৭৫ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত

৭৫ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করে গ্রেপ্তার হওয়া আরও ৭৫ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করেছে দেশটির সরকার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে তারা বিক্ষোভ করেছিলেন তারা। এ নিয়ে মোট ১৮৮ জনকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি দিয়েছে আরব আমিরাত। শুক্রবার ২৯ নভেম্বর দুপুরে ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, এ ইস্যুতে আমিরাতে আর কোনো বাংলাদেশি গ্রেপ্তার নেই। এর আগে দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সারওয়ার আলম লেখেন, ‘জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-জনতাকে হত্যা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মিছিল ও বিক্ষোভ করায় আটক আরও ৭৫ প্রবাসী বাংলাদেশিকে আজ ক্ষমা করল আমিরাত সরকার। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ১৮৮ জনকে মুক্তি দিয়েছে আমিরাত সরকার। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছিলেন, গত ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের। সেখানে বড় অংশজুড়ে ছিল ৫৭ বাংলাদেশির শাস্তি মওকুফের বিষয়টি। প্রধান উপদেষ্টা প্রেসিডেন্টকে প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট তার কথা রেখেছেন। প্রধান উপদেষ্টা এ সুখবরটি পেয়েছেন। উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করায় ৫৭ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিল দেশটির আদালত। তাদের মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন, ৫৩ জনকে ১০ বছর এবং একজনকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বিয়ে করেছেন কেয়া

বিয়ে করেছেন কেয়া গতকালই খবরটা জানা গেছে, বিয়ে করেছেন চলচ্চিত্রশিল্পী সাবরিনা সুলতানা কেয়া। মান্না ও শাকিবের সঙ্গে অভিনয় শুরু করেছিলেন তিনি। তাও প্রায় দুই যুগ আগে। ৩৯ বছর বয়সে বিয়ের খবর জানালেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ২৮ নভেম্বর মধ্যরাতে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে খবরটি জানান এই নায়িকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিয়ের খবর জানিয়ে লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ। বিয়ে করলাম, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেয়ার স্বামীর নাম মোস্তাক কিবরিয়া। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তবে মোস্তাকের এটি প্রথম বিয়ে নয়। এর আগে মোস্তাক কিবরিয়া চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা কে বিয়ে করেছিলেন। তাই পূর্ণিমার প্রাক্তন স্বামী তিনি। জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী মোস্তাক কিবরিয়ার সঙ্গে প্রথম বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পূর্ণিমা। তার সাথে ডিভোর্স হয় ২০০৭ সালের ১৫ মে। বিয়ে প্রসঙ্গে কেয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হঠাৎ করেই বিয়েটা করা, তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়েটা পারিবারিকভাবেই হয়েছে। আমার ও মোস্তাকের মা চাইছিলেন বিয়েটা হোক। দুই পরিবারের ইচ্ছাতেই বিয়ে হয়েছে। সবাই আমাদের নতুন সংসার জীবনের জন্য দোয়া করবেন। যেন বাকিটা পথ একসঙ্গে পাড়ি দিতে পারি। প্রেম নাকি পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়েছে জানতে চাইলে কেয়া বলেন, ‘সম্পূর্ণ পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের প্রস্তুতির জন্য সময়ও পাইনি। বিয়ের সময় শুধু দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, মনতাজুর রহমান আকবর নির্মিত ‘কঠিন বাস্তব’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন সাবরিনা সুলতানা কেয়া। এরপর টানা সিনেমায় অভিনয় করেন। নায়ক হিসেবে পান মান্না, রুবেল, আমিন খান, রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিব খানদের মতো তারকাদের। মাঝে পারিবারিক কারণে লম্বা বিরতিতে যান কেয়া। এরপর ২০১৫ সালে ‘ব্ল্যাক মানি’ দিয়ে আবারও পর্দায় ফেরেন নায়িকা। বর্তমানে তার অভিনীত বেশ কিছু সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে কেয়া অভিনীত ‘কাঠগোলাপ’ দেশে সেন্সরজনিত কারণে আটকে রয়েছে। তবে সিনেমাটি বুলগেরিয়া, ভারত, আমেরিকাসহ বিশ্বের নানা চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে আটটি পুরস্কার জিতেছে।

