শিবগঞ্জে পাগলা নদী থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার

শিবগঞ্জে পাগলা নদী থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৪ শিবগঞ্জে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় পাগলা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ ৮০ বছরের বৃদ্ধা। জুমেরা বেগমের মরদেহ আজ দুপুর আড়াইটায় প্রায় ২৮ ঘন্টা পর উদ্ধার হয়েছে। তিনি শিবগঞ্জের শ্যামপুর ইউনিয়নের বাজিতপুর এনায়েত বিশ্বাসের টোলা গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের স্ত্রী। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে বাড়ির অদূরে পাগলা নদীতে গোষল করতে নেমে নিখোঁজ হন ঐ বৃদ্ধা। স্থানীয়রা তাকে খুঁজে না পেলে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। রাজশাহী থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল ঘটনাস্থল তল্লাশী করে গতকাল তার সন্ধান পায়নি। পরে আজ দুপুরে তার মরদেহ নদীতে ভেসে উঠলে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। শিবগঞ্জ থানার এসআই হরেন্দ্রনাথ দেবদাস বলেন, পুলিশ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে নদীতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আনগত ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে।
মহানন্দা নদী থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

মহানন্দা নদী থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদী থেকে মিমজান (৬৫) নামে এক নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামো নিমগাছী সংলগ্ন মহানন্দা নদী থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মারা যাওয়া মিমজান শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের রানীনগর মসজিদ টোলা গ্রামের মৃত জব্দুলের মেয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, দুপুরে নামো নিমগাছী গোরস্থান সংলগ্ন মহানন্দা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি জানান, প্রথমে পরিচয় জানা না গেলেও পরে জানা যায়। তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে গোসল করতে গিয়ে ডুবে মারা যায় ওই নারী। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৩ জনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৩ জনের মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও নাচোল উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বজ্রপাত হলে তারা মারা যান। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. তাছমিনা খাতুন জানান, সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমারক গ্রামে বজ্রপাতে কমলা রানী (৫০) নামে এক নারী মারা গেছেন। মারা যাওয়া কমলা রানী ওই গ্রামের পরশ রায় পটলের স্ত্রী। গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মো. রাফেজ বলেন- বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় নিজ বাড়িতে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই কমলা রানীর মৃত্যু হয়। অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে কৃষিজমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- নাচোল সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ঝলঝলিয়া গ্রামের ওসমান আলী (৩০) ও গোমস্তাপুর উপজেলার শ্যামপুর এলাকার জিনারপুর গ্রামের মোহাম্মদ উজ্জ্বল (৫০)। স্থানীয়রা জানান, নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কামারজগদইল দিঘীপাড়া গ্রামের পাশে কৃষিজমিতে ৬ জন কৃষক কাজ করছিলেন। বিকাল ৫টার দিকে বজ্রপাতে গুরুতর আক্রান্ত হন গোমস্তাপুর উপজেলার শ্যামপুর এলাকার জিনারপুর গ্রামের মন্তাজ আলীর ছেলে মোহাম্মদ উজ্জ্বল। এ সময় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উজ্জলকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য ৫ কৃষক সুস্থ আছেন। অন্যদিকে উপজেলার ঝলঝলিয়া গ্রামে কৃষিজমিতে কাজ করার সময় ব্রজপাত হলে মৃত্যু হয় ওসমান আলীর। মৃত ওসমান ঝলঝলিয়া গ্রামের মাওলানা মোহা. আখেরের ছোট ছেলে। নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ তারেকুর রহমান সরকার জানান, জমিতে কৃষি কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে পৃথক দুটি স্থানে দুজন কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছে পুলিশ। দুজনের মরদেহ স্থানীয়রা তাদের বাড়িতে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের মৃত্যু ব্যক্তিদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
