প্রয়াসের মাসিক সমন্বয় সভা: সংস্থার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার আহ্বান

প্রয়াসের মাসিক সমন্বয় সভা: সংস্থার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার আহ্বান   চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে জেলাশহরের বেলেপুকুরে অবস্থিত প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ের নকীব হোসেন মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন। প্রয়াসের পরিচালক পঙ্কজ কুমার সরকারের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন- প্রয়াসের পরিচালক (মানবসম্পদ প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ বিভাগ) আলেয়া ফেরদৌস, যুগ্ম পরিচালক নাসের উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী পরিচালক আবুল খায়ের খান, সহকারী পরিচালক জুলফিকার আলী ও মমিনুল ইসলাম, কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক মু. তাকিউর রহমান ও ফারুক আহমেদ, তানভির আহম্মেদ রিয়াদ, ফিরোজ আলম, আবুল কালাম আজাদসহ সকল জোনপ্রধান, আঞ্চলিক ও ইউনিট ব্যবস্থাপকরা। সভায় প্রয়াসের চলমান কার্যক্রম ও সংস্থার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই সাথে সংস্থার কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে উপস্থিত কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন। এছাড়াও চলতি মাস থেকে নতুন যোগ দেওয়া প্রয়াসের পরিচালক পঙ্কজ কুমার সরকারকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এদিকে প্রয়াসের ইউনিট-৬২ মহিষবাথানে কর্মরত থাকা প্রশিক্ষণার্থী জুনিয়র অফিসার জসিম উদ্দিন গত ৪ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ায় সভায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয় এবং তার স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬৯তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ৮০ জন আদিবাসী শিক্ষার্থীর মধ্যে সরকারি উপবৃত্তি ও ৭ জন আদিবাসী শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল দেয়া হয়েছে। দিনব্যাপী সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের দেলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলার গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি মি. কর্নেলিউস মুরমুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আখতার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল অহাব, গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম টিপু, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মি. হিংগু মুরমু, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মি. লুইস টুডু, আমারক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মি. মদন হাসদা, নারী নেত্রী অলকা সরেন ও এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ এরিয়া ম্যানেজার নিকোলাস মুরমু। আলোচনা সভায় আদিবাসীদের প্রধান সমস্যা সংবলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক বরাবরে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রেরণের জন্য সদর উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল অহাবের কাছে জমা দেয়া হয়। এসআইএল বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির আয়োজন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচিতে সদর উপজেলার গোবরাতলা, বালিয়াডাঙ্গা ও ঝিলিম ইউনিয়নের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছয়জন পেলেন শুদ্ধাচার পুরস্কার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছয়জন পেলেন শুদ্ধাচার পুরস্কার ‘সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় : জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’- এই প্রতিপাদ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ছয়জনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আইসিটি ল্যাবে অনুষ্ঠিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেনÑ স্থানীয় সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসিফ আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাপিয়া সুলতানা। শুদ্ধাচার পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. তাছমিনা খাতুন, নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. কাওসার জামান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. আব্দুর রহমান, নেজারত শাখার প্রসেস সার্ভার মো. মজিবুর রহমান, ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রসেস সার্ভার মোহা. জয়নাল আবেদীন জনি। এছাড়াও জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)গণের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বাবা দিবসে ‘‘বাবা-কথিকা’’