১০ উপকারিতা ফুলকপির 

১০ উপকারিতা ফুলকপির  ফুলকপি শীতের মৌসুমের অন্যতম সুস্বাদু সবজি। শীতের শাকসবজিতে একটু বেশি পরিমাণে পুষ্টিগুণ থাকে। এসব পুষ্টিগুণ শরীরের শক্তি জোগান দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ায় রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা। আসুন জেনে নেওয়া যাক, ফুলকপিতে কী কী খাদ্য উপদান আছে আর কী কী উপকার করে আমাদের? পুষ্টিতে ভরপুর ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি চর্মরোগ ও ক্ষত সারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন কে হাড়ে গঠনে ভুমিকা রাখে, ফাইবার হাজশক্তি বাড়াও ও কোষ্টকাঠিন্য দূর করে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। হজম শক্তি বাড়ায় : ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। হজমে সাহায্য করে। নিয়মিত ফুলকপি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। পাইলস ব্যাথ্যাতে রোগের জন্য ফুলকপি কার্যকর ভূমিকা রাখে। ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে : ফুলকপি কম ক্যালোরিযুক্ত একটি সবজি। এটি খেলে পেট ভরে যায়, ক্ষুধা কমে। কিন্তু কম ক্যালারিযুক্ত বলে বাড়তি মেদ জমা হওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক : ফুলকপি কার্বোহাইড্রেড বা শর্করার মাত্রা খুব কম।ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। এতে থাকা ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়। ফলে কিডনি সুস্থ রাখতে ফুলকপি সহায়ক হয়। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় : ফুলকপিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রয়েছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এটি রক্তনালীগুলোকে সুস্থ রাখে। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে। ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় : ফুলকপিতে সালফোরাফেন নামক একটি যৌগ রয়েছে। এটা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। ফুলকপি এটি স্তন, প্রোস্টেট এবং ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধে বেশ কার্যকরি। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় : ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন বি৬ এবং আরও কিছ নিউট্রিয়েন্ট। এগুলো মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ফলে মানসিক ও ডিপ্রেশন কমাতেও সাহায্য করে। ত্বকের জন্য ভালো : ফুলকপিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি ত্বককে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর করে তোলে। এটি ত্বকের বার্ধক্য রোধেও সহায়ক। ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে : ফুলকপিতে থাকা ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত এটি খেলে ঠান্ডা-কাশি বা ফ্লু সহজে হয় না। বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় : ফুলকপিতে প্রচুর সালফার যৌগ আছে। এটা শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বের করে দেয়। এটি লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ফুলকপি একটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর সবজি। এটি রান্না করা, ভাজি বা স্যুপ যেভাবেই খাওয়া যায়। তাই খাদ্যতালিকায় নিয়মিত ফুলকপি রাখুন এবং সুস্থ থাকুন।

পাঁচ দিনের জোড় শুরুই জতেমার প্রথম পর্বের প্রস্তুতিতে

পাঁচ দিনের জোড় শুরুই জতেমার প্রথম পর্বের প্রস্তুতিতে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের প্রস্তুতি হিসেবে পাঁচ দিনব্যাপী জোড় শুরু হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর দোয়ার মাধ্যমে এ জোড় শেষ হবে। শুক্রবার ২৯ নভেম্বর ফজরের পর টঙ্গীর টিনশেড মসজিদে আম বয়ানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জোড়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাবলিগের শুরায়ি নেজামের (মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীদের) মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেছেন, আজ বাদ ফজর আম বয়ানের মাধ্যমে দাওয়াত ও তাবলিগের শুরায়ি নেজামের অধীনে জোড় ইজতেমা শুরু হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর দোয়ার মাধ্যমে তা শেষ হবে। প্রতিবছর ইজতেমার আগে প্রস্তুতি হিসেবে এই জোড় হয়ে থাকে। এখানে তাবলিগের সাথীরা পুরো বছরের কাজের কারগুজারি ও বড়দের দিকনির্দেশনা গ্রহণের সুযোগ লাভ করেন। এই জোড়কে কেন্দ্র করে দেশ ও দেশের বাইরের শুরায়ি নেজামের মুরুব্বিদের আগমন ঘটে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দুই ধাপে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

ঘূর্ণিঝড় ফেনজাল ধেয়ে আসছে

ঘূর্ণিঝড় ফেনজাল ধেয়ে আসছে চলতি সপ্তাহের শেষে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা একটি লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হলে সৌদি আরবের দেওয়া নামানুসারে এর নাম হবে ফেনজাল। তবে তারা বলছেন, লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলেও তা বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা কতটুকু তা এখনও স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে। যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অবশ্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ তার ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন, ২৪ থেকে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে এই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে। এই ঘূর্ণিঝড় সরাসরি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্য ও শ্রীলঙ্কার ওপর আঘাত করার আশঙ্কা রয়েছে। এর সম্ভাব্য প্রভাবে বাংলাদেশের খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার ২৯ নভেম্বর দুপুরের তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে ৭৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বে অবস্থান করছে ঘূ্র্ণিঝড় ফেনজাল। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে তা আছড়ে পড়তে পারে। আগামী দু’দিনে তামিলনাড়ুর উপকূল হয়ে ফেনজাল উত্তর-পশ্চিমে শ্রীলঙ্কার উপকূলের দিকে এগিয়ে যাবে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তামিলনাড়ু, পুদুচেরিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টি ছাড়াও সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৬৫ কিমি বেগে হাওয়া বইবে পূর্ব ভারতের উপকূলগুলিতে। গভীর নিম্নচাপের জেরে মঙ্গলবার থেকেই তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়েছে তামিলনাড়ুতে। শুক্রবার ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে চেন্নাই, চেঙ্গালপেট, কাঞ্চিপূরম ও তিরভাল্লুরে। আর শুক্রবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে চেন্নাই, ময়িলাদুথুরাই, তিরুভারুর, নাগাপট্টিনম, তিরুভাল্লুর, কাঞ্চিপুরম, চেঙ্গলপেট এবং কাড্ডালোর জেলায়। এই আট জেলায় শুক্রবার থেকে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফেনজালের -এর দাপটে তামিলনাড়ুতে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কায় এরইমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। দুর্যোগ মোকাবিলায় মোতায়েন রাজ্য ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একাধিক দল। রাজ্যজুড়ে তৈরি রয়েছে ১৬০০-র বেশি ত্রাণকেন্দ্র।

এপারের বাড়িঘর কেঁপে উঠল মিয়ানমারের বিস্ফোরণে

এপারের বাড়িঘর কেঁপে উঠল মিয়ানমারের বিস্ফোরণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পর পর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণে এপারে বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠেছে। এতে সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার ২৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিন থেকে পাঁচটি বিকট শব্দ শুনতে পান টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বাসিন্দারা। সীমান্ত এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, গত এক বছরে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতে এমন শব্দ তারা কখনও শুনেননি। বিস্ফোরণের শব্দের পর অনেকেই আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। রাত সাড়ে ৮টার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক সীমান্ত এলাকার লোকজন এমন আতঙ্কের কথা প্রকাশও করেছেন। নাইক্ষ্যছড়ির ঘুমধুম থেকে টেকনাফ সদর পর্যন্ত বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছেন টেকনাফ সদরের বাসিন্দা জাবেদ ইকবাল। ঘুমধুমের বাসিন্দা আজিজুল হক জানান, মিয়ানমারের বলিবাজারের এলাকা থেকে বিকট শব্দ ভেসে আসে। এসময় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আরাকান আর্মির ক্যাম্পে মিয়ানমার সরকারি বাহিনী গোলা বর্ষণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের বিস্ফোরণের শব্দটি অনেক বেশি ভয়াবহ। এমন শব্দ আর কখনও শোনা যায়নি। গোলার শব্দ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রাতে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে থেমে থেমে ভারী মর্টার শেলের শব্দ শুনতে পেয়েছি। এসব গোলার শব্দ এখন নিয়মিত ঘটনার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের গোলার বিকট শব্দ আগে পাওয়া যায়নি। যার ফলে লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সীমান্তে আগুনের কুণ্ডলী, যুদ্ধবিমানও দেখা গেছে। এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলার ইউএনওর দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, মিয়ানমারের গোলার বিকট শব্দে আমার বাসভবনও কেঁপে উঠেছে। সীমান্তের লোকজনের খোঁজ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তের আমাদের বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা সর্তক অবস্থানে রয়েছেন। এদিকে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে কোনো রোহিঙ্গা নাগরিক যেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে সীমান্তে কড়া পাহারায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ ইশতিয়াক মুর্শেদ।