মহানন্দা নদী থেকে উদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ

মহানন্দা নদী থেকে উদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে মহানন্দা নদী থেকে ৪০ বছরের অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নে চক নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) সুকমোল চন্দ্র দেবনাথ জানান, সকালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ মহানন্দা নদীতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিটি দুই থেকে তিন দিন আগে নদীতে ডুবে মারা গেছে। মরদেহটি অর্ধগলিত হওয়ায় আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পুলিশ মরদেহের নাম-পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ৫ দিন পার হলো

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ৫ দিন পার হলো চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অনির্দিষ্টিকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সারাদেশের মতন রবিবার পঞ্চম দিনেও সকাল থেকে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। জেলাশহরের নয়াগোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তরের সামনে তারা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান করেন তারা। দাবি আদায়ে বিভিন্ন প্লাকার্ড-ব্যানার প্রদর্শন করে ‘চুক্তি থেকে মুক্তি চাই’- এ স্লোগানে সরব ছিলেন তারা। কর্মসূচি চলাকালীন বক্তব্য দেন- আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম (সদর-কারিগরি) মো. ফিরোজ জামান, নাচোল অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুর রহিম, এজিএম (আইটি) আহমদ সালমান তারেক, এজিএম (ইঅ্যান্ডসি) জুবায়ের আহমদ, এজিএম (ওএন্ডএম) শোভন কুমার মহন্ত, সাহাপাড়া অফিসের এজিএম কালিপদ সরকার, মহারাজপুরের এজিএম আমিনুর রসুল ওপেল, শিবগঞ্জ অফিসের এজিএম সোহরাব হোসেন রাজু, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা তরফদার, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হাসান আলী মোল্লা, মিটার রিডার মো. আলাউদ্দিনসহ অন্যরা। উল্লেখ্য, গ্রাহকদের জরুরি বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু রেখে তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মসূচি থেকে অভিন্ন চাকরি বিধি বাস্তবায়ন ও সকল চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবিলম্বে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানান বক্তারা।
প্রয়াসের মাসিক সমন্বয় সভা: সংস্থার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার আহ্বান

প্রয়াসের মাসিক সমন্বয় সভা: সংস্থার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে জেলাশহরের বেলেপুকুরে অবস্থিত প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ের নকীব হোসেন মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন। প্রয়াসের পরিচালক পঙ্কজ কুমার সরকারের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন- প্রয়াসের পরিচালক (মানবসম্পদ প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ বিভাগ) আলেয়া ফেরদৌস, যুগ্ম পরিচালক নাসের উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী পরিচালক আবুল খায়ের খান, সহকারী পরিচালক জুলফিকার আলী ও মমিনুল ইসলাম, কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক মু. তাকিউর রহমান ও ফারুক আহমেদ, তানভির আহম্মেদ রিয়াদ, ফিরোজ আলম, আবুল কালাম আজাদসহ সকল জোনপ্রধান, আঞ্চলিক ও ইউনিট ব্যবস্থাপকরা। সভায় প্রয়াসের চলমান কার্যক্রম ও সংস্থার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই সাথে সংস্থার কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে উপস্থিত কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন। এছাড়াও চলতি মাস থেকে নতুন যোগ দেওয়া প্রয়াসের পরিচালক পঙ্কজ কুমার সরকারকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এদিকে প্রয়াসের ইউনিট-৬২ মহিষবাথানে কর্মরত থাকা প্রশিক্ষণার্থী জুনিয়র অফিসার জসিম উদ্দিন গত ৪ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ায় সভায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয় এবং তার স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬৯তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ৮০ জন আদিবাসী শিক্ষার্থীর মধ্যে সরকারি উপবৃত্তি ও ৭ জন আদিবাসী শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল দেয়া হয়েছে। দিনব্যাপী সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের দেলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলার গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি মি. কর্নেলিউস মুরমুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আখতার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল অহাব, গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম টিপু, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মি. হিংগু মুরমু, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মি. লুইস টুডু, আমারক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মি. মদন হাসদা, নারী নেত্রী অলকা সরেন ও এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ এরিয়া ম্যানেজার নিকোলাস মুরমু। আলোচনা সভায় আদিবাসীদের প্রধান সমস্যা সংবলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক বরাবরে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রেরণের জন্য সদর উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল অহাবের কাছে জমা দেয়া হয়। এসআইএল বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির আয়োজন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচিতে সদর উপজেলার গোবরাতলা, বালিয়াডাঙ্গা ও ঝিলিম ইউনিয়নের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছয়জন পেলেন শুদ্ধাচার পুরস্কার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছয়জন পেলেন শুদ্ধাচার পুরস্কার ‘সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় : জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’- এই প্রতিপাদ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ছয়জনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আইসিটি ল্যাবে অনুষ্ঠিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেনÑ স্থানীয় সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসিফ আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাপিয়া সুলতানা। শুদ্ধাচার পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. তাছমিনা খাতুন, নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. কাওসার জামান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. আব্দুর রহমান, নেজারত শাখার প্রসেস সার্ভার মো. মজিবুর রহমান, ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রসেস সার্ভার মোহা. জয়নাল আবেদীন জনি। এছাড়াও জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)গণের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বাবা দিবসে ‘‘বাবা-কথিকা’’

বাবা দিবসে ‘‘বাবা-কথিকা’’ ড. আকন্দ মো. রফিকুল ইসলাম প্রাক কথনঃ মায়েদের ত্যাগের কথা সর্বজনবিদিত। বাবাদের ত্যাগ অনেক সময় অবহেলিত। সকলের নালিশ বাবার কাছে, বাবার নালিশের জায়গা নেই। বিশেষত: মধ্যবিত্তের বাবাদের সংসার চালাতে গিয়ে কত পেরেশান-কত হয়রানির সম্মুখিন হওয়া, অনেক ক্ষেত্রে ঋণ করে সংসার চালানো, পয়সা বাঁচাতে বাজারে দর কষাকষি করতে গিয়ে অপ্রিয়ভাজন হওয়া, ইত্যাকার বহুবিধ গঞ্জনা সহ্য সংবলিত চরম ত্যাগের উদাহরণের অভাব নেই। সংসারের শান্তি রক্ষার্থে এ গুলো বেশীর ভাগই গোপন রেখে বাবারা হন নীলকন্ঠ। মুখ বুঝে সংসারের ঘানি টেনে যাওয়াই হচ্ছে বাংলার মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবাদের আদর্শ। অতি সজ্জন, সৎ, মধ্যবিত্ত বাবা হলে তো আরও ত্রাহি অবস্থা। আমার বাবা ছিলেন সে রকম মধ্যবিত্ত পরিবারের সৎপথে চলা একজন সাদাসিধে সুফি মানুষ। বাবার বেঁচে-বর্তে যাওয়া সর্ব কনিষ্ঠ সন্তান হওয়ায় আমি বাবার অতি আদরের ছিলাম। অপরদিকে বাবার অবসর জীবনে সন্তানদের মধ্যে আমিই বেশী সময় কাছে ছিলাম (তাঁর অন্য কোন সন্তান তাঁর কাছে এতটা বেশী সময় সরাসরি থাকতে পারেন নি)। গ্রামের স্কুলের ছাত্র হওয়ায় ১৪/১৫ বছর যাবৎ বাবার সরাসরি সঙ্গ পেয়েছিলাম। তাই বাবা