বাবা দিবসে ‘‘বাবা-কথিকা’’ ড. আকন্দ মো. রফিকুল ইসলাম প্রাক কথনঃ মায়েদের ত্যাগের কথা সর্বজনবিদিত। বাবাদের ত্যাগ অনেক সময় অবহেলিত। সকলের নালিশ বাবার কাছে, বাবার নালিশের জায়গা নেই। বিশেষত: মধ্যবিত্তের বাবাদের সংসার চালাতে গিয়ে কত পেরেশান-কত হয়রানির সম্মুখিন হওয়া, অনেক ক্ষেত্রে ঋণ করে সংসার চালানো, পয়সা বাঁচাতে বাজারে দর কষাকষি করতে গিয়ে অপ্রিয়ভাজন হওয়া, ইত্যাকার বহুবিধ গঞ্জনা সহ্য সংবলিত চরম ত্যাগের উদাহরণের অভাব নেই। সংসারের শান্তি রক্ষার্থে এ গুলো বেশীর ভাগই গোপন রেখে বাবারা হন নীলকন্ঠ। মুখ বুঝে সংসারের ঘানি টেনে যাওয়াই হচ্ছে বাংলার মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবাদের আদর্শ। অতি সজ্জন, সৎ, মধ্যবিত্ত বাবা হলে তো আরও ত্রাহি অবস্থা। আমার বাবা ছিলেন সে রকম মধ্যবিত্ত পরিবারের সৎপথে চলা একজন সাদাসিধে সুফি মানুষ। বাবার বেঁচে-বর্তে যাওয়া সর্ব কনিষ্ঠ সন্তান হওয়ায় আমি বাবার অতি আদরের ছিলাম। অপরদিকে বাবার অবসর জীবনে সন্তানদের মধ্যে আমিই বেশী সময় কাছে ছিলাম (তাঁর অন্য কোন সন্তান তাঁর কাছে এতটা বেশী সময় সরাসরি থাকতে পারেন নি)। গ্রামের স্কুলের ছাত্র হওয়ায় ১৪/১৫ বছর যাবৎ বাবার সরাসরি সঙ্গ পেয়েছিলাম। তাই বাবা তাঁর জীবনের কষ্ট মিশ্রিত সততার সুন্দর গল্পগুলো আমার সাথেই বেশী করতেন বলেই আমার মনে হয়। আমার ধারণা আমাকে তাঁর ধাঁচে মানুষ করার মানসে নৈতিক শিক্ষার অংশ হিসেবে এ গল্পগুলো আমার সাথে করতেন। তার সুফলও আমি পেয়েছি। আমার ভিতরে বাবার নৈতিকতা বলা যায় আমার হয়ে আমার সন্তান পযর্ন্ত পৌঁছেছে। যা হোক, আমরা প্রায় সবকটা ভাইবোন বাবার সাদাসিধে-সৎ চরিত্র কিছুটা হলেও পেয়েছি, তবে বাবার মত অতটা ভাল মানুষ বোধ করি কেউই হতে পারি নি। এক্ষণে বাবা দিবসে বাবার স্মরণে ‘‘বাবা-কথিকা’’ তুলে ধরছি। বাবাকে নিয়ে আমার একমাত্র লেখা। তাই বাবার সাথের সব স্মৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করা যাক্। আমার বাবা পৃথিবির সেরা বাবাঃ ‘‘আমার বাবা পৃথিবির সেরা বাবা’’-এ শিরোনামটি বেশ সন্দিগ্ধ। তার কারণ প্রায় সবাই এ আপ্ত বাক্যটি ব্যবহার করেন। তবে এটির সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে-বাবার মত মুরুব্বীদেরকে উচ্চ আসনে আসীন রাখার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, যা আমাদের ধর্ম ও দেশের সংস্কৃতিরও অংশ বটে। ‘‘প্রত্যেকের বাবাই প্রত্যেকের কাছে শ্রেষ্ঠ”-এর চেয়ে ভাল খবর আর কি হতে পারে? যা হোক, আমার বাবার ক্ষেত্রে এ টুকু নিশ্চিত করে বলা যায যে, আমার বাবার অবস্থান সেরাদের কাতারের উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। আমার বাবার মত ব্যক্তিদের ম্মৃতিচারণ আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের নৈতিক শিক্ষার জন্যও জরুরী বলে এ লেখার প্রয়াস। আমার বাবাকে গ্রামের লোকজন ভালোবেসে শ্রদ্ধার সাথে নাম দিয়েছেন আকনজী (আগের দিনে শ্রদ্ধাভরে নামের সাথে ‘জী’ লাগানো হতো, গ্রামের মানুষ সেটাই অনুসরণ করেছেন)। বাবা গ্রামের সকলের নিকট সমাদৃত ছিলেন। অদ্যবধি বাবার পরিচয়ে পরিচিত (বাবাকে ছাড়িয়ে যাওয়া কখনও সম্ভব নয়): অনেকে বাবাকে ছাড়িয়ে যান। আমাদের পক্ষে আমাদের বাবাকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি খোলসা করার জন্য একটি উদাহরণ দেয়া যাক। এক দিন সরকারের উচ্চ পদে আসীন আমার এক বন্ধু (স্কুল জীবনের সতীর্থ, একই গ্রামের বাসিন্দা ও আত্মীয়ও বটে)-এর দপ্তরে গিয়েছিলাম। তখন সে তার সহকর্মীদের নিকট আমার পরিচয় এভাবে তুলে ধরলেন যে, রফিক হলো আমার অন্যতম দোস্ত, ওর নিজের পরিচয় যাই থাকুক, সেটা বড় কথা নয়, ওর বড় পরিচয় হলো ওর বাবা আমাদের গ্রামের সবচেয়ে সৎ ও শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিলেন। তখন আমার বোধদোয় হলো এবং গর্বে বুকটা ভরে গেল যে, আল্লাহ্র কত বড় নেয়ামত যে আমাকে আল্লাহ্ এমন এক বিরল-সৎ-বাবার সন্তানরুপে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন যে, তাঁর মৃত্যুর আটাশ বছর পরেও প্রজন্মান্তরে দেশের সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ের পদস্ত বিজ্ঞ লোকের মুখেও তাঁর সুনাম শোনা যাচ্ছে। এর চেয়ে সৌভাগ্য আর কি হতে পারে? অপর দিকে চোখে পানি এসে গেল এই ভেবে যে, আমাদের ৭ ভাই-বোনকে মানুষ করতে বাবা তাঁর সহযোদ্ধা-সহধমির্নী-কে নিয়ে কত কষ্টই না করেছেন। হে আল্লাহ্, বাবা-মা’র সদকায়ে জারিয়া হিসেবে আমাদেরকে তুমি কবুল করে নাও। আল্লাহ্ তুমি আমার মা-বাবাকে বেহেস্ত নসীব করো। “রব্বির হাম হুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগীরা’’(হে আমাদের পালনকর্তা! তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন; যেমনিভাবে তাঁরা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন)। আমার বাবা ছিলেন মূলত মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকঃ আল্লাহ্ তা’আলা ‘‘সুরা সিজদা”র ২৪ নং আয়াতে যা ইরশাদ করেন তার অর্থ-‘‘ওরা যেহেতু ধৈর্যশীল ছিল তার জন্য আমি ওদের মধ্য হতে নেতা (ইমাম) মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথপ্রদর্শন করত। ওরা ছিল আমার নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় বিশ্বাসী”। স্কুলের ইসলামিয়াত বইতে পড়েছিলাম- ‘‘ইমাম হয় আল্লাহ্র ইচ্ছায়”। আমাদের প্রিয় নবীজী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.) নিজে ইমামতি করেছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন মিশকের কস্তুরির স্তূপের ওপর থাকবেন-তার মধ্যে এক ব্যক্তি হলো যে কোনো কওমের ইমামতি করে আর তাঁরা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট” (তিরমিজি)। যেহেতু