বাড়বে খেলাপি ঋণ ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন

বাড়বে খেলাপি ঋণ ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন ঋণ শ্রেণিকরণের নতুন নিয়মে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশে গত ছয় মাসে বেসরকারি খাতে কোনো বিনিয়োগ নেই। আর্থিক খাতে এখনো চলছে অস্থিরতা। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন প্রেসক্রিপশনে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগ ব্যাহত হবে। কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়বে। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, নিয়মিত ও খেলাপি ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার ফলে ব্যাংকের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিনিয়োগ স্থবিরতায় মন্দার আশঙ্কা করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টাও। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে মোট ১৬ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এপ্রিল-জুন প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা, আর বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে ঋণ পেতে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের শর্ত পূরণ করেছে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা সংশোধন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ শ্রেণিকরণে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা মাস্টার সার্কুলার মোতাবেক সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধ/সমন্বয়ের জন্য নির্ধারিত দিনের পরবর্তী দিন থেকে তা মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে গণ্য হবে। সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদোত্তীর্ণের সময়সীমা ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে হলে নিম্নমান, ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে সন্দেহজনক ও ১২ মাস বা এর অধিক হলে মন্দ/ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত হবে। স্ট্যান্ডার্ড ঋণের ক্ষেত্রে ঋণস্থিতির ১ শতাংশ, স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ঋণস্থিতির ৫ শতাংশ জেনারেল প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণের ক্ষেত্রে নিম্নমান হলে প্রভিশনের ভিত্তির ওপর ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক হলে প্রভিশনের ভিত্তির ওপর ৫০ শতাংশ ও মন্দ-ক্ষতিজনক হলে প্রভিশনের ভিত্তির ওপর ১০০ শতাংশ স্পেসিফিক প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। এ বিষয়ে ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, খেলাপি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম বেসরকারি খাতবিরোধী পদক্ষেপ। এতে বিনিয়োগ ব্যাহত হবে। কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়বে। সব মিলিয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব পড়বে। আইএমএফের কাছ থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার শর্ত হিসেবে অনেক নিয়মকানুন করতে হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তখন বাস্তবতা লুকানো হতো। এখন তো অর্থনীতির ক্ষত বেরিয়ে আসছে। ফলে এখন এই সিদ্ধান্তের ফল ভালো হবে না বলেই মনে করছি। বিজিএমইএর পরিচালক ও শাশা ডেনিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর দোষে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তা নয়; একদিকে ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে, আরেক দিকে জ্বালানির দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। জ্বালানির দাম ও শ্রমিকদের মজুরি প্রায় একই সময় বেড়েছে। এর পর সামনে দুটি ঈদ। এপ্রিল মাস থেকে খেলাপি ঋণের নতুন এই নীতি কার্যকর হলে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। সেটা হলে সামস্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও নষ্ট হবে। আশঙ্কা করছি, খেলাপি ঋণ আরও বেড়ে যাবে। এই সিদ্ধান্ত সময়োচিত হলো না। সরকারের উচিত হবে, আইএমএফের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ‘রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে, বিশৃঙ্খলার কারণে বেসরকারি খাতে উৎপাদনে স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। গার্মেন্ট খাতে স্থবিরতা আছে। তার ওপর সুদহার অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগ আসছে না। সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ও যদি না বাড়ে তাহলে তো অর্থনীতির মন্দা অবস্থা তৈরি হবে।’ ব্যাংকাররা বলছেন, ঋণ খেলাপির নতুন নীতিমালা ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হলে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আরও বেড়ে দ্বিগুণ হবে। ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আগামীতে খেলাপি ঋণ বাড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। নিয়মিত এবং খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ বাড়বে। ফলে ব্যাংকের মুনাফা কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আশরাফ আহমেদ গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অর্থনীতিতে গতিশীলতা ফিরে আসার পর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো ভালো হতো। ব্যাংক খাতকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করতে সহায়তা করলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঋণ নতুন করে খেলাপি হয়ে যাওয়ার শঙ্কা বাড়বে। অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ব্যাংক খাতের জন্য বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কডিভের কারণে অর্থনীতির অবস্থা যখন খারাপ হলো, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক একটা সার্কুলার জারি করে জানিয়েছিল, নয় মাস ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলেও খেলাপি হবে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য এ সময়সীমা ধীরে ধীরে কমিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে ৯০ দিনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু অর্থনৈতিক অবস্থার তো উন্নতি হয়নি। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা আমাকে বলেন, আমরা কভিডের সময় ভালো ছিলাম। আমরা কভিডে ফিরে যেতে চাই। তার মানে কভিডের চেয়েও খারাপ অবস্থায় এখন আছি। গ্যাস-বিদ্যুতের কারণে কারখানা চালাতে পারছি না। শ্রমিক অসন্তোষ ছিল দুই মাস। আমি ব্যাংকের টাকা কোথা থেকে দেব? সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কোনো গ্রুপ অব কোম্পানির একটি প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে পুরো গ্রুপকে খেলাপি করা হচ্ছে।