তাঁর জীবনের কষ্ট মিশ্রিত সততার সুন্দর গল্পগুলো আমার সাথেই বেশী করতেন বলেই আমার মনে হয়। আমার ধারণা আমাকে তাঁর ধাঁচে মানুষ করার মানসে নৈতিক শিক্ষার অংশ হিসেবে এ গল্পগুলো আমার সাথে করতেন। তার সুফলও আমি পেয়েছি। আমার ভিতরে বাবার নৈতিকতা বলা যায় আমার হয়ে আমার সন্তান পযর্ন্ত পৌঁছেছে। যা হোক, আমরা প্রায় সবকটা ভাইবোন বাবার সাদাসিধে-সৎ চরিত্র কিছুটা হলেও পেয়েছি, তবে বাবার মত অতটা ভাল মানুষ বোধ করি কেউই হতে পারি নি। এক্ষণে বাবা দিবসে বাবার স্মরণে ‘‘বাবা-কথিকা’’ তুলে ধরছি। বাবাকে নিয়ে আমার একমাত্র লেখা। তাই বাবার সাথের সব স্মৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করা যাক্। আমার বাবা পৃথিবির সেরা বাবাঃ ‘‘আমার বাবা পৃথিবির সেরা বাবা’’-এ শিরোনামটি বেশ সন্দিগ্ধ। তার কারণ প্রায় সবাই এ আপ্ত বাক্যটি ব্যবহার করেন। তবে এটির সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে-বাবার মত মুরুব্বীদেরকে উচ্চ আসনে আসীন রাখার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, যা আমাদের ধর্ম ও দেশের সংস্কৃতিরও অংশ বটে। ‘‘প্রত্যেকের বাবাই প্রত্যেকের কাছে শ্রেষ্ঠ”-এর চেয়ে ভাল খবর আর কি হতে পারে? যা হোক, আমার বাবার ক্ষেত্রে এ টুকু নিশ্চিত করে বলা যায যে, আমার বাবার অবস্থান সেরাদের কাতারের উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। আমার বাবার মত ব্যক্তিদের ম্মৃতিচারণ আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের নৈতিক শিক্ষার জন্যও জরুরী বলে এ লেখার প্রয়াস। আমার বাবাকে গ্রামের লোকজন ভালোবেসে শ্রদ্ধার সাথে নাম দিয়েছেন আকনজী (আগের দিনে শ্রদ্ধাভরে নামের সাথে ‘জী’ লাগানো হতো, গ্রামের মানুষ সেটাই অনুসরণ করেছেন)। বাবা গ্রামের সকলের নিকট সমাদৃত ছিলেন। অদ্যবধি বাবার পরিচয়ে পরিচিত (বাবাকে ছাড়িয়ে যাওয়া কখনও সম্ভব নয়): অনেকে বাবাকে ছাড়িয়ে যান। আমাদের পক্ষে আমাদের বাবাকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি খোলসা করার জন্য একটি উদাহরণ দেয়া যাক। এক দিন সরকারের উচ্চ পদে আসীন আমার এক বন্ধু (স্কুল জীবনের সতীর্থ, একই গ্রামের বাসিন্দা ও আত্মীয়ও বটে)-এর দপ্তরে গিয়েছিলাম। তখন সে তার সহকর্মীদের নিকট আমার পরিচয় এভাবে তুলে ধরলেন যে, রফিক হলো আমার অন্যতম দোস্ত, ওর নিজের পরিচয় যাই থাকুক, সেটা বড় কথা নয়, ওর বড় পরিচয় হলো ওর বাবা আমাদের গ্রামের সবচেয়ে সৎ ও শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিলেন। তখন আমার বোধদোয় হলো এবং গর্বে বুকটা ভরে গেল যে, আল্লাহ্র কত বড় নেয়ামত যে আমাকে আল্লাহ্ এমন এক বিরল-সৎ-বাবার সন্তানরুপে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন যে, তাঁর মৃত্যুর আটাশ বছর পরেও প্রজন্মান্তরে দেশের সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ের পদস্ত বিজ্ঞ লোকের মুখেও তাঁর সুনাম শোনা যাচ্ছে। এর চেয়ে সৌভাগ্য আর কি হতে পারে? অপর দিকে চোখে পানি এসে গেল এই ভেবে যে, আমাদের ৭ ভাই-বোনকে মানুষ করতে বাবা তাঁর সহযোদ্ধা-সহধমির্নী-কে নিয়ে কত কষ্টই না করেছেন। হে আল্লাহ্, বাবা-মা’র সদকায়ে জারিয়া হিসেবে আমাদেরকে তুমি কবুল করে নাও। আল্লাহ্ তুমি আমার মা-বাবাকে বেহেস্ত নসীব করো। “রব্বির হাম হুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগীরা’’(হে আমাদের পালনকর্তা! তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন; যেমনিভাবে তাঁরা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন)। আমার বাবা ছিলেন মূলত মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকঃ আল্লাহ্ তা’আলা ‘‘সুরা সিজদা”র ২৪ নং আয়াতে যা ইরশাদ করেন তার অর্থ-‘‘ওরা যেহেতু ধৈর্যশীল ছিল তার জন্য আমি ওদের মধ্য হতে নেতা (ইমাম) মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথপ্রদর্শন করত। ওরা ছিল আমার নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় বিশ্বাসী”। স্কুলের ইসলামিয়াত বইতে পড়েছিলাম- ‘‘ইমাম হয় আল্লাহ্র ইচ্ছায়”। আমাদের প্রিয় নবীজী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.) নিজে ইমামতি করেছেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন মিশকের কস্তুরির স্তূপের ওপর থাকবেন-তার মধ্যে এক ব্যক্তি হলো যে কোনো কওমের ইমামতি করে আর তাঁরা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট” (তিরমিজি)। যেহেতু