ইমাম সাহেবকে সকলে আদর্শ মানুষ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাই ইমাম সাহেবকে ইমামতির যোগ্য হওয়ার জন্য ধর্মের মৌলিক নীতিমালা জানা ও এর অনুসারী হওয়ার পাশাপাশি আরো কিছু মহৎ গুণের অধিকারী হতে হয়। যেমন- সত্যবাদি, ন্যায়পরায়ণ, আমানতদার ও বিশ্বস্ত/আস্থাভাজন হওয়া ইত্যাদি। এ গুণগুলো আমার বাবার মধ্যে ছিল। তাই তাঁর প্রতি তাঁর কওমও সন্তুষ্ট ছিল। কয়েক বছর আগে আমার চাচাত ভাই জনাব গোলাম মোর্শেদ পলাশ ফোন করে জানান যে, আমাদের মসজিদ কমিটির আয়োজনে বার্ষিক মাহফিলে দাওকাঠি সিনিয়র মাদ্রসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নাসির উদ্দিন সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, আকনজী হুযুর (আমার বাবা)-এর মত এত ভাল মানুষ এ তল্লাটে আর দেখি নাই বা আর জীবনে দেখবো বলেও মনে হয় না। বাবার সুনাম এভাবে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা থেকে শুনতে কার না ভাল লাগে, বলুন। সেচ্ছাসেবক আর কাকে বলেঃ একজন ইমাম শুধু মসজিদের ইমাম নন বরং তিনি তাঁর কওমেরও ইমাম। বাবা ছিলেন তাই। ধর্মীয় বিষয়ে মাসালা-মাসায়েল জানার জন্য অনেকেই বাবার কাছে আসতেন। মৃত্যু পথযাত্রিকে তওবা পড়ানো, জানাজার নামাজ পড়ানো, শিশুদের হাতে-খড়ি, ব্যবসা/শুভ কাজের উদ্বোধনে মিলাদ পড়ানো, বিয়ে-পড়ানো, ধর্মীয়-সামাজিক কাজ ছিল বাবার রুটিন কাজ। রোজার মাসে বাবা প্রতি দিন অসংখ্য মিলাদের দাওয়াত পেতেন (বাবার সাথে মিলাদের দাওয়াতে আমরা সব ভাই-ই গিয়েছি)। কি সুন্দর কিয়াম, কি সুন্দর মোনাজাত, যা শুনে চোখে পানি এসে যেত। বাবার বেশীর ভাগ সময় যেহেতু ম্বেচ্ছাসেবী কাজে ব্যয় হতো, সেহেতু স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ইমামতি-শিক্ষকতার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনের কাজও তাঁকে করতে হতো। বাবার শতভাগ হালাল রুজি-রোজগারে আমরা মানুষ হয়েছি, এটা প্রণিধানযোগ্য। অভাবের মধ্যেও বোয়ালিয়া হাট (বরিশাল হতে বাকেরগঞ্জ যাওয়ার পথে এ হাটটি অবস্থিত) নির্মাণের জন্য প্রায় ৭৫ শতাংশ জমি সামাজিক কাজে বাবা বিনামূল্যে ত্যাগ করেছিলেন। What a voluntary work? বাবা সবার আস্থাভাজন ছিলেন (সততার পরাকাষ্ঠার উদাহরণ রয়েছেঃ আমার বাবার প্রতি মানুষের আস্থাভাজনের একটি উদাহরণ তুলে ধরছি। আমাদের একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় গ্রামের এক জনের নিকট হতে এক খন্ড জমি ক্রয় করেছিলেন। বিক্রেতার মৌখিক আবদার ছিল যে, যখনই তিনি বা তাঁর ওযারিশ অর্থ জোগাড় করতে পারবেন, তখনই যেন তাঁকে/তাঁর ওয়ারিশকে একই দামে জমিটা ফেরত দেয়া হয়। এ আলাপের সময় উপস্থিত ছিলেন আমার বাবা। বেশ কয়েক বছর পরে (মূল ক্রেতা জান্নাতবাসি হওয়ার পরে) ক্রেতার ছেলে (আমাদের আত্মীয়) জমি ফেরত দিতে

গোদাগাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে ১১১০ লিটার চোলাইমদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

র‌্যাবের অভিযানে চোলাইমদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব ক্যাম্পের অভিযানে ১ হাজার ১১০ লিটার চোলাই মদ সহ ৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। জব্দ হয়েছে মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ। গ্রেপ্তারকৃতরা হল- গোদাগাড়ীর বড়দৌলতপুর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল করিম(৩৫) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার অনুপনগর নতুনপাড়া গ্রামের মো.আলাউদ্দিনের ছেলে মো.সামাদ (৩২) ও একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে জুয়েল আলী(৩০)। র‌্যাব জানায়, গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোহনপুর ইউনিয়নের চিকনডাঙ্গাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে চেলাইমদ তৈরী,সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের অভিযোগে ওই ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব ক্যাম্পের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে মদ প্রস্তুত করে বিভিন্ন এলাকার মদ ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও এলাকার যুব সম্প্রদায়ের নিকট খুচরা ও পাইকারি দরে সরবরাহে জড়িত। গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মদ প্রস্তুতকালে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানায় মামলা হয়েছে।

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও প্রস্তুতি সভা

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও প্রস্তুতি সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাসহ ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রশাসনের আইসিটি ল্যাবে এই সভা দুটি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম গালিভ খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন- কমিটির সদস্য সচিব পুলিশ সুপার মো. ছাইদুল হাসান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রুহুল আমিন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসিফ আহমেদের সঞ্চালনায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, সড়ক দুর্ঘটনা, মাদক নির্মূলসহ বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া সভায় অবৈধ স্থাপনা, বিলবোর্ড অপসারণ, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং চামড়া সংরক্ষণে আলোচনা করা হয়। অপরদিকে বেলা ১২টায় একই স্থানে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসিফ আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রুহুল আমিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ। সভায় কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন এতিমখানায় দানকৃত চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের কথাও জানানো হয় সভায়। এসময় আলোচনার ভিত্তিতে ঈদের নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। পুরাতন স্টেডিয়ামে সকাল ৭টা ও ফকিরপাড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন কমিটির সদস্যবৃন্দ। সভায় জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি জানান, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৫২টি। চাহিদার তুলনায় ৫২ হাজার ২১৫টি পশু উদ্বৃত্ত আছে। সভায় ঈদের দিন সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এছাড়া পশুর বর্জ্য নির্দিষ্ট গর্তে রেখে মাটিচাপা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। পৌরসভার প্রতিনিধি ২নং ওর্য়াড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান আরমান সভায় জানান, গতবারের মতো এবারো ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শহরের বর্জ্য অপসারণ করা হবে।

১৫২ ধরনের সুমিষ্ট আম নিয়ে শুরু হলো তিন দিনের মেলা

১৫২ ধরনের সুমিষ্ট আম নিয়ে শুরু হলো তিন দিনের মেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন দিনের কৃষিপ্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলা-২০২৪ শুরু হয়েছে। কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় রবিবার থেকে এ মেলার আয়োজন করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়। মেলায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তিসহ স্থান পেয়েছে ১৫২ রকমের সুমিষ্ট আম। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে এবং মঞ্চের সামনে একটি নৌকার ওপরে আমগুলো রাখা হয়েছে। এতে মেলায় বাড়তি আকর্ষণ যুক্ত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে কৃষিপ্রযুক্তি ও পুষ্টি বিষয়ক তথ্য। সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওদুদ। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এ সময় আব্দুল ওদুদ বলেন- এক ইঞ্চি জমিও যেন পতিত না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। কৃষিজমি নষ্ট করে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। বাসার আশপাশে একটুকরো জমি থাকলে সেখানেও শাকসবজি ফলাতে হবে। মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কৃষিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন বলেই আমরা আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পেরেছি। পুষ্টি বিষয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল ওদুদ বলেন- পরিবারের মায়েরাই হচ্ছেন আসল। তাদের আমি অনুরোধ করব, আজকাল মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে সকল ধরনের পুষ্টি বিষয় জেনে নিয়ে নিজ নিজ পরিবারে কাজে লাগাবেন। এসময় তিনি কৃষি বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুবু-উল-ইসলাম। সূচনা বক্তব্যে মেলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসহ নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার। কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে বক্তব্য দেনÑ কামরুন নাহার ইতি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেনÑ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রহিমা খাতুন। এসময় জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কে এম কাওছার হোসেন. সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় সরকারসহ কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমটিপি প্রকল্পের প্রোডাক্ট লঞ্চিং প্রোগ্রাম