বসে থাকার সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি

বসে থাকার সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাজ করলে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে- এমনকি অন্য সময়ে ব্যায়াম করলেও এই ঝুঁকি কমে না। বস্টন’য়ের ‘ব্রিঘাম অ্যান্ড উইমেন’স হসপিটাল’য়ের গবেষকদের করা এক পর্যবেক্ষণে এমন ফলাফল পাওয়া গিয়েছে। গবেষণার প্রধান ও প্রতিষ্ঠানের হৃদবিজ্ঞানের সম্মানিত সদস্য ডা. এজিম আজুফো সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “শারীরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন বা না থাকেন, অতিরিক্ত সময় বসে থাকা এড়ানোর ব্যাপারে আমাদের ফলাফলটি গুরুত্ব দেয়। সাধারণভাবেই প্রতিষ্ঠিত যে, বেশিক্ষণ বসে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সঠিক ঝুঁকিটা কী আর সুস্থ থাকতে কোন ধরনের নির্দেশনা প্রয়োজন, সেটা বুঝতে আরও গবেষণার প্রয়োজন- একই প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন ‘কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার’য়ের ‘বিহেভিওরাল মেডিসিন’য়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কেইথ ডিয়াজ। গবেষণার সাথে যুক্ত না থেকেও তিনি বলেন, “আংশিকভাবে হলেও এই পর্যবেক্ষণটি বসে থাকার ক্ষতির বিষয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। কারণ এর নমুনা ও তথ্যের ভাণ্ডার ব্যাপক। গবেষকরা ‘ইউকে বায়োব্যাংক’য়ের ৯০ হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য পর্যবেক্ষণ করেন। ‘অ্যাকসেলেরোমিটার’ পরিয়ে তাদের অলস ও সক্রিয় সময়ের সাথে তুলনা করা হয়। আর পরের বছর তাদের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং ‘হার্ট ফেউলিয়র’ হয়েছে কিনা সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়। জার্নাল অফ দি আমেরিকান কলেন অফ কার্ডিওলজি’তে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এই পর্যবেক্ষণে শুধু বসে থাকার সাথে হৃদ-সংক্রান্ত রোগ হওয়ার সম্পর্কই বের করা হয়নি, পাশাপাশি কতক্ষণ বসে থাকটা ক্ষতিকর সেটাও বের করা হয়েছে। ডা. আজুফো বলেন, “আমরা সুপারিশ করছি যে, কেউ যেন ১০.৬ ঘণ্টার বেশি বসে না থাকেন। জনস্বাস্থ্যের জন্য এই নির্দেশনা প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। যে কারণে বেশিক্ষণ বসে থাকা খারাপ গবেষণাটি পর্যবেক্ষণমূলক। তাই কারণ নয় বরং বসে থাকার সাথে হৃদরোগ হওয়ার সম্পর্কটা দেখানো হয়েছে। ডিয়াজ বলেন, “রক্তে শর্করা ও চর্বি মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজ ভালোভাবে করার জন্য পেশির নড়াচড়ার প্রয়োজন। তাই বসে থাকার ফাঁকে নড়াচড়া করার মাধ্যমে পেশিগুলো উত্তেজিত করলে ভালো মতো কাজ করতে পারে। যেভাবে নড়াচড়া করা উপকরী যদি অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয় তবে প্রতিটা কাজের ফাঁকে উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটাচলা করতে হবে। অন্তত আধা ঘণ্টা পরপর এই কাজ করা উচিত। এই ক্ষেত্রে শুধু দাঁড়িয়ে থাকলে কাজ হবে না। কারণ দাঁড়ানোতে পেশির নড়াচড়া হয় না”- বলেন ডা. ডিয়াজ। ছোটখাট মিটিগুলো হেঁটে বা চলতে-ফিরতে করা যেতে পারে। যদিও ফলাফলে দেখা গেছে, সারাদিন বসে থাকার পর দিন শেষে ভালো মানের ব্যায়াম করলেও এই ঝুঁকি কমে না। তাই ব্যায়াম করলেও বসে থাকার ফাঁকে দেহের পেশিগুলোকে নড়াচড়া করাতে হবে। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই” – বলেন ডা. ডিয়াজ, “ব্যায়াম বা শরীরচর্চার সুফলের বিষয়টা অগ্রাহ্য করা যাবে না। আর কাজের ফাঁকে হাঁটাহাঁটির অভ্যাসও গড়েতে হবে।

