-সংলগ্ন রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বি-৫২ বোমারু বিমান রাশিয়ার সু-২৭ যুদ্ধবিমানের বাধার মুখে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি সামরিক মহড়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। বোমারু বিমানগুলো ফিনল্যান্ডের আকাশসীমায় যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। ফিনল্যান্ড সম্প্রতি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হয়েছে। দেশটির সীমান্ত রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ১,৩৪০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। মহড়ার সময় রাশিয়ার যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানগুলোর গতিরোধ করে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সরবরাহ করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে মস্কো ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবারের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার মতে, রাশিয়ার বাধার ধরন পেশাদার এবং নিরাপদ ছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমানগুলো পূর্বপরিকল্পিত পথে থেকে তাদের মহড়া চালিয়ে যায়। ফিনল্যান্ডের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, এই মহড়া তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও উন্নত করতে পরিচালিত হয়েছে। তবে মহড়ার সময় রাশিয়ার বাধা দেওয়ার বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পরের বছর ফিনল্যান্ড ন্যাটোর সদস্যপদ লাভ করে। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিনল্যান্ড কিয়েভের প্রতি শক্ত সমর্থন দিয়ে আসছে। ইউক্রেনের পাশে থাকা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ফিনল্যান্ডের এই যৌথ মহড়া রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।