আরএমটিপি প্রকল্পের প্রোডাক্ট লঞ্চিং প্রোগ্রাম   চাঁপাইনবাবগঞ্জে তৈরিকৃত স্বাস্থ্যসম্মত সরিষার তেল বিক্রির প্রসারে প্রোডাক্ট লঞ্চিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নকীব হোসেন মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার। এসময় তিনি বলেন, সরিষার তেলে রান্না করা খাবার একশ ভাগ নিরাপদ। যেই সরিষার তেলে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ কম, সেই তেলের ঝাঁজ কম। যেই তেলে ঝাঁজ কম, সেই তেল আপনার আমার শরীরের জন্য ভালো। তিনি আরো বলেন, কোল্ড ওয়েল প্রেস মেশিনে কোনো প্রকার পানি মেশানো দরকার হয় না, যার ফলে এই মেশিনের তেল অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়। ড. পলাশ সরকার এ সময় সরিষা চাষি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই যে সরিষার তেল মার্কেটিংয়ের জন্য যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেটা একটি ভালো উদ্যোগ। প্রোডাক্ট মার্কেটিংয়ের জন্য আপনাদের দোকানের সামনে প্রয়োজনে এই তেলের পুষ্টি গুণাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে রাখবেন এবং চ্যালেঞ্জ নিবেন যে, এই তেল কেন খাবেন। সেখানে উল্লেখ রাখবেন, এই কোল্ড ওয়েল প্রেস মেশিনের তেল ১ বছর পরও আজকের মতো থাকবে। এই তেল নষ্ট হবে না। তিনি আরো বলেন, আপনার বিনা সরিষা-১১ চাষ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এটাতে আমি আপনাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা বাজার কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন বলেন, বিজনেস করা, চাকরি করার থেকেও কঠিন। বিজনেসে রাত-দিন নাই। যিনি বিজনেসে রাত-দিন ভাববে, তিনি কোনো দিন সফল হতে পারবেন না। আমরা যদি কিছু টেকনিক বা কৌশল অবলম্বন করে চলি তাহলে কৃষক, ব্যবসায়ী বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে পারব। আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রয়াসের কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক ও আরএমটিপি প্রকল্পের ফোকাল পার্সন ফারুক আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন- কর্মসূচি ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ জহুরুল ইসলাম, অফিসার শাহরিয়ার শিমুল, রেডিও মহানন্দার সহকারী প্রযোজক (অনুষ্ঠান ও খবর) সোনিয়া শীল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রয়াসের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান। আরএমটিপি প্রকল্পের কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক রিফাত আমিন। এসময় তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পিকেএসএফ ও প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির সহযোগিতায় কোল্ড ওয়েল প্রেস মেশিনের মাধ্যমে সরিষার তেল উৎপাদন করে বিক্রি করছেন। তাদের ব্র্যান্ডিং তেলগুলো হচ্ছে- ‘মোস্তাফিজুর সরিষার তেল’, ‘গৌড় সরিষার তেল’ ও ‘কৃষক সরিষার তেল’। প্রোডাক্ট লঞ্চিং প্রোগ্রামে আরো বক্তব্য দেন- ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা জসিম উদ্দিন, ব্যবসায়ী একরামুল হক, আব্দুল মালেকসহ জেলার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ীসহ চাষিরা। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র সরিষার নিরাপদ ভোজ্য তেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপ-প্রকল্পের আওতায় প্রোডাক্ট লঞ্চিং প্রোগ্রামের আয়োজন করে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি।  