আইয়ুব বাচ্চুর অপ্রকাশিত গান আসছে ডিসেম্বরে

আইয়ুব বাচ্চুর অপ্রকাশিত গান আসছে ডিসেম্বরে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে প্রয়াত ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া নতুন একটি গান। ব্যান্ড মিউজিক ডে উপলক্ষে ‘ইনবক্স’ শিরোনামের গানটি প্রকাশ পাবে আগামী ১ ডিসেম্বর। মৃত্যুর আগে বেশ কিছু গান তৈরি করেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। কিন্তু প্রকাশ করে যেতে পারেননি। সেই গানগুলো একে একে প্রকাশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন। এর প্রথম গান ‘ইনবক্স’। গানটির কথা লিখেছেন নিয়াজ আহমেদ অংশু। গানের সুর, সংগীত ও কণ্ঠ দিয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু নিজেই। এলআরবি ব্যান্ডের গিটারিস্ট আবদুল্লাহ আল মাসুদ গ্লিটজকে বলেন, “বসের (আইয়ুব বাচ্চু) অনেকগুলো গানই তৈরি করা ছিল। তার মধ্যে ‘ইনবক্স’ প্রথম রিলিজ পাচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ২০২৪ এর মধ্যে গানগুলো রিলিজ দেওয়ার। কিন্তু নানা কারণবশত আমরা সেটা করতে পারিনি। তবে আগামী বছরে আশা করছি সিরিজ আকারে গানগুলো প্রকাশ করব। চ্যালেঞ্জ নিয়েই গানগুলো প্রকাশ করতে হচ্ছে জানিয়ে মাসুদ বলেন, “আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর পাঁচ বছর গানগুলো পড়ে ছিল, কম্পিউটার ওপেনই করা হয়নি, সেখান থেকে এগুলোকে নতুন করে তৈরি করা, গানগুলোকে উদ্ধার করে ডেটা রিকভারি করা, আবার প্রক্রিয়ায় নিয়ে এসে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছানো এটা আমাদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি, তবে আমাদের পৃষ্ঠপোষক দরকার, যদি কেউ আমাদের সাথে কোলাবরেশন করে বা এগিয়ে আসে আমাদের জন্য সুবিধা হয়। তাহলে আমরা অপ্রকাশিত গানগুলো আরও সুন্দর করে প্রকাশ করতে পারব। ইনবক্স গানটি মুক্তি পাবে আইয়ুব বাচ্চুর ইউটিউব চ্যানেল, আইটিউনস, স্পটিফাইসহ বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে। ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল আইয়ুব বাচ্চুর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘এলআরবি’, যে দলটি কয়েক দশক করে দেশের ব্যান্ড সংগীতকে করেছে সমৃদ্ধ। একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক বাচ্চু ভক্তদের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘এবি’ নামে। আড়াই দশকের বেশি সময়ে ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘একদিন ঘুমভাঙা শহরে’, ‘চল বদলে যাই’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘বারো মাস’, ‘হাসতে দেখ গাইতে দেখ’র মত বহু গান শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন বাচ্চু। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর বাচ্চুর মৃত্যুর পর থেকে খেই হারিয়েছে দেশে-বিদেশে সাড়া ফেলা দলটি।