ইমাম সাহেবকে সকলে আদর্শ মানুষ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাই ইমাম সাহেবকে ইমামতির যোগ্য হওয়ার জন্য ধর্মের মৌলিক নীতিমালা জানা ও এর অনুসারী হওয়ার পাশাপাশি আরো কিছু মহৎ গুণের অধিকারী হতে হয়। যেমন- সত্যবাদি, ন্যায়পরায়ণ, আমানতদার ও বিশ্বস্ত/আস্থাভাজন হওয়া ইত্যাদি। এ গুণগুলো আমার বাবার মধ্যে ছিল। তাই তাঁর প্রতি তাঁর কওমও সন্তুষ্ট ছিল। কয়েক বছর আগে আমার চাচাত ভাই জনাব গোলাম মোর্শেদ পলাশ ফোন করে জানান যে, আমাদের মসজিদ কমিটির আয়োজনে বার্ষিক মাহফিলে দাওকাঠি সিনিয়র মাদ্রসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নাসির উদ্দিন সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, আকনজী হুযুর (আমার বাবা)-এর মত এত ভাল মানুষ এ তল্লাটে আর দেখি নাই বা আর জীবনে দেখবো বলেও মনে হয় না। বাবার সুনাম এভাবে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা থেকে শুনতে কার না ভাল লাগে, বলুন। সেচ্ছাসেবক আর কাকে বলেঃ একজন ইমাম শুধু মসজিদের ইমাম নন বরং তিনি তাঁর কওমেরও ইমাম। বাবা ছিলেন তাই। ধর্মীয় বিষয়ে মাসালা-মাসায়েল জানার জন্য অনেকেই বাবার কাছে আসতেন। মৃত্যু পথযাত্রিকে তওবা পড়ানো, জানাজার নামাজ পড়ানো, শিশুদের হাতে-খড়ি, ব্যবসা/শুভ কাজের উদ্বোধনে মিলাদ পড়ানো, বিয়ে-পড়ানো, ধর্মীয়-সামাজিক কাজ ছিল বাবার রুটিন কাজ। রোজার মাসে বাবা প্রতি দিন অসংখ্য মিলাদের দাওয়াত পেতেন (বাবার সাথে মিলাদের দাওয়াতে আমরা সব ভাই-ই গিয়েছি)। কি সুন্দর কিয়াম, কি সুন্দর মোনাজাত, যা শুনে চোখে পানি এসে যেত। বাবার বেশীর ভাগ সময় যেহেতু ম্বেচ্ছাসেবী কাজে ব্যয় হতো, সেহেতু স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ইমামতি-শিক্ষকতার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনের কাজও তাঁকে করতে হতো। বাবার শতভাগ হালাল রুজি-রোজগারে আমরা মানুষ হয়েছি, এটা প্রণিধানযোগ্য। অভাবের মধ্যেও বোয়ালিয়া হাট (বরিশাল হতে বাকেরগঞ্জ যাওয়ার পথে এ হাটটি অবস্থিত) নির্মাণের জন্য প্রায় ৭৫ শতাংশ জমি সামাজিক কাজে বাবা বিনামূল্যে ত্যাগ করেছিলেন। What a voluntary work? বাবা সবার আস্থাভাজন ছিলেন (সততার পরাকাষ্ঠার উদাহরণ রয়েছেঃ আমার বাবার প্রতি মানুষের আস্থাভাজনের একটি উদাহরণ তুলে ধরছি। আমাদের একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় গ্রামের এক জনের নিকট হতে এক খন্ড জমি ক্রয় করেছিলেন। বিক্রেতার মৌখিক আবদার ছিল যে, যখনই তিনি বা তাঁর ওযারিশ অর্থ জোগাড় করতে পারবেন, তখনই যেন তাঁকে/তাঁর ওয়ারিশকে একই দামে জমিটা ফেরত দেয়া হয়। এ আলাপের সময় উপস্থিত ছিলেন আমার বাবা। বেশ কয়েক বছর পরে (মূল ক্রেতা জান্নাতবাসি হওয়ার পরে) ক্রেতার ছেলে (আমাদের আত্মীয়) জমি ফেরত দিতে
গোদাগাড়ীতে র্যাবের অভিযানে ১১১০ লিটার চোলাইমদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

র্যাবের অভিযানে চোলাইমদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ র্যাব ক্যাম্পের অভিযানে ১ হাজার ১১০ লিটার চোলাই মদ সহ ৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। জব্দ হয়েছে মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ। গ্রেপ্তারকৃতরা হল- গোদাগাড়ীর বড়দৌলতপুর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল করিম(৩৫) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার অনুপনগর নতুনপাড়া গ্রামের মো.আলাউদ্দিনের ছেলে মো.সামাদ (৩২) ও একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে জুয়েল আলী(৩০)। র্যাব জানায়, গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোহনপুর ইউনিয়নের চিকনডাঙ্গাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে চেলাইমদ তৈরী,সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের অভিযোগে ওই ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ র্যাব ক্যাম্পের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে মদ প্রস্তুত করে বিভিন্ন এলাকার মদ ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও এলাকার যুব সম্প্রদায়ের নিকট খুচরা ও পাইকারি দরে সরবরাহে জড়িত। গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মদ প্রস্তুতকালে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানায় মামলা হয়েছে।