ছক্কায় আহত সমর্থক: যা বললেন তাওহীদ হৃদয়

ছক্কায় আহত সমর্থক: যা বললেন তাওহীদ হৃদয়   ‘কখনো দেখা হলে আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়েন, মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েন। আপনার কষ্টে আপনার এই ছোট ভাইও ব্যথিত” বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। লো-স্কোরিং ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। ২ উইকেটের জয়ে বড় অবদান ছিল তার। ২০ বলে ৪০ রান তুলেন তিনি। দারুণ প্রয়োজনীয় তার এই ইনিংসে ছিল ৪ ছক্কা ও ১টি চার। ৩টি ছক্কাই হাঁকিয়েছেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার টানা ৩ বলে। আর এমন ঝড় তোলার হৃদয়ের একটি ছক্কা গ্যালারি গিয়ে পড়ে এক বাংলাদেশি সমর্থকের পায়ে। বলের আঘাতে আহত হন সেই মার্কিন প্রবাসী সমর্থক। ম্যাচ জয়ের পর সেই সমর্থকের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটার। ডালাসের ম্যাচের পর হোটেলে ফিরে তাওহীদ জানেন যে তার হাঁকানো একটি ছক্কা গিয়ে লেগেছে এক বাংলাদেশি সমর্থকের পায়ে। বেশ আঘাত পেয়েছেন এই সমর্থক। হাঁটুর নিচে রক্তের দাগ। ম্যাচ শেষে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সেই সমর্থকের উদ্দেশে একটি পোস্ট লিখেছেন হৃদয়। তাওহীদ হৃদয় সেই সমর্থকের ছবি দিয়ে লিখেন, ‘ছবিগুলো একজন পাঠালো, আমার এখানে এখন মধ্যরাত। কয়েকটি ছবি মাথা থেকেই বের হচ্ছে না। আমার জন্য কারো রক্ত ঝরলো এটা ভেবেই খারাপ লাগছে।’ আরও যোগ করেন এই ব্যাটার-‘প্রিয় ভাই আমার, আমি জানিনা আপনি কে? শুধু জানি আপনার পরিহিত টি-শার্টের বুকে বাংলাদেশের মানচিত্র। আপনি এবং আমি একই। আমার মারা ছয় অজান্তেই গিয়ে আপনার পায়ে লেগেছে। আপনি হয়তো হাসিমুখেই বলছেন আপনি খুশি, কিন্তু একটি সজোরে আসা বলের আঘাত কতোটা ভোগায় তা আমাদের থেকে ভালো আর কেইবা জানে।’ সেই ভক্তের কষ্ট যেন ভাগ করে নিতে চাইলেন বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক। তাওহীদ লিখেন, ‘কখনো দেখা হলে আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়েন, মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েন। আপনার কষ্টে আপনার এই ছোট ভাইও ব্যথিত…!’

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে গড়ানো নিয়ে শঙ্কা

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে গড়ানো নিয়ে শঙ্কা   যেকোনো বিশ্বকাপেই ক্রিকেট প্রেমীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ এবং আকর্ষণ থাকে যে ম্যাচটির প্রতি, সেটি হলো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দুটি একই গ্রুপে থাকায় একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। সূচি অনুযায়ী এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটা শুরু হবার কথা আছে আজ (রবিবার) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়। তবে ম্যাচটি শুরু হওয়ার ঠিক আগে এই ম্যাচ মাঠে গড়ানো নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা। ম্যাচটা আদৌ হবে তো? এই নিয়ে শুরু হয়েছে দর্শক, সমর্থক ও আয়োজকদের দুশ্চিন্তা। একেবারে সাম্প্রতিক নিউইয়র্কের আবহাওয়ার পূর্বাভাস মতে, নিউইয়র্কের আকাশে ঝকঝকে রোদ নয়, আজ সারা দিন থেমে থেমে হতে পারে বৃষ্টি! ম্যাচটা নিউইয়র্ক সময় সকাল দশটায় শুরু হবে। অ্যাকিউওয়েদার জানাচ্ছে, বেলা ১১টা থেকে সেখানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৫০%। এখানেই শেষ নয়। এই বৃষ্টি নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলতে পারে। মানে বাংলাদেশ সময় রাত দুটো পর্যন্ত। এমনটা হলে ম্যাচটা আর মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যদিও এমনটা ঘটলে পাকিস্তান দল অখুশি হবে না। কারণ নিজেদের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরেছেন বাবর আজমরা। ভারত ম্যাচ থেকে একটা পয়েন্টও না পেলে বিদায়ঘণ্টা বেজে যাওয়ার খুব কাছে চলে যাবে দলটা। সে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলে তা থেকে একটা পয়েন্ট পেয়ে গেলে তা একেবারে মন্দ হবে না পাকিস্তানে জন্য।