ভিসার অপেক্ষায় ঋতুপর্ণা-সাবিনা

ভিসার অপেক্ষায় ঋতুপর্ণা-সাবিনা ইউরোপিয়ান লিগে খেলার প্রস্তাবটি পেয়েছিলেন নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সময়ই। নর্থ মেসিডোনিয়ার ক্লাবের প্রস্তাবটিও গ্রহণ করতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি সাবিনা খাতুন ও ঋতুপর্ণা চাকমা। প্রথমে জানা গিয়েছিল, এ দুই তারকার সঙ্গে তহুরা খাতুন ও মনিকা চাকমাকেও পেতে চায় মেসিডোনিয়ার ক্লাব টিভেরিজা ব্রেরা। গতকাল শুধু সাবিনা ও ঋতুপর্ণার মেসিডোনিয়ার ক্লাবে খেলার সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। সেই দেশের ভিসা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমাও দিয়েছেন নেপাল সাফের সেরা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা ও বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা। এখন শুধু মেসিডোনিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তরের অপেক্ষা। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সাবিনা ও ঋতুপর্ণাকে চায় ক্লাব টিভেরিজা। মেসিডোনিয়া নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ২২ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে তারা। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে মেয়েদের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলবে টিভেরিজা। এই প্রতিযোগিতাকে টার্গেট করেই সাবিনা ও ঋতুপর্ণাকে নিয়ে শক্তি বাড়াতে চায় মেসিডোনিয়ান ক্লাবটি।বাংলাদেশে মেসিডোনিয়ার কোনো স্থায়ী দূতাবাস বা কনস্যুলেট নেই। ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মেসিডোনিয়ার দূতাবাস থেকে বাংলাদেশিদের ভিসা নিতে হয়। ঋতুপর্ণা ও সাবিনাকে প্রতিবেশী দেশে ভিসার জন্য যেতে হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটিই করছেন ইউরোপিয়ান ক্লাবটির কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের দুই নারী ফুটবলারকে মেসিডোনিয়ান ক্লাব টিভেরিজায় খেলানোর বিষয়টি দেখভাল করছেন নারী দলের গোলরক্ষক কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল। গতকাল সমকালের কাছে সাবিনা ও ঋতুপর্ণার মেসিডোনিয়ান ক্লাবে খেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভিসার জন্য আবেদন করার পর এখনও কোনো আপডেট পাইনি। ক্লাব থেকে মেসেজ করে জানানো হয়েছে, আপডেট থাকলে আমাকে জানাবে। সব কাগজপত্র মেসিডোনিয়ায় পাঠানো হয়েছে, তারাই প্রক্রিয়া করবে। বাস্তবে ইউরোপিয়ান লিগে খেলাটা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য অনেক কঠিনই বলা চলে। সেই কঠিন কাজকে সহজ করে এনেছেন গোলরক্ষক কোচ উজ্জ্বল। গত মৌসুমে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রে ছিলেন তিনি। সেই সময় ক্লাবটির প্রধান কোচ ছিলেন নর্থ মেসিডোনিয়ার ইয়োগোস্লাভ ত্রেনচোভস্কি। দু’জন দুই দিকে থাকলেও প্রতিদিনই হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয় উজ্জ্বল ও ত্রেনচোভস্কির। দু’জনের আলাপের মাধ্যমেই খুলে যায় বাংলাদেশের মেয়েদের ইউরোপে খেলার দরজা। ‘শেখ রাসেলের সাবেক কোচ আমাকে খুবই পছন্দ করেন। আমার সঙ্গে প্রতিদিনই মোটামুটি কথা হয়। তাঁকে আমাদের মেয়েদের খেলার ভিডিও পাঠাতাম। তখন তিনি এই বছর সাফের সময় আমাকে নক দিয়েছেন। তিনি ও টিভেরিজা ক্লাব প্রেসিডেন্ট মেয়েদের খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। প্রথমে চারজনের কথা বলেছিলেন, পরে মনে হয় বাজেট কম বলে দু’জনকে নিচ্ছেন। আশা করি, সাবিনা ও ঋতুপর্ণা মেসিডোনিয়ান ক্লাবে খেলতে পারবে’– বলেন উজ্জ্বল।